সূরা আল-ই-ইমরান

উইকিসংকলন থেকে

[সম্পাদনা] আল-ই-ইমরান

রুকুঃ ২০ আয়াতঃ ২০০

পরম করুণাময় পরম দয়াময় আল্লাহ্‌র নামে

||রুকু ১||

১. আলিফ-লাম-মিম।
২. আল্লাহ্‌ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব ও অনাদি।
৩. তিনি সত্যসহ তোমার ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যা তার পূর্বের কিতাবের সমর্থক।
৪. তিনি মানবজাতিকে সৎপথ প্রদর্শনের জন্য আগেই তওরাত ও ইঞ্জিল অবতীর্ণ করেছেন এবং অবতীর্ণ করেছেন ফুরকান (ন্যায়-অন্যায়ের মীমাংসা)। নিশ্চয় যারা আল্লাহ্‌র নিদর্শনাবলীকে অমান্য করে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। আল্লাহ্‌ তো পরাক্রমশালী দন্ডবিধাতা।
৫. আল্লাহ্‌র কাছে আকাশ ও পৃথিবীর কোনোকিছুই তো গোপন নেই।
৬. তিনিই মাতৃগর্ভে যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের আকৃতি গঠন করেন। তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। তিনি প্রবল পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
৭. তিনিই তোমার প্রতি এই কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যার মধ্যে মজবুত আয়াতগুলো উম্মুত কিতাব (কিতাবের মূল অংশ), অন্যগুলো রূপক। জাদের মনে বিকৃতি তারা ফিৎনা (বিরোধ) সৃষ্টি ও কদর্থের উদ্দেশ্যে যা রূপক তা অনুসরণ করে। আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না। আর যারা জ্ঞানী তারা বলে, ‘আমরা এতে বিশ্বাস করি। সবই আমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে এসেছে’। আর বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা ছাড়া কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না।
৮.হে আমাদের প্রতিপালক! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে বিকৃত করো না, আর তোমার কাছ থেকে আমাদেরকে করুণা দাও। তুমিই মহাদাতা।
৯. হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি মানবজাতিকে একদিন একত্রে সমাবেশ করবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। আল্লাহ্‌ তো নির্ধারিত সময়ের ব্যতিক্রম করেন না।

||রুকু ২||

১০. যারা অবিশ্বাস করে, তাদের ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি আল্লাহ্‌র কাছে কোনো কাজে লাগবে না। আর এসব লোকই অগ্নির ইন্ধন হবে।
১১. ফেরাউনের বংশধররাও তাদের পূর্ববর্তীদের মতো আমার আয়াতকে মিথ্যা মনে ক’রে অস্বীকার করেছিল। তাই আল্লাহ্‌ তাদের পাপের জন্য তাদের শাস্তি দিয়েছিলেন। আল্লাহ্‌ তো দন্ডদানে অত্যন্ত কঠোর।
১২. যারা অবিশ্বাস করে তাদেরকে বলো, ‘তোমরা শীঘ্রই পরাজিত হবে ও তোমাদেরকে জাহান্নামে একত্র করা হবে। আর তা খুব খারাপ জায়গা’।
১৩. দুইটি দল পরস্পর সম্মুখীন হওয়ার মধ্যে তোমাদের জন্য নিদর্শন ছিল। একদল আল্লাহ্‌র পথে সংগ্রাম করছিল, আর অন্য দল অবিশ্বাসী ছিল। তারা তাদের চোখের দেখায় ওদেরকে (মুসলমানদেরকে) দ্বিগুণ দেখছিল। আল্লাহ্‌ যাকে ইচ্ছা নিজে সাহায্য দিয়ে শক্তিশালী করেন। নিশ্চয় এতে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন লোকের জন্য উপদেশ রয়েছে।
১৪. নারী, সন্তান, রাশিকৃত স্বর্ণ ও রৌপের ভান্ডার, মার্কামারা ঘোড়া, গবাদিপশু এবং ক্ষেতখামারের প্রতি বাসনাপ্রীতি (হেতু) মানুষের কাছে (তাদের) সৌন্দর্যমন্ডিত করা হয়েছে। এসব পার্থিব জীবনের ভোগ্যবস্তু। আর আল্লাহ্‌-তাঁরই নিকট তো উত্তম আশ্রয়স্থল।
১৫. বলো, ‘আমি কি তোমাদের এসব জিনিসের চেয়ে আরো ভালো কিছুর খবর দেব? যারা সাবধান হয়ে চলবে তাদের প্রতিপালকের কাছে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার নিচে নদী বইবে, সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। তাদের জন্য (রইবে) পবিত্র সঙ্গীনি ও আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি। আর আল্লাহ্‌ তাঁর দাসদেরকে দেখেন’।
১৬. যারা বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তো বিশ্বাস করেছি; অতএব তুমি আমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করো এবং নরকের শাস্তি থেকে আমাদেরকে রক্ষা করো’।
১৭. তারা তো ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, অনুগত, দাতা আর ঊষাকালে ক্ষমাপ্রার্থী।
১৮. আল্লাহ্‌ সাক্ষ্য দেন যে, তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। ফেরেশতারা ও জ্ঞানবান ব্যক্তিরা ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে (সাক্ষ্য দেয়) আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, আর তিনি পরাক্রমশালী তত্ত্বজ্ঞানী।
১৯. নিশ্চয় ইসলাম আল্লাহ্‌র একমাত্র ধর্ম। যাদের নিকট কিতাব দেওয়া হয়েছিল তারা পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষবশত তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরও নিজেদের মধ্যে মতানৈক্য ঘটিয়েছিল! আর যে আল্লাহ্‌র নিদর্শনসমূহকে অবিশ্বাস করবে, আল্লাহ্‌ তো (তার) হিসাবগ্রহণে অত্যন্ত তৎপর।
২০. তারপর যদি তারা তোমার সাথে তর্ক করে তবে তুমি বলো, ‘আমি ও আমার অনুসারীরা আল্লাহ্‌র কাছে আত্মসমর্পণ করেছি’। আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তুমি তাদেরকে ও নিরক্ষরদেরকে বলো, ‘তোমরা কি আত্মসমর্পণ করেছ?’ যদি তারা আত্মসমর্পণ করে তবে নিশ্চয় তারা পথ পাবে। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তোমার কাজ তো কেবল প্রচার করা। আল্লাহ্‌ তো দাসদেরকে দেখেন।

||রুকু ৩||

২১. যারা আল্লাহ্‌র নিদর্শনগুলো অবিশ্বাস করে, নবিদের অযথা হত্যা করে এবং মানুষের মধ্যে জারা ন্যায়সংগত আদেশ দেয় তাদের বধ করে, তুমি তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সংবাদ দাও।
২২. এইসব লোকের ইহকাল ও পরকালের কার্যাবলী নিষ্ফল হবে ও তাদের কেউ সাহায্য করবে না।
২৩. তুমি কি তাদেরকে দেখ নি যাদেরকে কিতাবের কিছু অংশ দেওয়া হয়েছিল? আল্লাহ্‌ তাদের কিতাবের দিকে ডাক দিয়েছিলেন যাতে তা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়; কিন্তু তাদের একদল ফিরে যায়, বেঁকে দাঁড়ায়।
২৪. কারণ, তারা বলে, ‘নির্দিষ্ট কিছুদিন ছাড়া আগুন আমাদেরকে ছুঁতে পারবে না’। আর তাদের বানানো মিথ্যা তাদেরকে বিভ্রান্ত করেছে তাদের ধর্মে।
২৫. কিন্তু সেদিন কী হবে যেদিনের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, যখন তাদেরকে একত্র করা হবে, প্রত্যককে তার অর্জিত কাজের পুরো প্রতিদান দেওয়া হবে আর তাদের ওপর কোনো অন্যায় করা হবে না।
২৬. বলো, ‘হে সার্বভৌম শক্তির মালিক আল্লাহ্‌! তুমি যাকে ইচ্ছা সম্মানিত কর, আর যাকে ইচ্ছা অপমানিত কর, কল্যাণ তোমার হাতেই। নিশ্চয় তুমি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
২৭. তুমি রাত্রিকে দিনে, দিনকে রাত্রিতে পরিবর্তন কর, আর তুমিই মৃত হতে জীবন্তের আবির্ভাব ঘটাও, আবার জীবন্ত থেকে মৃতের আবির্ভাব ঘটাও। তুমি যাকে ইচ্ছা অপরিমিত জীবনের উপকরণ দান কর’।
২৮. বিশ্বাসীরা যেন বিশ্বাসীদের ছাড়া অবিশ্বাসীদেরকে অভিভাবক হিসাবে গ্রহণ না করে। যে-কেউ এমন করবে তার সাথে আল্লাহ্‌র কোনো সম্পর্ক থাকবে না। তবে যদি তোমরা তাদের কাছ থেকে কোনো আশঙ্কা কর তবে তোমরা তাদের সম্বন্ধে সাবধানতা অবলম্বন করবে। আর আল্লাহ্‌ তাঁর নিজের সম্বন্ধে তোমাদেরকে সাবধান করেছেন। আর আল্লাহ্‌র দিকেই ফিরে যেতে হবে।
২৯. বলো, ‘তোমাদের মনে যা আছে তা যদি তোমরা গোপন কর বা প্রকাশ কর, আল্লাহ্‌র তা জানা আছে। আর আকাশ ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে তিনি তাও জানেন। আর আল্লাহ্‌ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান’।
৩০. যেদিন প্রত্যেকে যা ভালো কাজ করেছে তা সামনে আনা হবে, আর যা খারাপ কাজ করেছে (তাও), সেদিন সে চাইবে যদি তার ও তার (কর্মফলের) মাঝে এক দূর ব্যবধান থাকত। আল্লাহ্‌ তাঁর সম্বন্ধে তোমাদেরকে সাবধান ক’রে দেন। আল্লাহ্‌ তাঁর দাসদেরকে বড়ই অনুগ্রহ করেন।

