আরণ্যক/একাদশ পরিচ্ছেদ

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন


একাদশ পরিচ্ছেদ

এবার আমার একটি বিচিদ্র অভিজ্ঞতা হইল।

 মোহনপুরা রিজার্ভ ফরেস্টের দক্ষিণে মাইল পনের কুড়ি দূরে একটা বিস্তৃত শাল ও বিড়ির পাতার জঙ্গল সেবার কালেক্টরীর নীলামে ডাক হইবে খবর পাওয়া গেল। আমাদের হেড আপিসে তাড়াতাড়ি একটা খবর নিতে, তারঘোগে আদেশ পাইলাম, বিড়ির পাতার ফুল যেন আমি ডাকিয়া লই। $¢bፃ কিন্তু তাহার পূর্বে জঙ্গলটা একবার আমার নিজের চোখে দেখা আবশ্যক। DD BBDD DSDDuD u D uBD DBBBDBD S BB sKJ BDS gD নীলামের দিনও নিকটবৰ্ত্তী, “তার’ পাওয়ার পরদিনই সকালে রওনা হইলাম। আমার সঙ্গের লোকজন খুব ভোরে বাক্স বিছানা ও জিনিসপত্র মাথায় রওনা হইয়াছিল, মোহনপুরা ফরেস্টের সীমানায় কারো নদী পার হইবার সময়ে DKDBBBB BDDBuB BB DDS DBDD D BDLLDDB LB DBBDDSS কারো ক্ষীণকায়া পৰ্বত্য স্রোতস্বিনী-ইটুখানেক জল বিরবির করিয়া উপলরাশির মধ্য দিয়া প্ৰবাহিত । আমরা দু-জনে ঘোড়া হইতে নামিলাম, নয়ত পিছল পাথরের মুডিতে ঘোড়া পা হাড়কাইয়া পড়িয়া যাইতে পারে। দু-পায়ে কটা বালির চড়া। সেখানেও ঘোড়ায় চাপা যায় না, হাঁটু পৰ্য্যন্ত বালিতে এমনিই ডুবিয়া যায়। অপর পারের কড়ারী জমিতে যখন পৌছিলাম, তখন বেলা এগারটা । বনোয়ারী পাটোয়ারী বলিল- এখানে রান্নাবাল্লি ক’রে নিলে হয়। হুজুর, এর পরে জল পাওয়া যায় কি না ঠিক নেই। নদীর দু-পারেই জনহীন আরণ্যভূমি, তবে বড় জঙ্গল নয়, ছোট-খাট কেঁদ পলাশ ও শালের জঙ্গল-খুব ঘন ও প্ৰস্তুরাকীর্ণ, লোকজনের চিহ্ন কোন দিকে নাই । আহারাদির কাজ খুব সংক্ষেপে সারিলেও সেখান হইতে রওনা হইতে ७क यांख्ध्रि cशल । বেলা যখন যায়-যায়, তখনও জঙ্গলের কুলকিনারা নাই, আমার মনে হইল আর বেশী দূর অগ্রসর না হইয়া একটা বড় গাছের তলায় আশ্ৰয় লওয়া ভাল । অবশ্য বনের মধ্যে ইহার পূৰ্ব্বে দুইটি বন্য গ্রাম ছাড়াইয়া আসিয়াছি-একটার নাম কুলপাল, একটার নাম বুরুড়ি, কিন্তু সে প্রায় বেলা তিনটার সময়। তখন যদি জানা থাকিত যে, সন্ধ্যার সময়ও জঙ্গল শেষ হইবে না, তাহা হইলে সেখানেই BD BDB DBDD DDD DDDDLS বিশেষ করিয়া সন্ধ্যার পূর্বে জঙ্গল বড় ঘন হইয়া আসিল। আগে ছিল ফ্রাকা er छद्भिश् জঙ্গল, এখন যেন ক্ৰমেই চারিদিক হইতে বড় বড় বনস্পতির দল ভিড় করিয়া সরু। ঘড়ি পথটা চাপিয়া ধরিতেছে-এখন যেখানে দাড়াইয়া আছি, সেখানটাতে তো চারিদিকেই বড় বড় গাছ, আকাশ দেখা যায় না, নৈশ অন্ধকার ইতিমধ্যেই ঘনাইয়া আসিয়াছে। এক এক জায়গায় ফাকা জঙ্গলের দিকে বনের কি অনুপম শোভা ! কি এক ধরণের থোকা থোকা সাদা ফুল সারা বনের মাথা আলো করিয়া ফুটিয়া আছে ছায়াগহন অপরাহ্রের নীল আকাশের তলে । মানুষের চোখের আড়ালে সভ্য জগতের সীমা হইতে বহু দূরে এত সৌন্দৰ্য্য কার জন্য যে সাজানো! বনোয়ারী বলিল-ও বুনো তেউড়ির ফুল, এই সময় জঙ্গলে ফোটে, হুজুর। এক রকমের ङं । যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই গাছের মাথা, ঝোপের মাথা, ঈষৎ নীলাভ শুভ্ৰ বুনো তেউড়ির ফুল ফুটিয়া আলো করিয়া রহিয়াছো-ঠিক যেন রাশি রাশি পেজা নীলাভ কাপাস তুলা কে ছড়াইয়া রাখিয়াছে বনের গাছের মাথায় সৰ্ব্বত্র । BB DD DDD DDD YDBDDK BBB DDDuBYYSqD BB DBDLD শোভা এমনই অদ্ভুত যে, সেদিকে চাহিয়া যেন একটা ছন্নছাড়া মনের ভাব হইয়া যায়-যেন মনে হয়, কত দূরে কোথায় আছি, সভ্য জগৎ হইতে বহু দূরে