হুদ

উইকিসংকলন থেকে

সুরা হুদ রুকুঃ ১০ আয়াতঃ ১২৩

পরম করুণাময় পরম দয়াময় আল্লাহ‌র নামে

||১||

১। আলিফ-লাম-রা। যিনি তত্ত্বজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ তাঁর কাছ থেকে এ কিতাব (এসেছে)। এর আয়াতগুলো সুস্পষ্ট ও সুবিন্যস্ত করে পরে বিশদভাবে বলা হয়েছে যে,
২। তোমরা আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কারও উপাসনা করবে না, তাঁর পক্ষ হতে আমি তোমাদের জন্য সতর্ককারী ও সুসংবাদবাহক।
৩। আর তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো ও তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করো। তিনি তোমাদেরকে নির্দিষ্টকালের জন্য উত্তম জীবন উপভোগ করতে দেবেন আর যারা বেশি কর্মনিষ্ঠ তাদের প্রত্যেককে তিনি বেশি দেবেন। যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তবে আমি তোমাদের জন্য আশঙ্কা করি মহাদিনের শাস্তির।
৪। আল্লাহ্‌রই কাছে তোমাদের প্রত্যাবর্তন, আর তিনি তো সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
৫। সাবধান! ওরা তাঁর কাছে গোপন রাখার জন্য ওদের অন্তরকে ঢেকে রাখে। সাবধান! ওরা যখন নিজেদেরকে কাপড়ে ঢেকে রাখে (অর্থাৎ ওদের অভিসন্ধি গোপন করে) তখন ওরা কী গোপন করে ও কী প্রকাশ করে তা কি তিনি জানেন না? অন্তরে কী আছে তা তিনি ভালো করেই জানেন।
৬। পৃথিবীর প্রত্যেক জীবের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ্‌রই। তিনি ওদের স্থায়ী অস্থায়ী অবস্থান সম্বন্ধে জানেন, সুস্পষ্ট কিতাবে সবকিছুই আছে।
৭। যখন তাঁর আরশ পানির ওপর ছিল তখন তিনিই আকাশ ও পৃথিবী ছয়দিনে সৃষ্টি করেন – তোমাদের মধ্যে কে আচরণে ভালো তা পরীক্ষা করার জন্য। ‘মৃত্যুর পর তোমাদের আবার ওঠানো হবে’ – তুমি এ বললেই অবিশ্বাসীরা বলে, ‘এ তো স্পষ্ট অলীক কল্পনা’।
৮। আমি নির্দিষ্টকালের জন্য ওদের শাস্তি স্থগিত রাখি, তবে ওরা বলে, ‘কে এতে বাধা দিচ্ছে?’ সাবধান! যেদিন ওদের কাছে এ আসবে সেদিন তা ওদের কাছে থেকে ফিরে যাবে না, আর যা নিয়ে ওরা ঠাট্টাতামাশা করে তা ওদেরকেই ঘিরে রাখবে।

