মানবাধিকার এবং চরম দারিদ্রতা উপর জাতিসংঘের খসড়া দিকনির্দেশনা

উইকিসংকলন থেকে

খসড়া দিকনির্দেশনা “চরম দারিদ্রতা এবং মানবাধিকারঃ গরীবের অধিকার”
উৎস:২০০৬ সালের আগস্ট মাসের ৭ হইতে ২৫ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত, জেনেভা তে ৫৮তম অধিবেশনে মানবাধিকারের উন্নয়ন ও সংরক্ষণের উপর উপ আয়োগের প্রতিবেদনে উদ্ধৃতি। এ/এইচ আর সি/২/২


পরিচ্ছেদসমূহ

[সম্পাদনা] ২০০৬/৯ চরম দারিদ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রসঙ্গে বর্তমান মানবাধিকারের নিয়ম ও মানের রূপায়ন

মানবাধিকার-এর উন্নয়ন এবং সংরক্ষণের উপর উপ আয়োগ, মানবাধিকার-এর বিশ্বজনীন ঘোষণাতে, মানবজাতি বক্তব্যে ও বিশ্বাসে স্বাধীনতা ভোগ করিবে এবং সাধারণ মানুষের ভীতি ও অভাব হইতে স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ আকাংক্ষা বলিয়া ঘোষিত হইয়াছিল এরূপ একটি পৃথিবীর আবির্ভাব স্মরণ করিয়া,

১৯৮৭ সাল হইতে জাতি পুঞ্জের দ্বারা সাধিত মানবাধিকার এবং চরম দারিদ্র, বিশেষতঃ মানবাধিকার উন্নয়ন এবং সংরক্ষণের উপর উপ আয়োগের বিশেষ প্রতিবেদক, মিঃ দেশপুই- এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ই/সি এন.৪/বিষয় ২/১৯৯৫/১৩) সম্পর্কিত প্রচেষ্টার উপর নির্মান করিয়া,

এই বিষয়ের উপর সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত, বিশেষতঃ ২০০৪ সালের ২০ ডিসেম্বর তারিখের ৫৯/১৮৬ নং সিদ্ধান্ত যাহা দৃঢ়তা সহকারে উক্ত করিয়াছিল।

(ক) যে তাহাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অবস্থান নির্বিশেষে পৃথিবীর সমস্ত দেশে চরম দারিদ্র,

(খ) যে চরম দারিদ্র এবং সমাজ হইতে বহিষ্কার মানবিক মর্যাদার হানিকারণ এবং যে অতএব জরুরী জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ উহা দূরীকরণের জন্য প্রয়োজন,

(গ) যে মানবাধিকার উন্নয়নে এবং চরম দারিদ্রতার সহিত লড়াইয়ের প্রয়াসে, তাহারা বসবাস করে এরূপ সমাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াতে ব্যক্তিগণের দ্বারা অংশগ্রহণ উন্নত করিতে রাজ্য গুলির জন্য ইহা অপরিহার্য, ইহা স্মরণ করিয়া,

নিরাপত্তাহীনতার বিভিন্ন উপাদানের সংযুক্তিকরণ হইতে উদ্ধৃত চরম দারিদ্রের অবস্থা এবং দীর্ঘস্থায়ী ভাবে জনগণের জীবনের বিভিন্ন দিক ক্ষতিগ্রস্থ করিয়া তাহাদের দায়িত্বজ্ঞান পুনঃ পরিগ্রহ করিতে এইরূপ অবস্থায় বসবাসকারী জনগণের সুযোগ- এর আপোষ মীমাংসা এবং দূর-দর্শন যোগ্য ভবিষ্যতে তাহাদের অধিকার পুনরুদ্ধার স্মরণ করিয়া,

সহস্রবৎসরের ঘোষণা যাহাতে রাজ্যের এবং সরকারের প্রধান ধর্মতঃ ঘোষণা করিয়াছিলেনঃ "চরম দারিদ্রের শোচনীয় এবং মনুষোচিত গুণাবলী হইতে বিচ্যুতকারী অবস্থা যাহাতে বর্তমানে এক কোটির অধিক লোক জড়িত, তাহা হইতে আমাদের স্ব-গোত্রীয় পুরুষ, মহিলা এবং সন্তান সন্ততিগণকে মুক্ত করিতে আমরা কোন প্রচেষ্টা হইতে বিরত হইব না", তাহা বিবেচনা করিয়া,

পৃথিবীর শীর্ষ পরিণাম ২০০৫, যাহাতে রাজ্য এবং সরকারের প্রধাণ জনগণের স্বাধীনতা এবং মর্যাদার সহিত দারিদ্র এবং হতাশা হইতে মুক্ত অবস্থায় বসবাস করিবার অধিকার দৃঢ়তার সহিত ব্যক্ত করিয়াছিলেন এবং স্বীকার করিয়াছিলেন যে "প্রত্যেকটি মানুষ, বিশেষ করিয়া মর্মে আঘাত করা যায় এমন ব্যক্তিগণ ভয় হইতে মুক্তি এবং অভাব হইতে মুক্তি পাইতে অধিকারী এবং তাহাদের সকল অধিকার ভোগ করিতে এবং তাহাদের মানবিক সুপ্ত ক্ষমতা পরিপূর্ণ ভাবে উন্নত করিতে সমান সুযোগের অধিকারী," ইহাও বিবেচনা করিয়া,