এক জনহীন, অজ্ঞাত জগতের উদাস, অপরূপ বন্য সৌন্দৰ্য্যের মধ্যে-যে-জগতের সঙ্গে মানুষের কোনও সম্পর্ক নাই, প্রবেশের অধিকার ও নাই, শুধু বন্য জীবজন্তু, বৃক্ষলতার জগৎ । বোধ হয় আরও দেরি হইয়া গিয়াছিল আমার এই বার বার জঙ্গলের দৃশ্য হা করিয়া থমকিয়া দাড়াইয়া দেখিবার ফলে। বেচারী বনোয়ারী পাটোয়ারী আমার তাবে কাজ করে, সে জোর করিয়া আমায় কিছু বলিতে না পারিলেও মনে মনে নিশ্চয়ই ভাবিতেছে-এ বাঙালী বাবুটির মাথার নিশ্চয় দোষ আছে। tLBD D BtDBB BDBB BD BDB uD BBD DDDD DDB BDSSYD তলায় সবাই মিলিয়া আশ্ৰয় লওয়া গেল । আমরা আছি সবসুদ্ধ আট-দশজন অরণ্যক yes লোক । বনোয়াপ্পী বলিল-বড় একটা আগুন করে, আর সবাই কাছাকাছি ঘেঁলে থাকে । ছডিয়ে থেকে না, নানা রকম বিপদ এ জঙ্গলে রাত্ৰিকালে । গাছের নীচে ক্যাম্প-চেয়ার পাতিয়া বসিয়াছি, মাথার উপর অনেক দূর পর্য্যন্ত ফাকা আকাশ, এখনও অন্ধকার নামে নাই, দূরে নিকটে জঙ্গলের মাথায় বুনো তেউড়ির সাদা ফুল ফুটিয়া আছে রাশি রাশি, অজস্ৰ ! আমার ক্যাম্প-চেয়ারের পাশেই দীর্ঘ দীর্ঘ ঘাস আধ-শুকনো সোনালী রঙের। রোদ-পোড়া মাটির সোদ গন্ধ, শুকনো ঘাসের গন্ধ, কি একটা বন-ফুলের গন্ধ যেন দুর্গ-প্ৰতিমার রাঙতার ডাকের সাজের গন্ধের মত । মনের মধ্যে এই উন্মুক্ত, বন্য জীবন আনিয়া দিয়াছে একটা মুক্তি ও আনন্দের অনুভূতি-যাহা কোথাও কখনও আসে না। এই রকম বিরাট নির্জন প্ৰান্তর ও জনহীন অঞ্চল ছাড়া । অভিজ্ঞতা না থাকিলে বুলিয়া বোঝানো বড়ই কঠিন সে মুক্ত-জীবনের উল্লাস। এমন সময় আমাদের এক কুলি আসিয়া পাটোয়ারীর কাছে বলিল, একটু দূরে জঙ্গলের শুষ্ক ডালপালা কুড়াইতে গিয়া সে একটা কি জিনিস দেখিয়াছে। জায়গাটা ভাল নয়, ভূত বা পরীর আড়া, এখানে না। তঁাবু ফেলিলেই হইত। পাটোয়ুরী বলিল-চলুন হুজুর, দেখে আসি কি জিনিসটা । কিছুদূৰ্ব জঙ্গলের মধ্যে একটা জায়গা দেখাইয়া কুলিটা বলিল-ঐখানে নিকটে গিয়ে দেখুন হুজুর। আর কাছে যাব না। বনের মধ্যে কঁাটা-লতা ঝোপ হইতে মাথা-উঁচু স্তম্ভের মাথায় একটা বিকট মুখ খোদাই-করা ; সন্ধ্যাবেলা দেখিলে ভয় পাইবার কথা বটে। DBBBDB BDDBDBDD BDBD tggBDBD DO DBDSDB S BDuuuDu YYBDBD DBB এ স্তম্ভ কোথা হইতে আসিল বুঝিতে পারিলাম না। জিনিসটা কত দিনের প্ৰাচীন তাহাও বুঝিতে পারিলাম না। DBSDDB DDBt 00YSS BBDBBD BB t uD B BDDD KBDD স্থানে পৌছিয়া গেলাম । সেখানে পৌছিয়া জঙ্গলের বর্তমান মালিকের জনৈক কৰ্ম্মচাৰীয় সঙ্গে দেখা 3 ዓ መ ख्याझ*]क হইল। সে আমায় জঙ্গল দেখাইয়া বেড়াইতেছে- হঠাৎ জঙ্গলের মধ্যে একটা শুষ্ক নালার ওপারে ঘন বনের মধ্যে দেখি একটা প্ৰস্তরস্তম্ভের শীর্ষ জাগিয়া আছে--ঠিক কাল সন্ধ্যাবেলার সেই স্তম্ভটার মত। সেই রকমের বিকট মুখ খোদাই করা । আমার সঙ্গে বনোয়ারী পাটোয়ারী ছিল, তাহাকেও দেখাইলাম। মালিকের কৰ্ম্মচারী স্থানীয় লোক, সে বলিল-ও আরও তিন-চারটা আছে। এ-অঞ্চলে জঙ্গলের মধ্যে মধ্যে। এ দেশে আগে অসভ্য বুনো জাতির রাজ্য ছিল, ও DDLDDBB DDD DBS gLEL uD BBBD DEESS বলিলাম-খাম্বা কি ক’রে জানলে ? সে বলিল-চিরকাল শুনে আসছি। বাবুজী, তা ছাড়া সেই রাজার বংশধর ७५& 6न । বড় কৌতুহল হইল। -८काथाम्न ? লোকটা আঙুল দিয়া দেখাইয়া বলিল-এই জঙ্গলের উত্তর সীমানায় একটা ছোট বস্তি আছে- সেখানে থাকেন । এ-অঞ্চলে তঁর বড় খাতির । আমরা শুনেছি উত্তরে হিমালয় পাহাড়, আর দক্ষিণে ছোটনাগপুরের সীমানা, পূর্বে কুশী