অদ্ভুত রামায়ণ (১৮৯০)
অদ্ভুত রামায়ণ
মহামুনি বাল্মীকি প্রণীত মূলগ্রন্থ হইতে
শ্রীমতী সৌদামিনী দেবী
কর্ত্তৃক
বাঙ্গালা ভাষায় অনুবাদ হইয়া পয়ারাদি বিবিধ
ছন্দে বিরচিত ও প্রকাশিত।
সাকিম শিবপুর—জেলা হাওড়া।
প্রমাদ অথবা ভ্রমে হইয়া পতন।
যদি কিছু লিখে থাকি অযুত বচন॥
নীরক্ষীরে হংস যথা, তথা সুধীজন।
দোষ ত্যজি গুণভাগ করুন্ গ্রহণ॥
কলিকাতা,
সিমুলিয়া, বলরাম দের ষ্ট্রীট ৬৮ সংখ্যক ভবনে কৃপানন্দ যন্ত্রে
শ্রীনফরচন্দ্র সরকার দ্বারা মুদ্রিত।
সন ১২৯৭ সাল।
উৎসর্গ-পত্র।
ক্রাউন্ অফ্ ইণ্ডিয়া।
মহামহিমার্ণবোপম মাদৃশীসুদীন বিধবাকন্যা পালিকা স্বদেশহিতৈষিণী, কল্পলতিকা-সদৃশী শ্রীশ্রীমতী মহারাণী স্বর্ণময়ী মহাশয়া
মাদৃশ নিরাশ্রয়া বিধবাকন্যাপালিকাসু।
সবিনয় নিবেদন।
মাতঃ! আমি বহু যত্নে এবং বহু চেষ্টায় মহামুনি বাল্মীকির সর্ব্বস্বধন এই অদ্ভুতরামায়ণ গ্রন্থখানি নানাবিধ বাঙ্গালা ছন্দে রচনা করিয়ছি। ইহা ভক্তগণের পরম বস্তু, মুমুক্ষর ভব-সমুদ্র-তরণী, ধার্ম্মিকের পরমবন্ধু, আয্যগণের আদবেব ধন, ভারতের উজ্জ্বল রত্ন। ইহা যেরূপ ভাবে ভাষান্তরিত হওয়া উচিত, আমা দ্বারা তাহার কতদূর হইযাছে, তাহা আমি জানি না, তবে এইমান ভরসা, “রামনাম” মাধুর্য্যবিহীন নহে। এই নামে ভক্তবৃন্দের হৃদয়-বারিধি সহজেই উচ্ছদিত হইযা উঠে। আমি এই ভরসাতে সাহসী হইযা, এই রামনামাত্মক মহাকাব্য ভাষান্তরিত করিয়া একগাছি মালা গ্রন্থন পূর্ব্বক আপনাব গলদেশে ভক্তিভাবে প্রদান করিবার নিমিত্ত নিকটে উপস্থিত হইয়াছি। একবার হৃদয়দেশে ধারণ করিযা আমাকে কৃতার্থ করুনা। মাতঃ! আমি সামান্য জ্ঞানসম্পন্না, ভালরূপ লেখাপড়া শিখিতে পারি নাই। আমি অল্প দিন হইল বিধবা হইয়াছি। এ হতভাগিনীর আর কেহ কোথাও নাই বলিলেও অত্যুক্তি হয না। কযেকটী বালিকা লইয়া অকূল দুঃখসমুদ্রে ভাসমানা। উদরান্নের অন্য কোন উপায় নাই। বিষয় নাই, বিভব নাই। কাজেই গ্রন্থাদি রচনা অথবা দাসীবৃত্তি ভিন্ন উপায়, কি আছে? দ্বিতীয় পন্থাপেক্ষা প্রথম পন্থাবলম্বনে নিকটে উপস্থিত হইলাম। নব-বিধবা-তরুণী-কুলবালাকে কিঞ্চিৎ কৃপাকটাক্ষ বিতরণে কৃতার্থ করিতে আজ্ঞ হয। আমার ন্যায় কত শত রমণী আপনার কৃপায় প্রতিপালিত হইতেছে, তবে কেন আমি তাহা হইতে বঞ্চিত হইব। পুস্তক উৎসর্গচ্ছলে জীবন উৎসর্গ করিলাম, প্রতিপালন করতে অজ্ঞ হয়। নিবেদন ইতি।
| সন ১২৯৭ সাল। জ্যৈষ্ঠ। |
শরণাগত নববিধবা শ্রীমতী সৌদামিনী দেবী। শিবপুর-হাওড়া। |
উপক্রমণিকা।
টেমপ্লেট:স্বনির্ধারিত রুল এই অদ্ভুত রামায়ণ গ্রন্থখানি মূল সংস্কৃত হইতে ভাষান্তরিত হইয়া নানাবিধ পদ্যচ্ছন্দে বিরচিত হইল। কারণ সংস্কৃত ভাষা সাধারণের বুঝিবার সম্পূর্ণ অসুবিধা বলিয়া পরিত্যক্ত হইয়া থাকে। এক্ষণে ভরসা করি, এই স্বল্পবুদ্ধি কুলবালার রচিত গ্রন্থখানি সকলের আনন্দদায়ক হইলেও হইতে পারে; কিন্তু এই ভাগ্যহীনা বিধবার ভাগ্যে যে কতদূর ঘটিবে, তাহা ভবিষ্যদ্গর্ভে নিহিত।
কত কত মহাশয়-ব্যক্তিদিগের কত শত অর্থ সামান্য কার্য্যে ব্যয়িত হইয়া যাইতেছে। তাঁহারা যদি এই দুর্ভাগিনীর প্রতি একটু কৃপা-কটাক্ষ নিক্ষেপ করেন, তাহা হইলে তাঁহাদিগের মহিমার উন্নতিসাধনের সহিত আমারও অবস্থার উন্নতি সাধন হয়।
এই গ্রন্থখানি ভবার্ণবের তরণীস্বরূপ। সুতরাং ভক্ত মিচ্ছু ব্যক্তিমাত্রেরই এক একখানি গ্রহণ করা উচিত কিন্তু কলিরাজের প্রবল তাড়নায় কতদূর ঘটিবে, বলা যায় না। কিমধিকমিতি।
বিজ্ঞাপন।
সর্ব্বসাধারণ জনগণের সুবিধার জন্য এই অদ্ভুত রামায়ণ নামক গ্রন্থ খানি বাঙ্গালা ভাষায় বিরচিত হইল। এই অমূল্য গ্রন্থাবলী ব্রহ্মলোকে অতি গুপ্তভাবে রক্ষিত ছিল। পরে ভারদ্বাজ ঋষি শ্রীমদ্বাল্মীকির নিকট প্রশ্ন করায় বাল্মীকি উক্ত শিষ্যের নিকট শ্লোকচ্ছন্দে সমস্ত বিবৃত করেন। দশহাজার শ্লোকপূর্ণ এই অদ্ভুতোত্তরকাণ্ড রামায়ণ এক্ষণে এই হতভাগিনী সৌদামিনী পয়ারাদি নানাবিধ ছন্দে ভাষায় রচনা করিয়া সর্ব্বসাধারণের বোধগম্য হওন জন্য সংপ্রতি মুদ্রিত ও প্রকাশিত করিতে বাধ্য হইল। এক্ষণে এই দুভাগ্যবতীর রচনা সকলের প্রীতিজনক হইলে সমস্ত দুঃখ ও শ্রম সফল জ্ঞান করিব।
ভয়ঙ্কর কলিরাজের প্রাদুর্ভাব, ধর্ম্মরাজ এক্ষণে একপদে দণ্ডায়মান অধর্ম্ম ত্রিপাদ এবং মহা প্রতাপান্বিত হইয়া কলিরাজের মন্ত্রীকর্ম্ম সমা ধানে তৎপর; এরূপ না হইলে চৌরাশি নরককুণ্ড কি প্রকারে পরিপূর্ণ হইবেক। কারণ এই রামায়ণের শেষাংশের ফলশ্রুতির প্রতি একবার দৃষ্টি করিয়া দেখুন, এই রামায়ণের এক বা অর্দ্ধশ্লোক পাঠে সম্পূর্ণ রামায়ণপাঠের ফললাভের সহিত মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়, কিন্তু আমার পক্ষে তাহা সম্পূর্ণ বিপরীত হইয়াছে; যেহেতু আমি এই গ্রন্থখানি লেখা আরম্ভ করা অবধি