১৪ই এপ্রিল ২০০৫ সালের ২০০৫/১৬ মানবাধিকার আয়োগের সিদ্ধান্ত যাহাতে আয়োগ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করিয়াছিল যে আর্থিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থান নির্বিশেষে পৃথিবীর সকল দেশে চরম দারিদ্র বিরাজমান এবং দৃঢ়তার সহিত ব্যক্ত করিয়াচিলেন যে চরম দারিদ্র এবং সমাজ হইতে বিতাড়ন মানবিক মর্যাদা ভঙ্গকারী বলিয়া গণ্য এবং রাজ্যের পক্ষে, তাহারা যে সমাজে বসবাস করে সেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াতে এবং মানবাধিকার উপলব্ধীতে দরিদ্রতম ব্যক্তিগণের অংশগ্রহণ উন্নত করা, অপরিহার্য, ইহা স্মরণ করিয়া,

২০০৫/১৬ সিদ্ধানে, আয়োগ ইহাও স্মরণ করিয়াছিলেন যে, স্ত্রীলোক এবং সন্তান সন্ততি সহ দরিদ্রের মধ্যে বসবাসকারী ব্যক্তিগণ যাহা সহ করিয়া থাকেন তৎসম্পর্কে একটি উন্নততর বোঝাপড়া প্রয়োজন, এবং দরিদ্রতম ব্যক্তিগণের দ্বারা বাহিত অবিজ্ঞতা এবং ধারণার উপর ভিত্তি করিয়া এবং তাহাদের সঙ্গে কর্ম সাধিতে দায়বদ্ধ ব্যক্তিগণের দ্বারা বিষয়টির উপর চিন্তা ভাবনা অবশ্যই করা প্রয়োজন, ইহা লক্ষ্য রাখিয়া,

মানবাধিকার এবং চরম দরিদ্রতার প্রশ্নের উপরে স্বাধীন সুদক্ষ ব্যক্তিগণের প্রতিবেদনের উপর মিস লিজিন এবং মিঃ সেনগুপ্ত (বিশেষতঃই/সিএন৪/২০০৪/৪৩, ই/সিএন.৪/২০০৫/৪৯, এবং ই/সিএন৪/২০০৬/৪৩,) বিশেষ করিয়া চরম দারিদ্রের নির্দিষ্ট উপাদান এবং চাবি কাঠি হিসেবে সামাজিক বিতাড়নের উপর মিঃ সেনগুপ্ত কৃত বিশ্লেষন- এর উপর দৃষ্টি রাখিয়া,

২০০১ সালের ২৩শে এপ্রিল তারিখের ২০০১/৩১ আয়োগের সিদ্ধান্তে যাহাতে আয়োগ উপ আয়োগকে অনুরোধ করিয়াছিলেন, চরম দারিদ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রসঙ্গে বর্তমান মানবাধিকার- এর নিয়ম ও মান রূপায়নের উপর পথ নির্দেশক তত্ত্ব উন্নয়নের প্রয়োজন বিবেচনা করিতে, তাহার উপর লক্ষ্য রাখিয়া,

২০০১ সালের ১৫ই আগস্ট তারিখের ২০০১/৮ ইহার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। যাহাতে বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক দলিলের ভিত্তিতে, উন্নয়নের প্রয়োজনে, আর্থিক দায়বদ্ধতা ছাড়া, একটি যৌথ কার্যকরী দস্তাবেজ প্রস্তুতির কার্যে উপ আয়োগের নিকট হইতে সুদক্ষ ব্যক্তিগণের একটি গোষ্ঠীর উপর আস্থা স্থাপন করিয়া ছিলেন,

অন্যান্য আলোচনা স্থলে এগিয়ে চলা কর্মসমূহ, মানবাধিকার এবং চরম দারিদ্রের উপর সুদক্ষ কর্মশালার সিদ্ধান্ত এবং সুপারিশ সমূহ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক জোগান, বিশেষ করিয়া সরকারের নিকট হইতে প্রাপ্ত চরম দারিদ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রসঙ্গে বর্তমান মানবাধিকারের নিয়ম ও মানের রূপায়নের উপর পথ নির্দেশক তত্ত্বসমূহ, স্মরণ করিয়া,

২০০৫ সালের ৮ই আগস্ট তারিখের ইহার নিজস্ব সিদ্ধান্ত ২০০৫/৯ যাহাতে ইহার ৫৮ তম অধিবেশনে তাহাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করিতে সুদক্ষ ব্যক্তিগণের বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত গোষ্ঠীকে অনুরোধ করিয়াছিল।