নদী, পশ্চিমে মুঙ্গের-এই সীমানার মধ্যে সমস্ত পাহাড়-জঙ্গলের রাজা ছিল ওঁর পূর্বপুরুষ। মনে পড়িল, পূর্বেও আমার কাছারিতে একবার গনোৱী তেওয়ারী স্কুলমাস্টার গল্প করিয়াছিল বটে যে, এ-অঞ্চলের আদিম-জাতীয় রাজা তাদের বংশধর। এখনও আছে। এ-দিকের যত পাহাড়ী জাতি-তাহাকে এখনও রাজা বলিয়া মানে । এখন সে কথা মনে পড়িল । জঙ্গলের মালিকের সেই কৰ্ম্মচারীর নাম বুদ্ধ, সিং, বেশ বুদ্ধিমান, এখানে অনেক কাল চাকুরী করিতেছে, এই সব বন-পাহাড় অঞ্চলের অনেক ইতিহাস সে জানে দেখিলাম। বুদ্ধ, সিং বলিল-মুঘল বাদশাহের আমলে এরা মুঘলসৈন্যদের সঙ্গে লড়েছে আরণ্যক SS এই জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে তারা যখন বাংলা দেশে যেত-এর উপদ্রব করত তীরধনুক নিয়ে। শেষে রাজমহলে যখন মুঘল সুবাদারেরা থাকতেন, তখন এদের রাজ্য যায়। ভাবী বীরের বংশ এরা, এখন আর কিছু নেই। যা কিছু বাকী ছিল, ১৮৬২ সালের সাওতাল-বিদ্রোহের পরে সব যায়। সাওতাল বিদ্রোহের নেতা এখনও বেঁচে আছেন। তিনি বৰ্ত্তমান রাজা। নাম দোবারু পান্না বীরবর্দী । খুব বৃদ্ধ আর খুব গরিব । কিন্তু এ দেশের সকল আদিম জাতি এখনও তাকে রাজার সম্মান দেয় । রাজ্য না থাকলেও রাজা বলেই মানে । রাজার সঙ্গে দেখা করিবার বড়ই ইচ্ছা হইল । রাজসন্দর্শনে যাইতে হইলে কিছু নজর লইয়া যাওয়া উচিত। যার যা প্ৰাপ্য সম্মান, তাকে তা না-দিলে কৰ্ত্তব্যের হানি ঘটে । কিছু ফলমূল, গোটা দুই বড় মুরগী-বেলা একটার মধ্যে নিকটবৰ্ত্তী বন্তি হইতে কিনিয়া আনিলাম। এ-দিকের কাজ শেষ করিয়া বেলা দুইটার পরে বুদ্ধ, সিংকে বলিলাম-চল, রাজার সঙ্গে দেখা ক’রে আসি । বুদ্ধ, সিং তেমন উৎসাহ দেখাইল না। বলিল-আপনি সেখানে কি যাবেন ? আপনাদের সঙ্গে দেখা করবার উপযুক্ত নয়। পাহাড়ী অসভ্য জাতের রাজা, তাই ব’লে কি আর আপনাদের সমান সমান কথা বলবার যোগ্য, বাবুজী ? সে তেমন কিছু নয় । তাহার কথা না শুনিয়াই আমি ও বনোয়াৰীলাল রাজধানীয় দিকে গেলাম । তাহাকেও সঙ্গে লইলাম । রাজধানীট খুব ছোট, কুড়ি-পাঁচিশ ঘর লোকের বাস। ছোট ছোট মাটির ঘর, খাপরার চাল-বেশি পরিষ্কার করিয়া লেপাপোছা । দেওয়ালের গায়ে মাটির সাপ, পদ্ম, লতা প্ৰভৃতি গড়া। ছোট ছোট ছেলেরা খেলা করিয়া বেড়াইতেছে, স্ত্রীলোকেরা গৃহকৰ্ম্ম করিতেছে। কিশোরী ও যুবতী। মেয়েদের সুঠাম গড়ন ও নিটোল স্বাস্থ্য, মুখে কেমন সুন্দর একটা লাবণ্য প্ৰত্যেকেরই সকলেই আমাদের দিকে অবাক হই য়। চাহিয়া রহিল। Sዓ§ আরণ্যক বুদ্ধ, সিং একজন স্ত্রীলোককে বলিল-রাজা ছে রে ? স্ত্রীলোকটি বলিল, সে দেখে নাই । তবে কোথায় আর যাইবে, বাষ্ঠীতেই victoi ! R আমরা গ্রামে যেখানে আসিয়া দাডাইলাম, বুদ্ধ, সিং-এর ভাবে মনে হইল। এইবার রাজপ্রাসাদের সম্মুখে নীত হইয়াছি। অন্য ঘরগুলির সঙ্গে রাজপ্রাসাদের পার্থক্য এই মাত্ৰ লক্ষ্য করিলাম যে, ইহার চারি পাশ পাথরের পাচিলে ঘেরাবপ্তির পিছনেই অনুচ্চ পাহাড়, সেখান হইতেই পাথর আনা হইয়াছে। রাজবাড়ীতে ছেলেমেয়ে অনেকগুলি-কতকগুলি খুব ছোট । তাদের গলায় পুতির সুশ্ৰী। ষোল-সতের বছরের একটি মেয়ে বুদ্ধ, সিং-এর ডাকে ছুটিয়া বাহিরে আসিয়াই আমাদের দেখিয়া অবাক হইয়া গেল, তাহার চোখেয় চাহনি দেখিয়া মনে হইল। কিছু ভয়ও পাইয়াছে। বুদ্ধ, সিং বলিল-রাজা কোথায় ? আরণ্যক s মেয়েটি কে ?-বুদ্ধ, সিংকে জিজ্ঞাসা করিলাম। বুদ্ধ, সিং বলিল-রাজার मांडि: cभtद्ध । রাজা বহুদিন জীবিত থাকিয়া নিশ্চয়ই বহু যুবক ও প্রৌঢ়কে রাজসিংহাসনে বসিবার সৌভাগ্য হইতে বঞ্চিত করিয়া রাখিয়াছেন। মেয়েটি বলিল-আমার সঙ্গে এস। জ্যাঠা-মশায় পাহাড়ের নীচে পাথরে 'cग्न अçछ्न । মানি বা নাই মানি, মনে মনে ভাবিলাম যে-মেয়েটি আমাদের পথ দেখাইয়া লইয়া চলিয়াছে, সে সত্যই রাজকন্যা-তাহার পূর্বপুরুষেরা এই অরণ্য-ভূভাগ বহুদিন ধরিয়া শাসন করিয়াছিল-সেই বংশের সে মেয়ে । বলিলাম-মেয়েটির নাম জিজ্ঞেস কর । বুদ্ধ, সিং বলিল-ওর নাম ভানমতী । বাঃ বেশ সুন্দর-ভানুমতী ! রাজকন্যা ভানুমতী { ভানুমতী নিটোল স্বাস্থ্যাবতী, সুঠাম মেয়ে। লাবণ্যমাখা মুখশ্ৰী-তিৰে পয়নেঞ্চ কাপড় সভ্যসমাজের শোভনতা রক্ষা করিবার উপযুক্ত প্ৰমাণ মাপের নয় । মাথার চুল রূক্ষ, গলায় কড়ি ও পুতির দানা। দূর হইতে একটা বড় বিকাইল গাছ দেখাইয়া দিয়া ভানুমতী বলিল-তোমরা যাও, জ্যাঠামশায় ওই গাছতলায় 夺”可邻夺瓦颈f夜研拟 গরু চরাইতেছেন কি রকম ! প্ৰায় চমকিয়া উঠিয়াছিলাম বোধ হয়। এই DDs gDBBB BDD DDDtBBBDLD DBD BBDB KE DD Y চরাইতেছেন ! কিছু জিজ্ঞাসা করিবার পূর্বেই মেয়েটি চলিয়া গেল এবং আমরা আর কিছু অগ্রসর হইয়া। বষ্কাইন গাছের তলায় এক বৃদ্ধিকে কঁচা শালপাতায় তোমাক জড়াইয়া ধূমপানরত দেখিলাম। বুদ্ধ, সিং বলিল-সেলাম, রাজাসাহেৰ । S8 আরণ্যক রাজা দেবব্রু পান্না কানে শুনিতে পাইলেও চোখে খুব ভাল দেখিতে পান। বলিয়া মনে হইল না । বলিল-কে ? বুদ্ধ, সিং ? সঙ্গে কে ? বুদ্ধ বলিল—একজন বাঙালী বাৰু, আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। উনি কিছু নজর এনেছেন-আপনাকে নিতে হবে। আমি নিজে গিয়া বৃদ্ধের সামনে মুরগী ও জিনিস কয়টি নামাইয়া রাখিলাম। বলিলাম-আপনি দেশের রাজা, আপনার সঙ্গে দেখা করবার জন্যে বহুং দূর থেকে এসেছি । বৃদ্ধের দীর্ঘায়ত চেহারার দিকে চাহিয়া আমার মনে হইল যৌবনে রাজা দোবারু পান্না খুব সুপুরুষ ছিলেন সন্দেহ নাই। মুখশ্ৰীতে বুদ্ধির ছাপ সুস্পষ্ট। বৃদ্ধ খুব খুশী হইলেন। আমার দিকে ভাল করিয়া চাহিয়া দেখিয়া বলিলেন८कit घद्र ? ৰলিলাম-কলকাতা । --উঃ অনেক দূর। বড় ভারী জায়গা শুনেছি কলকাতা । --আপনি কখনও যান নি ? --না, আমরা কি শহরে যেতে পারি ? এই জঙ্গলেই আমরা থাকি ভাল । ८बांदनां । डान्मऊँी cकांक्षांश coल, ७ डान्सडी ? মেয়েটি ছুটিতে ছুটতে আসিয়া বলিল-কি জ্যাঠামশায় ? ASLsD BLg DBBSDL DBBD BDDD BDYYY DBDBS DDE DgLED BDBBB

  • 3 थ8भ}-\eध कgयम !

আমি প্ৰতিবাদ করিয়া বলিলাম-না, না সে কি ! আমরা এখুনি চলে ঘাব, আপনার সঙ্গে দেখা ক’রেই কেঙ্গ আমাদের থাকার বিষয়ে কিন্তু দেবব্রু পান্না বলিলেন-না, তা হতে পারে না। ভানুমতী, এই জিনিসগুলো নিয়ে যা এখান থেকে । আমার ইন্দিতে বনোয়ারীলাল পাটোয়ারী নিজে জিনিসগুলি বহিয়া অদূরবত্ত, আরণ্যক እዓ¢ জার বাড়ীতে লইয়া গেল ভানুমতীর পিছু * পছু। বৃদ্ধের কথা অমান্ত করিতে *ারিলাম না, বুদ্ধের দিকে চাহিয়াই আমার সন্ত্রমে মন পূর্ণ হইয়া গিয়াছিল। সাঁওতাল-বিদ্রোহের নেতা, প্রাচীন অভিজাতবংশীয় বীর দেবেঙ্ক পান্না ( হ'লই * বা বন্য আদিম জাতি) আমাকে থাকিতে অনুরোধ করিতেছেন-এ অনুরোধ *আদেশেরই সামিল । রাজা দোবারু পান্না অত্যন্ত দরিদ্র, দেখিয়াই বুঝিয়াছিলাম। তাহাকে গরু চরাইতে দেখিয়া প্ৰথমটা আশ্চৰ্য্য হইয়াছিলাম বটে, কিন্তু পরে মনে ভাবিয়া দেখিলাম ভারতবর্ষের ইতিহাসে রাজা দোবারু পান্নার অপেক্ষা অনেক বড় রাজা অবস্থাবৈ গুণ্যে গোচারণ অপেক্ষাও হীনতর বৃত্তি অবলম্বন