অমৃত-দ্বীপ/তৃতীয় পরিচ্ছেদ
তৃতীয় পরিচ্ছেদ
জীবন্ত মৃতদেহ
—“ডুবে মলুম, ডুবে মলুম, বাঁচাও!”—সুন্দরবাবু আবার একবার চেঁচিয়ে উঠলেন।
তিনি বেশ অনুভব করলেন, দু’খানা অস্থিচর্ম্মসার, কিন্তু লোহার মতন কঠিন এবং বরফের মতন ঠাণ্ডা-কন্কনে বাহু তাঁকে জড়িয়ে ধ’রে পাতালের দিকে টানছে, ক্রমাগত টানছে!
দারুণ ভয়ে আচ্ছন্ন হয়ে তিনি তার দিকে ভালো ক’রে তাকাতে পারলেন না বটে, কিন্তু আব্ছা-আব্ছা যেটুকু দেখতে পেলেন তাই-ই হ’ল তাঁর পক্ষে যথেষ্ট। সে হচ্ছে একটা মৃত-মানুষের—জীবন্ত মৃত মানুষের—মূর্ত্তি, আর তার চোখদুটো হচ্ছে মরা মাছের মত!
রামহরি দু-হাতে জল কেটে এগুতে এগুতে সভয়ে দেখলে, “হুম্” ব’লে বিকট এক চীৎকারের সঙ্গে সঙ্গে সুন্দরবাবু হুস্ ক’রে ডুবে গেলেন এবং সেই মুহূর্তে বাঘাও দিলে জলের তলায় ডুব।
ওদিকে বিমল, কুমার, জয়ন্ত ও মাণিকও ততক্ষণে জলে ঝাঁপ দিয়ে এগিয়ে আসছে।
কিন্তু তাদের আর বেশীদূর এগিয়ে আসতে হ’ল না হঠাৎ দেখা গেল, সুন্দরবাবু আবার ভেসে উঠে প্রাণপণে সাঁতার কেটে তীরের দিকে ফিরে আসছেন! বাঘাও আবার ভেসে উঠেছে!
রামহরি খুব কাছে ছিল। সে দেখতে পেলে, জলের উপরে খানিকটা রক্তের দাগ এবং বাঘার মুখও রক্তাক্ত।
ব্যাপারটা বুঝে তারিফ ক’রে সে বললে, “বাহাদুর বাঘা, বাহাদুর!”
কিন্তু সেই আশ্চর্য্য ও অসম্ভব মূর্ত্তিটার আর কোন পাত্তাই পাওয়া গেল না।
সকলে ডাঙার উপরে উঠল। সুন্দরবাবু আর রামহরি ও বাঘা ছাড়া সে বিকট মূর্ত্তিটাকে আর কেউ দেখে নি, সুতরাং আসল ব্যাপারটাও এখনো কেউ বুঝতে পারলে না।
বালির উপরে হাত-পা ছড়িয়ে লম্বা হয়ে শুয়ে প’ড়ে সুন্দরবাবু হাঁপাতে লাগলেন হাপরের মত।
বিমল জিজ্ঞাসা করলে, “সুন্দরবাবু, আপনাকে কি হাঙরে ধ’রেছিল?”
কুমার বললে, “না বিমল, তা হ’তে পারে না। হাঙরে ধরলে উনি অমন অঙ্কত দেহে ফিরে আসতেন না।”
বিমল বললে, “হুঁ, সে কথা ঠিক। কিন্তু তবে কে ওঁকে জলের ভেতরে আক্রমণ করতে পারে?”
সুন্দরবাবু বেদম হয়ে খালি হাঁপান! এখন তাঁর একটা “হুম্” পর্য্যন্ত বলবার শক্তি নেই। বাঘা গম্ভীর মুখে এসে সুন্দরবাবুর সর্ববাঙ্গ শুঁকে বোধ হয় পরীক্ষা করে দেখলে যে, তাঁর দেহ অটুট আছে কি না! পরীক্ষার ফল নিশ্চয়ই সন্তোষজনক হ’ল, কারণ ঘন ঘন ল্যাজ নেড়ে সে মনের আনন্দ প্রকাশ করতে লাগল।
জয়ন্ত বললে, “এখানে জলের ভেতরে অক্টোপাস থাকে না তো?”
রামহরি বললে, “কি বল্লেন?”
—“অক্টোপাস।”
—“তাকে কি মানুষের মতন দেখতে?”
—“মোটেই নয়। তোমাকে কতকটা বোঝাবার জন্যে বরং বলা যায়, তাকে দেখতে অনেকটা বিরাট ও অদ্ভুত মাকড়সার মত। সমুদ্রের জলে তারা লুকিয়ে থাকে আর আটখানা পা দিয়ে জড়িয়ে শিকার ধ’রে মাংস-রক্ত শুষে খায়।”
—“না বাবু, না। আপনি যে কিম্ভুতকিমাকার জানোয়ারের কথা বল্লেন নিশ্চয়ই সেটা ভয়ানক, কিন্তু সুন্দরবাবুকে যে জড়িয়ে ধরেছিল তাকে দেখতে মানুষের নত।”
বিমল হো-হো ক’রে হেসে উঠে বললে, “কি যে বল রামহরি! মানুষ কি জলচর জীব? জলের ভিতর থেকে আক্রমণ ক’রে সে কি এতক্ষণ ধ’রে জলের তলাতেই ডুব মেরে থাকতে পারে?”
মাণিক মুখ ফিরিয়ে দেখলে, সেই বিশাল হ্রদের মত জলরাশি একেবারে স্থির হয়ে রয়েছে। তাদের জাহাজ আর লাইফ-বোট ছাড়া তার উপরে আর কোন জীবজন্তুর চিহ্নমাত্র নেই। বিমল ঠিক কথাই বলেছে। সুন্দরবাবুকে যে আক্রমণ করেছিল নিশ্চয়ই সে মানুষ নয়!
রামহরি দৃঢ়স্বরে বল্লে, “না খোকাবাবু, আমি মিছে কথা বলি নি। সে মানুষ কি না জানি না, কিন্তু তার চেহারা মানুষের মতই। সুন্দরবাবুর কোমর সে নীচে থেকে দু-হাতে আঁক্ড়ে ধ’রেছিল। কাঁচের মত পরিষ্কার জলে তার হাত, পা, মুখ, দেহ বেশ দেখা যাচ্ছিল।”
এতক্ষণ পরে সুন্দরবাবুর হাঁপ-ছাড়া হ’ল সমাপ্ত। দু-হাতে ভর দিয়ে উঠে ব’সে তিনি বল্লেন, “হুম্। রামহরি কিচ্ছু ভুল বলছে না। আমাকে ধরেছিল একটা জ্যান্তো মরা-মানুষ!”
—“জ্যান্তো মরা মানুষ!”
—“হ্যাঁ, আমি তাকে স্বচক্ষে দেখেছি—একেবারে আসল মড়া! আমি তার হাতের ছোঁয়া পেয়েছি—একেবারে কন্কনে অস্বাভাবিক ঠাণ্ডা! কিন্তু সে জ্যান্তো, তার হাতের চাপে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল! মরা মাছের মত স্থির দুই চোখে আমার দিকে সে তাকিয়ে ছিল—বাপ রে, ভাবলে এখনো গায়ে কাঁটা দেয়!”
রামহরি বল্লে, “জ্যান্তো মড়া মানেই হচ্ছে, পিশাচ। সুন্দরবাবু নিশ্চয়ই কোন পিশাচের পাল্লায় প’ড়েছিলেন! ভাগ্যে আমাদের বাঘা ছিল, তাই এ যাত্রা কোন-গতিকে বেঁচে গেলেন! বাঘার কাছে পিশাচও জব্দ!”