আমার স্বামীর পীড়া ক্রমশই বৃদ্ধি পাইয়া গ্রন্থ শেষ হওয়ার সাথে সঙ্গে তাহারও জীবন শেষ হইয়া গেল। স্বামীর রক্তপিত্ত পীড়ার উৎপত্তি দেখিয়া, তাহার কল্যাণ জন্য এই গ্রন্থখানি লিখিতে আরম্ভ করিয়া ছিলাম; রিন্তু কলিরাজের মাহাত্ম্যগুণে ও আমার দুর্ভাগ্যক্রমে বিপরীত ফলোৎবত্তি হইল। তথাপি লিখিতে ছাড়ি নাই। কারণ ভগবান্ হরি আপনি বলিয়াছেন;—
“যে করে আমার আশ, করি তার সর্বনাশ।
তবু যদি না ছাড়ে আশ, তবে হই তার দাসের দাস॥”
আমাকে ভজিলে দুঃখ দিব পদে পদে।
সর্ব্বদা রাখিব তারে বিপদের হ্রদে।
রোগশোক দুঃখে তারে করি জর জর।
হায় হায করিয়া কান্দাব নিরন্তর।
দেখিব কেমন ভক্ত সেই মহাজন।
এত কষ্ট সহ্য ক’রে করিবে স্মরণ।
বিনা কষ্টে কেবা সুধা খাইবারে পায়।
যে পায় একান্ত চায় সে পায় আমায়।
দেখ ধ্রুব প্রহ্লাদ নারদ আদি ঋষি।
করিয়া কঠোর তপ হইয়া সন্ন্যাসী।
প্রেমপাশে আমাকে বান্ধিয়া ভক্তগণ।
আমা হৈতে শ্রেষ্ঠ পদ করিল গ্রহণ।
দ্বারেতে বান্ধিল বলি ভকতির জোরে।
ভক্তের নিকটে আমি বান্ধা প্রেম-ডোরে।
আত্মবশ নহি আমি ভক্তের অধীন।
ভক্ত-আজ্ঞাবহ আমি হই রাত্র দিন।
পাণ্ডবেরা যবে বনে করিল স্মরণ।
ফেলিযা মুখের অন্ন করেছি রক্ষণ।
আমা হৈতে শ্রেষ্ঠ হয় নাম সে আমার।
নাম হৈতে ভক্ত শ্রেষ্ঠ করহ বিচার।
ভক্তেরে অদেয় মম কিছুমাত্র নাই।
দেবী কহে ওচরণে স্থান যেন পাই।
হরির এই বাক্যানুসারে আমি সর্ব্বনাশ সহ্য করিয়াও গ্রন্থ রচনায় ক্ষান্ত হই নাই। গত ১২৯৫ সালের ১০ই জ্যৈষ্ঠ আমার স্বামী মানবলীলা সম্বরণ করত ঈশ্বরধামে গমন করিযাছেন। এক্ষণে আমি ৪টা বালিকা লইয়া অনাথা হইয়া পদ্মপত্রের জলের ন্যায় জগতে অবস্থান করিতেছি। আমার ভাই নাই; একমাত্র জন্মদাতা পিতামহাশয়ই এক্ষণে অবলম্বন। অন্যান্য যাঁহারা আত্মীয় আছেন, দুঃসময় দেখিয়া সকলেই পলায়নপর। এক্ষণে এক ঈশ্বরমাত্র ভরসা।
অতঃপর বিদ্যোৎসাহী মহাশযগণ সমীপে এই আনাথা-নববিধবা-কুলবালার নিবেদন এই যে, যদি সকলে আমার উৎসাহ বর্দ্ধনার্থে উচিত মূল্যে রামাযণ গ্রন্থেব এক এক খণ্ড গ্রহণ করেন, তাহা হইলে বিশেষরূপে উপকৃত হই। সামান্যভাবে ভিক্ষা দেওয়াপেক্ষা এইরূপ দানে, দাতা ও গৃহীতা উভয়েই কৃতকৃতার্থ; এজন্য বিনয় বচনে নিবেদন এই এ অনাথা কুলবালার গ্রন্থে কিঞ্চিৎ কৃপা-কটাক্ষ বিতরণ করিলে কৃতার্থ হই। অলমতিবিস্তরেণ।
|
১২৯৭—জ্যৈষ্ঠ।
|
|
আর্য্যধর্ম্মসেবীমহাত্মাগণের চির আশ্রিতা |
আমি এই রামায়ণ গ্রন্থখানি পাঠ করিয়া পরম প্রীতিলাভ করিলাম। পাঠকমহাশযগণ! সতীত্ব সকলের আদরের ধন; সতীর অমূল্য ভূষণ ভারতের চিরগৌরব, যদি জগতে কোথাও সতীত্ব থাকে, তবে ভারত তাহার আকরভূমি; সতীত্ব কিরূপে রক্ষা করিতে হয়, ভাবত-রমণীগণ সে বিষয়ে সহজে সুশিক্ষিতা; এক এক রমণীর বিষয় স্মরণ করিলে হৃদয় বিস্ময় ভক্তি ও প্রেমরসে আপ্লুত হইয়া যায়। তাদৃশী রমণীগণকে রক্ষা করিবার জন্য ও জীবনকে পতঙ্গবৎ আহুতি দিতে ইচ্ছা করে। হিন্দু রমণী স্বামীকে সেবাদাস বা পার্থিব সুখসামগ্রী বোধ করেন না; স্বামীর হস্তে বিষ্ঠামূত্র যুক্ত সবুট-পদ তুলিযা দিয়। যানারোহণ করা দূরে থাকুক, বোধ হয় স্বপ্নেও কখন সে অভিনয় দেখিয়াছেন কি না সন্দেহ। হিন্দু রমণী পর পুরুষের করমর্দ্দনপূর্ব্বক তাহাকে লইয়া যানারোহণে যদৃচ্ছাক্রমে প্রান্তরে পুলিনে, নিকুঞ্জ কাননে, স্বজন-নির্জ্জনে ভ্রমণ করা দূরে থাকুক, পরপুরুষে স্পর্শ হইলে প্রায়শ্চিত্ত করিয়া থাকেন। হিন্দুরমণী বহুসংখ্যক পুরুষমধ্যস্থ ইয়া লোল রননা সঞ্চালন করিয়া সহাস্যে কুখাদ্য সকল সর্ব্বাগ্রে ভক্ষণ করেন না; হিন্দুরমণীর—
কি কব লজ্জার কথা,লজ্জাবতী লতা যথা,
মৃতপ্রায় পর-পরশনে।
হিন্দু রমণী সাধের বলে (নাচে) সবলে পরের স্কন্ধে ঠ্যাং তুলিয়া দিয়া অদ্ভুত নৃত্যাভিনয় প্রাণাত্তেও দেখাইতে পারেন না। শ্বশুর ভাশুর প্রভৃতির হস্তধারণে নৃত্য করা ত দূরের কথা, গুরুজনসন্নিকটে কদাচই গমন করেন না। এক এক জনে ৫।৭।৯ বা ততোধিক স্বামী দর্শন করেন না। এখনও ভারতে সতীত্ব-মাহাত্ম্য আছে; কিন্তু রাজধর্ম্মে, দুষ্পাঠ্য যুবাগণের কর্ম্মে তাহা অধিক দিন থাকে না;—
বলে ধরি জোর করি রমণী-মস্তক,
দিনে দিনে ক্ষণে ক্ষণে খাইছে যুবক।
মদ্যমাংস কেরী রোষ্ট অক্স্-টং আদি,
রমণীর সহ মহাসুখেতে আস্বাদি,
রাক্ষস-রাক্ষসী রূপ করিয়া ধারণ;
আর্য্যধম্মে আর্য্যকর্ম্মে দিছে বিসর্জ্জন।
তাই বলি, আর থাকে না। যাহা আছে, তাহাও আর থাকে না। এখনও যদি যুবকগণ মোহনিদ্রা পরিত্যাগ না করেন, তবে তাঁহাদের সকল যাইবে, নিদ্রাবশে তাঁহারা সকল হারাইবেন, কিছুই থাকিবে না। আর কেন!!! মোহনিদ্রা ত্যাগ করুন। আব্যধর্ম্ম রক্ষা জন্য প্রাণপণে যত্ন করুন্। ঐ দেখুন, আপনাদের আর্য্যকুলবালা পতি হারাইয়া পথের ভিখারিণী হইয়া সতীত্বরক্ষা করিযা ভিক্ষার জন্য আপনাদের দ্বারে উপস্থিত হইয়াছেন। একবার সাদরে গ্রহণ করিয়া সমুচিত সম্মান রক্ষা করত আর্য্যনামের সার্থকতা সম্পাদন করুন। অলমত্যাড়ম্বরেণ।