করিয়াছিলেন। রাজা নিজের হাতে শালপাতার একটা চুরুট গড়িয়া আমার হাতে দিলেন। -দশলাই নাই-গাছের তলায় আগুন করাই আছে-তাহো হইতে একটা পাতা জালাইয়া আমার সম্মুখে ধরিলেন। বলিলাম-আপনারা এ-দেশের প্রাচীন রাজবংশ, আপনাদের দর্শনে পুণ্য Z দোবারু পান্না বলিলেন- এখন আর কি আছে ? আমাদের বংশ সূৰ্য্যবংশ । D S BDDDSDKKYS DBBD gBD DBBDB BBD BBSS BDD BDDD DBB কোম্পানীর সঙ্গে লড়েছি। এখন আমার বয়স অনেক। যুদ্ধে হেরে গেলাম । তারপর আর কিছু নেই। এই আরণ্য ভূভাগের বহিঃস্থিত অন্য কোনও পৃথিবীর খবর দোবারু পান্না BD DD BOB DBD DS SDBD BDD DBD DD Bg BBBD "াইতেছি, এমন সময় একজন যুবক আসিয়া সেখানে দাড়াইল । রাজা দো'বরু বলিলেন-আমার ছোট নাতি, জগরু পায় । ওর বাবা এখানে নেই, লছমীপুরের রাণী-সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছে। ওয়ে রু, বাবুজীর জন্যে খাওয়ার জোগাড় কর । ኃዓዪ9 अद्धिक যুবক যেন নবীন শালতারু, পেশীবহুল সবল নধয় দেহ। সে বলিল-বাবুজী, সজাক্ষর মাংস খান ? পরে তাহার পিতামহের দিকে চাহিয়া বলিল-পাহাড়ের ওপারের বনে E EEDuDB BBiBDDDS DBD BBDB BB DDB BDBDDDS শুনিলাম রাজার তিনটি ছেলে, তাহদের আট-দশটি ছেলেমেয়ে। এই বৃহৎ রাজ-পরিবারের সকলেই এই গ্রামে একত্র থাকে । শিকার ও গোচারণ প্ৰধান উপজীবিকা । এ বাদে বনের পাহাড়ী জাতিদের বিবাদ-বিসংবাদে রাজার কাছে বিচারপ্রার্থ হইয়া আসিলে কিছু কিছু ভেটু ও নজরানা দিতে হয়-দুধ, মুরগী, ছাগল, পাখীর মাংস বা ফলমূল । বলিলাম-আপনার চাষবাস আছে ? দোবারু পান্না গর্বের সুরে বলিলেন-ওসব আমাদের বংশে নিয়ম নেই । iDDS BBD DD BBDDBDBD L0LL BDDS DBOLD BB BBD BD DB BBBDD সবচেয়ে গৌরবের। তীর ধনুকের শিকার দেবতার কাজে লাগে না । ও বীরের কাজ নয়, তবে এখন সবই চলে। আমার বড় ছেলে মুঙ্গের থেকে একটা বন্দুক কিনে এনেছে। আমি কখনও ছুইনি। বর্শা। ধ’রে শিকার আসল শিকার। ভানুমতী আবার আসিয়া একটা পাথরের ভঁাড় আমাদের কাছে রাখিয়া গেল। রাজা বলিলেন-তেল মাখুন। কাছেই চমৎকার ঝরণা-স্নান ক’রে আসুন সকলে । আমরা স্নান করিয়া আসিলে রাজা আমাদের রাজবাড়ীর একটা ঘরে লইয়া যাইতে বলিলেন । ভানুমতী একটা ধামায় চাল ও মেটে আলু আনিয়া দিল । জগরু সজারু ছাড়াইয়া মাংস আনিয়া রাখিল কঁাচা শালপাতার পাত্রে। ভানুমতী আর একবার গিয়া দুধ ও মধু আনিল। আমার সঙ্গে ঠাকুর ছিল না, বনোয়ারী মেটে আলু ছাড়াইতে বসিল, আমি রাধিবার চেষ্টায় উকুন ধরাইতে গেলাম। কিন্তু শুধু বড় DB DD DBDD TBB DEDD DDD SgSiDDB u S DBBD KBDD আরণ্যক »ዓግ না, তখন ভানুমতী তাড়াতাড়ি একটা পাখীর শুকনো বাসা আনিয়া উনুনের মধ্যে পুরিয়া দিতে আগুন বেশ জলিয়া উঠিল। দিয়াই দূরে সরিয়া গিয়া DBDDSS DBLuBDDBBu DDYY DBSBDDB BB BDBB BBDBDD DDDBS অথচ দিব্য সহজ, সরল মৰ্য্যাদাজ্ঞান । রাজা দেবব্রু পান্না সব সময় রান্নাঘরের দুয়ারিটির কাছে বসিয়া রহিলেন । আতিথ্যের এতটুকু ত্রুটি না ঘটে। আহারাদির পর বলিলেন-আমার তেমন বেশী ঘরদোর ও নেই, আপনাদের বড় কষ্ট হ’ল । এই বনের মধ্যে পাহাড়ের উপরে আমার বংশের রাজাদের প্রকাণ্ড বাড়ীর চিহ্ন এখনও আছে। আমি বাপ-ঠাকুর্দার কাছে শুনেছি বহু প্ৰাচীনকালে ওখানে আমার পূর্বপুরুষেরা বাস করতেন। সে দিন কি আর এখন আছে! আমাদের পূর্বপুরুষের প্রতিষ্ঠিত দেবতা এখনও সেখানে আছেন । আমার বড় কৌতুহল হইল, বলিলাম-যদি আমরা একবার দেখতে যাই তাতে কি কোনও