আরণ্যক/অষ্টম পরিচ্ছেদ

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন



অষ্ঠম পরিচ্ছেদ

 প্রকৃতি তার নিজের ভক্তদের যা দেন, তা অতি অমূল্য দান। অনেক দিন ধরিয়া প্রকৃতির সেবা না করিলে কিন্তু সে দান মেলে না। আর কি ঈর্ষার বজার এতিরাণীপ্রকৃতিকে যখন চাহিষ, তখন প্রকৃতিকে লইয়াই থাকিতে Sy, a br ठांक হইবে, অন্য কোন দিকে মন দিয়াছি যদি, অভিমানিনী কিছুতেই তার অবগুণ্ঠন খুলিবেন না। কিন্তু অনন্তমনা হইয়া প্ৰকৃতিকে লইয়া ডুবিয়া থাকে, তার সর্ববিধ আনন্দের বর, সৌন্দর্ঘ্যের বর, অপূর্ব শাস্তির বর, তোমার উপর অজস্রধারে এত বৰ্ষিত হইবে, তুমি দেখিয়া পাগল হইয়া উঠিবে, দিনরাত মোহিনী প্ৰকৃতিরাণী তোমাকে শতরূপে মুগ্ধ করিবেন, নূতন দৃষ্টি জাগ্ৰত করিয়া তুলিবেন, মনের আয়ু বাড়াইয়া দিবেন, আমরলোকের আভাসে অমরত্বের প্রান্তে উপনীত করাইবেন । কয়েক বারের কথা বলি। সে অমূল্য অনুভূতিরাজির কথা বলিতে গেলে লিথিয়া পাতার পর পাতা ফুরাইয়া যায়, কিন্তু তবু বলা শেষ হয় না, যা বলিতে চাহিতেছি, তাহার অনেকখানিই বাকী থাকিয়া যায় । এসব শুনিবার লোকও সংখ্যায় অত্যন্ত কম, ক’জন মনে-প্ৰাণে প্ৰকৃতিকে ভালবাসে ? অরণ্য-প্ৰান্তরে লবটুলিয়ার মাঠে মাঠে দুধালি ঘাসের ফুল ফুটাইয়া জানাইয়া দেয় যে বসন্ত পড়িয়াছে। সে ফুলও বড় সুন্দর, দেখিতে নক্ষত্রের মত আকৃতি, রং হলদে, লম্বা লম্বা সরু লতার মত ঘাসের ডাটাটা অনেকখানি জমি জুড়িয়া মাটি আঁকড়াইয়া থাকে, নক্ষত্রাকৃতি হলদে ফুল ধরে তার গাটে গাটে । ভোরে ****, পথের ধারা সৰ্ব্বত্র আলো করিয়া ফুটিয়া থাকিতি-কিন্তু সূৰ্য্যের তেজ ডুবার সঙ্গে সঙ্গে সব ফুল কুঁকুড়াইয়া পুনরায় কুঁড়ির আকার ধারণ করিাতদিন সকালে আবার সেই কুঁড়িগুলিই দেখিতাম ফুটিয়া আছে। রক্তপলাশের বাহার আছে মোহনপুৱা রিজার্ভ ফরেস্টে ও আমাদের সীমানার হরের জঙ্গলে কিংবা মহালিখারূপের শৈলসানুপ্রদেশে । আমাদের মহাল হইতে সে-সব স্থান অনেক দূরে, ঘোড়ায় তিন-চার ঘণ্টা লাগে। সে-সব জায়গায় চৈত্রে শালমঞ্জরীর সুবাসে বাতাস মাতাইয়া রাখে, শিমুল বনে দিগন্তরেখা রাঙাইয়া দেয়, কিন্তু কোকিল, দোয়েল, বৌ-কথা-কও প্রভৃতি গায়কপাখীরা ডাকে না, এ-সব জনহীন অরণ্য-প্ৰাস্তরের যে ছন্নছাড়ারূপ, বোধ হয় তাহারা তাহা পছন্দ করে না । এক-এক দিন বাংলা দেশে ফিরিবার জন্য মন হাপাইয়া উঠিত, বাংলা আরণ্যক SOS দেশের পল্লীর সে সুমধুর। বসন্ত কল্পনায় দেখিতাম, মনে পড়িত বাধানো পুকুরঘাটে জানাস্তে আৰ্দ্ধবস্ত্ৰে গমনরতা কোন তরুণী বধুর ছবি, মাঠের ধারে ফুলফোটা ঘেটুবন, বাতাবী-লেবুকুলের সুগন্ধে মোহময় ঘন ছায়া-ভরা অপরাঙ্ক। দেশকে কি ভাল করিয়াই চিনিলাম বিদেশে গিয়া ! দেশের জন্য এই মনোবেদনা দেশে থাকিতে কখনও অনুভব করি নাই, জীবনে এ একটা বড় অনুভূতি, ষে ইহার আস্বাদ না পাইল, সে হতভাগ্য একটা শ্রেষ্ঠ অনুভূতির সহিত অপরিচিত রহিয়া C 1 কিন্তু যে-কথাটা বার-বার নানা ভাবে বলিবার চেষ্টা করিতেছি, কিন্তু কোন বারই ঠিকমত বুঝাইতে পারিতেছি না, সেটা হইতেছে এই প্ৰকৃতির একটা বৃহস্যময় অসীমতার, দুরবিগম্যতার, বিরাটত্বের ও ভয়াল গা-ছিম-ছম করানো সৌন্দর্ঘ্যের দিকটা । না দেখিলে কি করিয়া বুঝাইব সে কি জিনিস? জনশূন্য বিশাল লিবটুলিয়া বইহারে দিগন্তব্যাপী দীর্ঘ বনঝাউ ও কাশের বনে নিস্তন্ধ অপরান্ধুে একা ঘোড়ার উপর বসিয়া এখানকার প্রকৃতির এই রূপ আমার সারা মনকে অসীম রহস্যানুভূতিতে আচ্ছন্ন করিয়া দিয়াছে, কখনও তাহা আসিয়াছে ভয়ের রূপে, কখনও আসিয়াছে একটা নিম্পূহ, উদাস, গম্ভীর মনোভাবের রূপে, কখনও আসিয়াছে কত মধুময় স্বপ্ন, দেশ-বিদেশের নর-নারীর বেদনার রূপে। সে যেন খুব উচ্চাদরের নীরব সঙ্গীত-নক্ষত্রের ক্ষীণ আলোর তালে, জ্যোৎস্মারাত্রের অবাস্তবতায়, ঝিল্লীর তানে, ধাবমান উল্কার অগ্নিপুচ্ছের ८छाङिgऊ ऊाझ व्यभू-गाठि । DSSYz KBDBD DSDK BDBBDS DDBDB BBBD D DDDD BBBBBLD হইবে। প্ৰকৃতির সে মোহিনীরূপের মায়া মানুষকে ঘরছাড়া করে, উদাসীন ছন্নছাড়া, ভবঘুরে হ্যারি জনস্টন, মার্কে পোলো, হাডসন, শ্যাকলটন করিয়া তোলে-গৃহস্থ সাজিয়া ঘরকন্না করিতে দেয় না-অসম্ভব তাহার পক্ষে ঘরকন্না। করা একবার সে-ডাক যে শুনিয়াছে, সে অনবগুষ্ঠিত মোহিনীকে একবার যে প্ৰত্যক্ষ করিয়াছে । Y S 0 আরণ্যক গভীর রাত্রে ঘরের বাহিরে একা আসিয়া দাড়াইয়া দেখিয়াছি, অন্ধকার প্ৰান্তরের অথবা ছায়াহীন ধুধু জ্যোৎস্না-ভরা রাত্রির রূপ। তার সৌন্দৰ্য্যে পাগল হইতে হয়-একটুও বাড়াইয়া বলিতেছি না-আমার মনে হয় দুর্বলচিত্ত মানুষ যাহার, তাহাদের পক্ষে সে-রূপ না দেখাই ভাল, সর্বনাশী রূপ সে, সকলের পক্ষে তার টাল সামলানো বড় কঠিন । তবে একথাও ঠিক, প্ৰকৃতিকে সে-রূপে দেখাওভাগ্যের ব্যাপার। এমন বিজন বিশাল উন্মুক্ত আরণ্য-প্ৰাস্তর, শৈলমালা, বনঝাউ, আর কাশের বন কোথায় যেখানে সেখানে ? তার সঙ্গে যোগ চাই গভীর নিশীথিনীর নীরবতার ও তার অন্ধকার বা জ্যোৎস্নার-এত যোগাযোগ সুলভ হইলে পৃথিবীতে, কবি আর