||রুকু ৪||

৩১. বলো, ‘তোমরা যদি আল্লাহ্‌কে ভালোবাস তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন ও তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ্‌ বড়ই ক্ষমাশীল পরম দয়ালু’।
৩২. বলো, ‘আল্লাহ্‌ ও রসুলের অনুগত হও’। কিন্তু তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রাখ আল্লাহ্‌ অবিশ্বাসীদেরকে ভালোবাসেন না।
৩৩. আল্লাহ্‌ তো আদম, নুহ্‌ ও ইব্রাহিমের বংশধর এবং ইমরানের বংশধরকে বিশ্বজগতে মনোনীত করেছেন।
৩৪. এরা পরস্পর পরস্পরের বংশধর। আর আল্লাহ্‌ তো সব শোনেন, সব জানেন।
৩৫. যখন ইমরানের স্ত্রী বলেছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার গর্ভে যা আছে তা একান্ত তোমার জন্য আমি উৎসর্গ করলাম। সুতরাং আমার পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করো। তুমি তো সবই শোন, সবই জান’।
৩৬. তারপর যখন সে ওকে প্রসব করল তখন সে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি কন্যা প্রসব করেছি’। আল্লাহ্‌ ভালোই জানতেন সে যা প্রসব করেছিল। ‘ছেলে তো মেয়ের মতো নয়, আমি তার নাম মরিয়ম রেখেছি আর অভিশপ্ত শয়তান থেকে তার ও তার বংশধরদের জন্য আমি তোমার শরণ নিচ্ছি’।
৩৭. তারপর তার প্রতিপালক তাকে (মরিয়ম) ভালোভাবেই গ্রহণ করেন ও ভালোভাবেই মানুষ করেন এবং তিনি তাকে জাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে রেখেছিলেন। যখনই জাকারিয়া তার সঙ্গে ঘরে দেখা করতে যেত তখনই তার কাছে খাবারদাবার দেখতে পেত। সে বলত, ‘ও মরিয়ম! এসব তুমি কোত্থকে পেলে?’ সে বলত, ‘আল্লাহ্‌র কাছ থেকে’। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ যাকে ইচ্ছা অশেষ জীবিকা দান করেন।
৩৮. সেখানে জাকারিয়া তার প্রতিপালকের কাছে প্রার্থনা ক’রে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তুমি তোমার কাছ থেকে সৎ বংশধর দান করো। নিশ্চয় তুমি প্রার্থনা শোন’।
৩৯. যখন সে নামাজে ব্যস্ত ছিল তখন ফেরেশতারা তাকে সম্বোধন ক’রে বলল, ‘আল্লাহ্‌ তোমাকে ইয়াহ্‌ইয়ার সুসংবাদ দিচ্ছেন, সে হবে আল্লাহ্‌র বাণীর সমর্থক, নেতা, জিতেন্দ্রিয় ও পুণ্যবানদের মধ্যে একজন নবি’।
৪০. সে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার পুত্র হবে কেমন ক’রে? আমার বার্ধক্য এসেছে আর আমার স্ত্রী তো বন্ধ্যা’।
৪১. বলো, ‘এভাবেই, আল্লাহ্‌ যা ইচ্ছা তা করেন’। সে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে একটা নিদর্শন দাও’। তিনি বললেন, ‘তোমার নিদর্শন এই যে, তিন দিন তুমি ইশারায় ছাড়া কথা বলতে পারবে না ও তোমার প্রতিপালককে বেশি করে স্মরণ করবে, আর সন্ধ্যায় ও সকালে তাঁর পবিত্র মহিমা ঘোষণা করবে’।

||রুকু ৫||

৪২. যখন ফেরেশতারা বলেছিল, ‘ও মরিয়ম! আল্লাহ্‌ তো তোমাকে মনোনীত ও পবিত্র ক্রেছেন আর বিশ্বে নারীদের মধ্যে তোমাকে নির্বাচিত করেছেন।
৪৩. ও মরিয়ম! তোমার প্রতিপালকের অনুগত হও ও সিজদা করো আর যারা রুকু করে তাদের সাথে রুকু করো’।
৪৪. এ অদৃশ্যলোকের সংবাদ যা আমি তোমাকে প্রত্যাদেশের মাধ্যমে জানাচ্ছি। তুমি তাদের কাছে ছিলে না যখন তারা তাদের কলম (বা তীর) ছুড়েছিল কে তাদের মধ্যে মরিয়মের দেখাশোনা করবে তা ঠিক করার জন্য। আর যখন তারা বাদানুবাদ করছিল তখনও তুমি তাদের কাছে ছিলে না।
৪৫. যখন ফেরেশতারা বলল, ‘ও মরিয়ম! নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তাঁর তরফ থেকে তোমাকে সুখবর দিচ্ছেন একটি বাণীর-যার নাম হবে মসিহ্‌ - মরিয়মপুত্র ঈসা। সে ইহকাল ও পরকালে সম্মানিত হবে আর সে সান্নিধ্যপ্রাপ্তদের একজন।
৪৬. সে দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পরিণত বয়সে মানুষের সঙ্গে কথা বলবে, আর সে হবে পুণ্যবানদের একজন।
৪৭. সে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে কোনো পুরুষ স্পর্শ করে নি, কেমন ক’রে আমার সন্তান হবে?’ তিনি বললেন, ‘এভাবেই’। আল্লাহ্‌ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। তিনি যখন কিছু স্থির করেন তখন বলেন, ‘হও’, আর তখনই তা হয়ে যায়।
৪৮. আর তিনি তাকে শিক্ষা দেবেন কিতাব, হিকমত, তওরাত ও ইঞ্জিল।
৪৯. আর তাকে রসুল করবেন বনি-ইসরাইলদের জন্য। সে বলবে, ‘আমি তোমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে তোমাদের কাছে নিদর্শন এনেছি। আমি তোমাদের জন্য মাটি দিয়ে একটি পাখি বানাব তারপর আমি ওতে ফুঁ দেব, আল্লাহ্‌র অনুমতি পেলে তা পাখি হয়ে যাবে। আমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে ভালো করব আর অনুমতি পেলে মৃতকে জীবন্ত করব। আর তোমাদেরকে ব’লে দেব ঘরে তোমরা কী খাবে ও কী মজুত করবে। এতে তো তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও।
৫০. আর আমি এসেছি আমার কাছে যে তওরাত আছে তার সমর্থকরূপে ও তোমাদের জন্য যা নিষিদ্ধ ছিল তার কিছু বৈধ করতে, আর আমি তোমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে তোমাদের জন্য নিদর্শন এনেছি। সুতরাং আল্লাহ্‌কে ভয় করো আর আমাকে অনুসরণ করো।
৫১. আল্লাহ্‌ আমার প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক। সুতরাং তোমরা তাঁর উপাসনা করবে। এ-ই সরল পথ’।
৫২. যখন ঈসা বুঝতে পারল তার অবিশ্বাস করছে তখন সে বলল, ‘আল্লাহ্‌র পথ কারা আমাকে সাহায্য করবে?’ হাওয়ারিরা (ঈসার খাস শিষ্যরা) বলল, ‘আমরাই আল্লাহ্‌র পথে সাহায্য করব। আমরা আল্লাহ্‌য় বিশ্বাস করেছি। আমরা আত্মসমর্পণ করলাম, তুমি সাক্ষী থাকো।
৫৩. হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি যা অবতীর্ণ করেছ তাতে আমরা বিশ্বাস করেছি আর আমরা রসুলের অনুসরণ করেছি। সুতরাং যারা (সত্য সমর্থন ক’রে) সাক্ষ্য দেয় তুমি আমাদেরকে তাদের সাথে রাখো’।
৫৪. আর তারা ষড়যন্ত্র করল, আর আল্লাহ্‌ও পরিকল্পনা করলেন। আর আল্লাহ্‌ই তো শ্রেষ্ঠ পরিকল্পনাকারী।

||রুকু ৬||

৫৫. যখন আল্লাহ্‌ বললেন, ‘হে ইসা! আমি তোমার কাল পূর্ণ করতে এবং তোমাকে আমার কাছে তুলে নিতে যাচ্ছি। আর যারা অবিশ্বাস করেছে আমি তাদের থেকে তোমাকে পবিত্র করব এবং তোমার অনুসারীদেরকে কিয়ামত পর্যন্ত অবিশ্বাসীদের ওপরে রাখব। তারপর তোমরা আমার কাছে ফিরবে। তখন যে-বিষয়ে তোমাদের মতভেদ ঘটেছে আমি তার মীমাংসা করে দেব।
৫৬. যারা অবিশ্বাস করেছে আমি তাদের ইহকাল ও পরকালে কঠোর শাস্তি দেব আর তাদেরকে কেউ সাহায্য করবে না।
৫৭. আর যারা বিশ্বাস করেছে ও সৎকাজ করেছে তিনি তাদেরকে পুরো প্রতিফল দেবেন। আল্লাহ্‌ তো সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে ভালোবাসেন না।
৫৮. তোমার কাছে আমি এই পাঠ করছি নিদর্শন ও জ্ঞানগর্ভ বাণী থেকে।
৫৯. নিশ্চয় ঈসার দৃষ্টান্ত আল্লাহ্‌র কাছে আদমের মতো। তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছিলেন, তারপর তাকে বলা হল ‘হও’, আর সে হয়ে যায়।
৬০. এ সত্য তোমার প্রতিপালকের কাছ থেকে, সুতরাং যারা সন্দেহ করে তুমি তাদের শামিল হয়ো না।
৬১. তোমার কাছে জ্ঞান আসার পর কেউ এ নিয়ে তোমার সাথে তর্ক করলে তাকে বলো, ‘এসো, আমরা ডাকি আমাদের পুত্রদেরকে, তোমাদের পুত্রদেরকে, আমাদের স্ত্রীদেরকে, তোমাদের স্ত্রীদেরকে, আমাদের নিজেদেরকে, তোমাদের নিজেদেরকে - তারপর আমরা বিনীতভাবে প্রার্থনা করি, যারা মিথ্যা কথা বলে আল্লাহ্‌র অভিশাপ যেন তাদের ওপর পড়ে’।
৬২. নিশ্চয় এ সত্য কাহিনী আর আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, আর নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সর্বশক্তিমান সর্বজ্ঞানী।
৬৩. আর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে ফ্যাশাদকারীদের সম্বন্ধে আল্লাহ্‌র নিশ্চয় জানা আছে।

||রুকু ৭||

৬৪. বলো, ‘হে কিতাবিরা! এসো সেই কথায় যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন! আমরা আল্লাহ্‌ ছাড়া কারও উপাসনা করি না। কোনোকিছুকেই তাঁর অংশী করি না, আর আমাদের কেউ আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কাউকে প্রতিপালক হিসাবে গ্রহণ করে না’। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বলো, ‘আমরা মুসলমান, তোমরা সাক্ষী থাকো’।
৬৫. হে কিতাবিরা! ইব্রাহিম সম্বন্ধে কেন তোমরা তর্ক কর, যখন তওরাত ও ইঞ্জিল তার পরে অবতীর্ণ হয়েছিল? তোমরা কি বোঝ না?
৬৬. দেখো, যে-বিষয়ে তোমাদের কিছু জ্ঞান ছিল তোমরা সে-বিষয়ে তর্ক করেছ, তবে যে-বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই সে-বিষয়ে কেন তর্ক করছ? আসলে আল্লাহ্‌ তো জানেন, আর তোমরা তো জান না।
৬৭. ইব্রাহিম ইহুদিও ছিল না, খ্রীষ্টানও ছিল না। সে ছিল একনিষ্ঠ আত্মসমর্পণকারী এবং সে অংশীবাদীদের দলভুক্ত ছিল না।
৬৮. যারা ইব্রাহিমের অনুসরণ করেছিল তারা আর এই নবি ও বিশ্বাসীরাই মানুষের মধ্যে ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠতম। আর আল্লাহ্‌ বিশ্বাসীদের অভিভাবক।
৬৯. কিতাবিদের এক দল তোমাদেরকে বিপথে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। বরং তারা তাদের নিজেদেরকেই বিপথে নিয়ে যায়, কিন্তু তারা তা বোঝে না।
৭০. হে কিতাবিরা!তোম্রা কেন আল্লাহ্‌র নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার কর, যখন তোমরাই তার সাক্ষ্য দাও?
৭১. হে কিতাবিরা! তোমরা কেন সত্য গোপন কর, যখন তোমরা তা জান?

||রুকু ৮||

৭২. কিতাবিদের এক দল বলল, ‘যারা বিশ্বাস করেছে তাদের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে, দিনের প্রথম দিকে তার ওপর বিশ্বাস করো, আর দিনের শেষভাগে তা অস্বীকার করো; হয়তো তারা ফিরতে পারে।
৭৩. আর যারা তোমার ধর্ম অনুসরণ করে তাদেরকে ছাড়া আর কাউকেও বিশ্বাস করো না’। বলো, ‘নিশ্চয় আল্লাহ্‌র নির্দেশিত পথই পথ, (ভাবছ) তোমাদেরকে যা দেওয়া হয়েছে অনুরূপ অন্য কাউকেও দেওয়া হবে বা তোমাদের প্রতিপালকের সামনে তারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুক্তি দেখাবে?’ বলো, ‘অনুগ্রহ আল্লাহ্‌রই হাতে; তিনি যাকে ইচ্ছা তা দেন। আল্লাহ্‌ মহানুভব সর্বজ্ঞ।
৭৪. যাকে ইচ্ছা তিনি নিজের অনুগ্রহের জন্য বিশেষ করে বেছে নেন। আর আল্লাহ্‌ মহা অনুগ্রহশীল।
৭৫. কিতাবিদের মধ্যে এমন লোক রয়েছেযারা বিপুল আমানত রাখলেও তা ফেরত দেবে। আর এমন লোকও আছে যার কাছে একটা দিনারও আমানত রাখলে তার পেছনে লেগে না থাকলে সে ফেরত দেবে না। এ এজন্য যে, তারা বলে, ‘এই অশিক্ষিতদের প্রতি আমাদের কোনো দায়িত্ব নেই’। আর তারা জেনেশুনে আল্লাহ্‌র নামে মিথ্যা বলে।
৭৬. হ্যাঁ, কেউ তার অঙ্গীকার পালন করলে ও সাবধান হয়ে চললে আল্লাহ্‌ সাবধানিকে ভালোবাসেন।
৭৭. যারা আল্লাহ্‌র প্রতিশ্রুতি ও নিজেদের শপথকে অল্প দামে বিক্রি করে পরকালে তাদের কোনো অংশ থাকবে না। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্‌ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না ও তাদের দিকে চেয়েও দেখবেন না এবং (তাদেরকে) পরিশুদ্ধ করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।
৭৮. তাদের মধ্যে একদল লোক এমনও আছে যারা এমনভাবে জিভ নেড়ে পড়ে যাতে তোমরা মনে কর তা আল্লাহ্‌র কিতাব, কিন্তু সে তো কিতাবের অংশ নয়; আর তারা বলে তা আল্লাহ্‌র কাছ থেকে (প্রেরিত) কিন্তু আল্লাহ্‌র কাছ থেকে তা প্রেরিত নয়। আর তারা জেনেশুনে আল্লাহ্‌র নামে মিথ্যা বলে।
৭৯. কোনো মানুষের পক্ষে এ হতে পারে না যে, আল্লাহ্‌ তাকে কিতাব, হিকমত ও নবুয়ত দান করবেন, তারপর সে লোকদেরকে বলবে, ‘তোমরা আল্লাহ্‌কে ছেড়ে আমার দাস হয়ে যাও’। না, সে বলবে, ‘তোমরা রব্বানি (এক উপাস্যের সাধক) হও, যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দাও ও যেহেতু তোমরা লেখাপড়া করেছ’।
৮০. আর সে তোমাদেরকে ফেরেশতা বা নবিদেরকে প্রতিপালক হিসাবে গ্রহণ করতে নির্দেশ দেবে না। তোমাদের মুসলমান হওয়ার পর সে কি তোমাদেরকে কাফের হতে বলবে?

||রুকু ৯||

৮১.আর যখন আল্লাহ্‌ নবিদের অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন তখন তিনি বললেন - ‘আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত দিচ্ছি, তোমাদের কাছে যা আছে তার সমর্থকরূপে যখন একজন রসুল আসবে তখন নিশ্চয় তোমরা তাকে বিশ্বাস করবে ও অবশ্যই তাকে সাহায্য করবে। তোমরা কি স্বীকার করলে? আর আমার অঙ্গীকার কি তোমরা গ্রহণ করলে? তারা বলল, ‘আমরা স্বীকার করলাম’। তিনি বললেন, ‘তবে তম্রা সাক্ষী থাকো, আর আমিও তমাদের সাক্ষী রইলাম’।
৮২. অতএব এরপর যারা মুখ ফিরিয়ে নেব তারা তো সত্যত্যাগী।
৮৩. তার কি আল্লাহ্‌র ধর্মের পরিবর্তে অন্য ধর্ম চায়? অথচ আকাশ ও পৃথিবীতে যা-কিছু রয়েছে সমস্তই স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে, আর তাঁরই কাছে তাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে।
৮৪. বলো, ‘আল্লাহ্‌য় ও আমাদের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে, আর ইব্রাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তার বংশধরগণের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছিল, আর যা মুসা, ঈসা ও অন্যান্য নবিকে তাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে পাঠানো হয়েছে, তাতে বিশ্বাস করি, আমরা তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না ও আমরা তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণকারী।
৮৫. আর কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্ম চাইলে তা কখনও গ্রহণ করা হবে না ও সে হবে পরলোকে ক্ষতিগ্রস্থদের দলভুক্ত।
৮৬. বিশ্বাসের পর ও রসুলকে সত্য ব’লে সাক্ষ্যদান করার পর আর তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর যে-সম্প্রদায় অবিশ্বাস করে (তাদেরকে) আল্লাহ্‌ কীভাবে সৎপথের নির্দেশ দেবেন? আর আল্লাহ্‌ সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়কে সৎপথের নির্দেশ দেন না।
৮৭. এদের প্রতিফল এই যে, এদের ওপর আল্লাহ্‌র, ফেরেশতাদের ও মানুষের সকলেরই অভিশাপ।
৮৮. তারা (অভিশপ্ত অবস্থায়) থাকবে চিরকাল, তাদের শাস্তি হালকা করা হবে না ও তাদেরকে বিরামও দেওয়া হবে না।
৮৯. তবে এরপর যারা তওবা করে ও নিজেরদেরকে সংশোধন করে (তাদের কথা স্বতন্ত্র)। আল্লাহ্‌ তো ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।
৯০. যারা বিশ্বাস করার পর অবিশ্বাস করে ও যাদের অবিশ্বাসপ্রবণতা বৃদ্ধি পেতে থাকে তাদের তওবা কখনও মঞ্জুর করা হয় না। আর এরাই তো পথভ্রষ্ট।
৯১. যারা অবিশ্বাস করেছে ও অবিশ্বাসী অবস্থায় মারা গেছে, তাদের পক্ষে পৃথিবী ভরে সোনার বদলা দিলেও কখনও তা কবুল হবে না। এসব লোকের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি ও এদের কেউ সাহায্য করবে না।

||রুকু ১০||

৯২. তোমরা কখনও পুণ্য লাভ করতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের ভালোবাসার জিনিস আল্লাহ্‌র পথে ব্যয় করবে। আর তোমরা যা-কিছু ব্যয় কর আল্লাহ্‌ তো সে সম্বন্ধে ভালো করেই জানেন।
৯৩. তওরাত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে ইসরাইল নিজের জন্য যা হারাম করেছিল তা ছাড়া বনি-ইসরাইলদের জন্য সকল খাদ্যই হালাল ছিল। বলো, ‘যদি তোমরা সত্য কথা বল তবে তওরাত এনে পড়ো’।
৯৪. এর পরও যারা আল্লাহ্‌কে মিথ্যা দোষারোপ করে, তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।
৯৫. বলো, ‘আল্লাহ্‌ সত্য বলেছেন। সুতরাং তোমরা একনিষ্ঠ ইব্রাহিমের সমাজকে অনুসরণ করো, সে অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
৯৬. নিশ্চয় মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে-গৃহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা তো বাক্কা (মক্কার অপর নাম)-য়, তা আর্শীবাদপ্রাপ্ত ও বিশ্বজগতের দিশারি।
৯৭. সেখানে বহু স্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে; (যেমন) ইব্রাহিমের দাঁড়াবার স্থান। আর যে-কেউ সেখানে প্রবেশকরে সে নিরাপদ। মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে আল্লাহ্‌র উদ্দেশে সেই গৃহের হজ করা তার অবশ্যকর্তব্য। আর যে অস্বীকার করবে সে জেনে রাখুক আল্লাহ্‌ বিশ্বজগতের উপর নির্ভর করেন না।
৯৮. বলো, ‘হে কিতাবিরা! কেন তোমরা আল্লাহ্‌র নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার কর? তোমরা যা কর আল্লাহ্‌ তার সাক্ষী’।
৯৯. বলো, ‘হে কিতাবিরা! যখন তোমরাই সাক্ষী, তখন, যারা বিশ্বাস করেছে আল্লাহ্‌র পথকে বাঁকা করার উদ্দেশ্যে তাদেরকে কেন তা থেকে ফিরিয়ে দাও? আর তোমরা যা কর আল্লাহ্‌ সে-সম্বন্ধে জানেন না তা নয়।
১০০. হে বিশ্বাসিগণ! যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তোমরা যদি তাদের দলবিশেষের আনুগত্য কর, তবে তারা তোমাদেরকে বিশ্বাসের পর আবার অবিশ্বাসকারীদের দলভুক্ত করবে।
১০১. আর কেমন ক’রে তোমরা অবিশ্বাস করবে যখন আল্লাহ্‌র আয়াত তোমাদের কাছে পড়া হয়ার তোমাদের মধ্যেই তাঁর রসুল রয়েছে? আর আল্লাহ্‌কে যে অবলম্বন করবে সে তো সরল পথ পাবে।


||রুকু ১১||

১০২. হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা আল্লাহ্‌কে যথার্থভাবে ভয় করো আর তোমরা আত্মসমর্পণকারী না হয়ে মোরো না।
১০৩. আর তোমরা সকলে আল্লাহ্‌র রশিকে শক্ত ক’রে ধরো ও বিভক্ত হয়ো না। তোমাদের ওপর আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ স্মরণ করো, তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে, তিনি তোমাদের হৃদয়ে সম্প্রীতির সঞ্চার করলেন; তাই তাঁরই অনুগ্রহে তোমরা পরস্পরের ভাই হয়ে গেলে। তোমরা অগ্নিকুন্ডের কিনারায় ছিলে, তারপর তা থেকে তিনি তোমাদের উদ্ধার করেছেন। এভাবে আল্লাহ্‌ তোমাদের জন্য নিদর্শন পরিষ্কার করে বয়ান করেন যাতে তোমরা সৎপথ পাও।
১০৪. তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা (লোককে) ভালোর দিকে ডাকবে ও সৎকর্মের নির্দেশ দেবে এবং অসৎকর্মের ব্যাপারে নিষেধ করবে। আর এসব লোকই হবে সফলকাম।
১০৫. আর তোমরা তাদের মত হয়ো না যারা তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর বিভক্ত হয়েছে ও নিজেদের মধ্যে মতান্তর সৃষ্টি করেছে। তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।
১০৬. সেদিন কতকগুলো মুখ সাদা হবে, আর কতকগুলো মুখ কালো হবে। যাদের মুখ কালো হবে (তাদেরকে বলা হবে) ‘বিশ্বাস করার পর কি তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে? সুতরাং তোমরা যে অবিশ্বাস করেছিলে তার জন্য শাস্তি ভোগ করো’।
১০৭. আর যাদের মুখ সাদা হবে তারা আল্লাহ্‌র অনুগ্রহে থাকবে, সেখানে তারা থাকবে চিরকাল।
১০৮. এগুলো আল্লাহ্‌র আয়াত, তোমার কাছে সঠিকভাবে পড়ছি। আর আল্লাহ্‌ বিশ্বজগতের ওপর অত্যাচার করতে চান না।
১০৯. আর আকাশে ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে সবই আল্লাহ্‌র। আল্লাহ্‌র কাছেই সবকিছু ফিরে যাবে।

||রুকু ১২||

১১০. তোমরাই শ্রেষ্ঠ দল, মানবজাতির জন্য তোমাদের অভ্যত্থান হয়েছে। তোমরা সৎকর্মের নির্দেশ দান করো, অসৎকর্ম নিষেধ করো ও আল্লাহ্‌য় বিশ্বাস করো। আর কিতাবিরা যদি বিশ্বাস করত তবে তা তাদের জন্য ভালো হ’ত। তাদের মধ্যে বিশ্বাসী আছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশ সত্যত্যাগী।
১১১. সামান্য কষ্ট দেওয়া ছাড়া তারা কখনও তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। যদি তারা তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে তবে তারা পালিয়ে যাবে, তখন তাদেরকে কেউ সাহায্য করবে না।
১১২. আল্লাহ্‌র প্রতিশ্রুতি ও মানুষের প্রতিশ্রুতির বাইরে যেখানেই তাদের পাওয়া গেছে সেখানেই তারা অপদস্থ হয়েছে। তারা আল্লাহ্‌র ক্রোধের পাত্র হয়েছে ও দারিদ্র‌গ্রস্ত হয়েছে। এ এজন্য যে, তারা আল্লাহ্‌র নির্দেশগুলো অস্বীকার করত ও অন্যায়ভাবে নবিদেরকে হত্যা করত; এ এজন্য যে, তারা অবাধ্য হয়েছিল ও সীমালঙ্ঘন করেছিল।
১১৩. তারা সকলে একরকম নয়। কিতাবিদের মধ্যে একদল আছে যারা অবিচলিত; তারা রাত্রিতে সিজদারত অবস্থায় আল্লাহ্‌র আয়াত আবৃত্তি করে।
১১৪. তারা আল্লাহ্‌ ও শেষদিনে বিশ্বাস করে, সৎকর্মের নির্দেশ দেয়, অসৎকর্ম নিষেধ করে এবং তারা সৎকর্মে প্রতিযোগিতা করে। তারাই সজ্জনদের অন্তর্ভুক্ত।
১১৫. আর যা-কিছু তারা ভালো কাজ করেছে তার প্রতিদান থেকে তাদেরকে কখনো বঞ্ঝিত করা হবে না। আল্লাহ্‌ তো সাবধানিদেরকে জানেন।
১১৬. নিশ্চয় যারা অবিশ্বাস করে তাদের ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি আল্লাহ্‌র কাছে কখনও কোনো কাজে লাগবে না। তারাই অগ্নিবাসী, সেখানে তারা থাকবে চিরকাল।
১১৭. তারা যা-কিছু পার্থিব জীবনে ব্যয় করে তার দৃষ্টান্ত তুষারশীতল ঝোড়ো হাওয়ার মতো, যা যে-জাতি নিজেদের ওপর অত্যাচার করেছে তাদের শস্যক্ষেত্রকে আঘাত করে ও নষ্ট ক’রে দেয়। আল্লাহ্‌ তাদের ওপর কোনো অত্যাচার করেন নি, তার নিজেরাই নিজেদের ওপর অত্যাচার করেছিল।
১১৮. হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের আপনজন ছাড়া অন্য কাউকেও অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করতে ছাড়বে না। তোমাদের সর্বনাশ হোক, তা-ই তারা চায়। তাদের মুখে বিদ্বেষ প্রকাশ পায়, আর যা তাদের অন্তর গোপন রাখে তা আরও মারাত্মক। তোমাদের জন্য নিদর্শনসমুহ পরিষ্কার করে বয়ান করছি, যদি তোমরা বুঝতে পার।
১১৯. দেখো! তোমরা বন্ধু ভেবে তাদেরকে ভালোবাস; কিন্তু তারা তোমাদেরকে ভালোবাসে না। আর তোমরা সব কিতাবে বিশ্বাস কর। আর যখন তারা তোমাদের সংস্পর্শে আসে তখন তারা বলে, ‘আমরা বিশ্বাস করি’। কিন্তু যখন তারা একা হয় তখন তোমাদের বিরুদ্ধে আক্রোশে তারা নিজেদের আঙুল দাঁতে কাটতে থাকে। বলো, ‘আক্রোশেই তোমরা মরো। অন্তরে যা রয়েছে সে-সম্বন্ধে আল্লাহ্‌ ভালো করেই জানেন’।
১২০. যদি তোমাদের কোনো মঙ্গল হয় তারা দুঃখ করে, আর তোমাদের অমঙ্গল হলে তারা আনন্দ করে। আর যদি তোমরা ধৈর্য ধরো ও সাবধান হয়ে চল তবে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না। তারা যা করে আল্লাহ্‌ তো তা ঘিরে রয়েছেন।

||রুকু ১৩||

১২১. আর যখন সেই সকালে বিশ্বাসীদেরকে যুদ্ধের স্থান ঠিক ক’রে দেওয়ার জন্য তুমি তোমার পরিজনদের কাছ থেকে বের হয়েছিলে, আর আল্লাহ্‌ সব শোনেন, সব জানেন।
১২২. যখন তোমাদের মধ্যে দুই দলের সাহস হারাবার উপক্রম হয়েছিল তখন আল্লাহ্‌ই ছিলেন উভয়ের সহায়ক। আর বিশ্বাসীদের উচিত আল্লাহ্‌র ওপর নির্ভর করা।
১২৩. আর নিশ্চয় বদরের যুদ্ধে আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে সাহায্য করেছিলেন, তখন তোমরা ছিলে হীনবল। সুতরাং তোমরা আল্লাহ্‌কে ভয় করো যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার।
১২৪. যখন তুমি বিশ্বাসীদেরকে বলেছিলে, ‘ যদি তোমাদের প্রতিপালক তিন হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে তোমাদেরকে সাহায্য করেন, তবে কি তা তোমাদের জন্য যথেষ্ট হবে না?’
১২৫. হ্যাঁ, নিশ্চয়, যদি তোমরা ধৈর্য ধর আর সাবধান হয়ে চল, তবে হঠাৎ ক’রে আক্রান্ত হলে তোমাদের প্রতিপালক তোমাদেরকে সাহায্য করবেন পাঁচ হাজার চিহ্নিত ফেরেশতা দিয়ে।
১২৬. আর আল্লাহ্‌ তোমাদের জন্য এ-সুসংবাদ দিয়েছেন যাতে তোমাদের মন আশ্বস্ত হয়। আর শক্তিমান ও তত্ত্বজ্ঞানী আল্লাহ্‌র কাছ ছাড়া কোনো সাহায্য নেই।
১২৭. তিনি অবিশ্বাসীদের এক অংশকে ছেঁটে ফেলতে চান যেন তারা নিরাশ হয়ে ফিরে যায়।
১২৮. তিনি তাদেরকে ক্ষমা করবেন, না শাস্তি দেবেন, সে-ব্যাপারে তোমার কিছু করার নেই; কারণ তারা তো সীমালঙ্ঘনকারী।
১২৯. আকাশে ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে সব আল্লাহ্‌রই। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন। আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।

