ইউনুস
উইকিসংকলন থেকে
সুরা ইউনুস
রুকুঃ ১১ আয়াতঃ ১০৯
পরম করুণাময় পরম দয়াময় আল্লাহর নামে
||১||
- ১। আলিফ-লাম-রা। এগুলো জ্ঞানময় কিতাবের আয়াত।
- ২। মানুষের জন্য এ এক আশ্চর্য বিষয় যে, আমি তাদেরই একজনের কাছে প্রত্যাদেশ পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তুমি মানুষকে সর্তক করবে ও বিশ্বাসীদেরকে সুসংবাদ দেবে : তাদের প্রতিপালকের কাছে রয়েছে তাদের জন্য বড় মর্যাদা। অবিশ্বাসীরা বলে, ‘এ তো স্পষ্ট এক জাদুকর’।
- ৩। তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ্, যিনি আকাশ ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেন, তারপর তিনি আরশে সমাসীন হন। তিনি সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ সুপারিশ করতে পারে না। তিনিই আল্লাহ্, তোমাদের প্রতিপালক। সুতরাং তাঁর উপাসনা করো। তোমরা কি বোঝার চেষ্টা করবে না?
- ৪। তাঁরই কাছে তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন, আল্লাহ্র প্রতিশ্রুতি সত্য। সৃষ্টিকে তিনি অস্তিত্বে আনেন, তারপর তার পুনরাবর্তন ঘটাবেন যারা বিশ্বাসী ও পূণ্যবান তাদেরকে ন্যায়বিচারের সাথে কর্মফল দেওয়ার জন্য। আর তারা অবিশ্বাস করত ব’লে অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে অতি উষ্ণ পানীয় ও নিদারুণ শাস্তি।
- ৫। তিনি সূর্যকে তেজস্কর ও চন্দ্রকে জ্যোতির্ময় করেছেন এবং তার কক্ষপথ নির্দিষ্ট করেছেন যাতে তোমরা বৎসরগণনা ও কালনির্ণয়ের জ্ঞান লাভ করতে পার। আল্লাহ্ নিরর্থক এসব সৃষ্টি করেন নি। এসব নির্দেশ তিনি জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য বিশদভাবে বয়ান করেন।
- ৬। দিন ও রাত্রির পরিবর্তনে এবং আল্লাহ্ আকাশ ও পৃথিবীতে যা সৃষ্টি করেছেন তাতে সাবধানি সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।
- ৭। যারা আমার সাক্ষাতের ভয় করে না ও পার্থিব জীবনেই তুষ্ট ও তাতেই নিশ্চিন্ত থাকে আর যারা আমার নিদর্শন সম্পর্কে কোনো খবর রাখে না,
- ৮। তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদের আগুনেই বাস (করতে হবে)।
- ৯। যারা বিশ্বাসী ও সৎকর্মপরায়ণ তাদের প্রতিপালক তাদের বিশ্বাসের জন্য তাদের পথনির্দেশ করবেন জান্নাতুন নাঈম (সুখকর উদ্যান)-এ যার পাদদেশে নদী বইবে। সেখানে তাদের ধ্বনি হবে ‘হে আল্লাহ্! তুমি মহান, পবিত্র’।
- ১০। আর সেখানে তাদের অভিবাদন হবে, ‘সালাম (শান্তি)’ আর তাদের শেষ ধ্বনি হবে ‘সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ্র’।
||২||
- ১১। আল্লাহ্ যদি মানুষের অকল্যাণ ত্বরান্বিত করতে চাইতেন যেভাবে তারা নিজেদের কল্যাণ ত্বরান্বিত করতে চায়, তবে তারা ধ্বংস হয়ে যেত। তাই যারা আমার সাক্ষাতের ভয় করে না তাদের আমি অবাধ্যতার জন্য উদ্ভ্রান্তের ন্যায় ঘুরে বেড়াতে দিই।
- ১২। আর মানুষকে যখন দুঃখদৈন্য স্পর্শ করে তখন সে শুয়ে, বসে বা দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকে। তারপর যখন আমি তার দুঃখদৈন্য দূর করি সে তার আগের পথ ধরে, তাকে যে-দুঃখদৈন্য স্পর্শ করেছিল তার জন্য যেন সে আমাকে ডাকেই নি। যারা অপচয় করে তাদের কর্ম তাদের কাছে এভাবে আকর্ষণীয় মনে হয়।
