আত্মশক্তি/য়ুনিভার্সিটি বিল

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

{{సి 8 রবীন্দ্র-রচনাবলী সেইজন্য, পরিষদের অন্তকার আহবান যদি তোমাদের অন্তরে স্থান না পায়, বাংলা দেশের ঘরের কথা জানাকে যদি তোমরা বেশি একটা কিছু বলিয়া না মনে কর— তবু আমি ক্ষুব্ধ হইব না এবং আমার যে মাতৃভূমি এতদিন তাহার সস্তানগণের গৃহপ্রত্যাগমনের জন্য অনিমেষদৃষ্টিতে প্রতীক্ষা করিয়া আছেন, তাহাকে আশ্বাস দিয়া বলিব, জননী, সময় নিকটবতী হইয়াছে, ইস্কুলের ছুটি হইয়াছে, সভা ভাঙিয়াছে, এইবার তোমার কুটিরপ্রাঙ্গণের অভিমুখে তোমার ক্ষুধিত সস্তানদের পদধ্বনি ওই শোনা যাইতেছে— এখন বাজাও তোমার শঙ্খ, জালো তোমার প্রদীপ, তোমার প্রসারিত শীতলপাটির উপরে আমাদের ছোটো বড়ো সকল ভাইয়ের মিলনকে তোমার অশ্রীগদগদ আশীর্বচনের দ্বারা সার্থক করিবার জন্য প্রস্তুত হইয়া থাকো । ভাসিটি বিল এতকাল ধরিয়া য়ুনিভার্সিটি বিলের বিধিবিধান লইয়া তন্নতন্ন করিয়া অনেক আলোচনাই হইয়া গেছে, সেগুলির পুনরুক্তি বিরক্তিকর হইবে । মোটামুটি দুই-একট। কথা বলিতে চাই । I টাকা থাকিলে, ক্ষমতা থাকিলে, সমস্ত অবস্থা অমুকুল হইলে বন্দোবস্তর চূড়ান্ত করা যাইতে পারে, সে-কথা সকলেই জানে। কিন্তু অবস্থার প্রতি তাকাইয়া দুরাশাকে খৰ্ব করিতে হয়। লর্ড কর্জন ঠিক বলিয়াছেন, বিলাতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আদর্শ খুব ভালো— কিন্তু ভারতবন্ধু লাটসাহেব তো বিলাতের সব ভালো আমাদিগকে দিবার কোনো বন্দোবস্ত করেন নাই, মাঝে হইতে কেবল একটা ভালোই মানাইবে কেন ? প্রত্যেকের সাধ্যমতো যে ভালো, সে-ই তাহার সর্বোত্তম ভালো, তাহার চেয়ে ভালো আর হইতে পারে না— অন্যের ভালোর প্রতি লোভ করা বৃথা । । বিলাতি য়ুনিভাসিটিগুলাও একেবারেই আকাশ হইতে পড়িয়া অথবা কোনো জবরদস্ত শাসনকর্তার আইনের জোরে এক রাত্রে পূর্ণপরিণত হইয়া উঠে নাই । তাহার একটা ইতিহাস আছে । দেশের অবস্থা এবং ক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গে তাহারা স্বভাবত বাড়িয়া উঠিয়াছে। ইহার প্রতিবাদে বলা যাইতে পারে, আমাদের য়ুনিভার্সিটি গোড়াতেই বিদেশের নকল— স্বাভাবিক নিয়মের কথা ইহার সম্বন্ধে খাটিতে পারে না । আত্মশক্তি @>@ সে-কথা ঠিক । ভারতবর্ষের য়ুনিভার্সিটি দেশের প্রকৃতির সঙ্গে যে মিশিয়া গেছে, আমাদের সমাজের সঙ্গে সম্পূর্ণ একাঙ্গ হইয়া গেছে, তাহা বলিতে পারি না— এখনো ইহা আমাদের বাহিরে রহিয়াছে । কিন্তু ইহাকে আমরা ক্রমশ আয়ত্ত করিয়া লইতেছি— আমাদের স্বদেশীদের পরিচালিত কলেজগুলিই তাহার প্রমাণ । ইংরেজের কাছ হইতে আমরা কী পাইয়াছি, তাহ দেখিতে হইলে কেবল দেশে কী আছে তাহ দেখিলে চলিবে না, দেশের লোকের হাতে কী আছে, তাহাই দেখিতে হইবে । - রেলওয়ে টেলিগ্রাফ অনেক দেখিতেছি, কিন্তু তাহা আমাদের নহে ; বাণিজ্যব্যবসায়ও কম নহে, কিন্তু তাহারও যৎসামান্য আমাদের । রাজ্যশাসনপ্রণালী জটিল ও বিস্তৃত, কিন্তু তাহার যথার্থ কতৃত্বভার আমাদের নাই বলিলেই হয় ; তাহার মজুরের কার্যই আমরা করিতেছি, তাহাও উত্তরোত্তর সংকুচিত হইয়া আসিবার লক্ষণ দেখা যাইতেছে। যে-জিনিস যথার্থ আমাদের, তাহা কম ভালো হইলেও, তাহার ক্রটি থাকিলেও, তাহা ভাণ্ডারকর-মহাশয়ের সম্পূর্ণ মনোনীত না হইলেও তাহাকেই আমরা লাভ বলিয়া গণ্য করিব । যে-বিদ্যা পুথিগত, যাহার প্রয়োগ জানা নাই, তাহা যেমন পণ্ড, তেমনি যেশিক্ষাদানপ্রণালী আমাদের আয়ত্তের অতীত তাহাও আমাদের পক্ষে প্রায় তেমনি নিষ্ফল । দেশের বিদ্যাশিক্ষাদান দেশের লোকের হাতে আসিতেছিল, বস্তুত ইহাই বিস্তাশিক্ষার ফল । সেও যদি সম্পূর্ণ গবৰ্মেন্টের হাতে গিয়া পড়ে, তবে খুব ভালো য়ুনিভাসিটিও আমাদের পক্ষে দারিদ্র্যের লক্ষণ । আমাদের দেশে বিদ্যাকে অত্যন্ত ব্যয়সাধ্য করা কোনোমতেই সংগত নহে । আমাদের সমাজ শিক্ষাকে স্থলভ করিয়া রাখিয়াছিল —দেশের উচ্চনীচ সকল স্তরেই শিক্ষা নানা সহজ প্রণালীতে প্রবাহিত হইতেছিল । সেই-সমস্ত স্বাভাবিক প্রণালী ইংরেজিশিক্ষার ফলেই ক্রমে ক্রমে বন্ধ হইয়া আসিতেছিল— এমন কি, দেশে রামায়ণমহাভারত-পাঠ, কথকতা-যাত্রাগান প্রতিদিন বিদায়োম্মুখ হইয়া আসিতেছে। এমন সময়ে ইংরেজিশিক্ষাকেও যদি দুর্লভ করিয়া তোলা হয়, তবে গাছে তুলিয়া দিয়া মই কাড়িয়া লওয়া হয় । বিলাতি সভ্যতার সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গই অনেক টাকার ধন । আমোদ হইতে লড়াই পর্যন্ত সমস্তই টাকার ব্যাপার। ইহাতে টাকা একটা প্রকাও শক্তি হইয়া উঠিয়াছে এবং টাকার পূজা আজ সমস্ত পূজাকে ছাড়াইয়া চলিয়াছে। @>心 রবীন্দ্র-রচনাবলী এই দুঃসাধ্যত, দুর্লভত, জটিলতা যুরোপীয় সভ্যতার সর্বপ্রধান দুর্বলতা। সাতার দিতে গিয়া অত্যন্ত বেশি হাত-পা ছোড়। অপটুতারই প্রমাণ দেয় ; কোনো সভ্যতার মধ্যে ৰখন সর্ব বিষয়েই প্রয়াসের একান্ত আতিশষ্য দেখা যায়, তখন ইহা বুঝিতে হইবে তাহার যতটা শক্তি বাহিরে দেখা যাইতেছে, তাহার অনেকটারই প্রতিমুহূর্তে অপব্যয় হইতেছে । বিপুল মালমসলা-কাঠখড়ের হিসাব যদি ঠিকমতে রাখা যায়, তবে দেখা যাইবে, মজুরি পোষাইতেছে না। প্রকৃতির খাতায় স্বদে-আসলে হিসাব বাড়িতেছে, মাঝে মাঝে তাগিদের পেয়াদাও যে আসিতেছে না তাহাও নহে— কিন্তু, সে লইয়া আমাদের চিস্তা করিবার দরকার নাই । আমাদের ভাবনার বিষয় এই যে, দেশে ৰিচার দুমূল্য, অন্ন দুমূল্য, শিক্ষাও যদি তুমুল্য হয় তবে ধনী-দরিত্রের মধ্যে নিদারুণ বিচ্ছেদ আমাদের দেশেও অত্যন্ত বৃহৎ হইয়া উঠিবে। বিলাতে দারিদ্র্য কেবল ধনের অভাব নহে, তাহা মনুষ্যত্বেরও অভাব —কারণ, সেখানে মন্থন্তত্বের সমস্ত উপকরণই চড়া দরে বিক্রয় হয় । আমাদের দেশে দরিদ্রের মধ্যে মকুন্যত্ব ছিল, কারণ আমাদের সমাজে স্থখ-স্বাস্থ্য-শিক্ষা-আমোদ মোটের উপরে সকলে ভাগাভাগি করিয়া লইয়াছে। ধনীর চণ্ডীমণ্ডপে যে-পাঠশালা বসিয়াছে গরিবের ছেলেরা বিনা বেতনে তাহাতে শিক্ষা পাইয়াছে— রাজার সভায় যেউৎসব হইয়াছে দরিদ্র প্রজা বিনা আহৰানে তাহাতে প্রবেশলাভ করিয়াছে। ধনীর বাগানে দরিদ্র প্রত্যহ পূজার ফুল তুলিয়াছে, কেহ তাহাকে পুলিসে দেয় নাই ; সম্পন্ন ব্যক্তি দিঘি-ঝিল কাটাইয় তাহার চারি দিকে পাহারা বসাইয়া রাখে নাই । ইহাতে দরিদ্রের আত্মসন্ত্রম ছিল— ধনীর ঐশ্বর্ষে তাহার স্বাভাবিক দাবি ছিল, এই জন্ত, তাহার অবস্থা যেমনই হউক, সে পাশবতা প্রাপ্ত হয় নাই— যাহারা জাতিভেদ ও মনুষ্যত্বের উচ্চ অধিকার লইয়া মুখস্থ বুলি আওড়ান, তাহারা এ-সব কথা ভালো করিয়া চিম্ভা করিয়া দেখেন না । বিলাতি লাট আজকাল বলিতেছেন, যাহার টাকা নাই, ক্ষমতা নাই, তাহার বিদ্যাশিক্ষার প্রতি অত্যস্ত লোভ করিবার দরকার কী । আমাদের কানে এ-কথাটা অত্যন্ত বিদেশী, অত্যন্ত নিষ্ঠুর বলিয়া ঠেকে । কিন্তু সমস্ত সহিতে হইবে । তাই বলিয়া বসিয়া বসিয়া আক্ষেপ করিলে চলিবে না। আমরা নিজেরা স্বাহা করিতে পারি তাহারই জন্ত আমাদিগকে কোমর বাধিতে হুইবে । বিদ্যাশিক্ষার ব্যবস্থা আমাদের দেশে সমাজের ব্যবস্থা ছিল— রাজার উপরে বাহিরের সাহায্যের উপরে ইহার নির্ভর ছিল না— সমাজ ইহাকে রক্ষণ করিয়াছে এবং সমাজকে ইহা রক্ষা করিয়াছে । এখন বিদ্যাশিক্ষা রাজার কাজ পাইবার সহায়স্বরূপ হইয়াছে, তখন ৰিষ্ঠাশিক্ষা उप्रांप्यूभवंखेिळ | ○○" সমাজের হিতসাধনের উপযোগী ছিল। এখন সমাজের সহিত ৰিষ্কার পরম্পর সহায়তার যোগ নাই। ইহাতে এতকাল পরে শিক্ষাসাধনব্যাপার ভারতবর্ষে রাজার প্রসাদ-অপেক্ষী হইয়াছে । এ অবস্থায় রাজা যদি মনে করেন, তাহাদের রাজ-পলিসির অমুকুল করিয়াই শিক্ষার ব্যবস্থা করিতে হইবে, রাজভক্তির ছাচে ঢালিয়া ইতিহাস রচিতে হইবে, বিজ্ঞানশিক্ষাটাকে পাকে-প্রকারে খর্ব করিতে হইবে, ভারতবর্ষীয় ছাত্রের সর্বপ্রকার আত্মগৌরবকে সংকুচিত করিতে হইবে, তবে তাহাদিগকে দোষ দেওয়া যায় না— কর্তার ইচ্ছা কর্ম— আমরা সে-কর্মের ফলভোগ করিব, কিন্তু সে কর্মের উপরে কতৃত্ব করিবার আশা করিব কিসের জোরে । তা ছাড়া, বিদ্যা জিনিসটা কলকারখানার সামগ্ৰী নহে। তাহ মনের ভিতর হইতে না দিলে দিবার জো নাই । লাটসাহেব তাহার অক্সফোর্ড-কেমব্রিজের আদর্শ লইয়া কেবলই আস্ফালন করিয়াছেন , এ-কথা ভুলিয়াছেন যে, সেখানে ছাত্র ও অধ্যাপকের মধ্যে ব্যবধান নাই, সুতরাং সেখানে বিদ্যার আদানপ্রদান স্বাভাবিক । শিক্ষক সেখানে বিস্তাদানের জন্য উন্মুখ এবং ছাত্রেরাও বিদ্যালাভের জন্য প্রস্তুত— পরস্পরের মাঝখানে অপরিচয়ের দূরত্ব নাই, আশ্রদ্ধার কণ্টক-প্রাচীর নাই, কাজেই সেখানে মনের জিনিস মনে গিয়া পৌছায়। পেড লারের মতো লোক আমাদের দেশের অধ্যাপক, শিক্ষাবিভাগের অধ্যক্ষ,— তিনি আমাদিগকে কী দিতে পারেন, আমরাই বা র্তাহার কাছ হইতে কী লইতে পারি হৃদয়ে হৃদয়ে যেখানে স্পর্শ নাই, যেখানে স্থম্পষ্ট বিরোধ ও বিদ্বেষ আছে, সেখানে দৈববিড়ম্বনায় যদি দানপ্রতিদানের সম্বন্ধ স্থাপিত হয় তবে সে-সম্বন্ধ হইতে শুধু নিষ্ফলতা নহে, কুফলতা প্রত্যাশা করা যায়। সর্বাপেক্ষা এইজন্যই বিশেষ প্রয়োজন হইয়াছে, নিজেদের বিদ্যাদানের ব্যবস্থাভার নিজেরা গ্রহণ করা । তাহাতে আমাদের বিস্তামন্দিরে কেমব্রিজ-অক্সফোর্ডের প্রকাও পাষাণ প্রতিরূপ প্রতিষ্ঠিত হইবে না জানি, তাহার সাজসরঞ্জাম দরিত্রের উপযুক্ত হইবে, ধনীর চক্ষে তাহার অসম্পূর্ণতাও অনেক লক্ষিত হইবে,– কিন্তু জাগ্রত সরস্বতী শ্রদ্ধাশতদলে আসীন হইবেন, তিনি জননীর মতো করিয়া সস্তানদিগকে অমৃত পরিবেষণ করিবেন, ধনমদগবিতা বণিকপৃহিণীর মতো উচ্চ বাতায়নে দাড়াইয়া দূর হইতে ভিক্ষুকবিদায় করিবেন না। পরের কাছ হইতে হৃদ্যতাবিহীন দান লইবার একটা মস্ত লাঞ্ছনা এই যে, গৰিত দাতা খুব বড়ো করিয়া খরচের হিসাব রাখে, তাহার পরে দুই বেলা খোটা দেয়, “এত দিলাম তত দিলাম, কিন্তু ফলে কী হইল।” মা স্তন্তদান করেন, খাতায় তাহার و سیستمه 2\ রবীন্দ্র-রচনাবলী سیاه» কোনো হিসাব রাখেন না, ছেলেও বেশ পুষ্ট হয়— স্নেহবিহীন ধাত্রী বাজার হইতে খাবার কিনিয়া রোরুদ্যমান মুখের মধ্যে গুজিয়া দেয়, তাহার পরে অহরহ খিটখিট করিতে থাকে, “এত গিলাইতেছি, কিন্তু ছেলেট দিন দিন কেবল কাঠি হইয়া যাইতেছে।” আমাদের ইংরেজ কতৃপক্ষেরা সেই বুলি ধরিয়াছেন। পেডলার সেদিন বলিয়াছেন, “আমরা বিজ্ঞানচর্চার এত বন্দোবস্ত করিয়া দিলাম, এত আহুকুল্য করিলাম, বৃত্তির টাকার এত অপব্যয় করিতেছি, কিন্তু ছাত্রেরা স্বাধীনবুদ্ধির কোনো পরিচয় দিতেছে না !” অনুগ্রহজীবৗদিগকে এই সব কথাই শুনিতে হয়— অথচ আমাদের বলিবার মুখ নাই, “বন্দোবস্ত সমস্ত তোমাদেরই হাতে, এবং সে-বন্দোবস্তে যদি যথেষ্ট ফললাভ না হয়, তাহার সমস্ত পাপ আমাদেরই !” এদিকে খাতায় টাকার অঙ্কটাও গ্রেটুপ্রাইমার অক্ষরে দেখানো হইতেছে— যেন এত বিপুল টাকা এতবড়ো প্রকাও অযোগ্যদের জন্য জগতে আর কোনো দাতাকৰ্ণ ব্যয় করে না, অতএব ইহার moral এই—“হে অক্ষম, হে অকৰ্মণ্য তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তোমরা রাজভক্ত হও, তোমরা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে চাদ দিতে কপোলযুগ পাণ্ডুবর্ণ করিয়ো না !” ইহাতে বিদ্যালাভ কতটুকু হয় জানি না, কিন্তু আত্মসম্মান থাকে না। আত্মসম্মান ব্যতীত কোনো জাত কোনো সফলতা লাভ করিতে পারে না— পরের ঘরে জল-তোলা এবং কাঠ-কাটার কাজে লাগিতে পারে, কিন্তু দ্বিজধর্ম অর্থাৎ ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রিয়-বৈশ্বের বৃত্তিরক্ষা করিতে পারে না । একটা কথা আমাদিগকে সর্বদাই মনে রাখিতে হইবে যে, আমাদিগকে যে খোটা দেওয়া হইয়া থাকে, তাহ সম্পূর্ণ অমূলক । এবং যাহারা খোটা দেন, তাহারাও যে মনে মনে তাহ জানেন না, তাহাও আমরা স্বীকার করিব না। কারণ, আমরা দেখিয়াছি পাছে র্তাহাদের কথা অপ্রমাণ হইয়া যায়, এজন্ত র্তাহারা ত্রস্ত আছেন। এ-কথা আমাদিগকে মনে রাখিতে হইবে, বিলাতি সভ্যতা বস্তুত দুরূহ ও দুর্লভ ময় । স্বাধীন জাপান আজ পঞ্চাশ বৎসরে এই সভ্যতা আদায় করিয়া লইয়া গুরুমার বিষ্ঠায় প্রবৃত্ত হইয়াছে। এ সভ্যতা অনেকটা ইস্কুলের জিনিস, পরীক্ষা করা, মুখস্থ করা, চর্চা করার উপরেই ইহার নির্ভর। জাপানের মতো সম্পূর্ণ স্থযোগ ও আমুকুল্য পাইলে এই ইস্কুলপাঠ আমরা পেডলার-সম্প্রদায় আসিবার বহুকাল পূর্বেই শেষ করিতে পারিতাম। প্রাচ্য সভ্যতা ধৰ্মগত, তাহার পথ নিশিত ক্ষুরধারের স্তায় দুর্গম— তাহ ইস্কুলের পড়া নহে, তাহা জীবনের সাধন ।