আল বাকারা

উইকিসংকলন থেকে

[সম্পাদনা] আল বাকারা

রুকুঃ ৪০, আয়াতঃ ২৮৬

পরম করুণাময় পরম দয়াময় আল্লাহর নামে

||রুকু ১||

১. আলিফ-লাম-মীম।
২. এ সেই কিতাব, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সাবধানিদের জন্য এ পথপ্রদর্শক,
৩. যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে, নামাজ কায়েম করে ও তাদেরকে যে জীবিকা দান করেছি তার থেকে ব্যয় করে,
৪. এবং যারা তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে ও তোমার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে বিশ্বাস করে ও যারা পরলোকে নিশ্চিত বিশ্বাসী,
৫. তারাই তাদের প্রতিপালকের নির্দেশিত পথে রয়েছে ও তারাই সফলকাম।
৬. যারা অবিশ্বাস করেছে তুমি তাদেরকে সর্তক কর বা না-কর তাদের পক্ষে দুই-ই সমান। তারা বিশ্বাস করবে না।
৭. আল্লাহ্‌ তাদের হৃদয় ও কান মোহর করে দিয়েছেন, তাদের চোখের ওপর আবরণ রয়েছে এবং তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি।

||রুকু ২||

৮. মানুষের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা বলে,‘আমরা আল্লাহ্‌ ও পরকালে বিশ্বাসী,’ কিন্তু তারা বিশ্বাসী নয়।
৯. আল্লাহ্‌ ও বিশ্বাসীদেরকে তারা ঠকাতে চায়, অথচ তারা যে নিজেদেরকে ছাড়া কাউকে ঠকাতে পারে না-এ তারা বুঝতে পারে না।
১০. তাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে। তারপর আল্লাহ্‌ তাদের ব্যাধি বৃদ্ধি করেছেন ও তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি, কারণ তারা মিথ্যাচারী।
১১. তাদেরকে যখন বলা হয়,‘পৃথিবীতে ফ্যাশাদ সৃষ্টি কোরো না,’ তারা বলে,‘আমরাই তো শান্তি বজায় রাখি’।
১২. সাবধান! এরাই ফ্যাশাদ সৃষ্টি করে, কিন্তু এরা তা বুঝতে পারে না।
১৩. এবং যখন তাদেরকে বলা হয়,‘অন্যদের মতো তোমরাও বিশ্বাস করো,’ তারা বলে,‘বোকারা যেমন বিশ্বাস করেছে আমরাও কি তেমন বিশ্বাস করব?’ সাবধান! এরাই বোকা, কিন্তু এরা তা বুঝতে পারে না।
১৪. যখন তারা বিশ্বাসীদের সংস্পর্শে আসে তখন বলে,‘আমরা বিশ্বাস করেছি,’আর যখন তারা নিভৃতে তাদের শয়তানদের সঙ্গে যোগ দেয় তখন বলে,‘আমরা তো তোমাদের সঙ্গে রয়েছি, আমরা শুধু তাদের সাথে ঠাট্টাতামাশা করে থাকি’।
১৫. আল্লাহ্‌ তাদের সাথে তামাশা করেন, আর তাদের অবাধ্যতায় তাদেরকে বিভ্রান্তের ন্যায় ঘুরে বেড়াবার অবকাশ দেন।
১৬. এরাই সৎপথের বিনিময়ে ভ্রান্তপথ কিনেছে। সুতরাং তাদের ব্যাবসা লাভজনক হয় নি। তারা সৎপথেও পরিচালিত নয়।
১৭. তাদের উপমা এমন এক ব্যক্তি যে আগুন জ্বেলে তার চারিদিক আলোকিত করে, তারপর আল্লাহ্‌ সেই আলো সরিয়ে নেন ও তাদেরকে ঘোর অন্ধকারে ফেলে দেন আর তারা কিছুতেই দেখতে পায় না।
১৮. তারা বধির, বোবা, অন্ধ; সুতরাং তারা ফিরবে না।
১৯. বা, যেমন আকাশ থেকে মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে, তার মধ্যে অন্ধকার, বজ্রের গর্জন ও বিদ্যুতের ঝলকানি। বজ্রধ্বনি হলে মৃত্যুর ভয়ে তারা কানে আঙুল দেয়। আল্লাহ্‌ অবিশ্বাসীদেরকে ঘিরে রেখেছেন।
২০. বিদ্যুতের ঝলকানি তাদের দৃষ্টিশক্তি প্রায় কেড়ে নেয়। যখন বিদ্যুতের আলো তাদের সম্মুখে উদ্ভাসিত হয় তখনই তারা পথ চলতে থাকে, আর যখন অন্ধকার ছেয়ে ফেলে তখন তারা থমকে দাঁড়ায়। আল্লাহ্‌ ইচ্ছা করলে তাদের শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি নিয়ে নিতে পারেন। আল্লাহ্‌ তো সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

||রুকু ৩||

২১. হে মানুষ! তোমরা উপাসনা করো তোমাদের সেই প্রতিপালকের যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা আত্মরক্ষা করতে পার,
২২. যিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্য বিছানা ও আকাশকে ছাদ করেছেন, আর তোমাদের জীবিকার জন্য আকাশ থেকে পানি ঝরিয়ে ফলমূল উৎপাদন করেন। সুতরাং জেনেশুনে কাউকেও তোমরা আল্লাহ্‌র সমকক্ষ দাঁড় করিয়ো না।
২৩. আমি আমার দাসের প্রতি যা অবর্তীণ করেছি তাতে তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকলে তোমরা তার মত কোনো সুরা আনো। আর তোমরা যদি সত্য বল, আল্লাহ্‌ ছাড়া তোমাদের সব সাক্ষীকে ডাকো।
২৪. যদি না কর, আর তা কখনও করতে পারবে না, তবে সেই আগুনকে ভয় করো যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, অবিশ্বাসীদের জন্য যা প্রস্তুত রয়েছে।
২৫. যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে তাদেরকে সুখবর দাও যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত যার নিচে নদী বইবে। যখন তাদেরকে ফলমূল খেতে দেওয়া হবে তখন তারা বলবে, ‘আমাদেরকে আগে যে-জীবণোপকরণ দেওয়া হত এ তো তা-ই’। তাদের অনুরূপ ফলই দেওয়া হবে ও সেখানে তাদের জন্য থাকবে, পবিত্র সঙ্গিনী আর তারা সেখানে থাকবে চিরকাল।
২৬. আল্লাহ্‌ মশা বা তার চেয়ে বড় কোনো জিনিসের উদাহরণ দিতে বিব্রত বোধ করেন না। তাই যারা বিশ্বাস করে তারা জানে যে, এ-সত্য উপমা তাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে এসেছে; কিন্তু যারা অবিশ্বাস করে তারা বলে,‘আল্লাহ্‌ কী উদ্দেশ্যে এমন এক উপমা দিয়েছেন?’ এ দিয়ে তিনি অনেককে বিভ্রান্ত করেন, আবার অনেককে সৎপথে পরিচালিত করেন। আসলে সত্যত্যাগীদেরকে ছাড়া আর কাউকেও তিনি বিভ্রান্ত করেন না।
২৭. যারা আল্লাহ্‌র সাথে দৃঢ় অঙ্গীকার করে তা ভঙ্গ করে, আল্লাহ্‌ যে-সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখতে আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে ও পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায়, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।
২৮. তোমরা কেমন করে আল্লাহ্‌কে অস্বীকার কর, (যখন) তোমাদের প্রাণ ছিল না, পরে তিনিই তোমাদেরকে প্রাণ দিয়েছেন, পরে তিনিই তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন, তারপর আবার তোমাদেরকে জীবিত করবেন আর তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরে যেতে হবে?
২৯. তিনি পৃথিবীর সবকিছু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আকাশের দিকে মন দেন ও তাকে সাত আকাশে সাজান। তিনি সব বিষয়ই ভালোভাবে জানেন।

||রুকু ৪||

৩০. আর যখন তোমাদের প্রতিপালক ফেরেশতাদেরকে বললেন, ‘আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে যাচ্ছি,’ তারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে অশান্তি ঘটাবে ও রক্তপাত করবে? আমরাই তো আপনার পবিত্র মহিমা ঘোষণা করি’। তিনি বললেন, ‘আমি যা জানি তোমরা তা জান না’।
৩১. আর তিনি আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন। তারপর তিনি ফেরেশতাদের সামনে সেইসব উপস্থাপন করে বললেন, ‘এইসবের নাম আমাকে বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।
৩২. তারা বলল, ‘আপনি পবিত্র মহান। আপনি আমাদেরকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের তো কোনো জ্ঞান নেই। নিশ্চয় আপনি প্রাজ্ঞ তত্ত্বজ্ঞানী’।
৩৩. তিনি বললেন, ‘হে আদম! ওদের এইসবের নাম বলে দাও’। যখন সে তাদের ওদের নাম বলে দিল, তখন তিনি বললেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে বলি নি যে আকাশ ও পৃথিবীর অদৃশ্য বস্তু সম্বন্ধে আমি জানি, আর আমি জানি তোমরা যা প্রকাশ কর বা গোপন রাখ?’
৩৪. আমি যখন ফেরেশতাদেরকে বললাম, ‘আদমকে সিজদা করো’, তখন ইবলিশ ছাড়া সকলেই সিজদা করল। সে অমান্য করল ও অহংকার করল। তাই সে আবিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হল।
৩৫. আর আমি বললাম, ‘হে আদম! তুমি ও তোমার সঙ্গিনী জান্নাতে বসবাস করো এবং যেখান থেকে ও যা ইচ্ছা খাও, কিন্তু এই গাছের কাছে যেয়ো না; গেলে তোমরা অন্যায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে’।
৩৬. কিন্তু শয়তান তা থেকে তাদের পদস্খলন ঘটাল, তাই তারা যেখানে ছিল সেখান থেকে তাদেরকে বের করে দেওয়া হল। আমি বললাম, ‘তোমরা একে অন্যের শত্রু হিসাবে নেমে যাও। পৃথিবীতে কিছুকালের জন্য তোমাদের বসবাস ও জীবিকা রইল’।
৩৭. তারপর আদম তার প্রতিপালকের কাছ থেকে কিছু বাণী পেল। আল্লাহ্‌ তার প্রতি ক্ষমাপরবশ হলেন। তিনি তো ক্ষমাপরবশ, পরম দয়ালু।
৩৮. আমি বললাম, ‘তোমরা সকলেই এখান হতে নেমে যাও। পরে যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে সৎপথের কোনো নির্দেশ আসবে তখন যারা আমার সৎপথের নির্দেশ অনুসরণ করবে তাদের কোনো ভয় থাকবে না ও তারা দুঃখিতও হবে না’।
৩৯. যারা অবিশ্বাস করে ও আমার নির্দেশকে প্রত্যাখান করে তারাই আগুনে বাস করে, সেখানে তারা থাকবে চিরকাল।

||রুকু ৫||

৪০. হে বনি-ইসরাইল! আমার সেই অনুগ্রহ স্মরণ করো যা দিয়ে আমি তোমাদেরকে অনুগৃহীত করেছিলাম এবং আমার সঙ্গে তোমরা তোমাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করো। আমিও তোমাদের সাথে আমার অঙ্গীকার পূর্ণ করব। আর তোমরা শুধু আমাকেই ভয় করো।
৪১. তোমাদের কাছে যা আছে তার সমর্থক হিসাবে আমি যা অবতীর্ণ করেছি তা বিশ্বাস করো। আর তোমরাই একে প্রথমে প্রত্যাখান কোরো না আর আমার আয়াতের বদলে স্বল্পমূল্য গ্রহণ কোরো না। তোমরা শুধু আমাকেই ভয় করো।
৪২. তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ো না, আর জেনেশুনে সত্য গোপন কোরো না।
৪৩. তোমরা নামাজ কায়েম করো ও জাকাত দাও, আর যারা রুকু দেয় তাদের সঙ্গে রুকু দাও।
৪৪. তোমরা মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দাও অথচ নিজেরা (তা পালন করতে) ভুলে যাও, আবার কিতাবও পড়? তোমরা কি বুঝবে না?
৪৫. তোমরা ধৈর্য ধরো ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। আর বিনীতরা ছাড়া আর সকলের কাছে এ তো কঠিন।
৪৬. (তারাই বিনীত) যারা বিশ্বাস করে যে, তাদের প্রতিপালকের সাথে নিশ্চয় দেখা হবে আর তাঁরই দিকে তারা ফিরে যাবে।

||রুকু ৬||

৪৭. হে বনি-ইসরাইল! আমার সেই অনুগ্রহ স্মরণ করো যা দিয়ে আমি তোমাদেরকে অনুগৃহীত করেছিলাম আর বিশ্বের সবার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম।
৪৮. তোমরা সেই দিনকে ভয় করো যেদিন কেউ কারও কোনো কাজে আসবে না, কারও সুপারিশ স্বীকৃত হবে না বা কারও কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ গৃহীত হবে না, আর কেউ কোনোরকম সাহায্য পাবে না।
৪৯. (আর স্মরণ করো,) যখন আমি ফেরাউন-সম্প্রদায়ের হাত থেকে তোমাদেরকে রেহাই দিয়েছিলাম, যারা তোমাদের ছেলেদেরকে খুন করত, আর তোমাদের মেয়েদেরকে বাঁচিয়ে রেখে তোমাদেরকে মারাত্মক যন্ত্রণা দিত। আর সে তো তোমাদের প্রতিপালকের দিক থেকে ছিল এক বড় পরীক্ষা।
৫০. যখন তোমাদের জন্য আমি সাগরকে দ্বিধাবিভক্ত করেছিলাম ও তোমাদের উদ্ধার করেছিলাম এবং ফেরাউন-সম্প্রদায়কে ডুবিয়েছিলাম, (তখন) তোমরা তো তা প্রত্যক্ষ করেছিলে।
৫১. যখন আমি মুসার জন্য চল্লিশ রাত নির্ধারিত করেছিলাম, তারপর সে চলে যাওয়ার পর তোমরা গোবৎসকে উপাস্য হিসাবে গ্রহণ করেছিলে। এভাবে তখন তোমরা সীমালঙ্ঘন করেছিলে।
৫২. এরপর আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার।
৫৩. (আর স্মরণ করো,) যখন আমি মুসাকে কিতাব ও ফুরকান দিয়েছিলাম যাতে তোমরা সৎপথে পরিচালিত হও।
৫৪. মুসা যখন তার নিজের সম্প্রদায়কে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! গোবৎসকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে তোমরা নিজেদের ওপর ঘোর অত্যাচার করেছ। সুতরাং তোমরা সৃষ্টিকর্তার দিকে ফিরে যাও আর তোমাদের আত্মাকে সংহার করো (নিজেদের সংযত করো)। তোমার সৃষ্টিকর্তার কাছে এ-ই হবে কল্যাণকর। তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাপরবশ হবেন, তিনি তো ক্ষমাপরবশ পরম দয়ালু’।
৫৫. আর যখন তোমরা বলেছিলে, ‘হে মুসা! আল্লাহ্‌কে প্রত্যক্ষভাবে না দেখা পর্যন্ত তোমাকে কখনও বিশ্বাস করব না’। তখন তোমরা বজ্রাহত হয়েছিলে, আর তোমরা তো তাকিয়ে দেখছিলে।
৫৬. তারপর মৃত্যুর পরে আমি তোমাদেরকে পুনর্জীবিত করলাম যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
৫৭. আমি তোমাদের ওপর মেঘের ছায়া বিস্তার করে দিয়েছিলাম এবং তোমাদের কাছে মান্না ও সালওয়া পাঠিয়েছিলাম। (আর বলেছিলাম,) ‘তোমাদের জন্য জীবনের যে-উপকরণ দিয়েছি তা থেকে তোমরা ভালো ভালো জিনিস খাও’। তারা আমার ওপর কোনো জুলুম করে নি, বরং তারা নিজেদেরই ওপর জুলুম করেছিল।
৫৮. যখন আমি বললাম, ‘তোমরা এ-জনপদে প্রবেশ করো এবং যেখান থেকে ইচ্ছা ও যা ইচ্ছা খাও, মাথা নিচু করে প্রবেশ করো আর বলো, ‘ক্ষমা চাই’, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করব, আর যারা সৎকর্ম করে তাদের জন্য আমার দান বাড়িয়ে দেব।
৫৯. কিন্তু যারা সীমালঙ্ঘন করেছিল তারা তাদেরকে যা বলা হয়েছিল তার বদলে অন্য কথা বলল। সেজন্য সীমালঙ্ঘনকারীদের ওপর আমি আকাশ থেকে শাস্তি পাঠালাম, কারণ তারা ছিল সত্যত্যাগী।

||রুকু ৭||

৬০. আর যখন মুসা তার সম্প্রদায়ের জন্য পানি চাইল, আমি বললাম, ‘তোমার লাঠি দিয়ে পাথরে বাড়ি মারো’। তারপর সেখান থেকে বারোটি ঝরণা বইতে লাগল। প্রত্যেক গোত্র নিজ নিজ পানি পান করার স্থান চিনে নিল। (আমি বললাম) ‘আল্লাহ্‌র দেওয়া জীবিকা হতে তোমরা পানাহার করো আর পৃথিবীতে ফ্যাশাদ করে বেড়িয়ো না’।
৬১. আর তোমরা যখন বলেছিলে, ‘হে মুসা! একই রকম খাবারে আমরা কখনও ধৈর্য রাখতে পারব না, সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা করো, তিনি যেন শাকসবজি, কাঁকুড়, গম, রশুন, ডাল ও পেয়াঁজ আমাদের জন্য মাটিতে উৎপন্ন করেন’। মুসা বলল, ‘তোমরা কি ভালো জিনিসকে খারাপ জিনিসের সাথে বদল করতে চাও? তবে যে-কোনো শহরে যাও। তোমরা যা চাও তা সেখানে পাবে’। আর তারা হল অপদস্থ ও অনটনগ্রস্ত। আর আল্লাহ্‌র গজব পড়ল তাদের ওপর। এ এজন্য যে, তারা আল্লাহ্‌র নিদর্শনকে অমান্য করেছিল ও নবিদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছিল। এ এজন্য যে, তারা আদেশ অমান্য করেছিল ও সীমালঙ্ঘন করেছিল।

||রুকু ৮||

৬২. যারা বিশ্বাস করে ও যারা ইহুদি হয়েছে এবং যারা খ্রিষ্টান ও সাবেয়ি (তাদের মধ্যে) যারা আল্লাহ্‌ ও শেষদিবসে বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে, তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে পুরস্কার আছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।
৬৩. যখন আমি তোমাদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম ও তোমাদের ওপরে তুর পাহাড়কে তুলে ধরেছিলাম (এই বলে), ‘আমি যা দিলাম তা শক্ত করে ধরো আর তার মধ্যে যা আছে তা মনে রেখো, যাতে তোমরা সাবধান হয়ে চলতে পার’।
৬৪. এর পরও তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে! তোমাদের ওপর আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তোমরা তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যেতে।
৬৫. তোমাদের মধ্যে যারা শনিবারে সীমালঙ্ঘন করেছিল তাদের তোমরা ভাল করেই জান। আমি তাদেরকে বলেছিলাম, ‘তোমরা ঘৃণিত বানর হও’।
৬৬. আমি এ-ঘটনাকে তাদের সমসাময়িক ও পরবর্তীদের শিক্ষাগ্রহণের জন্য এক দৃষ্টান্ত ও সাবধানিদের জন্য এক উপদেশস্বরূপ করেছি।
৬৭. আর যখন মুসা তার নিজের সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে একটা গোরু জবাইয়ের হুকুম দিয়েছেন’। তারা বলেছিল, ‘তুমি কি আমাদের সাথে ঠাট্টা করছ?’ মুসা বলেছিল, ‘আমি আল্লাহ্‌র আশ্রয় চাচ্ছি, আমি যেন জাহেলদের (অজ্ঞদের) দলে না পড়ি’।
৬৮. তারা বলল, ‘তোমার প্রতিপালককে আমাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে বলো ঐ গোরুটা কেমন হবে’। মুসা বলল, ‘আল্লাহ্‌ বলেছেন এ এমন একটা গোরু যা বুড়োও না, অল্পবয়সীও না - মাঝবয়সী, অতএব তোমরা যা আদেশ পেয়েছ তা পালন করো’।
৬৯. তারা বলল, ‘তোমার প্রতিপালককে আমাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে বলো ওর রং কী হবে’। মুসা বলল, ‘আল্লাহ্‌ বলেছেন সেটা হবে হলুদ রঙের বাছুর, তার উজ্জ্বল গাঢ় রং যারাই দেখবে তারাই খুশি হবে’।
৭০. তারা বলল, ‘তোমার প্রতিপালককে আমাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে বলো গোরুটা কি ধরণের। আমাদের কাছে গোরু তো একই রকম। আর আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় নিশ্চয় আমরা পথ পাব’।
৭১. মুসা বলল, ‘এ এমন এক গোবৎস যাকে জমিচাষে বা ক্ষেতে পানিসেচের কাজে লাগানো হয় নি, সম্পূর্ণ নিখুঁত’। তারা বলল, ‘এখন তুমি তথ্য ঠিক এনেছ’। যদিও তারা জবাই করতে প্রস্তুত ছিল না, তবুও তারা সেটাকে জবাই করল।

||রুকু ৯||

৭২. যখন তোমরা একটা লোককে খুন করে একে অন্যের ওপর দোষ চাপাচ্ছিলে, আল্লাহ্‌ তা প্রকাশ করতে চাইলেন তোমরা যা গোপন করেছিলে।
৭৩. তখন আমি বললাম, ‘এর (বাছুরটির) কোনো অংশ দিয়ে একে (মৃত লোকটাকে) বাড়ি মারো’। এভাবে আল্লাহ্‌ মৃতকে জীবিত করেন আর তোমাদেরকে তার নির্দশন দেখিয়ে থাকেন যাতে তোমরা বুঝতে পার।
৭৪. এর পরও তোমাদের হৃদয় কঠিন হল, পাষাণ বা পাষাণের চেয়েও কঠিন। কোনো কোনো পাষাণ থেকে নদী বের হয়ে আসে, আবার কিছু আছে যা ফেটে গেলে তার থেকে পানি বের হয়ে আসে, আর কিছু আছে যা আল্লাহ্‌র ভয়ে ধসে পড়ে। তোমরা যা কর আল্লাহ্‌র তা তো অজানা নয়।
৭৫. তোমরা কি এখনও আশা কর যে তারা তোমাদেরকে বিশ্বাস করবে, যখন এক দল আল্লাহ্‌র বাণী শুনে ও বুঝবার পরও জেনেশুনে তা বিকৃত করে?
৭৬. আর যখন তারা বিশ্বাসীদের সংস্পর্শে আসে তখন তারা বলে, ‘আমরা বিশ্বাস করি’। আবার যখন তারা নিজেদের মধ্যে নিভৃতে একত্র হয় তখন তারা বলে, ‘আল্লাহ্‌ তোমাদের কাছে যা বলেছেন তোমরা কেন তা বিশ্বাসীদেরকে বলে ফেলো? এ দিয়ে তারা তোমাদের প্রতিপালকের সামনে তোমাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ খাড়া করবে, তোমরা কি তা বুঝতে পার না?’
৭৭. তারা কি জানে না যে, তারা যা গোপন রাখে বা প্রকাশ করে আল্লাহ্‌ তা জানেন?
৭৮. তাদের মধ্যে এমন কিছু নিরক্ষর লোক আছে যারা নিজেদের সংস্কার ছাড়া কিতাব সম্বন্ধে কোনো জ্ঞান রাখে না, তারা শুধু মনগড়া কথা বলে বেড়ায়।
৭৯. সুতরাং দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে আর সামান্য মূল্য পাবার জন্য বলে, ‘এটা আল্লাহ্‌র কাছ থেকে এসেছে!’ তাদের হাত যা রচনা করেছে তার জন্য তাদের শাস্তি, আর তারা যা উর্পাজন করেছে তার জন্যেও তাদের শাস্তি
৮০. আরা তারা বলে, ‘কয়েকটা গোনাগাথাঁ দিন ছাড়া আগুন কখনও আমাদেরকে স্পর্শ করবে না’। বলো, ‘তোমরা কি আল্লাহ্‌র কাছ থেকে কোনো অঙ্গীকার নিয়েছ, কারণ আল্লাহ্‌ তো তার অঙ্গীকার কখনও ভঙ্গ করেন না? না, তোমরা আল্লাহ্‌র সম্বন্ধে এমন কথা বলছ যা তোমরা জান না?’
৮১. হ্যাঁ, যারা পাপ করে আর যাদের পাপ তাদেরকে ঘিরে রাখে তারাই আগুনে বাস করবে - তারা সেখানে থাকবে চিরকাল।
৮২. কিন্তু যারা বিশ্বাস ও সৎকাজ করে তারাই বাস করবে জান্নাতে, সেখানে তারা থাকবে চিরকাল।

||রুকু ১০||

৮৩. আর যখন বনি-ইসরাইলের কাছ থেকে আমি অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে তোমরা আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কারো উপাসনা করবে না, মাতাপিতা, আত্মীয়স্বজন, পিতৃহীন ও দরিদ্রের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে, আর লোকের সাথে ভালোভাবে কথা বলবে; আর নামাজ কায়েম করবে ও জাকাত দাবে, (তখন) কিন্তু অল্পসংখ্যক লোক ছাড়া তোমরা সকলে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলে।
৮৪. স্মরণ করো যখন তোমাদের কাছ থেকে আমি এই অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে তোমরা কেউ কারও রক্তপাত করবে না ও নিজেদের লোকজনকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবে না, তারপর তোমরা তোমাদের দোষ স্বীকার করেছিলে। আর এ বিষয়ে তোমরাই তার স্বাক্ষী।
৮৫. তারপর তোমরা একে অন্যকে খুন করছ আর তোমাদের এক দল্কে তাদের ঘর থেকে বের করে দিচ্ছ ও অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন করে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্য করছ, আর তারা যখন বন্দি হয়ে তোমাদের সামনে হাজির হয় তখন তোমরা মুক্তিপণ চাও! তাদের তাড়িয়ে দেওয়াই তো তোমাদের অন্যায় হয়েছিল। তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস কর আর কিছু অংশে অবিশ্বাস কর? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এমন কাজ করে পার্থিব জীবনে তাদের জন্য শাস্তি লাঞ্ছনা ছাড়া আর কি হতে পারে? আর কিয়ামতের দিনে তাদেরস আরও কঠোর শাস্তির দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। তারা যা করে আল্লাহ্‌ তা জানেন না তা নয়।
৮৬. তারাই পরকালের বদলে ইহকালের জীবন কেনে, সেজন্য তাদের শাস্তি কমানো হবে না, আর তারা কোনো সাহায্যও পাবে না।

||রুকু ১১||

৮৭. আর আমি তো মুসাকে কিতাব দিয়েছিলাম ও তারপর একের পর এক রসুল পাঠিয়েছি। আমি মরিয়মপুত্র ঈসাকে স্পষ্ট প্রমাণ দিয়েছি ও পবিত্র আত্মা (জিবরাইল) দ্বারা তার শক্তি বৃদ্ধি করেছি। তবে কি যখনই কোনো রসুল এমন কিছু এনেছে যা তোমাদের মনের মত হয় নি তখনই তোমরা অহংকার করেছ, আর কাউকে মিথ্যাবাদী বলেছ ও কাউকে হত্যা করেছ?
৮৮. তারা বলেছিল, ‘আমাদের হৃদয় তো আচ্ছাদিত’। না, অবিশ্বাসের জন্য আল্লাহ্‌ তাদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন; তাই তারা অল্পই বিশ্বাস করে।
৮৯. তাদের কাছে যা আছে তার সমর্থনে আল্লাহ্‌র কাছ হতে এল কিতাব; যদিও পূর্বে এর সাহায্যে তারা অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে বিজয় প্রার্থনা করত, তবুও তারা যা জানত তা যখন তাদের কাছে এল তখন তা তারা অবিশ্বাস করল। তাই অবিশ্বাসীদের ওপর আল্লাহ্‌র অভিশাপ।
৯০. তা কত খারাপ যার বিনিময়ে তারা তাদের আত্মাকে বিক্রি করে! তা এই যে, আল্লাহ্‌ যা অবতীর্ণ করেছেন তাকে তারা প্রত্যাখান করে শুধু এই ঈর্ষায় যে, আল্লাহ্‌ তাঁর দাসদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন। এইভাবে তারা অর্জন করল গজবের ওপর গজব। অবিশ্বাসীদের ওপর রয়েছে অপমানকর শাস্তি।
৯১. আর যখন তাদের বলা হয়, ‘আল্লাহ্‌ যা অবতীর্ণ করেছেন তাতে বিশ্বাস করো,’ তারা বলে, ‘আমাদের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে আমরা তাতে বিশ্বাস করি’। তা ছাড়া সবকিছুই তারা প্রত্যাখান করে, যদিও তা সত্য ও যা তাদের কাছে আছে তা তার সমর্থক। বলো, ‘তোমরা যদি বিশ্বাসীই হবে তবে কেন অতীতে নবিদেরকে খুন করেছিলে?
৯২. তোমরা তার অনুপস্থিতিতে গোবৎসকে (উপাস্য হিসাবে) বেছে নিলে, আর তোমরা তো জুলুমকারী’।
৯৩.স্মরণ করো, আমি যখন তোমাদের অঙ্গীকার নিয়েছিলাম ও তুর পাহাড়কে তোমাদের ওপর স্থাপন করেছিলাম (এবং বলেছিলাম), ‘আমি যা দিলাম তা শক্ত করে ধরো ও শ্রবণ করো’। তারা বলেছিল, ‘আমরা শুনলাম কিন্তু মানলাম না’। অবিশ্বাসের জন্য তাদের মনে গোবৎসের প্রতি দুর্বলতা সৃষ্টি হয়েছিল। বলো, ‘যদি তোমরা বিশ্বাসী হও তবে তোমাদের বিশ্বাস যা নির্দেশ দেয় তা কত খারাপ!’
৯৪. বলো, ‘যদি আল্লাহ্‌র কাছে পরকালের বাসস্থান অন্যদেরকে বাদ দিয়ে শুধু তোমাদের জন্যই হয়, তবে যদি সত্য কথা বলো, তোমাদের মৃত্য কামনা করা উচিত’।
৯৫. কিন্তু তারা তা তাদের কৃতকর্মের জন্য কখনও তা চাইবে না। আর আল্লাহ্‌ তো সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে জানেনই।
৯৬. সব মানুষের চেয়ে, এমনকি যারা শরিক করে তাদের চেয়েও, তোমরা দেখবে, জীবনের ওপর তাদের লোভ বেশি। তারা প্রত্যেকে হাজার বছর বেচেঁ থাকতে চায়, কিন্তু দীর্ঘ আয়ু তাদের শাস্তিকে দূরে রাখতে পারবে না। তারা যা করে আল্লাহ্‌ তো তা দেখেন।