||২||

৯। যদি আমি মানুষকে আমার অনুগ্রহের আস্বাদন করাই ও পরে তার থেকে তাকে বঞ্ঝিত করি তখন সে অবশ্যই হতাশ ও অকৃতজ্ঞ হয়।
১০। দুঃখদৈন্য স্পর্শ করার পর যদি আমি তাকে অনুগ্রহ আস্বাদন করাই তখন সে বলে, ‘আমার বিপদ কেটে গিয়েছে’, আর সে উল্লাসে ফেটে পড়ে ও অহংকার করে।
১১। কিন্তু যারা ধৈর্য্ ধরে ও সৎকর্ম করে তাদেরই জন্য আছে ক্ষমা ও মহাপুরষ্কার।
১২। ওরা যখন বলে, ‘তার কাছে ধনভান্ডার পাঠানো হয় না কেন, বা তার সাথে ফেরেশতারা আসে না কেন?’ তখন তুমি যেন তোমার ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার কিছু বর্জন না কর এবং এর জন্য তোমার হৃদয় যেন দমে না যায়। তুমি তো কেবল সর্তককারী, আর আল্লাহ্‌ সকল বিষয়ের কর্মবিধায়ক।
১৩। তারা কি বলে, ‘সে (মুহাম্মদ) এ বানিয়েছে?’ বলো, ‘তোমরা যদি সত্য কথা বল তবে তোমরা এ-ধরণের দশটি সুরা আনো আর আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য যাকে পার ডেকে আনো’।
১৪। যদি তারা তোমার ডাকে সাড়া না দেয় তবে তবে জেনে রাখো এ আল্লাহ্‌র জ্ঞানে অবতীর্ণ হয়েছে আর তিনি ছাড়া কেউ উপাস্য নেই। তবে কি তোমরা মুসলমান হবে না (আত্মসমর্পণ করবে না)?
১৫। যদি কেউ পার্থিব জীবন ও তার শোভা-সৌন্দর্য কামনা করে তবে পৃথিবীতে আমি ওদের কর্মের পরিমিত ফল দান করি, আর পৃথিবীতে ওরা কম পাবে না।
১৬। ওদের জন্য পরকালে আগুন ছাড়া অন্য কিছুই নেই। আর তারা যা করে তা পন্ড হবে। আর ওরা যা কাজকর্ম করে থাকে তা তো অর্থহীন।
১৭। (ওরা কি তাদের সমান) যারা প্রতিপালক-প্রেরিত স্পষ্ট নিদর্শনে প্রতিষ্ঠিত, আর যা তাঁর এক সাক্ষী আবৃত্তি করে, যার পূর্বে এসেছে মুসার কিতাব, আদর্শ ও অনুগ্রহস্বরূপ? ওরা এতে (কোরানে) বিশ্বাস করে। অন্যান্য দলের যারা অবিশ্বাস করে তাদের জন্য অগ্নিই প্রতিশ্রুত স্থান। সুতরাং এ-বিষয়ে তুমি সন্দিহান হয়ো না, নিশ্চয় এ সত্য তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে (সমাগত), কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা বিশ্বাস করে না।
১৮। যারা আল্লাহ্‌ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে, তাদের চেয়ে বড় সীমালঙ্ঘনকারী কে? ওদের প্রতিপালকের সামনে ওদেরকে হাজির করা হবে আর সাক্ষীরা বলবে, ‘এরাই এদের প্রতিপালকের বিরুদ্ধে মিথ্যা আরোপ করেছিল’। সাবধান! সীমালঙ্ঘনকারীদের ওপর আল্লাহ্‌র অভিশাপ,
১৯। যারা আল্লাহ্‌র পথে বাধা দেয় ও তার মধ্যে দোষত্রুটি খোঁজে তারাই পরলোককে অস্বীকার করে।
২০। ওরা পৃথিবীতে আল্লাহ্‌র বিধান ব্যর্থ করতে পারবে না আর আল্লাহ্‌ ছাড়া ওদের অপর কোনো অভিভাবক নেই। ওদের শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে। ওরা শুনতে চাইত না এবং ওরা দেখতেও না।
২১। ওরা নিজেদেরই ক্ষতি করে। আর যা ওরা বানায় তা ওদের কাছ থেকে স’রে যায়।
২২। নিশ্চয়ই ওরা পরলোকে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
২৩। নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাস করে, সৎকর্ম করে ও তাদের প্রতিপালকের প্রতি বিনয়াবত তারাই জান্নাতে বাস করবে, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।
২৪। দুটো দলের উপমা অন্ধ ও বধিরের, আর যারা দেখতেও পায় ও শুনতেও পায়। তুলনায় দূটো কি সমান? তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?

||৩||

২৫। আর আমি নুহ্‌কে তার সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছিলাম। (সে বলেছিল), ‘আমি তোমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্ককারী
২৬। যাতে তোমরা আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কারও উপাসনা না কর, আমি তোমাদের জন্য আশঙ্কা করি এক দারুণ দিনের শাস্তির’।
২৭। তার সম্প্রদায়ের প্রধানরা যারা অবিশ্বাস করেছিল তার বলল, ‘আমরা তোমাকে তো আমাদের মতোই মানুষ দেখছি। আমরা তো দেখছি, যারা আমাদের মধ্যে ছোটলোক তারাই না বুঝে তোমাকে অনুসরণ করছে। আর আমরা তো আমাদের ওপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব দেখছি না, বরং আমরা তোমাদের মিথ্যাবাদী মনে করি’।
২৮। সে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমাকে বলো, আমি যদি আমার প্রতিপালকের পাঠানো স্পষ্ট নিদর্শনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকি ও তিনি যদি আমাকে নিজে অনুগ্রহ ক’রে থাকেন, অথচ এ-বিষয়ে তোমরা জেনেও জানতে না চাও, তবে আমি কি এ-ব্যাপারে তোমাদেরকে বাধ্য করতে পারি যখন তোমরা এ পছন্দ করছ না?
২৯। হে আমার সম্প্রদায়! এর পরিবর্তে আমি তোমাদের কাছে ধনসম্পদ চাই না। আমার পারিশ্রমিক আল্লাহ্‌র কাছে, আর আমি বিশ্বাসীদেরকে তাড়িয়ে দিতে পারি না, তাদের প্রতিপালকের সাথে তো তাদের দেখা হবে। কিন্তু আমি তো দেখছি তোমরা এক অজ্ঞ সম্প্রদায়।
৩০। হে আমার সম্প্রদায়! আমি যদি তাদেরকে তাড়িয়ে দিই তবে আল্লাহ্‌র শাস্তি থেকে আমাকে কে রক্ষা করবে? তবুও কি তোমরা বুঝবে না?’
৩১। ‘আমি তোমাদেরকে বলি না, আমার কাছে আল্লাহ্‌র ধনভান্ডার আছে। অদৃশ্যের ব্যাপারে আমি জানি না, আর আমি এ বলি না যে আমি ফেরেশতা। তোমাদের চোখে যারা ছোট তাদের সম্বন্ধে আমি বলি না যে, আল্লাহ্‌ তাদের কখনোই মঙ্গল করবেন না, তাদের অন্তরে যা আছে তা আল্লাহ্‌ ভালো করেই জানেন। (তোমাদের কথা শুনলে) আমি তো সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হব’।
৩২। তারা বলল, ‘হে নুহ্‌! তুমি আমাদের সাথে তর্ক করেছ, তুমি আমাদের সাথে বড় বেশি তর্ক করেছ; সুতরাং তুমি সত্য কথা বললে আমাদেরকে যার ভয় দেখাচ্ছ তা নিয়ে এসো’।
৩৩। সে বলল, ‘ইচ্ছা করলে আল্লাহ্‌ই তো তোমাদের কাছে উপস্থিত করবেন, আর তোমরা তা ব্যর্থ করতে পারবে না।
৩৪। আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিতে চাইলেও আমার উপদেশ তোমার কাজে আসবে না, যদি আল্লাহ্‌ তোমাদের বিভ্রান্ত করতে চান। তিনিই তোমাদের প্রতিপালক, আর তাঁরই কাছে আমরা ফিরে যাব’।
৩৫। তারা কি বলে যে, সে (মুহাম্মদ) এটি বানিয়েছে? বলো, ‘আমি যদি এ বানিয়ে থাকি তবে আমিই আমার অপরাধের জন্য দায়ী হব। তোমরা যে অপরাধ করছ তার জন্য আমি দায়ী নই’।

