বঙ্গলক্ষ্মীর ব্রতকথা
উইকিসংকলন থেকে
| বঙ্গলক্ষ্মীর ব্রতকথা |
| বিশিষ্ট দেশপ্রেমিক বৈজ্ঞানিক তথা বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষার পথিকৃত রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী (১৮৬৮-১৯১৯) ১৯১১ সালে বঙ্গবিভাগের প্রতিবাদে এই প্রবন্ধটি রচনা করেন। এই প্রবন্ধে জনপ্রিয় হিন্দু পাঁচালির ঢঙে, অথচ গদ্যভাষায় বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনকে সাধারণের কাছে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করেছেন রামেন্দ্রসুন্দর। |
বন্দে মাতরম্। বাংলা নামে দেশ, তার উত্তরে হিমাচল, দক্ষিণে সাগর। মা গঙ্গা মর্তে নেমে নিজের মাটিতে সেই দেশ গড়লেন। প্রয়াগ কাশী পার হ’য়ে মা পূর্ববাহিনী হ’য়ে সেই দেশে প্রবেশ করলেন। প্রবেশ ক’রে মা সেখানে শতমুখী হলেন। শতমুখী হ’য়ে মা সাগরে মিশলেন। তখন লক্ষ্মী এসে সেই শতমুখে অধিষ্ঠান করলেন। বাংলার লক্ষ্মী বাংলাদেশ জুড়ে বসলেন। মাঠে মাঠে ধানের ক্ষেতে লক্ষ্মী বিরাজ করতে লাগলেন। ফলে ফুলে দেশ আলো হ’ল। সরোবরে শতদল ফুটে উঠল। তাতে রাজহংস খেলা করতে লাগল। লোকের গোলা-ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু, গাল ভরা হাসি হ’ল। লোকে পরম সুখে বাস করতে লাগল।
এমন সময় মর্তে কলির উদয় হ’ল। লোকে ধর্ম কর্ম ছাড়তে লাগল। ব্রাহ্মণ-সজ্জনে অনাচারী হল। সন্ন্যাসীরা ভণ্ড হল। সকলে বেদবিধি অমান্য করতে লাগল। লক্ষ্মী চঞ্চলা; তিনি চঞ্চল হলেন। লক্ষ্মী ভাবলেন – হায়, আমি বাংলার লক্ষ্মী; আমাকে বুঝি বাংলা ছাড়তে হ’ল। তখন বাংলাতে রাজা ছিলেন, তার নাম আদিশূর। লক্ষ্মী তাঁকে স্বপ্ন দিলেন, আমি বাংলার লক্ষ্মী; বাংলায় অনাচার ঘটেছে; আমি বাংলা ছেড়ে চললেম। রাজা কেঁদে বললেন, - না মা, তুমি বাংলা ছেড়ে যেয়ো না; যাতে বাংলায় সদাচার ফিরে আসে, তা আমি করছি। রাজা ঘুম ভেঙে দরবারে বসলেন। দরবারে ব’সে পশ্চিম দেশে কনোজে লোক পাঠালেন; কনোজ থেকে পাঁচজন পণ্ডিত ব্রাহ্মণ আনালেন। তাদের সঙ্গে পাঁচজন সজ্জন কায়েত এলেন। রাজা তাদের রাজ্যের মধ্যে বাস করালেন। তারা বাংলা দেশে বেদবিধি নিয়ে এলেন, সদাচার নিয়ে এলেন। তাদের ছেলে মেয়ে বাংলার গায়ে গায়ে বাস করতে লাগল। তাদের দেখাদেখি দেশে বেদবিধি সদাচার ফিরে এল। বাংলার লক্ষ্মী বাংলা জুড়ে বসলেন। ধনে ধানে দেশ পূর্ণ হ’ল।