||রুকু ১২||

৯৭. বলো, ‘যে জিবরাইলের শত্রু সে জেনে রাখুক সে তো আল্লাহ্‌র নির্দেশে তোমার হৃদয়ে এ পৌঁছে দেয় যা এর পূর্ববর্তী (কিতাবের) সমর্থক আর বিশ্বাসীদের জন্য যা পথপ্রদর্শক ও শুভসংবাদ’।
৯৮. যারা আল্লাহ্‌র, তাঁর ফেরেশতাদের, রসুলদের, জিবরাইল ও মিকাইলের শত্রু (তারা জেনে রাখুক) নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ অবিশ্বাসীদের শত্রু ।
৯৯. আর আমি তোমার প্রতি স্পষ্ট নিদর্শন অবতীর্ণ করেছি। আর সত্যত্যাগী ছাড়া কেউই এগুলো অমান্য করবে না।
১০০. তবে কি যখনই তারা অঙ্গীকার করেছে তখনই তাদের কোনো-এক দল সে-অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে? না, তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।
১০১. যখন আল্লাহ্‌র কাছ থেকে কোনো রসুল আসে তাদের কাছে যা রয়েছে তার সমর্থক হিসাবে, তখন যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল তাদের একদল কিতাবটিকে পেছনের দিকে ফেলে দেয় যেন তারা কিছুই জানে না।
১০২. আর সুলায়মানের রাজত্বে শয়তানেরা যা আওড়াত তারা (সাবাবাসীরা) তা মেনে চলত। সুলায়মান অবিশ্বাস করে নি, বরং শয়তানেরাই অবিশ্বাস করেছিল। তারা মানুষকে শিক্ষা দিত (সেই) জাদু যা বাবেল শহরের দুই ফেরেশতা হারুত ও মারুত ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল। তাই ‘আমরা তো (তোমাদের জন্য) ফিৎনা (পরীক্ষাস্বরূপ)। তোমরা অবিশ্বাস কোরো না’--এই না বলে তারা কোনো মানুষকে শিক্ষা দিত না। এ-দুজনের কাছ থেকে তারা এমন বিষয় শিক্ষা করত যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারত, তবু আল্লাহ্‌র নির্দেশ ছাড়া কারো কোনো ক্ষতি তারা করতে পারত না। তারা যা শিক্ষা করত তা তাদের ক্ষতিসাধনই করত, আর কোনো উপকারে আসত না। আর তারা ভালো করেই জানত যে, যে-কেউ তা কিনবে পরকালে তার কোনো অংশ নেই। আর যদি তারা জানত, তারা যার বিনিময়ে নিজেদের বিক্রি করেছিল তা কত নিকৃষ্ট!
১০৩. আর তারা যদি বিশ্বাস করত ও আল্লাহ্‌কে ভয় করত তবে নিশ্চয় তারা আল্লাহ্‌র কাছে ভালো পুরস্কারই পেত, যদি তারা জানত।

||রুকু ১৩||

১০৪. হে বিশ্বাসীগন, ‘রায়িনা’ বোলো না, বরং উনজুরনা বলো।[টীকাঃ ‘দেখেন’, ‘তাকান’, ‘শোনেন’ বা ‘আসেন তো’ অর্থে রায়িনা শব্দটি ব্যবহৃত হলেও কেউ-কেউ কথাটার উচ্চারণ বিকৃত করে তার একটা কদর্থ করত। তাই আল্লাহ্‌ দ্ব্যর্থহীন শব্দ উনজুরনা (আমাদের দিকে তাকান) ব্যবহার করার নির্দেশ দিলেন]। আর শুনে রাখো অবিশ্বাসীদের জন্য নিদারুণ শাস্তি রয়েছে।
১০৫. কিতাবিদের মধ্যে যারা অবিশ্বাসী এবং যারা অংশীবাদী তারা চায় না যে, তোমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে তোমাদের ওপর কোনো কল্যাণ অবতীর্ণ হোক। অথচ আল্লাহ্‌ যাকে ইচ্ছা বিশেষভাবে আপন দয়ার পাত্ররূপে মনোনীত করেন। আর আল্লাহ্‌ তো মহা অনুগ্রহশীল।
১০৬. আমি কোনো আয়াত রদ করলে বা ভুলে যেতে দিলে তার চেয়ে আরও ভালো বা তার সমতুল্য কোনো আয়াত আনি। তুমি কি জান না যে আল্লাহ্‌ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান?
১০৭. তুমি কি জান না, আকাশ ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহ্‌রই, আর আল্লাহ্‌ ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই, কেউ সাহায্যও করবে না?
১০৮. তোমরা কি তোমাদের রসুলকে সেভাবে প্রশ্ন করতে চাও যেভাবে পূর্বে মুসাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল? আর যে বিশ্বাসের পরিবর্তে অবিশ্বাসকে গ্রহণ করে, সে তো নিঃসন্দেহে সরল পথ হারায়।
১০৯. নিজেদের ঈর্ষামূলক মনোভাবের জন্য তাদের কাছে সত্য প্রকাশিত হবার পরও, কিতাবিদের মধ্যে অনেকেই বিশ্বাসের পর আবার তোমাদেরকে অবিশ্বাসী হিসাবে ফিরে পাতে চায়। তোমরা ক্ষমা করো ও উপেক্ষা করো যতক্ষণ না আল্লাহ্‌ কোনো নির্দেশ দেন। আল্লাহ্‌ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
১১০. আর তোমরা নামাজ কায়েম করো ও জাকাত দাও। এই উত্তম কাজের জা-কিছু আগে পাঠাবে আল্লাহ্‌র কাছে তা-ই পাবে। তোমরা যা কর নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তা দেখেন।
১১১. আর তারা বলে, ‘ইহুদি বা খ্রিষ্টান ছাড়া কেউ কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না’। এ তাদের মিথ্যা আশা। বলো, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে প্রমাণ উপস্থিত করো’।
১১২. হ্যাঁ, যে সৎকাজ করে আল্লাহ্‌র কাছে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমপর্ণ করে তার ফল তার প্রতিপালকের কাছে রয়েছে, আর তাদের কোনো ভয় নেই ও তারা দুঃখও পাবে না।

||রুকু ১৪||

১১৩. ইহুদিরা বলে, ‘খ্রিষ্টানদের কোনো ভিত্তি নেই’, খ্রিষ্টানরা বলে, ‘ইহুদিদের কোনো ভিত্তি নেই’; অথচ তারা কিতাব পাঠ করে। এইভাবে যারা কিছুই জানে না তারাও অনুরূপ কথা বলে। সুতরাং যে-বিষয়ে তাদের মতভেদ আছে শেষবিচারের দিন আল্লাহ্‌ তার মীমাংসা করবেন।
১১৪. যে আল্লাহ্‌র মসজিদে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয় ও তা ধ্বংস করার চেষ্টা করে তার চেয়ে বড় সীমালঙ্ঘঙ্কারী কে হতে পারে? ভয় না করে তাদের সেখানে ঢোকা উচিত নয়। পৃথিবীতে তাদের জন্য লাঞ্ছনাভোগ ও পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।
১১৫. পূর্ব ও পশ্চিম সব দিকই আল্লাহ্‌র; আর তুমি যে-দিকেই মুখ ফেরাও, সে-দিকই আল্লাহ্‌র দিক। আল্লাহ্‌ তো সর্বব্যাপী ও সর্বজ্ঞ।
১১৬. আর তারা বলে, ‘আল্লাহ্‌র পুত্র আছে’। তিনি মহান, পবিত্র। বরং আকাশ ও পৃথিবীতে জা-কিছু আছে সব আল্লাহ্‌রই। সবকিছু তাঁরই একান্ত অনুগত।
১১৭. আল্লাহ্‌ আকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা; আর যখন তিনি কিছু করতে ঠিক করেন শুধু বলেন, ‘হও’, তখন তা হয়ে যায়।
১১৮. আর যারা কিছু জানে না তারা বলে, ‘আল্লাহ্ আমাদের সংগে কথা বলেন না কেন? বা কোনো নিদর্শন আমাদের কাছে আসে না কেন?’ তাদের পূর্ববর্তীরাও এইভাবে তাদের মতো বলত। তাদের অন্তর একই রকম। দৃঢ়বিশ্বাসীদের জন্য আমি নিদর্শনসমূহ স্পষ্টভাবে বয়ান করেছি/
১১৯. আমি তোমাকে সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও সর্তককারীরূপে পাঠিয়েছি। যারা জাহান্নামে বাস করবে তাদের সম্বন্ধে তোমাকে কোনো প্রশ্ন করে হবে না।
১২০. ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা তোমার প্রতি কখনও সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না তুমি তাদের ধর্মাদর্শ অনুসরণ কর। বলো, ‘আল্লাহ্‌র পথনির্দেশই প্রকৃত পথনির্দেশ’। জ্ঞানপ্রাপ্তির পর তুমি যদি তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ কর তবে আল্লাহ্‌র বিপক্ষে তোমার কোনো অভিভাবক থাকবে না, আর কেউ সাহায্যও করবে না।
১২১. যাদেরকে কিতাব দিয়েছি তাদের মধ্যে যারা যথাযথভাবে তা পড়ে তারাই তাতে বিশ্বাস করে এবং যারা এ অমান্য করে তারা তো ক্ষতিগ্রস্ত।

||রুকু ১৫||

১২২. হে বনি-ইসরাইল, আমার সেই অনুগ্রহ স্মরণ করো যা দিয়ে আমি তোমাদেরকে অনুগৃহীত করেছি ও বিশ্বে সকলের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।
১২৩. আর তোমরা সেই দিনকে ভয় করো যেদিন কেউ কারও উপকারে আসবে না, আর কারও কাছ থেকে কোনো ক্ষতিপূরণও গৃহীত হবে না ও কোনো সুপারিশে কারও কোনো লাভ হবে না, আর কেউ কোনো সাহায্যও পাবে না।
১২৪. আর ইব্রাহিমকে তার প্রতিপালক কয়েকটি কথা দিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন। আল্লাহ্‌ বললেন, ‘আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা করেছি’। সে বলল, ‘আমার বংশধরদের মধ্য হতেও?’ আল্লাহ্‌ বললেন, ‘আমার প্রতিশ্রুতি সীমালঙ্ঘনকারীদের প্রতি প্রযোজ্য নয়’।
১২৫. আর স্মরণ করো সেই সময়কে যখন আমি (কা’বা) ঘরকে মানুষের মিলনক্ষেত্র ও আশ্রয়স্থল করেছিলাম। (আর আমি বলেছিলাম,) ‘তোমরা ইব্রাহিমের দাঁড়ানোর জায়গাকেই নামাজের জায়গারূপে গ্রহণ করো’। আর যখন আমি ইব্রাহিম ও ইসমাইলকে আদেশ করি যে, ‘তোমরা আমার ঘরকে পবিত্র রাখবে তাদের জন্য যারা এ প্রদক্ষিণ করবে, এখানে ব’সে এ’তেকাফ করবে এবং এখানে রুকু ও সিজদা করবে’।
১২৬. (স্মরণ করো) যখন ইব্রাহিম বলেছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! একে নিরাপদ শহর করো, আর এর অধিবাসীদের মধ্য যারা আল্লাহ্‌ ও পরকাল বিশ্বাস করবে তাদেরকে খাবার জন্য দাও ফলাহার’, তিনি বললেন, ‘যে-কেউ অবিশ্বাস করবে তাকেও কিছুকালের জন্য জীবন উপভোগ করতে দেব। তারপর তাকে নরকের শাস্তি ভোগ করতে বাধ্য করব, আর সে কী খারাপ পরিণতি!’
১২৭. আর যখন ইব্রাহিম ও ইসমাইল (কা’বা) ঘরের ভিত্তি স্থাপন করছিল, তখন তারা বলেছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক!, তুমি আমাদের এই কাজ গ্রহণ করো। তুমি তো সব শোন আর সব জান।
১২৮. হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের দুজনকে তোমার একান্ত অনুগত করো ও আমাদের বংশধর হতে তোমার অনুগত এক উম্মত (সমাজ) তৈরি করো। আমাদেরকে উপাসনার নিয়মপদ্ধতি দেখিয়ে দাও, আর আমাদের প্রতি ক্ষমাপরবশ হও! তুমি তো অত্যন্ত ক্ষমাপরবশ পরম দয়ালু।
১২৯. হে আমার প্রতিপালক! তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে এক রসুল প্রেরণ করো যে তোমার আয়াত তাদের কাছে আবৃত্তি করবে, তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবে এবং তাদেরকে পবিত্র করবে। তুমি তো পরাক্রমশালী তত্ত্বজ্ঞানী!’

||রুকু ১৬||

১৩০. যে নিজেকে বোকা বানিয়েছে সে ছাড়া ইব্রাহিমের সমাজ থেকে আর কে মুখ ফেরাবে? পৃথিবীতে তাকে আমি মনোনীত করেছি, পরকালেও সে হবে সৎকর্মপরায়ণগণের একজন।
১৩১. তার প্রতিপালক যখন তাকে বলেছিলেন, ‘আত্মসমর্পণ করো’, সে বলেছিল, ‘বিশ্বজগতের প্রতিপালকের কাছে আমি আত্মসমর্পণ করলাম’।
১৩২. আর ইব্রাহিম ও ইয়াকুব এ-সম্বন্ধে তাদের পুত্রদেরকে আমার নির্দেশ দিয়েছিল, ‘হে আমার ছেলেরা! আল্লাহ্‌ তোমাদের জন্য এ-দ্বীন (ধর্ম)-কে মনোনীত করেছেন। সুতরাং আত্মসমর্পণকারী না হয়ে কখনও মৃত্যুবরণ কোরো না।
১৩৩. ইয়াকুবের নিকট যখন মৃত্যু এসেছিল তোমরা কি তখন উপস্থিত ছিলে? সে যখন ছেলেদেরকে জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘আমার পরে তোমরা কিসের উপাসনা করবে?’ তারা তখন বলেছিল, ‘আমরা আপনার এক আল্লাহ্‌র ও আপনার পিতৃপুরুষ ইব্রাহিম, ইসমাইল ও ইসহাকের আল্লাহ্‌র উপাসনা করব। আর আমরা তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করি’।
১৩৪. সেই উম্মত গত হয়েছে। তারা যা অর্জন করেছিল তা তাদের, তোমরা যা অর্জন করবে তা তোমাদের, তারা যা করত সে-সম্বন্ধে তোমাদেরকে কোনো প্রশ্ন করা হবে না। তারা বলে, ‘ইহুদি বা খ্রিষ্টান হও, ঠিক পথ পাবে’।
১৩৫. বলো, ‘বরং একনিষ্ঠ হয়ে আমরা ইব্রাহিমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ করব’। আর সে (ইব্রাহিম) অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
১৩৬. তোমরা বলো, আমরা আল্লাহ্‌য় বিশ্বাস করি, আর যা আমাদের প্রতি এবং ইব্রাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তার বংশধরগণের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা তাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে ঈসা, মুসা ও অন্যান্য নবিকে দেওয়া হয়েছে আমরা তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করি’।
১৩৭. তোমরা যাতে বিশ্বাস করেছে তারা যদি সেরূপ বিশ্বাস করে তবে নিশ্চয় তারা পথ পাবে। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারা নিশ্চয়ই বিরুদ্ধভাবাপন্ন। আর তাদের বিরুদ্ধে তোমার জন্য আল্লাহ্‌ই যথেষ্ট। তিনি সব শোনেন সব জানেন।
১৩৮. (আমরা গ্রহণ করেছি) আল্লাহ্‌র রং। রঙে আল্লাহ্‌র চেয়ে কে বেশী সুন্দর? আর আমরা তাঁরই উপাসনা করি।
১৩৯. বলো, ‘আমাদের সঙ্গে আল্লাহ্‌ সম্বন্ধে তোমরা কি তর্ক করতে চাও? আর তিনি তো আমাদের প্রতিপালক আর তোমাদেরও প্রতিপালক! আমাদের কাজ আমাদের, আর তোমাদের কাজ তোমাদের জন্য, আর আমরা ভক্তিভরে তাঁরই সেবা করি’।
১৪০. তোমরা কি বল যে, ইব্রাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তার বংশধররা ইহুদি বা খ্রিষ্টান ছিল? বলো, ‘তোমরা কি বেশী জান, না আল্লাহ্‌?’ তার চেয়ে বড় জুলুমকারী কে যে আল্লাহ্‌র কাছ থেকে পাওয়া প্রমাণ গোপন করে? আর আল্লাহ্‌ তো জানেন তোমরা যা কর।
১৪১. সেই উম্মত গত হয়েছে। তারা যা অর্জন করেছিল তা তাদের, তোমরা যা অর্জন করবে তা তোমাদের, তারা যা করত সে-সম্বন্ধে তোমাদেরকে কোনো প্রশ্ন করা হবে না।

||রুকু ১৭||

১৪২. নির্বোধ লোকেরা বলবে যে, ‘তারা এ-পর্যন্ত যে কিবলা অনুসরণ ক’রে আসছিল তার থেকে কিসে তাদেরকে ফিরিয়ে দিল?’ বলো, ‘পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহ্‌রই। তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন’।
১৪৩. এভাবে আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থি জাতিরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছি যাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষী হতে পার, আর রসুল তোমাদের জন্য সাক্ষী হবে। তুমি এ-পর্যন্ত যে কিবলা অনুসরণ করেছিলে তা এইজন্য প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম যাতে আমি জানতে পারি কে রসুলকে অনুসরণ করে আর কে ফিরে যায়। আল্লাহ্‌ যাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেছেন তারা ছাড়া অন্যের কাছে এ তো কঠিন। আল্লাহ্‌ এমন নন যে তিনি তোমাদের বিশ্বাসকে ব্যর্থ করেন। মানুষের জন্য তো আল্লাহ্‌র অনুকম্পা, বড়ই দয়া।
১৪৪. আমি লক্ষ করি তুমি আকাশের দিকে বারবার তাকাও। তাই তোমাকে এমন এক কিবলার দিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছি যা তুমি পছন্দ করবে। সুতরাং তুমি মসজিদ-উল-হারামের দিকে মুখ ফেরাও। তোমরা যেখানেই থাক না কেন কা’বার দিকে মুখ ফেরাও। আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তারা নিশ্চিতভাবে জানে যে, এ তাদের প্রতিপালক-প্রেরিত সত্য। তারা যা করে তা আল্লাহ্‌র অজানা নেই।
১৪৫. যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তুমি যদি তাদের কাছে সব প্রমাণ পেশ কর, তবুও তারা তোমার কিবলার অনুসরণ করবে না, আর তুমিও তাদের কিবলার অনুসরণ করবে না! তারো কেঊ কারও কিবলা অনুসরণ করে না তোমার কাছে জ্ঞান আসার পর যদি তুমি তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ কর তবে তুমি তো সীমালঙ্ঘন করবে।
১৪৬. আমি যাদের কিতাব দিয়েছি তারা তাকে (মুহাম্মদকে) তেমনি চেনে যেমন তারা চেনে নিজেদের ছেলেদেরকে; তবুও তাদের একদল সত্য গোপন করে, আর তা জেনেশুনে।
১৪৭. সত্য তোমার প্রতিপালকের কাছ থেকে। সুতরাং যারা সন্দেহ করে তাদের শামিল হয়ো না।

||রুকু ১৮||

১৪৮. আর প্রত্যেকের একটা দিক আছে যার দিকে সে মুখ করে দাঁড়ায়। অতএব তোমরা সৎকর্মে প্রতিযোগিতা করো। তোমরা যেখানেই থাক না কেন আল্লাহ্‌ তোমাদের সকলকে একত্র করবেন। আল্লাহ্‌ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
১৪৯. আর যেখান থেকেই তুমি বের হও না কেন মসজিদ-উল-হারামের দিকে মুখ ফেরাও। নিশ্চয় এ তোমার প্রতিপালকের কাছ থেকে প্রেরিত সত্য। তোমরা যা করছ তা আল্লাহ্‌র অগোচর নয়।
১৫০. আর তুমি যেখান থেকেই বের হও না কেন মসজিদ-উল-হারামের দিকে মুখ ফেরাও, আর যেখানেই থাক না কেন (তার) দিকে মুখ ফেরাবে, যাতে যারা সীমালঙ্ঘন করে তারা ছাড়া অন্য কেউ তোমাদের সঙ্গে তর্ক করতে না পারে। তাই তাদেরকে ভয় কোরো না, একমাত্র আমাকেই ভয় করো যাতে আমি আমার সম্পদ তোমাদের পুরোপুরি দিতে পারি, আর যাতে তোমরা সৎপথে পরিচালিত হতে পারে।
১৫১. আমি তোমাদেরই একজনকে রসুল করে পাঠিয়েছি যে আমার আয়াতগুলো তোমাদের কাছে আবৃত্তি করে; তোমাদেরকে পবিত্র করে, তোমাদেরকে শিক্ষা দেয় কিতাব ও তত্ত্বজ্ঞান, আর শিক্ষা দেয় যা তোমরা জানতে না।
১৫২. সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ করো আর আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব, আমার কাছে তোমরা কৃতজ্ঞ হও, আর কৃতঘ্ন হয়ো না।

||রুকু ১৯||

১৫৩. হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। আল্লাহ্‌ তো ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।
১৫৪. আর যারা আল্লাহ্‌র পথে মারা যায় তাদেরকে মৃত বোলো না, বরং তারা জীবিত; কিন্তু তা তোমরা বুঝতে পার না।
১৫৫. নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে (কাউকে) ভয় ও ক্ষুধা দিয়ে, আর (কাউকে) ধনেপ্রাণে বা ফলফসলের ক্ষয়ক্ষতি দিয়ে পরীক্ষা করব। আর যারা ধৈর্য ধরে তাদেরকে তুমি সুখবর দাও।
১৫৬. (তারাই ধৈর্যশীল) যারা তাদের ওপর কোনো বিপদ এলে বলে, ‘আমরা তো আল্লাহ্‌রই আর নিশ্চিতভাবে আমরা তাঁরই দিকে ফিরে যাব’।
১৫৭. এইসব লোকের প্রতি তাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে আর্শীবাদ ও দয়া বর্ষিত হয়, আর এরাই সৎপথপ্রাপ্ত।
১৫৮. নিশ্চয় দুটি পাহাড় সাফা ও মারওয়া আল্লাহ্‌র নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে আল্লাহ্‌র ঘরে হজ বা ওমরে করে, তার জন্য এই দুটি প্রদক্ষিণ করলে কোনো পাপ নেই। আর যে-ব্যক্তি ইচ্ছা ক’রে কোনো ভালো কাজ করে, আল্লাহ্‌ তাকে পুরস্কার দেন আর তিনি তো সব জানেন।
১৫৯. আমি যেসব স্পষ্ট নিদর্শন ও পথনির্দেশ অবতীর্ণ করেছি, মানুষের জন্য পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করার পরও যারা ওইসব গোপন রাখে, আল্লাহ্‌ তাদেরকে অভিশাপ দেন, আর অভিশাপকারীরাও তাদের অভিশাপ দেয়।
১৬০. কিন্তু যারা তওবা করে, আর নিজেদেরকে সংশোধন করে ও আল্লাহ্‌র আয়াতকে স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করে, এরাই তারা যাদের আমি ক্ষমা করি, আর আমি ক্ষমাকারী, পরম দয়ালু।
১৬১. নিশ্চয় যারা অবিশ্বাস করে ও অবিশ্বাসী থাকা অবস্থায় মারা যায়, তাদের ওপর আল্লাহ্‌র ফেরেশতা ও সকল মানুষেরই অভিশাপ।
১৬২. তারা চিরকাল অভিশাপ পেতে থাকবে। তাদের শাস্তি হালকা করে হবে না এবং তারা কোনো অবকাশও পাবে না।
১৬৩. আর তোমাদের উপাস্য এক; তিনি ভিন্ন আর কোনো উপাস্য নেই, তিনি করুণাময়, পরম দয়ালু।

||রুকু ২০||

১৬৪. আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, রাত্রি ও দিনের পরিবর্তনে, মানুষের উপকারে যা লাগে তা নিয়ে জাহাজের সমুদ্রযাত্রায়, সেই বৃষ্টিতে যা আল্লাহ্‌ আকাশ থেকে বর্ষণ করেন, যার দ্বারা তিনি মৃত পৃথিবীকে পুনরুজ্জীবিত করেন ও সেখানে যাবতীয় জীবজন্তুর বিস্তার ঘটান আর সেই বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনে এবং আকাশে ও পৃথিবীর সেবায় নিয়োজিত সেই মেঘমালায় তো জ্ঞানী লোকের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।
১৬৫. আর কোনো কোনো লোক আছে যারা আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্যদেরকে তাঁর সমকক্ষ মনে করে, আর তাদেরকে আল্লাহ্‌র মতো ভালোবাসে; কিন্তু যারা বিশ্বাস করে আল্লাহ্‌র প্রতি তাদের ভালোবাসা সবচেয়ে দৃঢ়। যারা জুলুম করে তারা যদি (এখন) দেখত যে-শাস্তি তারা দেখবে (তা হলে বুঝত) সব ক্ষমতা আল্লাহ্‌র আর আল্লাহ্‌ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর।
১৬৬. যাদেরকে অনুসরণ করা হয়েছিল তারা যখন অনুসারীদের ওপর বিমুখ হবে আর অনুসারীরা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন তাদের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে।
১৬৭. আর যারা অনুসরণ করেছিল তারা বলবে, ‘হায়! যদি একটিবার ফিরে যাবার সুযোগ আমাদের ঘটত, তবে আমরাও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতাম যেমন তারা আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল’। এভাবে আল্লাহ্‌ তাদের কাজকর্মকে তাদের আফসোসের কারণ ক’রে দেখাবেন আর তারা কখনও আগুন থেকে বের হতে পারবে না।

||রুকু ২১||

১৬৮. হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা-কিছু হালাল ও বিশুদ্ধ খাদ্যদ্রব্য রয়েছে, তা থেকে তোমরা আহার করো আর তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না। সে তো তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু ।
১৬৯. সে তো কেবল তোমাদেরকে মন্দ ও অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেয়, আর সে চায় যে, আল্লাহ্‌র সম্বন্ধে তোমরা যা জান না তা বল।
১৭০. আর তাদেরকে যখন বলা হয়, ‘আল্লাহ্‌ যা অবতীর্ণ করেছেন তা তোমরা অনুসরণ করো’, তারা বলে, ‘না, আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে যে (ধর্মে) পেয়েছি তার অনুসরণ করব’, যদিও তাদের পিতৃপুরুষগণ কিছুই বুঝত না ও তারা সৎপথেও ছিল না।
১৭১. আর যারা অবিশ্বাস করে তাদের উপমা যেন কোনো ব্যক্তি এমন কিছুকে ডাকে, যা হাঁকডাক ছাড়া আর কিছুই শোনে না - তারা বধির, বোবা ও অন্ধ, তাই তারা কিছুই বুঝতে পারে না।
১৭২. হে বিশ্বাসীগণ! আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি তা থেকে বিশুদ্ধ জিনিস খাও এবং আল্লাহ্‌র কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো যদি তোমরা শুধু তাঁরই উপাসনা করে থাক।
১৭৩. (আল্লাহ্‌) তো তোমাদের জন্য শুধু মড়া, রক্ত, শূকরের মাংস ও যেসব জন্তুর ওপর (জবাই করার সময়) আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্যের নাম করা হয়ে থাকে, তা তোমাদের জন্য হারাম করেছেন। তবে কেউ অবাধ্য না হয়ে ও সীমালঙ্ঘন না করে নিরুপায় হলে আল্লাহ্‌ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
১৭৪. আল্লাহ্‌ যে-কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যারা তা গোপন করে ও তার বিনিময়ে স্বল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা কেবল আগুন দিয়ে নিজেদের উদর পূর্তি করে। আর কিয়ামতের দিন আল্লাহ্‌ তাদের সাথে কথা বলবেন না ও তাদের পবিত্রও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে দুঃখজনক শাস্তি।
১৭৫. তারাই সৎপথের বদলে ভ্রান্তপথ ও ক্ষমার বদলে শাস্তি কিনেছে। আগুনে তাদের কত ধৈর্য!
১৭৬. এসব এজন্য যে আল্লাহ্‌ সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। যারা কিতাব সম্বন্ধে মতভেদ করে, তারা নিশ্চয়ই অশেষ বিরুদ্ধতায় আছে।

