বিষয়বস্তুতে চলুন

অমৃত-দ্বীপ

উইকিসংকলন থেকে

অমৃত-দ্বীপ

অমৃত-দ্বীপ

শ্রীহেমেন্দ্রকুমার রায়

শ্রী গু রু লা ই ব্রে রী
২০৪, কর্ণওয়ালিশ স্ট্রীট্‌,
কলিকাতা

প্রকাশকঃ
শ্রীভুবনমোহন মজুমদার
শ্রীগুরু লাইব্রেরী,
কলিকাতা

প্রথম সংস্করণ
আশ্বিন, ১৩৪৭

আট আনা

মুদ্রাকরঃ
শ্রীভোলানাথ বসু
বি, এন, পাবলিশিং হাউস,
৩২ নং ব্রজনাথ মিত্র লেন, কলিকাতা

রসিক লেখক
 শ্রীমান্‌ শিবরাম চক্রবর্ত্তী 
স্নেহাস্পদেষু


একটু তফাতে বনের সামনে গাছ তলায় বসে আছে আবার এক মূর্ত্তি। কিন্তু এবারে তার মুখ আর ভাবহীন নয়, কৌতুক-হাস্যে সমুজ্জ্বল!


গোড়াপত্তন

 গোড়ায় একটুপানি গৌরচন্দ্রিকার দরকার। যদিও “অমৃত-দ্বীপ” নতুন উপন্যাস, তবু এর কাহিনী আরম্ভ হয়েছে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত “ড্রাগনের দুঃস্বপ্ন” নামে উপন্যাস থেকে। বিমল, কুমার, জয়ন্ত, মাণিক ও ইন্‌স্পেক্টার সুন্দরবাবু কয়েকটি রহস্যময় হত্যাকাণ্ডের তদ্বিরে নিযুক্ত হয়ে ‘তাও’ ধর্ম্মমতের প্রবর্তক প্রাচীন চীনা সাধক লাউৎ-জুর ‘জেড’-পাথরে গড়া একটি ছোট প্রতিমূর্ত্তি এবং অমৃত-দ্বীপে যাবার একখানি ম্যাপ হস্তগত করে। খৃষ্ট জন্মাবার ছয়শত চার বৎসর আগে চীনদেশে লাউ-ৎজুর আবির্ভাব হয়।

 চীনদেশের প্রাচীন পুঁথি-পত্রে প্রকাশ, ‘তাও’ সাধুদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে একটি দ্বীপ আছে, তার নাম “অমৃত-দ্বীপ।” সেখানে ‘সিয়েন্’ অর্থাৎ অমররা বাস করে। সেখানে অমর-লতা জন্মায়, তার অমৃত ফল ভক্ষণ করলে মানুষও অমর হয়। যারা ‘তাও’-ধর্ম্ম গ্রহণ করে তাদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, অমৃত-দ্বীপে যাওয়া। আর, সেখানে গেলে লাউৎজুর মন্ত্রপূত প্রতিমূর্তি সঙ্গে থাকা চাই।

 বৌদ্ধ ও হিন্দু, ধর্ম্মের মতন ‘তাও’-ধর্মও পরের যুগে ভিন্ন রূপ ধারণ করে। তার মধ্যে ক্রমেই ভূত-প্রেত, মন্ত্র-তন্ত্র, ঝাড়-ফুক্ আর হরেক রকম ম্যাজিকের আবির্ভাব হয়। ‘তাও’ সাধকরা বলে, তাদের সিদ্ধপুরুষরা কেবল অমরই হয় না, জলে-স্থলে শূন্যে তাদের গতি হয় অবাধ।

 আধুনিক যুগে এ-সব কথা বিশ্বাসযোগ্য নয় বটে, কিন্তু চীনাদের পবিত্র পাহাড় ‘থাইসানে’র তলদেশে অবস্থিত ‘থাইআন্‌ফু’ মন্দিরে গিয়ে এক সমাধিমগ্ন ‘তাও’ সিদ্ধপুরুষকে দেখে রিচার্ড উইল্‌হেল্‌ম্‌ নামে এক জার্মান সাহেব সবিস্ময়ে লিখেছেন, “এই সমাধিস্থ ‘তাও’ সাধক মৌনব্রতী। তিনি কত কাল খাদ্য আর পানীয় গ্রহণ করেন নি। বাইরের কোন কিছুই তাঁর ধ্যান ভঙ্গ করতে পারে না। তাঁর দেহ শুকিয়ে শীর্ণ হয়ে গেছে, দেখতেও তাঁকে মড়ার মত, কিন্তু তাঁর দেহ সম্পূর্ণ তাজা, একটুও প’চে যায় নি।” (The Soul of China নামক গ্রন্থ দ্রষ্টব্য।)

 “অমৃত-দ্বীপে”র পাঠকদের পক্ষে এইটুকু তথ্যই যথেষ্ট। যাঁদের আরো কিছু জানবার আগ্রহ আছে তাঁরা “ড্রাগনের দুঃস্বপ্ন” প’ড়ে দেখবেন।

এই লেখাটি বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত কারণ এটির উৎসস্থল ভারত এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে এর কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। লেখকের মৃত্যুর ৬০ বছর পর (স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত) বা প্রথম প্রকাশের ৬০ বছর পর (বেনামে বা ছদ্মনামে এবং মরণোত্তর প্রকাশিত) পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে তাঁর সকল রচনার কপিরাইটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। অর্থাৎ ২০২৬ সালে, ১ জানুয়ারি ১৯৬৬ সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে।