আল তওবা
উইকিসংকলন থেকে
[সম্পাদনা] সুরা তওবা
রুকুঃ ১৬ আয়াতঃ ১২৯
||১||
- ১। তোমরা যাদের সাথে সন্ধি করেছিলে, আল্লাহ্ ও রসুলের পক্ষ থেকে সে-সকল অংশীবাদীর সাথে চুক্তি বাতিল করা হল।
- ২। তারপর তোমরা দেশে চার মাস কাল ঘোরাফেরা করো ও জেনে রাখো যে তোমরা আল্লাহ্কে পরিশ্রান্ত করতে পারবে না। আর আল্লাহ্ অবিশ্বাসীদেরকে অপদস্থ করে থাকেন।
- ৩। মহান হজের দিনে আল্লাহ্ ও তাঁর রসুলের পক্ষ থেকে মানুষের ওপর এ এক ঘোষণা যে, আল্লাহ্র সাথে অংশীবাদীদের কোনো সম্পর্ক নেই ও তাঁর রসুলের সঙ্গেও নেই। তোমরা যদি তওবা কর তবে তোমাদের কল্যাণ হবে। আর তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও তবে জেনে রাখো যে তোমরা আল্লাহ্কে দুর্বল করতে পারবে না। আর অবিশ্বাসীদেরকে নিদারুণ শাস্তির সংবাদ দাও।
- ৪। তবে অংশীবাদীদের মধ্যে যাদের সাথে তোমরা চুক্তিতে আবদ্ধ ও পরে যারা চুক্তিরক্ষায় কোনো ত্রু টি করে নি, আর তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্যও করে নি তাদের সাথে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত চুক্তি পালন করবে। নিশ্চয় আল্লাহ্ সাবধানিদেরকে ভালোবাসেন।
- ৫। তারপর নিষিদ্ধ মাস পার হলে অংশীবাদীদেরকে যেখানে পাবে বধ করবে। তাদেরকে বন্দি করবে, অবরোধ করবে ও তাদের জন্য প্রত্যেক ঘাঁটিতে ওত পেতে থাকবে। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামাজ কায়েম করে ও জাকাত দেয় তবে তাদের পথ ছেড়ে দেবে। আল্লাহ্ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
- ৬। আর অংশীবাদীদের মধ্যে কেউ তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করলে তুমি তাকে আশ্রয় দেবে, যাতে সে আল্লাহ্র বাণী শুনতে পায়। তারপর তাকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেবে, কারণ তারা অজ্ঞ লোক।
||২||
- ৭। আল্লাহ্ ও তাঁর রসুলের কাছে অংশীবাদীদের চুক্তি কী ক’রে বলবৎ থাকবে? তবে যাদের সাথে মসজিদ-উল-হারামের কাছে তোমরা পারস্পরিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলে, যতদিন তারা তোমাদের সাথে (চুক্তিতে) সুদৃঢ় থাকবে তোমরাও তাদের সঙ্গে (চুক্তিতে) সুদৃঢ় থাকবে। নিশ্চয় আল্লাহ্ সাবধানিদেরকে ভালোবাসেন।
- ৮। কেমন ক’রে থাকবে, যখন তারা তোমাদের ওপর সুবিধা করতে পারলে তোমাদের আত্মীয়তার বা অঙ্গীকারের কোনো মর্যাদা দেয় না? তাদের মুখ তোমাদেরকে মুগ্ধ করে, কিন্তু তাদের অন্তর তোমাদের প্রতি বিরূপ। আর তাদের অধিকাংশই তো সত্যত্যাগী।
- ৯। তারা আল্লাহ্র আয়াতকে নগণ্য মূল্যে বিক্রি করে ও তাঁর পথে লোকদেরকে বাধা দেয়। তারা যা করে তা তো খারাপ!
- ১০। তারা কোনো বিশ্বাসীর সাথে আত্মীয়তা ও অঙ্গীকারের মর্যাদা রাখে না, তারাই তো সীমালঙ্ঘনকারী।
- ১১। তারপর তারা (অংশীবাদীরা) যদি তওবা করে, নামাজ কায়েম করে ও জাকাত দেয় তবে তারা তোমাদের ধর্মভাই। আর জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আমি নিদর্শনসমূহ স্পষ্টরূপে বয়ান করি।
- ১২। আর তারা যদি চুক্তির পর তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে ও তোমাদের ধর্ম সম্পর্কে বিদ্রূপ করে, তবে অবিশ্বাসীদের প্রধানদের সাথে যুদ্ধ করবে। এরা এমন লোক যাদের প্রতিশ্রুতি প্রতিশ্রুতিই নয়। হয়তো তারা নিরস্ত হতে পারে।
- ১৩। তোমরা কি সে-সম্প্রদায়ের সাথে যুদ্ধ করবে না, যারা নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং রসুলকে তাড়িয়ে দেবার সংকল্প করেছে? ওরাই প্রথম তোমাদের বিরুদ্ধাচারণ করেছে। তোমরা কি তাদেরকে ভয় কর? বিশ্বাসী হলে তোমরা আল্লাহ্কে ভয় করো, এ-ই আল্লাহ্র কাছে শোভনীয়।
- ১৪। তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করো। তোমাদের হাতে আল্লাহ্ ওদেরকে শাস্তি দেবেন, ওদেরকে অপদস্থ করবেন, ওদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন ও বিশ্বাসীদের চিত্ত প্রশান্ত করবেন,
- ১৫। আর তাদের মনের দুঃখ দূর করবেন। আল্লাহ্ যার প্রতি ইচ্ছা তার ওপর ক্ষমাপরবশ হন। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ তত্ত্বজ্ঞানী।
- ১৬। তোমরা কি মনে কর যে, আল্লাহ্ তোমাদেরকে এমনি ছেড়ে দেবেন, এ না জেনে যে কে তোমাদের মধ্যে জিহাদ করেছে, কে আল্লাহ্, তাঁর রসুল ও বিশ্বাসীদেরকে ছাড়া অন্য কাউকেই অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করে নি? তোমরা যা কর সে-সম্বন্ধে আল্লাহ্ ভাল করেই জানেন।
