বিষয়বস্তুতে চলুন

আমার দেখা তুরষ্ক

উইকিসংকলন থেকে

আমার দেখা তুরষ্ক

আমার দেখা তুরস্ক

শামসুন নাহার মাহ্‌মুদ

প্রেসিডেন্সি লাইব্রেরী
ঢাকা

প্রকাশক
শ্রীঅনিলচন্দ্র ঘোষ এম. এ.
প্রেসিডেন্সী লাইব্রেরী
বাংলাবাজার: ঢাকা

মূল্য ৩॥০ টাকা

মুদ্রক
শ্রীসুশীলচন্দ্র ঘোষ
প্রেসিডেন্সী প্রিণ্টিং ওয়ার্কস্
বাংলাজার, ঢাকা
(পাকিস্তান)

বইখানা আমার স্বামীর হাতে দিতে গিয়া আমার চলার পথে তাঁহার চিরকালের সানুরাগ সহযোগিতা স্মরণ করিতেছি।

লেখিকার নিবেদন

 তুরস্ক সরকারের আমন্ত্রণে পাকিস্তান গভর্নমেণ্ট ১৯৫২ সালে তুরস্কে একটি সাংস্কৃতিক মিশন প্রেরণ করেন। শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী হিসাবে আমার সেই মিশনে স্থান পাইবার সৌভাগ্য হইয়াছিল। প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার অর্থ শুধুমাত্র দেশ ভ্রমণ নয়; এটা একটা বিরাট দায়িত্ব নিশ্চয়ই।

 তা’ ছাড়া চিরকাল কলম পেষা অভ্যাস বলিয়া আমার আরো মনে হইয়াছে, মধ্য-প্রাচ্যে ও তুরস্কে যাহা দেখিয়াছি তার কিছুটা পরিচয় সমাজের সামনে পেশ করা আমার হয়ত বিশেষ দায়িত্ব। এই ধারণা হইতেই বইখানার জন্ম।

 লিখিতে গেলে, আমরা যে-দেশের মেহ্‌মান হইয়া গিয়াছি তাঁদের প্রতি এবং আমার নিজের দেশের পাঠকের প্রতি অবিচার হইতে পারে এই আশঙ্কায়, প্রবাসে প্রতিদিনকার খুঁটিনাটি কথা টুকিয়া রাখিবার চেষ্টা করিয়াছিলাম। আমাদের চলিতে হইত দিবারাত্রি ঝড়ের গতিতে। একই সঙ্গে পথ চলা আর কলম চালানো সোজা নয়, বিশেষ করিয়া অত বড় দলের ভিড়ের মধ্যে। রাস্তায় চলিতে চলিতে লিখিতে গেলে গাড়ী চাপা পড়ার ভয় স্বাভাবিক; কখনো অতর্কিতে দলের অন্যদেরও অসুবিধা সৃষ্টি করিয়াছি। কেহ কেহ আবিষ্কার করিয়া ফেলিয়াছেন বই লেখার অভিসন্ধি। অত করিয়া যাহা টুকিয়া আনিয়াছিলাম, শেষ পর্যন্ত তাহারও পাঠোদ্ধার মোটেই সহজ হয় নাই।

 তুরস্কে যাহা দেখিয়াছি এবং আমাদের যেটুকু তাঁদের দেখাইতে পারিয়াছি, তাতে যে আনন্দ তাহা শুধু নিজেই উপভোগ করিলাম না, অন্যদেরও শরীক করিয়া নিবার চেষ্টা করিলাম,—এখানেই আমার তৃপ্তি। তুরস্কের পথে মধ্য-প্রাচ্যের কুওয়েত, বসোরা, বাগ্‌দাদ প্রভৃতি স্থানে যাহা দেখিয়াছি, তাহারও পরিচয় আঁকিয়া রাখিবার চেষ্টা করিয়াছি এই গ্রন্থে। যাঁরা পড়িবেন তাঁরা যদি এত টুকু আনন্দও পান, তবেই পরিশ্রম সার্থক মনে করিব।

 শিল্পী জয়নাল আবেদিনের প্রচ্ছদপট বইখানাকে মর্যাদা দান করিয়াছে, একথা সকলেই অনুভব করিবেন। আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করিয়াছি তাঁহার সহৃদয়তা। মৌখিক ধন্যবাদের এখানে অবকাশ আছে বলিয়া মনে করি না। তাঁহার নিজের তুরষ্ক-ভ্রমণের সঙ্গে আমার দেখা তুরস্কের স্মৃতির একটুখানি যোগসূত্র রহিয়া গিয়াছে, তাহা বইয়ের ভিতর উল্লেখ করিয়াছি; ছবিখানির জন্য তাহা দৃঢ়তর হইল। আঙ্কারার ‘উলুস ময়দানে’ স্বাধীনতা-সমরের যে স্মৃতিস্তম্ভ আছে, পাঠক এই ছবিতে তাহারও প্রতিকৃতি দেখিতে পাইবেন।

 আমার অন্যান্য বইয়ের মত আমার অগ্রজ হবীবুল্লাহ্ বাহারের অনবরত তাড়া না হইলে হয়ত ‘আমার দেখা তুর’ অত করিয়াও শেষ পর্যন্ত অলিখিতই রহিয়া যাইত, সে কথা এখানে স্বীকার করিয়া নিলাম।

 বইখানার কিছু কিছু অংশ ‘মাহেনও’, ‘মোহাম্মদী’ ও ‘পাকিস্তান’ প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হইয়াছিল; সেজন্য সম্পাদক সাহেবদের শোক্‌রিয়া আদায় করিতেছি।

 যাঁদের সাহচর্য আমার প্রবাসের দিনগুলিকে মধুর করিয়া রাখিয়াছিল, তুর্কী ও পাকিস্তানী সেই পথের সাথীদের প্রত্যেককে এই পুস্তক প্রকাশের সময় আবার নতুন করিয়া মনে পড়িয়া যাইতেছে, এ কথাটা না জানাইয়া পারিলাম না। যাঁরা আমাকে তুরস্ক যাইবার সুযোগ করিয়া দিয়াছিলেন, তাঁদের কথাও ভুলিবার নয়।

 যে বছর আমরা তুরস্ক সফরে যাই, সেই সময়কার পটভূমিকায় না পড়িলে বইখানা কোন কোন জায়গায় অর্থহীন মনে হইতে পারে—পাঠককে একথাটা স্মরণ করাইয়া দেওয়া প্রয়োজন মনে করিলাম।

পি. ৭১এ, ধানমণ্ডি, ঢাকা
জুলাই, ১৯৫৫

শামসুন নাহার

সূচী-পত্র

…          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …
…          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …
৩৯
…          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …
৬৭
…          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …
১৪০
…          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …
১৬৮
…          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …
২৫৪

এই লেখাটি বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত কারণ এটির উৎসস্থল বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ কপিরাইট আইন, ২০০০ অনুসারে এর কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। লেখকের মৃত্যুর ৬০ বছর পর (স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত) বা প্রথম প্রকাশের ৬০ বছর পর (বেনামে বা ছদ্মনামে এবং মরণোত্তর প্রকাশিত) পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে তাঁর সকল রচনার কপিরাইটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। অর্থাৎ, ২০২৬ সালে, ১ জানুয়ারি ১৯৬৬ সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে।