গেটিসবার্গ অ্যাড্রেস
উইকিসংকলন থেকে
| গেটিসবার্গ অ্যাড্রেস |
| যুক্তরাষ্ট্রের গেটিসবার্গ নামক স্থানে লিংকন এই কালজয়ী বক্তৃতাটি দেন। এতে গণতন্ত্রের সর্বোৎকৃষ্ট সংজ্ঞা পাওয়া যায়। |
আজ থেকে চার কুড়ি সাত বছর পূর্বে আমাদের পূর্বপুরুষেরা এই মহাদেশে এমন এক জাতির জন্ম দিয়েছিলেন যারা স্বাধীনতায় মগ্ন ছিল এবং সকল মানুষকে সমানভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই প্রস্তাবনার প্রতি ছিল নিবেদিতপ্রাণ।
আর এখন আমরা এক গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছি, পরীক্ষা করছি, সেই জাতি যারা এতোটা আত্মমগ্ন ও নিবেদিতপ্রাণ তারা বেশিদিন টিকে থাকতে পারে কি-না। আমরা সেই যুদ্ধের এক মহান লড়াই-ক্ষেত্রে একত্রিত হয়েছি। আমরা এসেছি সেই ক্ষেত্রের একটি অংশকে তাদের চিরনিদ্রার স্থান হিসেবে উৎসর্গ করতে যারা এ জাতিকে বাঁচানোর জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছে। সব দিক বিবেচনায়ই বলা যায়, আমাদের এটা করা উচিত, এটা করলেই কেবল সবকিছু খাপে খাপে মিলে যেতে পারে।
কিন্তু, বৃহত্তর দৃষ্টিতে দেখলে বোঝা যায়, এই প্রান্তর আমরা নিবেদন করতে পারি না... উৎসর্গ করতে পারি না... পারি না একে পবিত্র করতে। জীবিত ও মৃত সেই সাহসী ব্যক্তিরা যারা এখানে সংগ্রাম করেছে তারাই একে এতোটা পবিত্র করে দিয়ে গেছে যে, আমাদের ক্ষুদ্র শক্তি দিয়ে তার সাথে কিছু যোগ করা বা তা থেকে কিছু বিয়োগ করা সম্ভব না। আমরা এখানে যা বলছি বিশ্ব তাকে খুব কমই গুরুত্ব দিবে, খুব বেশি দিন মনেও রাখবে না, কিন্তু তারা এখানে যা করে গেছে তা সে কখনই ভুলতে পারবে না। এখানে যারা যুদ্ধ করে গেছে তারা অসম্পূর্ণ কাজটিকে এতো মহৎরূপে এগিয়ে দিয়ে গেছে যে, অন্যকিছু উৎসর্গ করার পরিবর্তে আমরা যারা জীবিত আছি তাদের নিজেদেরকেই সেই কাজ শেষ করার জন্য উৎসর্গ করতে হবে। আমাদের সামনে যে মহান কাজ পড়ে আছে, তার জন্য অন্য সবকিছুর পরিবর্তে আমাদের নিজেদেরই উৎসর্গ করতে হবে... এই সম্মানিত মৃতদের কাছ থেকেই আমরা উপর্যুপরি আত্মত্যাগের প্রেরণা নেই যারা সেই মহান কারণে আত্মত্যাগের সর্বোচ্চ নজির স্থাপন করে গেছে; আমরা আজ এখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলাম যে, তাদের মৃত্যুকে বৃথা যেতে দেব না; আমরা বুঝে নিলাম, সেই মহান কাজ সম্পাদনের মাধ্যমেই এই জাতি ঈশ্বরের অধীনে মুক্তির এক নবজীবন লাভ করবে; এবং জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা পরিচালিত এই জনগণের সরকার কোনদিন পৃথিবী থেকে মুছে যাবে না।