চরম দারিদ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রসঙ্গে বর্তমান মানবাধিকার-এর নিয়ম ও মান (এ/এইচআরসি/বিষয় ১/৫৮/১৬)-এর উপর বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত সুদক্ষ ব্যক্তিগণের সংযোগকারী মিঃ জোস বেনগোয়া-র চূড়ান্ত প্রতিবেদন আগ্রহের সহিত লক্ষ্য করিয়া

১| অএ সিদ্ধান্তের সহিত সংযোজিত খসড়া পথ নির্দেশক তত্ত্বাদি কে স্বাগত জ্ঞাপন করিয়া বিশেষতঃ যতদূর পর্যন্ত পথ নির্দেশক তত্ত্বাদিঃ

(ক) পৃথিবীর সমস্ত দেশের প্রতি সম্বোধিত এবং সকল মানবাধিকারের সর্বজনীনতা, অবিভাজ্যতা এবং পারস্পরিক নির্ভরতার উপর ভিত্তি করিয়া প্রতিষ্ঠিত;

(খ) নিকট সহযোগিতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত দারিদ্রতা এবং চূড়ান্ত বিতাড়ন হইতে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিগণ সহ সমস্ত মানুষের জন্য সকল মানবাধিকারের ফলপ্রসূ উপলব্ধির দিকে নির্দেশিত;

(গ) সহস্রবৎসরিক ঘোষনার রূপায়নের প্রতি এবং সমস্ত দেশে উন্নয়নের অধিকারের উপলব্ধির প্রতি গুরুত্বপূর্ণ অবদান প্রস্তুত করে;

(ঘ) দরিদ্রের প্রতি নূতন সংযোগদান যাহা মানবাধিকারের প্রতি সম্মান এবং বাস্তব ব্যবস্থার অধিগ্রহণ একত্রিত করিবার সমীপবর্তী হওয়াকে সমর্থন করে;

২| যাহাদের এই পথ নির্দেশক তত্ত্বদি খসড়া প্রস্তুতির জন্য অবদান রহিয়াছে, বিশেষ করিয়া ব্যাংকক, পিয়ারেলায়ে, ফ্রান্স, পুনে, ভারতবর্ষ এবং সাওপাওলো, ব্রাজিল, এমনকি সামাজিক সাধারণ আলোচনা স্থলে অনুষ্ঠিত অধিবেশন সমূহ, বিশেষতঃ চরম দারিদ্রের অবস্থায় যে সকল ব্যক্তি এই আশা করিয়াছেন যে এই সকল তত্ত্বাদি তাহাদিগকে তাহাদের মর্যাদা বজায় রাখার এবং তাহাদের অধিকারাদি পুনরুদ্ধারের দৈনন্দিন প্রয়াসে উৎসাহিত করিবে, এবং এই সকল ব্যক্তি যে সকল পরিবর্তন পোষণ করিবেন যেগুলি তাহারা বিধিসম্মত ভাবে ব্যাকুল হইয়া কামনা করেন;

৩| অএ সিদ্ধান্তের সহিত সংযোজিত খসড়া পথ নির্দেশক তত্ত্বাদি এবং বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত সুদক্ষ ব্যক্তিগণের গোষ্ঠীর চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুমোদন করে;

৪| সুদক্ষ ব্যক্তিগণের সহিত এবং চরম দারিদ্র অবস্থায় থাকা ব্যক্তিগণের সহিত এবং সমিতি সকল যাহারা পাশাপাশি কাজ করিয়া দায়বদ্ধ তাহাদের সহিত সাধারণ সভাতে সেগুলি প্রেরণ ও গ্রহণ করিবার উদ্দেশ্যে এই পথ নির্দেশক তত্ত্বাদি পাঠ করিতে মানবাধিকার পর্ষদকে অনুরোধ করে।

২১তম সভা, ২৪শে আগস্ট ২০০৬ বিনা ভোটে গৃহীত। মানবাধিকার উন্নয়ন ও সংরক্ষণ- এর উপর উপ আয়োগ,

[সম্পাদনা] পরিশিষ্ট-খসড়া পথ নির্দেশক তত্ত্বাদি "চরম দারিদ্র এবং মানবাধিকারঃ দরিদ্রের অধিকারাদি"

মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণা, অসামরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের উপর আন্তর্জাতিক চুক্তি, আর্থিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের উপর আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের দ্বারা গৃহীত অন্যান্য মানবাধিকার সংক্রান্ত দলিলাদি দৃঢ়তার সহিত সমর্থন করিয়া,

