আনন্দী বাঈ

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
 

আনন্দী বাঈ

 

 

গ্রন্থকার প্রণীত অন্যান্য গ্রন্থ

ঝাঁশির রাজকুমার
মহামতি রাণাডে
এটা কোন্‌ যুগ?
হিন্দু জাতি কি ধংশোমুখ?

 

 

আনন্দী বাঈ

 

শ্রীসখারাম গণেশ দেউস্কর প্রণীত

 

(দ্বিতীয় সংস্করণ)

 

ইউ, এন্‌, ধর এণ্ড কোং
৫৮নং ওয়েলিংটন ষ্ট্ৰীট্‌ ও ২নং কলেজ স্কোয়ার।
কলিকাতা।

 
মূল্য বারো আনা
 

 

প্রকাশক ও স্বত্ত্বাধিকারী
শ্রীউপেন্দ্রনাথ ধর
৫৮ নং ওয়েলিংটন ষ্ট্রীট, কলিকাতা

 

কলিকাতা
২নং বেথুন রে, ভারতমিহির যন্ত্রে,
শ্রীযুগলচরণ দাস দ্বারা
মুদ্রিত।

 



ভূমিকা

মহারাষ্ট্র-ইতিহাস-পাঠক বঙ্গবাসীর নিকট “আনন্দী বাঈ” নাম বিশেষভাবে পরিচিত। এই নাম ধারণ করিয়া যে পাপীয়সী অতীব নৃশংস ভাবে পঞ্চম পেশওয়ে নারায়ণ রাওয়ের হত্যাকাণ্ড ও মহারাষ্ট্র সমাজের সর্ব্বনাশ সাধিত করিয়াছিল, তাহার জীবন-চরিতের সহিত বর্ণনীয় আখ্যানের কোনও সংস্রব নাই। পরবর্ত্তী পৃষ্ঠানিচয়ে যাঁহার জীবন-কথা বর্ণিত হইল, তিনি অসাধারণ চরিত্রবলে ভারতীয় মহিলাসমাজের মুখােজ্জ্বল করিয়াছেন। সুশিক্ষাগুণে রমণীহৃদয় কত দূর উন্নত ও সাধারণের আদর্শ-স্থানীয় হইতে পারে, এই আনন্দী বাঈ তাহারই উদাহরণ-স্থল।

 ডাক্তার শ্রীমতী আনন্দী বাঈ জোশী এম্‌, ডি, মহােদয়া মহারাষ্ট্রীয় রমণীসমাজে একটি অমূল্য রত্ন ছিলেন। বিগত এক শত বৎসরের মধ্যে, ঝাঁশীর রাণী লক্ষ্মী বাঈ ভিন্ন ভারতবর্ষে তাঁহার ন্যায় মনস্বিনী মহিলা আর জন্মগ্রহণ করেন নাই বলিলে বিশেষ অত্যুক্তি হয় না। আনন্দী বাঈ মানসিক বলের যেমন আধার ছিলেন, তেমনই স্বদেশানুরাগে এদেশের কাহারও অপেক্ষা ন্যূন ছিলেন না। ভারত-মহিলার চিকিৎসা-শাস্ত্র-শিক্ষার পথ সুগম করিবার জন্য তিনি অসাধারণ দৃঢ়তার সহিত সর্ব্বপ্রকার বাধা বিপত্তি অতিক্রম করিয়া কার্য্যক্ষেত্রে অগ্রসর হইয়াছিলেন। তিনি উচ্চশিক্ষা লাভ করিয়াও স্বীয় ব্যবহারগুণে প্রাচীন হিন্দুসমাজের স্নেহ ও সহানুভূতি-লাভের অধিকারিণী হইয়াছিলেন। অত্যুন্নতিপ্রয়াসী নব্য সংস্কারকগণও তাঁহার কার্য্যে তৎপরতার অভাব দেখিতে পান নাই। তিনি খৃষ্টরাজ্য আমেরিকায় তিন বৎসর বাস করিয়াও স্বধর্ম্মের ও স্বদেশীয় আচার ব্যবহারের প্রতি অবিচলিত শ্রদ্ধা প্রদর্শন করিয়াছিলেন। স্বদেশবাসীর নিন্দা তাঁহার কর্ণে বিষবৎ অসহ্য বােধ হইত। আমেরিকায় এবং লণ্ডনে অবস্থান-কালেও তিনি আচারব্যবহার, বেশভূষা প্রভৃতি সর্ব্ববিষয়ে স্বীয় মহারাষ্ট্রীয় বিশেষত্ব একদিনের জন্যও বিসর্জ্জন করেন নাই। ভারতের দুর্ভাগ্য, এই রমণী-রত্ন একবিংশ বৎসর বয়সেই ইহধাম পরিত্যাগ করেন!

 পরিশেষে কৃতজ্ঞতার সহিত স্বীকার করিতেছি যে, পুণানিবাসী রাও সাহেব গােবিন্দ রাও বাসুদেব কানিটকর মহােদয়ের পত্নী শ্রীমতী কাশী বাঈ মহারাষ্ট্রীয়া ভাষায় আনন্দী বাঈর যে অতি প্রকাণ্ড—রয়াল আট পেজী ৪২৫ পৃষ্ঠায় সম্পূর্ণ জীবনচরিত রচনা করিয়াছেন, এক্ষেত্রে তাহাই আমার প্রধান অবলম্বন। উহার সারসংগ্রহ করিয়া ভূতপূর্ব্ব “সখী” পত্রিকায় আমি ইতঃপূর্ব্বে কয়েকটি প্রস্তাব লিখিয়াছিলাম। এক্ষণে যথাসম্ভব পরিবর্দ্ধন ও সংশোধনানন্তর তাহাই পুস্তকাকারে প্রকাশিত করিলাম। আনন্দী বাঈর চিত্র দুইখানিও শ্রীমতী কাশী বাঈর গ্রন্থ হইতে গৃহীত।

মাঘ, ১৩০৮ সাল।
কলিকাতা।

শ্রীসখারাম গণেশ দেউস্কর

 

পরিচ্ছেদসমূহ (মূল গ্রন্থে নেই)

এই লেখাটি ১ জানুয়ারি ১৯২৩ সালের পূর্বে প্রকাশিত এবং বিশ্বব্যাপী পাবলিক ডোমেইনের অন্তর্ভুক্ত, কারণ উক্ত লেখকের মৃত্যুর পর কমপক্ষে ১০০ বছর অতিবাহিত হয়েছে অথবা লেখাটি ১০০ বছর আগে প্রকাশিত হয়েছে ।