বিষয়বস্তুতে চলুন

অমৃত (রজনীকান্ত সেন)

উইকিসংকলন থেকে

অমৃত

শ্রীরজনীকান্ত সেন

অমৃত

শ্রীরজনীকান্ত সেন

প্রণীত।

দ্বিতীয় সংস্করণ

Calcutta
S. K. LAHIRI & CO
54, COLLEGE STREET
1910

মূল্য ৷৹ আনা

প্রথম সংস্করণ, বৈশাখ, ১৩১৭।
দ্বিতীয় সংস্করণ, আষাঢ়, ১৩১৭।

COTTON PRESS:
PRINTED BY JOTISH CHANDRA GHOSH
57, Harrison Road, Calcutta.

জয় জগদীশ।

বঙ্গ-সাহিত্য-শরণ,

শ্রীল শ্রীযুক্ত কুমার শরৎকুমার রায় বাহাদুর,

প্রশান্তোদারচরিতেষু।

নয়নের আগে মোর মৃত্যু-বিভীষিকা;
রুগ্ন, ক্ষীণ, অবসন্ন এ প্রাণ-কণিকা।
ধূলি হ’তে উঠাইয়া বক্ষে নিলে তারে,
কে ক’রেছে তুমি ছাড়া? আর কেবা পারে?
কি দিব, কাঙ্গাল আমি? রোগশয্যোপরি,
গেঁথেছি এ ক্ষুদ্র মালা, বহু কষ্ট করি’;
ধর দীন-উপহার; এই মোর শেষ;
কুমার! করুণানিধে! দে’খো, র’ল দেশ।

মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল,
কটেজ ওয়ার্ড।
কলিকাতা, ১৩১৬ সাল, চৈত্র।

চিরকৃতজ্ঞ
গ্রন্থকার।
 

নিবেদন।

 গল্পচ্ছলে ও সরল ভাষায় বালক-বালিকাগণকে নীতি-শিক্ষা দিবার উদ্দেশ্যে “অমৃত” প্রকাশিত হইল। কবিতাগুলি যাহাতে যুগপৎ শিক্ষাপ্রদ ও হৃদয়গ্রাহী হয়, তাহার জন্য চেষ্টা করিয়াছি। কতদূর সফলকাম হইয়াছি, বলিতে পারি না।

 ‘অষ্টপদী’ নামে ইহার কয়েকটী কবিতা ইতঃপূর্ব্বে ‘দেবালয়’ নামক মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হইয়াছিল।

 পুস্তকের নাম দেখিয়া সাধারণে চমকিত না হন, এ জন্য দু’একটী কথা বলা আবশ্যক। যে সকল নীতিবাক্য সার্ব্বজনীন, ও সার্ব্বকালিক, যাহা জাতি বা সম্প্রদায়বিশেষের নিজস্ব নহে, যাহা অমরসতারূপে চিরদিন মানবসমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করিয়াছে ও অনন্তকাল করিবে, এই নীতি কবিতাগুলিতে সেই সকল সত্যের অবতারণা করা হইয়াছে বলিয়া গ্রন্থের নাম “অমৃত” রাখা হইল; অমৃতের ন্যায় স্বাদু হইয়াছে, এরূপ অর্থ করিলে সঙ্গত অর্থ করা হইবে না।

 কয়েকটী সুপরিচিত সংস্কৃত নীতি-শ্লোক ও বাঙ্গালা ইংরাজী গল্প হইতে তিন চারিটী কবিতার ভাব গ্রহণ করিয়াছি; কর্ত্তব্য বিবেচনায় ইহার উল্লেখ করিলাম।

 কবিতাগুলির পরিচ্ছদ যতই জীর্ণ ও মলিন হউক, প্রিয়-সুহৃদ্‌ শ্রীযুক্ত দীনেশচন্দ্র সেন ও শ্রদ্ধাভাজন শ্রীযুক্ত রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, বঙ্গ-সাহিত্যনায়কদ্বয়ের করুণা-কিরীটি ভূষিত হইয়া উহারা মহিমা ও গৌরবে উজ্জ্বল হইয়াছে। আমি এজন্য তাঁহাদিগের নিকট বিশিষ্টভাবে কৃতজ্ঞ।

 পরিশেষে নিবেদন, পুস্তকখানি যাহাতে স্কুলপাঠ্য হইতে পারে, তৎপ্রতি লক্ষ্য রাখিয়াছি।

মেডিক্যাল কলেজ হাঁসপাতাল,
কটেজ ওয়ার্ড।
কলিকাতা, ১৩১৬ সাল, চৈত্র।

বিনয়াবনত
গ্রন্থকার।
 

দ্বিতীয় সংস্করণে গ্রন্থকারের নিবেদন।

 এক মাস মধ্যে অমৃতের প্রথম সংস্করণ নিঃশেষ হইয়াছে, ইহা আমার প্রতি শিক্ষিত জনমণ্ডলীর সাধারণ কৃপা নহে। দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হইল। এবার আর আটটী নূতন নীতি-কবিতা যুক্ত করিয়া দিলাম।

 প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হইবার পর, স্বনামধন্য মহাপুরুষ শ্রীযুক্ত শরৎকুমার লাহিড়ী মহাশয়ের সহিত আমার সাক্ষাৎ হয়। তিনি আমার অবস্থা আনুপূর্ব্বিক অবগত হইয়া আমার প্রতি প্রসন্ন হয়েন, এবং স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া আমার আনুকূল্যের নিমিত্ত অমৃতের মুদ্রণভার গ্রহণ করিয়া তাঁহার প্রসিদ্ধ সুবৃহৎ মুদ্রাযন্ত্রে অতি অল্পদিন মধ্যে পুস্তকখানি মুদ্রিত করিয়া দিয়াছেন। কেবল মুদ্রণের ন্যয় ব্যতীত কমিসন্‌ বা অন্য আকারে কপর্দ্দক আমার নিকট গ্রহণ করেন নাই ও করিবেন না। তাঁহার এই অসাধারণ করুণার জন্য, ও তাঁহার প্রেসের অধ্যক্ষ বন্ধুবর শ্রীযুক্ত অতুলচন্দ্র ঘটক বি, এ, মহাশয়ের অনুগ্রহের নিমিত্ত, আমি তাঁহাদের নিকট যে ঋণ-পাশে বদ্ধ রহিলাম, তাহা আমার এ জীবনে পরিশোধ করিবার উপায় নাই।

 পরিশেষে নিবেদন, ভগবানের কৃপায় যদি অমৃতের আর এক সংস্করণ দেখিয়া যাইতে পারি, তবে অমৃতে আরও নীতি-কবিতা যোগ করিয়া উহাকে পুষ্ট করিবার সাধ রহিল; মূল ভগবানের ইচ্ছা। ইতি ——

মেডিক্যাল কলেজ হাঁসপাতাল,
কটেজ নং ১২।
কলিকাতা, আষাঢ়, ১৩১৭।

বিনয়াবনত
গ্রন্থকার।
 

সূচীপত্র।

বিষয়।
পৃষ্ঠা।
... ... 
... ... 
১০
১১
১২
১৩
১৪
১৫
১৬
১৭
১৮
১৯
২০
২১
২২
২৩
২৪
২৫
২৬
২৭
২৮
২৯
৩০
৩১
৩২
৩৩
৩৪
... ... 
৩৫
৩৬
৩৭
৩৮
... ... 
৩৯
... ... 
৪০
৪১
৪২
৪৩
৪৪
৪৫
৪৬
৪৭
৪৮

‘অমৃত’ সম্বন্ধে অভিমত।

শ্রীযুক্ত দীনেশচন্দ্র সেন মহাশয়ের অভিমত।

 বাণী ও কল্যাণীর লেখক নিদারুণ রোগ-শয্যা হইতে আমাদিগকে এই ক্ষুদ্র কবিতা-কুন্দ উপহার দিয়াছেন। যে রজনীকান্তকে লইরা আমরা কত রজনী আনন্দ সাগরে ভাসিয়াছি, যাঁহার প্রতিভা মূর্ত্তিমতী মতী শ্রীর ন্যায় উৎসবক্ষেত্রকে উজ্জ্বল করিয়াছে, যাঁহার রচিত ব্যঙ্গ ও তত্ত্ববহুল গীতি, রৌদ্রমিশ্র বৃষ্টির ন্যায় বন্ধু-সমাজে অজস্র কৌতুক ও রসধারা বিতরণ করিয়াছে, আজ সেই ভক্ত ও সুগায়ক কবি উৎকট রোগে বাক্‌-হীন। বসন্তের কোকিলকে কণ্ঠ-রুদ্ধ দেখিলে কাহার প্রাণ ব্যথিত না হয়? “আমি তো তোমারে চাহিনি জীবনে, তুমি অভাগারে চেয়েছ”, “তারে যে প্রভু বলিস্, দাস হলি তুই কবে?”— প্রভৃতি গান এখন বাঙ্গালার ঘরে ঘরে শুনিতে পাই। এই গানগুলি যখন রজনীকান্ত গাহিতেন, তখন মনে হইত, বঙ্গ-সাহিত্যের নব-যুগে ইনি দ্বিতীয় রামপ্রসাদ। তাঁহার উৎকট রোগের সংবাদে তদীয় সুবৃহৎ বন্ধু-সমাজে গুরুতর আশঙ্কার কারণ উপস্থিত হইয়াছে। আর কি এ সকল অপূর্ব্ব গান তাঁহার কণ্ঠে আমরা শুনিতে পাইব না? রোগশীর্ণ করে এই অমৃতবিন্দু লইয়া তিনি পাঠকের সম্মুখে উপস্থিত হইয়াছেন; আমরা তাঁহাকে এই অবস্থার সাহিত্য সেবায় নিযুক্ত দর্শনে বিস্মিত হইয়া, পুস্তক ভুলিয়া তাঁহারই কথা বলিতেছি। অপ্রাসঙ্গিক হইলেও ইহা স্বাভাবিক।

 এই ‘অমৃত’ রবিবাবুর কণিকার আদর্শে রচিত। শুষ্কনীতির পিল শিশুদের গলাধঃকরণ করাইতে যাইয়া কত বেত্র চূর্ণ হইয়া গিয়াছে, কত কোমল পৃষ্ঠ ক্ষত-বিক্ষত হইয়াছে ও কত গুরু-চীৎকারে পাঠশালার জীর্ণ-গৃহ প্রকম্পিত হইয়াছে, তাহার ইয়ত্বা নাই। সেই তিক্ত পিলের পরিবর্ত্তে রজনীকান্ত বালকদের জন্য এই অমৃতের ব্যবস্থা করিয়াছেন; আমরা তাঁহার নিকট এই জন্য ঋণী রহিলাম। ভগবান্ তাঁহার আরোগ্য বিধান করুন।

১লা বৈশাখ, ১৩১৭,
১৯, কাঁটাপুকুর লেন,
বাগবাজার, কলিকাতা।

শ্রীদীনেশচন্দ্র সেন।
 

শ্রীযুক্ত রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী মহাশয়ের
অভিমত।

 সুকবি শ্রীযুক্ত রজনীকান্ত সেন মহাশয়ের বঙ্গদেশে নুতন করিয়া পরিচয় দেওয়া অনাবশ্যক। তাঁহার রচনায় যে বাঙ্গালী এ পর্য্যন্ত মুগ্ধ হইবার অবসর পায় নাই, সে দুর্ভাগ্য। তাঁহার কবিতা, তাঁহার গান বঙ্গসাহিত্যে যে উপাদেয় রসের সৃষ্টি করিয়াছে, তাহাতে যে বঞ্চিত আছে, তাহাকে হতভাগ্য না বলিব কিরূপে? বিশুদ্ধ হাস্যরসের ফেনিল উচ্ছ্বসিত তরঙ্গে তিনি সহৃদয়ের হৃদয়কে আন্দোলিত করিতে যেমন সমর্থ, গভীর রসের প্লাবনের মধ্যে নিমগ্ন করিয়া দিতেও তিনি তেমনি পটু। রজনীবাবুর মত সন্তানকে ক্রোড়ে করিয়া বঙ্গের ভারতী ধন্যা হইয়াছেন।

 বিধাতার ইচ্ছায় রজনীবাবুর কণ্ঠ আজি নীরব। যে কণ্ঠোত্থিত সঙ্গীতের উন্মাদনায় এই কয় বৎসর ধরিয়া স্বদেশভক্তগণ মত্ত ছিলেন, সে কণ্ঠ হইতে সে সঙ্গীত আর রাহির হইবে না। ভারতী দেবী কতদিন তাঁহার প্রিয় পুত্রকে ক্রোড়ে ধরিয়া রক্ষা করিবেন, তাহা বিধাতা ভিন্ন অন্যে জানে না। কবি যে রোগ-শয্যায় শয়ন করিয়াছেন, তাহা হইতে উত্থিত হইবেন কি? তাঁহার কণ্ঠ নীরব হইয়াছে, কিন্তু লেখনী এখনও বিশ্রাম চাহিতেছে না! যে কয়েকটী ক্ষুদ্র কবিতার সমষ্টিকে তিনি “অমৃত” নামে অভিহিত করিয়াছেন, তাহা অমৃতের কণিকা, সন্দেহ নাই। রোগশয্যায় থাকিয়াও তাঁহার স্বদেশীগণকে এই অমৃত-কণিকা পানে তৃপ্ত করিতেছেন, ইহা তাঁহারই উপযুক্ত।

 তাঁহার স্বদেশ তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বদ্ধ আছে। কবির এই দুঃসময়ে সেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সময় আসিয়াছে। আশা করি, বঙ্গদেশ তাঁহার নিকট ঋণমোচনে সাধ্যমত প্রয়াস পাইবে।

শ্রীরামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী।

বসুমতী, ৪ঠা আষাঢ়, ১৩১৭

 কবির নব-রচিত “অমৃত” পান করিয়া আমরা অপূর্ব্ব আনন্দ লাভ করিয়াছি। কবি “নিবেদনে” লিখিয়াছেন,—“গল্পচ্ছলে ও সরল ভাষায় বালক-বালিকাগণকে নীতিশিক্ষা দিবার উদ্দেশ্যে ‘অমৃত’ প্রকাশিত হইল।” তাঁহার সে উদ্দেশ্য সিদ্ধ হইয়াছে। যে সকল নীতিবাক্য সার্ব্বজনীন ও সার্ব্বভৌমিক, তাহার সমাবেশে “অমৃতে”র অমৃতনাম সার্থক হইয়াছে। কবি এই ক্ষুদ্র খণ্ডকাব্যে যে সকল নীতির অবতারণা করিয়াছেন, তাহা সকল সম্প্রদায়ের উপজীব্য। অদূর-ভবিষ্যতে ইহার অনেকগুলি কবিতা ‘প্রবচনে’ পরিণত হইবে, সে বিষয়ে সন্দেহ করিবার কারণ নাই। শিশুরা এই অমৃতে নবজীবন লাভ করিবে;—— যাঁহারা শিশুর জনক-জননী হইয়াছেন, তাঁহারাও এই “অমৃতে” সঞ্জীবনী সুধা পান করিবার অবকাশ পাইবেন। “অমৃত” যদি বাঙ্গালার গৃহে গৃহে গৃহ-পঞ্জিকার ন্যায় বিরাজ না করে, তাহা হইলে বলিব, সে দুর্ভাগ্য কবির নয়, সে শোচনীয় দুর্ভাগ্য বাঙ্গালীর।