১৯৯৩ সালের ২৫শে জুন তারিখে মানবাধিকারের উপর বিশ্ব অধিবেশনের দ্বারা গৃহীত ভিয়েনা ঘোষণা ও কর্মসূচী, এবং ১৯৯৫ সালের ১২ই মার্চ তারিখে বিশ্বশীর্ষ বৈঠকে গৃহীত সামাজিক উন্নয়নের উপর কোপেন হেগেন ঘোষণা এবং সামাজিক উন্নয়নের জন্য বিশ্ব শীর্ষ বৈঠকের কর্মসূচী, ১৯৯১ সালের ১৭ই ডিসেম্বর তারিখে সাধারণ সভার দ্বারা গৃহীত ৪৬/১২১ সিদ্ধান্ত এবং ঐ বিষয়ের উপর সভার পরবর্তী সিদ্ধান্ত ২০০০ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর তারিখে সাধারণ সভার দ্বারা গৃহীত সহস্রবর্ষের ঘোষণা এবং ঘোষণাতে উল্লেখিত উন্নয়ন-এর উদ্দেশ্য যাহার দ্বারা দারিদ্র দূরীকরণ করিতে রাজ্যগুলি যথাসাধ্য সচেষ্ট হইয়াছিলেন, তাহা বিবেচনা করিয়া,

২০০৫ সালের বিশ্বশীর্ষ বৈঠকের পরিণতি যাহাতে রাষ্ট্র প্রধানগণ জোড়ের সহিত "স্বাধীনতা ও মর্যাদার সঙ্গে, দারিদ্র ও হতাশা হইতে মুক্ত অবস্থায় জনগণের বসবাস করিবার অধিকার"- এর কথা ব্যক্ত করিয়াছিলেন, এবং স্বীকার করিয়াছিলেন যে "প্রত্যেক ব্যক্তি, বিশেষ করিয়া মর্মে আঘাত করা যায় এরূও জনগন ভীতি হইতে স্বাধীনতা, অভাব হইতে স্বাধীনতা, তাহাদের সমস্ত প্রকার অধিকার ভোগ করিবার সমান সুযোগ এবং পরিপূর্ণ ভাবে তাহাদের মানবিক সুপ্ত ক্ষমতা উন্নয়ন করিতে অধিকারী," ইহাও বিবেচনা করিয়া,

১৯৯৯ সালের ২২শে ডিসেম্বর তারিখের ৫৮/২৩২ সাধারণ সভার নিজস্ব সিদ্ধান্তে এবং উক্ত বিষয়ের উপর পরবর্তীকালের কয়েকটি সিদ্ধান্তে সাধারণ সভার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করিয়াছিলেন যে চরম দারিদ্র অবস্থার দ্বারা স্ত্রীলোক ও ছেলে মেয়েরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হইয়া থাকেন, এবং যে ২০০৪ সালের ২০শে ডিসেম্বর তারিখের ৫৯/১৮৬ ইহার __ সাধারণ সভা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করিয়াছিলেন যে চরম দারিদ্র __ দেশেই, তাহাদের আর্থিক, সামাজিক এবং সংস্কৃতিক অবস্থায় নির্বিশেষে, বিরাজমান, ইহা স্মরণে রাখিয়া

১৯৯২ সালের ১৮ই ডিসেম্বর তারিখে ইহার ৪৮/১৩৪ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হইতে সাধারণ সভা বারংবার দৃঢ়াতার সহিত উচ্চারণ করিয়াছে যে চরম দারিদ্র এবং সমাজ হইতে বিতাড়ন মানবিক মর্যাদা ভঙ্গ করে, এবপ্নগ জনসংখ্যার দরিদ্রতম শ্রণীর অভিজ্ঞতা ও ধারণার উপর ভিত্তি করিয়া, চরম দারিদ্র অবস্থার একটি সম্পূর্ণ এবং গভীর পাঠক্রমের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়াছেন, যে কর্তব্য কর্ম সাধিত হইয়াছে, বিশেষ করিয়া উপ আয়োগের বিশেষ উদ্দেশ্য গঠিত সুদশ গোষ্ঠীর দ্বারা, তাহাও স্মরণে রাখিয়া,

দারিদ্রের মধ্যে বসবাসকারী জনগণ, এবং বিশেষতঃ চরম দারিদ্রের মধ্যে থাকা জনগনকে সর্বপ্রথম তাহাদের অবস্থার এবং তাহাদের পরিবারের অবস্থার পরিবর্তনের জন্য কার্য করিতে হইবে। এবং তাহাদের প্রয়াস অগ্রাধিকার প্রাপ্তির বিষয় হিসেবে চিহ্নিত ও সমর্থিত হওয়া উচিত, ইহা বিবেচনা করিয়া,