||৩||
- ১৭। অংশীবাদীরা যখন নিজেদের অবিশ্বাস সম্পর্কে নিজেরাই সাক্ষ্য দেয় তখন তাদের আল্লাহ্র মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণ না করাই উচিত। এরাই তারা যাদের সব কাজকর্ম পন্ড। আর এরা আগুনে স্থায়ীভাবে বাস করবে।
- ১৮। তারাই তো আল্লাহ্র মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণ করবে যারা আল্লাহ্ ও পরকালে বিশ্বাস করে, নামাজ কায়েম করে, জাকাত দেয়, এবং আল্লাহ্ ছাড়া কাউকেও ভয় করে না; ওদেরই সৎপথ পাওয়ার আশা আছে।
- ১৯। যারা হাজিদের পানি সরবরাহ করে ও মসজিদ-উল-হারামের রক্ষণাবেক্ষণ করে তোমরা কি তাদেরকে ওদের সমজ্ঞান কর যারা আল্লাহ্ ও পরকালে বিশ্বাস করে এবং আল্লাহ্র পথে জিহাদ করে? আল্লাহ্র নিকট তারা সমতুল্য নয়। আল্লাহ্ সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়কে সৎপথ প্রদর্শন করেন না।
- ২০। আল্লাহ্ কাছে তাদের সবচেয়ে বড় মর্যাদা আর তারাই তো সফলকাম যারা বিশ্বাস করে, হিজরত করে ও ধনপ্রাণ দিয়ে আল্লাহ্র পথে সংগ্রাম করে।
- ২১। তাদের প্রতিপালক তাদেরকে নিজ দয়া ও নিজ সন্তোষের এবং জান্নাতের খবর দিচ্ছেন যেখানে তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী সুখ।
- ২২। সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। আল্লাহ্র কাছেই তো সবচেয়ে বড় পুরস্কার।
- ২৩। হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের পিতা ও ভ্রাতা যদি বিশ্বাস অপেক্ষা সত্য প্রত্যাখানকে শ্রেয়জ্ঞান করে তবে তাদেরকে অভিভাবকরূপের গ্রহণ করো না। তোমাদের মধ্যে যারা ওদেরকে অভিভাবক করে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।
- ২৪। বলো, ‘তোমাদের পিতাপুত্র, ভ্রাতৃবৃন্দ, পত্নীপরিজন, অর্জিত ধনসম্পদ ও ব্যাবসাবাণিজ্য, যার অচল হওয়ার ভয় তোমরা কর, এবং তোমাদের প্রিয় বাসস্থান যদি তোমাদের কাছে আল্লাহ্, তাঁর রসুল ও আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদ করার চেয়ে বেশি প্রিয় হয় তবে আল্লাহ্র আদেশ পাঠানো পর্যন্ত অপেক্ষা করো। আল্লাহ্ তো সত্যত্যাগী সম্প্রদায়কে সৎপথ প্রদর্শন করেন না’।
||৪||
- ২৫। আল্লাহ্ তোমাদেরকে তো বহু ক্ষেত্রে সাহায্য করেছেন। আর হুনাইনের যুদ্ধের দিনে, যখন তোমাদের সংখ্যার আধিক্য তোমাদেরকে উৎফুল্ল করেছিল, কিন্তু তা তোমাদের কোনো কাজে আসে নি, আর পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তোমাদের জন্য ছোট হয়ে গিয়েছিল ও তোমরা পেছন ফিরে পালিয়ে গিয়েছিলে।
- ২৬। তারপর আল্লাহ্ তাঁর কাছ থেকে তাঁর রসুল ও বিশ্বাসীদেরকে প্রশান্তি দেন ও এমন এক সৈন্যবাহিনী অবতীর্ণ করেন যা তোমরা দেখতে পাও নি। আর অবিশ্বাসীদেরকে তিনি শাস্তি দেলেন। এ-ই অবিশ্বাসীদের কর্মফল।
- ২৭। এর পরও যাকে ইচ্ছা আল্লাহ্ ক্ষমা করতে পারেন, আল্লাহ্ তো ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।
- ২৮। হে বিশ্বাসীগণ! অংশীবাদীরা তো অপবিত্র; তাই এ-বছরের পর তারা যেন মসজিদ-উল-হারামের কাছে না আসে। যদি তোমরা দারিদ্র্যের ভয় কর তবে জেনে রাখো আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে তাঁর নিজ করুণায় তোমাদের অভাব দূর করতে পারেন। নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, তত্ত্বজ্ঞানী।
- ২৯। যাদের ওপর কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে তাদের মধ্যে যারা আল্লাহ্য় বিশ্বাস করে না ও পরকালেও না এবং আল্লাহ্ ও তাঁর রসুল যা হারাম করেছেন তা হারাম করে না ও সত্যধর্ম অনুসরণ করে না তাদের সাথে যুদ্ধ করবে যে-পর্যন্ত না তারা বশ্যতা স্বীকার ক’রে আনুগত্যর নিদর্শনস্বরূপ স্বেচ্ছায় জিজিয়া দেয়।
||৫||
- ৩০। আর ইহুদিরা বলে, ‘ওজাইর আল্লাহ্র পুত্র’। আর খ্রিষ্টানেরা বলে, ‘মসিহ্ আল্লাহ্র পুত্র’। এ তাদের মুখের কথা। পূর্বে যারা অবিশ্বাস করেছিল ওরা তাদের মতো কথা বলে। আল্লাহ্ তাদেরকে ধ্বংস করুন! তারা কেমন ক’রে সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়!
- ৩১। তারা আল্লাহ্ ছাড়া তাদের পন্ডিতদেরকে ও সন্ন্যাসীদেরকে তাদের প্রতিপালক হিসাবে গ্রহণ করেছে, আর মরিয়মপুত্র মসিহ্কেও। কিন্তু ওদেরকে এক উপাস্যের উপাসনা করার জন্যই আদেশ করা হয়েছিল। তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। তারা যাকে অংশী করে তার চেয়ে তিনি কত পবিত্র!
- ৩২। তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহ্র জ্যোতি নেভাতে চায়। অবিশ্বাসীরা অপ্রীতিকর মনে করলেও আল্লাহ্ তাঁর জ্যোতির পূর্ণ উদ্ভাসন ছাড়া অন্যকিছু চান না।
- ৩৩। অংশীবাদীরা অপ্রীতিকর মনে করলেও অপর সমস্ত ধর্মের ওপর জয়যুক্ত করার জন্য তিনিই পথনির্দেশ ও সত্যধর্মসহ তাঁর রসুল প্রেরণ করেছেন।
- ৩৪। হে বিশ্বাসীগণ! পন্ডিত ও সন্ন্যাসীদের মধ্যে অনেকে লোকের ধন অন্যায়ভাবে ভোগ ক’রে থাকে এবং লোককে আল্লাহ্র পথ থেকে বিরত করে। যারা সোনা ও রুপা জমা করে এবং তা আল্লাহ্র পথে ব্যয় করে না তাদেরকে মারাত্মক শাস্তির খবর দাও।
- ৩৫। যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা গরম করা হবে ও তা দিয়ে তাদের কপালে, পাশে ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে (সেদিন বলা হবে), ‘এ-ই তো তা যা তোমরা নিজেদের জন্য জমা করেছিলে। তাই তোমরা যা জমা করতে তার স্বাদ নাও’।
- ৩৬। আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহ্র বিধানে আল্লাহ্র কাছে মাসগণনায় মাস বারোটি, তার মধ্যে চারটি মাস (মহররম, রজব, জিলকদ ও জিলহজ ) হারাম। এ-ই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের ওপর জুলুম কোরো না, আর তোমরা অংশীবাদীদের বিরুদ্ধে সমবেতভাবে যুদ্ধ করবে যেমন তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সমবেতভাবে যুদ্ধ ক’রে থাকে। আর জেনে রাখো যে আল্লাহ্ সাবধানিদের সঙ্গে আছেন।
- ৩৭। এই মাস অন্য মাসে পিছিয়ে দিলে তাতে কেবল অবিশ্বাসের মাত্রা বৃদ্ধি করবে, যার ফলে যারা অবিশ্বাস করে তারা ওকে কোনো বছর হালাল করবে, আবার কোনো বছর হারাম করবে যাতে তারা আল্লাহ্ যেগুলোকে হারাম করেছেন তা হালাল করতে পারে। তাদের মন্দ কাজগুলো তাদের জন্য শোভনীয় করা হয়েছে। আল্লাহ্ অবিশ্বাসী সম্প্রদায়কে সৎপথ দেখান না।
||৬||
- ৩৮। হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের কী হল যে যখন আল্লাহ্র পথে তোমাদেরকে অভিযানে বের হতে বলা হয় তখন তোমরা ঘরের টানে গড়িমসি কর? তোমরা কি পরকালের পরিবর্তে পার্থিব জীবন নিয়েই খুশি? পরকালের তুলনায় পার্থিব জীবনের উপকরণ তো নগণ্য।
- ৩৯। যদি তোমরা অভিযানে বের না হও তবে তিনি তোমাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তি দেবেন এবং অন্য জাতিকে তোমাদের জায়গায় বসাবেন। আর তোমরা তাঁর কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ্ তো সর্বশক্তিমান।
- ৪০। যদি তোমরা তাকে (রসুলকে) সাহায্য না কর, (তবে স্মরণ করো) আল্লাহ্ তাকে সাহায্য করেছিলেন যখন অবিশ্বাসীরা তাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। সে ছিল দুজনের একজন১। যখন তারা গুহার মধ্যে ছিল, সে তখন তার সঙ্গীকে বলেছিল, ‘মন খারাপ কোরো না, আল্লাহ্ তো আমাদের সাথেই আছেন’। তারপর আল্লাহ্ তার ওপর প্রশান্তি বর্ষণ করলেন। আর এমন এক সৈন্যবাহিনী দিয়ে তিনি তাকে শক্তিশালী করলেন যা তোমরা দেখ নি আর তিনি অবিশ্বাসীদের কথা তুচ্ছ করলেন। আল্লাহ্র কথাই সবার ওপরে। আল্লাহ্ তো শক্তিমান তত্ত্বজ্ঞানী।
- ৪১। অভিযানে বের হয়ে পড়ো যুদ্ধসামগ্রী নিয়ে, (তা) হালকা হোক বা ভারী হোক, আর তোমরা ধনপ্রাণ দিয়ে আল্লাহ্র পথে সংগ্রাম করো। এ-ই তোমাদের জন্য মঙ্গল, যদি তোমরা বুঝতে পার। আশু লাভের সম্ভাবনা থাকলে ও যাত্রাপথ বেশি দীর্ঘ না হলে ওরা তো তোমাদের অনুসরণ করত। কিন্তু ওদের কাছে যাত্রাপথ বড়ই দীর্ঘ মনে হল।
- ৪২। ওরা আল্লহ্র নামে শপথ করে বলবে, ‘পারলে আমরা নিশ্চয়ই তোমাদের সঙ্গে বের হতাম’। ওরা নিজেদেরই ধ্বংস করে। আল্লাহ্ জানেন, ওরা মিথ্যা কথা বলে।
||৭||
- ৪৩। আল্লাহ্ তোমাকে ক্ষমা করুন! কারা সত্যবাদী তা তোমার কাছে স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ও কারা মিথ্যাবাদী তা না জানা পর্যন্ত তুমি কেন তাদেরকে অব্যাহতি দিলে?
- ৪৪। যারা আল্লাহ্ ও পরকালে বিশ্বাস করে তারা নিজ সম্পদ ও জীবন দ্বারা সংগ্রামে অব্যাহতি পাবার প্রার্থনা তোমার কাছে করে না। আল্লাহ্ সাবধানিদের সম্বন্ধে ভালো করেই জানেন।
- ৪৫। তোমার কাছে অব্যাহতি প্রার্থনা করে কেবল ওরাই যারা আল্লাহ্ ও পরকালে বিশ্বাস করে না এবং যাদের চিত্ত সংশয়যুক্ত। ওরা তো নিজেদের সংশয়ে দ্বিধাগ্রস্ত।
- ৪৬। ওরা বের হতে চাইলে ওরা নিশ্চয়ই এর জন্য প্রস্তুতির ব্যবস্থা করত, কিন্তু ওরা চ’লে যাক এ আল্লাহ্র মনঃপূত ছিল না; তাই তিনি ওদেরকে বিরত রাখেন আর ওদের বলা হয় ‘যারা ব’সে আছে তাদের সাথে ব’সে থাকো’।
- ৪৭। ওরা তোমাদের সাথে বের হলে তোমাদের বিভ্রান্তিই বৃদ্ধি করত ও তোমাদের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তোমাদের মধ্যে ছুটোছুটি করত। তোমাদের মধ্যে ওদের কথায় কান দেওয়ার লোক আছে। যারা সীমালঙ্ঘন করে আল্লাহ্ তাদেরকে ভালো করেই জানেন।
- ৪৮। পূর্বেও ওরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল ও ওরা তোমার কর্ম পন্ড করার জন্য গন্ডগোল সৃষ্টি করেছিল যতক্ষণ না ওদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সত্য অবতীর্ণ হল ও আল্লাহ্র আদেশ জারি হল।
- ৪৯। আর ওদের মধ্যে এমন লোক আছে যে বলে, ‘আমাকে অব্যাহতি দাও আর আমাকে বিশৃঙ্খলায় ফেলো না’। সাবধান ওরাই বিশৃঙ্খলায় প’ড়ে আছে। আর জাহান্নাম তো অবিশ্বাসীদের ঘিরে রাখবে।
- ৫০। তোমার মঙ্গল হলে তা ওদেরকে পীড়া দেয় আর তোমার বিপদ ঘটলে ওরা বলে, ‘আমরা তো আগেই আমাদের ব্যাপারে সর্তক হয়েছিলাম’। আর ওরা উৎফুল্ল মনে স’রে পড়ে।
- ৫১। বলো, ‘আমাদের জন্য আল্লাহ্ যা নির্দিষ্ট করেছেন তা ছাড়া আমাদের অন্য কিছু হবে না। তিনিই আমাদের কর্মবিধায়ক’। আর আল্লাহ্র ওপরেই বিশ্বাসীদের নির্ভর করা উচিত।
- ৫২। বলো, ‘তোমরা কি আমাদের দুটো কল্যাণ২ – এর একটির জন্য প্রতীক্ষা করছ; আর আমরা তোমদের জন্য অপেক্ষা করছি যে, আল্লাহ্ নিজে থেকে বা আমাদের হাত দিয়ে তোমাদের বিপজ্জনক শাস্তির ব্যবস্থা করবেন। অতএব তোমরা প্রতীক্ষা করো, আর আমরাও তোমাদের সঙ্গে প্রতীক্ষা করছি’।
- ৫৩। বলো, ‘ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক তোমাদের অর্থসাহায্য তোমাদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না। তোমরা তো সত্যত্যাগী সম্প্রদায়’।
- ৫৪। ওরা আল্লাহ্ ও তাঁর রসুলকে অস্বীকার করে, নামাজে শৈথিল্যের সঙ্গে উপস্থিত হয় ও অনিচ্ছায় অর্থসাহায্য করে বলেই ওদের অর্থসাহায্য গ্রহণ করা নিষেধ করা হয়েছে।
- ৫৫। সুতরাং ওদের ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি তোমাকে যেন মুগ্ধ না করে। আল্লাহ্ তো ঐ দিয়েই ওদেরকে পার্থিব জীবনে শাস্তি দিতে চান। ওরা অবিশ্বাসীই রয়ে যাবে (যখন) আত্মা ওদের দেহ ত্যাগ করবে।
- ৫৬। ওরা আল্লাহ্র নামে শপথ করে যে ওরা তোমাদেরই সাথে, কিন্তু ওরা তো তোমাদের সাথে নয়। আসলে ওরা তো এক কাপুরুষ সম্প্রদায়।
- ৫৭। ওরা কোনো আশ্রয়, কোনো গুহা বা কোনো ঢোকার জায়গা পেলেই সেখানে দৌড়ে পালাবে।
- ৫৮। ওদের মধ্যে এমন লোক আছে যারা সাদকা সম্পর্কে তোমাকে দোষারোপ করে, তারপর তার কিছু দেওয়া হলে ওরা তুষ্ট হয় ও তার কিছু না দেওয়া হলে ওরা অসন্তুষ্ট হয়।
- ৫৯। আল্লাহ্ ও তাঁর রসুল ওদেরকে যা দিয়েছেন তাতে যদি ওরা তুষ্ট হ’ত তা হলে ভালো হ’ত আর যদি বলত ‘আল্লাহ্ই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ্ অবশ্যই শীঘ্রই নিজের অনুগ্রহ থেকে আমাদের দান করবেন ও তাঁর রসুলও (দান করবেন)। আমরা আল্লাহ্রই ভক্ত’।
||৮||
- ৬০। সাদকা (জাকাত অর্থে) তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও সেই কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য; যাদের মনোরঞ্জন প্রয়োজন তাদের জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহ্র পথে সংগ্রামকারী ও মুসাফিরদের জন্য। এ আল্লাহ্র বিধান। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ তত্ত্বজ্ঞানী।
- ৬১। আর ওদের মধ্যে এমন লোক আছে যারা নবিকে কষ্ট দেয় ও বলে, ‘সে যা-শোনে তা-ই বিশ্বাস করে’। বলো, ‘তোমাদেরর জন্য যা মঙ্গল তার কান তা-ই শোনে। সে আল্লাহ্য় বিশ্বাস করে এবং বিশ্বাসীদের বিশ্বাস করে, আর সে তাদের জন্য আশীর্বাদ যারা তোমাদের মধ্যে বিশ্বাস করে। আর যারা আল্লাহ্র রসুলকে কষ্ট দেয় তাদের জন্য রয়েছে নিদারুণ শাস্তি’।
- ৬২। ওরা তোমাদেরক সন্তুষ্ট করার জন্য তোমাদের কাছে আল্লাহ্র শপথ করে। অথচ আল্লাহ্ ও তাঁর রসুলকে সন্তুষ্ট করাই তাদের অবশ্যকর্তব্য, যদি তারা বিশ্বাস করে।
- ৬৩। ওরা কি জানে না যে, যে আল্লাহ্ ও তাঁর রসুলের বিরোধিতা করে তার জন্য আছে জাহান্নামের আগুন, সেখানে সে চিরকাল থাকবে? এ-ই তো চরম অপমান।
- ৬৪। মুনাফিকরা ভয় করে, এমন এক সূরা অবতীর্ণ না হয় যা ওদের অন্তরের কথা বলে দেবে! বলো, ‘ঠাট্টা করো, তোমরা যা ভয় কর আল্লাহ্ তা প্রকাশ ক’রে দেবেন’।
,:৬৫। আর তুমি ওদেরকে প্রশ্ন করলে ওরা নিশ্চয় বলবে, ‘আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়াকৌতুক করছিলাম’। বলো, ‘তোমরা কি আল্লাহ্, তাঁর নিদর্শন ও তাঁর রসুলকে ঠাট্টা করছিলে?’