চিরদিন সমান যায় না। লক্ষ্মী চঞ্চলা; তিনি আবার চঞ্চল হ’লেন। বাংলার ধন দেখে ধান দেখে মোছলমান বাংলায় এলেন। তখন বাংলার রাজা ছিলেন, তার নাম ছিল লক্ষ্মণ সেন। তাঁর রাজ্য গেল। মোছলমান বাংলার রাজা হলেন। হিঁদুর জাতিধর্ম নষ্ট হ’তে লাগল। হিঁদুর ঠাকুরঘর ভেঙে মোছলমান মসজিদ তুলতে লাগলেন। অর্ধেক হিঁদু মোছলমান হল। হিঁদু-মোছলমানে এক গাঁয়ে এক ঠাঁয়ে বাস ক’রে মারামারি কাটাকাটি করতে লাগল। লক্ষ্মী ভাবলেন, হায়, আমি বাংলার লক্ষ্মী, আমাকে বুঝি বাংলা ছাড়তে হ’ল। তখন বাংলাতে গৌড়ের পাঠান-বাদশা রাজা ছিলেন, তার নাম ছিল হোসেন সা। লক্ষ্মী তাঁকে স্বপ্ন দিলেন, আমি বাংলার লক্ষ্মী, আমার হিঁদুও যেমন, মোছলমানও তেমনি; হিঁদু মোছলমান ভাই-ভাই যখন মারামারি করতে লাগল, আমি বাংলা ছেড়ে চললেম। পাঠান রাজা কেঁদে বললেন – মা, তুমি যেতে পাবে না; আমি হিঁদু মোছলমান সমান দেখব; তাদের ভাই-ভাই এক ঠাঁই করব; তুমি বাংলা ছেড়ে যেয়ো না। লক্ষ্মী বললেন – আচ্ছা তাই হবে; আমি এখন থাকব; দিল্লিতে মোগল বাদশা হ’বেন। দিল্লির বাদশা বাংলার রাজা হবেন, সেই রাজা হিঁদু মোছলমান সমান দেখবেন; তখন হিঁদু মোছলমান ভাই-ভাই হবে, ঝগড়া বিবাদ মিটে যাবে। রাজা ঘুম ভেঙে দরবারে বসলেন। দরবারে ব্রাহ্মণ এসে রাজাকে মহাভারত শোনালে। মোছলমান রাজা ব্রাহ্মণকে মান্য ক’রে রাজমন্ত্রী করলেন। হিঁদু গিয়ে মোছলমানের পীরতলায় সিন্নি দিতে লাগল। এমন সময় মহাপ্রভু নদীয়ায় অবতার হলেন। তিনি যবন ব্রাহ্মণ সবাইকে ডেকে কোল দিলেন। পাঠানের পর দিল্লির মোগল বাদশা বাংলার রাজা হ’লেন। তিনি হিঁদু মোছলমানকে সমান চোখে দেখতে লাগলেন। হিঁদু মোছলমান ভাই-ভাই হ’ল, ঝগড়া বিবাদ মিটে গেল। বাংলার লক্ষ্মী বাংলা জুড়ে বসলেন। ধনে ধানে দেশ পূর্ণ হ’ল।
এইরূপে বহুদিন গেল। চিরদিন সমান যায় না। লক্ষ্মী চঞ্চলা; তিনি আবার চঞ্চল হ’লেন। দিল্লির তখনকার বাদশা ছিলেন, তাঁর নাম ছিল আলমগীর। তিনি হিঁদু-মোছলমানে তফাত করতে গেলেন। বর্গী এসে বাদশার রাজ্য লুঠ করতে লাগল। সাত সমুদ্র পার হ’য়ে খ্রিষ্টান ইংরেজ সদাগর বাংলায় বাণিজ্য করতে এসেছিল। দিল্লির বাদশা তাদের আদর ক’রে নিজের রাজ্যমধ্যে জায়গা দিয়েছিলেন। বাংলার ধন দেখে, ধান দেখে তাদের লোভ হ’ল। লক্ষ্মী তখন আলমগীরের বংশের দিল্লির বাদশাকে ছেড়েছেন। বাদশা ইংরেজকে বাংলার দেওয়ান ক’রে