সাধারণ সভা যে ভাবে জোড়ের সহিত ব্যক্ত করিয়াছে যে, চরম দারিদ্র দূরীকরণ বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার পক্ষে একটি বৃহৎ প্রতিবন্ধক, যাহা কেবলমাত্র লাগাতার আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং জাতীয় স্তরে স্থির সংকল্প হইতে উদ্ভৃত সুসঙ্গবদ্ধ নীতির দ্বারা মীমাংসিত হইতে পারে, ইহা স্বীকার করিয়া, বহু বিস্তৃত সমূর্ণ দারিদ্র মানবাধিকারের পূর্ণ ও __ দমন করে এবং গণতন্ত্র ও জনগণের অংশ গ্রহণকে ভঙ্গুর করে, সাধারণ সভার পরে ইহা পূনর্বার ইতিবাচক ভাবে ব্যক্ত করিয়া, মানব পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্যের সহজাত মর্যাদা এবং তাহাদের সমান ও হস্তান্তর যোগ্য অধিকার সমূহ দাবী করে যে, দারিদ্র ও বিতাড়ন হইতে সর্বপেক্ষাভুক্ত ভোগী যাহারা তারাদের প্রতি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে মনঃসংযোগ করা উচিত, ইহা বিবেচনা করিয়া,

চরম দারিদ্র বিশ্বব্যাপী বিরাজমান এবং ইহা মানবাধিকারকে অস্বীকার করে এবং কোন কোন অবস্থায় বাঁচার অধিকারকে ভীতি প্রদর্শন করিয়া থাকে, এবং সুবৃহৎ অগ্রাধিকার হিসাবে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবশ্যই ইহা ত্বরি-ঘরি উপশম এবং শেষ পর্বে দূরীকরণের প্রচেষ্টা চালাইয়া যাইতে হইবে, ইহা জোরের সহিত ব্যক্ত করিয়া,

মানবিক অধিকারের উপর আয়োগের প্রাসঙ্গিঁক বিচার ও সিদ্ধান্ত যাহা বারংবার পৃথিবীতে দারিদ্র অবস্থার নিন্দা করিয়াছে, এবং জোরের সহিত ব্যক্ত করিয়ায়ছে যে ইহা ব্যক্তির মৌলিক অধিকার কে অস্বীকার এবং দারিদ্রতার ঘোষণা এবং

২০০১ সালের ৪ঠা মে তারিখে আর্থিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের উপর কমিটির গৃহীত আর্থিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের উপর আন্তর্জাতিক চুক্তি, এবং তাহা স্মরণে রাখিয়া, সেই প্রসঙ্গে, ২০০১ সালের ২৩শে এপ্রিল তারিখে, আয়োগ সিদ্ধান্ত ২০০১/৩১ এবং উক্ত বিষয়ের উপর ইহার অন্যান্য সিদ্ধান্তে আয়োগকে অনুরোধ করিয়াছিলেন, বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত সুদক্ষ ব্যক্তিগণের একটি গোষ্ঠীর সাহায্যে, চরম দারিদ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রসঙ্গে মানবাধিকারের নিয়ম ও মানের রূপায়নের উপর পথ নির্দেশক তত্ত্বাদি প্রস্তুত করিতে, ইহা বিবেচনায় রাখিয়া,

নিম্নলিখিত পথ নির্দেশক তত্ত্বাদি, যাহা বিবেচনার্থে ইহা মানবাধিকার পর্ষদের নিকট পেশ করে এই আশা পোষন করিয়া যে সকল স্বার্থযুক্ত পক্ষগণ তাহাদের দ্বারা গৃহীত হইবার উদ্দেশ্যে গভীর আলোচনার মধ্যে নিজ দিগকে জড়িত রাখিবেন এবং এই গুলি গ্রহণ করিলেন।

[সম্পাদনা] মানবাধিকার এবং চরম দারিদ্রঃ দরিদ্রের অধিকারাদি

১| বসবাসের যথোচিত মান এবং অন্যান্য অসামরিক, সাংস্কৃতিক, আর্থিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকারাদি উপভোগের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ, সামর্থ, পছন্দ, নিরাপত্তা এবং ক্ষমতা হইতে বহুদিন সহ্য করা বা দীর্ঘস্থায়ী বঞ্চনার দ্বারা সৃষ্ট বৈচিত্র এই যে দারিদ্র একটি মানবিক অবস্থা।

২| চরম দারিদ্র এবং সমাজ হইতে বিতাড়ন মানবিক মর্যাদার ভঙ্গকারী বলিয়া পরিগণিতল; ফলতঃ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ব্যবস্থার অন্তর্ভূক্তির পরিকল্পনা সেইগুলি বাদ দিবার পক্ষে একটি অগ্রাধিকার।

৩| চরম দারিদ্রের মধ্যে বসবাসকারী ব্যক্তিগণ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে নীতি ও কর্মসূচী দাবী করিতে অধিকারী এবং চরম দারিদ্র দূরীকরণের পথ নির্দেশক তত্ত্বাদি অনুযায়ী ফল প্রসূভাবে তাহা রূপায়িত হওয়া উচিত।