||রুকু ১৪||

১৩০. হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা (ক্রমবর্ধমান হারে বা চক্রবৃদ্ধি হারে) সুদ খেয়ো না। আর আল্লাহ্‌কে ভয় করো। তবেই তোমরা সফল হতে পারবে।
১৩১. আর তোমরা সেই আগুনকে ভয় করো যা অবিশ্বাসীদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
১৩২. আর তোমরা আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসুলের অনুসরণ করো যাতে তোমরা করুণা লাভ করতে পার।
১৩৩. তোমরা প্রতিযোগিতা করো তোমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে ক্ষমা ও জান্নাতলাভের জন্য যা আকাশ ও পৃথিবীর সমান প্রশস্ত, যা সাবধানিদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
১৩৪. যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করে ও যারা ক্রোধ সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল, আল্লাহ্‌ (সেই) সৎকর্মপরায়ণদেরকে ভালোবাসেন।
১৩৫. আর (তাদের) যারা কোনো অশ্লীল্কাজ ক’রে ফেলে বা নিজেরদের ওপর অত্যাচার ক’রে আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে ও নিজেরদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর আল্লাহ্‌ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবেন? আর তারা যা ক’রে ফেলে তা জেনেশুনেও করে না।
১৩৬. ওরাই তারা যাদের পুরষ্কার তাদের প্রতিপালকের ক্ষমা, আর সেই জান্নাত যার নিছে নদী বইবে। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর কতই-না ভালো সিদ্ধকর্মের পুরষ্কার!
১৩৭. অতীতে, তোমাদের পূর্বে বহু বিধান ছিল; সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে সফর করো ও দেখো যারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিল তাদের কী পরিণাম হয়েছে!
১৩৮. এ মানবজাতির জন্য স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও সাবধানিদের জন্য পথপ্রদর্শক ও শিক্ষা।
১৩৯. আর তোমরা সাহস হারিয়ো না ও দুঃখ করো না। তোমরাই হবে শ্রেষ্ঠ, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও।
১৪০. তোমাদের যদি কোনো আঘাত লেগে থাকে তবে অনুরূপ আঘাত তাদেরও তো লেগেছে। আর মানুষের মধ্যে এ (সংকটময়) দিনগুলোর পর্যায়ক্রমে আমি অদলবদল করে থাকি, যাতে আল্লাহ্‌ বিশ্বাসীদেরকে জানতে পারেন ও তোমাদের মধ্য থেকে কিছুকে সাক্ষী করে রাখতে পারেন, আর আল্লাহ্‌ সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে ভালোবাসেন না;
১৪১. আর যাতে আল্লাহ্‌ বিশ্বাসীদেরকে শোধরাতে পারেন ও অবিশ্বাসীদেরকে নিশ্চিহ্ন করতে পারেন
১৪২. তোমরা কি মনে কর যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, যতক্ষণ না আল্লাহ্‌ জানেন তোমাদের মধ্যে কে জিহাদ করেছে ও কে ধৈর্য ধরেছে।
১৪৩. আর তোমরা তো মৃত্যু কামনা করতে মৃত্যুর সম্মুখীন হওয়ার পূর্বে। এখন তো তোমরা তা চেখে দেখছ?

||রুকু ১৫||

১৪৪. মুহাম্মদ রসুল ছাড়া আর কিছুই নয়, তার পূর্বে বহু রসুল গত হয়েছে। সুতরাং সে যদি মারা যায় বা নিহত হয় তবে কি তোমরা পিঠ ফিরিয়ে পিছু হটবে? আর যে পিঠ ফিরিয়ে স’রে পড়ে সে কখনও আল্লাহ্‌র ক্ষতি করতে পারবে না। আর আল্লাহ্‌ শীঘ্রই কৃতজ্ঞদেরকে পুরস্কৃত করবেন।
১৪৫. আর আল্লাহ্‌র অনুমতি ছাড়া কারও মৃত্যু হবে না, কেননা তার মেয়াদ নির্ধারিত। কেউ পার্থিব পুরস্কার চাইলে আমি তাকে তার কিছু দিই এবং কেউ পারলৌকিক পুরস্কার চাইলে আমি তাকে তার কিছু দিই এবং আমি শীঘ্রই কৃতজ্ঞদেরকে পুরস্কৃত করব।
১৪৬. আর কত নবি যুদ্ধ করেছে, তাদের সাথে ছিল বহু রব্বানি। আল্লাহ্‌র পথে তাদের যে-বিপর্যয় ঘটেছিল তাতে তারা মুষড়ে পড়ে নি, দুর্বল হয় নি ও নতিও স্বীকার করে নি। যারা ধৈর্য ধরে আল্লাহ্‌ তো তাদেরকে ভালোবাসেন।
১৪৭. আর তাদের এ ছাড়া আর অন্য কোনো কথা ছিল না, - ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পাপের ও কাজের বাড়াবাড়ি ক্ষমা করো, আমাদের পা শক্ত করো ও অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করো’।
১৪৮. তারপর আল্লাহ্‌ তাদেরকে পার্থিব পুরস্কার ও পরলোকের উত্তম পুরস্কার দেন। আর আল্লাহ্‌ সৎকর্মপরায়ণদেরকে ভালোবাসেন।

||রুকু ১৬||

১৪৯. হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা অবিশ্বাসীদের অনুগত হও তবে তারা তোমাদেরকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেবে আর তখন তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
১৫০. আল্লাহ্‌ই তোমাদের অভিভাবক আর তিনিই শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী।
১৫১. যারা অবিশ্বাস করে আমি তাদের হৃদয়ে ভয় ঢুকিয়ে দেব। কারণ তারা আল্লাহ্‌র শরিক করেছে যার সপক্ষে আল্লাহ্‌ কোনো প্রমাণ পাঠান নি। অগ্নিই তাদের নিবাস। কী খারাপ অত্যাচারীদের সেই বাসস্থান!
১৫২. আর আল্লাহ্‌ অবশ্য তোমাদের সঙ্গে তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছিলেন যখন তোমরা আল্লাহ্‌র অনুমতিক্রমে তাদেরকে হটিয়ে দিলে, যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা সাহস হারিয়েছিলে ও নির্দেশ সম্বন্ধে মতভেদ সৃষ্টি করেছিলে এবং যা (বিজয়) তোমরা চাইছিলে তা তোমাদেরকে দেখানো সত্ত্বেও তোমরা অবাধ্য হয়েছিলে। তোমাদের কেউ ইহকাল চেয়েছিল ও কেউ-কেউ পরকাল চেয়েছিল। সুতরাং তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য তিনি তোমাদেরকে তাদের থেকে ফিরিয়ে দিলেন। তবুও তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করলেন। আর আল্লাহ্‌ তো বিশ্বাসীদেরকে অনুগ্রহ করেন।
১৫৩. (স্মরণ করো) তোমরা কেমনভাবে পালিয়ে যাচ্ছিলে ও পিছনে কারও প্রতি লক্ষ করছিলে না, যদিও রসুল তোমাদেরকে পেছন দিক থেকে ডাকছিলেন, তাই তিনি তোমাদেরকে দুঃখের ওপর দুঃখ দিলেন যাতে তোমরা যা হারিয়েছ বা যে-বিপদ তোমাদের ওপর এসেছে তার জন্য তোমরা দুঃখ না কর। তোমরা যা কর আল্লাহ্‌ তা ভালোই জানেন।
১৫৪. তারপর তিনি তোমাদের দুঃখের পর নিরাপত্তা দিলেন, যা তোমাদের একদলকে আছন্ন করেছিল আর একদল জাহেলের মতো আল্লাহ্‌র সম্পর্কে অবান্তর ধারণা ক’রে নিজেরাই নিজেদেরকে ব্যতিব্যস্ত করেছিল এই ব’লে যে, ‘আমাদের কি কিছু করবার আছে?’ বলো, ‘সবকিছুই আল্লাহ্‌র অধীন’। যা তারা তোমার কাছে প্রকাশ করে না তা তারা তাদের অন্তরে গোপন রাখে। তার বলত, ‘যদি এ-ব্যাপারে আমাদের কোনো কিছু করার থাকত তবে এখানে আমরা মারা পড়তাম না’। বলো, ‘যদি তোমরা তোমাদের ঘরে থাকতে তবুও নিহত হওয়া যাদের অবধারিত ছিল তারা বের হয়ে সেখানে যেত যেখানে তাদের (শেষ) শয্যা নেওয়ার কথা, আর আল্লাহ্‌ এভাবে ত্যমাদের মনে যা আছে তা পরীক্ষা করেন ও তোমাদের হৃদয়ে যা আছে তা পরিশোধন করেন। মনে যা আছে আল্লাহ্‌ তা ভালো করেই জানেন’।
১৫৫. যেদিন দু’দল পরস্পরের মোকাবিলা করেছিল সেদিন যারা পালিয়ে গিয়েছিল, শয়তানই তাদের পদস্খলন ঘটিয়েছিল তাদের কাজের জন্য। আল্লাহ্‌ ক্ষমা করেন, বড়ই সহ্যশীল।

||রুকু ১৭||

১৫৬. হে বিশ্বাসীগণ! যারা অবিশ্বাস করে তাদের মতো হয়ে যেয়ো না, আর যখন তাদের ভাইয়েরা দেশবিদেশে ঘোরে বা যুদ্ধে যোগ দেয় তখন তারা তাদের সম্পর্কে বলে, ‘তারা যদি আমাদের কাছে থাকত তবে তারা মরত না’। এভাবে আল্লাহ্‌ তাদের মনে হা-হুতাশ সৃষ্টি করেন, আল্লাহ্‌ই তো জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। তোমরা যা কর আল্লাহ্‌ তা দেখেন।
১৫৭. আর তোমরা যদি আল্লাহ্‌র পথে নিহত হও বা মৃত্যুবরণ কর, তবে তারা যা জমা করে তার চেয়ে ভালো আল্লাহ্‌র ক্ষমা ও দয়া।
১৫৮. আর তোমাদের মৃত্যু হলে বা তোমরা নিহত হলে তোমাদেরকে আল্লাহ্‌র কাছে একত্র করা হবে।
১৫৯. আল্লাহ্‌র দয়ায় তুমি তাদের ওপর নরম হয়েছিলে। যদি তুমি রূঢ় ও কঠোর হতে তবে তারা তোমার আশপাশ হতে স’রে পড়ত। সুতরাং তাদেরকে ক্ষমা কর ও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো, আর কাজেকর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করো। আর তুমি কোনো সংকল্প গ্রহণ করলে আল্লাহ্‌র প্রতি নির্ভর করবে। আল্লাহ্‌ তো নির্ভরশীলদেরকে ভালোবাসেন।
১৬০. আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে সাহায্য করলে কেউ তোমাদের ওপর জয়ী হবে না। আর তিনি তোমাদেরকে সাহায্য না করলে আর কে আছে যে তোমাদেরকে সাহায্য করবে? আর বিশ্বাসীদের আল্লাহ্‌রই ওপর নির্ভর করা উচিত।
১৬১. নবি অন্যায়ভাবে কোনো বস্তু গোপন করবে, এ অসম্ভব! আর যে অন্যায়ভাবে কিছু গোপন করবে, যা সে গোপন করেছিল কিয়ামতের দিন তা নিয়ে উপস্থিত হবে। তারপর প্রত্যেকে যে যা অর্জন করেছে তাকে তা পূর্ণ মাত্রায় দেওয়া হবে। তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না।
১৬২. আল্লাহ্‌ যার ওপর সন্তুষ্ট এবং যে তারই অনুসরণ করে সে কি ওর মতো যে আল্লাহ্‌র ক্রোধের পাত্র আর জাহান্নামই যার বাসস্থান? আর সে কতই-না খারাপ আশ্রয়!
১৬৩. আল্লাহ্‌র কাছে তারা বিভিন্ন মর্যাদার আর তারা যা করে আল্লাহ্‌ তা দেখেন।
১৬৪. আল্লাহ্‌ তাদের নিজেদের মধ্য থেকে রসুল পাঠিয়ে অবশ্যই বিশ্বাসীদেরকে অনুগ্রহ করেছেন। সে তাঁর আয়াতগুলো তাদের কাছে আবৃত্তি করে, তাদেরকে পরিশোধন করে আর কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেয়; আর তারা তো পূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে ছিল।
১৬৫. যখন তোমাদের ওপর (ওহুদের যুদ্ধের) বিপদ এসেছিল, যার দ্বিগুণ বিপদ (ইতিপূর্বে বদরের যুদ্ধে) তোমরা ঘটিয়েছিলে, তখন তোমরা বলেছিলে, ‘এ কোত্থেকে এল?’ বলো, ‘এ তোমাদের নিজেদেরই কাছ থেকে’। আল্লাহ্‌ তো সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
১৬৬. যেদিন দু’দল পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিল সেদিন তোমাদের যে-বিপর্যয় ঘটেছিল, তা আল্লাহ্‌র অনুমতিক্রমেই ঘটেছিল, যাতে তিনি বিশ্বাসীদেরকে জানতে পারেন ও মুনাফিকদেরকেও জানতে পারেন’।
১৬৭. আর তাদেরকে বলা হয়েছিল, ‘এসো তোমরা আল্লাহ্‌র পথে যুদ্ধ করো বা রুখে দাঁড়াও’। তার বলেছিল, ‘যদি আমরা যুদ্ধ করতে জানতাম তবে তো নিশ্চয় তোমাদের অনুসরণ করতাম’। সেদিন তারা বিশ্বাসের চেয়ে অবিশ্বাসের বেশী কাছে ছিল। যা তাদের অন্তরে নেই তা তারা মুখে বলে, তারা যা গোপন রাখে আল্লাহ্‌ তা ভালো করেই জানেন।
১৬৮. যারা (ঘরে) ব’সে ব’সে তাদের ভাইদের সম্বন্ধে বলত যে, তারা তাদের কথামতো চললে নিহত হ’ত না, তাদেরকে বলো, ‘যদি তোমরা সত্য কথা বল তবে নিজেদেরকে মৃত্যু বাঁচাও’।
১৬৯. যারা আল্লাহ্‌র পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে কখনোই মৃত মনে কোরো না, বরং তারা তাদের প্রতিপালকের দৃষ্টিতে জীবিত ও তারা জীবিকাপ্রাপ্ত।
১৭০. আল্লাহ্‌ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে যা দিয়েছেন তাতে তারা আনন্দিত। আর তাদের পিছনের যারা এখনও তাদের সাথে মিলিত হয় নি তাদের জন্য আনন্দ প্রকাশ করো এজন্য যে তাদের কোনো ভয় নেই আর তারা দুঃখও পাবে না।
১৭১. আল্লাহ্‌র উপকার ও অনুগ্রহের জন্য তারা আনন্দ প্রকাশ করে, আর নিশ্চয় আল্লাহ্‌ বিশ্বাসীদের শ্রমফল নষ্ট করেন না।

||রুকু ১৮||

১৭২. আঘাত পাবার পর যারা আল্লাহ্‌র ও রসুলের ডাকে সাড়া দিয়েছে, তাদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করে আর সাবধান হয়ে চলে তাদের জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার।
১৭৩. তাদেরকে লোকে বলেছিল যে, ‘তমাদের বিরুদ্ধে লোকজমায়েত হয়েছে, সুতরাং তম্রা তাদেরকে ভয় করো’। তখন এ তাদের বিশ্বাসক্র আরও দৃঢ় করেছিল আর তারা বলেছিল, ‘আল্লাহ্‌ই আমাদের জন্য যথেষ্ট; আর তিনি কত ভালো কর্মবিধায়ক’।
১৭৪. তারপর তারা আল্লাহ্‌র অবদান ও অনুগ্রহ নিয়ে ফিরে এসেছিল, কোনো অনিষ্ট তাদেরকে স্পর্শ করে নি। আর আল্লাহ্‌ যাতে সন্তুষ্ট তারা তারই অনুসরণ করেছিল। আর আল্লাহ্‌ তো মহা অনুগ্রহশীল।
১৭৫. শয়তানই তো তোমাদেরকে তার বন্ধুদের ভয় দেখায়! যদি তোমরা বিশ্বাস কর তবে তোমরা তাদেরকে ভয় কোরো না, আমাকেই ভয় করো।
১৭৬. আর যারা তাড়াতাড়ি অবিশ্বাস করে তাদের আচরণ যেন তোমাকে দুঃখ না দেয়। তারা নিশ্চয় আল্লাহ্‌র কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ্‌ পরকালে তাদেরকে কোনো (কল্যাণের) অংশ দেবার ইচ্ছা করেন না। তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।
১৭৭. যারা বিশ্বাসের বিনিময়ে অবিশ্বাস ক্রয় করেছে তারা কখনও আল্লাহ্‌র কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।
১৭৮. আর অবিশ্বাসীরা যেন কিছুতেই মনে না করে যে আমি তাদের মঙ্গলের জন্য কাল বিলম্বিত করি, আমি কাল বিলম্বিত করি যাতে তাদের পাপ বৃদ্ধি পায়। আর তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।
১৭৯. অসৎকে সৎ থেকে পৃথক না করা পর্যন্ত তোমরা যে-অবস্থায় রয়েছ আল্লাহ্‌ সে-অবস্থায় বিশ্বাসীদেরকে ছেড়ে দিতে পারেন না। অদৃশ্য সম্পর্কে তোমাদেরকে জানানো আল্লাহ্‌র কাজ নয়, তবে আল্লাহ্‌ তাঁর রসুলগণের মধ্যে যালে ইচ্ছা মনোনীত করেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহ্‌ত ও তাঁর রসুলদের বিশ্বাস করো। তোমরা বিশ্বাস করলে ও সাবধান হয়ে চললে তোমাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।
১৮০.আর তারা যেন কিছুতেই মনে না করে যে আল্লাহ্‌ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে যা দিয়েছেন তাতে কৃপণতা করলে তাদের ভালো হবে। না, এ তাদের জন্য মন্দ। তারা যে-ধনে কৃপণতা করে কিয়ামতের দিন সে-ই তাদের গলার ফাঁস হবে। আকাশ ও পৃথিবীর উত্তরাধিকার আল্লাহ্‌রই। আর তোমরা যা কর আল্লাহ্‌ তা ভালো করেই জানেন।

||রুকু ১৯||

১৮১. আল্লাহ্‌ অবশ্যই তাদের কথা শুনেছেন, যারা বলে, ‘আল্লাহ্‌ অভাবগ্রস্ত ও আমরা অভাবমুক্ত’। তারা যা বলেছে তা ও নবিদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার কথা আমি লিখে রাখব ও বলব, ‘তোমরা দহনযন্ত্রণা ভোগ করো’।
১৮২. এ সেই যা তোমরা নিজ হাতে পূর্বে পাঠিয়েছ। আর নিশ্চয় আল্লাহ্‌ দাসদেরকে অত্যাচার করেন না’।
১৮৩. তারা বলে, ‘আল্লাহ্‌ আমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন যা, আমরা যেন কোনো রসুলের ওপর বিশ্বাস না করি, যতক্ষণ পর্যন্ত সে (এমন) কোরবানি না করবে যা আগুন গ্রাস করে ফেলবে,’ তাদেরকে বলো, ‘আমার আগে অনেক রসুল স্পষ্ট নিদর্শন ও তোমরা যা বলছ তা নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছিল; যদি তোমরা সত্য বল তবে তোমরা কেন তাদেরকে হত্যা করেছিলে?’
১৮৪. তারা যদি তোমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, তোমার পূর্বে যেসব রসুল স্পষ্ট নিদর্শন, অবতীর্ণ কিতাব ও দীপ্তিমান কিতাব নিয়ে এসেছিল তাদের ওপরও তো মিথ্যা আরোপ করা হয়েছিল।
১৮৫. প্রত্যেক প্রাণকেই মরণের স্বাদ নিতে হবে। কিমাতের দিন তোমাদের কর্মফলকে পুরো ক’রে দেওয়া হবে। যাকে আগুন থেক দূরে রাখা হবে ও জান্নাতে যেতে দেওয়া হবে সে-ই সফলকাম। আর পার্থিব জীবন তো ছলনাময় ভোগ ছাড়া আর কিছুই নয়।
১৮৬. তোমাদের তো ধনসম্পদ ও জীবন সম্বন্ধে পরীক্ষা করা হবে। তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল তাদের ও অংশীবাদীদের কাছ থেকে তোমরা অনেক পীড়াদায়ক কথা শুনবে। যদি তোমরা ধৈর্য ধর ও সাবধান হয়ে চল তবে তা হবে কর্মের (প্রকৃত) প্রস্তুতি।
১৮৭. যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল আল্লাহ্‌ তাদের কাছ থেক প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন, ‘তোমরা তা স্পষ্টভাবে মানুষের কাছে প্রকাশ করবে আর তা গোপন করবে না’। এর পরও তারা তা পিঠের পিছনে ফেলে দেয় (অগ্রাহ্য করে) ও অল্পদামে তা বিক্রয় করে। তাই তারা যা কেনে তা কতই-না খারাপ!
১৮৮. যারা নিজেরা যা করেছে তাতে আনন্দ প্রকাশ করে এবং যা নিজেরা করে নি এমন কাজের জন্য প্রশংসা পেতে ভালোবাসে তারা শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে, তুমি কখনও এমন ভেবো না। তাদের জন্য রয়েছে নিদারুণ শাস্তি।
১৮৯. আকাশ ও পৃথিবীর সার্বভৌম ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ্‌রই, আল্লাহ্‌ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

||রুকু ২০||

১৯০. আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে এবং দিন ও রাত্রির পরিবর্তনে নিদর্শন রয়েছে সেই বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য,
১৯১. যারা দাঁড়িয়ে, ব’সে ও শুয়ে আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে এবং আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্বন্ধে চিন্তা করে আর (বলে), ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি নিরর্থক এ সৃষ্টি কর নি। তুমি পবিত্র! তুমি আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করো।
১৯২. হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি যাকে আগুনে ফেলবে তাকে তুমি নিশ্চয় হেয় করবে আর সীমালঙ্ঘনকারীদের কেউ সাহায্য করবে না।
১৯৩. হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা এক আহ্বায়ককে বিশ্বাসের দিকে ডাক দিতে শুনেছি, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের ওপর বিশ্বাস করো’। সুতরাং আমরা বিশ্বাস করেছি। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের পাপ ক্ষমা করো, আমাদের মন্দ কার্যগুলো দূর ক’রে দাও আর আমাদের সৎকর্মশীলদের মৃত্যুর মতো মৃত্যু দাও।
১৯৪. হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার রসুলের মাধ্যমে আমাদের যা দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছ তা আমাদেরকে দাও আর কিয়ামতের দিন আমাদেরকে হেয় কোরো না। তুমি প্রতিশ্রুতির খেলাপ কর না’।
১৯৫. তারপর তাদের প্রতিপালক তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে বলে, ‘আমি তমাদের মধ্যে কোনো কর্মনিষ্ঠ নর বা নারীর কর্ম বিফল করি না। তোমরা পরস্পর সমান। সুতরাং যারা দেশত্যাগ করে পরবাসী হয়েছে, নিজের ঘর থেকে উৎখাত হয়েছে, আমার পথ নির্যাতিত হয়েছে, যুদ্ধ করেছে বা নিহত হয়েছে আমি তাদের মন্দ কাজগুলো অবশ্যই দূর করে দেব এবং অবশ্যই তাদেরকে দান করব জান্নাত যার নিচে নদী বইবে। এ আল্লাহ্‌র পুরস্কার। বস্তুত আল্লাহ্‌র কাছেই রয়েছে ভালো পুরস্কার’।
১৯৬. যারা অবিশ্বাস ক’রে দেশবিদেশে অবাধে ঘুরে বেড়ায় তারা যেন তোমাকে বিভ্রান্ত না করে।
১৯৭. এ তো সামান্য উপভোগ। তারপর জাহান্নামে তারা বাস করবে। আর সে কী জঘন্য বাসস্থান!
১৯৮. কিন্তু যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার নিচে নদী বইবে, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। এ আল্লাহ্‌র দিক থেকে আমন্ত্রণ, আল্লাহ্‌র কাছে যা আছে তা সৎকর্মপরায়ণদের জন্য ভালো।
১৯৯. কিতাবিদের মধ্যে অনেকে আছে যারা আল্লাহ্‌র প্রতি বিনয়াবত হয়ে, তোমাদের কাছে যা অবতীর্ণ হয়েছে ও তাদের কাছে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর বিশ্বাস করে এবং আল্লাহ্‌র আয়াত অল্প দামে তারা বিক্রি করে না। তাদের জন্য আল্লাহ্‌র কাছে পুরস্কার রয়েছে। আল্লাহ্‌ তো তাড়াতাড়ি হিসাব নেন।
২০০. হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্য ধরো। ধৈর্যধারণে প্রতিযোগিতা করো ও সর্বদা প্রস্তুত থাকো, আর আল্লাহ্‌কে ভয় করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।


অনুবাদটি নেওয়া হয়েছে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান অনুবাদিত 'কোরানশরিফ সরল বঙ্গানুবাদ' থেকে।