||রুকু ২২||

১৭৭. পূর্ব ও পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোতে কোনো পুণ্য নেই; কিন্তু পুণ্য আছে আল্লাহ্‌, পরকাল, ফেরেশতা, সব কিতাব ও নবিদের ওপর বিশ্বাস করলে আর আল্লাহ্‌র ভালোবাসায় আত্মীয়স্বজন, পিতৃহীন, অভাবগ্রস্ত, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থীদেরকে ও দাসমুক্তির জন্য অর্থদান করলে, নামজ কায়েম করলে ও জাকাত দিলে, আর প্রতিশ্রুতি পালন করলে, আর দুঃখ, কষ্ট ও যুদ্ধের সময় ধৈর্যধারণ করলে। এরাই তারা যারা সত্যবাদী ও সাবধানি।
১৭৮. হে বিশ্বাসীগণ! নরহত্যার ব্যাপারে তোমাদের জন্য কিসাস (বদলা) -র নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি, ক্রীতদাসের বদলে ক্রীতদাস ও নারীর বদলে নারী। কিন্তু তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে কিছুটা মাফ করলে সম্মানজনক ব্যবস্থার অনুসরণ করা ও সদয়ভাবে তার দেয় পরিশোধ করা উচিত। এ তো তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে (শাস্তির) ভারলাঘব ও অনুগ্রহ। এর পরও যে সীমালঙ্ঘন করে তার জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে।
১৭৯. হে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ! কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা সাবধান হতে পার।
১৮০. তোমাদের মধ্যে যখন কারও মৃত্যু উপস্থিত হয় আর সে যদি ধনসম্পত্তি রেখে যায়, তবে পিতামাতা ও আত্মীয়স্বজনের জন্য অসিয়ত করার বিধান দেওয়া হ্ল। সাবধানিদের পক্ষে এটা অবশ্যপালনীয়।
১৮১. তারপর এ শোনার পরও যদি কেউ এর পরিবর্তন করে, তা হলে যে পরিবর্তন করবে তার অপরাধ হবে। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সব শোনেন ও সব জানেন।
১৮২. তবে যদি কেউ অসিয়তকারীর পক্ষপাতিত্ব বা অন্যায়ের আশঙ্কা করে, তারপর সে তাদের পরস্পরের মধ্যে ফয়সালা ক’রে দেয়, তবে তার কোনো দোষ নেই। নিশ্চয় আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

||রুকু ২৩||

১৮৩. হে বিশ্বাসীগণ; তোমাদের জন্য সিয়াম (রোজা)-র বিধান দেওয়া হ্ল, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা সাবধান হয়ে চলতে পার,
১৮৪. নির্দিষ্ট কয়েক দিনের জন্য। তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময়ে এ-সংখ্যা পূরণ ক’রে নিতে হবে। আর যে-ব্যক্তির পক্ষে রোজা রাখা দুঃসাধ্য তার একজন অভাবগ্রস্তকে অন্নদান করা কর্তব্য। তবু যদি কেউ নিজের খুশিতে পুণ্য কাজ করে তবে তার পক্ষে বড়ই কল্যাণকর। আর যদি তোমরা উপলব্ধি করতে পারতে তবে বুঝতে, রোজাপালনই তোমাদের জন্য আরও বেশী কল্যাণকর।
১৮৫. রমজান মাস, এতে মানুষের পথপ্রর্দশক ও সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন এবং ন্যায় ও অন্যায়ের মীমাংসারূপে কোরান অবতীর্ণ হয়েছিল। অতএব তোমাদের মধ্যে যে-কেউ এ-মাস পাবে সে যেন এ-মাসে অবশ্যই রোজা রাখে। আর যে রোগী বা মুসাফির তাকে অন্য দিনে এ-সংখ্যা পূরণ করতে হবে। আল্লাহ্‌ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, তোমাদেরকে কষ্ট দিতে চান না, যাতে তোমরা নির্ধারিত দিন পূরণ করতে পার ও তোমাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করার জন্য আল্লাহ্‌র মহিমা ঘোষণা করতে পার, আর তোমরা কৃতজ্ঞ হলেও হতে পার।
১৮৬.আর আমার দাসরা যখন আমার সম্বন্ধে তোমাকে প্রশ্ন করে তখন (তুমি বলো) আমি তো কাছেই আছি। যখন কোনো প্রার্থনাকারী আমাকে ডাকে আমি তার ডাকে সাড়া দিই। অতএব তারাও আমার ডাকে সাড়া দিক ও আমার ওপর বিশ্বাস করুক যাতে তারা ঠিক পথে চলতে পারে।
১৮৭. রোজার রাত্রিতে তোমাদের জন্য স্ত্রী-সহবাস বৈধ করা হয়েছে। তারা তোমাদের পোশাক আর তোমরা তাদের পোশাক। আল্লাহ্‌ জানতেন যে, তোমরা আত্মপ্রতারণা করছ। তাই তো তিনি তোমাদের ওপর দয়া করেছেন ও তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করেছেন। অতএব এখন তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস করতে পার ও আল্লাহ্‌ তোমাদের জন্য যা বিধিবদ্ধ করেছেন তা কামনা করো। আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ রাত্রির কৃষ্ণরেখা থেকে ঊষার শুভ্ররেখা স্পষ্টরূপে তোমাদের কাছে প্রতিভাত না হয়। তারপর রাত্রি পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করো। আর যখন তোমরা মসজিদে এ‘তেকাফ (সংসার হতে বিছিন্ন হয়ে কিছুকালের জন্য ধ্যানে)-এ থাক তখন স্ত্রী-সহবাস কোরো না। এ আল্লাহ্‌র সীমারেখা, সুতরাং এর ধারেকাছে যেয়ো না। এভাবে আল্লাহ্‌ মানুষের জন্য তাঁর আয়াত স্পষ্ট ক’রে ব্যক্ত করেন, যাতে তারা সাবধান হয়ে চলতে পারে।
১৮৮. আর তোমরা একে অন্যের ধন অন্যায়ভাবে গ্রাস কোরো না। আর মানুষের ধনসম্পদের কিছু অংশ জেনেশুনে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে বিচারকদের ঘুষ দিয়ো না।

||রুকু ২৪||

১৮৯. লোকে তোমাকে হেলাল (নূতন চাঁদ) সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে। বলো, ‘তা মানুষের সময় ও হজের সময়-নির্দেশ করে’। পেছন দিক দিয়ে ঘরে প্রবেশ করাতে কোনো পূণ্য নেই, কিন্তু পূণ্য আছে কেউ সাবধান হয়ে চললে। অতএব তোমরা সদর দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করো, আর তোমরা আল্লাহ্‌কে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।
১৯০. আর যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তোমরাও আল্লাহ্‌র পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো; তবে সীমালঙ্ঘন করো না। আল্লাহ্‌ সীমা-অতিক্রমকারীদেরকে ভালোবাসেন না।
১৯১. আর যেখানে তাদেরকে তোমরা পাবে তাদেরকে তোমরা হত্যা করবে আর যেখান থেকে তারা তোমাদেরকে বের করে দিয়েছে, তোমরাও সেখান থেকে তাদেরকে বার করে দেবে। ফিৎনা হত্যার চেয়ে মারাত্মক। আর মসজিদ-উল-হারামের কাছে তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করো না, যতক্ষণ না তারা সেখানে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে। যদি তারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তবে তোমরা তাদেরকে হত্যা করবে, এ-ই তো অবিশ্বাসীদের পরিণাম।
১৯২. কিন্তু যদি তারা বিরত হয়, তবে তো আল্লাহ্‌ ক্ষমা করবেন, দয়া করবেন।
১৯৩. তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ফিৎনা দূর হয় ও আল্লাহ্‌র ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু যদি তারা বিরত হয়, তবে জুলেমকারীদের ছাড়া (কারো ওপর) হস্তক্ষেপ করা চলবে না।
১৯৪. পবিত্র মাসের বদলে পবিত্র মাস। আর সকল পবিত্র জিনিসের জন্যে এমন বিনিময়। সুতরাং যে তোমাদেরকে আক্রমণ করবে তোমরাও তাকে অনুরূপ আক্রমণ করবে। আর তোমরা আল্লাহ্‌কে ভয় করো ও জেনে রাখো যে আল্লাহ্‌ সাবধানিদের সাথে থাকেন।
১৯৫. আর আল্লাহ্‌র পথে ব্যয় করো। তোমরা নিজেদের সর্বনাশ কোরো না আর তোমরা সত্কর্ম করো; আল্লাহ্‌ সত্কর্মপরায়ণদেরকে ভালোবাসেন।
১৯৬. আর আল্লাহ্‌র উদ্দেশে হজ ও ওমরা পূর্ণ করো, কিন্তু যদি তোমরা বাধাপ্রাপ্ত হও, তবে সহজলভ্য কোরবানি করো। আর যে-পর্যন্ত কোরবানির (পশু) তার গন্তব্য স্থানে উপস্থিত না হয় তোমরা মাথা মুড়িয়ো না। তোমাদের মধ্যে যদি কেউ পীড়িত হয় বা মাথায় যন্ত্রণা বোধ করে, তবে সে তার পরিবর্তে রোজা রাখবে বা সাদকা দেবে বা কোরবানি দিয়ে তার ফিদ্‌য়া (খেসারত)দেবে। তারপর যখন তোমরা নিরাপদ হবে তখন তোমাদের মধ্যে যে-ব্যক্তি হজের আগে ওমরা করে লাভবান হতে চায় সে সহজলভ্য কোরবানি করবে। কিন্তু যদি কেউ কোরবানির কিছুই না পায়, তবে তাকে হজের সময় তিনদিন ও ঘরে ফেরার পর সাতদিন এই পুরো দশদিন রোজা করতে হবে। এই নিয়ম তার জন্য, যার পরিবার-পরিজন পবিত্র কা’বার কাছে বাস করে না। আর তোমরা আল্লাহ্‌কে ভয় করো ও জেনে রাখো আল্লাহ্‌ মন্দ কাজের প্রতিফল দিতে কঠোর।

||রুকু ২৫||

১৯৭. সুবিদিত মাসে (শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজ) হজ হয়। যে-কেউ এ মাসগুলোতে হজ করা পবিত্র ব’লে মনে করে সে যেন হজের সময় স্ত্রীসম্ভোগ, অনাচার ও ঝগড়া-বিবাদ না করে। আর তোমরা যে সৎকাজ কর আল্লাহ্‌ তা জানেন, আর তোমরা (পরকালের) পাথেয় সংগ্রহ করো, আর আত্মসংযমই তো শ্রেষ্ঠ পাথেয়, হে বোধশক্তিসম্পন্নরা! তোমরা আমাকেই ভয় করো।
১৯৮. তোমাদের পক্ষে তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ কামনায় কোনো দোষ নেই (অর্থাৎ হজের সময় ব্যাবসা-বাণিজ্য নিষিদ্ধ নয়)। যখন তোমরা আরাফাত থেকে দৌড়ে ফিরে আসবে তখন মাশ’য়ার-উল-হারাম-এর কাছে পৌছেঁ আল্লাহ্‌কে স্মরণ করবে, আর তিনি যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন ঠিক সেভাবে তাঁকে স্মরণ করবে, যদিও পূর্বে তোমরা বিভ্রান্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।
১৯৯. তারপর অন্যান্য লোক যেখান থেকে দ্রুতগতিতে প্রত্যাবর্তন করে তোমরাও সেখান থেকে দ্রুতগতিতে প্রত্যাবর্তন করবে। আর আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা চাও, আল্লাহ্‌ তো ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।
২০০. তারপর যখন তোমরা অনুষ্ঠানাদি সম্পন্ন ক’রে নেবে, তখন আল্লাহ্‌কে এমনভাবে স্মরণ করবে যেমন তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষকে স্মরণ করতে বা তার চেয়েও গভীরভাবে। এমন কিছু লোক আছে যারা ব’লে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এই পৃথিবীতেই দাও’। পরকালে তাদের জন্য তো কোনো অংশ নেই।
২০১. আর তাদের মধ্যে অনেকে ব’লে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ইহকালেও কল্যাণ দাও এবং আমাদেরকে অগ্নিযন্ত্রণা থেকে রক্ষা করো’।
২০২. তারা যা অর্জন করেছে তার প্রাপ্য অংশ তাদেরই। আল্লাহ্‌ তো হিসাবগ্রহণে অত্যন্ত তৎপর।
২০৩. তোমরা নির্দিষ্টসংখ্যক দিনগুলোতে (মিনা অবস্থানকালে জিলহজ মাসের ১১,১২ ও ১৩ তারিখ) আল্লাহ্‌কে স্মরণ করো, আর যদি কেউ তাড়াতাড়ি করে দুই দিনেই চলে আসে, তাতে তার কোনো পাপ নেই। এ তার জন্য যে সাবধানে চলে। তোমরা আল্লাহ্‌কে ভয় করো ও জেনে রাখ যে, তাঁর কাছে তোমাদের একত্র করা হবে।
২০৪. আর মানুষের মধ্যে এমন লোক আছে যার পার্থিব জীবনের কথাবার্তা তোমাকে মুগ্ধ করে ও তার অন্তরে যা আছে সে-সম্বন্ধে সে আল্লাহ্‌কে সাক্ষী রাখে, কিন্তু আসলে সে তোমাদের ঘোর বিরোধী।
২০৫. আর যখন সে চলে যায় তখন সে পৃথিবীতে ফ্যাশাদ সৃষ্টি করে আর শস্যক্ষেত্রে ও জীবজন্তুর বংশ ধ্বংস করার চেষ্টা করে, আল্লাহ্‌ কিন্তু ফ্যাশাদ ভালোবাসেন না।
২০৬. আর যখন তাকে বলা হয়, ‘তুমি আল্লাহ্‌কে ভয় করো,’ তখন তার অহংকার তাকে পাপকাজে লিপ্ত করে। তাই তার উপযুক্ত স্থান জাহান্নাম; আর সে তো খুব খারাপ জায়গা।
২০৭. আর এমন লোকও আছে যে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য জীবন সমর্পণ ক’রে দেয়। আল্লাহ্‌ তো তাঁর দাসদেরকে বড় দয়া করেন।
২০৮. হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলাম গ্রহণ করো, আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না। সে তো তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু ।
২০৯. সুতরাং প্রকাশ্য নির্দশন আসার পরও যদি তোমাদের পদস্খলন ঘটে, তবে জেনে রাখ যে আল্লাহ্‌ শক্তিমান, তত্ত্বজ্ঞানী।
২১০. তারা কেবল এর প্রতীক্ষায় আছে যে আল্লাহ্‌ মেঘের ছায়ায় ফেরেশতাদেরকে সঙ্গে ক’রে তাদের কাছে হাজির হবেন, তারপর সবকিছুর মীমাংসা হ্য়ে যাবে। সব বিষয়ই আল্লাহ্‌র কাছে ফিরিয়ে আনা হবে।

