অন্নদামঙ্গল/শিববিবাহ
শিব বিবাহ।
জয় জয় হর রঙ্গিয়া।
করবিলসিত নিশিত পরশু অভয় বর কুরঙ্গিয়া॥
লক লক ফণি জটবিরাজ তক তক তক রজনিরাজ
ধক ধক ধক দহন সাজ বিমল চপল গঙ্গিয়া।
ঢুলু ঢুলু ঢুলু নয়ন লোল হুলু হুলু হুলু যোগিনী বোল
কুলু কুলু কুলু ডাকিনীরোল প্রমদ প্রমথ সঙ্গিয়া।
ভভম ভবম ববম ভাল ঘন বাজে শিঙ্গা ডমরু গাল
রুদ্র তালে তাল দেয় বেতাল ভৃঙ্গী নাচে অঙ্গভঙ্গিয়া।
সুরগণ কহে জয় মহেশ পুলকে পুরিল সকল দেশ
ভারত যাচত ভকতিলেশ সরস অবশ অঙ্গিয়া॥
সভামাঝে হিমালয় পূর্ব্বমুখ হয়ে।
বসিয়াছে দান সজ্জা বাম দিকে লয়ে॥
উত্তরাস্যে রাখিয়াছে ররের আসন।
পরস্পর শাস্ত্রকথা কহে ধীরগণ॥
হেন কালে বর আসি কৈলা অধিষ্ঠান।
সম্ভ্রমে উঠিয়া সবে কৈলা অভ্যুত্থান॥
বর দেখি হিমালয় হৈলা হতবুদ্ধি।
ভূতগণে দেখিয়া উড়িল ভূতশুদ্ধি॥
কহিতে না পারে দক্ষযজ্ঞ ভাবি মনে।
ভুলিয়া বসিলা গিরি বরের আসনে॥
ভবানীর ভাবে ভব দুলিয়া দুলিয়া।
গিরির আসনে গিয়া বসিলা ভুলিয়া॥
বিধি তাহে বিধি দিলা এ এক নিয়ম।
তদবধি বিবাহেতে হৈল ব্যতিক্রম॥
কুশহস্ত হিমালয় বিধির বিহিত।
হেন কালে জিজ্ঞাসা করিল পুরোহিত॥
কে পিতা কে পিতামহ কে প্রপিতামহ।
কিবা গোত্র কয় বা প্রবর বর কহ॥
হেঁট মুখে পঞ্চানন ভাবিতে লাগিলা।
বিষয় বুঝিয়া বিধি বিশেষ কহিলা?
স্মরহর বর বরপিতা পুরহর।
পিতামহ সংহর প্রপিতামহ হর॥
শিব গোত্র শম্ভূ শর্ব্ব শঙ্কর প্রবর।
শুনিয়া বিধিরে চাহি হাসিলেন হর॥
এ রূপে গিরিশে গিরি গৌরী দান দিলা।
স্ত্রী আচার করিবারে মেনকা আইলা॥
কেশব কৌতুকী বড় কৌতুক দেখিতে।
নারদেরে কহিলা কন্দল লাগাইতে॥
গরুড়ে কহিলা তুমি ভয় দেখাইয়া।
শিবকটিবন্ধ সাপ দেহ খেদাইয়া॥
এয়োগণ সঙ্গে করি প্রদীপ ধরিয়া।
লইয়া নিছনীতালা হুলাহুলি দিয়া॥
বরের সমুখে মাত্র মেনকা আইলা।
পলাবার পথে গিয়া হরি দাঁড়াইলা॥
গরুড় হুঙ্কার দিয়া উত্তরিল গিয়া।
মাথা গুঁজে যত সাপ যায় পলাইয়া॥
বাঘ ছাল খসিল উলঙ্গ হৈলা হর।
এয়ো গণ বলে ও মা এ কেমন বর॥
মেনকা দেখিলা চেয়ে জামাই লেঙ্গটা।
নিবায়ে প্রদীপ দেয় টানিয়া ঘোমটা॥
নাকে হাত এয়োগণ বলে আই আই।
মেদিনী বিদরে যদি তাহাতে সামাই॥
দেখিয়া সকল লোক মসাল নিবায়।
শিবভালে চাঁদ অগ্নি আলো করে তায়॥
লাজে মরে এয়োগণ কি হৈল আপদ।
মেনকার কাছে গিয়া কহিছে নারদ॥
শুন এয়ো এয়োগণ ব্যস্ত কেন হও।
কেমন জামাই পেলে বুঝে শুঝে লও॥
মেনকা নারদবাক্যে দুনা মনোদুখে।
পলাইতে গোবিন্দের পড়িলা সমুখে॥
দশনে রসনা কাটি গুড়ি গুড়ি যায়।
আই আই কি লাজ কি লাজ হায় হায়॥
ঘরে গিয়া মহাক্রোধে ত্যজি লাজ ভয়।
হাত লাড়ি গলা তাড়ি ডাক ছাড়ি কয়॥
ও রে বুড়া আঁটকুড়া নারদা অল্পেয়ে।
হেন বর কেমনে আনিলি চক্ষু খেয়ে॥
বুড়া হয়ে পাগল হয়েছে গিরিরাজ।
নারদার কথায় করিল হেন কাজ॥
ভারত কহিছে আর কি আছে আটক।
কন্দলের অভাব কি নারদ ঘটক॥