আরণ্যক/দশম পরিচ্ছেদ

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন


দশম পরিচ্ছেদ

পনের দিন এখানে একেবারে বন্য-জীবন যাপন করিলাম, যেমন থাকে গঙ্গোতার কি গরিব ভূইহার বামুনরা। ইচ্ছা করিয়া নয়, অনেকটা বাধ্য হইয়াই থাকিতে হইল এ ভাবে। এ জঙ্গলে কোথা হইতে কি আনাইব? খাই ভাত ও বনধু ধুলের তরকারি, বনের কাকরোল কি মিষ্টি-আলু তুলিয়া আনে সিপাহীরা, তাই ভাজা বা সিদ্ধ। মাছ দুধ ঘি-কিছু নাই।

 অবশ্য, বনে সিপ্পি ও ময়ূরের অভাব ছিল না, কিন্তু পাধী মারিতে তেমন যেন মন সরে না বলিয়া বন্দুক থাকা সত্ত্বেও নিরামিষই খাইতে হইত।

 ফুলকিয়া বইহারে বাঘের ভয় আছে। একদিনের ঘটনা বলি।

 হাড়ভাঙা শীত সেদিন। রাত দশটার পরে কাজকর্ম মিটাইয়া সকাল সকাল শুইয়া ঘুমাইয়া পড়িয়াছি, হঠাৎ কত রাত্রে জানি না, লোকজনের চীংকারে ঘুম ভাঙিল। জলের ধারের কোন জায়গায় অনেকগুলি লোক জড় হইয়া চীৎকার করিতেছে। উঠিয়া তাড়াতাড়ি আসো জালিলাম। আমার সিপাহীরা পাশের খুপরি হইতে বাহির হইয়া আসিল। সবাই মিলিয়া ভাবিতেছি ব্যাপারটা কি, এমন সময়ে একজন লোক ছুটিতে ছুটিতে আসিয়া বলিল—ম্যানেজার বাবু,বন্দুকটা নিয়ে শীগগির চলুন—বাঘে একটা ছোট ছেলে নিয়ে গিয়েছে খুপরি থেকে।

 জঙ্গলের ধার হইতে মাত্র দু-হাত দূরে ফসলের ক্ষেতের মধ্যে ডোমন বলিয়া একজন গাঙ্গোত। প্রহ্মার একখানা খুপরি। তাহার স্ত্রী মাসের শি লইয়া আরণ্যক S8S খুপরিার মধ্যে শুইয়া ছিল-অসম্ভব শীতের দরুণ খুপেরির মধ্যেই আগুন জ্বালানো ছিল, এবং ধোয়া বাহির করিয়া দিবার জন্য দরজার ঝাপটা একটু ফাক ছিল। সেই পথে বাঘ ঢুকিয়া ছেলেটিকে লইয়া পলাইয়াছে। কি করিয়া জানা গেল বাঘ ? শিয়ালও তো হইতে পারে । কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌছিয়া আর কোন সন্দেহ রহিল না, ফসলের ক্ষেতের নৱম মাটিতে স্পষ্ট दigशुद्ध ५दiद्ध ? । 'আমার পাটোয়ারী ও সিপাহীরা মহালের অপবাদ রাটিতে দিতে চায় না, তাহারা জোর গলায় বলিতে লাগিল-এ আমাদের বাঘ নয় হুজুর, এ মোহনপুরা রিজার্ভ ফরেস্টের বাঘ। দেখুন না কত বড় থাবা ! যাহাঁদেরই বাঘ হউক, তাহাতে বড় কিছু আসে যায় না। বলিলাম, সব লোক জড় কর, মশাল তৈরি করা-চল জঙ্গলের মধ্যে দেখি । সেই রাত্রে অতি বড় বাঘের পায়ের সদ্য থাবা দেখিয়া ততক্ষণ সকলেই ভয়ে কঁাপিতে স্নায়ক, করিয়াছে।--জঙ্গলের মধ্যে কেহ যাইতে রাজী সন্ধা’ নামক, ‘ওঁ”গৈয়ক্ষািন্ধ জন-দশেক লোক জুটাইয়া মশাল হাতে টিন পিটাইতে পিটাইতে সবাই মিলিয়া জঙ্গলের নানা স্থানে বৃথা অনুসন্ধান করা গেল। পরদিন বেলা দশটার সময় মাইল-দুই দূরে দক্ষিণ পূর্ব কোণের ঘন জঙ্গলের মধ্যে একটা বড় আসান-গাছের তলায় শিশুটির রক্তাক্ত দেহাবশেষ আবিষ্কৃত হইল। কৃষ্ণপক্ষের কি ভীষণ অন্ধকার রাত্রিগুলিই নামিল তাহার পরে { সদর কাছারি হইতে বঁাকে সিং জমাদারকে আনাইলাম। বঁাকে সিং শিকারী, বাঘের গতিবিধির অভ্যাস তার ভালই জানা । সে বলিল, হুজুর, মানুষখেকো বাঘ বড় ধূৰ্ত্ত হয়। আর ক’টা লোক মরবে। সাবধান হয়ে থাকতে হবে । ঠিক তিনদিন পরেই বনের ধারে সন্ধ্যার সময় একটা রাখালকে বাঘে লইয়া গেল। ইহার পরে লোক ঘুম বন্ধ করিয়া দিল। রাত্রে এক অপরূপ ব্যাপার! বিস্তীর্ণ বইহারের বিভিন্ন খুপরি হইতে সারা রাত টিনের ক্যানেস্ত্ৰো পিটাইতেছে, মাঝে মাকে কাশের ডাটার আঁটি জ্বালাইয়া আগুন করিয়াছে, আমি ও বঁাকে সিং S एंब्रों প্রহরে প্রহরে বন্দুকের দ্যাওড়া করিতেছি। আর শুধুই কি বাঘ ? ইহার মধ্যে একদিন মোহনপুরা ফরেস্ট হইতে বন্য-মহিষের দল বাহির হইয়া অনেকখানি ক্ষেতের ফসল তচনচ করিয়া দিল ! আমার কাশের খুপরির দরজার কাছেই সিপাহীরা খুব আগুন করিয়া রাখিয়াছে। মাঝে মাঝে উঠিয়া তাহাতে কাঠ ফেলিয়া দিই। পাশের খুপরিতে সিপাহীরা কথাবাৰ্ত্তা বলিতেছে-খুপরির মেঝেতেই শুইয়া আছি, মাথার কাছের ঘুলঘুলি দিয়া দেখা যাইতেছে ঘন অন্ধকারে-ঘেরা বিস্তীর্ণ প্রান্তর, দূরে ক্ষীণ তারার আলোয় পরিদৃশ্যমান জঙ্গলের আবছায়া সীমারেখা। অন্ধকার আকাশের দিকে চাহিয়া মনে হইল, যেন মৃত নক্ষত্ৰলোক হইতে তুষারাবষী হিমবাতাস তরঙ্গ তুলিয়া ছুটিয়া আসিতেছে পৃথিবীর দিকে-লেপ তোষক হিমে ঠাণ্ডা জল হইয়া গিয়াছে, আগুন নিবিয়া আসিতেছে, কি দুরন্ত শীত । আর সেই সঙ্গে উন্মুক্ত প্ৰান্তরের অবাধ হু-হু তুষার-শীতল নৈশ হাওয়া! কিন্তু কি করিয়া থাকে। এখানকার লোকেরা এই শীতে, এই আকাশের তলায় সামান্য কাশের খুপরিব্র ঠাণ্ড মেঝের উপর, কি করিয়া রাত্রি কাটায় ? তাহার উপর ফসল চৌকি দিবার এই কষ্ট, বন্য-মহিষের উপদ্রব, বন্য-শূকরের উপদ্ৰব কম নয়-বােঘও আছে । আমাদের বাংলা দেশের চাষীরা কি এত কষ্ট করিতে পারে ? অতি উর্বর জমিতে, অতি নিরুপদ্রব গ্ৰাম্য পরিবেশের মধ্যে ফসল করিয়াও তাহাদের দুঃখ ঘোচে না । আমার ঘরের দু-তিন-শ’ হাত দূরে দক্ষিণ-ভাগলপুর হইতে আগত জানকতক কাটুনি মজুর স্ত্রী-পুত্ৰ লইয়া ফসল কাটিতে আসিয়াছে। একদিন সন্ধ্যায় তাহাদের খুপরিার কাছ দিয়া আসিবার সময় দেখি কুঁড়ের সামনে বসিয়া সবাই আগুন পোহাইতেছে । এদের জগৎ আমার কাছে অনাবিষ্কৃত, অজ্ঞাত । ভাবিলাম, সেটা দেখি না। �tୟମ । গিয়া বলিলাম-বাবাজী, কি করা হচ্ছে ? আরণ্যক SS BDBDD BB DD DBS BDBDDB sB DBBDDB SS DB Dt EDDBDB DHDDD সেলাম করিল, বসিয়া আগুন পোহাইতে অনুরোধ করিল। ইহা এদেশের প্ৰথা । শীতকালে আগুন পোহাইতে আহবান করা ভদ্রতার পরিচয় । গিয়া বসিলাম। খুপরির মধ্যে উকি দিয়া দেখি বিছানা বা আসবাবপত্র বলিতে ইহাদের কিছু নাই। কুঁড়েঘরের মেঝেতে মাত্র কিছু শুকনো ঘাস বিছানো। বাসনকোসনের মধ্যে খুব বড় একটা কাসার জামবাটি আর একটা লোটা । DBBDD DBBD DB BB DBDBDYYLiBD SBDD DBD BB BDDDB DBD S S BDB BD তো হইল, এই নিদারুণ শীতে ইহাদের লেপ-কঁথা কই ? রাত্রে গায়ে দেয় কি ? কথাটা জিজ্ঞাসা করিলাম। বুদ্ধের নাম নকুছেদী ভকত। জাতি গাঙ্গোতা। সে বলিল-কেন, খুপেরির কোণে ঐ যে কলাইয়ের ভুষি দেখছেন না রয়েছে টাল করা ? বুঝিতে পারিলাম না । কলাইয়ের ভূষির আগুন করা হয় রাত্রে ? নকছেদী আমার অজ্ঞতা দেখিয়া হাসিল । --তা নয় বাবুজী । কলাইয়ের ভূষির মধ্যে ঢুকে ছেলেপিলেরা শুয়ে থাকে -আমীয় ও কলাইয়ের ভুষি গায়ে চাপা দিয়ে শুই । দেখছেন না, অস্তুত পাচিমণ ভুষি মজুত রয়েছে। ভারী ওম কলাইয়ের ভুষিতে । দুখান কম্বল গায়ে দিলেও আমন ওম হয় না। আর আমরা পাবই বা কোথায় কম্বল বলুন না ? বলিতে বলিতে একটা ছোট ছেলেকে ঘুম পাড়াইয়া তাহার মা খুপরিক্স কোণের ভূষির গাদার মধ্যে তাহার পা হইতে গলা পৰ্য্যন্ত ঢুকাইয়া কেবল মাত্র মুখখানা বাহির করিয়া শোওয়াইয়া রাখিয়া আসিল। মনে মনে ভাবিলাম, মানুষে মানুষের খোজ রাখে কতটুকু ? কখনও কি জানিতাম। এসব কথা ? আজি যেন সত্যিকার ভারতবর্ষকে চিনিতেছি । অগ্নিকুণ্ডের অপর পাশ্বে বসিয়া একটি মেয়ে কি রাধিতেছে। জিজ্ঞাসা করিলাম-ও কি রান্না হচ্ছে ? নকছেদী বলিল-ঘাটে। & I আরণ্যক -ঘাটো কি জিনিস ? এবার বোধ হয় রন্ধনরত মেয়েটি ভাবিল, এ বাংগালী বাবু সন্ধ্যাবেলা কোথা হইতে আসিয়া জুটল। এ দেখিতেছি নিতান্ত বাতুল। কিছুই খোজ রাখে না। দুনিয়ার। সে খিলখিল করিয়া হাসিয়া উঠিয়া বলিল-ঘাটো জান না। বাবুজী ? মকাই-সেদ্ধ। যেমন চাল সেদ্ধ হ’লে বলে ভাত, মকাই সেদ্ধ করলে বলে ঘাটে । মেয়েটি আমার অজ্ঞতার প্রতি কৃপাবশত কাঠের খুন্তির আগায় উক্ত দ্রব্য একটুখানি হাড়ি হইতে তুলিয়া দেখাইল । -कि दिर्भ थiध ? এবার হইতে যত কথাবাৰ্ত্তা মেয়েটিই বলিল। হাসি-হাসি মুখে বলিল-জুন দিয়ে, শাক দিয়ে-আবার কি দিয়ে খাবে বল না ? -শাক রায়া হয়েছে ? -ঘাটো নামিয়ে শাক চড়াব। মটরশাক তুলে এনেছি। মেয়েটি খুবই সপ্ৰতিভা। জিজ্ঞাসা করিল-কলকাতায় থাক বাবুজী ? -રેં}} { --কি রকম জায়গা ? আচ্ছা, কলকাতায় নাকি গাছ নেই ? ওখানকার সব গাছপালা কেটে ফেলেছে ? -কে বললে তোমায় ? -একজন ওখানে কাজ করে আমাদের দেশের । সে একবার বলেছিল। কি রকম জায়গা দেখতে বাবুজী ? এই সরলা বন্য মেয়েটিকে যতদূর সম্ভব বুঝাইবার চেষ্টা পাইলাম আধুনিক যুগের একটা বড় শহরের ব্যাপারখানা কি। কতদূর বুঝিল জানি না, বলিলকলকাত্তা শহর দেখতে ইচ্ছে হয়-কে দেখাবে ? DDD BB BBBDDLS BBD BDS DDBDD BDBDDB BBDBS DBDD DDDS গিয়াছে, অন্ধকার ঘন হইয়া আসিল । উহাদের রান্না শেষ হইয়া গেল। খুপরির আরণ্যক te ভিতর হইতে সেই বড় জামবাটটা আনিয়া তাহাতে ফেন-ভাতের মত জিনিসটা চালিল। উপর উপর একটু নুন ছড়াইয়া বাটটা মাঝখানে রাখিয়া ছেলেমেয়েরা সবাই মিলিয়া চারিদিকে গোল হইয়া বসিয়া খাইতে আরম্ভ করিল। আমি বলিলাম-তোমরা এখান থেকে বুঝি দেশে ফিরবে ? নকছেদী বলিল-দেশে এখন ফিরতে অনেক দেরি। এখান থেকে ধরমপুর অঞ্চলে ধান কাটতে যাব-ধান ত এদেশে হয় না-ওখানে হয়। ধান কাটার কাজ শেষ হ’লে আবার যাব গম কাটতে মুঙ্গের জেলায়। গমের কাজ শেষ হ’তে জ্যৈষ্ঠ মাস এসে পড়বে। তখন আবার খেড়ী কাটা শুরু হবে আপনাদেরই এখানে । তার পর কিছুদিন ছুটি । শ্রাবণ-ভান্দ্রে আবার মকাই ফসলের সময় আসবে। মকাই শেষ হ’লেই কলাই এবং ধরমপুর-পূর্ণিয়া অঞ্চলে কাৰ্ত্তিকশাল ধান। আমরা সারা বছর এই রকম দেশে দেশেই ঘুরে বেড়াই। যেখানে যে সময়ে যে ফসল, সেখানে যাই । নইলে খাব কি ? --বাড়ী-ঘর বলে তোমাদের কিছু নেই ? এবার মেয়েটি কথা বলিল। মেয়েটির বয়স চব্বিশ-পাঁচিশ, খুব স্বাস্থ্যাবতী, বাণিশ-করা কালো রং, নিটোল গড়ন । কথাবাৰ্ত্তা বেশ বলিতে পারে, আর গলার সুবুটা দক্ষিণ-বিহারের দেহাতি হিন্দীতে বড় চমৎকার শোনায়। বলিল-কেনি থাকবে না। বাবুজী ? সবই আছে। কিন্তু সেখানে থাকলে আমাদের তো চলে না । সেখানে যাব গরমকালের শেষে, শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি পৰ্য্যন্ত থাকিব । তারপর আবার বেরুতে হবে বিদেশে । বিদেশেই যখন আমাদের চাকরী। তা ছাড়া বিদেশে। কত কি মজা দেখা যায়-এই দেখবেন ফসল কাটা হয়ে গেলে আপনাদের এখানেই কত দেশ থেকে কত লোক আসবে } কত বাজিয়ে, গাইয়ে, নাচেনেওয়ালী, কত বহুরূপী সং-আপনি বোধ হয় দেখেন নি। এসব ? কি ক’রে দেখবেন, আপনাদের এ অঞ্চলে তো ঘোর জঙ্গল হয়ে প’ড়ে ছিল-সবে এইবার চাষ হয়েছে। এই দেখুন না। আগে আর পনের দিনের মধ্যেই। এই তো সবারই রোজগারের সময় আসছে। SG 9 अब्रिभiरक চারিদিক নির্জন। দূরের বস্তিতে কারা টিন পিটাইতেছে অন্ধকারের মধ্যে। মনে ভাবিলাম, এই অৰ্গলহীন কাশডাটার বেড়ার আগড়-দেয়া কুঁড়েতে ইহাৱা রাত কাটাইবে এই শ্বাপদসংস্কুল অরণ্যের ধারে, ছেলেপুলে লইয়া-সাহসও আছে বলিতে হইবে । এই তো মাত্ৰ দিন-কয়েক আগে এদেরই মত আর একটা খুপরি হইতে ছেলে লইয়া গিয়াছে মায়ের কোল হইতে- এদেরই বা ভরসা। কিসের ? অথচ একটা ব্যাপার দেখিলাম, ইহারা যেন ব্যাপারটা গ্রাহের মধ্যেই আনিতেছে না। তাত সন্ত্রস্ত ভাবও নাই। এই তো এত রাত পৰ্য্যস্ত উন্মুক্ত আকাশের তলায় বসিয়া গল্পগুজব, রান্নাবান্না করিল। বলিলাম-তোমরা একটু সাবধানে থাকবে । মানুষ-খেকো বাঘ বেরিয়েছে জানি তো ? মানুষ-খেকো বাঘ বড় ভয়ানক জানোয়ার, আর বড় ধূৰ্ত্ত । আগুন রাখে খুপেরির সামনে, আর ঘরের মধ্যে গিয়ে ঢুকে পড়। ঐ তো কাছেই বন, রাত-বেরাতের ব্যাপারমেয়েটি বলিল-বাবুজী, ও আমাদের সয়ে গিয়েছে। পুশিয়া জেলায় যেখানে ফি-বছর ধান কাটতে যাই, সেখানে পাহাড় থেকে বুনো হাতী নামে। সে জঙ্গল আরও ভয়ানক। ধানের সময় বিশেষ ক’রে বুনো হাতীর দল এসে উপদ্রব করে। মেয়েটি আগুনের মধ্যে আর কিছু শুকনো বনবাউয়ের ডাল ফেলিয়া দিয়া HLDB DBB uB DDD DDS বলিল-সেবার আমরা অখিলকুচা পাহাড়ের নীচে ছিলাম। একদিন রাত্রে এক খুপরির বাইরে রান্না করচি, চেয়ে দেখি পঞ্চাশ হাত মাত্র দূরে চার-পাঁচটা বুনো হাতী-কালো কালো পাহাড়ের মত দেখাচ্ছে অন্ধকারে-যেন আমাদের খুপরির দিকেই আসচে। আমি ছোট ছেলেটাকে বুকে নিয়ে বড় মেয়েটার হাত ধরে রান্না ফেলে খুপরির মধ্যে তাদের রেখে এলাম। কাছে আর কোন লোকজন নেই, বাইরে এসে দেখি তখন হাতী ক'টা একটু থমকে দাড়িয়েছে। ভয়ে আমার গলা কাঠ হয়ে গিয়েছে। হাতীতে খুব দেখতে পায় না। তাই রক্ষেওরা বাতাসে গন্ধ পেয়ে দূরের মানুষ বুঝতে পারে। তখন বোধ হয় বাতাস অন্য দিকে বইছিল, যাই হোক, তারা অন্য দিকে চাঁ, গেল । ওঃ, সেখানেও अद्धिभक 66ł এমনি বাবুজী সারারাত টিন পেটায় আর আলো জালিয়ে রাখে। হাতীর ভয়ে । এখানে বুনো মহিষ, সেখানে বুনো হাতী । ওসব গা-সওয়া হয়ে গিয়েছে। রাত বেশী হওয়াতে নিজের বাসায় ফিরিলাম। Šኡ দিন পনেরোর মধ্যে ফুলকিয়া বইহারের চেহারা বদলাইয়া গেল। সরিষার Kz BBBBS DDDD DDD DBB BBDDB BDBDB DDD SBD DBBDB BBDB DD নানা শ্রেণীর লোক আসিয়া জুটিতে লাগিল। পূর্ণিয়া, মুঙ্গের, ছাপরা প্রভৃতি স্থান হইতে মারোয়াড়ী ব্যবসায়ীরা দাড়িপাল্লা ও বস্তা লইয়া আসিল মাল কিনিতে। তাহদের সঙ্গে কুলির ও গাড়োয়ানের কাজ করিতে আসিল এক দল লোক। হালুইকররা আসিয়া অস্থায়ী কাশের ঘর তুলিয়া মিঠাইয়ের দোকান খুলিয়া সতেজে পুরী, কচৌরি লাড়, কালাকান্দ বিক্রয় করিতে লাগিল। ফিরিওয়ালার নানা রকম সস্তা ও খেলো মনোহারী জিনিস, কাচের বাসন, পুতুল, সিগারেট, ছিটের কাপড়, সাবান ইত্যাদি লইয়া আসিল । q DBDB DDD DDSSYBE DDDS KKSLLtDBB BDBBBLD DBD BBBBD লোক। নাচ দেখাইতে, রামসীতা সাজিয়া ভক্তের পূজা পাইতে, হনুমানজীয় সিঁদুরমাখা মূৰ্ত্তি-হাতে পাণ্ডাঠাকুর আসিল প্ৰণামী কুড়াইতে । এ সময় সকলেরই দু-পয়সা রোজগারের সময় এসব অঞ্চলে । আর-বছরও যে জনশূন্য ফুলকিয়া বইহারের প্রান্তর ও জঙ্গল দিয়া বেলা পড়িয়া গেলে ঘোড়ায় যাইতেও ভয় করিাত-এ-বছর তাহার আনন্দোৎফুল্প মূৰ্ত্তি দেখিয়া চমৎকৃত হইতে হয় । চারিদিকে বালক-বালিকার হাস্যধ্বনি, কলরব, সন্তা টিনের ভেঁপুর পিপি বাজনা, ঝমােঝুমির আওয়াজ, নাচিয়েদের ঘুঙুরের ধ্বনিসমস্ত ফুলকিয়ার বিরাট প্রান্তর জুড়িয়া যেন একটা বিশাল মেলা বসিয়া | লোকসংখ্যাও বাড়িয়া গিয়াছে অত্যন্ত বেশী । কত নূতন খুপরি, কাশের লম্বা চালাঘর চারিদিকে রাতারাতি উঠিয়া গেল। ঘর তুলিতে এখানে কোন খরচ নাই, জঙ্গলে আছে, কাশী ও বনবাউ কি কেঁদ-গাছের গুড়ি ও कब्रेक শুকুনো কাশের ডাটার খোলা পাকাইয়া এদেশে এক রকম ভারি শক্ত রাশি তৈরি করে, আর আছে ওদের নিজেদের শারীরিক পরিশ্রম। ফুলকিয়ার তহশীলদার আসিয়া জানাইল, এই সব বাহিরের লোক, যাহারা এখানে পয়সা রোজগার করিতে আসিয়াছে, ইহাদের কাছে জমিদারের খাজনা আদায় করিতে হইবে । বলিল-আপনি রীতিমত কাছারি করুন হুজুর, আমি সব লোক একে একে আপনার কাছে হাজির করাই-আপনি ওদের মাথাপিছু একটা খাজনা ধাৰ্য্য ry't fc কত রকমের লোক দেখিবার সুযোগ পাইলাম। এই ব্যাপারে! সকাল হইতে দশটা পৰ্য্যন্ত কাছারি করিতাম, বৈকালে আবার তিনটার পায় হইতে সন্ধ্যা পৰ্য্যন্ত । তহশীলদার বলিল-এর বেশী দিন। এখানে থাকবে না, ফসল মাড়া ও বেচাকেনা শেষ হয়ে গেলেই সব পালাবে। এর আগে এদের পাওনা আদায় कटन निष्ठ हल्द। একদিন দেখিলাম একটি খামারে মাসে{য়াড়ী মঠ স্থানের লাল -1 ^ গুছে । আমার মনে হইল ইহারা ওজনে নিরীহ প্রজাদের ঠকাঠ৩ে ছে। অামান্স পাটােBB SqL BDBDBBBDBBBB BDBDD DDBDB DBDBuBB DE S YL y BBB DDB দেখিতে। দু-চারজন মহাজনকে ধরিয়া মাঝে মাঝে আমার সামনে ক্ষমানিতে লাগিল-তাহারা ওজনে ঠকাইয়াছে, কান্থাবও দাড়ির মধ্যে জুয়াচুরি আছে। সে-সব লোককে মহাল হইতে বাহির করিয়া দিলাম। প্রজাদের এত কষ্টের ফসল আমার মহালে অস্তুত কেহ ফাকি দিয়া লইতে শান্বিৰে না{ দেখিলাম, শুধু মহাজনে নয়, নানা শ্ৰেণীয় গোষ্ঠক ইহাদের অর্থের ভাৱ লাঘব করিবার চেষ্টায় ওৎ পাতিয়া রহিয়াছে। । এখানে নগদ পয়সার কারবার খুব বেশী মাষ্ট্র ক্লিওয়ারল্যাদের কাছে কোন জিনিস কিনিলে ইহারা পয়সার বদলে সরিখাদেম্বুর্গশীর্ষ कांझनक St. অনেক বেশী সরিষা দিয়া দেয়-বিশেষত মেয়েয়া । তাহোৱা নিতান্ত নিৰীহ ও সরল, বা তা বুঝাইয়া তাহদের নিকট হইতে ন্যায্য মূল্যের চতুগুণ ফসল अजाम कमां भूछे जश्ख। পুরুষেরাও বিশেষ বৈষয়িক নয়। তাহারা বিলাতী সিগারেট কেনে, জুতা-জামা কেনে। ফসলের টাকা ঘরে আসিলে ইহাদের ও বাড়ীর মৈয়েদের মাথা ঘুরিয়া যায়-মেয়েরা ফরমাস করে রঙীন কাপড়ের, কাচের ও এনামেলের বাসনের, হালুইকরের দোকান হইতে ঠোঙা ঠোঙা লাড কচৌদী আসে, নাচ দেখিয়া, গান শুনিয়াই কত পয়সা উড়াইয়া দেয়। ইহার উপর রামজী, হনুমান জীৱ প্ৰণালী ও পূজা তো আছেই। তাহার উপরেও আছে জমিদার ও মহাজনের পাইক-পেয়াদারা । দুৰ্দ্ধান্তু শীত্বে রাত জাগিয়া বন্য-শূকর ও বন্য-মহিষের উপদ্রব হইতে কত কষ্টে ফসল বঁাচাইয়া, বাঘের মুখে, সাপের মুখে নিজেদের ফেলিতে দ্বিধা না করিয়া সার-বছরের ইহাদের যাহা উপার্জন-এই পনের দিনের মধ্যে খুশির সহিত তাহা উড়াইয়া टिड ईश्iहब बाथ ना cगथिनाभ । কেবল একটা ভালর দিকে দেখা গেল, ইহারা কেহ মদ বা তাড়ি খায় না। গাঙ্গোতা বা ভুইহার ব্রাহ্মণদের মধ্যে এ-সব নেশার রেওয়াজ নাই-সিদ্ধিটা . অনেকে খায়, তাও কিনিতে হয় না, বনসিদ্ধির জঙ্গল হইয়া আছে লংবটুলিয়া ও ফুলকিয়ার প্রান্তরে, পাতা ছিাড়িয়া আনিলেই হইল-কে দেখিতেছে ? একদিন মুনেশ্বর সিং আসিয়া জানাইল একজন লোক জমিদারের খাজনা EBD D BDBuu DBBB BBDDBDDYLDBD DDDD DLDDL D DEBBD বিস্থিত হইয়া ৰলিলাম-ৰূপালাচ্ছে কি রকম ? দৌড়ে পালাচ্ছে ? --ঘোড়ার মত দৌড়াচ্ছে হজুৰ, এতক্ষণে বড় কুঞ্জী পার হয়ে অঙ্গলের ধাৰে গিয়ে পৌছল। দুবৃত্তিকে ধরিয়া আনিবায় হুকুম দিলাম। እ¢b” আরণ্যক এক ঘণ্টার মধ্যে চার-পাঁচজন সিপাহী পলাতক আসামীকে আমার সামনে আনিয়া হাজির করিলা । লোকটাকে দেখিয়া আমার মুখে কথা সরিল না। তাহার বয়স ষাটের কম। কোনমতেই হইবে বলিয়া আমার ত মনে হইল না-মাথার চুল সাদা, গালের চামড়া কুঞ্চিত হইয়া গিয়াছে, চেহারা দেখিয়া মনে হয় সে কতকাল বুভূক্ষু ছিল, এইবার ফুলকিয়া বইহারের খামারে আসিয়া পেট ভরিয়া খাইতে পাইয়াছে। শুনিলাম। সে নাকি “ননীচের নাটুয়া” সাজিয়া আজি কয়দিনে বিস্তুর পয়সা রোজগার করিয়াছে, গ্র্যাণ্ট সাহেবের বটগাছের তলায় একটা খুপবিতে থাকিত, আজ কয়দিন ধরিয়া সিপাইরা তাহার কাছে খাজনার তাগাদা করিতেছে। কারণ এদিকে ফসলের সময়ও ফুরাইয়া আসিল। আজ তাহার খাজনা মিটাইবার কথা ছিল। হঠাৎ দুপুরের পরে সিপাহীরা খবর পায় সে লোকটা তল্পিতল্পা বাধিষা মুণ্ডয়ানা হইয়াছে। মুনেশ্বর সিং ব্যাপার কি জানিতে গিয়া দেখে যে আসামী বাইহার ছাড়িয়া চলিতে আরম্ভ করিয়াছে পূৰ্ণিয়া অভিমুখে-মুনেশ্বরের হাক শুনিয়া সে নাকি দৌডিতে আরম্ভ করিল। তাহার পরই এই অবস্থা । সিপাহীদের কথার সত্যতা সম্বন্ধে কিন্তু আমার সন্দেহ জন্মিল । প্রথমত “ননীচোয় নাটুয়া” মানে যদি বালক শ্ৰীকৃষ্ণ হয়, তবে ইহার সে সাজিবার বয়স আমার আছে কি ? দ্বিতীয়ত, এ লোকটা উৰ্দ্ধশ্বাসে ছুটিয়া পলাইতেছিল, একথাই বা কি করিয়া সম্ভব ! কিন্তু উপস্থিত সকলেই হলফ করিয়া বলিল-উভয় কথাই সত্য । তাহাকে কড়া সুরে বলিলাম-তোমার এ দুৰ্ব্ববুদ্ধি কেন হ’ল, জমিদারের DEYY BBD DD DD DS LDDLDDDD DB DDD লোকটা ভয়ে বাতাসের মুখে তালপাতার মত কঁাপিতেছিল। আমার সিপাহীরা একে চায় তো আরো পায়, ধরিয়া আনিতে বলিলে বাধিয়া আনে । তাহারা যে এই বৃদ্ধ নটের প্রতি খুব সদয় ও মোলায়েম ব্যবহার করে নাই ইহার অবস্থা দেখিয়া বুঝিতে দেরি হইল না। আরণ্যক Stod লোকটা কঁাপিতে কঁাপিতে বলিল, তাহার নাম দশরথ । --কি জাত ? বাড়ী কোথায় ? —আমরা ভুইহার বাভন হুজুর। বাড়ী মুঙ্গের জেলা-সাহেবপুর কামাল । -পালাচ্ছিলে কেন ? -কই না, পালাব কেন, হুজুর ? -CK*, «fri ffe --কিছুই পাই নি, খাজনা দেব কোথা থেকে ? নাচ দেখিয়ে সর্বে পেয়েছিলাম, তা বেচে ক’দিন পেটে খেয়েছি। হনুমানঞ্জীর কিরিয়া । সিপাহীরা বলিল-সব মিথ্যে কথা। শুনবেন না হুজুর। ও অনেক টাকা রোজগাৱ করেছে । ওর কাছেই আছে। হুকুম করেন। ত ওর কাপড়চোপড় সন্ধান করি । লোকটা ভয়ে হাতজোড় করিয়া বলিল-হুজুর, আমি বলছি আমার কাছে क७ अछि । পরে কোমর হইতে একটা গেজে বাহির করিয়া উপুড় করিয়া ঢালিয়া বলিল -এই দেখুন হুজুর, তের আনা পয়সা আছে। আমার কেউ নেই, এই বুড়ো বয়সে কে ই বা আমায় দেবে ? আমি নাচ দেখিয়ে এই ফসলের সময় খামায়ে খামারে বেড়িয়ে যা রোজগার করি। আবার সেই গমের সময় পৰ্য্যন্ত এতেই চালাব। তার এখনও তিন মাস দেরি । যা পাই পেটে দুটো খাই, এই পৰ্য্যন্ত । সিপাহীরা বলছে আমায় নাকি আট আনা খাজনা দিতে হবে।--তা হ’লে আমার আর রইল মোট পাচ আনা । পাচ আনায় তিন মাস কি খাব ? বলিলাম-তোমার হাতে ও পোটলাতে কি আছে ? বার কর । লোকটা পোটলা খুলিয়া দেখাইল তাহাতে আছে ছোট্ট একখানা টিনমোড়া আর্সি, একটা রাংতার মুকুট-মযুৱপাখা সমেত, গালে মাখিবার বং, গলায় পরিবার পুতির মালা ইত্যাদি-কৃষ্ণঠাকুর সাজিবার উপকরণ। বলিল-দেখুন। তবুও বঁাশী নেই হুজুর। একটা টিনের বড় বঁাশী আট আনার DBB DD D S S sELDL DYED DDB YKuBB S BB EBDDD Seg छांद्रjक জাত, এদের ভুলানো সহজ। কিন্তু আমাদের মুঙ্গের জেলার লোক সব বড় এলেমদার। বঁাশী না হ’লে হাসবে। কেউ পয়সা দেবে না । আমি বলিলাম-বেশ, তুমি খাজনা না দিতে পার, নাচ দেখিয়ে যাও, २iसृञ् व् । বৃদ্ধ হাতে যেন স্বৰ্গ পাইয়াছে এমন ভাব দেখাইল । তাহার পর গালেমুখে রং মাখিয়া ময়ুরপাখা মাথায় ঐ বয়সে সে যখন বারো বছরের বালকের ভঙ্গিতে হেলিয়া দুলিয়া হাত নাড়িয়া নাচিতে নাচিতে গান ধরিল-তখন হাসিব কি কঁাদিব স্থির করিতে পারিলাম না। আমার সিপাহীরা তো মুখে কাপড় দিয়া বিদ্রুপে হাসি চাপিতে প্ৰাণপণ করিতেছে। তাহদের চক্ষে “ননীচোর নাটুয়া’র নাচ এক মারাত্মক ব্যাপারে। পরিণত হইল। বেচারীরা ম্যানেজার বাবুর সামনে না পারে প্রাণ খুলিয়া হাসিতে, না পারে দুর্দমনীয় হাসির বেগ সামলাইতে । সে রকম অদ্ভুত নাচ কখনও দেখি নাই, ষাট বছরের বৃদ্ধ কখনও বালকের মত অভিমানে ঠোঁট ফুলাইয়া কাল্পনিক জননী যশোদার নিকট হইতে দূরে চলিয়া আসিতেছে, কখনও একগাল হাসিয়া সঙ্গী রাখাল বালকগণের মধ্যে চোৱা-ননী বিতরণ করিতেছে, যশোদা হাত বাধিয়া রাখিয়াছেন বলিয়া কখনও জোড়হাতে চোখের জল মুছিয়া খুৎ খুৎ করিয়া বালকের সুরে কঁাদিতেছে। সমস্ত জিনিস দেখিলে হাসিতে হাসিতে পেটের নাড়ী ছিাড়িয়া যায়। দেখিবার মত বটে । নাচ শেষ হইল। আমি হাততালি দিয়া যথেষ্ট প্ৰশংসা করিলাম । BDDDBYS LDBD DS DBBDDLLDO BBBD DS EKBDB S DD BBiBBDB DL0SS S LBDDDBBD KDY DD DBBLD DBDDJiLiDD SDDD DD B DB DLDBDB BOBBD S টাকা বখশিশ, দিলাম খুশি হয়ে। ভারি চমৎকার নাচ । আর দিন-দশ-বারোর মধ্যে ফসল কেনাবেচা শেষ হইয়া গেলে বাড়তি লোক DBBD DB DBD BBBK mD 0KKS DDDD D DDD S LEL BB BB DDD করিতেছে, তাহাৱাই। দোকান-পসার উঠিয়া গেল, নাচওয়ালা, ফিরিওয়ালারা আয়ণ্যক SoS মন্যত্র রোজগারের চেষ্টায় গেল। কাটুনি জনমজুরের দল এখনও পৰ্যন্ত ছিল শুধু এই সময়ের আমোদ তামাশা দেখিবার জন্য-এইবার তাহারাও বালা ठाईदांद्र gखitig कब्रिहङ शांत्रिल । R একদিন বেড়াইয়া ফিরিবার সময় আমি আমার পরিচিত সেই নকছেদী ভকতের খুপরিতে দেখা করিতে গেলাম। সন্ধ্যার বেশী দেরি নাই, দিগন্তব্যাপী ফুলকিয়া বাইহারের পশ্চিম প্ৰান্তে একেবারে সবুজ বনরেখার মধ্যে ডুবিয়া টকটকে রাঙা প্ৰকাণ্ড বড় সূৰ্য্যটা অস্ত যাইতেছে। এখানকার এই সূৰ্য্যাস্ত গুলি-বিশেষত এই শীতকালে-এত অদ্ভুত সুন্দর