||৪||

৩৬। নুহের ওপর প্রত্যাদেশ হয়েছিল, ‘যারা বিশ্বাস করেছে তারা ছাড়া তোমার সম্প্রদায়ের অন্য কেউ কখনো বিশ্বাস করবে না। সুতরাং তারা যা করে তার জন্য তুমি দুঃখ কোরো না।
৩৭। তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার প্রত্যাদেশ অনুসারে জাহাজ বানাও, আর যারা সীমালঙ্ঘন করেছে তাদের সম্পর্কে তুমি আমাকে কিছু বোলো না। তারা তো ডুববেই’।
৩৮। সে জাহাজ বানাতে লাগল, আর যখনই তার সম্প্রদায়ের প্রধানেরা তার কাছ দিয়ে যেত তারা তাকে ঠাট্টা করত। সে বলত, ‘তোমরা যদি আমাদেরকে ঠাট্টা কর তবে আমরাও তোমাদেরকে ঠাট্টা করব যেমন তোমরা ঠাট্টা করছ।
৩৯। আর তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কার ওপর অপমানকর শাস্তি আসবে, আর স্থায়ী শাস্তি কার জন্য অবশ্যম্ভাবী’।
৪০। অবশেষে আমার আদেশ এলে পৃথিবী প্লাবিত হল। আমি বললাম, ‘এর ওপর প্রত্যেক জীবের এক-এক জোড়া উঠিয়ে নাও, যাদের বিরুদ্ধে আগেই স্থির হয়েছে তারা ছাড়া তোমার পরিবার-পরিজনকে ও যারা বিশ্বাস করেছে তাদেরকেও (উঠিয়ে নাও)’। তার সঙ্গে অল্প কয়েকজন বিশ্বাস করেছিল।
৪১। সে বলল, ‘এতে ওঠো, আল্লাহ্‌র নামে এর গতি ও স্থিতি। আমার প্রতিপালক তো ক্ষমা করেন, দয়া করেন’।
৪২। পাহাড়প্রমাণ ঢেঊয়ের মাঝে এ তাদেরকে নিয়ে বয়ে চলল। নুহ্‌ তার পুত্র যে আলাদা ছিল তাকে ডেকে বলল, ‘হে আমার পুত্র! আমাদের সঙ্গে ওঠো আর অবিশ্বাসীদের সাথে থেক না’।
৪৩। সে (পুত্র) বলল, ‘আমি এমন এক পাহাড়ে আশ্রয় নেব যা আমাকে প্লাবন থেকে রক্ষা করবে’। সে (নুহ্‌) বলল, ‘আজ আল্লাহ্‌র বিধান থেকে রক্ষা করার কেউ নেই, (রক্ষা পাবে) সে যাকে আল্লাহ্‌ দয়া করবেন’। এরপর ঢেউ ওদেরকে আলাদা ক’রে দিল আর যারা ডুবে গেল সে তাদের অন্তর্ভূক্ত হল।
৪৪। এরপর বলা হল, ‘হে পৃথিবী! তুমি তোমার পানি শুষে নাও! আর হে আকাশ! থামো’। এরপর বন্যা প্রশমিত হল ও কাজ শেষ হল। নৌকা জুদি পাহাড়ের ওপর থামল; আর বলা হল ‘ধ্বংসই সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়ের পরিণাম’।
৪৫। নুহ্‌ তার প্রতিপালককে সম্বোধন করে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার পুত্র আমার পরিবারের একজন আর তোমার প্রতিশ্রুতি তো সত্য; আর তুমি তো বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক’।
৪৬। তিনি বললেন, ‘হে নুহ্‌! সে তোমার পরিবারের কেউ নয়। সে অসৎকর্মপরায়ণ। সুতরাং যে-বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই সে-বিষয়ে আমাকে অনুরোধ কোরো না। আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি, তুমি অজ্ঞদের শামিল না হও’।
৪৭। সে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! যে-বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই, সে-বিষয়ে যাতে তোমাকে অনুরোধ না করি এজন্য আমি তোমার শরণ নিচ্ছি। তুমি যদি আমাকে ক্ষমা না কর ও দয়া না কর তবে আমি ক্ষতিগ্রস্তদের শামিল হব’।
৪৮। বলা হল, ‘হে নুহ্‌! তুমি নামো আমার দেওয়া শান্তি নিয়ে ও তোমার ওপর আর যেসব সম্প্রদায় তোমার সঙ্গে আছে তাদের ওপর কল্যাণ নিয়ে। অপর সম্প্রদায়কে জীবন উপভোগ করতে দেব; পরে আমার তরফ থেকে নিদারুণ শাস্তি তাদেরকে স্পর্শ করবে’।
৪৯। (হে মুহাম্মদ!) এসব অদৃশ্যলোকের সংবাদ আমি তোমাকে প্রত্যাদেশ দ্বারা জানিয়েছি যা এর পূর্বে তুমি জানতে না, আর তোমার সম্প্রদায়ও জানত না। সুতরাং ধৈর্য ধরো, শেষ ভালো সাবধানিদেরই’।