- ১৩। তোমাদের পূর্বে বহু মানবগোষ্ঠীকে আমি তো ধ্বংস করেছিলাম যখন তারা সীমালঙ্ঘন করেছিল। স্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে তাদের কাছে তাদের রসুল এসেছিল, কিন্তু তারা বিশ্বাস করার জন্য প্রস্তুত ছিল না। এভাবে আমি অপরাধী সম্প্রদায়কে প্রতিফল দিয়ে থাকি।
- ১৪। তারপর, তোমরা কী কর তা দেখার জন্য, আমি তাদের পরে পৃথিবীতে তোমাদেরকে প্রতিনিধি করেছি।
- ১৫। যখন আমার স্পষ্ট আয়াত তাদের কাছে পড়া হয় তখন যারা আমার সাক্ষাতের ভয় করে না তারা বলে, ‘এ ছাড়া অন্য এক কোরান আনো বা একে বদলে দাও’। বলো, ‘নিজে থেকে এ পরিবর্তন করা আমার কাজ নয়। আমার ওপর যা প্রত্যাদেশ হয় আমি তারই অনুসরণ করি। আমি আমার প্রতিপালকের অবাধ্যতা করলে আমার ভয় হয় মহাদিনের শাস্তির’,
- ১৬। বলো, ‘আল্লাহ্র তেমন ইচ্ছা থাকলে আমি তোমাদের কাছে এ পড়তাম না, আর তিনি তোমাদেরকে এ-বিষয়ে জানাতেন না। আমি তো এর আগে তোমাদের মধ্যে দীর্ঘকাল কাটিয়ে দিলাম, তবুও কি তোমরা বুঝবে না?’
- ১৭। যে-ব্যক্তি আল্লাহ্ সম্পর্কে মিথ্যা বানায় বা আল্লাহ্র নিদর্শনকে প্রত্যাখান করে তার চেয়ে বড় সীমালঙ্ঘনকারী আর কে? অপরাধীরা তো সফল হয় না।
- ১৮। ওরা আল্লাহ্ ছাড়া যার উপাসনা করে তা তাদের ক্ষতি করে না, উপকারও না। ওরা বলে, ‘এগুলো আল্লাহ্র কাছে আমাদের সুপারিশকারী’। বলো, ‘তোমরা কি আল্লাহ্কে আকাশ ও পৃথিবীর এমন কিছুর সংবাদ দেবে যা তিনি জানেন না? তিনি পবিত্র, মহান’। আর তারা যাকে শরিক করে তিনি তার ঊর্ধ্বে।
- ১৯। মানুষ ছিল এক জাতি, পরে তারা মতভেদ সৃষ্টি করে। তোমার প্রতিপালকের পূর্ব ঘোষণা না থাকলে তারা যে-বিষয়ে মতভেদ ঘটায় তার মীমাংসা তো হয়ে যেত।
- ২০। ওরা বলে, ‘তার কাছে তার প্রতিপালকের কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ হয় না কেন?’ বলো, ‘অদৃশ্যের জ্ঞান তো কেবল আল্লাহ্রই। অতেব তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমি তোমাদের সঙ্গে প্রতীক্ষা করছি’।
||৩||
- ২১। আর আমি মানুষকে তাদের দুঃখদৈন্য স্পর্শ করার পর অনুগ্রহের আস্বাদ দিলে তারা তখনই আমার নিদর্শনকে উপহাস করে। বলো, ‘উপহাসের শাস্তিদানে আল্লাহ্ আরও তৎপর’। তোমরা যে-উপহাস কর তা আমার ফেরেশতারা লিখে রাখে।
- ২২। তিনি তোমাদেরকে জলেস্থলে যাতায়াত করান; আর তোমরা যখন নৌকায় ওঠ, আর (নৌকাগুলো) আরোহী নিয়ে অনুকূল বাতাসে খুশিতে চলতে থাকে, তারপর যখন নৌকার তাদের ওপর ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায় এবং সব দিক থেকে ঢেঊ আসতে থাকে এবং তাদের মনে হয় তারা তার দ্বারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, তখন তারা, তাঁর আনুগত্যে, বিশুদ্ধচিত্তে আল্লাহ্কে ডাকে, ‘তুমি এর থেকে আমাদেরকে বাঁচালে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের শামিল হব’।
- ২৩। তারপর তিনি যখনই তাদেরকে বিপদমুক্ত করেন তখনই তারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে দৌরাত্মো লিপ্ত হয়। হে মানুষ! তোমাদের দৌড়াত্ম্য তো তোমাদের নিজেদের ওপরই। পার্থিব জীবনের সুখ ভোগ করে নাও, পরে আমারই কাছে তোমরা ফিরে আসবে। তখন আমি তোমাদেরকে জানিয়ে দেব তোমরা যা করতে।
- ২৪। পার্থিব জীবনের দৃষ্টান্ত বৃষ্টির মতো যা আমি আকাশ থেকে বর্ষণ করি ও যা দিয়ে মাটির গাছপালা ঘন হয়ে ওঠে, যার থেকে মানুষ ও জীবজন্তু আহার পায়। তারপর যখন জমি তার শোভা ধারণ করে ও নয়ন জুড়ায় আর ওর মালিকরা মনে করে এ তাদের আয়ত্তে তখন দিনে বা রাত্রিতে আমার নির্দেশ এসে পড়ে; আর আমি তা এমনভাবে নিমূর্ল করে দিই, যেন এর আগে তার কোনো অস্তিত্বই ছিল না। এভাবে আমি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলী পরিষ্কার করে বয়ান করি।
- ২৫। আল্লাহ্ দারুসসালাম (শান্তির আবাস)-এর দিকে ডাক দেন আর যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন।
- ২৬। যারা ভালো কাজ করে তাদের জন্য আছে মঙ্গল ও আরও কিছু। কালিমা ও হীনতা ওদের মুখকে আচ্ছন্ন করবে না। ওরাই হবে জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে ওরা থাকবে চিরকাল।
- ২৭। আর যারা মন্দ কাজ করে তাদের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ, আর তাদেরকে হীনতা আচ্ছন্ন করবে; আল্লাহ্র কাছ থেকে কেউ ওদেরকে রক্ষা করার থাকবে না। ওদের মুখ যেন অন্ধকার রাতের আস্তরণে ঢাকা। ওরা অগ্নির অধিবাসী, সেখানে ওরা থাকবে চিরকাল।
- ২৮। আর যেদিন আমি ওদেরকে সকলকে একত্র করে অংশীবাদীদেরকে বলব, ‘তোমরা ও তোমরা যাদেরকে শরিক করেছিলে তারা নিজের নিজের জায়গায় থাকো’। আমি ওদের একজনকে আর-একজনের কাছ থেকে পৃথক করে দেব। আর ওরা যাদেরকে শরিক করেছিল তারা বলবে, ‘তোমরা তো আমাদের উপাসনা করতে না।
- ২৯। আল্লাহ্ই আমাদের ও তোমাদের মধ্যকার ব্যাপারে সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট। তোমরা যে আমাদের উপাসনা করতে এ-বিষয়ে আমরা তো খেয়াল করি নি’।
- ৩০। সেদিন তাদের প্রত্যেককে তার পূর্ব কৃতকর্ম সম্বন্ধে জানানো হবে ও তাদের প্রকৃত অভিভাবক আল্লাহ্র কাছে তাদেরক ফিরিয়ে আনা হবে; আর তাদের বানানো মিথ্যা তাদের কাছ থেকে স’রে যাবে।
||৪ ||
- ৩১। বলো, ‘কে তোমাদেরকে আকাশ ও পৃথিবী থেকে জীবনের উপকরণ সরবরাহ করেন, বা শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি কার কর্তৃত্বাধীন, কে মৃত থেকে জীবিত বের করেন আর সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন?’ তখন তারা বলবে, ‘আল্লাহ্’। বলো, ‘তবুও কি তোমরা সাবধান হবে না?’
- ৩২। তিনিই আল্লাহ্, তোমাদের সত্য প্রতিপালক। সত্য ত্যাগ করার পর বিভ্রান্তি ছাড়া আর কী থাকে? সুতরাং তোমরা কোথায় চালিত হচ্ছ?
- ৩৩। এভাবে সত্যত্যাগীদের সম্পর্কে তোমার প্রতিপালকের এ-বাণী ‘তারা বিশ্বাস করবে না’, সত্য প্রতিপন্ন হয়েছে।
- ৩৪। বলো, ‘তোমরা যাদেরকে শরিক কর তাদের মধ্যে কি কেউ আছে, যে সৃষ্টিকে অস্তিত্বে এনে পরে তার পুনরাবর্তন ঘটাতে পারে? বলো, ‘আল্লাহ্ই সৃষ্টিকে অস্তিত্বে আনেন ও পরে তার পুনরাবর্তন ঘটান, সুতরাং তোমরা কেমন ক’রে বিভ্রান্ত হচ্ছ সত্য থেকে?’
- ৩৫। বলো, ‘তোমরা যাদেরকে শরিক কর তাদের মধ্যে কি কেউ আছে যে সত্যের পথ নির্দেশ করে?’ বলো, ‘আল্লাহ্ই সত্যের পথ নির্দেশ করেন’। যিনি সত্যের হদিস দেন তিনি অনুসরণের হকদার, না সে যে কোনো পথ না দেখালে কোনো পথ পায় না? তোমাদের কী হয়েছে? তোমরা কিভাবে বিচার করে থাক?
- ৩৬। ওদের অধিকাংশ অনুমানেরই অনুসরণ করে। সত্যের পরিবর্তে অনুমান কোনো কাজে আসে না। ওরা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ্ সে-বিষয়ে ভালো ক’রেই জানেন।
- ৩৭। এই কোরান এমন নয় যে আল্লাহ্ ছাড়া অপর কেউ রচনা করতে পারে, বরং এ এর পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার সমর্থন, আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এ বিশ্বজগতের প্রতিপালকের কিতাবের পূর্ণ মীমাংসা।
- ৩৮। তারা কি বলে, ‘সে (মুহাম্মদ) এ রচনা করেছে?’ বলো, ‘তবে তোমরা এর মতো এক সুরা আনো, আর যদি তোমরা সত্য কথা বল তবে আল্লাহ্ ছাড়া অন্য যাকে পার ডাকো’।
- ৩৯। না, ওরা যা-বিষয়ের জ্ঞান আয়ত্ত করতে পারে না তারা তা অস্বীকার করে, আর এখনও এর ব্যাখ্যা ওদের বোধগম্য হয় নি। এভাবে ওদের পূর্ববর্তীরাও মিথ্যা অভিযোগ করেছিল। সুতরাং দেখো, সীমালঙ্ঘনকারীদের পরিণাম কী হয়েছিল।
- ৪০। ওদের মধ্যে কেউ এতে বিশ্বাস করে, আর কেউ এতে বিশ্বাস করে না। আর তোমার প্রতিপালক ফ্যাশাদ সৃষ্টিকারীদের সম্বন্ধে ভালোভাবেই জানেন।
||৫||
- ৪১। আর তারা যদি তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে তবে তুমি বলো, ‘আমার কাজের দায়িত্ব আমার, আর তোমাদের কাজের দায়িত্ব তোমাদের। আমি যা করি সে-বিষয়ে তোমরা দায়ী নও, আর তোমরা যা কর আমিও সে-বিষয়ে দায়ী নই’।
- ৪২। ওদের মধ্যে কেউ-কেউ তোমার দিকে কান পেতে রাখে। তারা কিছু না বুঝলেও তুমি কি বধিরদেরকে শোনাবে?
- ৪৩। ওদের মধ্যে কেউ-কেউ তোমার দিকে তাকিয়ে থাকে। তুমি কি অন্ধকে পথ দেখাবে, তারা না দেখলেও?
- ৪৪। আল্লাহ্ তো মানুষের প্রতি কোনো জুলুম করেন না,আসলে মানুষ নিজেরাই নিজেদের ওপর জুলুম ক’রে থাকে।
- ৪৫। আর যেদিন তিনি ওদের একত্র করবেন সেদিন (ওদের মনে হবে) যে, তারা দিনের এক মুহূর্তকাল মাত্র ছিল, ওরা পরস্পরকে চিনবে। আল্লাহ্র সাক্ষাৎ যারা অস্বীকার করেছে তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর তারা তো সৎপথপ্রাপ্ত ছিল না।
- ৪৬। আমি ওদেরকে যে-ভয় দেখিয়েছি তার কিছু তোমাকে দেখিয়েই দিই, বা তোমার মৃত্যু ঘটাই, ওদেরকে তো আমারই কাছে ফিরতে হবে, আর ওরা যা করে আল্লাহ্ তো তার সাক্ষী।
- ৪৭। প্রত্যেক জাতির জন্য আছে একজন রসুল, আর যখন ওদের রসুল এসেছে তখন ন্যায়বিচারের সাথে ওদের মীমাংসা হয়েছে, আর ওদের ওপর জুলুম করা হয় নি।
- ৪৮। আর ওরা বলে, ‘যদি তোমরা সত্য বল (তবে বলো) কবে এই (ভীতিপ্রদর্শনের) প্রতিশ্রুতি ফলবে?’
- ৪৯। বলো, ‘আল্লাহ্ যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া আমার নিজের ভালোমন্দের ওপর আমার কোনো অধিকার নেই। প্রত্যেক জাতির একটা নির্দিষ্ট কাল আছে। যখন তাদের সময় আসবে তখন তার মুহূর্তকালও দেরি বা তাড়াতাড়ি করতে পারবে না’।
- ৫০। বলো, ‘তোমরা আমাকে বলো, যদি তাঁর শাস্তি তোমাদের ওপর রাত্রিতে বা দিনে এসে পড়ে তবু কি পাপীরা তা তাড়াতাড়ি এগিয়ে আনতে চাইবে?’
- ৫১। তোমরা কি ঘটার পর এ বিশ্বাস করবে? এখন তোমরা তো এ তাড়াতাড়ি এগিয়ে আনতে চেয়েছিলে!
- ৫২। পরে সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে বলা হবে, ‘স্থায়ী শাস্তির স্বাদ নাও। তোমরা যা করতে তোমাদেরকে তারই প্রতিফল দেওয়া হচ্ছে’।
- ৫৩। আর ওরা তোমার কাছে জানতে চায়, ‘এ কি সত্য?’ বলো, ‘হ্যাঁ, আমার প্রতিপালকের শপথ! এ অবশ্যই সত্য, আর তোমরা তা ব্যর্থ করতে পারবে না’।
||৬||
- ৫৪। আর যদি পৃথিবীর সবকিছুই সীমালঙ্ঘনকারীদের হ’ত তা হলে নিশ্চয় তারা তা মুক্তিপণ হিসেবে পেশ করে দিত। আর যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন তারা তাদের মনস্তাপ গোপন করবে; আর তাদের মধ্যে ন্যায়সংগতভাবে মীমাংসা ক’রে দেওয়া হবে, আর তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না।
- ৫৫। মনে রেখো আকাশ ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে তা আল্লাহ্রই। সাবধান! আল্লাহ্র প্রতিশ্রুতি সত্য, কিন্তু ওদের অধিকাংশই তা জানে না।
- ৫৬। তিনিই জীবন দেন ও মৃত্যু ঘটান, আর তাঁরই কাছে তোমরা ফিরে যাবে।
- ৫৭। হে মানবসমাজ! তোমাদের ওপর তোমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে এসেছে উপদেশ ও তোমাদের অন্তরে যে (ব্যাধি) আছে তার প্রতিকার ও বিশ্বাসীদের জন্য এসেছে পথনির্দেশ ও দয়া।
- ৫৮। বলো, ‘এ আল্লাহ্র দয়ায় ও তাঁর অনুগ্রহে, সুতরাং এর জন্য ওরা আনন্দ করুক। ওরা যা জমা করে তার চেয়ে এ শ্রেয়’।
- ৫৯। বলো, ‘তোমরা আমাকে বলো, আল্লাহ্ তোমাদেরকে জীবনের যে-উপকরণ দিয়েছেন, তোমরা যে তার কিছু হালাল ও তার কিছু হারাম করেছ আল্লাহ্ কি তোমাদেরকে এর অনুমতি দিয়েছেন, না তোমরা আল্লাহ্র ওপর মিথ্যা আরোপ করছ?’
- ৬০। যারা আল্লাহ্ সম্বন্ধে মিথ্যা বানায়, কিয়ামতের দিন সম্পর্কে তাদের কি ধারণা? আল্লাহ্ তো মানুষকে অনুগ্রহ করেন, কিন্তু ওদের বেশির ভাগই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।
||৭||
- ৬১। আর তুমি যে-কোনো কাজেই ব্যস্ত থাক-না, আর কোরান থেকে সে-সম্পর্কে তুমি যা-কিছুই আবৃত্তি কর-না, আর তোমরা যে-কোনো কাজই কর-না, আমি তার সাক্ষী যখন তোমরা তার মধ্যে গভীরভাবে নিবিষ্ট থাক। আকাশ ও পৃথিবীর অণুপরিমাণও তোমার প্রতিপালকের অগোচর নয়, আর এর চেয়ে ছোট বা বড় কিছুই নেই যা স্পষ্ট কিতাবে নেই।
- ৬২। জেনে রাখো, আল্লাহ্র বন্ধুদের কোনো ভয় নেই ও তারা দুঃখিতও হবে না।
- ৬৩। যারা বিশ্বাস করে ও সাবধানতা অবলম্বন করে,
- ৬৪। তাদের জন্য সুখবর পার্থিব জীবনে ও পরকালে। আল্লাহ্র বাণীর কোনো পরিবর্তন নেই। এ-ই মহাসাফল্য।
- ৬৫। ওদের কথা তোমাকে যেন দুঃখ না দেয়। সম্মান তো আল্লাহ্র। তিনি সব শোনেন, সব জানেন।
- ৬৬। জেনে রাখো! যারা আকাশে আছে ও যারা পৃথিবীতে আছে তারা আল্লাহ্রই। আল্লাহ্ ছাড়া (তাঁর) শরিকদের যারা ডাকে, তারা কিসের অনুসরণ করে? তারা তো শুধু অনুমানেরই অনুসরণ করে, আর তারা শুধু মিথ্যাই বলে।
- ৬৭। তিনিই তোমাদের বিশ্রামের জন্য রাত্রি ও দেখবার জন্য দিন সৃষ্টি করেছেন। যে-সম্প্রদায় কথা শোনে তাদের জন্য নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে।
- ৬৮। তারা বলে, ‘আল্লাহ্র পুত্র আছে’। তিনি মহান পবিত্র। তিনি অভাবমুক্ত! আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা তাঁরই। এ বিষয়ে তোমাদের কাছে কোনো সনদ নেই। তোমরা কি আল্লাহ্ সম্বন্ধে এমন কিছু বলছ যে-বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই?
- ৬৯। বলো, ‘যারা আল্লাহ্ সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করে তারা সফলকাম হবে না’।
- ৭০। পৃথিবীতে ওদের জন্য আছে কিছু সুখসম্ভোগ। পরে আমারই নিকট ওদের প্রত্যাবর্তন। তারপর অবিশ্বাসের জন্য ওদের আমি কঠোর শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাব।
||৮||
- ৭১। ওদেরকে নুহের কাহিনী শোনাও। সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়!আমার অবস্থান ও আল্লাহ্র নিদর্শন দ্বারা আমার উপদেশ তোমাদের কাছে যদি দুঃসহ হয়, তবে আমি তো আল্লাহ্র ওপর নির্ভর করি। তোমরা যাদেরকে শরিক করেছ তার সাথে তোমাদের কর্তব্য ঠিক করে নাও, পরে যেন কর্তব্যের ব্যাপারে তোমাদের কোনো সন্দেহ না থাকে। আমার সম্বন্ধে তোমাদের কাজ শেষ করে ফেলো আর আমাকে অবসর দিয়ো না।
- ৭২। তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে কিছু আসে যায় না, কারণ তোমাদের কাছে আমি কোনো পারিশ্রমিক চাই নি; আমার পারিশ্রমিক আছে আল্লাহ্র কাছে। আমাকে তো একজন আত্মসমর্পণকারী হতে আদেশ করা হয়েছে’।
- ৭৩। তারপর ওরা তাকে মিথ্যাবাদী বলে; তাকে ও তার সঙ্গে যারা জাহাজে ছিল তাদেরকে আমি উদ্ধার করি ও তাদেরকে প্রতিনিধি করি এবং যারা আমার নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করেছিল আমি তাদেরকে ডুবিয়ে দি’। সুতরাং দেখো, যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল তাদের পরিণাম কী হয়েছে।
- ৭৪। তারপর আমি তাদের সম্প্রদায়ের কাছে রসুলদেরকে পাঠিয়েছিলাম, তারা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নির্দেশ নিয়ে এসেছিল। কিন্তু পূর্বে যা ওরা প্রত্যাখ্যান করেছিল তার ওপর তারা বিশ্বাস করল না। এইভাবে আমি সীমালঙ্ঘনকারীদের হৃদয় মোহর করে দিই।
- ৭৫। পরে আমার নিদর্শন নিয়ে মুসা ও হারুনকে আমি ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গের কাছে পাঠিয়েছিলাম কিন্তু তারা ছিল এক অহংকারী ও অপরাধী সম্প্রদায়।
- ৭৬। তারপর যখন ওদের কাছে সত্য এল তখন ওরা বলল, ‘এ তো পরিষ্কার জাদু’।
- ৭৭। মুসা বলল, ‘সত্য যখন তোমাদের কাছে এসেছে তখন সে-সম্পর্কে তোমরা কেন এমন বলছ? এ কি জাদু? জাদুকররা তো সফল হয় না’।
- ৭৮। ওরা বলল, ‘আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে যে-মতে পেয়েছি তুমি কি তার থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্যে আমাদের কাছে এসেছ? এবং যাতে দেশে তোমাদের দুজনের প্রতিপত্তি হয়, সেজন্যে? তোমাদের দুজনকে আমরা বিশ্বাস করি না’।
- ৭৯। ফেরাউন বলল, ‘তোমরা আমার কাছে ঝানু জাদুকরদেরকে নিয়ে এসো’।
- ৮০। তারপর যখন জাদুকররা এল তখন মুসা ওদেরকে বলল, ‘তোমাদের যা ছোড়ার আছে ছূড়ে ফেলো’।
- ৮১। যখন তারা ছূড়ল তখন মুসা বলল, ‘তোমরা যা এনেছ তা জাদু, আল্লাহ্ তাকে অসার প্রতিপন্ন করবেন। আল্লাহ্ তো ফ্যাশাদ-সৃষ্টিকারীদেরকে সার্থক করেন না।
- ৮২। আল্লাহ্ তাঁর বাণী অনুযায়ী সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবেন, অপরাধীরা তা অপছন্দ করলেও’।
||৯||
- ৮৩। ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গের নির্যাতনের ভয়ে তার সম্প্রদায়ের একদল ছাড়া আর কেউ তাদের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করল না। নিশ্চয়ই ফেরাউন দেশে স্বেচ্ছাচারী ও উচ্ছৃঙ্খল ছিল।
- ৮৪। মুসা বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! যদি তোমরা আল্লাহ্য় বিশ্বাস করে থাক, যদি তোমরা আত্মসমর্পণকারী হও, তবে তোমরা তাঁরই ওপর নির্ভর করো’।
- ৮৫। তারপর তারা বলল, ‘আমরা আল্লাহ্র ওপর নির্ভর করলাম। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে অত্যাচারী সম্প্রদায়ের উৎপীড়নের পাত্র কোরো না।
- ৮৬। আর তোমার অনুগ্রহে আমাদেরকে অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের হাত থেকে রক্ষা করো’।
- ৮৭। আমি মুসা ও তার ভাইকে প্রত্যাদেশ পাঠালাম, ‘মিশরে তোমাদের সম্প্রদায়ের জন্য বাড়ি বানাও, আর তোমাদের বাড়িগুলোকে কিবলা করো, নামাজ পড়ো ও বিশ্বাসীদের সুসংবাদ দাও’।
- ৮৮। মুসা বলল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গকে পার্থিব জীবনে যে-শানশওকত ও ধনদৌলত দান করেছ তা দিয়ে, হে আমাদের প্রতিপালক, ওরা তোমার পথ থেকে (মানুষকে) বিপথে চালিত করে। হে আমাদের প্রতিপালক! ওদের ধনসম্পদ নষ্ট করে দাও, ওদের হৃদয়ে মোহর করে দাও; ওরা তো কঠিন শাস্তি না দেখা পর্যন্ত বিশ্বাস করবে না’।
- ৮৯। তিনি বললেন, ‘তোমাদের দুজনের প্রার্থনা গ্রহণ করা হল; সুতরাং তোমরা শক্ত হও, আর যারা জানে না তোমরা কখনও তাদের পথ অনুসরণ করবে না’।
- ৯০। আমি বনি-ইসরাইলকে সাগর পার করালাম। আর ফেরাউন ও তার সৈন্যবাহিনী শত্রু তা ক’রে ও ন্যায়ের সীমালঙ্ঘন ক’রে তাদের পেছনে ধাওয়া করল। অবশেষে পানিতে যখন সে ডুবে যাচ্ছে তখন সে বলল, ‘আমি বিশ্বাস করলাম যে, বনি-ইসরাইল যাঁর ওপর বিশ্বাস করে তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। আর তাঁর কাছে যারা আত্মসমর্পণ করে আমি তাদের একজন’।
- ৯১। আল্লাহ্ বললেন, ‘এখন! এর আগে তুমি তো অমান্য করেছ আর তুমি ছিলে এক ফ্যাশাদ-সৃষ্টিকারী!
- ৯২। আজ আমি তোমার দেহকে সংরক্ষণ করব যাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের নিদর্শন হয়ে থাক। অবশ্য মানুষের মধ্যে অনেকেই আমার নিদর্শন সম্বন্ধে খেয়াল করে না’।
||১০||
- ৯৩। আমি বনি-ইসরাইলকে উৎকৃষ্ট বাসভূমিতে বসবাস করালাম, আর ওদেরকে উত্তম জীবনের উপকরণ দান করলাম। তারপর ওদের কাছে জ্ঞান এলে ওরা বিভেদ সৃষ্টি করল। ওরা যে-বিষয়ে বিভেদ সৃষ্টি করেছিল তোমার প্রতিপালক কিয়ামতের দিনে তার বিচার করে দেবেন।
- ৯৪। আমি তোমার কাছে যা অবতীর্ণ করেছি তাতে যদি সন্দেহ হয় তবে তোমার আগের কিতাব যারা পড়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করো। তোমার প্রতিপালকের নিকট থেকে তোমার কাছে সত্য এসেছে। তুমি কখনও সন্দিহানদের শামিল হয়ো না।
- ৯৫। আর যারা আল্লাহ্র নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করেছে তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত হয়ো না; হলে, তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবে।
- ৯৬। নিশ্চয় তারা বিশ্বাস করবে না যাদের বিরুদ্ধে তোমার প্রতিপালকের কথা সত্য হয়েছে,
- ৯৭। এমনকি ওদের কাছে প্রত্যেকটি নিদর্শন আসলেও, যতক্ষণ না তারা কঠিন শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে।
- ৯৮। ইউনুসের সম্প্রদায় ছাড়া অন্য কোনো জনপদবাসী কেন এমন ছিল না যারা বিশ্বাস করতে পারত ও তাদের বিশ্বাসের দ্বারা উপকৃত হতে পারত? তারা যখন বিশ্বাস করল তখন আমি তাদেরকে পার্থিব জীবনে অপমানকর শাস্তি থেকে মুক্ত করলাম ও কিছুকালের জন্য জীবন উপভোগ করতে দিলাম।
- ৯৯। তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করলে পৃথিবীতে যারা আছে সকলেই বিশ্বাস করত। তা হলে কি তুমি বিশ্বাসী হওয়ার জন্য মানুষের ওপর জবরদস্তি করবে?
- ১০০। আল্লাহ্র অনুমতি ছাড়া বিশ্বাস করা কারও সাধ্য নেই। আর যারা বোঝে না আল্লাহ্ তাদেরকে কলুষলিপ্ত করবেন।
- ১০১। বলো, ‘আকাশ ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে তার দিকে লক্ষ করো’। যে-সম্প্রদায় বিশ্বাস করে না তাদের জন্য নিদর্শন বা সতর্কীকরণ কী উপকারে আসবে?
- ১০২। তাদের পূর্বে যা ঘটেছে সেরকম কোনো ঘটনার জন্য তারা প্রতীক্ষা করে। বলো, ‘তোমরা প্রতীক্ষা করো, আমিও তোমাদের সঙ্গে প্রতীক্ষা করছি’।
- ১০৩। অবশেষে আমি আমার রসুলদেরকে উদ্ধার করব। আর এভাবেই আমি বিশ্বাসীদেরকে উদ্ধার করি। বিশ্বাসীদেরকে উদ্ধার করা আমার দায়িত্ব।
||১১||
- ১০৪। বলো, ‘হে মানবসমাজ! তোমরা যদি আমার ধর্মকে সন্দেহ কর, তবে (জেনে রাখো) তোমরা আল্লাহ্ ছাড়া যার উপাসনা কর আমি তার উপাসনা করি না, বরং আমি উপাসনা করি আল্লাহ্র যিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটান। আর আমাকে আদেশ করা হয়েছে বিশ্বাসীদের শামিল হওয়ার জন্য’।
- ১০৫। আর তিনি বলেন, ‘তুমি একনিষ্ঠভাবে ধর্মে প্রতিষ্ঠিত হও ও কখনোই অংশীবাদীদের শামিল হয়ো না।
- ১০৬। আর আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাউকেও ডাকবে না, যা তোমার উপকারও করে না, অপকারও না, এ করলে তখন তুমি সীমালঙ্ঘনকারীদের শামিল হবে।
- ১০৭। আর আল্লাহ্ তোমাকে কষ্ট দিলে তিনি ছাড়া কেউ তা দূর করতে পারবে না। আর আল্লাহ্ যদি তোমার ভালো চান তবে তা কেউ রদ করতে পারবে না। তাঁর দাসদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তিনি মঙ্গল দান করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
- ১০৮। বলো, ‘হে মানুষ! তমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে তোমাদের কাছে সত্য এসেছে। সুতরাং যারা সৎপথ অবলম্বন করবে তারা তো নিজেদেরই মঙ্গলের জন্য সৎপথ অবলম্বন করবে। আর যারা পথভ্রষ্ট হবে তারা তো পথভ্রষ্ট হবে নিজেদেরই ধ্বংসের জন্য। আর আমি তোমাদের কর্মবিধায়ক নই’।
- ১০৯। তোমার ওপর যা প্রত্যাদেশ হয়েছে তুমি তার অনুসরণ করো। আর তুমি ধৈর্য ধারণ কর যে পর্যন্ত না আল্লাহ্র হুকুম আসে। আর আল্লাহ্ই সবচেয়ে ভালো বিচারক।
অনুবাদটি নেওয়া হয়েছে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান অনুবাদিত 'কোরানশরিফ সরল বঙ্গানুবাদ' থেকে।