অনুবাদ কবিতা/দামিনীর আঁখি কিবা

উইকিসংকলন থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান


     দামিনীর আঁখি কিবা
         ধরে জ্বল ' জ্বল ' বিভা
কার তরে জ্বলিতেছে কেবা তাহা জানিবে ?
          চারি দিকে খর ধার
          বাণ ছুটিতেছে তার
কার- ‘ পরে লক্ষ্য তার কেবা অনুমানিবে ?
তার চেয়ে নলিনীর আঁখিপানে চাহিতে
কত ভালো লাগে তাহা কে পারিবে কহিতে ?
           সদা তার আঁখি দুটি
          নিচু পাতে আছে ফুটি ,
সে আঁখি দেখে নি কেহ উঁচু পানে তুলিতে!
যদি বা সে ভুলে কভু চায় কারো আননে ,
          সহসা লাগিয়া জ্যোতি
          সে-জন বিস্ময়ে অতি
চমকিয়া উঠে যেন স্বরগের কিরণে!
ও আমার নলিনী লো , লাজমাখা নলিনী ,
          অনেকেরি আঁখি- ‘ পরে
          সৌন্দর্য বিরাজ করে ,
তোর আঁখি- ‘ পরে প্রেম নলিনী লো নলিনী!
          দামিনীর দেহে রয়
          বসন কনকময়
সে বসন অপসরী সৃজিয়াছে যতনে ,
          যে গঠন যেই স্থান
          প্রকৃতি করেছে দান
সে-সকল ফেলিয়াছে ঢাকিয়া সে বসনে ।
নলিনী বসন পানে দেখ দেখি চাহিয়া
তার চেয়ে কত ভালো কে পারিবে কহিয়া ?
          শিথিল অঞ্চল তার
          ওই দেখো চারি ধার
স্বাধীন বায়ুর মতো উড়িতেছে বিমানে ,
 যেথা যে গঠন আছে
          পূর্ণ ভাবে বিকাশিছে
যেখানে যা উঁচু নিচু প্রকৃতির বিধানে!
ও আমার নলিনী লো , সুকোমলা নলিনী
          মধুর রূপের ভাস
          তাই প্রকৃতির বাস ,
সেই বাস তোর দেহে নলিনী লো নলিনী!
          দামিনীর মুখ-আগে
          সদা রসিকতা জাগে ,
চারি ধারে জ্বলিতেছে খরধার বাণ সে ,
          কিন্তু কে বলিতে পারে
          শুধু সে কি ধাঁধিবারে ,
নহে তা কি খর ধারে বিঁধিবারি মানসে ?
          কিন্তু নলিনীর মনে
          মাথা রাখি সঙ্গোপনে
ঘুমায়ে রয়েছে কিবা প্রণয়ের দেবতা ।
          সুকোমল সে শয্যার
          অতি যা কঠিন ধার
দলিত গোলাপ তাও আর কিছু নহে তা!
ও আমার নলিনী লো , বিনয়িনী নলিনী
রসিকতা তীব্র অতি
          নাই তার এত জ্যোতি
তোমার নয়নে যত নলিনী লো নলিনী ।


Thomas Moore


অনুবাদকবিতা