||৫||

৫০। আর আ’দ জাতির কাছে ওদের ভাই হুদকে পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহ্‌র উপাসনা করো। তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। তোমরা তো কবল মিথ্যা বানাও’।
৫১। ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমি এর পরিবর্তে তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান আছে তাঁরই কাছে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তোমরা কি বোঝার চেষ্টা করবে না?’
৫২। ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চাও, তারপর তাঁর দিকে ফিরে যাও। তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টি দেবেন। তিনি তোমাদের আরও শক্তি বৃদ্ধি করবেন। আর তোমরা অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিও না’।
৫৩। ওরা বলল, ‘হে হুদ! তুমি আমাদের কাছে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ আনো নি, তোমার কথায় আমরা আমাদের উপাস্যকে ছেড়ে দেব না আর আমরা তোমাদের ওপর বিশ্বাস করি না।
৫৪। আমরা তো বলি, আমাদের উপাস্যদের মধ্যে কেউ তোমাকে অশুভভাবে আচ্ছন্ন করেছে?’ সে বলল, ‘আমি আল্লাহ্‌কে সাক্ষী করছি আর তোমরাও সাক্ষী হও যে, তোমরা যাকে আল্লাহ্‌র শরিক কর, আমার তার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই,
৫৫। তাঁকে (আল্লাহ্‌কে) ছাড়া তোমরা সকলে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করো আর আমাকে অবকাশ দিয়ো না।
৫৬। আমি নির্ভর করি আমার ও তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ্‌র ওপর; এমন কোনো জীবজন্তু নেই যে তাঁর পূর্ণ আয়ত্তাধীন নয়। আমার প্রতিপালক সরল পথে আছেন।
৫৭। তারপর তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে, আমি যা নিয়ে তোমাদের কাছে প্রেরিত হয়েছি আমি তো তা তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি, আর আমার প্রতিপালক তোমাদের থেকে অন্য কোনো সম্প্রদায়কে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন আর তোমরা তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আমার প্রতিপালক তো সমস্ত কিছুর রক্ষণাবেক্ষণ করেন’।
৫৮। আর যখন আমার নির্দেশ এল তখন হুদ ও তার সঙ্গে যারা বিশ্বাস করেছিল তাদেরকে আমি আমার অনুগ্রহে ক্ষমা করলাম ও তাদেরকে কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা করলাম।
৫৯। এই আ’দ জাতি তাদের প্রতিপালকের নিদর্শন অস্বীকার করেছিল। আর তাঁর রসুলদের অমান্য করেছিল, আর ওরা প্রত্যেক উদ্ধত স্বৈরাচারীর নির্দেশ অনুসরণ করত।
৬০। এ-পৃথিবীতে ওদেরকে অভিশাপগ্রস্ত করা হয়েছিল, আর ওরা কিয়ামতের দিনেও (অভিশাপগ্রস্ত হবে)। জেনে রাখো, আ’দ সম্প্রদায় তাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করেছিল। জেনে রাখো ধ্বংসই ছিল হুদের সম্প্রদায় আ’দের পরিণাম।

