আ'রাফ
উইকিসংকলন থেকে
[সম্পাদনা] আ'রাফ
সূরা আ’রাফ
রুকুঃ ২৪ আয়াতঃ ২০৬
পরম করুণাময় পরম দয়াময় আল্লাহর নামে
||১||
- ১। আলিফ-লাম-মিম-সা’দ
- ২। তোমার কাছে কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে যাতে তুমি এ দিয়ে সতর্ক কর, আর বিশ্বাসীদের জন্য এ তো উপদেশ। তারপর তোমার মনে যেন এ-সম্পর্কে কোনো দ্বিধা না থাকে।
- ৩। তোমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ করো আর তাঁকে ছাড়া অন্য অভিভাবকের অনুসরণ কোরো না। তোমরা খুব কমই উপদেশ গ্রহণ কর।
- ৪। আর কত জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি। রাত্রিতে বা দুপুরে যখন তারা বিশ্রাম করছিল আমার শাস্তি তাদের ওপর নেমে এসেছিল।
- ৫। যখন আমার শাস্তি তাদের ওপর নেমে এসেছিল তখন তাদের কথা শুধু এ-ই ছিল, ‘নিশ্চয় আমরা সীমালঙ্ঘন করেছিলাম’।
- ৬। তারপর যাদের কাছে (রসুল) পাঠানো হয়েছিল তাদেরকে আমি অবশ্যই জিজ্ঞাসা করব এবং রসুলদেরকেও জিজ্ঞাসা করব।
- ৭। তারপর জানামতে আমি (তাদের কার্যাবলি) তাদের কাছে বিবৃত করবই। আর আমি তো অনুপস্থিত ছিলাম না!
- ৮। সেদিন ওজন ঠিকভাবেই করা হবে। যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই হবে সফলকাম।
- ৯। আর যাদের পাল্লা হালকা হবে তারাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত; কারণ, তারা আমার নিদর্শন প্রত্যাখান করেছিল।
- ১০। আমি তো তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছি ও তোমাদের জীবিকার ব্যবস্থাও করেছি। তোমরা খুব অল্পই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।
||২||
- ১১। আমিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছিলাম, তারপর তোমাদেরকে রূপ দিয়েছিলাম, তারপর ফেরেশতাদেরকে বলেছিলাম আদমকে সিজদা করতে। ইবলিশ ছাড়া সকলেই সিজদা করেছিল, যারা সিজদা করেছিল সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হল না।
- ১২। (আল্লাহ্) বললেন, ‘আমি যখন তোমাকে আদেশ দিলাম তখন কে তোমাকে বাধা দিল যে তুমি সিজদা করলে না?’ সে বলল, ‘আমি তো তার (আদমের) চেয়ে বড়, তুমি আমাকে আগুন দিয়ে সৃষ্টি করেছ আর তাকে সৃষ্টি করেছ কাদা দিয়ে’।
- ১৩। তিনি বললেন, ‘তুমি এখান থেকে নেমে যাও; এখানে থেকে অহংকার করবে, এ হতে পারে না। সুতরাং বের হয়ে যাও, তুমি তো অধমদের একজন’।
- ১৪। সে বলল, ‘পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত তুমি আমাকে অবকাশ দাও’।
- ১৫। তিনি বললেন, ‘তোমাকে অবকাশ দেওয়া হল’।
- ১৬। সে বলল, ‘যাদেরকে উপলক্ষ করে তুমি আমার সর্বনাশ করলে, তার জন্য আমিও তোমার সরল পথে তাদের (মানুষের) জন্য নিশ্চয় ওত পেতে থাকব।
- ১৭। তারপর আমি তাদের সামনে, পেছনে, ডান ও বাম থেকে তাদের কাছে আসবই, আর তুমি তাদের অনেককেই কৃতজ্ঞ পাবে না’।
- ১৮। তিনি বললেন, ‘এখান থেকে অধঃপতিত ও নির্বাসিত অবস্থায় বের হয়ে যাও! মানুষের মধ্যে যারা তোমাকে অনুসরণ করবে নিশ্চয় আমি তাদের সকলকে দিয়ে জাহান্নাম ভরিয়ে দেব’।
- ১৯। আর আমি বললাম, ‘হে আদম! তুমি ও তোমার সঙ্গিনী জান্নাতে বাস করো এবং যেখানে ইচ্ছা বা যা ইচ্ছা খাও, কিন্তু এই গাছের কাছে যেয়ো না, গেলে তোমরা সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে’।
- ২০। তারপর তাদের লজ্জাস্থান যা গোপন রাখা হয়েছিল তা প্রকাশ করার জন্য শয়তান তাদেরকে (আদম-দম্পতিকে) কুমন্ত্রণা দিল ও বলল, ‘যাতে তোমরা দুজনে ফেরেশতা বা অমর হতে না পার তার জন্যই তোমাদের প্রতিপালক এ-গাছ সম্বন্ধে তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন’।
- ২১। সে তাদের দুজনের কাছে শপথ ক’রে বলল, ‘আমি তো তোমাদের একজন হিতৈষী’।
- ২২। এভাবে সে তাদেরকে ধোঁকা দিল। তারপর যখন তারা সেই গাছের ফলের স্বাদ গ্রহণ করল তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ল। আর তারা বাগানের গাছের পাতা দিয়ে নিজেদেরকে ঢাকার চেষ্টা করল। তখন তাদের প্রতিপালক তাদেরকে ডেকে বললেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে এ-গাছের ব্যাপারে সাবধান করে দিই নি? আর শয়তান যে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু আমি কি তা তোমাদেরকে বলি নি?’
- ২৩। তারা বলল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি, যদি তুমি আমাদেরকে ক্ষমা না কর তবে নিশ্চয় আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব’।
- ২৪। তিনি বললেন, ‘তোমরা একে অন্যের শত্রু হিসাবে কিছুকালের জন্য পৃথিবীতে নামে যাও। আর (সেখানে) তোমাদের জন্য আবাস ও জীবিকা রইল’।
- ২৫। তিনি বললেন, ‘সেখানেই তোমরা জীবনযাপন করবে, সেখানেই তোমাদের মৃত্যু হবে আর সেখান থেকেই তোমাদেরকে বের ক’রে আনা হবে’।
||৩||
- ২৬। হে আদমসন্তান! তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকার ও বেশভূষার জন্য আমি তোমাদেরকে পরিচ্ছদ দিয়েছি, আর সাবধানতার পরিচ্ছদই সবচেয়ে ভালো। এ আল্লাহ্র নিদর্শনসমূহের অন্যতম যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।
- ২৭। হে আদমসন্তান! শয়তান যেন তোমাদেরকে প্রলুব্ধ না করে, যেমন ক’রে সে তোমাদের পিতামাতাকে (প্রলুব্ধ ক’রে) জান্নাত হতে বের করেছিল, তাদের লজ্জাস্থান তাদেরকে দেখাবার জন্য তাদেরকে উলঙ্গ করেছিল। সে নিজে ও তার দল তোমাদেরকে এমনভাবে দেখে যে তোমরা তাদেরকে দেখতে পাও না। শয়তানকে আমি তাদের অভিভাবক করেছি যারা বিশ্বাস করে না।
- ২৮। আর যখন তারা কোনো অশ্লীল কাজ করে তখন তারা বলে, ‘আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে এ করতে দেখেছি ও আল্লাহ্ আমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন’। বলো, ‘আল্লাহ্ অশ্লীল ব্যবহারের নির্দেশ দেন না। তোমরা আল্লাহ্ সম্বন্ধে কি এমন কিছু বলছ যে-বিষয়ে তোমাদের জ্ঞান নেই?’
- ২৯। বলো, ‘ আমার প্রতিপালক ন্যায় প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ দিয়েছেন’। প্রত্যেক নামাজে তোমাদের লক্ষ্য স্থির রাখবে ও তাঁরই আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্তে একনিষ্ঠ হয়ে তাঁকেই ডাকবে। তোমরা সেইভাবে ফিরে আসবে যেভাবে তিনি তোমাদের প্রথমে সৃষ্টি করেছিলেন।
- ৩০। একদলকে তিনি সৎপথে পরিচালিত করেছেন, আর অপর দলের পথভ্রষ্টতা তিনি ন্যায়মতো নির্ধারিত করেছেন। তারা আল্লাহ্কে বাদ দিয়ে শয়তানকে তাদের অভিভাবক করেছিল ও নিজেদেরকে তারা মনে করত সৎপথগামী।
- ৩১। হে আদমসন্তান! প্রত্যেক নামাজের সময় তোমরা সুন্দর পোশাক পরবে, পানাহার করবে, কিন্তু অপচয় করবে না। তিনি অপচয়কারীদেরকে ভালোবাসেন না।
||৪||
- ৩২। বলো, ‘আল্লাহ্ নিজের দাসদের জন্য যেসব সুন্দর জিনিস ও বিশুদ্ধ জীবিকা সৃষ্টি করেছেন তা কে হারাম করেছে?’ বলো, ‘পার্থিব জীবনে, বিশেষ করে কিয়ামতের দিনে যারা বিশ্বাস করে এসব তাদের জন্য’। এভাবে আমি জ্ঞানী-সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনসমূহ পরিষ্কার করে বয়ান করি।
- ৩৩। বলো, ‘আমার প্রতিপালক হারাম করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতাকে, পাপাচার ও অসংগত বিরোধকে, আর কোনোকিছুকে আল্লাহ্র শরিক করা যার সপক্ষে কোনো দলিল তিনি পাঠান নি, আর আল্লাহ্ সম্বন্ধে এমন কিছু বলা যে-সম্বন্ধে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই’।
- ৩৪। আর প্রত্যেক জাতির এক নির্দিষ্ট কাল আছে। যখন তাদের সময় আসবে তখন তারা এক মুহূর্তও দেরি বা তাড়াতাড়ি করতে পারবে না।
- ৩৫। হে আদমসন্তান! যদি তোমাদের মধ্য থেকে কোনো রসুল তোমাদের কাছে এসে আমার নিদর্শনগুলো বয়ান করে, তখন যারা সাবধান হবে ও নিজেদেরকে সংশোধন করবে তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না।
- ৩৬। আর যারা আমার নিদর্শনসমূহকে প্রত্যাখান করবে ও অহংকারে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে তারাই আগুনে বাস করবে, সেখানে তারা থাকবে চিরকাল।
- ৩৭। যে আল্লাহ্ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে বা তাঁর নিদর্শনকে প্রত্যাখান করে তার চেয়ে বড় সীমালঙ্ঘনকারী আর কে? (এ-ধরণের লোক যারা) তাদের কাছে কিতাব থেকে তাদের অংশ পৌঁছবে, যতক্ষণ না আমি যাদেরকে প্রাণ নেওয়ার জন্য পাঠাই তারা তাদের কাছে আসবে, আর তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘আল্লাহ্ ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাকতে তারা কোথায়?’ তারা বলবে, ‘তারা তো স’রে পড়েছে’। আর তারা স্বীকার করবে যে তারা অবিশ্বাসী ছিল।
- ৩৮। তিনি বলবেন, ‘তোমাদের আগে যে-জিন ও মানবগোষ্ঠী গত হয়েছে তাদের সাথে তোমরাও আগুনে প্রবেশ করো’। যখনই কোনো দল সেখানে প্রবেশ করবে তখনই তারা অন্য দলকে অভিশাপ দেবে, এমনকি যখন সকলে সেখানে একত্র হবে তখন যারা পরে এসেছিল তারা তাদের আগে যারা এসেছিল তাদের সম্বন্ধে বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! এরাই আমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছিল, সুতরাং তাদেরকে দ্বিগুণ অগ্নিশাস্তি দাও’। তিনি বলবেন, ‘প্রত্যকের জন্য দ্বিগুণ রয়েছে, কিন্তু তোমরা জান না’।
- ৩৯। আর তাদের পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদেরকে দেখে বলবে, ‘আমাদের ওপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, সুতরাং তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের ফল ভোগ করো’।
||৫||
- ৪০। অবশ্যই যারা আমার নিদর্শনকে প্রত্যাখান করে ও অহংকারে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আকাশের দরজা তাদের জন্য খোলা হবে না ও তারা জান্নাতেও ঢুকতে পারবে না যে-পর্যন্ত না সুচের ফুটোয় উট ঢুকতে পারে। এভাবে আমি অপরাধীদেরকে প্রতিফল দেব।
- ৪১। তাদের শয্যা হবে জাহান্নামের এবং উপরের আচ্ছাদনও। এভাবে আমি সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে শাস্তি দেব।
- ৪২। আমি কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্বভার অর্পণ করি না। যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে তারাই জান্নাতে বাস করবে, সেখানে তারা থাকবে চিরকাল।
- ৪৩। আর আমি তাদের অন্তর হতে মালিন্য দূর করব, তাদের নিচ দিয়ে নদী বইবে ও তারা বলবে, ‘প্রশংসা আল্লাহ্রই যিনি আমাদেরকে এর পথ দেখিয়েছেন। আল্লাহ্ আমাদেরকে পথ না দেখালে আমরা কখনও পথ পেতাম না। আমাদের প্রতিপালকের রসুলগণ তো সত্য বাণী এনেছিল’। আর তাদেরকে সম্বোধন করে বলা হবে যে, ‘তোমরা যা করেছ তারই জন্য তোমাদেরকে এ-জান্নাতের উত্তরাধিকারী করা হয়েছে’।
- ৪৪। জান্নাতবাসীরা অগ্নিবাসীদেরকে সম্বোধন করে বলবে, ‘আমাদের প্রতিপালক আমাদেরকে যে-প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আমরা তা সত্য পেয়েছি। তোমাদের প্রতিপালক তোমাদেরকে যে-প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তোমরা তা সত্য পেয়েছ কি?’ ওরা বলবে, ‘হ্যাঁ’। তারপর এক ঘোষণাকারী তাদের কাছে ঘোষণা করবে, ‘আল্লাহ্র অভিশাপ সীমালঙ্ঘনকারীদের ওপর,
- ৪৫। যারা আল্লাহ্র পথে বাধা দিত ও তার মধ্যে দোষত্রু টি অনুসন্ধান করত, আর তারাই তো পরকালকে অবিশ্বাস করত’।
- ৪৬। তাদের (জান্নাত ও জাহান্নামের) মধ্যে পরদা আছে আর আরাফ (জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যস্থিত প্রাচীর)-এ কিছু লোক থাকবে যারা প্রত্যককে তার লক্ষণ দেখে চিনবে। আর তারা জান্নাতবাসীদেরকে ডেকে বলবে, ‘তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক’। তারা তখনও সেখানে প্রবেশ করে নি, তবে তারা আশা করছে।
- ৪৭। আর যখন তাদের চোখ জাহান্নামবাসীদের ওপর ঘোরানো হবে তখন তারা বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে সীমালঙ্ঘনকারীদের সঙ্গী কোরো না’।
||৬||
- ৪৮। আ’রাফবাসীরা যাদেরকে লক্ষণ দেখে চিনবে তাদেরকে ডেকে বলবে, ‘তোমাদের সাঙ্গোপাঙ্গো ও তোমাদের অহংকার তোমাদের কোন কাজে এল?
- ৪৯। আর এদেরই সম্বন্ধে কি তোমরা শপথ করে বলতে যে, ‘আল্লাহ্ এদের ওপর অনুগ্রহ করবেন না?’ এদেরকেই বলা হবে, ‘তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো। তোমাদের কোনো ভয় নেই, আর তোমরা দুঃখও পাবে না’।
- ৫০। জাহান্নামবাসীরা জান্নাতবাসীদেরকে ডেকে বলবে, ‘আমাদের ওপর কিছু পানি ঢেলে দাও বা আল্লাহ্ জীবিকা হিসাবে তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তার থেকে কিছু দাও’। তারা (জান্নাতবাসীরা) বলবে, ‘আল্লাহ্ এ দুটো নিষিদ্ধ করেছেন অবিশ্বাসীদের জন্য,
- ৫১। যারা তাদের ধর্মকে তামাশা আর খেলা ব’লে গ্রহণ করেছিল আর পৃথিবীর জীবন যাদেরকে ভুলিয়ে রেখেছিল’। সুতরাং আজ আমি তাদেরকে ভুলে যাব যেভাবে তারা তাদের এই দিনের সাক্ষাৎকারকে ভুলে ছিল আর আমার নিদর্শনকে অস্বীকার করেছিল।
- ৫২। তাদেরকে আমি এক কিতাব দিয়েছিলাম যার ব্যাখ্যা দিয়েছিলাম জ্ঞানের ওপর ভিত্তি ক’রে। আর বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য তা ছিল পথনির্দেশ ও দয়া।
- ৫৩। তারা কি সেই পরিণামের জন্য অপেক্ষা করছে? যেদিন সেই পরিণাম বাস্তবায়িত হবে সেদিন পূর্বে যারা তার কথা ভুলে গিয়েছিল তারা বলবে, ‘আমাদের প্রতিপালকের রসুলগণ তো সত্য এনেছিল। আমাদের জন্য কি কেউ সুপারিশ করবে না? বা আমাদেরকে কি আবার ফেরত পাঠানো যায় না? তা হলে অতীতে আমরা যা করেছি তার চেয়ে ভিন্ন কিছু করতাম’। তারা নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই করেছে। আর তারা যে মিথ্যা বানিয়েছিল তাও তাদের ছেড়ে চ’লে গেছে।
||৭||
- ৫৪। তোমাদের প্রতিপালক তো আল্লাহ্ যিনি আকাশ ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেন, তারপর তিনি আরশে সমাসীন হন। তিনি দিনকে রাত্রি দিয়ে ঢেকে দেন যাতে ওরা একে অন্যকে দ্রুতগতিতে অনুসরণ করতে পারে। আর সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি তাঁরই আজ্ঞাধীন, তিনিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। জেনে রাখো, সৃষ্টি করা ও নির্দেশ দেওয়া তাঁরই কাজ। তিনি মহিমময় বিশ্বপ্রতিপালক।
- ৫৫। তোমরা বিনয়ের সাথে ও গোপনে তোমাদের প্রতিপালককে ডাকো। তিনি তো সীমা অতিক্রমকারীদেরকে ভালোবাসেন না।
- ৫৬। পৃথিবীতে শান্তিস্থাপনের পর সেখানে ফ্যাশাদ ঘটাবে না, তাঁকে ভয় ও আশার সঙ্গে ডাকবে। আল্লাহ্র অনুগ্রহ তো সৎকর্মপরায়ণদের কাছেই আছে।
- ৫৭। তিনিই তাঁর অনুগ্রহের পূর্বে সুসংবাদবাহী বাতাসকে ছেড়ে দেন যতক্ষণ পর্যন্ত না তা ঘন মেঘ বয়ে নিয়ে আসে। তারপর আমি তাকে প্রাণহীন ভূখন্ডের দিক পাঠাই, পরে তার থেকে আমি বৃষ্টি ঝরাই। তারপর আমি তা দিয়ে যাবতীয় ফলমূল উৎপাদন করি। এভাবে মৃতকে আমি জীবিত করব যাতে তোমরা শিক্ষালাভ করতে পার।
- ৫৮। আর যে-জমি ভালো তার ফসল তার প্রতিপালকের আদেশে উৎপন্ন হয়, আর যা খারাপ সেখানে পরিশ্রম ছাড়া কিছুই জন্মায় না। এভাবে কৃতজ্ঞ সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনগুলো আমি নানাভাবে বর্ণনা করি।
||৮||
- ৫৯। নিশ্চয় আমি নুহ্ কে তার সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছিলাম, আর সে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহ্র উপাসনা করো, তিনি ছাড়া তোমাদের জন্য কোনো উপাস্য নেই। আমি তোমাদের জন্য মহাদিনের শাস্তির আশঙ্কা করছি’।
- ৬০। তার সম্প্রদায়ের প্রধানগণ বলেছিল, ‘আমরা তো তোমাকে স্পষ্ট ভুল করতে দেখছি’।
- ৬১। সে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার মধ্যে কোনো ভুল নেই, আমি তো বিশ্বজগতের প্রতিপালকের রসুল।
- ৬২। আমার প্রতিপালকের বাণী আমি তোমাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি ও তোমাদেরকে সদুপদেশ দিচ্ছি, আর তোমরা যা জান না আমি তা আল্লাহ্র কাছ থেকে জানি।
- ৬৩। তোমরা কি অবাক হচ্ছ যে, তোমাদেরই একজনের মাধ্যমে তোমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে তোমাদের কাছে উপদেশ এসেছে যাতে সে তোমাদেরকে সর্তক করতে পারে এবং যাতে তোমরা সাবধান হও ও তাঁর অনুগ্রহ লাভ কর?’
- ৬৪। তারপর তারা তাকে মিথ্যাবাদী বলে। তাকে ও তার সঙ্গে যারা নৌকায় ছিল আমি তাদেরকে উদ্ধার করি,আর যারা আমার নিদর্শনাবলী প্রত্যাখান করেছিল তাদেরকে ডুবিয়ে দি। নিশ্চয় তারা ছিল এক অন্ধ সম্প্রদায়।
||৯||
- ৬৫। আর আ’দ জাতর কাছে তাদের ভাই হুদকে পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহ্র কাছে উপাসনা করো, তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তোমরা কি সাবধান হবে না?’
- ৬৬। তার সম্প্রদায়ের প্রধানরা যারা অবিশ্বাস করেছিল তারা বলেছিল, ‘আমরা তো দেখছি তুমি একজন নির্বোধ, আর আমরা তো তোমাকে মিথ্যাবাদী মনে করি’।
- ৬৭। সে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমি নির্বোধ নই, আমি তো বিশ্বজগতের প্রতিপালকের রসুল।
- ৬৮। আমি আমার প্রতিপালকের বাণী তোমাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি আর আমি তোমাদেরই একজন বিশ্বস্ত উপদেষ্টা।
- ৬৯। তোমরা কি অবাক হচ্ছ যে, তোমাদের কাছে তোমাদেরই একজনের মাধ্যমে তোমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে তোমাদেরকে সর্তক করার জন্য উপদেশ এসেছে? আর স্মরণ করো, আল্লাহ্ তোমাদেরকে নুহের সম্প্রদায়ের পরে স্থলাভিষিক্ত করেছেন আর তোমাদেরকে দৈহিক শক্তিতে সমৃদ্ধ করেছেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহ্র অনুগ্রহ স্মরণ করো, হয়তো তোমরা সফলকাম হবে’।
- ৭০। তারা বলল, ‘তুমি কি আমাদের কাছে এ-উদ্দেশ্যে এসেছ যে আমরা যেন শুধু আল্লাহ্র উপাসনা করি আর আমাদের পূর্বপুরুষরা যার উপাসনা করত তাকে বাদ দিই? সুতরাং তুমি সত্যবাদী হলে, আমাদেরকে যার ভয় দেখাচ্ছ তা আনো’।
- ৭১। সে বলল, ‘তোমাদের প্রতিপালকের শাস্তি ও গজব তো তোমাদের জন্য ঠিক করাই আছে। তবে কি তোমরা আমার সাথে তর্ক করতে চাও এমন কতগুলো নাম সম্বন্ধে যা তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষরা সৃষ্টি করেছ আর যে-সম্বন্ধে আল্লাহ্ কোনো সনদ পাঠান নি? সুতরাং, তোমরা প্রতীক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষা করছি’।
- ৭২। তারপর তাকে ও তার সঙ্গীদেরকে নিজ অনুগ্রহে আমি উদ্ধার করেছিলাম, আর আমার নিদর্শনসমূহকে যারা প্রত্যাখান করেছিল ও যারা বিশ্বাস করে নি তাদেরকে নির্মূল করেছিলাম।
||১০||
- ৭৩। সামুদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালেহ্কে পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহ্র উপাসনা করো। তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে স্পষ্ট নিদর্শন এসেছে। এই মাদি উটটি আল্লাহ্র নিদর্শন। একে আল্লাহ্র জমিতে চরে খেতে দাও আর একে কোনো কষ্ট দিয়ো না, দিলে তোমাদের ওপর নিদারুণ শাস্তি পড়বে।
- ৭৪। স্মরণ করো, আ’দ জাতির পর তিনি তাদের জায়গায় তোমাদেরকে বসিয়েছেন। তিনি তোমাদেরকে পৃথিবীতে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যে, তোমরা সমতল জমিতে দালান-বাড়ি ও পাহাড় কেটে বসতঘর তৈরী করছ। তাই আল্লাহ্র অনুগ্রহ স্মরণ করো ও পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটিয়ো না’।
- ৭৫। তার সম্প্রদায়ের অহংকারী প্রধানরা হতমান বিশ্বাসীদেরকে বলল, ‘তোমরা কি জান যে, সালেহ্কে আল্লাহ্ পাঠিয়েছেন?’ তারা বলল, ‘তার কাছে যে-বাণী পাঠানো হয়েছে আমরা তাতে বিশ্বাস করি’।
- ৭৬। অহংকারীরা বলল, ‘তোমরা যা বিশ্বাস কর আমরা তা বিশ্বাস করি না’।
- ৭৭। তারপর তারা সেই মাদি ঊটটাকে মেরে ফেলল ও আল্লাহ্র আদেশ অমান্য করল, আর বলল, ‘হে সালেহ্! তুমি যদি রসুল হও তবে আমাদেরকে যার ভয় দেখাচ্ছ তা নিয়ে এসো’।
- ৭৮। তারপর ভুমিকম্প তাদের ওপর আঘাত করল, ফলে তারা নিজেদের ঘরে উপুড় হয়ে প’ড়ে শেষ হয়ে গেল।
- ৭৯। তারপর সে তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমি তো আমার প্রতিপালকের বাণী তোমাদের কাছে পৌঁছেছিলাম ও তোমাদেরকে উপদেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু যারা উপদেশ দেয় তাদেরকে তো তোমরা ভালোবাস না’।
- ৮০। আর লুত যখন তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘তোমরা এমন নির্লজ্জ কর্ম করছ যা তোমাদের পূর্বে বিশ্বে কেউ করে নি।
- ৮১। তোমরা তো যৌনতৃপ্তির জন্য নারী ছেড়ে পুরুষের কাছে যাচ্ছ, তোমরা তো সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়!’
- ৮২। উত্তরে তার সম্প্রদায় শুধু বলল, ‘এদেরকে (লুত ও তার সঙ্গীদেরকে) শহর থেকে বের ক’রে দাও। এরা এমন লোক যারা নিজেদেরকে বড় পবিত্র রাখতে চায়’।
- ৮৩। তারপর আমি তার স্ত্রী ছাড়া তাকে ও তার পরিজনবর্গকে উদ্ধার করেছিলাম। যারা পেছনে রয়ে গেল তাদের মধ্যে রইল তার স্ত্রী।
- ৮৪। তাদের ওপর মুষলধারে আমি প্রস্তরবৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম। সুতরাং অপরাধীদের পরিণাম কী হয়েছিল তা লক্ষ করো।
||১১||
- ৮৫। আর মাদইয়ানবাসীদের কাছে তাদের ভাই শোয়াইবকে পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহ্র উপাসনা করো। তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো উপাস্য নেই। তোমাদের কাছে তো তোমাদের প্রতিপালকের স্পষ্ট প্রমাণ এসেছে। সুতরাং তোমরা মাপ ও ওজন ঠিকভাবে দেবে। তোমরা লোকদেরকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দেবে না। আর পৃথিবীতে শান্তিস্থাপনের পর সেখানে ফ্যাশাদ ঘটাবে না। তোমরা বিশ্বাসী হলে, তোমাদের জন্য এ-ই কল্যাণকর’।
- ৮৬। আর তোমরা বিশ্বাসীদেরকে ভয় দেখানোর জন্য কোনো পথে ব’সে থাকবে না, আল্লাহ্র পথে তাদেরকে বাধা দেবে না ও তার মধ্যে দোষত্রু টি খুঁজবে না। স্মরণ করো, তোমরা যখন সংখ্যায় কম ছিলে, আল্লাহ্ তখন তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেন; আর লক্ষ করো বিপর্যয়সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল।
- ৮৭। আর আমার কাছে যা পাঠানো হয়েছে তার ওপর যদি তোমাদের কোনো দল বিশ্বাস স্থাপন করে ও কোনো দল বিশ্বাস না করে, তবে ধৈর্য ধরো যতক্ষণ না আল্লাহ্ আমাদের মধ্যে মীমাংসা ক’রে দেন; আর তিনিই তো শ্রেষ্ঠ মীমাংসাকারী’।
- ৮৮। আর সম্প্রদায়ের অহংকারী প্রধানরা বলল, ‘আমাদের সমাজে তোমাদেরকে ফিরে আসতে হবে। না আসলে, হে শোয়াইব! তোমাকে ও তোমার সাথে যারা বিশ্বাস করেছে তাদেরকে আমাদের শহর থেকে বের করে দেবই’। সে বলল, ‘কী আমাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও?
- ৮৯। তোমাদের সমাজ থেকে আল্লাহ্ আমাদেরকে উদ্ধার করার পর যদি আমরা সেখানে ফিরে যাই তবে তো আমরা আল্লাহ্র ওপর মিথ্যা আরোপ করব। আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ্ ইচ্ছা না করলে সেখানে ফিরে যাওয়া আমাদের কাজ নয়। সবকিছুই আমাদের প্রতিপালকের জানা। আমরা আল্লাহ্র ওপর নির্ভর করি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ন্যায্যভাবে মীমাংসা ক’রে দাও, আর তুমিই মীমাংসাকরীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ’।
- ৯০। আর তার সম্প্রদায়ের অবিশ্বাসীরা বলল, ‘তোমরা যদি শোয়াইবকে মেনে চল তবে তোমাদের ক্ষতি হবে’।
- ৯১। তারপর তাদের ওপর ভুমিকম্প হামলা করল; আর তারা নিজেদের ঘরে উপুড় হয়ে প’ড়ে শেষ হয়ে গেল।
- ৯২। মনে হল, শোয়াইবকে যারা অবিশ্বাস করেছিল তারা যেন কখনও সেখানে বসবাস করেই নি। শোয়াইবকে যারা মিথ্যা ভেবেছিল তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হল’
- ৯৩। সে তাদের দিক হতে মুখ ফিরিয়ে নিল ও বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার প্রতিপালকের খবর আমি তোমাদেরকে পৌঁছে দিয়েছি, আর তোমাদেরকে উপদেশও দিয়েছি। এরপর আমি এক ধর্মদ্রোহী সম্প্রদায়ের জন্য কী করে আক্ষেপ করি’!
||১২||
- ৯৪। আমি কোনো জনপদে নবি পাঠালে তার অধিবাসীদেরকে দুঃখ ও কষ্ট দিই, যাতে তারা নতি স্বীকার করে।
- ৯৫। তারপর আমি অকল্যাণকে কল্যাণে পরিবর্তিত করি, অবশেষে তারা প্রাচুর্যের অধিকারী হয় ও বলে, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরাও তো আনন্দ-বেদনা ভোগ করেছে’। তাই আমি তাদেরকে এমনভাবে হঠাৎ আক্রমণ করি যে তারা টের পর্যন্ত পায় না।
- ৯৬। আর যদি জনপদবাসীরা বিশ্বাস করত ও সাবধান হ’ত তবে আমি তাদের জন্য আকাশ ও পৃথিবীর সৌভাগ্য উন্মুক্ত করে দিতাম; কিন্তু তারা তো অবিশ্বাস করেছিল; তাই তাদের কাজের জন্য আমি তাদেরকে শাস্তি দিয়েছি।
- ৯৭। তবে কি জনপদবাসীরা ভয় করে না যে, আমার শাস্তি তাদের ওপর এসে পড়বে রাতের বেলায় যখন তারা ঘুমিয়ে থাকবে,
- ৯৮। কিংবা জনপদবাসীরা কি ভয় করে না যে, আমার শাস্তি তাদের ওপর এসে পড়বে দিনের বেলায় যখন তারা খেলায় মেতে থাকবে?
- ৯৯। তারা কি আল্লাহ্র পরিকল্পনাকে ভয় করে না? আসলে ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ছাড়া কেউ আল্লাহ্র পরিকল্পনা থেকে নিঃশঙ্ক বোধ করে না।
||১৩||
- ১০০। জাতির পরম্পরায় যারা দেশের উত্তরাধিকারী হয় তাদের কাছে এটা কি মনে হয় নি যে আমি ইচ্ছা করলে তাদের পাপের দরুণ তাদেরকে শাস্তি দিতে পারি ও তাদের হৃদয় মোহর ক’রে দিতে পারি যাতে তারা শুনতে না পায়?
- ১০১। এই জনপদের কিছু বৃত্তান্ত আমি তোমার কাছে বয়ান করেছি। তাদের রসুলরা তো তাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছিল, কিন্তু তারা তা পূর্বেই প্রত্যাখান করেছিল ব’লে তারা আর বিশ্বাস করতে পারল না। এভাবে আল্লাহ্ অবিশ্বাসীদের হৃদয় মোহর ক’রে দেন।
- ১০২। আর আমি তাদের বেশির ভাগকেই প্রতিশ্রুতি পালন করতে দেখি নি, বরং তাদের বেশির ভাগকেই আমি সত্যত্যাগী হিসাবে পেয়েছি।
- ১০৩। তাদের পর মুসাকে আমার নিদর্শনাবলী দিয়ে ফেরাউন ও তার পারিষদদের কাছে পাঠাই, কিন্তু তারা তাকে অগ্রাহ্য করে। লক্ষ করো বিপর্যয়সৃষ্টিকারীদের কী পরিণাম হয়েছিল!
- ১০৪। মুসা বল, ‘হে ফেরাউন! আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের প্রেরিত রসুল।
- ১০৫। আল্লাহ্ সম্পর্কে সত্য বলা ছাড়া আমার কোনো অধিকার নেই। আমি তোমাদের কাছে এনেছি তোমাদের প্রতিপালকের স্পষ্ট প্রমাণ। সুতরাং বনি-ইসরাইল সম্প্রদায়কে আমার সাথে যেতে দাও’।
- ১০৬। ফেরাউন বলল, ‘ যদি তুমি কোনো নিদর্শন এনে থাক, সত্যবাদী হলে তা হাজির করো’।
- ১০৭। তারপর মুসা তার লাঠি ছুড়ে ফেলল আর সাথে সাথে সেটি এক সাক্ষাৎ অজগর সাপ হয়ে গেল।
- ১০৮। আর যখন সে তার হাত বের করল তা তৎক্ষণাৎ দর্শকদের সামনে উজ্জ্বল শুভ্র মনে হল।
||১৪||
- ১০৯। ফেরাউন-সম্প্রদায়ের প্রধানগণ বলল, ‘এ তো একজন ওস্তাদ জাদুকর!
- ১১০। এ তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে চায়। এখন তোমরা কী বুদ্ধিপরামর্শ দাও?’
- ১১১। তারা বলল, ‘তাকে ও তার ভাইকে কিছু সময় দাও। আর শহরে শহরে যোগানদেরকে পাঠাও।
- ১১২। তারা তোমার সামনে সকল ওস্তাদ জাদুকরকে হাজির করুক’।
- ১১৩। জাদুকররা ফেরাউনের কাছে এসে বলল, ‘আমরা যদি জিতি, আমাদেরকে পুরস্কার দেবেন তো?’
- ১১৪। সে বলল, ‘হ্যাঁ, এবং তোমরা হবে আমার খুব কাছের লোক’।
- ১১৫। তারা বলল, ‘হে মুসা! তুমি ছুড়বে, না আমরা ছুড়ব?
- ১১৬। সে বলল, ‘তোমরাই ছোড়ো’। যখন তারা ছুড়ল লোকের চোখে ভেলকি লাগল, এবং তারা ভয় পেয়ে গেল যেন তারা ভোজবাজি দেখছে।
- ১১৭। মুসার প্রতি আমি হুকুম করলাম, ‘তুমিও তোমার লাঠি ছোড়ো।‘ হঠাৎ লাঠিটা ওদের ভুয়া সৃষ্টি গাস করে ফেলতে লাগল,
- ১১৮। ফলে সত্য প্রতিষ্ঠা পেল আর তারা যা করেছিল তা মিথ্যা প্রমাণিত হল।
- ১১৯। সেখানে তারা হার মনল ও অপদস্থ হল।
- ১২০। আর জাদুকররা সিজদা করল।
- ১২১। তারা বলল, ‘আমরা বিশ্বাস করলাম বিশ্বজগতের প্রতিপালকের ওপর,
- ১২২। যিনি মুসা ও হারুনেরও প্রতিপালক’।
- ১২৩। ফেরাঊন বলল, ‘কী! আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেবার আগেই তোমরা ওর ওপর বিশ্বাস করলে? তোমরা শহরের লোকদেরকে এখান থেকে বের করে দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করেছ। এ তো একটা ষড়যন্ত্র! আচ্ছা, তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে।
- ১২৪। আমি অবশ্যই তোমাদের হাত-পা উলটো দিক থেকে কাটব, তারপর তোমাদের সকলকে শূলে চড়াব’।
- ১২৫। তারা বলল, ‘আমরা আমাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যাব।
- ১২৬। আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শন আমাদের কাছে যখন এসেছে তখন আমরা তাতে বিশ্বাস করবই। তুমি এর জন্য আমাদের ওপর শুধু শুধু দোষারোপ করছ। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ধৈর্য দান করো এবং মুসলমান হিসাবে আমাদের মৃত্যু ঘটাও’।
||১৫||
- ১২৭। ফেরাউন-সম্প্রদায়ের প্রধানরা বলল, ‘আপনি কি মুসা ও তার দলবলকে রাজ্যে অনাসৃষ্টি করতে দেবেন, না আপনাকে ও আপনার দেবতাদেরকে বর্জন করতে দেবেন?’ সে বলল, ‘তাদের চেয়ে আমাদের জোর অনেক বেশি, আমরা ওদের ছেলেদের মেরে ফেলব আর ওদের মেয়েদেরকে বাঁচিয়ে রাখব’।
- ১২৮। মুসা তার সম্প্রদায়কে বলল, ‘আল্লাহ্র কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো আর ধৈর্য ধরো, দুনিয়া তো আল্লাহ্রই! তিনি তাঁর দাসদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তার উত্তরাধিকারী করেন, আর সাবধানিদের জন্যই তো রয়েছে শুভ পরিণাম’।
- ১২৯। তারা বলল, ‘আমাদের কাছে তোমার আসার আগেও, আবার আসার পরেও, আমরা কেবল নির্যাতিত হচ্ছি’। সে বলল, ‘শীঘ্রই তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের শত্রু কে ধ্বংস করবেন ও দেশে তোমাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। তারপর তিনি লক্ষ করবেন তোমরা কী কর’।
||১৬||
- ১৩০। আমি তো ফেরাঊন-সমর্থকদেরকে দুর্ভিক্ষ ও খাদ্যাভাব দিয়ে আঘাত করেছি যাতে তারা বুঝতে পারে।
- ১৩১। যখন তাদের কোনো ভালো হ’ত তারা বলত এ তো আমাদের প্রাপ্য। আর যখন কোনো খারাপ হ’ত তখন তারা তা মুসা ও তার সঙ্গীদের ওপর চাপাত। শোনো, তাদের ভালোমন্দ আল্লাহ্রই হাতে, কিন্তু তাদের অনেকেরই তা জানা নেই।
- ১৩২। তারা বলল, ‘আমাদেরকে জাদু করার জন্য তুমি যে-কোনো নিদর্শন হাজির কর না কেন, আমরা তোমাকে বিশ্বাস করব না’।
- ১৩৩। তারপর আমি তাদেরকে বন্যা, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাং ও রক্ত দিয়ে কষ্ট দিই। এগুলো পরিষ্কার নিদর্শন; কিন্তু তাদের হামবড়া ভাব রয়ে গেল। আর তারা তো ছিল এক অপরাধী সম্প্রদায়।
- ১৩৪। আর যখন তাদের ওপর শাস্তি আসত তখন তারা বলত, ‘হে মুসা!তুমি তোমার প্রতিপালকের কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা করো। তোমার সঙ্গে তার যে-কথা আছে সেভাবে যদি তুমি আমাদের শাস্তি দূর কর, আমরা তো তোমার ওপর বিশ্বাস করবই, আর বনি-ইসরাইলদেরকেও তোমার সাথে যেতে দেব’।
- ১৩৫। যখনই তাদের ওপর সেই শাস্তি, যা নির্ধারিত ছিল নির্দিষ্টকালের জন্য, দূর করা হ’ত, তখনই তারা তাদের কথার বরখেলাপ করত।
- ১৩৬। সেজন্য আমি তাদের ওপর প্রতিশোধ নিয়েছি, আর তাদেরকে অতল সাগরে ডুবিয়েছি, কারণ তারা আমার নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করেছে আর তারা এ-ব্যাপারে ছিল অমনোযোগী।
- ১৩৭। আর যে-সম্প্রদায়কে দুর্বল মনে করা হ’ত তাদেরকে আমি আমার আশীর্বাদপুষ্ট রাজ্যের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের উত্তরাধিকারী করি। আর যেহেতু তারা ধৈর্য ধরেছিল, বনি-ইসরাইল সম্বন্ধে তোমার প্রতিপালকের শুভবাণী সত্যে পরিণত হল। আর ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের তৈরী শিল্পকর্ম ও প্রাসাদসমুহ আমি ধ্বংস করে দিলাম।
- ১৩৮। আর বনি-ইসরাইলদেরকে আমি সাগর পার করে দিই। তারপর তারা এক জাতির সংস্পর্শে এল যারা মূর্তি পূজা করত। তারা বলল, ‘হে মুসা! ওদের দেবতাদের মতো আমাদের জন্যও এক দেবতা গড়ে দাও’। সে বলল, ‘তোমরা তো এক আহাম্মকের জাত।
- ১৩৯। এসব কাজ যা লোকে করছে তা তো ধ্বংস করা হবে আর তারা যা করছে তাও ভিত্তিহীন’।
- ১৪০। সে আরও বলল, ‘কী! আল্লাহ্কে ছেড়ে তোমাদের জন্য আমি অন্য উপাস্য খুঁজে বেড়াব যখন তিনি তোমাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন বিশ্বজগতের ওপর?
- ১৪১। আর ফেরাউনের যে-লোকেরা তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি দিত তাদের হাত থেকে আমি তোমাদেরকে উদ্ধার করেছি। তারা তোমাদের ছেলেদেরকে হত্যা করত আর মেয়েদেরকে বাঁচিয়ে রাখত আর এর মধ্যে ছিল তোমাদের জন্য তোমাদের প্রতিপালকের এক কঠিন পরীক্ষা’।
||১৭||
- ১৪২। আর আমি মুসাকে (প্রথমে) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ত্রিশ রাত্রির এবং (পরে) তার সঙ্গে যোগ দিয়ে তা পূর্ণ করি আরও দশ রাত্রি। এভাবে তার প্রতিপালকের নির্ধারিত সময় চল্লিশ রাত্রি পুরো হয়। আর মুসা তার ভাই হারুনকে বলল, ‘(এই চল্লিশ দিন) আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে তুমি আমার প্রতিনিধিত্ব করবে, ভালো ব্যবহার করবে আর যারা ফ্যাশাদ করে তাদের অনুসরণ করবে না’।
- ১৪৩। আর মুসা যখন আমার নির্ধারিত স্থানে হাজির হল ও তার প্রতিপালক তার সাথে কথা বলল তখন সে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দেখা দাও, যেন আমি তোমাকে দেখতে পারি’। তিনি বললেন, ‘তুমি আমাকে কখনোই দেখতে পাবে না, বরং তুমি পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে থাকো, যদি তা নিজের জায়গায় স্থির থাকে তবে তুমি আমাকে দেখতে পাবে’। যখন তার প্রতিপালক পাহাড়ে জ্যোতিষ্মান হলেন তখন সেই পাহাড় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল আর মুসা সংজ্ঞাহীন হয়ে প’ড়ে গেল। জ্ঞান ফিরে আসার পর সে বলল, ‘প্রশংসা তোমার, আমি অনুতপ্ত হয়ে তোমার কাছে ফিরে এলাম, আর আমিই প্রথম বিশ্বাস স্থাপন করছি’।
- ১৪৪। তিনি বললেন, ‘হে মুসা! আমি তোমাকে বাণী দিয়ে ও তোমার সাথে কথা ব’লে মানুষের মধ্যে তোমাকে প্রাধান্য দিয়েছি। সুতরাং আমি যা দিলাম তা গ্রহণ করো ও ধন্য হও।
- ১৪৫। আর আমি তোমার জন্য ফলকে লিখে দিলাম প্রত্যেক বিষয়ের উপদেশ ও প্রত্যেক বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা। সুতরাং এগুলো শক্ত করে ধরো আর এদের মধ্যে যা ভালো তা তোমার সম্প্রদায়কে গ্রহণ করতে নির্দেশ দাও। আমি শীঘ্রই সত্যত্যাগীদের বাসস্থান তোমাকে দেখাব’।
- ১৪৬। পৃথিবীতে যারা অন্যায়ভাবে অহংকার করে বেড়ায় আমি তাদের দৃষ্টিকে আমার নিদর্শন থেকে ফিরিয়ে দেব। তারপর তারা আমার প্রত্যেকটি নিদর্শন দেখলেও ওতে বিশ্বাস করবে না। তার সৎপথ দেখলেও তাকে পথ ব’লে গ্রহণ করবে না, কিন্তু ভ্রান্ত পথ দেখলেই সেই পথ তারা অনুসরণ করবে। এ এজন্য যে, তারা আমার নিদর্শনগুলো প্রত্যাখান করেছে ও এ-সম্বন্ধে ওরা অমনোযোগী।
- ১৪৭। তাদের কর্ম নিষ্ফল হবে যারা আমার নিদর্শনসমূহ ও পরকালের সাক্ষাৎকে মিথ্যা বলে। তারা যে করে সেইমতো কি তাদের প্রতিফল দেওয়া হবে না?
||১৮||
- ১৪৮। আর মুসার সম্প্রদায় তার অনুপস্থিতিতে নিজেদের অলংকার দিয়ে একটা গোবৎসের মূর্তি গড়ল, যার মধ্য থেকে গোরুর শব্দ বের হ’ত। তারা কি দেখে নি যে ওটা তাদের সাথে কথা বলে না, আর কোনো পথও দেখায় না? তারা ওটার অর্চনা শুরু করল এবং তারা ছিল সীমালঙ্ঘনকারী।
- ১৪৯। তারা যখন অনুতপ্ত হল ও দেখল যে তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে তখন তারা বলল, ‘আমাদের প্রতিপালক যদি আমাদেরকে দয়া না করেন বা ক্ষমা না করেন তবে তো আমাদের সর্বনাশ!’
- ১৫০। আর মুসা তার সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে এসে রাগে ও দুঃখে বলল, ‘আমার অবর্তমানে তোমরা আমার হয়ে কত খারাপ কাজই-না করেছ! তোমাদের প্রতিপালকের আদেশকে এগিয়ে নিয়ে আসার জন্য কেন তাড়াহুড়ো করলে?’ আর তারপর সে ফলকগুলো নামিয়ে রাখল। আর সে তার ভাইয়ের চুল ধ’রে নিজের দিকে টানতে লাগল। হারুন বলল, ‘হে আমার সহোদর ভাই! লোকেরা তো দুর্বল মনে ক’রে আমাকে প্রায় খুন করে ফেলেছিল আর কি! তুমি আমার সাথে এমন কোরো না যাতে শত্রু রা আনন্দিত হয়। আর আমাকে সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভূক্ত কোরো না’।
- ১৫১। মুসা বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে ও আমার ভাইকে ক্ষমা করো। তুমি তোমার অনুগ্রহে আমাদেরকে আশ্রয় দাও আর তুমিই তো শ্রেষ্ঠ দয়ালু’।
||১৯||
- ১৫২। নিশ্চয়ই যারা গোবৎসকে (উপাস্যরূপে) গ্রহণ করেছিল, পার্থিব জীবনে তাদের ওপর তাদের প্রতিপালকের গজব ও জিল্লাতি আসবে। আর যারা মিথ্যা রটনা করে তাদেরকে আমি এভাবে প্রতিফল দিয়ে থাকি।
- ১৫৩। যারা অসৎ কাজ করে তারা পরে তওবা করলে ও বিশ্বাস করলে তোমার প্রতিপালক তো তাদেরকে তারপর ক্ষমা ও দয়া করবেন।
- ১৫৪। মুসার রাগ যখন কমল তখন সে ফলকগুলো তুলে নিল। যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় ক’রে চলে তাদের জন্য ওতে লেখা ছিল পথের নির্দেশ ও করুণা।
- ১৫৫। মুসা তার সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকে সত্তরজন লোককে আমার নির্ধারিত স্থানে সমবেত হওয়ার জন্য নির্বাচন করল। তারপর ভুমিকম্প যখন তাদেরকে আঘাত হানল তখন মুসা বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! ইচ্ছা করলে এর আগেই তুমি এদেরকে ও আমাকে ধ্বংস করতে পারতে। আমাদের মধ্যে যারা নির্বোধ তারা যা করেছে তার জন্য কি তুমি আমাদেরকে ধ্বংস করবে? এ তো তোমার পরীক্ষা যা দিয়ে তুমি যাকে ইচ্ছা বিপথগামী কর আর যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত কর। তুমিই তো আমাদের অভিভাবক। সুতরাং তুমি আমাদেরকে ক্ষমা করো ও আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করো। আর তুমিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষমাকারী।
- ১৫৬। আর আমাদের জন্য লিখে দাও (নিশ্চিত করো) ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ। আমরা তোমার কাছে ফিরে আসব’। তিনি বললেন, ‘আমার শাস্তি যাকে ইচ্ছা দিয়ে থাকি। আর আমার অনুগ্রহ সে তো প্রত্যেক জিনিসে ছড়িয়ে আছে। তাই আমি তাদের জন্য তা লিখে দেই যারা সংযম পালন করে, জাকাত দেয় ও আমার নিদর্শনগুলোয় বিশ্বাস করে --
- ১৫৭। ‘যারা বার্তাবাহক নিরক্ষর রসুলের অনুসরণ করে, যার উল্লেখ তাদের জন্য তওরাত ও ইঞ্জিলে লেখা আছে, যে তাদেরকে ভালো কাজের নির্দেশ দেয় ও খারাপ করতে নিষেধ করে, যে তাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করে ও অপবিত্র বস্তু হারাম করে আর যে তাদের জন্য ওপরের ভার ও বন্ধন থেকে তাদেরকে মুক্তি দেয়’। সুতরাং যারা তার ওপর বিশ্বাস করে, তাকে সম্মান করে, তাকে সাহায্য করে আর যে-আলো তার সাথে নেমে এসেছে তার অনুসরণ করে, তারাই সফলতা লাভ করবে।
||২০||
- ১৫৮। বলো, ‘হে মানবসমাজ! আমি তোমাদের সকলের জন্য আল্লাহ্র রসুল। আকাশ ও পৃথিবীর ওপর কর্তৃত্ব যাঁর তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। তিনিই বাঁচান, তিনিই মারেন। সুতরাং আল্লাহ্র ওপর ও তাঁর বার্তাবাহক নিরক্ষর রসুলের ওপর বিশ্বাস করো। যে আল্লাহ্ ও তাঁর বাণীতে বিশ্বাস করে তাকে অনুসরণ করো, যাতে তোমরা পথ পাও’।
- ১৫৯। মুসার সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন একদল মানুষ আছে যারা অন্যদেরকে সত্যের পথ দেখায় ও ন্যায়বিচার করে।
- ১৬০। আর তাদেরকে আমি বারো গোত্রে বিভক্ত করেছিলাম। মুসার সম্প্রদায় যখন তার কাছে পানি চাইল তখন তার প্রতি আমি প্রত্যাদেশ পাঠালাম, ‘তোমার লাঠি দিয়ে পাথরে বাড়ি মারো’। তারপর যখন সেখান থেকে বারোটি ঝরণা বের হল, প্রত্যেক গোত্র নিজের নিজের পানির জায়গা চিনে নিল। আর আমি তাদের ওপর মেঘের ছায়া বিস্তার ক’রে দিয়েছিলাম এবং তাদের জন্য পাঠিয়েছিলাম মান্না ও সালওয়া। আর (বলেছিলাম), তোমাদের যে-জীবিকা দিয়েছি তার থেকে ভালো ভালো জিনিস খাও’। তারা আমার ওপর কোনো জুলুম করে নি, বরং তারা নিজেদেরই ওপর জুলুম করেছিল।
- ১৬১। আর তাদেরকে যখন বলা হল, ‘এই জনপদে বাস করতে থাকো, যা ইচ্ছা খাও আর বলো, ‘ক্ষমা চাই’, আর তোমরা এর দরজা পার হও মাথা নত ক’রে; আমি তো তোমাদের পাপ ক্ষমা এবং সৎকর্মপরায়ণদের জন্য আমার দান বৃদ্ধি করে দেব’।
- ১৬২। তখন তাদের মধ্যে যারা সীমালঙ্ঘনকারী ছিল তারা তাদেরকে যা বলা হয়েছিল তার পরিবর্তে অন্য কথা বলল। যেহেতু তারা সীমালঙ্ঘন করেছিল সেজন্য আমি আকাশ থেকে তাদের ওপর শাস্তি পাঠালাম।
||২১||
- ১৬৩। তাদেরকে সমুদ্রতীরবর্তী অধিবাসীদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করো, তারা শনিবারে সীমালঙ্ঘন করত। শনিবার-পালনের দিনে তাদের কাছে পানির ওপরে মাছ ভেসে আসত, কিন্তু যেদিন তারা শনিবার পালন করত না সেদিন ওরা তাদের কাছে আসত না। যারা সত্য ত্যাগ করেছিল তাদেরকে আমি এইভাবে পরীক্ষা করেছিলাম।
- ১৬৪। আর যখন তাদের একদল বলেছিল, ‘আল্লাহ্ যাদেরকে ধ্বংস করবেন বা কঠোর শাস্তি দেবেন, কেন তোমরা তাদেরকে (অনর্থক) উপদেশ দিচ্ছ?’ তারা বলেছিল, ‘তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি কর্তব্য পালনের জন্য, আর হয়তো তারা তাঁকে ভয় পেলেও পেতে পারে’।
- ১৬৫। তাদেরকে যে-উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তারা যখন তা ভুলে গেল, তখনও যারা খারাপ কাজ থেকে নিজেদেরকে দূরে রেখেছিল তাদেরকে আমি উদ্ধার করেছিলাম। আর যারা সীমালঙ্ঘন ক’রে সত্য ত্যাগ করেছিল তাদেরকে আমি কঠোর শাস্তি দিয়েছিলাম।
- ১৬৬। তারা যখন নিষিদ্ধ কাজে বাড়াবাড়ি করতে লাগল তখন আমি তাদেরকে বললাম, ‘ঘৃণিত বানর হও’।
- ১৬৭। আর স্মরণ করো, তোমার প্রতিপালক ঘোষণা ক’রে দিলেন যে, তিনি কিয়ামত পর্যন্ত এমন লোককে তাদের চেয়ে শক্তিশালী করতে থাকবেনই যারা তাদেরকে কঠিন শাস্তি দিতে থাকবে। আর নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক শাস্তিদানে তৎপর। আর তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালুও।
- ১৬৮। পৃথিবীতে আমি তাদের (বনি-ইসরাইল) কে বিচ্ছিন্ন ক’রে দিয়েছি বিভিন্ন সমাজে, তাদের কিছু ছিল সৎকর্মপরায়ণ আবার কিছু অন্যরকম। আর ভালো ও মন্দ দিয়ে আমি তাদেরকে পরীক্ষা করি যাতে তারা (সৎপথে) ফিরে আসে।
- ১৬৯। তারপর একের পর এক (অযোগ্য) উত্তরপুরুষেরা তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়। তারা কিতাবেরও উত্তরাধিকারী হয়। এই তুচ্ছ পৃথিবীর জিনিস গ্রহণ ক’রে তারা বলত, ‘আমাদের (এসবের জন্য) মাফ ক’রে দেওয়া হবে’। কিন্তু আবার ঐ ধরণের জিনিস তাদের কাছে এলে তা তারা গ্রহণ ক’রে নিত। কিতাবের অঙ্গীকার কি তাদের থেকে নেওয়া হয় নি যে, তারা আল্লাহ্র সম্বন্ধে সত্য ছাড়া (অন্যকিছু) বলবে না?
- ১৭০। আর ওতে যা আছে তা তারা ভালো করেই পড়েছে। যারা সাবধান হয় তাদের জন্য পরকালের আবাসই ভালো। তোমরা কি এ বোঝ না? আর যারা কিতাবকে দৃঢ়ভাবে ধ’রে থাকে ও যথারীতি নামাজ পড়ে আমি তো তাদের মতো সৎকর্মপরায়ণদের শ্রমের ফল নষ্ট করি না।
- ১৭১। আর তাদের ওপর যে-পাহাড় ছিল শামিয়ানার মতো তাকে ঝাঁকিয়ে দিলাম। তারা ভাবল ওটা তাদের ওপরে এসে পড়বে। (আমি তখন তাদেরকে বললাম) ‘আমি যা দিলাম তা শক্ত করে ধরো, যাতে তোমরা সাবধান হতে পার তার জন্য ওতে যা আছে তা স্মরণ করো’।
||২২||
- ১৭২। স্মরণ করো, তোমার প্রতিপালক আদমসন্তানের কটিদেশ থেকে তাদের সন্তানসন্ততিদেরকে বার করলেন আর তাদেরকে নিজেদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিতে বললেন, ‘আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই?’ তারা বলল, ‘নিশ্চয়ই আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি’। এ এজন্য যে তোমরা যেন কিয়ামতের দিন না বল, ‘আমরা তো এ-বিষয়ে জানতাম না’।
- ১৭৩। বা তোমরা যেন না বল, ‘আমাদের পূর্বপুরুষেরাই তো আমাদের পূর্বে শির্ক করত, আর আমরা তো তাদের পরবর্তী বংশধর। তবে কি মিথ্যাশ্রয়ীদের কৃতকর্মের জন্য তুমি আমাদেরকে ধ্বংস করবে?’
- ১৭৪। আর এভাবে নিদর্শনগুলো আমি বয়ান করি যাতে তারা ফিরে আসে।
- ১৭৫। তাদেরকে তুমি সেই লোকের কথা শোনাও যাকে আমি নিদর্শনাবলি দিয়েছিলাম। কিন্তু সে তা বর্জন করে, (আর কেমন ক’রে) শয়তান তার পিছনে লাগে এবং সে বিপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- ১৭৬ আর আমি ইচ্ছা করলে এর মাধ্যমে তাকে উচ্চ মর্যাদা দিতে পারতাম, কিন্তু সে দুনিয়ার প্রতি আসক্ত হল ও তার কামনা-বাসনার অনুসরণ করল। তার অবস্থা কুকুরের মতো, ওকে তুমি কষ্ট দিলে সে জিহ্বা বার ক’রে হাঁপাতে থাকে, আর তুমি কষ্ট না দিলেও জিহ্বা বার ক’রে হাঁপায়। যে-সম্প্রদায় আমার নিদর্শনসমূহকে প্রত্যাখান করে তাদের অবস্থাও তেমনি। সুতরাং তুমি এই কাহিনী বর্ণনা করো যাতে তারা চিন্তা করে।
- ১৭৭। যে-সম্প্রদায় আমার নিদর্শনাবলিকে মিথ্যা বলে ও নিজেদের প্রতি অনাচার করে তাদের অবস্থা কী খারাপ!
- ১৭৮। আল্লাহ্ যাকে পথ দেখান সে-ই পথ পায়, আর যাদেরকে তিনি বিপথগামী করেন তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
- ১৭৯। আর আমি তো বহু জিন ও মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি। তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা বোঝে না। তাদের চোখ আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা দেখে না এবং তাদের কান আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা শোনে না – এরা পশুর মতো, বরং তার চেয়েও ভ্রষ্ট। এরাই অবহেলাকারী।
- ১৮০। আর সুন্দর নামগুলো আল্লাহ্রই। তোমরা তাঁকে সেইসব নামেই ডাকবে। যারা তাঁর নাম বিকৃত করে তাদেরকে বর্জন করবে। তাদের কৃতকর্মের ফল তাদেরকে দেওয়া হবে।
- ১৮১। আর যাদেরকে আমি সৃষ্টি করেছি তাদের মধ্যে একদল লোক আছে যারা সঠিক পথ দেখায় ও ন্যায়বিচার করে।
||২৩||
- ১৮২। যারা আমার নিদর্শনাবলিকে মিথ্যা বলে আমি তাদেরকে ক্রমে ক্রমে এমনভাবে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাই যে তারা জানতেও পারবে না।
- ১৮৩। আমি তাদেরকে সময় দিয়ে থাকি। আমার কৌশল বড়ই নিপুণ।
- ১৮৪। তারা কি ভেবে দেখে না, তাদের সঙ্গীটি পাগল নয়; সে তো এক স্পষ্ট সর্তককারী।
- ১৮৫। তারা কি লক্ষ করে না আকাশ ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্বের, আর তিনি আর যা-কিছু সৃষ্টি করেছেন তার প্রতি? আর এর প্রতিও যে, তাদের সময় শেষ হয়ে আসছে? এর পর কোন্ কথায় তারা বিশ্বাস করবে?
- ১৮৬। আল্লাহ্ যাদেরকে পথ দেখান না তাদেরকে কেউ পথ দেখাবার নেই, আর তিনি তাদেরকে বেয়াড়া পাগলের মতো ঘুরে বেড়াতে দেন।
- ১৮৭। তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, ‘সেই সময় (কিয়ামত) কখন আসবে?’ বলো, ‘এ-সম্বন্ধে কেবল আমার প্রতিপালকই জানেন। কেবল তিনিই যথাসময়ে তা প্রকাশ করবেন’। সে হবে আকাশ ও পৃথিবীতে এক ভয়ংকর ঘটনা। হঠাৎ তা এসে পড়বে তোমাদের ওপর। তুমি এ-বিষয়ে ভালোভাবে জান এই ভেবে তারা তোমাকে প্রশ্ন করে। বলো, ‘এ-সম্বন্ধে আমার প্রতিপালক জানেন’। কিন্তু বেশির ভাগ লোক তা জানে না।
- ১৮৮। বলো, ‘আল্লাহ্র ইচ্ছা ছাড়া আমার নিজের ভালোমন্দের ওপরও আমার কোনো অধিকার নেই। আমি যদি অদৃশ্যের খবর জানতাম তবে তো আমার অনেক ভালো হ’ত আর মন্দ কোনোকিছু আমাকে স্পর্শ করত না। আমি তো বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা মাত্র’।
||২৪||
- ১৮৯। তিনিই তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন ও তার থেকে তার সঙ্গিনী সৃষ্টি করেন যাতে সে তার কাছে শান্তি পায়। তারপর যখন সে তার সাথে সংগত হয় তখন সে লঘু গর্ভ ধারণ করে ও এ নিয়ে সময় পার করে। গর্ভ যখন গুরুভার হয় তখন তারা দুজনে তাদের প্রতিপালক আল্লাহ্র কাছে প্রার্থনা করে, ‘যদি তুমি আমাদেরকে এক পূর্ণাঙ্গ সন্তান দাও তবে আমরা কৃতজ্ঞ হই’।
- ১৯০। তিনি যখন তাদেরকে এক পূর্ণাঙ্গ সন্তান দেন, তারা তাদেরকে যা দেওয়া হয় সে-সম্বন্ধে আল্লাহ্র শরিক করে। কিন্তু তারা যাকে শরিক করে আল্লাহ্ তার চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে।
- ১৯১। তারা কি এমন কাউকে শরিক করে যারা কিছুই সৃষ্টি করে না, বরং ওরা নিজেরাই সৃষ্ট?
- ১৯২। ওরা তাদেরকে সাহায্য করতে পারে না, আর নিজেদেরকেও না।
- ১৯৩। তোমরা তাদেরকে সৎপথে ডাকলে তারা তোমাদেরকে অনুসরণ করবে না, তোমরা তাদেরকে ডাক বা না-ই ডাক তোমাদের পক্ষে উভয়ই সমান।
- ১৯৪। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ ছাড়া তোমরা যাদেরকে ডাক তারা তো তোমাদের মতোই দাস। তোমরা যাদেরকে ডাক, যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে তারা তোমাদের ডাকে সাড়া দিক।
- ১৯৫। তাদের কি চলার জন্য পা আছে? তাদের কি ধরার জন্য হাত আছে? তাদের কি দেখার জন্য চোখ আছে? বা তাদের কি শোনার জন্য কান আছে? বলো, ‘তোমরা যাদেরকে আল্লাহ্র অংশী করেছ তাদেরকে ডাকো ও আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করো, আর আমাকে অবকাশ দিয়ো না।
- ১৯৬। আমার অভিভাবক তো আল্লাহ্ যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন ও তিনিই সৎকর্মপরায়ণদের অভিভাবকত্ব ক’রে থাকেন।
- ১৯৭। আর আল্লাহ্ ছাড়া তোমরা যাকে ডাক তারা তো তোমাদেরকে সাহায্য করতে পারে না, আর তাদের নিজেদেরকেও না’।
- ১৯৮। তুমি যদি তাদেরকে সৎপথে ডাক তবে তারা শুনবে না। আর তুমি দেখতে পাবে যে তারা তোমার দিকে তাকিয়ে আছে, কিন্তু তারা দেখে না।
- ১৯৯। তুমি ক্ষমার অভ্যাস করো, সৎকাজের নির্দেশ দাও আর মূর্খদেরকে উপেক্ষা করো।
- ২০০। আর যদি শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে তবে আল্লাহ্র শরণ নেবে, নিশ্চয় তিনি সব শোনেন, সব জানেন।
- ২০১। নিশ্চয়ই যখন শয়তান কুমন্ত্রণা দেয় তখন যারা সাবধান তারা সচেতন হয় ও তাদের চোখ খুলে যায়।
- ২০২। আর তাদের ভাই-বেরাদররা (অবিশ্বাসীরা) তাদের বিভ্রান্তির দিকে আকৃষ্ট করে ও এ-বিষয়ে তারা কোনো কসুর করে না।
- ২০৩। আর তুমি যখন তাদের কাছে কোনো আয়াত উপস্থিত কর না, তারা বলে, ‘তুমি নিজেই একটা-কিছু উদ্ভাবন কর না কেন’। বলো, ‘আমার প্রতিপালকের কাছ থেকে আমি যে-বিষয়ে প্রত্যাদেশ পাই আমি তো শুধু তা-ই অনুসরণ করি। বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য তোমাদের প্রতিপালকের কাছে থেকে এ এক নিদর্শন, পথনির্দেশ ও দয়া’।
- ২০৪। আর যখন কোরান পড়া হয় তখন তোমরা মন দিয়ে তা শুনবে ও চুপ ক’রে থাকবে যাতে তোমাদের ওপর দয়া করা হয়।
- ২০৫। তোমার প্রতিপালককে মনেমনে, বিনয়ে ও ভয়ে, অনুচ্চ স্বরে সকালে ও সন্ধ্যায় স্মরণ করবে এবং তুমি উদাসীন থাকবে না।
- ২০৬। যারা তোমার প্রতিপালকের সান্নিধ্যে রয়েছে তারা তো অহংকারে তাঁর উপাসনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় না এবং তাঁরই মহিমা ঘোষণা করে ও তাঁরই কাছে সিজদা করে। [সিজদা]
অনুবাদটি নেওয়া হয়েছে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান অনুবাদিত 'কোরানশরিফ সরল বঙ্গানুবাদ' থেকে।