সীতার শক্তিমূর্তি দর্শনে রামকৃত স্তব। গৃহীগণের বিপন্নাশক
কবজ-স্বরূপ। এজন্য ভক্তগণের নিত্যপাঠার্থে এইস্থলে
তাহা বিন্যস্ত করা হইল।
রামস্য বচনং শ্রুত্বা ততঃ সা পরমেশ্বরী।
উবাচ রাঘবং দেবী যোগীনামভয়প্রদা।
মাং বিদ্ধিপরমাং শক্তিং মহেশ্বরসমাশ্রয়াং।
অনন্যামব্যয়ামেকাং মাং পশ্যন্তি মুমুক্ষবঃ।
অহং বৈ সর্ব্বভাবানামাত্মা সর্বান্তরা শিবা।
শাশ্বতী সর্ব্ববন্তূনাং সর্ব্বমূর্ত্তি প্রবর্ত্তিকা।
অনন্তানন্তমহিমা সংসারার্ণবতারিণী।
দিব্যং দদামি তে চক্ষুঃ পশ্য মে পদমৈশ্বরং।
ইত্যুক্ত্বা বিররামৈধা রামোঽপশ্যচ্চ তৎপদং।
কোটীসূর্য্যপ্রতীকাশং কালানলশতোপমং।
দংষ্ট্রাকরালং দুর্দ্দর্শং জটামণ্ডলভূষিতং।
ত্রিশূলবরহস্তঞ্চ ঘোররূপং ভয়াপহং
প্রশাম্যসৌম্যবদনমনন্তৈশ্বর্য্যসংযুতং।
চন্দ্রতুল্যনখশ্রেণীং চন্দ্রকোটীসমপ্রভং।
কিরী টিনং গদাহস্তং নূপুরৈরুপশোভিতং।
দিব্যমাল্যাম্বরধরৎ দিব্যগন্ধানুলেপনং।
শঙ্খচক্রগদাপদ্মকরং চ কীর্ত্তিবাসসং।
চন্দ্রসূর্য্যাগ্নিনেত্রং বৈ বাহ্যামভ্যন্তরং পরং।
সর্ব্বশক্তিময়ং শান্তং সর্ব্বকামফলপ্রদং।
ব্রহ্মেন্দ্রোপেন্দ্রযোগীন্দ্রৈরীড্যমানপদাম্বুজং।
সর্ব্বতঃ পাণিপাদস্তং সর্ব্বতোঽক্ষিশিরোমুখং। .
সর্ব্বমাবৃত্য তিষ্ঠন্তং দদর্শ পদমৈশ্বরং।
দৃষ্ট্বা চ তাদৃশং রূপং দিব্যং মাহেশ্বরং পদং।
ভয়েন চ সমাবিষ্টঃ সরামো হৃতমানসঃ।
আত্মন্যাধ্যায় চাত্মানং ওঁকারং সমনুস্মরন্।
নাম্নামষ্টশতেনৈব তুষ্টাব পরমেশ্বরীং। ·
সীতোমা পরমা শক্তিরনন্তানিষ্কলামলা।
শান্তা মাহেশ্বরী নিত্যা শাশ্বতী পরমাক্ষরা।
অচিন্ত্যা কেবলানন্তা শিবাত্মা পরমাত্মিকা।
অনাদিরব্যয়া শুদ্ধা দেবাত্মা সর্ব্বশঙ্করা।
একানেকবিভাগস্থা মায়া সীতা সুনির্ম্মলা।
মহামাহেশ্বরী শক্তির্ম্মহাদেবী নিরঞ্জনা।
কাষ্ঠা সর্ব্বান্তরস্থা চ চিচ্ছক্তিরতিলালসা।
জানকী মিথিলানন্দা রাক্ষসান্তবিধায়িনী।
রাবণান্তকরী রক্ষা রামবক্ষস্থলালয়া।
উমা সর্ব্বাত্মিকা বিদ্যা জ্যোতিরূপায়তাক্ষরা।
শান্তিঃ প্রতিষ্ঠা সর্ব্বের্ষাৎ মিশ্চিতা ত্বমৃতপ্রদা।
ব্যোমমুর্ত্তির্ব্ব্যোমময়ী ব্যোমধারাযুতালয়া।
অনাদিনিধনা যোধাকারণাত্মা কুলপ্রিয়া।
