মিথ্যার মুখোমুখি প্রতিদিন (গ্রন্থ)

উইকিসংকলন থেকে

মিথ্যার মুখোমুখি প্রতিদিন
মুনির হাসান
ISBN: 984-300-001701-9
প্রকাশক‌ সাম্পান প্রকাশন, চট্টগ্রাম
খরচ বাদ দিয়ে এই সংস্করণের উদ্দৃত্ত টাকা যাবে সমাজ অধ্যয়ন কেন্দ্রের গ্রন্থাগার তহবিলে।
গ্রন্থস্বত্ব: লেখক এই গ্রন্থের স্বত্ব ত্যাগ করেছেন, যে কেউ পূর্বানুমতি ছাড়াইএই পুস্তকটি বা অংশবিশেষ মুদ্রণ, বিতরণ ও ফটোকপি করতে পারবেন।


পরিচ্ছেদসমূহ

[সম্পাদনা] সমাজ অধ্যয়ন কেন্দ্রের বক্তব্য

১৯৯১ সালে সমাজ অধ্যয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। সাধারণের মাঝে মুক্ত বুদ্ধির চর্চা প্রসার করা এই সংগঠনের লক্ষ্য। সামাজিক উন্নয়ন ও যুক্তিসিদ্ধ মানসিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা, সেমিনার, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, র‌্যালী প্রভৃতির আয়োজন করা। এ শুধু সমস্যার গভীরে যাওয়া নয় বরং সংকটের দিক নির্দেশনা বের করার চেষ্টাও বটে। সমাজ অধ্যয়ন কেন্দ্র উন্নয়নের বাধা ও মানুষের মনের বন্ধ্যাত্ব ও অন্ধত্ব ঘোচাতে নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। একটি বহুমুখী লাইব্রেরী গঠন করেছে যা পুস্তক, জার্নাল ইত্যাদি ছাড়াও সিনেমা, ভিডিওকেও মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করছে। সব ধরনের সাংস্কৃতিক হাতিয়ারকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনার অংশ হিসাবে বিজ্ঞান লেখক মুনির হাসানের এই পুস্তক প্রকাশনার উদ্যোগ। বর্তমান সময়ে শিক্ষার সীমিত প্রসার, ধর্মাশ্রয়ী নিপীড়নমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা এবং মুনাফামুখী অর্থনীতি সমাজে হতাশা, বেকারত্ব এবং অসহায়ত্বের জন্ম দেয়। পুঁজিতন্ত্রের এ ব্যবস্থা সমাজের অধিকাংশকে উৎপাদনের উপকরণের মালিকানা থেকে ক্রমাগত বিচ্ছিন্ন করে। এ বিচ্ছিন্নতা ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে গড়ে উঠে পীর সাধু ও জ্যোতিষচক্র। অলৌকিকতার দোহাই দিয়ে, অপবিজ্ঞানের কুশলি প্রয়োগ করে একদিকে একদল মুনাফা লুটে এবং অন্যদিকে জনগণের অধিকার এবং ন্যায়ের সংগ্রাম বিভ্রান্ত হয়। আজকাল এও দেখা যায় যে বহুজাতিক কোম্পানীগুলোও তাদের পণ্য বিক্রি প্রসারের লক্ষ্যে মানুষের সংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসকে কাজে লাগায়। সমাজ অধ্যায়ন কেন্দ্র মনে করে এসবের মুখোশ খুলে দেয়া দরকার। মুনির হাসান যুক্তি এবং সাহসের উপর ভর করে সে কাজটি করেছেন। যে সব প্রথা ও বিশ্বাস মিথ্যা কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে মুনির হাসান দীর্ঘ সময় ধরে সেগুলোর সত্য ফাঁস করে আমাদের মনোলোকের অন্ধকারে বিজ্ঞান সমর্থিত সত্যের রশ্মি ফেলে আসছেন। আমরা মনে করি কুসংস্খার অন্ধবিশ্বাস, অলৌকিকতা, শিক্ষা ব্যবস্থা ও সংস্কৃতিতে যে সব পশ্চাদপদ ধারণা ও বিশ্বাসকে চারিত করে তাদের বিরুদ্ধে একটি সামাজিক আন্দোলন তৈরির জন্য মানুষের হাতে মুনির হাসানের এ পুস্তক লড়বার মতো প্রয়োজনীয় তুন তুলে দেবে।

[সম্পাদনা] ঋণ স্বীকার

প্রফেসর অনুপম সেন
ডাঃ মাহফুজুর রহমান
বক্তেয়ার হোসেন চৌধুরী
নজরুল ইসলাম দীপু
প্রকৌশলী চৌধুরী আনিসুল হক
স্থপতি সোহেল এম শাকুর
আনোয়ার পাশা সিদ্দিকী
আলহাজ্ব রফিকুল আনোয়ার
হাজী মাহমুদুর রহমান
জসীম উদ্দিন আহমেদ
সাইফুদ্দিন খালেদ বাবুল
মোঃ নুরুল হক
মোঃ আবু জাফর
মোঃ কবির উদ্দিন ভূঁইয়া
আহমদ উল্লা
এস. এম. শামসুদ্দিন
সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার
আকুয়া ফিশারীজ লিমিটেড
মেরিন সার্ভিস এন্ড ট্রেডার্স


[সম্পাদনা] মুখবন্ধ

বিশ্বজগতের সত্য উদ্ঘাটন আর মানুষের কল্যাণই যুগে যুগে নানারকম দর্শন আর ধর্মমতের লক্ষ্য বলে ঘোষিত হয়েছে। দর্শনের উদ্ভব এ যাবৎ কম হয় নি; ধর্মমতের আবির্ভাব ঘটেছে তার চেয়েও ঢের বেশি। কিন্তু তবু মানুষের সমাজ আর জীবন থেকে মিথ্যাকে সরানো যায় নি, পৃথিবীর বিরাট অংশ জুড়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণও থেকেছে সুদূরপরাহত। অপেক্ষাকৃত আধুনিক কালে বিজ্ঞানের উদ্ভব ঘটেছে- সেও ঐ সত্য উদঘাটন আর মানব কল্যাণের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই। গত কয়েক শতাব্দী ধরে প্রধানত পশ্চিমের দেশগুলোতে এবং সাম্প্রতিক কালে প্রাচ্যের কিন্তু দেশে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির বিপুল বিকাশ ঘটেছে। শিক্ষা-দীক্ষার প্রসার, বিজ্ঞানের মুক্তবুদ্ধির চেতনা মানুষকে যেমন প্রকৃতির নানা রহস্য সন্মন্ধে কৌতুহলী করে তুলেছে তেমনি দিয়েছে তাকে সে সব রহস্য উদঘাটনের কৌশল আর অন্ধ সংস্কার থেকে মুক্তি। কিন্তু তা বলে পশ্চিমী জগতের সব মানুষ যে সত্যিকার ভাবে কুসংস্কারের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে তা বলা যায় না। আজো পথ চলতে কালো বেড়াল, অপয়া ১৩ সংখ্যা প্রভৃতি বহু মানুষের মনে অজানা জুজুর আতঙ্ক সৃষ্টি করে। নিজের ভাগ্যের গতি-প্রকৃতি জানার জন্য রাশিচক্রের দ্বারস্থ মানুষের সংখ্যাও সেসব দেশে অগুনতি। শিক্ষা-দীক্ষায় অগ্রসর দুনিয়ার মানুষদেরই যদি এই হাল হবে তাহলে দীর্ঘকাল ধরে অশিক্ষার অন্ধকারে নিমজ্জিত আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের মানুষের কি দশা হতে পারে তা সহজেই বোঝা যায়। তারা একদিকে যেমন পুঁজির জন্য মহাজনদের কাছে বাঁধা তেমনি পরকালের সদগতির জন্য অনেকে বাঁধা পড়ে যায় একশ্রেণীর ধর্মব্যবসায়ীর কাছে। আর তাদের অসচেতনতার সুযোগ নেয় শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত নানা ধরনের ধূর্ত মানুষেরা। এরা এভাবে প্রভাব বিস্তার করতে থাকে দেশের রাজনীতি আর অর্থনীতিতে, সর্বস্তরের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। আর তাই প্রতিদিন আমাদের মুখোমুখি হতে হয় নানা ধরনের মিথ্যার। এসব মিথ্যা একদিকে যেমন প্রশ্রয় পায় সাধারণ মানুষের অসচেতনতা থেকে তেমনি জন্মায় ধূর্ত শোষকশ্রেণীর মানুষদের নানা কারসাজিতেও। প্রায়ই নিরূপায় হয়ে আমরা অনেক, মিথ্যাকে মেনে নিই, তার কাছে আত্মসমর্পণ করি। কিন্তু বিজ্ঞানের কাজ তো মিথ্যাকে মেনে নেয়া নয়, তার বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে লড়তে নামা। অতীতে বিজ্ঞানীরা অনেক সময় প্রচুর ঝুঁকি নিয়েছেন মিথ্যার বিরুদ্ধে লড়তে গিযে, সত্যকে স্পষ্ট ভাষায় সত্য বলতে গিয়ে। গ্রিসে সক্রেটিস আর হাইপেশিয়া, ইরানে ইবন সিনা, ইতালিতে ব্র“নো আর গ্যালিলিও—এমনি অসংখ্য মনীষী অকুতোভয় সত্যসন্ধানী হিসাবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। আজকে বিজ্ঞানের বিপুল বিস্তারের যুগে সত্যসন্ধানীদের হয়তো আর অতটা বিপদের ঝুঁকি নিতে হয় না। পুরনো দিনের অনেক সংস্কার আজ ঝরে পড়েছে অথবা ঝরে পড়ার মুখে। ডাইনী আর ভূতের ভয় বিজলির আলোয় আলোকিত বাংলাদেশের গ্রাম থেকেও আজ ক্রমেই পারাবার পথ খুঁজছে। কিন্তু তবু আজও মিথ্যার মুখোমুখি হচ্ছি আমরা প্রতিদিনই। তারই কিছু দৃষ্টান্ত নিয়ে মুনির হাসান-এর এই ব্যতিক্রমী বইটি। মুনির হাসান-এর প্রসঙ্গ আর শিরোনাম নির্বাচনে মুনশিয়ানা আছে। বক্তব্য প্রকাশের ভঙ্গিটিও বেশ শাণিত। তার ভাষা মেদহীন, ঋজু: রচনাগুলির মেজাজ হালকা, আকারও ছোট। তাতে পড়া যায় তরতবিয়ে অথচ প্রায়শ তার বক্তব্য হয়ে ওঠে অন্তর্ভেদী--- সহজেই তা পাঠকের বুকে (নাকি মগজে?) গিয়ে বেঁধে। আমাদের চারপাশে চালু অনেক ধরনের মিথ্যার মুখোশ খুলে ফেলতে এ বই সাহায্য করবে। আর আমার বিশ্বাস লেখকের এই দৃষ্টান্তগুলো থেকে পাঠক-পাঠিকারা নিজেরাই এমনি আরো অনেক মিথ্যার স্বরূপ উদঘাটন করতে পারবেন। পাঠকদের এভাবে তাদের চারপাশের নানা ধরনের মিথ্যার উপস্থিতি সম্বন্ধে সচেতন আর কৌতুহূলী করে তোলা, সেসবের স্বরূপ উদঘাটনে উৎসাহী করে তোলার মধ্যেই রয়েছে এ বইয়ের আসল সার্থকতা। আবদুল্লাহ আল মুতী জানুয়ারি ২৮.১৯৯৫

[সম্পাদনা] উৎসর্গ

দাদা মৌলভী আহমদ চৌধুরী
আমার দেখা প্রথম
আধুনিক মানুষ

[সম্পাদনা] সূচীপত্র