হিতবাদী, ৩রা আষাঢ়, ১৩১৭

 * * * রজনীকান্ত শীর্ণ দেহে দীর্ণ মনে যে অমৃতের ধারা প্রচার করিয়াছেন, তাহা যে সত্যসত্যই অমৃত, সে কথা কি পাঠকগণকে খুলিয়া বলিতে হইবে? ভাষা প্রাঞ্জল, নীতি সিদ্ধান্তগুলি চিরপরিচিত, ছন্দোবন্ধ অতি সোজা, অথচ লেখার ভঙ্গী সুমধুর; মনে হয় সাধ করিয়া এমন প্যপুস্তক পুত্রকন্যার হাতে দিই। যাঁহারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তক নির্ণয় করেন, তাঁহারা “অমৃতের” আদর করিলে, মনুষ্যত্বের সমাদর করিবেন, বাঙ্গালা সাহিত্যের মর্য্যাদা রাখিবেন, দুঃস্থ সাহিত্যসেবীর অন্নমুষ্টির সংস্থান করিবেন। আমাদের তাই সনির্ব্বন্ধ অনুরোধ যে এই পুস্তকখানি বাঙ্গালার সকল পাঠশালার পাঠ্য পুস্তক বলিয়া নির্ণীত হউক।

বঙ্গবাসী, ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩১৭

 * * * কবিতাগুলি বড় মিষ্ট। আজকাল ছাত্রদিগের যে সব পদ্য পাঠ্য আছে, তাহার আলোচনা করিলে বলিতে হয় ‘অমৃত' পুস্তকখানি স্কুলের পাঠ্য হওয়া উচিত।

সঞ্জীবনী, ২রা আষাঢ়, ১৩১৭

 ‘অমৃত’ কয়েকটী ক্ষুদ্র কবিতার সমষ্টি। প্রত্যেক কবিতা আট লাইনে সম্পূর্ণ। * * * কবিতাগুলির মধ্যে যে সকল চিরন্তন নীতিবাক্য নিহিত রহিয়াছে, তাহা দ্বারা বালক বালিকাদিগের কোমল হৃদয় ও সরল মন শৈশব হইতেই সৎপথে পরিচালিত হইবে। যে সকল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গল্পের মধ্যে এই নীতি-বাক্যগুলি সন্নিবেশিত হইয়াছে, তাহা শিশুদিগের নিকট নিতান্ত কৌতুকপ্রদ ও প্রীতিকর হইবে। লেখক এই কাব্য-কণিকার মধ্য দিয়াও তাঁহার অসামান্য কবিপ্রতিভা পরিস্ফুটিত করিয়াছেন; শিশুগণের কোমল অন্তঃকরণে এই কাব্যরসধারা এক নব আনন্দের সৃষ্টি করিবে। আমাদের জাতীয় সাহিত্যে এইরূপ নীতি পুস্তকের যত অধিক সৃষ্টি হয়, দেশের ততই মঙ্গল! আমরা এই পুস্তকের বহুল প্রচার প্রার্থনা করি।

 The Bengalee, June 1, 1910:— * * * * * A perusal of this work will convince anyone what a high class poesy and a powerful brain, Babu Rajani Kanta is endowed with. Physical suffering—and that of a most acute kind—has been no hinderance to his conception of these lofty thoughts and easy flow of language in which they have been so beautifully couched. The book contains 40 lessons, each expressed in four couple of verses—every lesson containing the priceless jewel of a moral maxim. The thoughts embodied in them are mostly the poet’s own. The lessons are fit for universal acceptance, being peculiar to no particular cult or sect. The maxims though limited within the compass of four couplets each, are remarkably lucid. We strongly recommend this book to the University authorities as a text book for our children, who, we are sure, will read it with a smiling face and without tears, and will profit by it.

 The Indian Daily News, June 7, 1910 :—* * * Each piece inculcates moral lessons in the simplest possible language and with homely illustrations. There is a pathatic interest attached to the book for it appears to have been written from the Medical College Hospital, where the poet has been lying ill.

 The Statesman, June 10, 1910 :—* * * * The author is suffering from cancer in the throat and living in the Medical College Hospital, under the treatment of Major Bird. These small poems have been composed at intervals when he has felt comparatively better. * * Every piece has its charm and Bengali readers should be glad to secure the little volume at the cheap price of four annas.


এই লেখাটি ১ জানুয়ারি ১৯৩১ সালের পূর্বে প্রকাশিত এবং বিশ্বব্যাপী পাবলিক ডোমেইনের অন্তর্ভুক্ত, কারণ উক্ত লেখকের মৃত্যুর পর কমপক্ষে ১০০ বছর অতিবাহিত হয়েছে অথবা লেখাটি ১০০ বছর আগে প্রকাশিত হয়েছে ।