||৬||

৬১। সামুদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালেহ্‌কে পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহ্‌র উপাসনা করো। তিনি ছাড়া তোমাদের জন্য কোনো উপাস্য নেই। তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন ও তার মধ্যেই তিনি তোমাদেরকে বসবাস করিয়েছেন। সুতরাং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো ও তাঁরই দিকে ফিরে এসো। আমার প্রতিপালক তো কাছেই (আছেন), ডাকলে তিনি সাড়া দেন’।
৬২। তারা বলল, ‘হে সালেহ্‌! এ-পর্যন্ত তোমার ওপর আমরা বড় আশা করেছিলাম। আমাদের পূর্বপুরুষেরা যাদের উপাসনা করত তুমি কি আমাদেরকে নিষেধ করছ তাদের উপাসনা করতে? তুমি যার দিকে আমাদেরকে ডাকছ তার সম্বন্ধে আমাদের সংশয় রয়েছে’।
৬৩। সে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমাকে বলো, আমি যদি আমার প্রতিপালকের কাছ থেকে প্রমাণ পেয়ে থাকি ও তিনি যদি নিজে আমাকে অনুগ্রহ ক’রে থাকেন, তারপর আমি যদি তাঁর অবাধ্য হই, তবে আল্লাহ্‌র শাস্তি থেকে আমাকে কে রক্ষা করবে? তাই তোমরা তো কেবল আমার ক্ষতিই বাড়াচ্ছ’।
৬৪। ‘হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহ্‌র মাদি উট তোমাদের জন্য এক নিদর্শন। একে আল্লাহ্‌র জমিতে চ’রে খেতে দাও। একে কোনো কষ্ট দিয়ো না। কষ্ট দিলে শীঘ্রই তোমাদের অপর শাস্তি নেমে আসবে’।
৬৫। কিন্তু ওরা সেটাকে মেরে ফেলল। তারপর সে বলল, ‘তোমরা তোমাদের ঘরে তিন দিন জীবন উপভোগ ক’রে নাও। এ একটি প্রতিশ্রুতি যা মিথ্যা হওয়ার নয়’।
৬৬। আর যখন আমার নির্দেশ এল তখন আমি সালেহ্‌ ও তার সঙ্গে যারা বিশ্বাস করেছিল তাদেরকে আমার অনুগ্রহে সেদিনের অপমান থেকে রক্ষা করলাম। তোমার প্রতিপালক তো পরাক্রমশালী।
৬৭। তারপর যারা সীমালঙ্ঘন করেছিল এক মহাগর্জন তাদেরকে আঘাত করল, ফলে ওরা নিজের ঘরে উপুড় হয়ে শেষ হয়ে গেল,
৬৮। যেন তারা কখনও সেখানে বাস করেনি। দেখো! সামুদ সম্প্রদায় তাদের প্রতিপালককে আস্বীকার করেছিল। দেখো! সামুদ সম্প্রদায় (কেমনভাবে) ধ্বংস হল!

||৭||

৬৯। আমার প্রেরিত ফেরেশতারা সুসংবাদ নিয়ে ইব্রাহিমের কাছে এল। তারা বলল, ‘সালাম’। সেও বলল, ‘সালাম’। সে অবিলম্বে এক ভুনা বাছুর নিয়ে এল।
৭০। সে যখন দেখল তারা (ফেরেশতারা) তার দিকে হাত বাড়াচ্ছে না তখন তাদেরকে সন্দেহ করল ও তাদের সম্বন্ধে তার মনে ভয় হল। তারা বলল, ‘ভয় কোরো না, আমাদেরকে লুতের সম্প্রদায়ের কাছে পাঠানো হয়েছে’।
৭১। তখন তাঁর স্ত্রী দাঁড়িয়ে ছিল, সে হাসল। তারপর আমি তাকে ইসহাকের ও ইসহাকের পরবর্তী ইয়াকুবের সুসংবাদ দিলাম।
৭২। সে বলল, ‘কী আশ্চর্য! আমি সন্তানের জননী হব, যখন আমি বৃদ্ধা ও এই আমার স্বামী বৃদ্ধ! এ তো এক অদ্ভুত ব্যাপার’!
৭৩। তারা বলল, ‘আল্লাহ্‌র কাজে অবাক হচ্ছ? হে নবির পরিবার! তোমাদের ওপর রয়েছে আল্লাহ্‌ অনুগ্রহ ও কল্যাণ। তিনি প্রশংসার্হ ও সম্মানার্হ।
৭৪। তারপর যখন ইব্রাহিমের ভয় দূর হল ও তার কাছে সুসংবাদ এল তখন সে লুতের সম্প্রদায় সম্পর্কে (আমার পাঠানো ফেরেশতাদের সঙ্গে) তর্ক করতে লাগল।
৭৫। ইব্রাহিম তো ছিল ধৈর্যশীল, কোমলহৃদয়, আল্লাহ্‌-অভিমুখী।
৭৬। (আমি বললাম), ‘হে ইব্রাহিম! এ থেকে বিরত হও। তোমার প্রতিপালকের বিধান এসে পড়েছে। নিশ্চয় ওদের ওপর এক অনিবার্য শাস্তি আসবে’।
৭৭। আর যখন আমার প্রেরিত ফেরেশতারা লুতের কাছে এল তখন তাদেরকে আসতে দেখে সে মন-খারাপ করল ও বড় অসহায় বোধ করল। আর বলল, ‘এ কঠিন দিন’!
৭৮। তার সম্প্রদায় তার কাছে পাগলের মতো ছুটে এল, আর আগে থেকে তারা কুকর্মে লিপ্ত ছিল। সে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! এরা আমার কন্যা, তোমাদের জন্য এরা পবিত্র। সুতরাং আল্লাহ্‌কে ভয় করো ও আমার অতিথিদের সাথে অন্যায় ব্যবহার করে আমাকে ছোট কোরো না। তোমাদের মধ্যে কি কোনো ভালো মানুষ নেই?’
৭৯। তারা বলল, ‘তুমি নিশ্চয় জান, তোমার কন্যাদেরকে আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা কী চাই তা তুমি ভালোভাবেই জান’।
৮০। সে বলল, ‘তোমাদের ওপর যদি আমার শক্তি থাকত বা যদি আমি কোনো শক্তিশালী দলের আশ্রয় নিতে পারতাম!’
৮১। তারা বলল, ‘হে লুত! আমরা তোমার প্রতিপালক-প্রেরিত ফেরেশতা। ওরা কখনোই তোমার কাছে পৌঁছতে পারবে না। সুতরাং তুমি রাত্রিত কোনো-এক সময়ে তোমার পরিবারবর্গসহ বেড়িয়ে পড়ো ও তোমাদের মধ্যে কেউ পেছন ফিরে চেয়ো না; কিন্তু তোমার স্ত্রী যাবে না, ওদের যা ঘটবে তারও তা-ই ঘটবে। সকালবেলা ওদের জন্য সময় ঠিক করা হল। সকাল হতে কতই-বা দেরি!’
৮২। তারপর যখন আমার আদেশ এল তখন আমি শহরগুলোকে উলটিয়ে দিলাম ও তাদের ওপর একটানা কঙ্কর বর্ষণ করলাম,
৮৩। তোমার প্রতিপালকের কাছে যা ছিল চিহ্নিত। এ (শহরগুলো) সীমালঙ্ঘনকারীদের কাছ থেকে দূরে নয়।

||৮||

৮৪। মাদইয়ানবাসীদের কাছে তাদের ভাই শোয়াইব কে পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহ্‌র উপাসনা করো। তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই। তোমরা মাপে ও ওজনে কম কোরো না। আমি তোমাদের সমৃদ্ধি দেখেছি, কিন্তু আমি তোমাদের জন্য এক সর্বগ্রাসী দিনের শাস্তির আশঙ্কা করছি।
৮৫। ‘হে আমার সম্প্রদায়! মাপ ও ওজন ন্যায্যভাবে দেবে। লোককে তাদের প্রাপ্যবস্তু কম দিয়ো না ও পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটিয়ো না।
৮৬। যদি তোমরা বিশ্বাসী হও তবে আল্লাহ্‌র অনুমোদিত যা থাকবে তোমাদের জন্য তা ভালো। আমি তোমাদের তত্ত্বাবধায়ক নই’।
৮৭। ওরা বলল, ‘হে শোয়াইব! তোমার নামাজ কি তোমাকে নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পিতৃপুরুষেরা যার উপাসনা করত আমরা তাকে ছেড়ে দেব, আর ধনসম্পদ সম্পর্কে আমরা যা খুশি করতে পারব না? তুমি তো এক ধৈর্যধারী সদাচারী’।
৮৮। সে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমাকে বলো, আমি যদি আমার প্রতিপালক-প্রেরিত স্পষ্ট নিদর্শনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকি, আর তিনি যদি তাঁড় কাছ থেকে আমাকে ভালো জীবিকা দিয়ে থাকেন তবে কী ক’রে আমি আমার কর্তব্য থেকে বিরত থাকব? আমি তোমাদেরকে যা নিষেধ করি আমি নিজে তা করতে ইচ্ছা করি না। আমি আমার সাধ্যমতো সংস্কার করতে চাই। আমার কাজ তো আল্লাহ্‌রই সাহায্যে, আমি তাঁরই দিকে মুখ ফিরিয়েছি’।
৮৯। ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার সাথে মতের অমিল যেন কিছুতেই তোমাদের এমন ব্যবহার না করায় যাতে তোমাদের ওপর তেমন (শাস্তি) পড়বে, যা পড়েছিল নুহের সম্প্রদায়ের ওপর, আর হুদের সম্প্রদায়ের ওপর, বা সালেহ্‌র সম্প্রদায়ের ওপর, আর লুতের সম্প্রদায় তো তোমাদের থেকে দূরে নয়।
৯০। তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো ও তাঁর দিকে ফিরে যাও। আমার প্রতিপালক তো পরম দয়ালু, প্রেমময়’।
৯১। ওরা বলল, ‘শোয়াইব! তুমি যা বল তার অনেক কথা আমরা বুঝি না, আর আমরা তো আমাদের মধ্যে তোমাকে দুর্বলই দেখছি, তোমার স্বজনবর্গ না থাকলে আমরা তোমাকে পাথর ছুড়ে মেরে ফেলতাম। আমাদের চেয়ে তো তুমি শক্তিশালী নও’।
৯২। সে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের কাছে কি আমার স্বজনবর্গ আল্লাহ্‌র চেয়ে বেশি শক্তিশালী? তোমরা তাঁকে সম্পূর্ণ ভুলে গিয়েছ। তোমরা যা কর আমার প্রতিপালক তো তা ঘিরে রয়েছেন।
৯৩। ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা যেমন করছ করতে থাকো, আমিও আমার কাজ করছি। তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কার ওপর আসবে অপমানকর শাস্তি, আর কে মিথ্যাবাদী। সুতরাং তোমরা প্রতীক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষা করছি’।
৯৪। যখন আমার নির্দেশ এল তখন আমি শোয়াইব ও তার সঙ্গে যারা বিশ্বাস করেছিল তাদেরকে আমার অনুগ্রহে রক্ষা করলাম। তারপর, যারা সীমালঙ্ঘন করেছিল তাদেরকে এক মহাগর্জন আঘাত করল; তাই ওরা নিজেদের ঘরে উপুড় হয়ে শেষ হয়ে গেল,
৯৫। যেন তারা সেখানে কখনও বসবাস করে নি। জেনে রাখো, ধ্বংসই ছিল মাদইয়ানবাসীদের পরিণাম, যেভাবে ধ্বংস হয়েছিল সামুদ সম্প্রদায়।