যে এই সময়ে মাঝে মাঝে আমি মহালিখারূপের পাহাড়ে সূৰ্য্যান্তের কিছু পূর্বে উঠিয়া এই বিস্ময়জনক দৃশ্যের প্রতীক্ষা করি। নকছেদী তাড়াতাড়ি উঠিয়া কপালে হাত দিয়া আমায় সেলাম করিল। বলিল-এ মঞ্চী, বাবুজীকে বসবার একটা কিছু পেতে দে । নকছেদীর খুপরিতে একজন প্রৌঢ় স্ত্রীলোক আছে, সে যে নকছেদীয় স্ত্রী তাহা আনুমান করা কিছু শক্ত নয়। কিন্তু সে প্রায়ই বাহিরের কাজকৰ্ম্ম অর্থাৎ, কাঠভাঙা, কাটকাটা, দূরবর্তী ভীমদাসটোলার পাতকুয়া হইতে জল আনা ইত্যাদি লইয়া থাকে। মঞ্চী সেই মেয়েট, যে আমাকে বুনো হাতীর গল্প বলিয়াছিল । সে আসিয়া শুষ্ক কাশের ডাটায় বোন একখানা চেটাই পাতিয়া দিল । তার সেই দক্ষিণ-বিহারের দেহাতী’ ‘ছিাকাছিকি” বুলির সুন্দর টানের সঙ্গে DBDD BB DBBBD DBBD DBiuSSiBDBD BDDBDBD DBD DDBBDD মেলা ? বলেছিলাম না, কত নাচ-তামাশা আমোদ হবে, কত জিনিস আসবে, দেখলেন তো ? অনেক দিন আসেন নি বাবুজী, বসুন। আমরা যে শীগগির চলে যাচিছ। ওদের খুপেরির দোরের কাছে লম্বা আধশুকনো ঘাসের উপর চেটাই পাতিয়া SS SVe& আরণ্যক বসিলাম যাহাতে সুৰ্য্যাস্তটা ঠিক সামনাসামনি দেখিতে পাই। চারিদিকের ZYB BBDB SBDDBS DyDSDDLL DBD BBBDBDS ggDii BDBB BDD DD S নীরবতা বিশাল বাইহার জুড়িয়া । মঞ্চীর কথার উত্তর দিতে বোধ হয় একটু দেরি হইল। সে আবার কি একটা প্রশ্ন করিল, কিন্তু ওর ‘ছিাকাছিকি” বুলি আমি খুব ভাল বুঝি না, কি বলিল না বুঝিতে পারিয়া অন্য একটা প্রশ্ন দ্বারা সেটা চাপা দিবার জন্য বলিলাম --তোমরা কালই যাবে ? -হ্যা, বাবুজী । -কোথায় যাবে ? -পুণিয়া কিষণগঞ্জ অঞ্চলে যাব। পরে বলিল-নাচ-তামাশা কেমন দেখলেন বাৰু? বেশ ভাল ভাল লোক গাইয়ে এবার এসেছিল। একদিন ঝলুটোলায় বড় বাকাইন গাছের তলায় একটা লোক মুখে ঢোলক বাজিয়েছিল, শুনেছিলেন ? কি চমৎকার বাবুজী ! দেখিলাম মঞ্চী নিতান্ত বালিকার মতই নাচ-তামাশায় আমোদ পায় । এবার কত রকম কি দেখিয়াছে, মহা উৎসাহ ও খুশির সুরে তাহারই বর্ণনা করিতে বসিয়া গেল । নকছেদী বলিল-নে নে, বাবুজী কলকাতায় থাকেন, তোর চেয়ে অনেক কিছু দেখেছেন। ও এ-সব বড় ভালবাসে বাবুজী, ওরই জন্যে আমরা এতদিন LBDB DBSDSEED S Lqg DYYD EDLS KBDDBDB DSDLLDLSS DBDYD LDE LDDLDB DDD S DBD YBBBB gKEDL S মঞ্চী যে নকছেদীর কে হয় তাহা এতদিন জিজ্ঞাসা করি নাই, যদিও ভাবিতাম বৃদ্ধের মেয়েই হইবে। আজ ওর কথায় আমার আর কোন সন্দেহ রহিল না। বলিলাম-তোমার মেয়ের বিয়ে দিয়েছ কোথায় ? নকছেদী আশ্চৰ্য্য হইয়া বলিল-আমার মেয়ে ! কোথায় আমার মেয়ে হুজুর ? स्त्रांद्रद Vede --কেন, এই মঞ্চী তোমার মেয়ে নয় ? আমার কথায় সকলের আগে খিলখিল করিয়া হাসিয়া উঠিল মঞ্চী । নকছেদীর প্রৌঢ় স্ত্রীও মুখে আঁচল চাপা দিয়া খুপরির ভিতর ঢুকিল। নকুছেদী অপমানিত হওয়ার সুরে বলিল-মেয়ে কি হুজুর ? ও যে আমার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ! বলিলাম-ও ! অতঃপর খানিকক্ষণ সবাই চুপচাপ। আমি তো এমন অপ্ৰতিভ হইয়া পডিলাম যে, কথা খুজিয়া পাই না। মঞ্চী বলিল - আগুন ক’রে দিই, বডড শীত । DB uBDBD DBDD BBSS BB DB DDLDgD DBBB BDB DDD DDD BB নামিয়া আসে। পূৰ্ব-আকাশের নীচের দিকটা সুৰ্য্যাস্তের আভায় রাঙা, উপয়টা ङ्गध3iङ नौव्ण । খুপরি হইতে কিছু দূরে একটা শুকনো কাশ-ঝাড়ে মঞ্চী আগুন লাগাইয়া দিতে দশ-বারো ফুট দীর্ঘ ঘাস দাউ দাউ করিয়া জ্বলিয়া উঠিল । আমরা জলপ্ত BDBBDBDB BDDu SB DDtBDD S নকছেদী বলিল-বাবুজী, এখনও ও ছেলেমানুষ আছে, ওর জিনিসপত্র কেনার দিকে বেজায় ঝোক । ধরুন। এবার প্রায় আট-দশ মণ সর্বে মজুরী পাওয়া গিয়েছিল--তার মধ্যে তিন মণ ও খরচ ক’রে ফেলেছে। সখের জিনিসপত্র কেনবার জন্যে ! আমি বললাম, গতর-খাটানো মজুরীর মাল দিয়ে তুই ওসব BD DBB DBD DBBDDBDDB DBBLB D S S DDBS G0LDDS YY BBSS DBDS তবে