- ৬৬। তোমরা দোষ ঢাকার চেষ্টা কোরো না। তোমরা বিশ্বাস করার পর অবিশ্বাস করেছ। তোমাদের মধ্যে কাউকে আমি ক্ষমা করলেও অন্যদেরকে শাস্তি দেব, কারণ তারা অপরাধ করেছে।
||৯||
- ৬৭। মুনাফিক নর ও নারী একে অন্যের মতো, ওরা অসৎ কর্মের নির্দেশ দেয় ও সৎকর্ম নিষেধ করে। ওরা খরচ করতে চায় না। ওরা আল্লাহ্কে ভুলে গিয়েছে, ফলে তিনিও তাদেরকে ভূলে গিয়েছেন। মুনাফিকরা তো সত্যত্যাগী।
- ৬৮। আল্লাহ্ মুনাফিক নরনারী ও অবিশ্বাসীদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাহান্নামের আগুনের যেখানে ওরা থাকবে চিরকাল। এ-ই ওদের জন্য হিসাব, ওদের ওপরে রয়েছে আল্লাহ্র অভিশাপ, ওদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি।
- ৬৯। তাদেরই মতো যারা তোমাদের পূর্বে এসেছিল, যারা শক্তিতে তোমাদের চেয়ে প্রবল ছিল এবং ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততিতে তোমাদের চেয়ে প্রাচুর্যশালী ছিল। তাই ওরা ওদের ভাগ্যে যা ছিল তা ভোগ করেছে। তোমাদের ভাগ্যে যা ছিল তোমরাও তা ভোগ করলে যেমন তোমাদের পুর্ববর্তীরা তাদের ভাগ্যে যা ছিল তা-ই ভোগ করেছিল। ওরা যেমন অনর্থক আলাপ-আলোচনা করেছিল তোমরাও তেমনি আলাপ-আলোচনা করেছ। ওরাই তো তারা যাদের কাজ ইহলোকে ব্যর্থ, পরলোকে ব্যর্থ, আর ওরাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।
- ৭০। ওদের পূর্বে নুহ্, আ’দ ও সামুদ সম্প্রদায়, ইব্রাহিমের সম্প্রদায় এবং মাদিয়ান ও বিধ্বস্ত নগরের অধিবাসীদের সংবাদ কি ওদের কাছে আসে নি? ওদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে ওদের রসুলরা এসেছিল। আল্লাহ্ তো তাদের ওপর জুলুম করেন নি এবং ওরা নিজেরাই নিজেদের ওপর জুলুম করেছিল।
- ৭১। বিশ্বাসী নরনারী একে অপরের বন্ধু, এরা সৎকর্মের নির্দেশ দেয় ও অসৎ কর্ম নিষেধ করে, নামাজ কায়েম করে, জাকাত দেয় আর আল্লাহ্ ও তাঁর রসুলের আনুগত্য করে; এদেরকেই আল্লাহ্ দয়া করবেন আর আল্লাহ্ তো শক্তিমান তত্ত্বজ্ঞানী।
- ৭২। আল্লাহ্ বিশ্বাসী নর ও নারীকে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যার নিচে নদী বইবে – সেখানে তারা থাকবে চিরকাল – প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্থায়ী জান্নাতে উত্তম বাসস্থানের। আর আল্লাহ্র সন্তুষ্টিই সবচেয়ে ভালো আর সে-ই তো মহাসাফল্য।
||১০||
- ৭৩। হে নবি! অবিশ্বাসী ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করো ও ওদের প্রতি কঠোর হও। ওদের বাসস্থান জাহান্নাম। আর কী সে মন্দ পরিণাম!
- ৭৪। ওরা আল্লাহ্র শপথ করে যে ওরা কিছু বলে নি, কিন্তু ওরা তো অবিশ্বাসের কথাই বলেছে ও ইসলামগ্রহণের পর ওরা তা প্রত্যাখান করেছে। ওরা যা করতে চেয়েছিল তা ওরা পারে নি। আল্লাহ্ ও তাঁর রসুল তাঁর দাক্ষিণ্যে ওদেরকে অভাবমুক্ত করেছিলেন বলেই ওরা দোষ দিচ্ছিল। ওরা তওবা করলে ওদের জন্য ভালো হবে; কিন্তু ওরা মুখ ফিরিয়ে নিলে আল্লাহ্ ইহলোকে ও পরলোকে ওদেরকে নিদারুণ শাস্তি দেবেন। পৃথিবীতে ওদের কোনো অভিভাবক বা সাহায্যকারী নেই।
- ৭৫। ওদের মধ্যে কেউ-কেউ আল্লাহ্র কাছে অঙ্গীকার করেছিল, ‘আল্লাহ্ নিজ অনুগ্রহে আমাদেরকে দান করলে আমরা নিশ্চয়ই সাদকা দেব ও ভালো হব’।
- ৭৬। তারপর যখন তিনি নিজ কৃপায় ওদের দান করলেন তখন ওরা এ-বিষয়ে কৃপণতা করল ও মুখ ফিরিয়ে স’রে পড়ল।
- ৭৭। শেষ পর্যন্ত ওদের অন্তরে কপটতা রইল আল্লাহ্র সাথে ওদের সাক্ষাতের দিন পর্যন্ত; কারণ, ওরা আল্লাহ্র কাছে যে অঙ্গীকার করেছিল তা ভঙ্গ করেছিল; আর ওরা ছিল মিথ্যাচারী।
- ৭৮। ওরা কি জানত না যে ওদের অন্তরের গোপন কথা ও ওদের গোপন পরামর্শ আল্লাহ্ জানেন; আর যা অদৃশ্য তা তিনি ভালো করেই জানেন?
- ৭৯। বিশ্বাসীদের মধ্যে যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাদকা দেয় আর যারা নিজের শ্রম ছাড়া কিছুই পায় না তাদেরকে যারা দোষারোপ করে ও বিদ্রূপ করে আল্লাহ্ ওদেরকে বিদ্রূপ করেন, ওদের জন্য আছে নিদারুণ শাস্তি।
- ৮০। তুমি ওদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর বা না-কর, একই কথা, তুমি সত্তরবার ওদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেও আল্লাহ্ ওদেরকে কখনোই ক্ষমা করবেন না। এ এজন্য যে, ওরা আল্লাহ্ ও তাঁর রসুলকে অস্বীকার করেছে। আল্লাহ্ সত্যত্যাগী সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না।
||১১||
- ৮১। যারা (তাবুক অভিযানে) পেছনে রয়ে গেল তারা আল্লাহ্র রসুলের বিরুদ্ধাচারণ ক’রে ব’সে থাকতেই আনন্দ পেল ও তাদের ধনসম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহ্র পথে সংগ্রাম করা পছন্দ করল না। আর তারা বলল, ‘গরমের মধ্যে অভিযানে বের হয়ো না’। বলো, ‘জাহান্নামের আগুনই সবচেয়ে গরম’। যদি তারা বুঝত!
- ৮২। তাই তারা হাসবে কম ও তাদের কৃতকর্মের জন্য কাঁদবে বেশি।
- ৮৩। আল্লাহ্ যদি তোমাকে ওদের কোনো দলের কাছে ফেরত আনেন, আর ওরা অভিযানে বের হওয়ার জন্য তোমার অনুমতি চায় তখন তুমি বলবে, ‘তোমরা তো আমার সাথে কখনও বের হবে না; আর তোমরা আমার সঙ্গী হয়ে কখনও শত্রু র সাথে যুদ্ধ করবে না; তোমরা তো প্রথমবার ব’সে থাকাই পছন্দ করেছিলে, তাই যারা পেছনে থাকে তাদের সাথে ব’সে থাকো’।
- ৮৪। ওদের মধ্যে কারও মৃত্যু হলে তুমি কখনও ওর ওপর (জানাজার) নামাজ পড়বে না এবং ওর কবরের পাশে দাঁড়াবে না। ওরা তো আল্লাহ্ ও তাঁর রসুলকে অস্বীকার করেছিল, আর সত্যত্যাগী অবস্থায় ওদের মৃত্যু হয়েছে।
- ৮৫। সুতরাং ওদের ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি তোমাকে যেন মুগ্ধ না করে। আল্লাহ্ তো ওদেরকে পার্থিব জীবনে শাস্তি দিতে চান। ওরা অবিশ্বাসী থাকা অবস্থায় ওদের আত্মা দেহ ত্যাগ করবে।
- ৮৬। ‘আল্লাহ্য় বিশ্বাস করো ও রসুলের সঙ্গী হয়ে জিহাদ করো’, এই মর্মে যখন কোনো সুরা অবতীর্ণ হয় তখন ওদের মধ্যে যাদের শক্তিসামর্থ্য আছে তারা তোমার কাছে অব্যাহতি চায় আর বলে, ‘তুমি আমাদেরকে রেহাই দাও, যারা ব’সে থাকে আমরা তাদের সঙ্গেই থাকব’।
- ৮৭। ওরা অন্তঃপুরবাসিনীদের সঙ্গে থাকতেই পছন্দ করে, ওদের অন্তর মোহর করা হয়েছে, ফলে ওরা বুঝতে পারে না।
- ৮৮। কিন্তু রসুল আর যারা তার সঙ্গে বিশ্বাস করেছিল তারা নিজ সম্পদ ও জীবন দ্বারা আল্লাহ্র পথে জিহাদ করেছে। ওদের জন্যই কল্যাণ, আর ওরাই সফলকাম।
- ৮৯। আল্লাহ্ ওদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাত যার নিচে বইবে নদী। সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। এ-ই মহাসাফল্য।
||১২||
- ৯০। মরুবাসী আরবদের মধ্যে কিছু লোক অজুহাত উপস্থিত ক’রে অব্যাহতি প্রার্থনার জন্য এল, আর যারা আল্লাহ্কে ও তাঁর রসুলকে মিথ্যা কথা বলেছিল তারা ব’সে রইল। ওদের মধ্যে যারা অবিশ্বাস করেছে তাদের মারাত্মক শাস্তি হবে।
- ৯১। যারা দুর্বল, যারা পীড়িত আর যারা ব্যয়ভার বহনে অসমর্থ তাদের কোনো অপরাধ নেই যখন তারা আল্লাহ্ ও তাঁর রসুলের প্রতি অনুরক্ত। যারা সৎকর্মপরায়ণ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন হেতু নেই; আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
- ৯২। ওদের বিরুদ্ধেও অভিযোগের কোনো কারণ নেই যারা তোমার কাছে বাহনের জন্য এলে তুমি বলেছিলে, ‘তোমাদের জন্য তো আমি কোনো বাহন দিতে পারছি না’। ওরা কোনো অর্থব্যয় করতে না পেরে দুঃখে অশ্রুভেজা চোখে ফিরে গেল।
- ৯৩। যারা অভাবমুক্ত হয়েও অব্যহতি প্রার্থনা করেছে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণ আছে। ওরা অন্তঃপুরবাসিনীদের সাথে থাকাই পছন্দ করেছিল, আল্লাহ্ ওদের অন্তর মোহর করে দিয়েছেন, তাই তো তারা জানতে পারে না।
- ৯৪। তোমরা ওদের কাছে ফিরে এলে ওরা তোমাদের কাছে অজুহাত উপস্থিত করবে। বলো, ‘অজুহাত পেশ কোরো না, আমরা তোমাদেরকে কখনও বিশ্বাস করব না। আল্লাহ্ তোমাদের সংবাদ আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহ্ ও তাঁর রসুল তোমাদের কার্যকলাপ লক্ষ করবেন। তারপর যিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা তাঁর কাছে তোমাদেরকে ফেরানো হবে। আর তিনি তোমরা যা করতে তা তোমাদেরকে জানিয়ে দেবেন’।
- ৯৫। তোমরা ওদের কাছে ফিরে এলে যাতে তোমরা ওদেরকে উপেক্ষা কর সেজন্যে ওরা আল্লাহ্র শপথ করবে। তাই তোমরা ওদেরকে উপেক্ষা করবে, ওরা তো ঘৃণার পাত্র। আর কৃতকর্মের ফল হিসেবে ওদের বাসস্থান তো জাহান্নাম।
- ৯৬। ওরা তোমাদের কাছে শপথ করবে যাতে তোমরা ওদের ওপর খুশি হও, তোমরা ওদের ওপর খুশি হলেও আল্লাহ্ সত্যত্যাগী সম্প্রদায়ের ওপর খুশি হবেন না।
- ৯৭। অবিশ্বাস ও কপটতায় মরুবাসী আরবরা বড় বেশি পোক্ত। আর আল্লাহ্ তাঁর রসুলের ওপর যা অবতীর্ণ করেছেন তার (ন্যায়নীতির) সীমারেখা না শেখার যোগ্যতা এদের বেশি। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ তত্ত্বজ্ঞানী।
- ৯৮। মরুবাসী আরবদের কেউ (আল্লাহ্র) পথে যা ব্যয় করে তাকে তারা বাধ্যতামূলক জরিমানা ভাবে ও প্রতীক্ষা করে তোমাদের ভাগ্যচক্রের পরিবর্তনের। ওদেরই ভাগ্যচক্র মন্দ হোক! আল্লাহ্ সব শোনেন, সব জানেন।
- ৯৯। মরুবাসী আরবদের মধ্যে কেউ-কেউ আল্লাহ্ ও পরকালে বিশ্বাস করে এবং যা ব্যয় করে তা আল্লাহ্র সান্নিধ্য ও রসুলের আশীর্বাদলাভের উপায় মনে করে। হ্যাঁ, নিশ্চয় তা ওদের জন্য আল্লাহ্র সান্নিধ্যলাভের উপায়। আল্লাহ্ শীঘ্রই স্বীয় করুণায় ওদেরকে আশ্রয় দেবেন। আল্লাহ্ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।।