||৯||

৯৬। আমি মুসাকে আমার নিদর্শন ও সুস্পষ্ট প্রমাণ দিয়ে পাঠিয়েছিলাম,
৯৭। ফেরাউন ও তার প্রধানদের কাছে। কিন্তু ওরা ফেরাউনের কাজকর্মের অনুসরণ করত। আর ফেরাউনের কাজকর্ম তো ঠিক ছিল না।
৯৮। সে কিয়ামতের দিনে তার সম্প্রদায়ের পুরোভাগে থাকবে আর ওদেরকে নিয়ে আগুনে প্রবেশ করবে। যেখানে তারা প্রবেশ করবে সে কী জঘন্য জায়গা!
৯৯। তাদেরকে অনুসরণ করবে এক অভিশাপ। আর কিয়ামতের দিনে কী খারাপ পুরস্কারই-না তারা পাবে!
১০০। এ জনপদগুলোর কিছু বৃত্তান্ত আমি তোমার কাছে বয়ান করলাম, ওদের মধ্যে কিছু এখনও বর্তমানে আছে আর কিছু নির্মূল হয়ে গেছে।
১০১। আমি ওদের ওপর জুলুম করি নি; বরং ওরাই নিজেদের ওপর জুলুম করছিল। যখন তোমাদের প্রতিপালকের বিধান এল তখন ওদের উপাস্যরা, আল্লাহ্‌ ছাড়া যাদেরকে ওরা উপাসনা করত, তারা তাদের কোনো কাজে লাগল না। ধ্বংস ছাড়া ওদের কোনো উন্নতি হল না।
১০২। এমনই তোমার প্রতিপালকের মার! তিনি আঘাত করেন জনপদসমূহকে যখন তারা সীমালঙ্ঘন করে। মারাত্মক কঠিন তার মার!
১০৩। যে পরলোকের শাস্তিকে ভয় করে নিশ্চয় তার জন্য এর মধ্যে (ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদে) নিদর্শন রয়েছে। এই সেই দিন যেদিন সব মানুষকে একত্র করা হবে – এই সেই দিন যখন সকলকে উপস্থিত করা হবে।
১০৪। আর আমি তা নির্দিষ্ট কিছুকালের জন্য স্থগিত রাখব।
১০৫। যখন সেদিন আসবে তখন আল্লাহ্‌র অনুমতি ছাড়া কেউ কোনো কথাবার্তা বলতে পারবে না। ওদের মধ্যে কেউ হবে হতভাগ্য ও কেউ ভাগ্যবান।
১০৬। তারপর যারা হতভাগ্য তারা আগুনে থাকবে ও সেখানে তাদের জন্য থাকবে চিৎকার ও আর্তনাদ।
১০৭। সেখানে তারা স্থায়ী হবে ততদিন পর্যন্ত যতদিন আকাশ ও পৃথিবী থাকবে যদি না তোমার প্রতিপালক অন্যরূপ ইচ্ছা করেন। তোমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা তা-ই করেন।
১০৮। যারা ভাগ্যবান তারা থাকবে জান্নাতে, সেখানে তারা স্থায়ী হবে ততদিন পর্যন্ত যতদিন আকাশ ও পৃথিবী থাকবে, যদিনা তোমার প্রতিপালক অন্যরূপ ইচ্ছা করেন। এ এক নিরবিচ্ছিন্ন পুরস্কার।
১০৯। সুতরাং ওরা যাদের উপাসনা করে তাদের সম্বন্ধে তুমি সংশয়যুক্ত হয়ো না। পূর্বে তাদের পূর্বপুরুষরা যাদের উপাসনা করত ওরা তাদের উপাসনা করে। আর আমি অবশ্যই ওদেরকে ওদের প্রাপ্য পুরোপুরি দেব, কিছুমাত্র কম করব না।

||১০||

১১০। আমি অবশ্যই মুসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, তারপর তা নিয়ে মতভেদ ঘটেছিল। তোমার প্রতিপালকের পূর্বঘোষণা না থাকলে ওদের মীমাংসা হয়ে যেত। ওরা এ (কিতাব) সম্বন্ধে বিভ্রান্তিকর সন্দেহে ছিল।
১১১। আর নিশ্চয় যখন সময় আসবে তোমার প্রতিপালক ওদের প্রত্যেককে তার কর্মফল পুরোপুরি দেবেন, তারা যা করে তার খবর রয়েছে তাঁর কাছে।
১১২। সুতরাং তুমি ও তোমার সাথে যারা বিশ্বাস করে, তোমরা শক্ত থাকো যেমন তোমাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়, আর সীমালঙ্ঘন কোরো না। তোমরা যা কর নিশ্চয় তা তিনি দেখেন।
১১৩। যারা সীমালঙ্ঘন করেছে তাদের দিকে তুমি ঝুঁকে পোড়ো না; পড়লে আগুন তোমাকে স্পর্শ করবে, আর এ-অবস্থায় আল্লাহ্‌ ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক থাকবে না, তখন তোমাদের সাহায্য করা হবে না।
১১৪। তুমি নামাজ কায়েম করবে দিনের দুই প্রান্তভাগে ও রাতের প্রথম অংশে। সৎকর্ম তো অসৎকর্মকে দূর করে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে তাদের জন্য এ এক উপদেশ।
১১৫। তুমি ধৈর্য ধরো, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ পরোপকারীদের শ্রমফল নষ্ট করেন না।
১১৬। তোমাদের পূর্বযুগে আমি যাদেরকে ত্রাণ করেছিলাম তাদের মধ্যে অল্পকতক ছাড়া শুভবুদ্ধিসম্পন্ন এমন লোক ছিল না যারা পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটাতে নিষেধ করত? সীমালঙ্ঘনকারীরা তারই অনুসরণ করেছিল যাতে ওরা সুখ-সুবিধা পেত, আর ওরা ছিল অপরাধী।
১১৭। অন্যায়ভাবে কোনো জনপদকে তোমার প্রতিপালক ধ্বংস করেন না, যদি তার অধিবাসীরা নিজেদেরকে সংশোধন ক’রে নেয়।
১১৮। তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করলে সমস্ত মানুষকে এক জাতি করতে পারতেন, কিন্তু তারা মতভেদ করতেই থাকবে;
১১৯। তবে তোমার প্রতিপালক যাদেরকে দয়া করেন তারা নয়, আর তিনি ওদেরকে এজন্যেই সৃষ্টি করেছেন। ‘আমি জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করবই’—তোমার প্রতিপালকের এই কথা পূর্ণ হবেই।
১২০। আমি তোমার কাছে রসুলদের সকল কাহিনী বর্ণনা করেছি, এ দিয়ে আমি তোমার হৃদয় মজবুত করেছি। এ থেকে তোমার কাছে এসেছে সত্য, আর বিশ্বাসীদের জন্য এসেছে উপদেশ ও সাবধানবাণী।
১২১। আর যারা বিশ্বাস করে না তাদেরকে বলো, ‘তোমাদের জায়গায় তোমরা কাজ করো, আর আমরাও আমাদের কাজ করি।
১২২। আর তোমরাও প্রতীক্ষা করো, আমরাও প্রতীক্ষা করছি’।
১২৩। আকাশ ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয়ের (জ্ঞান) আল্লাহ্‌রই। আর তাঁর কাছে সবকিছুই ফিরিয়ে আনা হবে। তাই তোমরা তাঁরই উপাসনা করো ও তাঁর ওপর নির্ভর করো। তোমরা যা কর সে-সম্বন্ধে তোমাদের প্রতিপালক খবর রাখেন না তা নয়।


অনুবাদটি নেওয়া হয়েছে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান অনুবাদিত 'কোরানশরিফ সরল বঙ্গানুবাদ' থেকে।