সুন্দরবাবু কৃতজ্ঞ-দৃষ্টিতে বাঘার দিকে তাকিয়ে বল্লেন, “হুম্। বাঘা, আয় রে, আমার কাছে আয়! তুই যে কি রত্ন, এতদিন আমি চিনতে পারি নি। এবার থেকে আর তোকে আমি কিছু বল্ব না, ভালো ভালো খাবার খেতে দেব। খাসা কুকুর, লক্ষ্মী কুকুর!”
মাণিক বল্লে, “সুন্দরবাবু, আপনি নিশ্চয় মৎস্যনারী আর নাগকন্যার গল্প শুনেছেন?”
সুন্দরবাবু বেশ বুঝলেন মাণিকের মাথায় কোন নতুন দুষ্টুমি বুদ্ধির উদয় হয়েছে, তাঁর পিছনে লাগা হচ্ছে তার চিরকেলে স্বভাব। বলেন, “হুঁ, শুনেছি। কি হয়েছে তা?”
—“আমার বোধ হয় কোন মৎস্য-নারী কি নাগ-কন্যা আপনাকে ধ’রে নিয়ে যেতে এসেছিল।”
একটু গরম হয়ে সুন্দরবাবু বল্লেন, “আমাকে ধ’রে নিয়ে গিয়ে সে কি করত?”
—“বিয়ে করত। আপনাকে দেখে তার পছন্দ হয়েছিল কিনা।”
একেবারে মারমুখো হয়ে সুন্দরবাবু বল্লেন, “চোপরাও মাণিক, চোপরাও! তোমার মতন ত্যাঁদোড় আমি জীবনে আর দেখি নি, আমার হাতে একদিন তুমি মার খাবে জেনো।”
বিমল গম্ভীর মুখে ভাবতে ভাবতে বল্লে, “জয়ম্ভবাবু, আপনি কিছু আন্দাজ করতে পারছেন?”
—“কিছু না। কেবল এইটুকু বুঝতে পারছি, সুন্দরবাবুর চোখের ভ্রম হয়েছে।”
—“সুন্দরবাবুর আর রামহরির— দু’জনেরই একসঙ্গে চোখের ভ্রম হ’ল?”
—“ড্রাগনের দুঃস্বপ্ন মামলার ফলেই আজ আমরা এখানে এসেছি সেই মামলাটার কথা ভেবে দেখুন। লোকের পর লোক দেখতে লাগল, শূন্য-পথে ছায়ামূর্ত্তির মতন, কে উড়ে যায়। কিন্তু তারা সকলেই কি ভুল দেখে নি?......হুঃ, জ্যান্তো মড়া! পিশাচ! সে আবার বাস করে জলের তলায়! বলেন কি মশাই, এ-সব কি বিশ্বাস করবার কথা?”
—“বিশ্বাস আপনাকে কিছুই করতে বলছি না জয়ন্তবাবু! কিন্তু আমার মত হচ্ছে, এ ব্যাপারটার মধ্যে কোন অলৌকিক বা অসাধারণ রহস্য থাকলেও থাকতে পারে। জীবনে অনেকবারই আমাকে আর কুমারকে এমন সব ঘটনার মধ্যে গিয়ে পড়তে হয়েছে, যা অলৌকিক ছাড়া আর কিছুই নয়। বলতে কি, অলৌকিক ব্যাপার দেখে দেখে এখন আমাদের গা-সওয়া হয়ে গেছে। আর এটাও ভুলবেন না যে, আজ আমরা সকলেই চলেছি কোন্ এক অজানা দেশে, কেবল অলৌকিক দৃশ্য দেখবারই আশায়। এখন আমরা সেই অমৃত-দ্বীপের খুব কাছে এসে পড়েছি। আজ হয়তো এইখান থেকেই অলৌকিক রহস্যের আরম্ভ হ’ল! ঐ শুনুন, জাহাজ থেকে আবার আমাদের ডাকছে, সন্ধ্যাও হয়েছে, আর এখানে নয়।”
‘পাম্’-জাতীয় একদল গাছের ফাঁক দিয়ে পূর্ণিমা-চাঁদের মুখ উকি মারছিল সকৌতুকে। জলে-স্থলে-শূন্যে সর্ব্বত্রই জ্যোৎস্নার রূপলেখা পড়েছে ছড়িয়ে এবং দিনের সঙ্গে রাতের ভাব হয়েছে দেখে অন্ধকার আজ যেন ভয়ে নিজ-মূর্ত্তি ধারণ করতে পারছে না।
সকলে একে একে ‘লাইফ-বোটে’ গিয়ে উঠল! হ্রদের স্বচ্ছ জল ভেদ ক’রে চাঁদের আলো নেমে গিয়েছে নীচের দিকে। কিন্তু তাদের দৃষ্টি সেখানে যাকে খুঁজছিল তাকে দেখতে পেলে না। তবু একটা ভয়াবহ অসম্ভবের সম্ভাবনা হ্রদের নীলিমাকে ক’রে রেখেছিল রহস্যময়।
* * * *
চাঁদের বাতি নিবিয়ে দিয়ে এল অরুণ প্রভাত। মহাসাগরকে আলোময় ক’রে সে পূর্বাকাশে এঁকে দিলে তরুণ সূর্য্যের রক্ত-তিলক। জাহাজ বেগে ছুটেছে অমৃত-দ্বীপের উদ্দেশে।
ডেকের উপরে ‘মর্নিং ওয়াক্’ করতে করতে সুন্দরবাবু জাহাজের রেলিং ধ’রে একবার দাঁড়ালেন। এবং তৎক্ষণাৎ তাঁর চোখদুটো উঠল বেজায় চম্কে। উত্তেজিত স্বরে তিনি ডাকলেন, “জয়ন্ত! মাণিক! বিমলবাবু! কুমারবাবু!”
সবাই এদিকে-ওদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, সুন্দরবাবুর জোর-তলবে তাড়াতাড়ি সেখানে ছুটে এল।
সুন্দরবাবু বিবর্ণমুখে সমুদ্রের দিকে অঙ্গুলি-নির্দ্দেশ করলেন।
জাহাজের পাশেই নীলজলে ভাসছে মানুষের একটা রক্তহীন সাদা মৃতদেহ। তার ভাবহীন, নিপলক, বিস্ফারিত দুটো চোখ শূন্যদৃষ্টিতে চেয়ে আছে জাহাজের দিকে। তার আড়ষ্ট দেহে বিন্দুমাত্র জীবনের চিহ্ন নেই বটে, কিন্তু কি আশ্চর্য্য, স্রোতের বিরুদ্ধে বেগবান্ জাহাজের সঙ্গে-সঙ্গেই সেটা ভেসে চলেছে সোঁ-সোঁ ক’রে!
হতভম্ব মুখে জয়ন্ত বললে, “আমি কি স্বপ্ন দেখছি?”
বিমল কিছু বল্লে না, রেলিংয়ের উপরে ঝুঁকে প’ড়ে আরো ভালো ক’রে মূর্তিটাকে দেখতে লাগল।
সুন্দরবাবু তিক্তস্বরে বললেন, “মাণিক, ঐ কি তোমার মৎস্যনারী? ওটা একটা বুড়ো চীনেম্যানের মড়া? ওই-ই কাল আমাকে আক্রমণ করেছিল!”
মাণিক বললে, “নিশ্চয় ও বোম্বেটে—জাহাজের যাত্রী ছিল, কালকের ‘টাইফুনে’ জলে ডুবে মারা পড়েছে।”
—“হুম্, মারা পড়েছেই বটে! তাই স্রোতের উল্টোমুখে এগিয়ে চলেছে কলের জাহাজের সঙ্গে পাল্লা দিতে দিতে!”
রামহরি কাঁপতে কাঁপতে বললে, “সকলে রাম-নাম কর—রাম-নাম কর—রাম-নাম কর। ও পিশাচ,আমাদের রক্ত খেতে চায়!”
কুমার বল্লে, “বিমল, ‘তাও’-সাধুদের কথা স্মরণ কর। যারা ‘সিয়েন্’ বা অমর হয়, জলে-স্থলে-শূন্যে তাদের গতি হয় অবাধ! আমরা হয়তো অমৃত-দ্বীপের কোন ‘সিয়েন্’কেই আজ চোখের সামনে স্পষ্ট দেখছি।”
জয়ন্ত বল্লে, “আজকের যুগে ও-সব আজগুবি কথা মানি কি ক’রে?”
বিমল বল্লে, “না মেনেও তো উপায় নেই জয়ন্তবাবু! ড্রাগনের দুঃস্বপ্ন মামলার সময়েই আমি কি আপনাকে মনে করিয়ে দিই নি যে, কাশীর ত্রৈলঙ্গ স্বামী কত শত বৎসর বেঁচেছিলেন তা কেউ বলতে পারে না? সময়ে সময়ে তাঁরও দেহ বৎসরের পর বৎসর ধ’রে গঙ্গাজলে ভেসে ভেসে বেড়াত? ত্রৈলঙ্গ স্বামীর কথা তো পৌরাণিক কথা নয়, আধুনিক যুগেরই কথা!”
—“বিমলবাবু, আপনার বিরুদ্ধে কিছু বলবার মত যুক্তি খুঁজে পাচ্ছি না, আর চোখের সামনে যা স্পষ্ট দেখছি তাকে উড়িয়ে দেবার শক্তিও আমার নেই। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, আমরা সবাই একসঙ্গে পাগল হয়ে গেছি! এও কি সম্ভব? বেগবান্ অথচ আড়ষ্ট নিশ্চেষ্ট মৃতদেহ ছোটে আধুনিক কলের জাহাজের সঙ্গে! এর পরেও আর অবিশ্বাস করব কিসে? এখন অচল পাহাড়কেও চলতে দেখলে আমি বিস্মিত হব না!”
সুন্দরবাবু বল্লেন, “ও-সব তর্ক থো করুন মশাই, থো করুন। আমার কথা হচ্ছে, ‘সিয়েন্’রা কি মানুষের মাংস খায়? নইলে ও কাল আমাকে আক্রমণ করেছিল কেন?”
বিমল বল্লে, “বোধ হয় ও আমাদের উদ্দেশ্য জানতে পেরেছে। ও তাই বাধা দিতে চায়, আমাদের আক্রমণ করতে চায়!”
—“তাই নাকি? হুম্!”—ব’লেই সুন্দরবাবু এক ছুটে নিজের কামরায় গিয়ে একটি বন্দুক নিয়ে ফিরে এলেন।
কুমার বল্লে, “আপনি কি করতে চান সুন্দরবাবু?”
সুন্দরবাবু বল্লেন, “আমি দেখতে চাই, অমৃত-দ্বীপে যারা থাকে তারা কেমনধারা অমর? আমি দেখতে চাই, ঐ জ্যান্তো মড়াটা বন্দুকের গরমাগরম বুলেট হজম করতে পারে কিনা?”
রামহরি সভয়ে বল্লে, “পিশাচকে ঘাঁটাবেন না বাবু, পিশাচকে ঘাঁটাবেন না। কিসে কি হয় বলা তো যায় না!”
—“আরে, রেখে দাও তোমার পিশাচ-ফিশাচ! পুলিসের কাজই হচ্ছে যত নরপিশাচ বধ করা।”—এই ব’লেই সুন্দরবাবু বন্দুক তুলে সেই ভাসন্ত দেহটার দিকে লক্ষ্য স্থির করলেন!
ফল কি হয় দেখবার জন্যে সকলে অপেক্ষা করতে লাগল, সাগ্রহে।