দিলেন। বাদশার দশা দেখে বাদশাকে খাজনা দেওয়া বন্ধ ক’রে তারাই হ’ল বাংলার রাজা। তারা এসেছিল সদাগর, হ’য়েছিল বাদশার দেওয়ান, হ’য়ে গেল দেশের রাজা। রাজা হ’ল; কিন্তু রাজ্যে বাস করল না। বাংলাদেশের ধন নিয়ে ধান নিয়ে সাত সমুদ্রপারে আপন দেশে চলল। সাগরের জাত কিনা, মেজাজ ঠান্ডা, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, অতিশয় ধূর্ত। তারা চোর ডাকাত দমন করল, মিষ্টি মিষ্টি কথা কইতে লাগল, আবার নিজের দেশ হতে খেলনা এনে পুতুল এনে প্রজার মন ভুলাতে লাগল। লক্ষ্মী যখন চঞ্চল হন, তখন মানুষের বুদ্ধি লোপ হয়। বাংলার লোকের বুদ্ধিলোপ হ’ল। বুড়ো মানুষ খোকা সাজল; ইংরেজের দেওয়া খেলনা-পুতুল নিয়ে ছেলেখেলা করতে লাগল। সদাগর রাজা কাঁচ এনে দিলেন। বাংলার প্রজা কাঞ্চন বদলে সেই কাঁচ নিতে লাগল। দেশের জিনিসে লোকের মন ওঠে না। ঝুঁটোমণির রঙ দেখে দেশের সাচ্চামণিকে অনাদর করতে লাগল। রাজা যত আদর দেন, সোহাগ করেন, দেশের লোক ততই খোকা সাজতে লাগল। রাজা হাততালি দিতে লাগলেন; দেশের যত বুড়ো হামাগুড়ি দিয়ে আধ-আধ কথা বলতে লাগল। লক্ষ্মী বললেন – আর না, আমি বাংলার লক্ষ্মী, বাংলার লোকের এই দশা, আমার আর বাংলায় থাকা চললো না।
লক্ষ্মী চঞ্চলা। চঞ্চল হয়ে বাংলার লক্ষ্মী বাংলা ছেড়ে চললেন। আঁধার রাতে কালপেঁচা ডেকে উঠল। তখন সাত কোটি বাঙালি কেঁদে উঠল। রাজার দোষে লক্ষ্মী আমাসের ছেড়ে চললেন ব’লে রাজার দোষ দিয়ে সবাই কেঁদে উঠল। ইংরেজ রাজা সেই কাঁদন শুনে বিরক্ত হলেন। ইংরেজ রাজার তখন একটা ছোকরা নায়েব ছিল; সে আপন দেশে ছিল কেরাণি, হয়ে এসেছিল নায়েব। নায়েবী পেয়ে সে ধরাকে সরা জ্ঞান করত। আলমগীর বাদশার তক্তে ব’সে সে আপনাকে আলমগীরের নাতি ঠাওরা’ত। সে বললে এরা বড় ঘ্যান ঘ্যান করছে, থাক, এদের দু-দল করে দিচ্ছি; এক দকে যাক মোছলমান, একদিকে থাক হিঁদু। এরা ভাই-ভাই এক ঠাঁই থেকে বিরক্ত করছে; এদের ভাই-ভাই ঠাঁই ঠাঁই করে দাও, এদের জোট ভেঙে দাও। এই ব’লে তিনি বাঙালিকে দু’দল ক’রে দিলেন, - এক দিকে গেল হিঁদু, একদিকে গেল মোছলমান। পূবে-উত্তরে গেল মোছলমান, পশ্চিমে-দক্ষিণে থাকল হিঁদু।
লক্ষ্মী দেখলেন, আমি বাংলার লক্ষ্মী; আর আমার নিতান্তই বাংলায় থাকা চলল না। আমার হিঁদু যেমন মোছলমান তেমনি। হিঁদু মোছলমান ভাই-ভাই ঠাঁই ঠাঁই হ’ল, তখন আর আমার বাংলায় থাকা চলল না।