আপত্তি আছে, রাজাসাহেব ? -এর আবার আপত্তি কি ? তবে দেখবার এখন বিশেষ কিছু নেই। আচ্ছা, চলুন আমি যাব । জগরু আমাদের সঙ্গে এস। আমি আপত্তি করিলাম-বিরানব্বই বছরের বৃদ্ধিকে আর পাহাড়ে উঠাইবার কষ্ট দিতে মন সরিল না । সে আপত্তি টিকিল না, রাজাসাহেব হাসিয়া বলিলেনও-পাহাড়ে আমায় তো প্রায়ই উঠতে হয়, ওর গায়েই আমার বংশের সমাধিস্থান। প্ৰত্যেক পূর্ণিমায় আমায় সেখানে যেতে হয় । চলুন, সে-জায়গাও দেখাব। উত্তর-পূর্ব কোণ হইতে অনুচ্চ শৈলমালা (স্থানীয় নাম ধনাত্বরি) এক স্থানে আসিয়া যেন হঠাৎ ঘুরিয়া পূৰ্ব্বমুখী হওয়ার দরুণ একটা খাঁজের সৃষ্টি করিয়াছে, এই খোজের নীচে একটা উপত্যক, শৈলসানুর অরণ্য সারা উপত্যক ব্যাপিয়া যেন সবুজের ঢেউয়ের মত নামিয়া আসিয়াছে, যেমন ঝরণা নামে পাহাড়ের গা DBDBBDS SBBB ED DDO DOSDD DBBDDY iLBDD ELLDD DL LS সুদুর চক্ৰবালরেখায় নীল শৈলমালা, বোধহয় গয়া কি রামগড়ের দিকেরা R. ʻby আরণ্যক যতদূর দৃষ্টি চলে শুধুই বনের শীর্ষ, কোথাও উচু, বড় বড় বনস্পতিসঙ্গুল, কোথাও নীচু, চারা শাল ও চারা পলাশ। জঙ্গলের মধ্যে সরু পথ বাহিয়া পাহাড়ের উপায় উঠিলাম । এক জায়গায় খুব বড় পাথরের চাই আড়িভাবে পোতা, ঠিক যেন একখানা পাথরের কড়ি বা টেকির আকারের। তার নীচে কুম্ভকারদের হাড়ি কলসী পোড়ানো পণ্য-এর গর্তের মত কিংবা মাঠের মধ্যে খেকশিয়ালী যেমন গৰ্ত্ত কাটে-ওই ধরণের প্রকাণ্ড একটা বড় গৰ্ত্তের মুখ। গৰ্ত্তের মুখে চারা শালের a রাজা দেবব্রু বলিলেন- এই গৰ্ত্তের মধ্যে ঢুকতে হবে। আসুন আমার BDDS BDB DB BDBBD S SYKBD DBDD DgD S প্ৰাণ হাতে করিয়া গৰ্ত্তের মধ্যে ঢুকিলাম। বাঘ ভালুক তো থাকিতেই পারে, না থাকে, সাপ তো আছেই । গৰ্ত্তের মধ্যে হামাগুড়ি দিয়া থানিকদূর গিয়া। তবে সোজা হইয়া দাড়ানো যায়। ভয়ানক অন্ধকার ভিতরে প্রথমটা মনে হয়, কিন্তু চোখ অন্ধকারে কিছুক্ষণ অভ্যস্ত হইয়া গেলে আর তত অসুবিধা হয় না। জায়গাটা প্ৰকাণ্ড একটা গুহা, কুড়িবাইশ হাত লম্বা, হাত পািনর চওড়া-উত্তর দিকের দেওয়ালের গায়ে আবার একটা খেকশিয়ালীর মত গৰ্ত্ত দিয়া থানিক দূর গেলে দেওয়ালের ওপারে ঠিক এই রকম নাকি আর একটা গুহা আছে-কিন্তু সেটাতে আমার ঢুকিবার আগ্ৰহ দেখাইলাম না। গুহার ছাদ বেশী উচু নয়, একটা মানুষ সোজা হইয়া দাড়াইয়া হাত উচু করিলে ছাদ ছুইতে পারে। চামসে ধরণের গন্ধ গুহার মধ্যেDBBBD DiBBuSYi ED DDS KKKS BDDDBB BuuDB BDB EEDE D0KS বনোয়ারী পাটোয়াৰী চুপি চুপি বলিল-হুজুর, চলুন বাইরে, এখানে আর বেশী দেরি করবেন না । ইহাই নাকি দেবব্রু পান্নার পূর্বপুরুষদের দুর্গ-প্ৰাসাদ! আসলে ইহা একটি বড় প্ৰাকৃতিক গুহা-প্ৰাচীন কালে পাহাড়ের উপর ऊद्र* ❖ ዓሔል দিকে মুখ ওয়ালা এ গুহায় আশ্ৰয় লইলে শত্রুর আক্রমণ হইতে সহজে আত্মরক্ষণ করা যাইত । রাজা বলিলেন -এর আর একটা গুপ্ত মুখ আছে--সে কাউকে বলা নিয়ম DD S S ED S BB LBDD BBBDB BDD Duu BDD LLLL D S g gB এখানে কেউ বাস করে না, তবুও এই নিয়ম চলে আসছে বংশে। BDBt DBBDB BBD DBBB DDB EDD MK DBDBDDD S তারপর আরও খানিকটা উঠিয়া এক জায়গায় প্রায় এক বিঘা জমি জুড়িয়া বড় বড় সরু মোট ঝুরি নামাইয়া, পাহাড়ের মাথার অনেকখানি ব্যাপিয়া এক বিশাল বটগাছ । রাজা দেবব্রু পান্না বলিলেন-জুতো খুলে চলুন মেহেরবানি করে। DBDB DBB BB EB D DD DBuSDD BBB BDDDD

  • ाथद्ध ६७gनां ।

রাজা বলিলেন-ইহাই তেঁাহার বংশের সমাধিস্থান । এক-একখানা পাথরের তলায় এক-একটা রাজবংশীয় লোকের সমাধি । বিশাল বটতলার সমস্ত স্থান জুড়িয়া সেই রকম বড় বড় শিলাখণ্ড ছড়ানো-কোন কোন সমাধি খুবই MtuuS gBD BBB DB BDD DBDBD DBBBDBD BBBD DD iDDD ধরিয়াছে, সে সব ঝুরি। আবার গাছের গুড়ির মত মোটা হইয়া গিয়াছেকোন কোন শিলাখণ্ড ঝুরির তলায় একেবারে অদৃশ্য হইয়া গিয়াছে। ইহা হইতেই সেগুলির প্রাচীনত্ব অনুমান করা যায় । রাজা দেবরু বলিলেন -এই বটগাছ আগে এখানে ছিল না। অন্য অন্য গাছের বন ছিল । একটি ছোট বট চারা ক্ৰমে বেড়ে অন্য অন্য গাছ মেরে ফেলে দিয়েছে। এই বটগাছটাই এত প্ৰাচীন যে, এর আসল গুড়ি নেই। ঝুরি নেমে যে গুড়ি হয়েছে, তারাই এখন রয়েছে। গুড়ি কেটে উপড়ে ফেললে দেখবেন ওর তলায় কত পাথর চাপা পড়ে আছে। এইবার বুঝুন কত প্ৰাচীন সমাধিস্থান এটা। Sboe আরণ্যক সত্যই বটগাছতলাটায় দাড়াইয়া আমার মনে এমন একটা ভাব হইল, যাহা এতক্ষণ কোথাও হয় নাই, রাজাকে দেখিয়াও না (রাজাকে তো মনে হইয়াছে জনৈক বৃদ্ধ সঁওতাল কুলীর মত), রাজকন্যাকে দেখিয়াও নয় (একজন স্বাস্থ্যবতী। হো কিংবা মুণ্ড তরুণীর সহিত রাজকন্যার কোন প্ৰভেদ দেখি নাই ), রাজপ্রাসাদ দেখিয়া তো নয়ই ( সেটাকে একটা সাপখোপের ও ভূতের আডড বলিয়া মনে হইয়াছে )। কিন্তু পাহাড়ের উপরে এই সুবিশাল, প্ৰাচীন বটতরুতলে কতকালের এই সমাধিস্থল আমার মনে এক অননুভূত, অপরূপ অনুভূতি জাগাইল । স্থানটির গাম্ভীৰ্য্য, রহস্য ও প্ৰাচীনত্বের ভাব আবর্ণনীয়। তখন বেল প্ৰায় হেলিয়া পড়িয়াছে, হলদে রোদ পত্ররাশির গায়ে, ডাল ও ঝুরির অরণ্যে ধনঝরির অন্য চূড়ায়, দুর বনের মাথায়। অপরান্ধুের সেই ঘনায়মান ছায়া এই সুপ্ৰাচীন রাজ-সমাধিকে যেন আরও গম্ভীর, রহস্যময় সৌন্দৰ্য্য দান করিল। মিশরের প্রাচীন সম্রাটদের সমাধিস্থল থিবস নগরের অদূরবত্তী “ভ্যালি অব দি কিংস আজ পৃথিবীর টুরিস্ট দের লীলাভূমি, পাবলিসিটি ও ঢাক পিটানোর অনুগ্রহে সেখানকার বড় বড় হোটেলগুলি মরশুমের সময় লোকে গিজগিজ করে -“ভ্যালি অব দি কিংস অতীত কালের কুয়াসায় যত না অন্ধকার হইয়াছিল, তার অপেক্ষাও অন্ধকার হইয়া যায় দামী সিগারেট ও চুরুটের ধোঁয়ায়-কিন্তু তার চেয়ে কোন অংশে রহস্যে ও স্বপ্রতিষ্ঠ মহিমায় কম নয়। সুদূর অতীতের এই অনাৰ্য্য নৃপতিদের সমাধিস্থল, ঘন অরণ্যভূমির ছায়ায় শৈলশ্রেণীর অন্তরালে যা চিরকাল আত্মগোপন করিয়া আছে ও থাকিবে । এদের সমাধিস্থলে আড়ম্বর নাই, পালিশ নাই, ঐশ্বৰ্য্য নাই মিশরীয় ধনী ফ্যারাওদের কীৰ্ত্তির মাত-কারণ এরা ছিল দরিদ্র,এদের সভ্যতা ও সংস্কৃতি ছিল মানুষের আদিম যুগের অশিক্ষিতপটু সভ্যতা ও সংস্কৃতি, নিতান্ত শিশু-মানবের মন লইয়া ইহারা রচনা করিয়াছে ইহাদের গুহানিহিত রাজপ্ৰাসাদ, রাজসমাধি, সীমানাজ্ঞাপক খুটি। সেই অপরাস্ক্রেয় ছায়ায় পাহাড়ের উপরে সে বিশাল তরুতলে দাড়াইয়া যেন সৰ্ব্বব্যাপী আরণ্যক SክምS শাশ্বত কালের পিছন দিকে বহুদূরে অন্য এক অভিজ্ঞতার জগৎ দেখিতে পাইলাম --পৌরাণিক ও বৈদিক যুগও যার তুলনায় বৰ্ত্তমানের পর্য্যায়ে পড়িয়া যায়। দেখিতে পাইলাম যাযাবর আর্য্যগণ উত্তর-পশ্চিম গিরিবত্মা অতিক্ৰম করিয়া LLLLLDDD DDB BDDB DDtttTDTSYuT sDuD DDLLSLLL MDK BBDBLSDOSLLL ভারতের পরবত্তী যা কিছুইতিহাস-এই আৰ্যসভ্যতার ইতিহাস-বিজিত অনাৰ্য্য জাতিদের ইতিহাস কোথাও লেখা নাই-কিংবা সে লেখা আছে এই সব গুপ্ত গিরিগুহায়, অরণ্যানীর অন্ধকারে, চূর্ণায়মান