৪| চরম দারিদ্রের মধ্যে বসবাসকারী ব্যক্তিগণ, তাহাদের সহিত সংশ্লিষ্ট বিচার সমূহ গ্রহণে যোগদানের অধিকার সহ সকল পূর্ণ উপভোগে অধিকারী; এবং তাহাদের পরিবার এবং __ মঙ্গলের জন্য কিছু অবদান থাকা জরুরী।

৫| চরম দারিদ্র দূরীকরণের জন্য রাজ্যগুলির এবং স্থানীয়, জাতীয় আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক স্তরে সমাজের প্রতিটি মাধ্যমে একটি করিয়া নৈতিক বাধ্যবাধকতা আছে; এতদুদ্দেশ্যে তাহাদিগকে চরম দারিদ্রের মধ্যে বসবাসকারী ব্যক্তিগণের সহিত অংশীদারীত্বে অবয়ববাদীতার সহিত জাবাবদিহি করিতে বাধ্য থাকিয়া অবশ্যই কাজ করিতে হইবে; এবং প্রযোজ্য আইনী মান অনুযায়ী সর্বস্তরে, বিশেষ করিয়া স্থানীয় ও জাতীয় স্তরে তাহাদের গৃহীত পদক্ষেপের উপর অবশ্যই নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রতিবেদন পেশ করিবে। আন্তর্জাতিক স্তরে চুক্তি সমূহকে মান্যতা দান করিয়া বিশেষ করিয়া অসামরিক ও রাজনৈতিক অধিকারাদির উপর আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং আর্থিক সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অধিকারাদির উপর আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসারে চুক্তি মান্যতাকারী কতৃপক্ষের নিকট রাজ্যগুলি নির্দিষ্ট সময় অন্তর তাহাদের গৃহীত পদক্ষেপের প্রতিবেদন পেশ করিবে।

৬| রাজ্যগুলি, আন্তঃ সরকারী সংস্থা সমূহ এবং জাতীয় সীমানা অতিক্রমকারী উদ্যোগসমূহ এবং বেসরকারী সংস্থা সমূহ, অন্যান্যের সহিত ইহাদের দায়িত্ব আছে মানবাধিকার কে হিসাবের মধ্যে রাখা এবং তাহাকে পরিপূর্ণ সম্মান দেওয়া। বিশেষতঃ যে সকল তত্ত্বাদি বর্তমান দস্তাবেজে লিপিবদ্ধ করা হইল। উপরলিখিত অস্তিত্ব সমূহের দ্বারা এই সকল অধিকারাদির লংঘন অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত বিচার হইতে উদ্ভৃত যেমনই হউক, মানবাধিকারের ভঙ্গ বলিয়া গন্য হইবে, এবং তাহাদের অপরাধ সাধনকারীদের কে দায়ী করা উচিত এবং সেই সঙ্গে উপযুক্ত আইনী পরিনামের জন্য তাহারা দায়ী।

[সম্পাদনা] ক| দারিদ্রের যোগদান

৭| চরম দারিদ্রের মধ্যে বসবাসকারী ব্যক্তিগণের, তাহাদের সংশ্লিষ্ট সকল কার্যাবলী, বিশেষ করিয়া চরম দারিদ্র দূরীকরণের জন্য কর্মসূচীতে যোগদানের অধিকার আছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ এবং তাহাদের সমিতি ও সংস্থার যোগদান ব্যতিরেকে ঐরূপ নীতি ও কর্মসূচী রূপায়ন, জনসাধারণের ব্যাপারে যোগদানের অধিকার ভঙ্গ বলিয়া পরিগণিত হইবে।

৮| মানবাধিকার উন্নয়ন এবং চরম দারিদ্রের সহিত লড়াইয়ের প্রয়াসে রাজ্যগুলির উচিত, দারিদ্রতম ব্যক্তিগণ, যে সমাজে বসবাস করে সেই সমাজের বিচার প্রস্তুতির প্রক্রিয়াতে, তাহাদের যোগদানের উন্নতি বিধান করা। তাহাদের আরও উচিত দারিদ্রের মধ্যে বসবাসকারী ব্যক্তিগণকে ক্ষমতা দান এবং মর্মে আঘাত করা যায় এমন গোষ্ঠীকে নিজেদের মধ্যে বিন্যস্ত করা এবং রাজনৈতিক, আর্থিক, এবং সামাজিক জীবনে বিশেষতঃ তাহারা ক্ষতিগ্রস্ত হইতে পারে এরূপ নীতির পরিকল্পনা ও রূপায়নের সকল দিশাতে অংশগ্রহণ, এই ভাবে উন্নয়নের বিষয়ে তাহাদিগকে প্রকৃত অংশীদার হইতে সমর্থ করা।

৯| দারিদ্রকে স্ত্রীসুলভ হইতে দেওয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রত্যেকটি কর্মক্ষেত্রে রাজ্যের কর্মশক্তি প্রয়োগ করা উচিত এবং তাহাদের সকল দারিদ্র বিরোধী কর্মসূচীতে স্ত্রী জাতির অংশ গ্রহণ সুনিশ্চিত করা উচিত। চরম দারিদ্র দূরীকরণের লক্ষ্যে প্রত্যেকটি কর্মসূচীতে বা আইন প্রনয়নে স্ত্রী জাতি ও পুরুষ জাতির পৃথক অবস্থান হিসেবে __ লওয়া উচিত; এবং সম্পদ ব্যবহার, অধিকার সমীপে গম__ অনুশীলন এবং পারিবারিক জীবনের প্রতি পালন বিষয়ে __ মধ্যে এবং স্ত্রী জাতি ও পুরুষ জাতির মধ্যে প্রভেদ সংশোধন করা উচিত।

১০| দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াই এর কর্মসূচী প্রকাশ্য ভাবে প্রাপ্তব্য হওয়া উচিত এবং তাহার একটি নির্দিষ্ট নিশানা থাকা উচিত এবং তাহাদের রূপায়নের মূল্যায়নের সুবিধার্থে তথা সতর্কতা এবং কৈফিয়ৎ দিয়ে দায়বদ্ধতার জন্য কার্য সাধনের বন্দোবস্ত হেতু নির্দেশক যন্ত্র সুনির্দিষ্ট করা উচিত। রাজ্য এবং জনসাধারণ এবং যে সরকারী সংস্থা যাহার দারিদ্র হ্রাস ও দূরীকরণের নীতি ও কর্মসূচী রূপায়ন করে, চরম দারিদ্রের মধ্যে বসবাসকারী ব্যক্তিগণ অংশগ্রহণ করে এরূপ সাধারণের আলাপ আলোচনার স্থান প্রতিষ্ঠা করিতে উৎসাহিত করা উচিত।

[সম্পাদনা] খ| প্রভেদ এবং কলঙ্কলেপন

১১| চরম দারিদ্রের মধ্যে বসবাসকারী ব্যক্তিগণের মধ্যে প্রভেদ সৃষ্টি অবশ্যই মানবাধিকার ভঙ্গ হিসেবে দন্ডযোগ্য। দরিদ্র ব্যক্তিগণের উপর কলঙ্কলেপন এবং তাহাদের সমিতি, গোষ্ঠী, প্রতিবেশী এলাকা বা বাসস্থান এবং অধিকারবিহীন ব্যক্তি হিসাবে তাহাদের প্রতিনিধিত্ব, যাহারা বিপদজনক, হিংস্র এবং অন্যান্য নেতিবাচক বৈশিষ্ট প্রদর্শন করে, সেগুলি প্রভেদের প্রকার হিসাবেই মান্যতা দিতে হইবে। তাহাদের প্রতিকৃতি, তাহাদের পোষাক, তাহাদের দৈহিক আকৃতি বা তাহাদের চরম দরিদ্র অবস্থার সহিত সম্পর্কিত অন্য কোন কারণ অবশ্যই মানবাধিকার লংঘন বলিয়া গন্য হয়। রাজ্য, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষগণের, দরিদ্র ব্যক্তিগণের প্রতি কলঙ্কলেপনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবং উক্তরূপ কার্যের জন্য সমালোচনা করিতে তাহাদের দায়িত্ব আছে; এবং যাহারা চরম দারিদ্র অবস্থায় আছে সেই সমস্ত ব্যক্তিগণের সুষম এবং উজ্জ্বল ভাবমূর্তি গঠন __।

১২| মাধ্যম এবং শিক্ষা ব্যবস্থা প্রভেদ এবং কলঙ্কলেপন প্রক্রিয়াতে একটি মূখ্যভূমিকা গ্রহণ করে, এবং সেকারণ এরূপ অবস্থার সঙ্গে লাড়াইয়ের প্রয়াসেও একই রূপ।

১৩| সরকারী আধিকারিক, আন্তর্জাতিক সংস্থা সমূহের আধিকারিকগণ, মানবিক সংস্থা সমূহের নিযুক্ত ব্যক্তিগণ এবং দারিদ্র দূরীকরণের জন্য যে সমস্ত ব্যক্তি কর্মে রত, আশা করা যায় তাহারা চরম দারিদ্রের মধ্যে বসবাসকারী ব্যক্তিগণের মর্যাদা এবং মৌলিক অধিকারের জন্য সম্মানের সম্পর্ক প্রতিপালন করবেন, বিশেষ করিয়া মানবিক সম্পর্কে মানবিক পরিসেবায়, পরিকল্পনা প্রস্তুতিকরণে এবং রূপায়ণে। সমাজকল্যাণ পরিকল্পনায় নিযুক্ত ব্যক্তিগণের এই সমস্ত দায়িত্ব আছে, এবং দারিদ্রবস্থার উপর ভিত্তি করিয়া প্রভেদ হইতে স্বাধীনতার অধিকার এমন একটি অধিকার যাহা দরিদ্রের জন্য অবশ্য নিশ্চিতকরণ করিতে হইবে।

ধারা-২

[সম্পাদনা] গ| অধিকারাদির অবিভাজ্যতা এবং পারস্পরিক নির্ভরতা

১৪| চরম দারিদ্রতার মধ্যে বসবাসকারী সকল ব্যক্তিগণের সকল মানবাধিকার উপভোগের অধিকার আছে, যেগুলি অবিভাজ্য, পারস্পরিক নির্ভরশীল এবং সার্বজনীন। চরম দারিদ্র দূরীকরণের জন্য মানবাধিকার প্রয়োগ সমস্যামূলক, কারণ একটি অধিকারের অস্বীকৃতি ব্যক্তি বিশেষের অধিকারাদির সামগ্রিকতার উপর একটি বিরূপ প্রভাব পড়ে। যাহা হউক, বিচ্ছিন্ন ভাবে কোন অধিকারের পুনরুজ্জীবন, পৃথক পৃথক ব্যক্তি, তাহাদের পরিবারবর্গ এবং তাহাদের সম্প্রদায় চরম দারিদ্র __ উত্থিত হইবে ইহা নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নহে।

ঘ| চরম দারিদ্রের মধ্যে বসবাসকারী সকল ব্যক্তি সর্বত্র আইনের সম্মুখে উপস্থিত ব্যক্তিগণ বলিয়া চিহ্নিত হইবার অধিকারী হইবেন। তাহারা যে সম্প্রদায়ের মধ্যে বসবাস করেন, সেখানে স্থায়ী নিবাস পাইতে সেই সম্প্রদায়ের জীবনে পরিপূর্ণভাবে যোগদান করিতে, তাহাদের দখলে পরিচয় পত্র রাখিতে বা অন্য কোন দস্তাবেজ যাহা তাহাদের নাগরিকত্বের প্রমান বা তাহাদের আইন সঙ্গত পদ মর্যাদা রাখিবার অধিকার আছে। এবং মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাতে লিপিবদ্ধ অসামরিক ও রাজনৈতিক অধিকারাদি এবং অসামরিক ও রাজনৈতিক অধিকারাধির উপর আন্তর্জাতিক চুক্তিতে লিখিত সমস্ত অধিকার উপভোগ করিতে পারিবে। তাহারা যে রাজ্যের অধিবাসী সেই রাজ্যের পূর্ণ নাগরিকত্ব উপভোগ করিবে, এবং সেই রাজ্যের রাজনৈতিক জীবনে প্রভেদ ছাড়া যোগদান করার অধিকার আছে এবং তাহারা জনসাধারণের ব্যাপারে অংশ গ্রহণ করার অধিকার আছে। একক কিংবা সামগ্রিক, তাহাদের চরম দারিদ্র অবস্থার ভিত্তিতে দারিদ্রগণের অসামরিক ও রাজনৈতিক কোন অধিকারের অস্বীকৃতি সাংঘাতিক প্রভেদ হিসাবে গন্য হইবে।

১৬| চরম দারিদ্র মধ্যে বসবাসকারী ব্যক্তিগণের পরিবার গঠন করিতে, সন্তান-সন্ততি প্রতিপালন করিতে, তাহাদের যত্ন লইতে, তাহাদের বড় করিতে এবং মানবজাতির প্রত্যেকের সহজাত মৌলিক মর্যাদা ভোগ করিতে এবং পারিবারিক জীবন ও গোপনীয়তা সুনিশ্চিত করিতে অধিকার আছে।

১৭| চরম দারিদ্র্যতার মধ্যে বসবাসকারী ব্যক্তিগন, বিশেষ করিয়া স্ত্রীলোক এবং অল্পবয়সী বালক-বালিকার উপর রাজ্য বা বে সরকারী কর্মকর্ত্তা দ্বারা আরোপিত হিংস্রতা শেষ করিবার জন্য এবং যথোচিত পুলিশী সুরখা দিবার বিশেষত: সরকারের একটি কর্ত্তব্য আছে। সাধারণ ভাবে জনগণের জন্য বিশেষ করিয়া পুলিশ বাহিনীর জন্য রাজ্য অবশ্যই শিক্ষার কর্ম্মসূচী গ্রহন করিবে যাহাতে দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসকারী ব্যক্তিগণের বিরুদ্ধে অ-প্রভেদ উন্নত করা যায়। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসকারী ব্যক্তিগণ অবশ্যই অন্যান্য ব্যক্তিগণের ন্যায় সমানাধিকার ভোগ করিবে এবং তাহাদের জন্য প্রভেদমুক্ত ন্যায় বিচারের দরজা খোলা থাকিবে। দারিদ্র্য অবস্থার মধ্যে বসবাসকারী ব্যক্তিগনের বিরুদ্ধে বোন হিংস্র কার্য্য এবং প্রভেদ সৃষ্টির জন্য দায়ী যে কোন ব্যক্তি বিচারের আওতায় আনিয়া অবশ্যই দণ্ডদান করিতে হইবে।