১৩১২ সাল আশ্বিন মাসের তিরিশে, সোমবার কৃষ্ণপক্ষের তৃতীয়া, সেদিন বড় দুর্দিন, সেইদিন রাজার হুকুমে বাংলা দু-ভাগ হবে; দু-ভাগ দেখে বাংলার লক্ষ্মী বাংলা ছেড়ে চলে যাবেন। পাঁচ কোটি বাঙালি আছাড় খেয়ে ভূমে গড়াগড়ি দিয়ে ডাকতে লাগল – মা, তুমি বাংলার লক্ষ্মী, তুমি বাংলা ছেড়ে যেয়ো না, আমাদের অপরাধ ক্ষমা কর; বিদেশি রাজা আমাদের সুখ দুঃখ বোঝেন না, তাই ভাই-ভাই ঠাঁই-ঠাঁই করতে চাইলেন; আমরা ভাই-ভাই ঠাঁই-ঠাঁই হব না; মা, তুমি কৃপা কর; আমরা এখন থেকে মানুষের মত হ’ব; আর পুতুলখেলা করব না, কাঞ্চন দিয়ে কাঁচ কিনব না; পরের দুয়ারে ভিক্ষা করব না ; মা তুমি আমাদের ঘরে থাক; বাংলার লক্ষ্মী বাঙালিকে দয়া করলেন। কালীঘাটের মা-কালীতে তিনি আবির্ভূত হলেন। মা-কালী নববেশে মন্দিরে দেখা দিলেন। সেদিন আশ্বিনের অমাবস্যা; ঘোর দুর্যোগ, ঝমঝম বৃষ্টি, হুহু ক’রে হাওয়া। পঞ্চাশ হাজার বাঙালি মা-কালীর কাছে ধন্না দিয়ে পড়ল। বললে, মা আমাদের রক্ষা কর। বাংলার লক্ষ্মী যেন বাংলা ছেড়ে না যান। আমরা আর অবোধের মত ঘরের লক্ষ্মীকে পায়ে ঠেলব না। কাঞ্চন দিয়ে কাঁচ নেবো না। মায়ের মন্দির হ’তে মা বলে উঠলেন – জয় হউক; জয় হউক ; ঘরের লক্ষ্মী ঘরে থাকবেন; বাংলার লক্ষ্মী বাংলায় থাকবেন, তোমরা প্রতিজ্ঞা ভুলোনা ; ঘরের থাকতে পরের নিয়ো না, পরের দুয়ারে ভিক্ষা চেয়ো না; ভাই-ভাই ঠাঁই-ঠাঁই হয়ো না, তোমাদের “এক দেশ এক ভগবান এক জাতি এক মনপ্রাণ” হোক; লক্ষ্মী তোমাদের অচলা হবেন।
তিরিশে আশ্বিন ; কোজাগরী পূর্ণিমার পর তৃতীয়া। পূর্ণিমার পূজা নিয়ে বাংলার লক্ষ্মী ঐ দিন বাংলা ছাড়ছিলেন। ঐ দিন বাংলার লক্ষ্মী বাংলায় অচলা হ’লেন। বাংলার হাট মাঠ-ঘাট জুরে বসলেন। মাঠে মাঠে ধানের ক্ষেতে লক্ষ্মী বিরাজ করতে লাগলেন। ফলে ফুলে দেশে আলো হ’ল। সরোবরে শতদল ফুটে উঠল। তাতে রাজহংস খেলা করতে লাগল। লোকের গোলাভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু, গালভরা হাসি হ’ল।
বাংলার মেয়েরা ঐ দিন বঙ্গলক্ষ্মীর ব্রত নিলে। ঘরে ঘরে সেদিন উনুন জ্বলল না। হিঁদু মোছলমান ভাই-ভাই কোলাকুলি করলে। হাতে হাতে হলদে সুতোর রাখি বাঁধলে। ঘট পেতে বঙ্গলক্ষ্মীর কথা শুনলে। যে এই বঙ্গলক্ষ্মীর কথা শোনে, তার ঘরে লক্ষ্মী অচলা হন।
বচ্ছর বচ্ছর ঐ দিনে বাঙালির মেয়েরা এই ব্রত নেবে। বাঙালির ঘরে ঐ দিন উনুন জ্বলবে না। হাতে হাতে হলদে সুতোর রাখি বাঁধবে। বঙ্গলক্ষ্মীর কথা শুনে শাঁখ বাজিয়ে ঘটে প্রণাম ক’রে বাতাসা-পাটালি প্রসাদ পাবে। ঘর ঘরে লক্ষ্মী অচলা হবেন। ঘরের লক্ষ্মী ঘরে থাকবেন। বাংলার লক্ষ্মী বাংলায় থাকবেন।
সবাই বল –
আমরা ভাই ভাই এক ঠাঁই
ভেদ নাই ভেদ নাই।
আমরা ভাই ভাই এক ঠাঁই
ভেদ নাই ভেদ নাই।
আমরা ভাই ভাই এক ঠাঁই
ভেদ নাই ভেদ নাই।।
মা লক্ষ্মী, কৃপা কর। কাঞ্চন দিয়ে কাঁচ নেবো না। শাঁখা থাকতে চুড়ি পরবো না। ঘরের থাকতে পরের নেবো না, পরের দুয়ারে ভিক্ষা করবো না।
ভিক্ষার ধন হাতে তুলবো না। মোটা অন্ন ভোজন করব। মোটা বসন অঙ্গে নেবো। মোটা ভূষণ আভরণ করবো। পড়শীকে খাইয়ে নিজে খাব। ভাইকে খাইয়ে পরে খাব। মোটা অন্ন অক্ষয় হোক। মোটা বস্ত্র অক্ষয় হোক। ঘরের লক্ষ্মী ঘরে থাকুন। বাংলার লক্ষ্মী বাংলায় থাকুন।
বাঙলার মাটি, বাঙলার জল, বাঙলার বায়ু, বাঙলার ফল
পুণ্য হউক, পুণ্য হউক, পুণ্য হউক হে ভগবান।
বাঙলার ঘর, বাঙলার হাট, বাঙলার বন, বাঙলার মাঠ
পূর্ণ হউক, পূর্ণ হউক, পূর্ণ হউক, হে ভগবান।
বাঙালির পণ, বাঙালির আশা, বাঙালির কাজ, বাঙালির ভাষা
সত্য হউক, সত্য হউক, সত্য হউক, হে ভগবান।
বাঙালির প্রাণ, বাঙালির মন, বাঙালির ঘরে যত ভাইবোন
এক হউক, এক হউক, এক হউক হে ভগবান।
বন্দেমাতরম্
অনুষ্ঠান
প্রতি বৎসর আশ্বিনে বঙ্গবিভাগের দিনে বঙ্গের গৃহিনীগণ বঙ্গলক্ষ্মীর ব্রত অনুষ্ঠান করিবেন। সেদিন অরন্ধন। দেব-সেবা ও রোগীর ও শিশুর সেবা ব্যতীত অন্য উপলক্ষ্যে গৃহে উনুন জ্বলিবে না। ফলমূল চিড়ামুড়ি, অথবা পূর্বদিনের রাঁধা-ভাত ভোজন চলিবে।
পরিবারস্থ নারীগণ যথারীতি ঘট স্থাপন করিয়া ঘটের পার্শ্বে উপবেশন করিবেন। বিধবারা ললাটে চন্দন ও সধবারা সিঁদুর লইবেন। হরিতকী বা সুপারি হাতে লইয়া বঙ্গলক্ষ্মীর কথা শুনিবেন। কথা শেষে বালকেরা শঙ্খধ্বনি করিলে পর ঘটে প্রণাম করিবেন। প্রণামান্তে বাম হস্তের (বালকেরা দক্ষিণ হস্তের) প্রকোষ্ঠে স্বদেশি কার্পাসের বা রেশমের হরিদ্রারঞ্জিত সূত্রে পরস্পর রাখি বাঁধিয়া দিবেন। রাখিবন্ধনের সময় শঙ্খধ্বনি হইবে। তৎপরে পাটালি প্রসাদ গ্রহণ করিবেন। সংবৎসরকাল যথাসাধ্য বিদেশি, বিশেষত বিলাতি, দ্রব্য বর্জন করিবেন। সাধ্যপক্ষে প্রতিদিন গৃহকর্ম আরম্ভের পূর্বে লক্ষ্মীর ঘটে মুষ্ঠিভিক্ষা রাখিবেন এবং মাসান্তে বা বৎসরান্তে উহা কোনরূপ মায়ের কাজে বিনিয়োগ করিবেন।