||১৩||
- ১০০। মুহাজির আনসারদের মধ্যে যারা প্রথমে এগিয়ে যায়, আর যারা তাদেরকে ভালোভাবে অনুসরণ করেছিল, আল্লাহ্ তাদের ওপর সন্তুষ্ট এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। আর তিনি তাদের জন্য জান্নাত প্রস্তুত করেছেন যার নিচে নদী বইবে, সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। এ তো মহাসাফল্য।
- ১০১। আরব মরুবাসীদের মাধ্যে যারা তোমাদের আশেপাশে আছে তাদের কেউ-কেউ এবং মদিনাবাসীদের কেউ-কেউ মুনাফিক। ওরা কপটতায় পাকা। তুমি ওদেরকে জান না। আমি ওদেরকে জানি। আমি ওদেরকে দুবার শাস্তি দেব এবং পরে ওদেরকে মহাশাস্তির দিকে ফেরানো হবে।
- ১০২। আর কিছু লোক নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে, ওরা এক ভালো কাজের সাথে আর-এক খারাপ কাজ মিশিয়ে ফেলেছে। আল্লাহ্ হয়তো ওদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ্ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
- ১০৩। তুমি ওদের ধনসম্পদ থেকে সাদকা গ্রহণ করবে। এ দিয়ে তুমি ওদেরকে পবিত্র ও পরিশোধিত করবে। তুমি ওদেরকে আশীর্বাদ করো। তোমার আশীর্বাদ তো ওদের মনের জন্য স্বস্তিকর। আল্লাহ্ তো সব শোনেন, সব জানেন।
- ১০৪। ওরা কি জানে না যে, আল্লাহ্ তাঁর দাসদের তওবা গ্রহণ করেন?আর তিনি সাদকা গ্রহণ করেন? আল্লাহ্ তো ক্ষমাপরবশ পরম দয়ালু।
- ১০৫। আর বলো, ‘তোমরা কাজ করো। আল্লাহ্ তো তোমাদের কাজকর্ম লক্ষ করবেন, আর তাঁর রসুল ও বিশ্বাসীরাও। আর যিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা তাঁর কাছে তোমাদেরকে ফেরানো হবে। তারপর তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দেবেন তোমরা যা করতে’।
- ১০৬। আর অন্য এক দল সম্পর্কে সিদ্ধান্ত স্থগিত রইল, আল্লাহ্ ওদেরকে শাস্তি দেবেন না ক্ষমা করবেন, তাঁর এই আদেশের প্রতীক্ষায়। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ তত্ত্বজ্ঞানী।
- ১০৭। (মুনাফিকদের মধ্যে) যারা ক্ষতিসাধন, সত্যপ্রত্যাখান ও বিশ্বাসীদের মধ্যে বিভেদসৃষ্টির উদ্দেশ্যে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিল তার (আবু আমিরের) জন্য যে পূর্বে আল্লাহ্ ও তাঁর রসুলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিল। তারা হলফ ক’রে বলবে, ‘আমরা সৎ উদ্দেশ্যেই এটা করেছি’। আল্লাহ্ সাক্ষী, নিশ্চয় ওরা মিথ্যাবাদী।
- ১০৮। তুমি নামাজের জন্য এর মধ্যে কখনও দাঁড়াবে না। যে-মসজিদের ভিত্তি প্রথম দিন থেকেই ধর্মকর্মের জন্য স্থাপিত হয়েছে ওখানেই নামাজের জন্য তোমার দাঁড়ানো উচিত। ওখানে পবিত্র হতে চায় এমন লোক তুমি পাবে, আর যারা পবিত্র হয় আল্লাহ্ তাদেরকে পছন্দ করেন।
- ১০৯। যে-ব্যক্তি তার ঘরের ভিত তাকওয়া (আল্লাহ্র প্রতি ভয়) ও আল্লাহ্র সন্তুষ্টির ওপর স্থাপন করে সে-ই ভালো, না সেই ব্যক্তি ভালো যে তার ঘরের ভিত স্থাপন করে এক খাদের পড়ন্ত ধসের ধারে, ফলে যা ওকে নিয়ে জাহান্নামের আগুনে গিয়ে পড়ে? আল্লাহ্ সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না।
- ১১০। ওদের ঘর যা ওরা তৈরী করেছে তা ওদের সন্দেহের কারণ হয়ে থাকবে, যে-পর্যন্ত না ওদের অন্তর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। আর আল্লাহ্ তো সর্বজ্ঞ, তত্ত্বজ্ঞানী।
||১৪||
- ১১১। আল্লাহ্ তো বিশ্বাসীদের কাছ থেকে তাদের জীবন ও সম্পদ জান্নাতের মূল্যের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন, তারা আল্লাহ্র পথে সংগ্রাম করে, মারে বা মরে। তওরাত, ইঞ্জিল ও কোরানে তিনি যে-প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাতে তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নিজের প্রতিজ্ঞাপালনের ক্ষেত্রে আল্লাহ্র চেয়ে আর কে ভালো? তোমরা যে-সওদা করেছ সেই সওদার জন্য আনন্দ করো আর সে-ই মহাসাফল্য।
- ১১২। যারা তওবা করে, উপাসনা করে, আল্লাহ্র প্রশংসা করে, রোজা রাখে, রুকু ও সিজদা করে, সৎকর্মের নির্দেশ দেয়, অসৎকর্ম নিষেধ করে আর আল্লাহ্র সীমারেখা মেনে চলে, তুমি সেই বিশ্বাসীদেরকে সুখবর দাও।
- ১১৩। আত্মীয়স্বজন হলেও অংশীবাদীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবি ও বিশ্বাসীদের জন্য সংগত নয় যখন এ সুস্পষ্ট যে ওরা জাহান্নামে বাস করবে।
- ১১৪। ইব্রাহিম তার পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল তাকে দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতির জন্য, তারপর যখন এ তার কাছে স্পষ্ট হল যে সে আল্লাহ্র শত্রু তখন ইব্রাহিম তার সম্পর্কে নিশ্চেষ্ট হয়ে গেল। ইব্রাহিম তো ছিল কোমলহৃদয় ও ধৈর্যশীল।
- ১১৫। আল্লাহ্ কোনো সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শনের পর তাদের বিভ্রান্ত করেন না যতক্ষণ পর্যন্ত না ওদের যে-বিষয়ে সাবধান হতে হবে তা ওদের কাছে পরিস্কার ক’রে বলা হয়। আল্লাহ্ তো সব বিষয়ই ভালো করেই জানেন।
- ১১৬। আকাশ ও পৃথিবীর সার্বভৌম ক্ষমতা নিশ্চয় আল্লাহ্র। তিনি জীবন দান করেন। আর তিনিই মৃত্যু ঘটান। আল্লাহ্ ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই, সাহায্যকারীও নেই।
- ১১৭। আল্লাহ্ অবশ্যই অনুগ্রহ করলেন নবির ওপর, আর মুহাজির ও আনসারদের ওপর, যারা সংকটের সময় তার (মুহাম্মদের) সাথে গিয়েছিল, এমনকি যখন এক দলের মনের বিকার হওয়ার উপক্রম হয়েছিল তখনও। পরে আল্লাহ্ তাদেরকে ক্ষমা করলেন। তিনি তো ওদের ব্যাপারে ছিলেন দয়াপরবশ, পরম দয়ালু।
- ১১৮। আর তিনি অপর তিনজন (ক’আব ইবনে মালিক, হিলাল ইবনে উমাইয়া ও মুরারা ইবনে রুবাই) – কেও ক্ষমা করলেন যাদের পেছনে ফেলে আসা হয়েছিল। পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য তা ছোট হয়ে আসছিল এবং তাদের জীবন তাদের জন্য দুঃসহ হয়ে উঠেছিল। তারা বুঝতে পেরেছিল যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোনো আশ্রয় নেই। পরে আল্লাহ্ তাদেরলে অনুগ্রহ করলেন যাতে তারা অনুতপ্ত হয়। আল্লাহ্ তো ক্ষমাপরবশ, পরম দয়ালু।
||১৫||
- ১১৯। হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহ্কে ভয় করো ও সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও।
- ১২০। আল্লাহ্র রসুলের সহগামী না হয়ে পেছনে রয়ে যাওয়া আর তার (মুহাম্মদ) জীবনের চেয়ে নিজেদের জীবনকে প্রিয় জ্ঞান করা মদিনাবাসী ও তাদের প্বার্শবর্তী আরব মরুবাসীদের জন্য সংগত নয়। কারণ, তারা তো আল্লাহ্র পথে তৃষ্ণায়, ক্লান্তিতে বা ক্ষুধায় এমন কোনো কষ্ট পায় না, বা অবিশ্বাসীদের ক্রোধ উদ্রেক করে এমন কোনো স্থানে পদক্ষেপ নেয় না, বা শত্রু দের কাছ থেকে এমন কোনো আঘাত পায় না, যা তাদের সৎকর্ম হিসেবে লেখা হয় না। আল্লাহ্ তো সৎকর্মপরায়ণদের শ্রমফল নষ্ট হতে দেন না।
- ১২১। আর (আল্লাহ্র পথে) তারা এমন কিছু, কম বা বেশি, ব্যয় করে না, বা এমন কোনো প্রান্তর অতিক্রম করে না যা তাদের পক্ষে লেখা না হয়, যাতে ক’রে তারা যা করে তার চেয়ে ভালো পুরস্কার আল্লাহ্ তাদেরকে দিতে পারেন।
- ১২২। আর বিশ্বাসীদের সকলের অভিযানে বের হওয়া সংগত নয়। তাদের প্রত্যেক দলের এক অংশ বাইরে যাক, (অন্য অংশ) ধর্ম সম্বন্ধে জ্ঞানচর্চা করুক আর তাদের সম্প্রদায়ের যারা ফিরে আসবে তারা যাতে নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারে সেজন্য তাদেরকে সর্তক করুক।
||১৬||
- ১২৩। হে বিশ্বাসীগণ! অবিশ্বাসীদের মধ্যে যারা তোমাদের নিকটবর্তী তাদের সাথে যুদ্ধ করো। আর তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা দেখুক। আর জেনে রাখো যে, আল্লাহ্ সাবধানিদের সঙ্গে আছেন।
- ১২৪। আর যখনই কোনো সুরা অবতীর্ণ হয় তখন তাদের কেউ-কেউ বলে, ‘এ তোমাদের মধ্যে কার বিশ্বাস বাড়াল?’ যারা বিশ্বাসী এ তাদেরই বিশ্বাস বৃদ্ধি করে ও তারা আনন্দিত হয়।
- ১২৫। আর যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে এ তাদের পাপের সাথে আরও পাপ যোগ করে, আর অবিশ্বাসী অবস্থায় তাদের মৃত্যু ঘটায়,
- ১২৬। তারা কি দেখে না যে, তারা প্রত্যেক বছর দুএকবার বিপর্যস্ত হয়? এর পরেও তারা অনুশোচনা করে না, উপদেশও নেয় না।
- ১২৭। আর যখনই কোনো সুরা অবতীর্ণ হয় তখন তারা এ ওর দিকে তাকায় এবং (ইশারা করে) ‘তোমাদেরকে কি কেউ লক্ষ করছে?’ – তারপর তারা স’রে পড়ে। আল্লাহ্ ওদের হৃদয়কে সত্য থেকে বিমুখ করেছেন, কারণ তারা এমন এক সম্প্রদায় যাদের কোনো বোধশক্তি নেই।
- ১২৮। তোমাদের মধ্যে থেকেই তোমাদের কাছে এক রসুল এসেছে। তোমাদের দুর্ভোগ তার কাছে দুঃসহ। সে তোমাদের জন্য চিন্তা করে, বিশ্বাসীদের জন্য তার অনুকম্পা ও দয়া।
- ১২৯। তারপর ওরা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তুমি বলো, ‘আমার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট, তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। আমি তাঁরই ওপর নির্ভর করি, আর তিনি মহা আরশের অধিপতি’।
১ অপরজন আবু বকর। ২ বিজয় বা শাহাদাত
অনুবাদটি নেওয়া হয়েছে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান অনুবাদিত 'কোরানশরিফ সরল বঙ্গানুবাদ' থেকে।