কেন। মনে ভাবিলাম, তরুণী স্ত্রীর বৃদ্ধ স্বামী, না বলিয়াই বা আর কি উপায় ছিল ? মঞ্চী বলিল-কেন, তোমায় তো বলেছি, গাম-কাটানোর সময় যখন মেলা হবে, তখন আর কিছু কিনিব না। ভাল জিনিসগুলো সন্তায় পাওয়া গেল নকছেদী রাগিয়া বলিল-সন্তা ? বোকা মেয়েমানুষ পেয়ে ঠকিয়ে নিয়েছে S3 আরণ্যক কেঁয়ে দোকানদার আর ফিরিওয়াল-সস্তা ? পাচ সের সর্ষে নিয়ে একখানা চিরুণী দিয়েছে, বাবুজী। আর-বছর তিরাশি রতনগঞ্জের গমের খামারে মঞ্চী বলিল-আচ্ছা বাবুজী, নিয়ে আসছি জিনিসগুলো, আপনিই বিচার ক’রে বলুন সস্তা কি না কথা শেষ করিয়াই মঞ্চী খুপরির দিকে ছুটিল এবং কাশডাটায়-বোনা ডালা-আঁাটা একটা ঝাপি হাতে করিয়া ফিরিল। তারপর সে ডালা তুলিয়া কাঁপির ভিতর হইতে জিনিসগুলি একে একে বাহির করিয়া আমার সামনে সাজাইয়া রাখিতে লাগিল । -এই দেখুন কত বড় কঁকই, পাচ সের সর্ষের কমে এমনিতরো কঁকই হয় ? দেখেছেন কেমন চমৎকার রং ! সৌখীন জিনিস না ? আর এই দেখুন একখানা সাবান, দেখুন কেমন গন্ধ, এও নিয়েছে পাচ সের সর্ষে । সস্তা কি না। বলুন বাবুজী ? সন্তা মনে করিতে পারিলাম। কই ? এমন একখানা বাজে সাবানের দাম কলিকাতার বাজারে এক আনার বেশী নয়, পাচ সের সর্ষের দাম নয়ালির মুখেও অস্তুত সাড়ে-সাত আনা । এই সরলা বন্য মেয়েরা জিনিসপত্রের দাম জানে না, খুবই সহজ এদের ঠকানো । মঞ্চী আরও অনেক জিনিস দেখাইল । আহলাদের সহিত একবার এটা দেখায়, একবার ওটা দেখায়। মাথার কাটা, ঝুটো পাথরের আংটি, চীনা মাটির পুতুল, এনামেলের ছোট ডিশ, খানিকটা চওড়া লাল ফিতে- এই সব জিনিস । দেখিলাম মেয়েদের প্রিয় জিনিসের তালিকা সব দেশেই সব সমাজেই অনেকটা এক । বন্য মেয়ে মঞ্চী ও তাহার শিক্ষিতা ভগ্নীর মধ্যে বেশী তফাৎ নাই । জিনিসপত্র সংগ্ৰহ ও অধিকার করার প্রবৃত্তি উভয়েরই প্ৰকৃতিদত্ত। বুড়ো মাকছেদী রাগিলে কি হইবে ? কিন্তু সব চেয়ে ভাল জিনিসটি মঞ্চী সর্বশেষে দেখাইবে বলিয়া চাপিয়া बाधिशा निभाहक्ष डाँश कि ऊर्थन शामेिं ! এইবার সে গৰ্ব্বমিশ্রিত আনন্দের ও আগ্রহের সহিত সেটা বাহির করিয়া আমার সামনে মেলিয়া ধরিল । এক ছড়া নীল ও হলদে হিংলাজের মালা। সত্যি, কি খুশি ও গর্বের হাসি দেখিলাম ওর মুখে । ওর সভ্য বোনেদেয়। মত ও মনের ভাব গোপন করিতে তো শেখে নাই, একটি অনাবিল নির্ভেজাল নারী-আত্মা ওর এই সব সামান্য জিনিসের অধিকারের উচ্ছসিত আনন্দের ভিতর দিয়া আত্মপ্রকাশ করিতেছে। নারী-মনের এমন স্বচ্ছ প্ৰকাশ দেখিবার সুযোগ আমাদের সভ্য-সমাজে বড়-একটা ঘটে না । --বলুন দিকি কেমন জিনিস ? -5भ९कiद्ध ! SiD BBDB DuDB BB BDDB BBDD S SDKDDLL DBDBBD BBDD DDD কলিকাতায় আমি হিংলাজেয় মালা পরি না, আমরা কেহই পরি না, তবুও আমার মনে হইল ইহার দাম খুব বেশী হইলেও ছ-আনার বেশী নয়। বলিলাম -कष्ठ नि८झटछ दण मा ?  —সতের সের সর্থে নিয়েছে। জিতি নি? বলিয়া লাভ কি যে, সে ভীষণ ঠকিয়াছে। এসব জায়গায় এ রকম হইবেই। কেন মিথ্যা আমি ছেদীর কাছে বকুনি খাওয়াইয়া ওর মনের এ অপুর্ব্ব আলাদ নষ্ট করিতে যাইব।

 আমারই অনভিজ্ঞতার ফলে এ বছর এমন হইতে পারিয়াছে। আমার উচিত ছিল ফিরিওয়ালাদের জিনিসপত্রের দরের উপরে কড়া নজর রাখা। কিন্তু আমি নতুন লোক এখানে, কি করিয়া জানিব এদেশের ব্যাপার? ফসল মাড়িবার সময় মেলা হয় তাহাই তো জানিতাম না। আগামী বৎসর যাহাতে এমনধারা না ঘটে, তাহার ব্যবস্থা করিতে হইবে।

 পরদিন সকালে নকূছেদী তাহার দুই-স্ত্রী ও পুত্র-কন্যা লইয়া এখান হইতে চলিয়া গেল। যাইবার পূর্বে আমার খুপরিতে নকছেদী খাজনা দিতে আসিল, সঙ্গে আসিল মঞ্চী। দেখি মঞ্চী গলায় সেই হিংলাখের মালাছড়াটি পরিয়া আসিয়াছে। হাসিমুখে বলিল - আবার আসব ভাদ্র মাসে মকাই কাটতে। তখন থাকবেন তো বাবুজী? আমরা জংলী হকির আচার করি শ্রাবণ মাসেআপনার জন্যে আনব।

 মঞ্চীকে বড় ভাল লাগিয়াছিল, চলিয়া গেলে দুঃখিত হইলাম।