পাগলে দেশ ছাইয়া যাইত না ? একদিন প্ৰকৃতির সে-রূপ কি-ভাবে প্ৰত্যক্ষ করিয়াছিলাম, সে ঘটনা বলি । পূৰ্ণিয়া হইতে উকিলের ‘তার” পাইলাম পরদিন সকাল দশটার মধ্যে আমায় সেখানে হাজির হইতে হইবে । অন্যথায় স্টেটের একটা বড় মোকদ্দমায় আমাদের হার সুনিশ্চিত । আমাদের মহাল হইতে পূর্ণিয়া পঞ্চান্ন মাইল দূরে। রাত্রের ট্রেন মাত্র একখানি, যখন “তার’ হস্তগত হইল তখন সতের মাইল দূরবত্তী কাটারিয়া স্টেশনে গিয়া সে-ট্রেন ধরা অসম্ভব । ঠিক হইল এখনই ঘোড়ায় রওনা হইতে হইবে। কিন্তু পথ সুদীর্ঘ বটে, বিপৎসস্কুলও বটে, বিশেষ করিয়া এই রাত্রিকালে, এই আরণ্য-অঞ্চলে । সুতরাং তহশীলদার সুজন সিং আমার সঙ্গে যাইবে ইহাও ঠিক হইল। সন্ধ্যায় দু-জনে ঘোড়া ছাড়িলাম। কাছারি ছাড়িয়া জঙ্গলে পড়িতেই কিছু পরে কৃষ্ণা তৃতীয়ার চাদ উঠিল। অস্পষ্ট জ্যোৎস্নায় বন-প্ৰান্তর আরও অদ্ভুত দেখাইতেছে। পাশাপাশি দু-জনে চলিয়াছি-আমি আর সুজন সিং । পথ কখনও উঁচু, কখনও নীচু সাদা বালির উপর জ্যোৎস্না পড়িয়া চকচক করিতেছে। আরণ্যক Ο Σ. Σ ঝোপঝাপ মাঝে মাঝে, আর শুধু কাশ। আর ঝাউবন চলিয়াছে, স্বজন সিং গল্প করিতেছে। জ্যোৎস্না ক্রমেই ফুটিতেছে-বন-জঙ্গল, বালুচর, ক্রমশ স্পষ্টতর হইতেছে। বহুদূৱ পৰ্য্যন্ত নীচু জঙ্গলের শীর্ষদেশ একটানা সরল রেখায় চলিয়া গিয়াছে, যত দূর দৃষ্টি যায় ধুধু প্ৰান্তর একদিকে, অন্য দিকে জঙ্গল। বা দিকে দূরে অনুচ্চ শৈলমালা। নির্জন, নীরব, মানুষের বসতি কুত্ৰাপি নাই, সাড়া নাই, শব্দ নাই, যেন অন্য কোন অজানা গ্রহের মধ্যে নির্জন বন-পথে দুটি মাত্র প্রাণী অমর | এক জায়গায় সুজন সিং ঘোড়া হঠাৎ থামাইল । ব্যাপার কি ? পাশের জঙ্গল হইতে একটি ধাড়ী বন্যাশূকর একদল ছানাপােনা লইয়া আমাদের পথ পার হইয়া বঁ। দিকের জঙ্গলে ঢুকিতেছে। সুজন সিং বলিল-তবুও ভাল হুজুর, ভেবেছিলাম বুনো মহিষ । মোহনপুরা জঙ্গলের কাছে আসিয়া পড়িয়াছি, বুনো মহিষের ভয় এখানে খুব । সেদিনও একজন লোক মারিয়াছে মহিষে । আরও কিছুদূর গিয়া জ্যোৎস্নায় দূর হইতে কালোমত সত্যই কি-একটা 61 6?ध ! সুজন বলিল-ঘোড়া ভয় পাবে হুজুর, ঘোড়া রুখুন । শেষে দেখা গেল সেটা নড়েও না চড়েও না! একটু একটু করিয়া কাছে গিয়া দেখা গেল, সেটা একটা কাশের খুপাড়ী। আবার ঘোড়া ছুটাইয়া দিলাম । মাঠ-ঘাট, ৰন, ধূ-ধূ জ্যোৎস্না-ভরা বিশ্ব-কি একটা সঙ্গীহারা পাখী আকাশের গায়ে কি বনের মধ্যে কোথায় ডাকিতেছে টি-টি-টি-টি-ঘোড়ার খুরে বড় বালি উঠিতেছে, ঘোড়া এক মুহূৰ্ত্ত থামাইবার উপায় নাই-উড়াও, উড়াও অনেকক্ষণ একভাবে বসিয়া পিঠ টন টন করিতেছে, জিনের বসিবার zDB BDBDD DDD DDBS BDD BDBSDBBDD BDLB Dgui DB BBLDS আমার ঘোড়াটা আবার বডড ভয় পায়, এজন্য সতর্কতার সঙ্গে সামনের পথে অনেক দূৱ পৰ্য্যন্ত নজর রাখিয়া চলিয়াছি- হঠাৎ থমকিয়া ঘোড়া দাড়াইয়া DDD BB DBBBD D E DDD SR अन्निश्वरक কাশের মাথায় বুট বঁাধিয়া জঙ্গলে পথ ঠিক করিয়া রাখিয়াছে, রাস্তা বলিয়া কিছু নাই, এই কাশের ঝুটি দেখিয়া এই গভীর জঙ্গলে পথ ঠিক করিয়া লইতে হয়। একবার সুজন সিং বলিল-হুজুর। এ-পথটা যেন নয়, পথ ভুলেছি আমরা। আমি সপ্তর্ষিমণ্ডল দেখিয়া ধ্রুবতারা ঠিক করিলাম-পূর্ণিয়া আমাদের মহাল হইতে খাড়া উত্তর, তবে ঠিকই আছি, সুজনকে বুঝাইয়া বলিলাম। সুজন বলিল-না। হুজুর, কুশীনদীর খেয়া পেরুতে হবে যে, খেয়া পার হয়ে তবে সোজা উত্তর যেতে হবে। এখন উত্তর-পূব কোণ কেটে বেরুতে হবে। অবশেষে পথ মিলিল । জ্যোৎস্না আরও ফুটিয়াছে--সোঁ কি জ্যোৎসু ! কি রূপ রাত্রির ! নির্জন বালুর চরে, দীর্ঘ বনঝাউয়ের জঙ্গলের পাশের পথে জ্যোৎস্না যাহার কখনও দেখে নাই, তাহারা বুঝিবে না। এ জ্যোৎস্নার কি চেহারা !! এমন উন্মুক্ত আকাশ-তলে-ছায়াহীন, উদাস গভীর জ্যোৎস্নাভিরা রাত্রিতে, বনপাহাড়প্রান্তরের পথের জ্যোৎস্না, বালুচরের জ্যোৎস্না-ক'জন দেখিয়াছে ? উঃ সে কি ছুটি ! পাশাপাশি চলিতে চলিতে দুই ঘোড়াই হঁপাইতেছে, শীতেও ঘাম দেখা দিয়াছে আমাদের গায়ে । এক জায়গায় বনের মধ্যে একটা শিমুলগাছের তলায় আমরা ঘোড়া থামাইয়া একটু বিশ্রাম করি, সামান্য মিনিট-দশোক । একটা ছোট নদী বহিয়া গিয়া অদূরে কুশীনদীর সঙ্গে মিশিয়াছে, শিমুল গাছটাতে ফুল ফুটিয়াছে, বনটা সেখানে চারি ধার হইতে আসিয়া আমাদের এমন ঘিরিয়াছে যে, পথের চিহ্নমাত্র নাই, অথচ খাটো খাটো গাছপালার বন-শিমুল গাছটাই সেখানে খুব উচু, বনের মধ্যে মাথা তুলিয়া দাড়াইয়া আছে। দু’জনেরই জল-পিপাসা পাইয়াছে দারুণ । জ্যোৎস্না মান হইয়া আসে। অন্ধকার বনপথ, পশ্চিম দিগন্তের দূর শৈলমালার পিছনে শেযরাত্রির চন্দ্ৰ ঢলিয়া পড়িয়াছে । ছায়া দীর্ঘ হইয়া আসিল, পাৰী-পাখালির শব্দ নাই কোন দিকে, শুধু ছায়া, ছায়া, অন্ধকার মাঠ, অন্ধকার বন । শেষ রাত্রির বাতাস বেশ ঠাণ্ড হইয়া উঠিল । ঘড়িতে রাত প্ৰায় চারটিা । আরণ্যক SS9 ভয় হয়, শেষ-রাত্রের অন্ধকারে বুনো হাতীর দল সামনে না-আসে। মধুবনীর জঙ্গলে এক পাল বুনো হাতীও আছে। এবার আশে-পাশে ছোট ছোট পাহাড়, তার মধ্য দিয়া পথ, পাহাড়ের মাথায় নিম্পত্ৰ শুভ্রকাণ্ড গোলগোলি ফুলের গাছ, কোথাও রক্ত-পলাশের বন । শেষরাত্রের চাদ-ডোবা অন্ধকারে বন-পাহাড় অদ্ভুত দেখায়। পূর্ব দিকে ফসৰ্প হইয়া আসিল-ভোরের হাওয়া বহিতেছে, পাখীর ডাক কানো গেল। ঘোড়ার সর্বাঙ্গ দিয়া দর-দর-ধারে ঘাম ছুটিতেছে, ছুটু, ছুটু, খুব ভাল ঘোড়া তাই এই পথে সমানে এত ছুটিতে পারে। সন্ধ্যায় কাছারি ছাড়িয়াছি-আর ভোৱ হইয়া গেল। সম্মুখে এখনও যেন পথের শেষ নাই, সেই একঘেয়ে বন, পাহাড় । সামনের পাহাড়ের পিছন থেকে টকটকে লাল সিঁদুরের গোলার মত সুৰ্য্য উঠিতেছে। পথের ধারে এক গ্রামে ঘোড়া থামাইয়া কিছু দুধ কিনিয়া দু’জনে খাইলাম। পরে আরও ঘণ্টা-দুই চলিয়াই পূর্ণিয়া শহর । পুণিয়ায় স্টেটের কাজ ত শেষ করিলাম, সে যেন নিতান্ত অন্যমনস্কতার সহিত, মন পডিয়া রহিল পথের দিকে। আমার সঙ্গীর ইচ্ছা, কাজ শেষ করিয়াই বাহিয় হইয়া পড়ে- আমি তাহাকে বাধা দিলাম, জ্যোৎস্না-রাত্রে এতটা পথ অশ্বারোহণে যাইবার বিচিত্র সৌন্দৰ্য্যের পুনরাস্বাদনের লোভে। গেলামও তাই। পরদিন চাদ একটু দেরিতে উঠিলেও ভোরা পৰ্যন্ত জ্যোৎস্না KLD DKBDS DDD D DDD DYYLB SDBOBD BDLDBDD BBBLDDDB YYSLYLD বনে-পাহাড়ে যেন এক শান্ত, স্মিথ, অথচ এক আশ্চৰ্য্যরূপে অপরিচিত স্বল্পজগতের রচনা করিয়াছে - সেই খাটো খাটো কাশ-জঙ্গল, সেই পাহাড়ের সানুদেশে পীতবর্ণ গোলগোলি ফুল, সেই উচু-নীচু পথ - সব মিলিয়া যেন কোন বহুদূরের নক্ষত্ৰলোক-মৃত্যুর পরে অজানা কোন অদৃশ্য লোকে অশৰীৱী হইয়া উড়িয়া চলিয়াছি-ভগবান বুদ্ধের সেই নিৰ্বাণ লোকে, যেখানে চন্দ্রের উদয় হয় না, অথচ অন্ধকারও নাই । অনেক দিন পরে যখন এই মুক্ত জীবন ত্যাগ করিয়া সংসারে প্রবেশ করি, ክም SS 8 আরণ্যক তখন কলিকাতা শহরের ক্ষুদ্র গলির বাসাবাড়ীতে বসিয়া স্ত্রীর সেলাইয়ের কল চালনার শব্দ শুনিতে শুনিতে অবসর-দিনের দুপুরে কতবার এই রাত্রির কথা, এই অপূর্ব আনন্দের কথা, এই জ্যোৎস্নামাখা রহস্যময় বনশ্ৰীর কথা, শেষ রাত্রের চাঁদডোবা অন্ধকারে পাহাড়ের উপর শুভ্রকাণ্ড গোলগোলি গাছের কথা, শুকনো কাশ-জঙ্গলের সোদা সোদা তাজা গন্ধের কথা ভাবিয়াছি- কতবার কল্পনায় আবার ঘোড়ায় চড়িয়া জ্যোৎস্মারাত্রে পূর্ণিয়া গিয়াছি। SR চৈত্রমাসের মাঝামাঝি একদিন খবর পাইলাম সীতাপুর গ্রামে রাখালবাবু নামে একজন বাঙালী ডাক্তার ছিলেন, তিনি কাল রাতে হঠাৎ মারা গিয়াছেন । ইহার নাম পূর্বে কখনও শুনি নাই। তিনি যে ওখানে ছিলেন, তাহা জানিতাম না। শুনিলাম আজ বিশ-বাইশ বৎসর তিনি সেখানে ছিলেন। ও-অঞ্চলে তঁহার পসার ছিল, ঘর-বাড়ীও নাকি করিয়াছিলেন। ঐ গ্রামেই । তাহার স্ত্রী-পুত্র সেখানেই থাকে। এই অবাঙালীর দেশে একজন বাঙালী ভদ্রলোক মারা গিয়াছেন। হঠাৎ, তঁহার স্ত্রী-পুত্রের কি দশা হইতেছে, কে তাদের দেখাশুনা করিতেছে, তঁহার সৎকার বা শ্ৰাদ্ধশাস্তির কি ব্যবস্থা হইতেছে, এসব জানিবার জন্য মন অত্যন্ত চঞ্চল হইয়া উঠিল। ভাবিলাম আমার প্রথম কীৰ্ত্তব্য হইতেছে সেখানে গিয়া সেই শোকসািন্তপ্ত পরিবারের খোজ-খবর লওয়া । খবর লইয়া জানিলাম গ্রামটি এখান হইতে মাইল-কুড়ি দূরে, কড়ারী খাসমহালের সীমানায়। বৈকালের দিকে সেখানে গিয়া পৌছিলাম। লোকজনকে জিজ্ঞাসা করিয়া রাখালবাবুর বাড়ী খুজিয়া বাহির করিলাম। দু-খানা বড় বড় খোলার ঘর, খান-তিনেক ছোট ছোট ঘর ; বাহিরে এ-দেশের ধারণে একখানা DBBD DBBS BBL BDD DDDB D BDDB D SS DEDDDB BDDD DBB ttBBB छांब्रjक 8 እ¢ কোনও উপায় নাই, বসিবার ঘরে দড়ির চারপাই হইতে উঠানের হনুমান ধ্বজাটি পৰ্য্যন্ত সব এদেশী । আমার ডাকে একটি বার-তের বছরের ছেলে বাহির হইয়া আসিল । আমায় দেখিয়া ঠোঁটু হিন্দীতে জিজ্ঞাসা করিল-কাকে খুঁজছেন ? YDDBB BDBDD tBtBB BB DDD D DDSGDB DmDD DBBD S D EBD টিকি, গলায় অবশ্য বৰ্ত্তমানে কাচ-সবই বুঝিলাম, কিন্তু মুখের ভাব পৰ্য্যন্ত হিন্দুস্থানী বালকের মত কি করিয়া হয় ? আমার পরিচয় দিয়া বলিলাম।---তোমাদের বাড়ীতে এখন বড় লোক কে আছেন, তঁাকে ডাক । ছেলেটি বলিল, সে-ই বড় ছেলে। তার আর দুটি ছোট ভাই আছে। বাড়ীতে আর কোন অভিভাবক নাই। বলিলাম-তোমার মায়ের সঙ্গে আমি একবার কথা কইতে চাই । জিজ্ঞেস क'rद्ध औ । খানিকটা পরে ছেলেটি আসিয়া আমায় বাড়ীর মধ্যে লইয়া গেল। য়াখাল বাবুর স্ত্রীকে দেখিয়া মনে হইল বয়স অল্প, ত্ৰিশের মধ্যে, সন্য বিধবার বেশ, কঁাদিয়া চক্ষু ফুলিয়াছে। ঘরের আসবাবপত্র নিতান্তু দরিদ্রের গৃহস্থালীর মত। এক দিকে একটা ছোট গোলা, ঘরের দাওয়ায় খান-দুই চারপাই, ছেড়া লেপ-কঁথা, এদেশী পিতলের ঘয়লা, একটা গুড়গুড়ি, পুরানো টিনের তোরঙ্গ। বলিলাম-আমি বাঙালী, আপনার প্রতিবেশী। আমার কানে গেল রাখালবাবুর কথা, তাই এলাম। আমার এখানে একটা কৰ্ত্তব্য আছে ব’লে মনে করি। আমার কোন সাহায্য যদি দরকার হয়, নিঃসঙ্কোচে বলুন। রাখালবাবুর স্ত্রী কপাটের আড়ালে দাড়াইয়া নিঃশব্দে কঁদিতে লাগিলেন। আমি বুঝাইয়া শান্ত করিয়া পুনরায় আমার আসিবার উদ্দেশ্য ব্যক্ত করিলাম। রাখালবাবুর স্ত্রী এবার আমার সামনে বাহির হইলেন । কঁদিতে কঁাদিতে বলিলেন-আপনি আমার দাদায় মত, আমাদের এই ঘোর বিপদের সময় ভগবান আপনাকে পাঠিয়েছেন। SS ट्रांद्रभंगादक ক্ৰমে কথায় কথায় জানা গেল, এই বাঙালী পরিবার সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও অসহায় এই ঘোর বিদেশে। রাখালবাবু গত এক বৎসরের উপর শয্যাগত ছিলেন । তার চিকিৎসা ও সংসার-খরচে সঞ্চিত অর্থ সব নিঃশেষ হইয়া গিয়াছে -“এখন এমন উপায় নাই যে তঁর শ্রাদ্ধের যোগাড় হয়। জিজ্ঞাসা করিলাম-আচ্ছা রাখালবাবু ত অনেকদিন ধরে এ অঞ্চলে আছেন, কিছু করতে পারেন নি ? রাখালবাবুৱ স্ত্রীর সঙ্কোচ ও লজ্জা অনেকটা দূর হইয়াছিল। তিনি যেন এই প্রবাসে, এই দুর্দিনে একজন বাঙালীর মুখ দেখিয়া অকুলে কুল পাইয়াছেন, মুখের ভাবে মনে হইল । বলিলেন- আগে কি রোজগার করতেন জানি নে । আমার বিয়ে হয়েছে ৯ এই পনের বহুর-আমার সতীন মারা যেতে আমায় বিয়ে করেন । আমি এষে পৰ্য্যন্ত দেখছি কোন রকমে সংসার চলে। এখানে ভিজিটের টাকা বড় একটা কেউ দেয় না, গম দেয়, মকাই দেয় । গত বছর মাঘ মাসে উনি অসুখে পড়লেন, সেই থেকে আর একটি পয়সা ছিল না । তবে এদেশের লোক খারাপ নয়, যার কাছে যা পাওনা ছিল, বাড়ী বয়ে সে-সব গম মকাই কলাই দিয়ে গিয়েছে। छांछे 5cलcछ, नम्र ऊ मi cथप्ध भद्रड न दांई । --আপনার বাপের বাড়ী কোথায় ? সেখানে খবর দেওয়া হয়েছে ? রাখালবাবুর স্ত্রী কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া বলিলেন-খবর দেবার কিছু নেই। আমার বাপের বাড়ী কখনও দেখি নি। শুনেছিলুম, ছিল মুর্শিদাবাদ জেলায় । ছেলেবেলা থেকে আমি সাহেবগঞ্জো ভগ্নীপতির বাড়ীতে মানুষ । মাবাবা কেউ ছিলেন না। আমার সে-দিদি আমার বিয়ের পর মারা যান । ভগ্নীপতি আবার বিয়ে করেছেন। তঁর সঙ্গে আর আমার সম্পর্ক কি ? --রাখালবাবুর কোন আত্মীয়স্বজন কোথাও নেই ? MJBLB DBDD DBBDBD BDBDD BBuDBD BBSDD BDBD EDDODB BDB BDD Sgg BEE DDDD BBDB DS SDBBDB DB SBDBLLD DBBS ख्याब्रेक SS DLDB DDBB LELDSuSEL KD SS gD DDEELE DD BDBB BBDDS কাশীতে। তা-ও তার ঠিকানা জানিনে । ভয়ানক অসহায় অবস্থা। আপনার জন্য কেহ নাই, এই বন্ধুহীন বিদেশে দুই-তিনটি নাবালক ছেলে লইয়া সহায়সম্পদশূন্য বিধবা মহিলাটির দশা ভাবিয়া মন রীতিমত দমিয়া গেল। তখনকার মত যাহা করা উচিত করিয়া আমি কাছারিতে ফিরিয়া আসিলাম, সদরে লিখিয়া স্টেটু হইতে আপাতত এক শত টাকা সাহায্যের ব্যবস্থা করিয়া রাখালবাবুর শ্ৰাদ্ধও কোন রকমে শেষ করিয়া দিলাম ।

  • ইহার পর আরও বার কয়েক রাখালবাবুর বাড়ী গিয়াছি। স্টেটু হইতে মাসে দশটি টাকা সাহায্য মঞ্জুর করাইয়া লইয়া প্রথম বারের টাকাটা নিজেই দিতে গিয়াছিলাম। দিদি খুব যত্ন করিতেন, অনেক স্নেহ-আত্মীয়তায় কথা বলিতেন । সেই বিদেশে তার স্নেহ-যত্ন আমার বড় ভাল লাগিত । তারই লোভে অবসর পাইলেই সেখানে যাইতাম ।

w DBDDBBDD DuDuDuB BD BDB BDDB BDDB DB DuDBL S D BBDB BEDB এদেশে বলে কুণ্ডী । এই হ্রদটার নাম সরস্বতী কুণ্ডী । সরস্বতী কুণ্ডীর পারের তিন দিকে নিবিড় বন । এ ধরণের বন আমাদের মহালে বা লবটুলিয়াতে নাই। এ বনে বড় বড় বনস্পতিদের নিবিড় সমাবেশজলের সান্নিধ্য-বশতই হোক বা যো-জন্যই হোক, বনের তলদেশে নানা বিচিত্র লতাপাতা, বন্যপুষ্পের ভিড়। এই বন বিশাল সরস্বতী কুণ্ডীর নীল জলকে তিনদিকে অৰ্দ্ধচন্দ্ৰাকারে ঘিরিয়া রাখিয়াছে, একদিকে ফঁাকা - সেখান হইতে পূর্বদিকের বহুদূর-প্রসারিত নীল আকাশ ও দুরের শৈলমাল চোখে পড়ে। সুতরাং পূর্ব-পশ্চিম কোণের তীরের কোন-এক জায়গায় বসিয়া দক্ষিণ ও বাম দিকে চাহিয়া দেখিলে সরস্বতী কুঞ্জীর সৌন্দৰ্য্যের অপূর্বতা ঠিক বোঝা যায়। বামে চাহিলে গভীর হইতে গভীরতর বনের মধ্যে দৃষ্টি চলিয়া গিয়া ঘন নিবিড় Syb আরণ্যক শু্যামলতার মধ্যে নিজেকে নিজে হারাইয়া ফেলে, দক্ষিণে চাহিলে স্বচ্চ, নীল জলের ওপারে সুদূরবিসর্পী আকাশ ও অস্পষ্ট শৈলমালার ছবি মনকে বেলুনের মত ফুলাইয়া পৃথিবীর মাটি হইতে উড়াইয়া লইয়া চলে। এখানে একখানা শিলাখণ্ডের উপর কত দিন গিয়া একা বসিয়া থাকিস্তাম । কখনও বনের মধ্যে দুপুরবেলা আপন মনে বেড়াইতাম । কত বড় বড় গাছের ছায়ায় বসিয়া পাখীর কুজন শুনিতাম। মাঝে মাঝে গাছপালা, বন্যলতার ফুল BESLODS DBDDS ED DD BBBDBD BBt BDBBDB ELD DDDSDDBD মহালে অত পাখী নাই। নানা রকমের বন্য ফল থাইতে পায় বলিয়া এবং সম্ভবত উচ্চ বনস্পতি শিরে বাসা বাধিবার সুযোগ ঘটে বলিয়া সরস্বতী কুণ্ডীর তীরের বনে পাখীর সংখ্যা অত্যন্ত বেশী। বনে ফুলও অনেক রকমের ফোটে । হ্রদের তীরের নিবিড় বন প্ৰায় তিন মাইলের উপর লম্বা, গভীরতায় প্ৰায় DDBD DDD S SBDBBDBBD DD BB BBB BBB DBtBBBDB BDDK DBDDDD DiD সুড়ি পথ বনের শুরু হইতে শেষ পৰ্য্যস্ত আসিয়াছে-এই পথ ধরিয়া বেড়াইতাম । গাছপালার ফাকে ফঁাকে মাঝে মাঝে সরস্বতীর নীল জল, তার উপর উপুড়হইয়া-পড়া দূরের আকাশটা এবং দিগন্তলীন শৈলশ্রেণী চোখে পড়িত। ঝিাবুঝির করিয়া স্নিগ্ধ হাওয়া বহিত, পাখী গান গাহিত, বন্য ফুলের সুগন্ধ পাওয়া যাইত । একদিন একটা গাছের ডালে উঠিয়া বসিলাম। সে আনন্দের তুলনা হয় না। আমার মাথার উপরে বিশাল বনস্পতিদলের ঘন সবুজ পাতার রাশি, তার ফাকে ফঁাকে নীল আকাশের টুকরা, প্ৰকাণ্ড একটা লতায় থোকা থোকা ফুল দুলিতেছে। পায়ের দিকে অনেক নীচে ভিজা মাটিতে বড় বড় ব্যাঙের ছাতা গজাইয়াছে। এখানে আসিয়া বসিয়া শুধু ভাবিতে ইচ্ছা হয়। কত ধরণের কত নব অনুভূতি মনে আসিয়া জোটে। এক প্রকার অতল-সমাহিত অতি-মানস চেতনা ধীরে ধীরে গভীর অন্তস্তল হইতে বাহিরের মনে ফুটিয়া উঠিতে থাকে। এ আসে গভীর আনন্দের মূৰ্ত্তি ধরিয়া। প্রত্যেক বৃক্ষলতার হৃৎস্পন্দন যেন নিজের বুকের রক্তের শান্ত স্পন্দনের মধ্যে অনুভব করা যায়। আরণ্যক SYG আমাদের যেখানে মহাল, সেখানে পাখীর এত বৈচিত্র্য নাই । সেখানটা যেন অন্য জগৎ, তার গাছপালা, জীবজন্তু অন্য ধরণের। পরিচিত জগতে বসন্ত যখন দেখা দিয়াছে, লিবটুলিয়ায় তখন একটা কোকিলের ডাক নাই, একটা পরিচিত বসন্তের ফুল নাই। সে যেন রূক্ষ, কৰ্কশ ভৈরবী মূৰ্ত্তি ; সৌম্য, সুন্দর বটে, কিন্তু মাধুৰ্য্যহীন-মনকে অভিভূত করে ইহার বিশালতায়, রুক্ষতায় । কোমল-বিজিত থাড়ব সুর মালকোষ কিংবা চৌতালের ধ্রুপদ, মিষ্টত্বের কোন পর্দার ধার মাড়াইয়া চলে না-হরের গভীর উদাত্তরূপে মনকে অন্য এক স্তরে লইয়া পৌছাইয়া দেয়। − সরস্বতী কুণ্ডী সেখানে ঠুংরী, সুমিষ্ট সুরের মধুর ও কোমল বিলাসিতা মনকে আর্দ্র ও স্বপ্নময় করিয়া তোলে। স্তন্ধ দুপুরে ফাগুন চৈত্র মাসে এখানে আঁীর-তরুর ছায়ায় বসিয়া পাখীর কুজন শুনিতে শুনিতে মন কত দূরে কোথায় চলিয়া যাইত, বন্য নিমগাছের সুগন্ধি নিমফুলের সুবাস ছড়াইত বাতাসে, জলে জলজ লিলির দল ফুটিত । কতক্ষণ বসিয়া থাকিয়া সন্ধ্যার পর সেখান হইতে উঠিয়া আসিতাম। নাঢ়া বাইহার জরীপ হইতেছে প্ৰজাদের মধ্যে বিলির জন্য, আমীনদের কাজ দেখিবার জন্য প্রায়ই সেখানে যাইতে হয়। ফিরিবার পথে মাইল দুই পূব-দক্ষিণ দিকে একটু ঘুরিয়া ব্যাক্ট, শুধু সরস্বতী কুণ্ডীর এই বনভূমিতে ঢুকিয়া বনের ছায়ায় খানিকটা বেড়াইবার লোভে। সেদিন ফিরিতেছিলাম বেলা তিনটার সময়। খর রৌদ্রে বিস্তীর্ণ রৌদ্রদখে প্ৰান্তর পার হইয়া ঘৰ্ম্মাক্ত কলেবরে বনের মধ্যে ঢুকিয়া ঘন ছায়ায় ছায়ায় জলের ধায় পৰ্য্যস্ত গোলাম-প্ৰান্তরসীমা হইতে জলের কিনারা প্ৰায় দেড় মাইলের কম। DDDSBBDBBDDBDD DDD iDDD BBSBBKYDD DBB BDS tB tDD ঝোপের তলায় একখানা অয়েলক্লথ পাতিয়া একেবারে শুইয়া পড়িলাম। ঘন ঝোপের ডালপালা চারি ধার হইতে এমন ভাবে আমায় ঢাকিয়াছে যে বাহির হইতে আমায় কেউ দেখিতে পাইবে না । হাত-দুই উপরেই গাছপালা, মোটা R8 कांद्मद মোটা কাঠের মত শক্ত গুড়িওয়ালা কি এক প্রকার বন্যলতা জড়া জড়ি করিয়া ছাদ রচনা করিয়াছে’-একটা কি গাছ হইতে হাতখানেক লম্বা বড় বড় বনসিমের মত সবুজ সবুজ ফল আমার প্রায় বুকের উপর দুলিতেছে । আর একটা কি গাছ, তায় ডালপালা প্ৰায় অৰ্দ্ধেক ঝোপটা জুড়িয়া, তাহাতে কুচে কুচো ফুল ধরিয়াছে, ফুলগুলি এত ছোট যে কাছে না গেলে চোখে পড়ে না-কিন্তু কি ঘন, নিবিড়, জব্বাস সে-ফুলের ! ঝোপের নিভৃত তল ভারাক্রান্ত সেই অজানা বনপুষ্পের দুবাসে । পূর্বেই বসিয়াছি সরস্বতী কুণ্ডীর বন পাখীর আডিডা। এত পাখীও আছে LLLLDDDD DDDDS BD BBBBS BDBDB DBDDSBBDBDB BBSYTSuDSDBBS DB বনটিয়া, ফেজান্ট-ক্রো, চড়াই, ছাতারে, ঘুঘু, হরিয়াল। উচু গাছের মাথায় বাজবৌরী, চিল, কুল্লো,-সরস্বতীর নীল জলে বক, সিল্পী, রাঙা হাস, মাণিকপাখী, কাক প্রভৃতি জলচর পাখী-পাখীর কাকলীতে মুখর হইয়া উঠিয়াছে ঝোপের উপরটা, কি বিরক্তই করে তারা, তাদের উল্লাস-ভরা অবাক কুজনে কান পাতা দায়। অনেক সময় মানুষকে গ্ৰাহাঁই করে না, আমি শুইয়া আছি দেখিতেছে, আমার চারি পাশে হাত-দেড়-দুই দূরে তারা ঝুলন্ত ডালপালায় লতায় বসিয়া কিচ কিচ করিতেছে-আমার প্রতি ভ্ৰক্ষেপও নাই। পাখীদের এই অসঙ্কোচ সঞ্চারণ আমার বড় ভাল লাগিত । উঠিয়া বসিয়াও দেখিয়াছি তাহারা ভয় করে না, একটু হয়ত উড়িয়া গেল, কিন্তু একেবারে দেশ ছাড়া হইয়া পালায় না । খানিক পরে নাচিতে নাচিতে বকিতে বকিতে BDDDB BDY BDB BD KDS এখানেই এদিন প্ৰথম বন্য হরিণ দেখিলাম । জানিতাম বন্য হরিণ আমাদের মহালের জঙ্গলে আছে, কিন্তু এর আগে কখন চোখে পড়ে নাই। শুইয়া আছিহঠাৎ কিসের পায়ের শব্দে উঠিয়া বসিয়া মাথার শিয়রের দিকে চাহিয়া দেখি ঝোপের নিভৃততর, দুৰ্গমতার অঞ্চলে নিবিড় লতাপাতায় জড়াজড়ির মধ্যে আসিয়া দাড়াইয়াছে একটা হরিণ। ভাল করিয়া চাহিয়া দেখি বড় হরিণ নয়, হরিণ-শাবক। সে আমায় দেখিতে পাইয়া অবোধ-বিস্ময়ে বড় বড় চোখে আমার দিকে চাহিয়া আছে-ভাবিতেছে, এ আবার কোন অস্তৃত জীব! খানিকক্ষণ কাটিয়া গেল, দুজনেই নিৰ্বাক, নিম্পন্দ । আধ মিনিট পরে হরিণ-শিশুটা যেন ভাল করিয়া দেখিবার জন্য আবার একটু আগাইয়া আসিল। তার চোখে ঠিক যেন মনুষ্য-শিশুর মত সাগ্ৰহ কৌতুহলের দৃষ্টি। আরও কাছে আদিত কি না জানি না, আমার ঘোড়াটা সে-সময় হঠাৎ Y DDD KBS DB BuuuD DBBSLig BDBD DLD LBuuBYS S DBDBBD DLLLDBB মধ্য দিয়া দৌড়াইয়া তাহার মায়ের কাছে সংবাদটা দিতে গেল। { তারপর কতক্ষণ ঝোপের তলায় বসিয়া রহিলাম । গাছপালার ফাকে ফঁাকে চােখে পড়ে সরস্বতী কুণ্ডীর নীল জল অৰ্দ্ধচন্দ্রাকারে দূর শৈলমালার পাদদেশ পৰ্য্যন্ত প্রসারিত, আকাশ নীল, মেঘের লেশ নাই কোন দিকে-কুণ্ডীর জলচর পাখীর দল ঝগড়া, কলরব, তুমুল দাঙ্গা শুরু করিয়াছে-একটা গম্ভীর ও প্ৰবীণ মাণিক-পাখী তীরবত্তী এক উচ্চ বনস্পতির শীর্ষে বসিয়া থাকিয়া থাকিয়া তাহার বিরক্তি জ্ঞাপন করিতেছে । জলের ধারে ধারে বড় বড় গাছের মাথায় বকের SRR छांद्मशृंक দল এমন ঝাক বাধিয়া বসিয়া আছে, দূর হইতে মনে হয় যেন সাদা সাদা থোকা থোকা ফুল ফুটিয়াছে। 62ान कभभ ग्रांgा इश् उधानिन । ওপারে শৈলচুড়ায় যেন তামার রং ধরিয়াছে। বকের দল ডানা মেলিয়া উড়িতে আরম্ভ করিল। গাছপালার মগডালে রোদ উঠিয়া গেল। পাখীর কৃজন বাড়িল আর বাড়িল অজানা বনকুসুমের সেই মুদ্ৰাণটা। অপরাহের ছায়ায় গন্ধটা যেন আরও ঘন, আরও সুমিষ্ট হইয়া উঠিয়াছে। একটা বেঁজি থানিকদূর হইতে মাথা উচু করিয়া আমার দিকে একদৃষ্টি চাহিয়া দেখিতেছে। কি নিভৃত শান্তি! কি অদ্ভুত নির্জনতা ! এতিক্ষণ ত এখানে আছি, সাড়ে তিন ঘণ্টার কম নয়-বন্য পক্ষীর কাকলী ছাড়া অন্য কোন শব্দ শুনি নাই। আর পাখীদের পায়ে পায়ে ডালপাতার মচ মচানি, শুষ্কপত্র বা লতার টুকরা পতনের KDDS DBB D uDD DBDuD BBB S নানা বিচিত্র ও বিভিন্ন গড়ন বনস্পতিদের শীর্ষদেশের । এই সন্ধ্যার সময় রাঙা রোদ পড়িয়া তাদের শোভা হইয়াছে অদ্ভূত। তাদের কত গাছের মগডাল জড়াইয়া লতা উঠিয়াছে ; এক ধরণের লতাকে এদেশে বলে ভিয়োর লতা -আমি তাহার নাম দিয়াছি ভোমরা লতা-সে লতা যে গাছের মাথায় উঠিবে, আষ্টেপুষ্ঠে জড়াইয়া ধরিয়া থাকে। এই সময় ভোমরা লতায় ফুল ফুটে --ছোট ছোট বনজুইয়ের মত সাদা সাদা ফুলে কত বড় বড় গাছের মাথা আলো করিয়া রাখিয়াছে। অতি চমৎকার সুস্ৰাণ, অনেকটা যেন প্ৰস্ফুটিত সৰ্যে ফুলের মত-তবে অতটা উগ্র নয়। সরস্বতী কুণ্ডীর বনে কত বন্য শিউলি গাছ-শিউলি গাছের প্রাচুৰ্য্য এক এক জায়গায় এত বেশী, যেন মনে হয় শিউলির বন। বড় বড় শিলাখণ্ডের উপর শারতের প্রথমে সকালবেলা রাশি রাশি শিউলি ফুল ঝরিয়া পড়িয়াছিল--দীর্ঘ এক রকম কর্কশ ঘাস সেই সব পাথরের আশে-পাশে-বড় বড় ময়নাকাটার গাছ তার সঙ্গে জড়াইয়াছে-কঁটা, ঘাস, শিলাখণ্ড সব তাতেই রাশি রাশি আরণ্যক SSе শিউলি ফুল-আর্দ্র, ছায়াগহন স্থান, তাই সকালের ফুল এখনও শুকাইয়া যায় নাই ! সরস্বতী হ্রদকে কত রূপেই দেখিলাম ! লোকে বলে সরস্বতী কুণ্ডীর জঙ্গলে বাঘ আছে, জ্যোৎস্না-রাত্রে সরস্বতীর বিস্তৃত জলরাশির কৌমুদীক্ষাত শোভা দেখিবার লোভে রাসপূর্ণিমার দিন তহশীলদার বনোয়ারীলালের চোখে ধূলা দিয়া আজমাবাদের সদর কাছারি আসিবার ছুতায় লবটুলিয়া ডিহি কাছারি হইতে লুকাইয়া একা ঘোড়ায় এখানে আসিয়াছি। বাঘ দেখি নাই বটে, কিন্তু সেদিন আমার সত্যই মনে হইয়াছিল। এখানে মায়াবিনী বনদেবীর গভীর রাত্রে জ্যোৎস্বাক্ষাত হ্রদের জলে জলকেলি করিতে নামে। চারি ধার নীরব নিস্তািন্ধ-পূর্ব তীরের ঘন বনে কেবল শৃগালের ডাক শোনা যাইতেছিল--দূরের শৈলমালা ও বনশীৰ্ষ অস্পষ্ট দেখাইতেছে-জ্যোৎস্নায় হিম বাতাসে গাছপালা ও ভোমরা লতার নৈশপুষ্পের মৃদু সুবাস • আমার সামনে বন ও পাহাড় বেষ্টিত নিস্তরঙ্গ বিস্তীর্ণ হ্রদের বুকে হৈমন্ত্ৰী পূর্ণিমার থৈ থৈ জ্যোৎস্না-পরিপূর্ণ, ছায়াহীন জলের উপর-পড়া, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বীচিমালায় প্ৰতিফলিত হ এয়া অপার্থিব দেবলোকের জ্যোৎ মা ! ভোমরা লতার সাদা ফুলেছাওয়া বড় বড় বনস্পতিশীর্ষে জ্যোৎস্না পড়িয়া মনে হইতেছে গাছে গাছে পরীদের শুভ্ৰ বস্তু উড়িতেছে। • • আর এক ধরণের পোকা একঘেয়ে ডাকিতেছিল-ঝিাঝি পোকার মতই ॥৮ দু-একটা পত্র পতনের শব্দ বা খসি খসি করিয়া শুষ্ক পত্ররাশির উপর দিয়া বন্ধ स्टुट्र °ठ्यांन६ *• • • বনদেবীর আমরা থাকিতে তো আর আসে না ! কত গভীর রাত্রে অ কে জানে । আমি বেশী রাত পৰ্য্যন্ত হিম সহ্যু করিতে পারি নাই । ঘণ্টাখানেক থাকিয়াই ফিরি। সরস্বতী কুণ্ডীর এই পৰীদের প্রবাদ এখানেই শুনিয়াছিলাম। শ্রাবণ মাসে একদিন আমাকে উত্তর সীমানায় জরীপের ক্যাম্পে রাত্রি যাপন SS8 আরণ্যক করিতে হয়। আমার সঙ্গে ছিল আমীন রঘুবীর প্রসাদ। সে আগে গবৰ্ণমেণ্টের চাকুরী করিয়াছে, মোহনপুরা রিজার্ভ ফরেস্ট ও এ-অঞ্চলের বনের সঙ্গে তার পাঁচিশ-ত্রিশ বছরের পরিচয় । তাহার কাছে সরস্বতী কুণ্ডীর কথা তুলিতেই সে বলিল-হুজুর, ও মায়ার কুণ্ডী, ওখানে রাত্রে হুরী-পরীরা নামে ; জ্যোৎস্না-রাত্রে তারা কাপড় খুলে রাখে। ভাঙায় ঐ সব পাথরের ওপর, রেখে জলে নামে । সে-সময় যে তাদের দেখতে পায়, তাকে ভুলিয়ে জলে নামিয়ে ডুবিয়ে মারে। জ্যোৎস্নার মধ্যে দেখা যায় মাঝে মাঝে পত্নীদের মুখ জলের উপরে পদ্মফুলের মত জেগে আছে। আমি দেখি নি কখনও, হেড সার্ভেয়ার ফতে সিং একদিন দেখেছিলেন । একদিন তারপর তিনি গভীর রাত্রে একা ওই হ্রদের ধারে বনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন সাৰ্ভেতাবুতে-পত্নদিন সকালে তঁর লাস কুণ্ডীর জলে ভাসতে দেখা যায়। বড় মাছে তঁার একটা কান খেয়ে ফেলেছিল, হুজুর ওখানে আপনি ও-রকম যাবেন না। এই সরস্বতী কুণ্ডীর ধারে একদিন দুপুরে এক অদ্ভুত লোকের সন্ধান পাইলাম। সার্ডে-ক্যাম্প হইতে ফিরিবার পথে একদিন হ্রদের তীরের বনপথ দিয়া আস্তে আন্তে আসিতেছি, বনের মধ্যে দেখি একটি লোক মাটুিথুড়িয়া কি যেন করিতেছে। প্ৰথমে ভাবিলাম লোকটা ভুই-কুমড়া তুলিতে আসিয়াছে, ভুইকুমড়া লতাজাতীয় উদ্ভিদ, মাটির মধ্যে লতার নীচে চালকুমড়ার আকারের প্রকাণ্ড কািলদ জন্মায়0D DBD DBDLD D DDSS BBBBt ggBB BDBYD DBSBB EBD DD হয়। কৌতুহল বশত ঘোড়া হইতে নামিয়া কাছে গেলাম, দেখি ভুইকুমড়া নয়, কিছু নয়, লোকটা কিসের যেন বীজ পুতিয়া দিতেছে। আমায় দেখিয়া সে থাত মত খাইয়া অপ্ৰতিভ দৃষ্টিতে আমার দিকে চাহিল। বয়স হইয়াছে, মাথায় কঁাচা-পাকা চুল। সঙ্গে একটা চটের থলে, তার ভিতর হইতে ছোট একখানা কোদালের আগাটুকু দেখা যাইতেছে, একটা শাবল পাশে SBDDSDB BDD DYD D BDBzYY DBDD LDS বলিলাম।--তুমি কে ? এখানে কি করছি ? আরণ্যক Y S6t সে বলিল, হুজুর কি ম্যানেজার বাবু? -হঁ্যা। তুমি কে ? --নমস্কার। আমার নাম যুগলপ্রসাদ। আমি আপনাদের লবটুলিয়ার পাটোয়ারী বনোয়ারীলালের চাচাতো ভাই । তখন আমার মনে পড়িল, বনোয়ারী পাটোয়ারী একবার কথায় কথায় তাহার চাচাতো ভাইয়ের কথা তুলিয়াছিল। উঠাইবার কারণ, আজমাবাদের সদর কাছারিতে-অৰ্থাৎ আমি যেখানে থাকি-সেখানে একজন মুহুরীর পদ খালি ছিল। বলিয়াছিলাম একটা ভাল লোক দেখিয়া দিতে। বনোয়াৱী দুঃখ করিয়া বলিয়াছিল, লোক ত তাহার সাক্ষাৎ চাচাতো ভাইই ছিল, কিন্তু লোকটা অদ্ভুত মেজাজের, এক রকম খামখেয়ালী উদাসীন ধরণের। নইলে কায়ের্থী হিন্দীতে অমন হস্তাক্ষর, অমন পড়ালেখার এলেম, এ-অঞ্চলের বেশী লোকের নাই । জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম, কেন, সে কি করে ? বনোয়ারী বলিয়াছিল-তার নানা বাতিক হুজুর, এখানে ওখানে ঘুরে বেড়ানো এক বাতিক । কিছু করে না, বিয়ে-সাদি করেছে, সংসার দেখে না, বনে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়, অথচ সাধু-সন্নিসিও নয়, ঐ এক ধরণের মানুষ। এই তাহা হইলে বনোয়ারীলালের সেই চাচাতো ভাই । কৌতুহল বাড়িল, বলিলাম-ও কি পুতছ ওখানে ? লোকটা বোধ হয় গোপনে কাজটা করিতেছিল, যেন ধরা পড়িয়া লজিত ও অপ্ৰতিভ হইয়া গিয়াছে এমনসুরে বলিল-কিছু না, এই--একটা গাছের বীজআমি আশ্চৰ্য্য হইলাম। কি গাছের বীজ ? ওর নিজের জমি নয়, এই ঘোর জঙ্গল, ইহার মাটিতে কি গাছের বীজ ছড়াইতেছে-তাহার। সার্থকতাই বা কি ? কথাটা তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম। বলিল-অনেক রকম বীজ আছে হুজুর, পুপিয়ায় দেখেছিলাম। একটা সাহেবের বাগানে ভারি চমৎকার বিলিতি লতা-বেশ রাঙা রাঙা ফুল! তারই বীজ, আরও অনেক রকম বনের ফুলের বীজ আছে, দূর দূর থেকে সংগ্ৰহ করে এনেছি, আরণ্যক 9 ܠ এখানকার জঙ্গলে ও-সব লতা-ফুল নেই। তাই পুতে দিচ্ছি, গাছ হয়ে দু-বছরের মধ্যে ঝাড বেঁধে যাবে, বেশ দেখাবে। লোকটার উদ্দেশ্য বুঝিয়। তাঙ্গার উপর আমার শ্রদ্ধা হইল । লোকটা সম্পূর্ণ বিনা-স্বার্থে একটা বিস্তৃত বন্যভূমির সৌন্দৰ্য্য বৃদ্ধি করিবার জন্য নিজের পয়সা ও সময় ব্যয় করিতেছে, যে বনে তাহার নিজের ভূস্বত্ব কিছুই নাই-কি অদ্ভুত লোকটা ! যুগল প্ৰসাদকে ডাকিয়া এক গাছের তলায় দুজনে বসিলাম। সে বলিলআমি এর আগেও এ কাজ করেছি। হুজুর, লবটুলিয়াতে যত বনের ফুল দেখেন, ফুলের লতা দেখেন, ও সব আমি আজ দশ-বারো বছর আগে কতক পূৰ্ণিয়ার বন থেকে, কতক দক্ষিণ ভাগলপুরের লছমীপুর স্টেটের পাহাড়ী জঙ্গল থেকে এনে লাগিয়েছিলাম। এখন একেবারে ও-সব ফুলের জঙ্গল বেঁধে গিয়েছে। --তোমার কি এ কাজ খুব ভাল লাগে ? -লবটুলিয়া বইহারের জঙ্গলটিা ভারি চমৎকার জায়গা-ওই সব ছোটখাটো পাহাড়ের গায়ে কি এখানকার বনে-ঝোপে নতুন নতুন ফুল ফোটাব। এ আমার বহুদিনের সখ । --কি ফুল নিয়ে আসতে ? --কি ক’রে আমার এদিকে মন গেল, তা একটু আগে হুজুরকে বলি। আমার বাড়ী ধরমপুর অঞ্চলে। আমাদের দেশে বুনো ভাণ্ডীর ফুল একেবারেই ছিল না। আমি মহিষ চরিয়ে বেড়াতাম ছেলেবেলায় কুশীনদীর ধারে ধারে, আমার গ থেকে দশ-পনেরো কোশ দূরে। সেখানে দেখতাম বনে-জঙ্গলে, মাঠে বুনো ভাণ্ডীর ফুলের বড় শোভা । সেখান থেকে বীজ নিয়ে গিয়ে দেশে লাগাই, এখন আমাদের অঞ্চলের পথের ধারে বনকোপে কি লোকের বাড়ীর পেছনে পোড়ো জমিতে ভাণ্ডীর ফুলের একেবারে জঙ্গল । সেই থেকে আমার এই দিকে মাথা গেল। যেখানে যে ফুল নেই, সেখানে সেই ফুল, গাছ, লতা নিয়ে পুতব, এই আমার সখ। সারাজীবন ওই ক’রে ঘুরেছি। এখন আমি ও-কাজে ঘুণ হয়ে গেছি। আরণ্যক SS' যুগলপ্রসাদ দেখিলাম। এদেশের বহু বনের ফুল ও সুদৃশ্য বৃক্ষলতার খবর রাখে । এ বিষয়ে সে যে একজন বিশেবজ্ঞ, তাহাতে আমার কোন সন্দেহ রহিল না। বলিলাম-তুমি এরিস্টলোকিয়া লতা চেন ? তাঙ্গাকে ফুলের গড়ন বলিতেই সে বলিল, হংস-লতা ? হাসের-মত-চেহারা ফুল হয় তো ? ও তো এ দেশের গাছ নয়। পাটনায় দেখেছি বাবুদের বাগানে। তাহার জ্ঞান দেখিয়া আশ্চৰ্য্য হইতে হয়। নিছক সৌন্দর্ঘ্যের এমন পূজারীই বা ক’টা দেখিয়াছি ? বনে বনে ভাল ফুল ও লতার বীজ ছড়াইয়া তাহার কোন স্বাৰ্থ নাই, এক পয়সা আয় নাই, নিজে সে নিতান্তই গরিব, অথচ শুধু বনের সৌন্দৰ্য্য-সম্পদ বাড়াইবার চেষ্টায় তার এ অক্লান্ত পরিশ্রম ও উদ্বেগ । আমায় বলিল-সরস্বতী কুণ্ডীর মত চমৎকার বন এ অঞ্চলে কোথাও নেই বাবুজী । কত গাছপালা যে আছে, আর কি দেখেছেন জলের শোভা! আচ্ছা, আপনি কি বিবেচনা করেন এতে পদ্ম হবে পুতে দিলে ? ধরমপুরের পাড়াগ। অঞ্চলে পদ্ম আছে অনেক পুকুরে। ভাবছিলাম গােঁড় এনে পুতে দেব। আমি তাহাকে সাহায্য করিতে মনে মনে সঙ্কল্প করিলাম । দুজন মিলিয়া এ বনকে নানা নতুন বনের ফুলে, লতায়, গাছে সাজাইব, সেদিন হইতে ইহা আমাকে যেন একটা নেশার মত পাইয়া বসিল । , যুগল প্ৰসাদ খাইতে পায় না, ংসারে বড় কষ্ট, ইহা আমি জানিতাম। সদরে লিখিয়া তাহাকে দশ টাকা বেতনে একটা মুহু বীর চাকুলী দিলাম আজমাবাদ কাছারিতে। সেই বছরে আমি কলিকাতা হইতে সাটনের বিদেশী বন্য পুষ্পের বীজ আনিয়া ও ডুয়াসের পাহাড় হইতে বন্য জুইয়ের লতার কাটিং আনিয়া যথেষ্ট পরিমাণে রোপণ করিলাম সরস্বতী হ্রদের বনভূমিতে । কি আহলাদ ও উৎসাহ যুগলপ্ৰসাদেৱ ! আমি তাহাকে শিখাইয়া দিলাম। এ উৎসাহ ও আনন্দ যেন সে কাছারির লোকের কাছে প্ৰকাশ না করে । তাহাকে তো লোকে পাগল ভাবিবেই, সেই সঙ্গে আমাকেও বাদ দিবে না । পার বৎসর বর্ষার জলে আমাদের রোপিত গাছ ও লতার ঝাড়অদ্ভুতভাবে বাড়িয়া উঠিতে লাগিল। হ্রদের তীরের জমি অত্যন্ত S Qbr छांद्भ*jक উর্বর, গাছপালাগুলিও যাহা পুতিয়াছিলাম, এদেশের আবহাওয়ার উপযোগী । কেবল সাটনের বীজের প্যাকেট লইয়া গোলমাল বাধিয়াছিল। প্ৰত্যেক প্যাকেটের উপর তাহারা ফুলের নাম ও কোন কোন স্থলে এক লাইনে ফুলেব সংক্ষিপ্ত বৰ্ণনাও দিয়াছিল। ভাল রং ও চেহারা বাছিয়া বাছিয়া যে বীজগুলি লাগাইলাম, তাহার মধ্যে ‘হোয়াইট বিম’, ও 'রেড ক্যাম্পিয়ন এবং ‘ষ্টিচওয়ার্ট” অসাধারণ উন্নতি দেখাইলা। “ফক্সগ্নাভা’ ও ‘উড অ্যানিমোন মন্দ হইল না। কিন্তু অনেক চেষ্টা করিয়াও “ডগ রোজ” বা ‘হনিসকল”-এর চারা বঁাচাইতে পারা গেল না। হলদে ধুতুরা জাতীয় এক প্রকার গাছ হ্রদের ধারে ধারে পুতিয়াছিলাম। খুব শীঘ্রই তাহার ফুল ফুটিল। যুগুলপ্রসাদ পুণিয়ার জঙ্গল হইতে বন্য বয়ড়া লতার বীজ আনিয়াছিল, চারা বাহির হইবার সাত মাসের মধ্যেই দেখি কাছাকাছি অনেক ঝোপের মাথা বয়ড়া লতায় ছাইয়া যাইতেছে। বয়ড়া লতার ফুল যেমনি সুদৃশ্য, তেমনি তাহার মৃদু সুবাস । হেমন্তের প্রথমে একদিন দেখিলাম বয়ড়া লতায় অজস্ৰ কুঁড়ি ধরিয়াছে। যুগলপ্ৰসাদকে খবরটা দিতেই সে কলম ফেলিয়া আজমাবাদ কাছারি হইতে সাত মাইল দূৰ্ববৰ্ত্তী সরস্বতী হ্রদের তীরে প্রায় দৌড়িতে দৌড়িতেই আসিল । আমায় বলিল-লোকে বলেছিল হুজুর, বয়ড়া লতা জন্মাবে, বাড়বেও বটে, কিন্তু ওর ফুল ধরবে না। সব লতায় নাকি ফুল ধরে না। দেখুন কেমন কুঁড়ি এসেছে ! হ্রদের জলে “ওয়াটার ক্রোফটি” বলিয়া এক প্রকার জলজ ফুলের গোঁড় পুতিয়াছিলাম। সে গাছ হু হু করিয়া এত বাড়িতে লাগিল যে, যুগলপ্ৰসাদের ভয় হইল জলে পদ্মের স্থান বুঝি ইহার বেদখল করিয়া ফেলে। বোগেনভিলিয়া লতা লাগাইবার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু শহরের সৌখীন পার্ক বা উদ্যানের সঙ্গে এতই ওর সম্পর্কটা জড়ানো যে আমার ভয় হইল সরস্বতী কুণ্ডীর বনে ফুলে-ভরা বোগেনভিলিয়ার ঝোপ ইহার বন্ত আকৃতি নষ্ট করিয়া ফেলিবে । যুগালপ্ৰসাদেরও এসব বিষয়ে মত আমার ধরণের। সেও বারণ করিল।  অর্থব্যয়ও কম করি নাই। একদিন গননারী তেওয়ারীর মুখে শুনিলাম, কারো নদীর ওপারে জয়ন্তী পাহাড়ের জঙ্গলে এক প্রকার অদ্ভুত ধরণের বন্যপুষ্প হয়— দেশে তার নাম দুধিয়া ফুল। হলুদ গাছের মত পাতা, অত বড়ই গাছ—খুব কম্বা একটা ডাটা ঠেলিয়া উচুদিকে তিন চার হাত ওঠে। একটা গাছে চারপাঁচটা ভাটা হয়, প্রত্যেক ডাটায় চারটি করিয়া হলদে রঙের ফুল ধরে দেখিতে খুব ভাল তো বটেই, ভারি সুন্দর তার সুবাস। রাত্রে অনেক দূর পর্যন্ত সুগন্ধ ছড়ায়। সে ফুলের একটা গাছ যেখানে একবার জন্মায় দেখিতে দেখিতে এত হু-হু বংশবৃদ্ধি হয় যে, দু-তিন বছরে রীতিমত জঙ্গল বাধিয়া যায়।

 শুনিয়া পর্যন্ত আমার মনের শান্তি নষ্ট হইল। ঐ ফুল আনিতেই হইবে। গননারী বলিল, বর্ষাকাল ভিম হইবে না, গাছের গেঁড় আনিয়া পুতিতে হয়জল না পাইলে মরিয়া যাইবে।

 পয়সা-কড়ি দিয়া যুগল প্রসাদকে পাঠাইলাম। সে বহু অনুসন্ধানে জয়ন্তী পাহাড়ের দুর্গম জঙ্গল হইতে দশ-বারো গণ্ডা গেঁড় যোগাড় করিয়া আনিল।