||রুকু ২৬||

২১১. তুমি বনি-ইসরাইলকে জিজ্ঞাসা করো আমি তাদেরকে কত স্পষ্ট নির্দশন দিয়েছিলাম। আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ আসার পর কেউ তার পরিবর্তন করলে আল্লাহ্‌ তো দন্ডদানে বড়ই কঠোর।
২১২. অবিশ্বাসীদের জন্য পার্থিব জীবন শোভন করা হয়েছে। তারা বিশ্বাসীদেরকে ঠাট্টাবিদ্রূপ করে থাকে, অথচ যারা সংযত হয়ে চলে কিয়ামতের দিন তারাই তাদের ওপরে থাকবে। আল্লাহ্‌ যাকে ইচ্ছা অশেষ জীবিকা দান করেন।
২১৩. মানুষ ছিল এক জাতি। তারপর আল্লাহ্‌ নবিদেরকে সুসংবাদদাতা ও সর্তককারী হিসাবে পাঠান। আর মানিষের মধ্যে যে-বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছিল তার মীমাংসার জন্য তিনি সত্যসহ কিতাব অবর্তীণ করেন। আর যাদেরকে তা দেওয়া হয়েছিল তাদের কাছে স্পষ্ট নির্দশন আসার পর তারা শুধু পরস্পর বিদ্বেষবশত মতভেদ করত। তারপর তারা যে-ভিন্নমত পোষণ করত আল্লাহ্‌ সে-বিষয়ে নিজ অনুগ্রহে সত্য পথে যারা বিশ্বাস করে তাদের পরিচালিত করেন। আল্লাহ্‌ যাকে ইচ্চা সরল পথে পরিচালিত করেন।
২১৪. তোমরা কি মনে কর তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, যদিও এখনও তোমাদের পূর্বে যারা চলে গেছে তোমরা তাদের অবস্থায় পড় নি? অর্থসংকট ও দুঃখদারিদ্র‌ তাদেরকে স্পর্শ করেছিল, আর তারা এমনই বিচলিত হয়ে পড়েছিল যে, রসুল ও তার ওপর যারা বিশ্বাস করেছিল তারাও বলে উঠেছিল, ‘আল্লাহ্‌র সাহায্য কখন আসবে?’ জেনে রেখো, আল্লাহ্‌র সাহায্য তো কাছেই।
২১৫. তারা তোমাকে প্রশ্ন করে তারা কী ব্যয় করবে? বলো, তোমরা যা ব্যয় কর তা হবে পিতামাতা, আত্মীয়স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরদের জন্য। আর তোমরা যে-কোনো সৎকাজ কর-না কেন আল্লাহ্‌ তা ভালোভাবে জানেন।
২১৬. তোমাদের জন্য যুদ্ধের বিধান দেওয়া হল, যদিও এ তোমাদের পছন্দ নয়। কিন্তু তোমরা যা পছন্দ কর না সম্ভবত তা তোমাদের জন্য ভালো। আর তোমরা যা পছন্দ কর সম্ভবত তা তোমাদের জন্য মন্দ। আল্লাহ্‌ জানেন, তোমরা তো জান না।

||রুকু ২৭||

২১৭. পবিত্র মাসে যুদ্ধ করা সম্পর্কে লোকে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, বলো, ‘সেই সময় যুদ্ধ করা ভীষণ অন্যায়। কিন্তু আল্লাহ্‌র কাছে তার চেয়েও বড় অন্যায় আল্লাহ্‌র পথে বাধা দেওয়া, আল্লাহ্‌কে অস্বীকার করা, কা’বাশরিফ (উপাসনায়) বাধা দেওয়া ও সেখানকার অধিবাসীদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া। আর ফিৎনা হত্যার চেয়ে আরও ভীষণ অন্যায়’। পারলে তারা সব সময় তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকবে যে-পর্যন্ত না তারা তোমাদের ধর্ম থেকে তোমাদেরকে ফিরিয়ে দেয়। তমাদের মধ্যে যে-কেউ নিজের ধর্ম থেকে ফিরে যাবে এবং অবিশ্বাসী হয়ে মারা যাবে তাদের ইহকাল ও পরকালের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যাবে। আর এরাই আগুনে বাস করবে, সেখানে তারা থাকবে চিরকাল।
২১৮. নিশ্চয় যারা বিশ্বাস করে, আল্লাহ্‌র পথে হিজরত করে ও জিহাদ করে তারাই আল্লাহ্‌র দয়ার আশা রাখে; আর আল্লাহ্‌ তো ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।
২১৯. লোকে তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, বলো, ‘দুয়ের মধ্যেই মহাদোষ, মানুষের জন্য উপকারও আছে, কিন্তু উপকারের চেয়ে ওদের দোষই বেশী’। লোকে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে তারা (আল্লাহ্‌র পথে) কী ব্যয় করবে? বলো, ‘যা উদ্ধৃত্ত’। এভাবে আল্লাহ্‌ তাঁর সকল নিদর্শ্ন তোমাদের জন্য প্রকাশ করেন জাতে তোমরা চিন্তা কর ইহকাল ও পরকাল সম্বন্ধে।
২২০. লোকে পিতৃহীনদের সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে। বলো, ‘তাদের জন্য সুব্যবস্থা করাই ভালো’। আর যদি তোমরা তাদের সাথে মিলেমিশে থাক, তবে তারা তো তোমাদেরি ভাই। আল্লাহ্‌ জানেন কে হিতকারী ও কে অনিষ্টকারী। আল্লাহ্‌ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে কষ্টে ফেলতে পারতেন। আল্লাহ্‌ তো প্রবল শক্তিমান তত্ত্বজ্ঞানী।
২২১. আর অংশীবাদী রমণী যে-পর্যন্ত না বিশ্বাস করে তোমরা তাকে বিয়ে কোরো না। অবিশ্বাসী নারী তোমাদের চমৎকৃত করলেও নিশ্চয় ধর্মে বিশ্বাসী ক্রীতদাসী তার চেয়ে ভালো। ধর্মে বিশ্বাস না করা পর্যন্ত অংশীবাদী পুরুষের সাথে তোমাদের কন্যার বিয়ে দিয়ো না। অংশীবাদী পুরুষ তোমাদের চমৎকৃত করলেও ধর্মে বিশ্বাসী ক্রীতদাস তার চেয়ে ভালো। কারণ, ওরা তোমাদেরকে আগুনের দিকে ডাক দেয়। আর আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে নিজ অনুগ্রহে জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহ্বান করেন। তিনি মানুষের জন্য তাঁর নিদর্শনসমূহ স্পষ্ট ক’রে বয়ান করেন, জাতে তারা তার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

||রুকু ২৮||

২২২. লোকে তোমাকে রজঃস্রাব সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে। তুমি বলো, ‘তা অশুচি’। তাই রজঃস্রাবকালে স্ত্রীসঙ্গ বর্জন করবে, আর যতদিন না তারা পবিত্র হয়, তাদের কাছে (সহবাসের জন্য) যেয়ো না। তারপর যখন তারা পরিশুদ্ধ হবে, তখন তাদের কাছে ঠিক সেভাবে যাবে যেভাবে আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন। যারা তওবা করে ও পবিত্র থাকে তাদেরকে আল্লাহ্‌ ভালোবাসেন।
২২৩. তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র, অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা যেতে পার। আর তোমরা তোমাদের নিজেদের জন্য আগেই কিছু পাঠাও (ভালো কাজ করো) ও আল্লাহ্‌কে ভয় করো। আর জেনে রাখো যে, আল্লাহ্‌র সাথে নিশ্চয়ই তোমাদের দেখা করতে হবে। আর বিশ্বাসীদেরকে সুখবর দাও।
২২৪. তোমরা সৎকাজ, আত্মসংযম ও মানুষের মধ্যে শান্তিস্থাপন করবে না ব’লে আল্লাহ্‌র কাছে শপথ করো না। আল্লাহ্‌ সব শোনেন, সব জানেন।
২২৫. তোমাদের অর্থহীন শপথের জন্য আল্লাহ্‌ তোমাদের দায়ী করবেন না, কিন্তু তিনি তোমাদের অন্তরের সংকল্পের জন্য দায়ী করবেন। আল্লাহ্‌ তো ক্ষমা করেন, সহ্য করেন।
২২৬. যারা নিজেদের স্ত্রীদের কাছে না যাওয়ার শপথ করে, তারা চার মাস অপেক্ষা করবে, তারপর তারা যদি ফিরে যায়, তবে নিশ্চয় আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
২২৭. আর তারা যদি তালাক দিতে সংকল্প করে তবে তো আল্লাহ্‌ সব শোনেন, সব জানেন।
২২৮. তালাকপ্রাপ্তা নারীগণ তিন রজঃস্রাবকাল প্রতীক্ষায় থাকবে। তারা আল্লাহ্‌ পরকালে বিশ্বাসী হলে তাদের গর্ভে আল্লাহ্‌ যা সৃষ্টি করেছেন তা গোপন রাখা তাদের পক্ষে বৈধ নয়। আর এই সময়ের মধ্যে তাদের স্বামীদের তাদেরকে পুনরায় স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করার অধিকার আছে, যদি তারা আপসে মিলেমিশে থাকতে চায়। নারীদের তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার আছে যেমন আছে তাদের ওপর পুরুষদের, কিন্তু নারীদের ওপর পুরুষদের মর্যাদা আছে। আর আল্লাহ্‌ শক্তিমান তত্ত্বজ্ঞানী।

||রুকু ২৯||

২২৯. এ তালাক দুবার; তারপর স্ত্রীকে হয় ভালোভাবে রাখবে বা সদয়ভাবে বিদায় দেবে। আর স্ত্রীদেরকে যা-কিছু দিয়েছিলে তা ফেরত নেওয়া তোমাদের পক্ষে উচিত হবে না। তবে যদি তাদের দুজনের ভয় হয় যে তারা আল্লাহ্‌র সীমারেখা রক্ষা ক’রে চলতে পারবে না আর তোমরা যদি আশঙ্কা কর যে তারা আল্লাহ্‌র সীমারেখা রক্ষা ক’রে চলতে পারবে না, তবে স্ত্রী কোনোকিছুর বিনিময়ে নিষ্কৃতি পেতে চাইলে তাতে কারও কোনো পাপ নেই। এসব আল্লাহ্‌র সীমারেখা। অতএব, তোমরা এ-সীমা লঙ্ঘন কোরো না, আর যারা আল্লাহ্‌র সীমারেখা লঙ্ঘন করে তারাই অত্যাচারী।
২৩০. তারপর ঐ স্ত্রীকে যদি সে তালাক দেয় তবে যে-পর্যন্ত না ঐ স্ত্রী অন্য স্বামীকে বিবাহ করছে তার পক্ষে সে বৈধ হবে না। তারপর যদি সে (দ্বিতীয় স্বামী) তাকে তালাক দেয় তবে তাদের আবার মিলনে কারও কোনো দোষ নেই, যদি দুজনে ভাবে যে তারা আল্লাহ্‌র নির্দেশ বজায় রেখে চলতে পারবে। এসব আল্লাহ্‌র নির্ধারিত সীমারেখা; জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহ্‌ এগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন।
২৩১. আর যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দাও এবং তারা ইদ্দতকাল পূর্ণ করে, তখন তাদের যথাবিধি রেখে দেবে বা তাদেরকে ভালোভাবে বিদায় দেবে, তাদেরকে অত্যাচার বা তাদের ওপর বাড়াবাড়ির উদ্দেশ্যে আটক ক’রে রাখবে না। যে এমন করে সে নিজেরই ক্ষতি করে। আর তোমরা আল্লাহ্‌র নিদর্শনকে ঠাট্টাতামাশার বস্তু কোরো না; আর তোমাদের ওপর তিনি যে-অবদান কিতাব ও হিকমত অবতীর্ণ করেছেন তোমাদের উপদেশের জনু, তা স্মরণ করো। আর তোমরা আল্লাহ্‌কে ভয় করো ও জেনে রাখ যে, আল্লাহ্‌র সব বিষয়ই জানা।

||রুকু ৩০||

২৩২. আর তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দাও আর তারা তাদের ইদ্দতকাল পূর্ণ করতে থাকে তখন তারা যদি পরস্পর সম্মত হয়ে তাদের (পূর্বের) স্বামীদের বিধিমতো বিয়ে করতে চায় তবে তাদেরকে বাধা দেবে না। এভাবে তোমাদের মধ্যে যে-কেউ আল্লাহ্‌ ও পরকালে বিশ্বাস করে তাদেরকে উপদেশ দেওয়া হয়। এ তোমাদের জন্য শুদ্ধতম ও পবিত্রতম। আর আল্লাহ্‌ জানেন, তোমরা জান না।
২৩৩. আর মায়েরা তাদের সন্তানদেরকে পূর্ণ দুবছর বুকের দুধ দেবে, যদি কেউ বুকের দুধ পান করার সময় পূর্ণ করতে চায়। পিতার কর্তব্য যথাবিধি তাদের ভরণপোষণ করা। কাউকেই তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্বভার দেওয়া হয় না। কোনো জননীকে তার সন্তানের জন্য ও কোনো পিতাকে তার সন্তানের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে না। আর উত্তরাধিকারীদের জন্যও অনুরূপ বিধান। আর যদি পিতামাতা পরস্পর সম্মতি ও পরামর্শক্রমে দুই বছরের মধ্যেই দুধ ছাড়াতে চায় তবে তাদের কোনো দোষ হবে না। আর যদি তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে কোনো ধাত্রীর দুগ্ধ পান করাতে চাও, তাতেও তোমাদের কোনো দোষ হবে না যদি তোমরা তাদেরলে নির্ধারিত দেয় বিদ্গিমতো দাও। আল্লাহ্‌কে ভয় করো ও জেনে রাখো, তোমরা যা কর আল্লাহ্‌ তা দেখেন।
২৩৪. তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মারা যায়, তাদের স্ত্রীরা চার মাস দশদিন অপেক্ষা করবে। যখন তারা ইদ্দত পূর্ণ করবে তখন তারা নিজেদের জন্য কোনো বিধিমতো কাজ (বিবাহ) করলে তাতে তোমাদের কোনো পাপ হবে না। তোমরা যা কর, আল্লাহ্‌ তা ভালো করেই জানেন।
২৩৫. আর তোমরা যদি আভাসে-ইঙ্গিতে উক্ত নারীদেরকে বিয়ের প্রস্তাব কর বা অন্তরে গোপন রাখ, তাতে তোমাদের দোষ হবে না। আল্লাহ্‌ জানেন যে, তোমরা তাদের সম্বন্ধে আলোচনা করবে। কিন্তু বিধিমতো কথাবার্তা ছাড়া গোপনে তাদের কাছে তোমরা কোনো অঙ্গীকার কোরো না। নির্দিষ্ট সময় পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তোমরা বিয়ে সম্পন্ন করার সংকল্প কোরো না। আর জেনে রাখো, আল্লাহ্‌ তোমাদের মনোভাব জানেন। অতএব তাঁকে ভয় করো, আর জেনে রাখো, আল্লাহ্‌ তো ক্ষমা করেন, সহ্য করেন।

||রুকু ৩১||

২৩৬. স্ত্রীদেরকে স্পর্শ করার বা দেনমোহর ধার্য করার পূর্বে যদি তোমরা তাদেরকে তালাক দাও, তবে কোনো পাপ হবে না, কিন্তু তাদেরকে যথাসাধ্য উপযুক্ত খরচপত্র দিয়ো, সংগতিসম্পন্ন ব্যক্তি তার সাধ্যমতো ও গরিব তার সামর্থ্যমতো নিয়ম অনুযায়ী খরচপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। এ সত্যপরায়ণ লোকের পক্ষে কর্তব্য।
২৩৭. আর তোমরা যদি স্পর্শ করার পূর্বে স্ত্রীদেরকে তালাক দাও, অথচ দেনমোহর পূর্বেই ধার্য করে থাক তা হলে নির্দিষ্ট দেনমোহরের অর্ধেক তোমাদেরকে আদায় করতে হবে যদি না স্ত্রী বা যার হাতে বিবাহবন্ধন সে মাফ করে দেয়, আর মাফ করে দেওয়াই আত্মসংযমের কাছাকাছি। তোমরা নিজেদের মধ্যে সহৃদয়তার কথা ভুলে যেও না। নিশ্চয় তোমরা যা কর আল্লাহ্‌ তা দেখেন।
২৩৮. তোমরা নামাজের প্রতি যত্নবান হবে, বিশেষ ক’রে মাঝের নামাজ (আসরের নামাজ) সযত্নে রক্ষা করবে আর আল্লাহ্‌র সামনে বিনীত হয়ে দাঁড়াবে।
২৩৯. যদি তোমরা ভয় পাও তবে পথে চলতে বা আরোহী অবস্থায় (নামাজ পড়বে), পরে যখন তোমরা নিরাপদ হবে তখন আল্লাহ্‌কে স্মরণ করবে যেভাবে তিনি তোমদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা তোমরা জানতে না।
২৪০. আর তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মারা যায়, তারা তাদের স্ত্রীদের জন্য এই অসিয়ত করবে যে, তাদেরকে যেন এক বছর পর্যন্ত ভরণপোষণ দেওয়া হয় আর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া না হয়; কিন্তু যদি তারা বের হয়ে যায় তবে তারা নিজেদের জন্য তাদের অধিকারমতো যা করবে তাতে তোমাদের কোনো পাপ নেই। আল্লাহ্‌ তো শক্তিমান তত্ত্বজ্ঞানী।
২৪১. আর তালাকপ্রাপ্তা নারীদেরকে বিধিমতো ভরণপোষণ করা সাবধানিদের জন্য কর্তব্য।
২৪২. এভাবে আল্লাহ্‌ তাঁর সকল নিদর্শন স্পষ্ট ক’রে বয়ান করেন, যাতে তোমরা বুঝতে পার।

||রুকু ৩২||

২৪৩. তুমি কি তাদেরকে দেখ নি, যারা মৃত্যুভয়ে হাজারে হাজারে নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে গিয়েছিল? তারপর আল্লাহ্‌ তাদের বলেছিলেন, ‘তোমাদের মৃত্যু হোক’। পরে তিনি তাদেরকে জীবিত করলেন। আল্লাহ্‌ তো মানুষকে অনুগ্রহ করেন; কিন্তু অনেক মানুষই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।
২৪৪. তোমরা আল্লাহ্‌র পথে জিহাদ করো। আর জেনে রাখো যে আল্লাহ্‌ সব শোনেন, সব জানেন।
২৪৫. কে সে যে আল্লাহ্‌কে উত্তম ঋণ দেবে? আল্লাহ্‌ তার জন্য এ বহুগুণে বাড়িয়ে দেবেন আর আল্লাহ্‌ই জীবিকা কমান ও বাড়ান এবং তোমাদেরকে তাঁরই কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
২৪৬. তুমি কি মুসার পরবর্তী বনি-ইসরাইল প্রধানদেরকে দেখ নি? যখন তারা নিজেদের নবিকে বলেছিল, ‘আমাদের জন্য একজন রাজা ঠিক করো যাতে আমরা আল্লাহ্‌র পথে যুদ্ধ করতে পারি’, সে বলল, ‘যদি তোমাদেরকে যুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়, তবে তোমরা কি মনে কর তখন তোমরা যুদ্ধ করবে না?’ তারা বলল, ‘যখন নিজেদের ঘরবাড়ি ও সন্তানসন্ততি থেকে দূরে পড়ে আছি তখন কেন আমরা আল্লাহ্‌র পথে যুদ্ধ করব না?’ তারপর যখন তাদের ওপর যুদ্ধের বিধান দেওয়া হল, তখন তাদের মুষ্টিমেয় কয়েকজন ছাড়া বেশির ভাগই পৃষ্ঠপ্রদর্শন করল। আর আল্লাহ্‌ সীমালঙ্ঘঙ্কারীদেরকে ভালো ক’রেই জানেন।
২৪৭.তাদের নবি তাদেরকে বলেছিল, ‘আল্লাহ্‌ তালুতকে তোমাদের রাজা নিযুক্ত করেছেন’, তারা বলল, ‘আমরা যখন কর্তৃত্ব করার জন্য বেশি যোগ্য তখন সে কেমন ক’রে আমাদের ওপর কর্তৃত্ব করবে, আর প্রচুর ধনসম্পদও তো তাকে দেওয়া হয় নি’। সে (নবি) বলল, ‘আল্লাহ্‌ই তাকে মনোনীত করেছেন, আর তিনি তাকে দেহে ও মনে সমৃদ্ধ করেছেন। অবশ্যই আল্লাহ্‌ যাকে ইচ্ছা তাঁর কর্তৃত্ব দান করেন। আল্লাহ্‌ প্রাচুর্যময় তত্ত্বজ্ঞানী।
২৪৮. তাঁর কর্তৃত্বের লক্ষণ এই যে, তোমাদের কাছে একটা তাবুত (সিন্দুক) আসবে যাতে তোমাদের জন্য তোমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে প্রশান্তি ও কিছু জিনিস যা মুসা ও হারুনের বংশধররা রেখে গিয়েছে, ফেরেশতারা সেটা বয়ে নিয়ে আসবে। নিশ্চয় এতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে, যদি তোমরা বিশ্বাস কর’।

||রুকু ৩৩||

২৪৯. তারপর তালুত যখন সসৈন্যে অভিযানে বের হল তখন সে বলল, ‘আল্লাহ্‌ একটা নদী দিয়ে তোমাদেরকে পরীক্ষা করবেন। তাই যে-কেউ সেই নদী থেকে পানি পান করবে সে আমার দলে থাকবে না, আর যে ঐ পানি পান করবে না সে আমার দলে থাকবে। এ ছাড়া যে-কেউ তার হাত দিয়ে এক আঁজলা পানি নেবে সে-ও’। কিন্তু (যখন তারা নদীর কাছে গেল) তাদের অল্প কয়েকজন ছাড়া বেশির ভাগ লোকই তার থেকে পানি পান করল। যখন সে (তালুত) ও তার সাথে যারা বিশ্বাস করেছিল তারা তা পার হল তখন তারা বলল, ‘আমাদের (এমন) শক্তি ও সাধ্য নেয় যে, আজ জালুত ও তার সৈন্যর সাথে যুদ্ধ করি’। কিন্তু যারা আল্লাহ্‌র সাথে সাক্ষাৎকারে বিশ্বাস করেছিল তারা বলল, ‘আল্লাহ্‌র অনুমতিক্রমে কত ছোট দল বড় দলকে পরাস্ত করেছে’। আর আল্লাহ্‌ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন।
২৫০. তারা যখন জালুত ও তার সৈন্যবাহিনীর সম্মুখীন হল তখন তারা বলল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ধৈর্য দাও, আমাদের পা অবিচলিত রাখো ও অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করো’।
২৫১. সুতরাং তখন তারা আল্লাহ্‌র অনুমতিক্রমে তাদেরকে পরাজিত করল। দাউদ জালুতকে বধ করল ও আল্লাহ্‌ তাকে কর্তৃত্ব ও হিকমত দান করলেন এবং যা তিনি ইচ্ছা করলেন তা তাকে শিক্ষা দিলেন। আল্লাহ্‌ যদি মানবজাতির এক দলকে অন্য দল দিয়ে দমন না করতেন, তবে নিশ্চয় পৃথিবী ফ্যাশাদে পূর্ণ হয়ে যেত। কিন্তু আল্লাহ্‌ বিশ্বজগতের প্রতি মঙ্গলময়।
২৫২. এ সবই আল্লাহ্‌র নিদর্শন যা আমি সঠিকভাবে তোমার কাছে আবৃত্তি করছি আর তুমি তো রসুলদের একজন।
২৫৩. এই রসুলদের মধ্যেও কাউকে কারও ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের মধ্যে কারও সাথে আল্লাহ্‌ কথা বলেছেন, আর কাউকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। আমি মরিয়মপুত্র ঈসাকে স্পষ্ট প্রমাণ দিয়েছি এবং পবিত্র আত্মা (জিবরাইল) দ্বারা তার শক্তি বৃদ্ধি করেছি। আর যদি আল্লাহ্‌ ইচ্ছা করতেন, তবে তাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ আসার পরে, তারা নিজেদের মধ্যে ঝগড়াবিবাদ করত না। কিন্তু তাদের মধ্যে মতভেদ ঘটল, ফলে তাদের কিছু বিশ্বাস করল আর কিছু অবিশ্বাস করল। আল্লাহ্‌ ইচ্ছা করলে তারা যুদ্ধবিগ্রহে লিপ্ত হ’ত না, কিন্তু আল্লাহ্‌ যা ইচ্ছা তা করেন।

||রুকু ৩৪||

২৫৪. হে বিশ্বাসীগণ! আমি তোমাদেরকে যে জীবনোপকরণ দিয়েছি তার থেকে ব্যয় করো সেই দিন আসার পূর্বে যেদিন কোনো কেনাবেচা, বন্ধুত্ব বা সুপারিশ থাকবে না। অবিশ্বাসীরাই জুলুম করে।
২৫৫. আল্লাহ্‌ - তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, অনাদি। তাঁকে তন্দ্রা বা নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশ ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে সবই তাঁর। কে আছে যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের (মানুষের) সামনে ও পিছনে যা-কিছু আছে তিনি তা জানেন। তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ত্ব করতে পারে না। আকাশ ও পৃথিবীব্যাপী তাঁর আসন, আর তাদের রক্ষণাবেক্ষণে তিনি ক্লান্ত হন না। তিনি অতুচ্চ্য মহামহিম।
২৫৬. ধর্মে কোনো জবরদস্তি নেই। সৎপথ ভ্রান্তপথ থেকে সুস্পষ্ট হয়েছে। সুতরাং যে তাগুত (অসত্য দেবতা)-কে অস্বীকার করবে ও আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস করবে সে এমন এক শক্ত হাতল ধরবে যা কখনও ভাঙবে না। আল্লাহ্‌ সব শোনেন, সব জানেন।
২৫৭. আল্লাহ্‌ তাদের অভিভাবক যারা বিশ্বাস করে। তিনি তাদের অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে যান। আর যারা অবিশ্বাস করে তাদের অভিভাবক তাগুত (অসত্য দেবতা), এরা তাদের আলো থেকে অন্ধকারে নিয়ে যায়। ওরাই বাস করবে আগুনে যেখানে তারা থাকবে চিরকাল।

||রুকু ৩৫||

২৫৮. তুমি কি সে-ব্যক্তি (নমরুদ)-র কথা ভেবে দেখ নি যে ইব্রাহিমের সাথে তার প্রতিপালক সম্বন্ধে তর্ক করেছিল, যেহেতু আল্লাহ্‌ তাকে রাজত্ব দিয়েছিলেন? যখন ইব্রাহিম বলল, ‘আমার প্রতিপালক তিনি যিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান,’ সে বলল, ‘আমিও তো জীবন দান করি ও মৃত্যু ঘটাই’। ইব্রাহিম বলল, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সূর্যকে পূর্বদিক থেকে ওঠান, (দেখি) তুমি তাকে পশ্চিম দিক থেকে ওঠাও’। তখন সে (নমরুদ) হতভম্ব হয়ে গেল। আর আল্লাহ্‌ জুলুমকারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।
২৫৯. আবার সেই ব্যক্তির কথা স্মরণ করো, যে এমন এক শহরে পৌঁছেছিল যা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। সে বলল, ‘ মৃত্যর পর কীরূপে আল্লাহ্‌ একে জীবিত করবেন?’ তখন তাকে আল্লাহ্‌ একশত বৎসর মৃত রাখলেন, তারপর তাকে পুনর্জীবিত করলেন। আল্লাহ্‌ বললেন, ‘তুমি মৃত অবস্থায় কতক্ষণ ছিলে?’ সে বলল, ‘এক দিন বা এক দিনেরও কিছু কম!’ তিনি বললেন, ‘না, একশত বৎসর ছিলে। আর লক্ষ করো তোমার খাদ্যসামগ্রী ও পানীয় বস্তু আর তমার গাধাটাকে - ওসব অবিকৃত রয়েছে আর আমি তোমাকে মানবজাতির জন্য নির্দশনস্বরূপ করব। আর (গাধার) হাড়গুলোর দিকে লক্ষ করো, কিভাবে সেগুলোকে আমি জোড়া দিই ও মাংস দিয়ে ঢেকে দিই’। যখন এ তার কাছে স্পষ্ট হল তখন সে বলে উঠল, ‘আমি জানি, আল্লাহ্‌ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান’।
২৬০. আরও যখন ইব্রাহীম বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দেখাও কীভাবে তুমি মৃত কে জীবিত কর’। তিনি বললেন, তুমি কি এ বিশ্বাস কর না?’ সে বলল, ‘নিশ্চয় করি, তবে কেবল এ আমার মনকে বুঝ দেওয়ার জন্য’। তিনি বললেন, ‘তবে চারটা পাখি ধরে ওদেরকে বশ করো। তারপর ওদের একেক অংশ পাহাড়ে রেখে আসো। তারপর ওগুলোকে ডাক দাও। ওগুলো দৌড়ে তোমার কাছে আসবে। জেনে রাখো যে, আল্লাহ্‌ প্রবল পরাক্রমশালী তত্ত্বজ্ঞানী’।

||রুকু ৩৬||

২৬১. যারা আল্লাহ্‌র পথে আপন ধনসম্পদ ব্যয় করে, তাদের উপমা একটি শস্যবীজের মতো যা থেকে সাতটি শিষ জন্মায়, প্রতিটি শিষে থাকে একশো দানা। আর আল্লাহ্‌ যাকে ইচ্ছা বহুগুণে বাড়িয়ে দেন। আল্লাহ্‌ প্রাচুর্যময় সর্বজ্ঞ।
২৬২. যারা আল্লাহ্‌র পথে আপন ধনসম্পদ ব্যয় করে আর যা ব্যয় করে তার কথা বলে বেড়ায় না ও (দান করে) কষ্টো দেয় না, তাদের পুরস্কার রয়েছে তাদের প্রতিপালকের কাছে। তাদের কোনো ভয় নেই ও তারা দুঃখও পাবে না।
২৬৩. যে-দানের পর কষ্ট দেওয়া হয় তার চেয়ে মিষ্টি কথা বলা ও ক্ষমা করা ভালো। আল্লাহ্‌ অভাবমুক্ত, (তিনি) পরম সহনশীল।
২৬৪. হে বিশ্বাসীগণ! দানের কথা প্রচার ক’রে ও কষ্ট দিয়ে (খোঁটা দিয়ে) তোমরা তোমাদের দানকে ঐ লোকের মতো নষ্ট কোরো না যে নিজের ধন লোকদেখানোর জন্য ব্যয় ক’রে এবং আল্লাহ্‌ ও পরকালে বিশ্বাস করে না। তার উপমা একটি শক্ত পাথর যার ওপর কিছু মাটি থাকে, পরে তার ওপর প্রবল বৃষ্টি প’ড়ে তাকে মসৃণ ক’রে ফেলে। যা তারা উপার্জন করেছে তার কিছুই তারা তাদের কাজে লাগাতে পারবে না। আল্লাহ্‌ তো অবিশ্বাসী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।
২৬৫. অপরদিকে যারা আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য ও নিজের হৃদয়কে দৃঢ় করার জন্য তাদের ধনসম্পদ দান করে, তাদের তুলনা উঁচু জায়গার একটা বাগান যেখানে মুষলধারে বৃষ্টি হয় ও তার ফলে ফলমূল দ্বিগুণ জন্মে। আর মুষলধারে বৃষ্টি না হলে শিশিরই (সেখানে) যথেষ্ট। তোমরা যা কর আল্লাহ্‌ তো তা ভালো ক’রেই দেখেন।
২৬৬. তোমাদের কেউ কি চায় যে তার খেজুর ও আঙ্গুরের একটা বাগান থাকবে যার নিচে নদী বইবে ও যেখানে নানারকম ফলমূল থাকবে, আর যখন সে বুড়ো হয়ে পড়বে ও তার অসহায় দুর্বল ছেলেমেয়েও থাকবে (তখন) সেখানে এক অগ্নিক্ষরা ঘূর্ণিঝড় হানা দেবে আর তা জ্বলে-পুড়ে খাক হয়ে যাবে? এভাবে আল্লাহ্‌ তাঁর সব নির্দশন তোমাদের জন্য স্পষ্ট ক’রে প্রকাশ করেন যাতে তোমরা বুঝতে পার।

||রুকু ৩৭||

২৬৭. হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা যা উপার্জন কর ও আমি জমি হতে তোমাদের জন্য উৎপাদন ক’রে দিই, তার থেকে ভালো যা তা দান করো। মন্দ জিনিস দান করার ইচ্ছা কোরো না, কারণ তোমরা তো তা নাও না, যদিনা তোমরা চোখ বুজে থাক। আর জেনে রাখ আল্লাহ্‌র অভাব নেই, প্রশংসা তাঁরই।
২৬৮. শয়তান তোমাদেরকে দারিদ্র্যের ভয় দেখায় ও খারাপ কাজে উসকানি দেয়, অপর দিকে আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে তাঁর ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। আল্লাহ্‌ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।
২৬৯. তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমত (তত্ত্বজ্ঞান) দান করেন। আর যাকে হিকমত দেওয়া হয় তাকে তো প্রচুর কল্যাণ দান করা হয়। আসলে, কেবল বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরাই উপদেশ গ্রহণ ক’রে থাকে।
২৭০. যা-কিছু তোমরা ব্যয় কর বা যা-কিছু তোমরা মানত কর আল্লাহ্‌ তা জানেন। আর কেউ জুলুমকারীকে সাহায্য করে না।
২৭১. তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান কর, তবে তা ভালো। আর যদি তা গোপনে কর ও অভাবীকে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও ভালো। আর এর জন্য তিনি তোমাদের কিছু কিছু পাপ মোচন করবেন। তোমরা যা কর আল্লাহ্‌ তো তা জানেন।
২৭২.তাদের সৎপথ গ্রহণের দায় তোমার নয়, বরং আল্লাহ্‌ যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন। আর তোমরা যা-কিছু দান কর, আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্যই তা কর। আর যা-কিছু তোমরা দান কর, তার পুরস্কার পুরো ক’রে দেওয়া হবে। তোমাদের ওপর অন্যায় করা হবে না।
২৭৩. (এই দান) অভাবীদের প্রাপ্য যারা আল্লাহ্‌র পথে এমনভাবে ব্যস্ত যে জীবিকার সন্ধানে ঘোরাফেরা করতে পারে না। তারা কিছু চায় না ব’লে অবিবেচক লোকেরা ভাবে তাদের অভাব নেই। তুমি তাদের লক্ষণ দেখে চিনতে পারবে। তারা লোকের কাছে নাছোড়বান্দার মতো ভিক্ষা করে না। তোমরা যা-কিছু দান করো, আল্লাহ্‌ তা ভালো ক’রেই জানেন।


||রুকু ৩৮||

২৭৪. যে-সকল লোক রাত্রিতে বা দিনে গো পনে বা প্রকাশ্যে তাদের ধনসম্পদ দান করে, তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে পুরস্কার রয়েছে। তাই তাদের কোনো ভ্য় নেই ও তারা কোনো দুঃখও পাবে না।
২৭৫. যারা সুদ খায় তারা সেই লোকের মতো দাঁড়াবে যাকে শয়তান স্পর্শ ক’রে পাগল ক’রে দিয়েছে। এ এজন্য যে তারা বলে, ‘বেচাকেনা তো সুদের মতো’। অথচ আল্লাহ্‌ বেচাকেনাকে হালাল ও সুদকে হারাম করেছেন। যার কাছে তার প্রতিপালকের উপদেশ এসেছে সে বিরত হয়েছে। অতীতে যা হয়েছে তা তারই এবং তার ব্যাপার আল্লাহ্‌র এখতিয়ারে! আর যারা আবার (সুদ) নিতে আরম্ভ করবে তারাই আগুনে বাস করবে।সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।
২৭৬. আল্লাহ্‌ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন ও দানকে বৃদ্ধি ক’রে দেন। আল্লাহ্‌ কোনো অকৃতজ্ঞ পাপীকে ভালোবাসেন না।
২৭৭. যারা বিশ্বাস করে ও সৎকার্য করে এবং নামায কায়েম করে ও জাকাত দেয়, তাদের পুরস্কার আছে তাদের প্রতিপালকের কাছে। তাদের কোনো ভয় নেই, আর তারা কোনোরকম দুঃখও পাবে না।
২৭৮. হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা বিশ্বাসী হও, তোমরা আল্লাহ্‌কে ভয় করো ও সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও।
২৭৯. যদি তোমরা না ছেড়ে দাও তবে জেনে রাখো যে, এ আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসুলের সাথে যুদ্ধ। কিন্তু যদি তোমরা তোবা কর, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই। তোমরা জুলুম করো না ও জুলুম হতেও দিয়ো না।
২৮০. যদি (খাতক) অভাবী হয়, তবে তাকে সচ্ছল হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দাও। আর যদি ঋণ মাফ ক’রে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও ভালো, যদি তোমরা তা জানতে!
২৮১. আর তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন তোমাদেরকে আল্লাহ্‌র কাছে ফিরিয়ে আনা হবে তারপর প্রত্যেককে তার কর্মফল পুরোপুরি প্রদান করা হবে। আর তাদের ওপর কোনো জুলুম করা হবে না।

||রুকু ৩৯||

২৮২. হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা যখন একে অন্যের সাথে ঋণসংক্রান্ত কারবার করবে, তখন তা লিখে রেখো, আর তোমাদের মধ্যে কোনো লেখক যেন ন্যায্যভাবে লিখে দেয়। লেখক লিখতে অস্বীকার করবে না। যেহেতু আল্লাহ্‌ তাকে শিক্ষা দিয়েছেন, সুতরাং সে যেন লেখে। আর ঋণগ্রহীতা যেন লেখার বিষয় ব’লে দেয় ও তার প্রতিপালক আল্লাহ্‌কে ভয় করে, আর কিছু যেন কম না লেখায়।কিন্তু ঋণগ্রহীতা যদি নির্বোধ বা দুর্বল হয় বা লেখার বিষয়বস্তু ব’ল দিতে না পারে, তবে যেন তার অভিভাবক ন্যায্যভাবে লেখার বিষয়বস্তু ব’লে দেয়। আর তোমাদের পছন্দমতো দুইজন পুরুষকে সাক্ষী রাখবে, আর যদি দুইজন পুরুষ না থাকে, তবে একজন পুরুষ ও দুইজন স্ত্রীলোক। স্ত্রীলোকদের মধ্যে একজন ভুল করলে তাদেরকে অন্যজন স্মরণ করিয়ে দেবে। সাক্ষীদেরকে যখন ডাকা হবে তখন যেন তারা অস্বীকার না করে। আর এ (ঋণ) কম হোক বা বেশি হোক, মেয়াদ লিখতে তোমরা বিরক্ত হয়ো না। আল্লাহ্‌র কাছে এ বেশি ন্যায্য ও প্রমাণের জন্য বেসি পাকাপোক্ত; আর তোমাদের মধ্যে যেন সন্দেহ না জাগে তার জন্য প্রশস্ত। কিন্তু তোমরা পরস্পর যে-ব্যাবসার নগদ আদানপ্রদান কর তা তোমরা না লখে রাখলে কোনো দোষ নেই। তোমরা যখন পরস্পরের মধ্যে বেচাকেনা কর তখন সাক্ষী রেখো। লেখক ও সাক্ষী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, যদি তোমরা তাদের ক্ষতিগ্রস্ত কর তবে এ হবে তোমাদের জন্য অন্যায়। তোমরা আল্লাহ্‌কে ভয় করো। আল্লাহ্‌ই তো তোমাদেরকে সিক্ষা দেন। আল্লাহ্‌ সকল বিষয়ে ভালো করেই জানেন।
২৮৩. যদি তোমরা সফরে থাক এবং কোনো লেখক না পাও তবে বন্ধক রাখা বৈধ। তোমরা একে অপরকে বিশ্বাস করলে জাকে বিশ্বাস করা হয় সে যেন আমান্ত ফেরত দেয় এবং তার প্রতিপালক আল্লাহ্‌কে যেন ভয় করে। আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন কোরো না। প্রকৃতপক্ষে যে তা গোপন করে তার অন্তর তো অপরাধ করে। তোমরা যা কর আল্লাহ্‌ তা ভালো করেই জানেন।

||রুকু ৪০||

২৮৪. আকাশে ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে সবই আল্লাহ্‌র। তোমাদের মনে যা আছে তা প্রকাশ কর বা গোপন রাখ, আল্লাহ্‌ তার হিসাব তোমাদের কাছ থেকে নেবেন। তারপর যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন ও যাকে খুশি শাস্তি দেবেন। আল্লাহ্‌ তো সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
২৮৫. তার প্রতিপালকের কাছ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে রসেল তার ওপর বিশ্বাস করে আর বিশ্বাসীরাও। তারা সকলেই বিশ্বাস করে আল্লাহ্‌য়, তাঁর ফেরেশতাগণে, তাঁর কিতাবগুলোয় ও তাঁর রসুলদের ওপর (এবং তারা বলে) ‘আমরা তাঁর রসুলদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না’। আর তারা বলে, ‘আমরা শুনি ও মানি। হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা তোমার নিকট ক্ষমা চাই, আর তোমার কাছেই আমরা ফিরে যাব’।
২৮৬. আল্লাহ্‌ কাউকেই তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্বভার দেন না। ভালো ও মন্দ যে, যা উপার্জন করবে তা তারই। (তোমরা প্রার্থনা করো) ‘হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমরা ভুলে যাই বা ভুল করি তবে তুমি আমাদেরকে অপরাধী কোরো না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পূর্ববর্তীদেরকে যে ভারী দায়িত্ব দিয়েছিলে আমাদের ওপর তেমন দায়িত্ব দিয়ো না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি এমন ভার আমাদের ওপর দিয়ো না যা বইবার শক্তি আমাদের নেই। আর আমাদের পাপ মোচন করো, আর আমাদেরকে ক্ষমা করো, আর আমাদের ওপর দয়া করো, তুমি আমাদের অভিভাবক। অতএব, অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে তুমি আমাদের জয়যুক্ত করো’।

অনুবাদটি নেওয়া হয়েছে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান অনুবাদিত 'কোরানশরিফ সরল বঙ্গানুবাদ' থেকে।