অনুবাদ কবিতা/ভুজ-পাশ-বদ্ধ অ্যান্টনি

উইকিসংকলন থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান


এই তো আমরা দোঁহে বসে আছি কাছে কাছে!
একটি ভুজঙ্গ - ভুজে আমারে জড়ায়ে আছে ;
আরেকটি শ্যাম-বাহু , শতেক মুকুতা ঝুলে ,
সোনার মদিরা পাত্র আকাশে রয়েছে তুলে ।
অলকের মেঘ মাঝে জ্বলিতেছে মুখখানি ,
          রূপের মদিরা পিয়া
          আবেশে অবশ হিয়া ,
পড়েছে মাতাল হয়ে , কখন্‌ কিছু না জানি!
রাখিয়া বক্ষের পরে অবশ চিবুক মোর ,
হাসিতেছি তার পানে , হৃদয়ে আঁধার ঘোর!
বাতায়ন-যবনিকা , বাতাস , সরায়ে ধীরে
বীজন করিছে আসি এ মোর তাপিত শিরে ।
          সম্মুখেতে দেখা যায়
          পীতবর্ণ বালুকায়
অস্তগামী রবিকর আদূর ‘ নীলের ' তীরে ।
চেয়ে আছি , দেখিতেছি , নদীর সুদূর পারে ,
          (কী জানি কিসের দুখ!)
          পশ্চিম দিকের মুখ
বিষণ্ন হইয়া আসে সন্ধ্যার আঁধার ভারে ।
প্রদোষ তারার মুখে হাসি আসি উঁকি মারে!
রোমীয় স্বপন এক জাগিছে সম্মুখে মোর ,
ঘুরিছে মাথার মাঝে , মাথায় লেগেছে ঘোর ।
রোমীয় স্মর-অসত্র ঝঞ্ঝনিয়া উঠে বাজি ,
বিস্ফারিত নাসা চাহে রণ-ধূম পিতে আজি ।
কিন্তু হায়! অমনি সে মুখ্‌ পানে হেসে চায় ,
          কী জানি কী হয় মতি ,
          হীন প্রমোদের প্রতি ।
বীরের ভ্রূকুটিগুলি তখনি মিলায়ে যায়!
গরবিত , শূন্য হিয়া , জর্জর আবেশ-বাণে ,
যে প্রমোদ ঘৃণা করি হেসে চাই তারি পানে ।
অনাহূত হর্ষ এক জাগ্রতে স্বপনে আসি ,
শৌর্যের সমাধি-পরে ঢালে রবি-কর রাশি!
কতবার ঘৃণি তারে! রমণী সে অবহেলে
পৌরুষ নিতেছে কাড়ি বিলাসের জালে ফেলে!

          কিন্তু সে অধর হতে
          অমনি অজস্র স্রোতে
ঝরে পড়ে মৃদু হাসি , চুম্বন অমৃত-মাখা
আমারে করিয়া তুলে , ভাঙাঘর ফুলে ঢাকা ।
বীরত্বের মুখ খানি একবার মনে আনি ,
তার পরে ওই মুখে ফিরাই নয়ন মম ,
ওই মুখ! একখানি উজ্জ্বল কলঙ্ক সম!
ওই তার শ্যাম বাহু আমারে ধরেছে হায়!
অঙ্গুলির মৃদু স্পর্শে বল মোর চলে যায়!
মুখ ফিরাইয়া লই — রমণী যেমনি ধীরি
মৃদু কণ্ঠে মৃদু কহে , অমনি আবার ফিরি ।
রোমের আঁধার মেঘ দেখে যেই মুখ- ‘ পরে ,
অমনি দু বাহু দিয়ে কণ্ঠ জড়াইয়া ধরে ,
বরষে নয়নবারি আমার বুকের মাঝ ,
চুমিয়া সে অশ্রুবারি শুকানো বীরের কাজ ।
তার পরে ত্যজি মোরে চরণ পড়িছে টলে ,
থর থর কেঁপে বলে —‘ যাও , যাও , যাও চলে! '
ঢুলু ঢুলু আঁখিপাতা পুরে অশ্রু-মুকুতায় ,
শ্যামল সৌন্দর্য তার হিম-শ্বেত হয়ে যায়!
জীবনের লক্ষ্য , আশা , ইচ্ছা , হারাইয়া ফেলি ,
চেয়ে দেখি তার পানে কাতর নয়ন মেলি ।
আবার ফিরাই মুখ , কটাক্ষেতে চেয়ে রই ,
কলঙ্ক প্রমোদে মাতি তাহারে টানিয়া লই!
আরেকটি বার রোম , হইব সন্তান তোর
একটি বাসনা এই বন্দী এ হৃদয়ে মোর ।
গৌরবে সম্মানে মরি এই এক আছে আশ ,
চাহি না করিতে ব্যয় চুম্বনে অন্তিম শ্বাস!
বুঝি হায় সে আশাও পুরিবে না কোনো কালে
রোমীয় মৃত্যুও বুঝি ঘটিবে না এ কপালে!
          রোমীয় সমাধি চাই
          তাও বুঝি ভাগ্যে নাই ,
ওই বুকে মরে যাব , বুঝি মরণের কালে!



Robert Buchanan


অনুবাদকবিতা