অস্থি-কাঙ্কালের রেখায়। সে লিপির পাঠোদ্ধার করিতে বিজয়ী আৰ্য্যজাতি কখনও ব্যস্ত হয় নাই । আজও বিজিত হতভাগ্য আদিমজাতিগণ তেমনই অবহেলিত, অবমানিত, উপেক্ষিত। সভ্যতাদৰ্পী আৰ্য্যগণ তাহাদের দিকে কখনও ফিরিয়া চাহে নাই, তাহাদের সভ্যতা বুঝিবার চেষ্টা করে নাই, আজও করে না । আমি, বনোয়ারী সেই বিজয়ী জাতির প্রতিনিধি, বৃদ্ধ দোবারু পান্না, তরুণ যুবক জগরু, তরুণী কুমারী ভানুমতী সেই বিজিত, পদদলিত জাতির প্রতিনিধি-উভয় জাতি আমরা এই সন্ধ্যার অন্ধকারে মুখোমুখি দাড়াইয়াছি-সভ্যতার গর্বে উন্নত-নাসিক আৰ্য্যকাস্তির গর্বে আমি প্ৰাচীন অভিজাত-বংশীয় দোবারু পান্নাকে বৃদ্ধ সঁওতাল ভাবিতেছি, রাজকন্যা। ভানুমতীকে মুণ্ডা কুলী-রমণী ভাবিতেছি-তাদের কত আগ্রহের ও গর্বের সহিত প্ৰদশিত রাজপ্রাসাদকে অনাৰ্য্যসুলভ আলো-বাতাসহীন গুহাবাস, সাপ ও ভূতের আডিডা বলিয়া ভাবিতেছি । ইতিহাসের এই বিরাট ট্রাজেডি বেন আমার চোখের সম্মুখে সেই সন্ধ্যায় অভিনীত হইল-সে নাটকের কুশীলবগণ এক দিকে বিজিত উপেক্ষিত দরিদ্র অনাৰ্য্য নৃপতি দোবারু পান্না, তরুণী অনাৰ্য্য রাজকন্যা ভানুমতী, তরুণ রাজপুত্র জগরু পান্না-এক দিকে আমি, আমার পাটোমারী বনোয়ারীলাল ও আমার পথপ্রদর্শক বুদ্ধ, সিং । BBDDD DBDDS S BBBDB DBDDDt DDBuYBDBS DBBD DBBE পূৰ্বেই আমরা সেদিন পাহাড় হইতে নামিয়া আসিলাম । নামিবার পথে এক স্থানে জঙ্গলের মধ্যে একথানা খাড়া সিদুরমাখা পাথর। gw'r আরণ্যক আশে-পাশে মানুষের হস্তরোপিত গাদ্দাফুলের ও সন্ধ্যামণি-ফুলের গাছ । সামনে আর একখানা বড় পাথর, তাতেও সিন্দুর মাখা । বহুকাল হইতে নাকি এই দেবস্থান। এখানে প্রতিষ্ঠিত, রাজবংশের ইনি কুলদেবতা। পূর্বে এখানে নরবলি হইত-সম্মুখের বড় পাখরখানিই যুপ-রূপে ব্যবহৃত হইত। এখন পায়রা ও মুরগী বলি প্ৰদত্ত হয় । জিজ্ঞাসা করিলাম--কি ঠাকুর ইনি ? রাজা দোবরু বলিলেন – টাড়িবারো, বুনো মহিষের দেবতা । মনে পড়িল গাত শীতকালে গনু মাহাতের মুখে শোনা সেই গল্প । রাজা দো'বরু বলিলেন-টাড়িবারো বড় জাগ্ৰত দেবতা । তিনি না-থাকলে শিকারীরা চামড়া আর শিঙের লোভে বুনো মহিষের বংশ নির্বংশ ক’রে ছেড়ে দিত। উনি রক্ষা করেন। ফাঁদে পড়বার মুখে তিনি মহিষের দলের সামনে দাড়িয়ে হাত তুলে বাধা দেন-কত লোক দেখেছে। এই অরণ্যচারী আদিম সমাজের দেবতাকে সভ্য জগতে কেউই মানে না, জানেও না-কিন্তু ইহা যে কল্পনা নয়, এবং এই দেবতা যে সত্যই আছেনতাহা স্বতই মনে উদয় হইয়াছিল। সেই বিজন বন্যজন্তু-আধুষিত অরণ্য ও পর্বত অঞ্চলের নিবিড় সৌন্দৰ্য্য ও রহস্যের মধ্যে বসিয়া । অনেক দিন পরে কলিকাতায় ফিরিয়া একবার দেখিয়াছিলাম বড়বাজারে, জ্যৈষ্ঠ মাসের ভীষণ গরমের দিনে এক পশ্চিমা গাড়োয়ান বিপুল বোঝাই গাড়ীর মহিষ দুটাকে প্ৰাণপণে চামড়ার পাচন দিয়া নিৰ্ম্মম ভাবে মারিতেছে--সেই দিন মনে হইয়াছিল, হায় দেব টাড়িবারো, এ ত ছোটনাগপুর কি মধ্যপ্রদেশের আরণ্যভূমি নয়, এখানে তোমার দয়ালু হস্ত এই নিৰ্য্যাতিত পশুকে কি করিয়া রক্ষা করিবে ? এ বিংশ শতাব্দীর আধ্যসভ্যতাদৃপ্ত কলিকাতা। এখানে বিজিত আদিম রাজা দেবব্রু পান্নার মতই তুমি অসহায় । আমি নওয়াদা হইতে মোটর বাস ধরিয়া গয়ায় আসিব বলিয়া সন্ধ্যার পরেই রওনা হইলাম । বনোয়ারী আমাদের ঘোড়া লইয়া তাবুতে ফিরিল । আসিবার আর একবার রাজকুমারী ভানুমতীর সহিত দেখা হইয়াছিল। সে এক বাটি মহিষের দুধ লইয়া আমাদের জন্য দাড়াইয়া ছিল রাজবাড়ীর ধারে।