প্রাণপ্রিয়তমা মাতা মহামহিষবাহিনী।
প্রাণেশ্বরী প্রাণরূপা প্রধান পুরুষেশ্বরী।
সর্ব্বশক্তিঃ কলা কাষ্ঠা জ্যোৎস্নেন্দোর্থহিমাস্পদা
সর্ব্বকার্য্যনিয়ন্ত্রী চ সর্ব্বভূতেশ্বরেশ্বরী।
অনাদিরব্যক্তগুণা মহানন্দা সনাতনী।
আকাশফোনির্যোগস্থা মহাযোগেশ্বরেশ্বরী।
মহামায়া সুসম্পন্না মূলপ্রকৃতিরীশ্বরী।
সংসারযোনিঃ সকলা সর্ব্বশক্তিসমুদ্ভবা।
সংসারসারা দুর্ব্বার্ষ্যা দুর্নিরীক্ষ্যা দুরাসদা।
প্রাণশক্তিঃ প্রাণবিদ্যা যোগিনী পরমাপরা।
মহাবিভূতিদুর্দ্ধর্যা মূলপ্রকৃতিসম্ভবা।
অনাদ্যনন্তবিভবা পরমা পুরুষাত্মিকা।
স্বর্গস্থিতিলয়করী সুদুর্ব্বাহা নিরত্যয়া।
শব্দযোনিঃ শব্দময়ী নাদাখ্যা নাদবিগ্রহা।
প্রধানপুরুষাতীতা প্রধানপুরুষাত্মিকা।
পুরাণী চিন্ময়ী পুংসামাদিপুরুষরূপিণী।
ভূতান্তরস্থা কূটস্থা মহাপুরুষসংজ্ঞিতা।
জন্মমৃত্যুজরাতীতা সর্ব্বশক্তিসমন্বিতা।
ব্যাপিনী চানবচ্ছিন্না প্রধানানুপ্রবেশিনী।
ক্ষেত্রজ্ঞা ব্যক্তিরব্যক্তা চাক্ষয়ামলবর্জ্জিতা।
অনাদিমায়া সম্ভিন্না ত্রিতত্ত্বা প্রতিগ্রহা।
মহামায়া সমুৎপন্না তামসী পৌরুষী ধ্রুবা।
ব্যক্তাব্যক্তাত্মিকা কৃষ্ণা রক্তা শুক্লা প্রসূতিকা।
অকার্য্যা কার্য্যজননী ব্রাহ্মী ব্রাহ্মণসংশ্রয়া।
সর্ব্বাত্মিকা প্রথমজা মহতী জ্ঞানরূপিণী।
ভবানী চৈব রুদ্রাণী মহালক্ষ্মীরথাম্বিকা।
মাহেশ্বরী সমুৎপন্না ভক্তিমুক্তিফলপ্রদা।
সর্ব্বেশ্বরী সর্ব্ববর্ণা নিত্যামুদিতমানসা। -
ব্রহ্মেন্দ্রোপেন্দ্রনমিতা শঙ্করেচ্ছানুবর্ত্তনী।
ঈশ্বরার্দ্ধাসনরতা রঘুত্তমপতিব্রতা।
সচ্চিদানন্দরূপাঢ্যা সমুদ্রপরিশোষিণী।
পার্ব্বতী হিমবৎপুত্ত্রী পরমানন্দদায়িনী।
গুণাঢ্যা যোগদা যোগ্যা জ্ঞানমূর্ত্তির্ব্বিকাশিনী।
সাবিত্রী কমলা লক্ষ্মীঃ শ্রীরনন্তা চিদাত্মিকা।
সুরাজনিলয়া শুভ্রা যোগনিদ্রা সুবর্দ্ধিনী।
সরস্বতী সর্ব্ববিদ্যা জগজ্জ্যেষ্ঠা সুমঙ্গলা।
বাসবী বরদা বামা কীর্ত্তিঃ সর্ব্বার্থদায়িকা।
বাগীশ্বরী সর্ব্ববিদ্যা মহাবিদ্যা সুশোভনা।
গুহবিদ্যা অবিদ্যা চ সর্ব্ববিদ্যাত্মভাবিতা।
স্বাহা বিশ্বম্ভরা সিদ্ধিঃ স্বধা মেধা ধৃতিঃ শ্রুতিঃ।
“নাড়ী সুনাড়ী সুক্বতির্ম্মাধবী নরবাহিনী।
পূজাবিভাবনী সৌম্যা ভোগিনী ভোগদায়িনী।
শোভা বংশকরী লোলা মালিনী পরমেষ্ঠিনী।
ত্রৈলোক্যসুন্দরী রম্যা সুন্দরী কামচারিণী।
মহানুভাবমধ্যস্থা মহামহিষমর্দ্দিনী।
পদ্মমালা পাপহরা বিচিত্রমুকুটোজ্জ্বলা।
কান্তা চিত্রাম্বরধরা দিব্যাভরণ ভূষিতা।
হংসাখ্যা ব্যোমনিলয়া জগৎসৃষ্টিবিবার্দ্ধনী।
নির্যন্ত্রা মন্ত্রবাহ্যস্থা নন্দিনী ভদ্রকালিকা।
আদিত্যবর্ণা কৌমারী ময়ূরবরবাহিনী।
বৃষাসনগতা গৌরী মহাকালী সুরার্চ্চিতা।
অদিতিরমিতা রৌদ্রী পদ্মগর্ভা বিবাহনা।
বিরূপাক্ষী লেলিহানা মহাপুরনিবাসিনী।
মহাকলানবদ্যাঙ্গী কামপুরবিভাবিনী।
বিচিত্ররত্নমুকুটা প্রণতর্দ্ধিবিবর্দ্ধিনী।
কৌষিকী কর্ষণী রাত্রিস্ত্রিদশার্ত্তিবিনাশিনী।
বিরূপা চ স্বরূপা চ ভীমা চ মোক্ষদায়িনী।
দীক্ষা বিদ্যাধরী দীপ্তা মহেন্দ্রবিনিপাতিনী।
সর্ব্বাতিশায়িনী বিদ্যা সর্ব্বশক্তিপ্রদায়িনী।
সর্বেশ্বরপ্রিয়া তার্ক্ষা সমুদ্রান্তরবাসিনী।
অষ্টাধিকশতৈর্নাম্নাৎ ত্রিভিস্তুষ্টাব রাঘবঃ।
কৃতাঞ্জলিপুটো ভূত্বা সীতাৎ হৃষ্টতনুরূহঃ।
ভারদ্বাজ মহাভাগ এতৎ স্তোত্রোত্তমোত্তমং।
পঠেদ্বা পাঠয়েদ্বাপি স যাতি পরমং পদং।
ব্রাহ্মণক্ষত্রিয়বিশাং ব্রহ্মপ্রাপ্তির্ভবিষ্যতি।
শুভ্রঃ সদ্গতিমাপ্রোতি ধনধান্যবিভূতয়ঃ।
ভবন্তি স্তোত্রমাহাত্ম্যাৎ পরং স্বস্ত্যয়নং মহৎ।
মারীভয়ে রাজভয়ে তথা চৌরাগ্নিজে ভয়ে।
ব্যাধীনাং প্রভবে ঘোরে শত্রুস্থানে চ সঙ্কটে।
অনাঘৃষ্টির্ভয়ে চাপি সর্ব্বশান্তিকরং পরং।
যদ্যদিষ্টতমং যস্য তৎসর্ব্বং স্তোত্রতো ভবেৎ।
যত্রৈতৎ পঠ্যতে সম্যক্ সীতানাম শতত্রয়ং।
রামেণ সহিতা দেবী তত্র তিষ্ঠত্যসংশয়ঃ।
মহাপাপাতিপাপানি বিলয়ং যান্তি সুব্রত॥
এই পুস্তক আইনানুসারে রেজেষ্টারি করা হইল।
আমার অনুমতি বিনা কেহ ইহার কোন অংশ গ্রহণ করিবেন না।
করিলে রাজদ্বারে দণ্ডনীয় হইবেন।
সূচীপত্র
এই লেখাটি বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত কারণ এটির উৎসস্থল ভারত এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে এর কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। লেখকের মৃত্যুর ৬০ বছর পর (স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত) বা প্রথম প্রকাশের ৬০ বছর পর (বেনামে বা ছদ্মনামে এবং মরণোত্তর প্রকাশিত) পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে তাঁর সকল রচনার কপিরাইটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। অর্থাৎ ২০২৬ সালে, ১ জানুয়ারি ১৯৬৬ সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে।