আরণ্যক/নবম পরিচ্ছেদ

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন


নবম পরিচ্ছেদ


প্রায় তিন বছর কাটিয়া গিয়াছে।

 এই তিন বছরে আমার অনেক পরিবর্তন ঘটিয়াছে। লবটুলিয়া ও আজমাবাদের বন্ধু প্রকৃতি কি মায়া-কাজল লাগাইয়া দিয়াছে আমার চোখে-শহরকে একরকম ভুলিয়া গিয়াছি। নির্জনতার মোহ, নক্ষত্রভরা উদার আকাশের মোহ আমাকে এমন পাইয়া বসিয়াছে যে, মাধ্যে একবার কয়েক দিনের জন্য পাটনায় গিয়া ছটফট করিতে লাগিলাম কবে পিচ-ঢালা বঁধাধরা রাস্তার গণ্ডি এড়াইয়া SVS e আরণ্যক চলিয়া যাইব লবটুলিয়া বইহারে,-পেয়ালার মত উপুড়-করা নীল আকাশের তলে মাঠের পর মাঠ, অরণ্যের পর অরণ্য, যেখানে তৈরী রাজপথ নাই, ইটের ঘরবাড়ী নাই, মোটর-হর্ণের আওয়াজ নাই, ঘন ঘুমের ফাকে যেখানে কেবল দূর BiBDB BB DDBBD BDBB KDBSBBDD LLLD DDDS DDDDBD DDBDB BBS গাইয়ের দলের সম্মিলিতি পদধ্বনি, নয়তো বন্য মহিষের গম্ভীর আওয়াজ । আমার উপরওয়ালারা ক্ৰমাগত আমাকে চিঠি লিখিয়া তাগাদা করিতে লাগিলেন, কেন আমি এখানকার জমি প্ৰজাবিলি করিতেছি না । आर्भिवानि আমার তাহাই একটি প্রধান কাজ বটে, কিন্তু এখানে প্ৰজা বসাইয়া প্ৰকৃতির এমন নিভৃত কুঞ্জবনকে নষ্ট করিতে মন সরে না। যাহারা জমি ইজারা লইবে, তাহারা তো জমিতে গাছপালা বনঝোপ সাজাইয়া রাখিবার জন্য কিনিবে না-কিনিয়াই তাহারা জমি সাফ করিয়া ফেলিবে, ফসল রোপণ করিবে, ঘর-বাড়ী বঁাধিয়া বসবাস শুরু করিবে-এই নিৰ্জন শোভাময় বন্য প্ৰান্তর, অরণ্য, কুণ্ডী, শৈলমালা জনপদে পরিণত হইবে, লোকের ভিড়ে ভয় পাইয়া বনলক্ষ্মীরা উৰ্দ্ধশ্বাসে পলাইবেনমানুষ ঢুকিয়া এই মায়াকাননের মায়াও দূর করিবে, সৌন্দৰ্য্য ও ঘুচাইয়া দিবে। সে জনপদ আমি মনশ্চক্ষে স্পষ্ট দেখিতে পাই । পাটনা, পূর্ণিয়া কি মুঙ্গের যাইতে তেমন জনপদ এদেশের সর্বত্র । গায়ে গায়ে কুগ্ৰী, বেঢপ খোলার একতলা কি দোতলা মাঠকোঠা, চালে চালে বসতি, ফনিমনসার ঝাড়, গোবরস্তুপের আবর্জনার মাঝখানে গরু-মহিষের গোয়াল - ইদারা হইতে রহিট দ্বারা জল উঠানো হইতেছে, ময়লা কাপড়-পরা নর-নারীর ভিড়, হনুমানজীর মন্দিরে ধ্বজা উড়িতেছে, রূপার হাসুলি গলায় উলঙ্গ বালকবালিকার দল ধূলা মাখিয়া রাস্তার উপর খেলা করিতেছে। কিসের বদলে কি পাওয়া যাইবে! এমন বিশাল ছেদহীন, বাধাবন্ধনহীন উদাম সৌন্দৰ্য্যময়ী আরণ্যভূমি দেশের একটা বড় সম্পদ-অন্য কোন দেশ হইলে আইন করিয়া এখানে ন্যাশনাল পার্ক করিয়া রাখিত । কৰ্ম্মক্লান্ত শহরের মানুষ মাঝে মাঝে এখানে আসিয়া প্ৰকৃতির আরণ্যক Sey সাহচর্য্যে নিজেদের অবসন্ন মনকে তাজা করিয়া লইয়া ফিরিত । তাহা হইবার যো নাই, যাহার জমি সে প্ৰজাবিলি না করিয়া জমি ফেলিয়া রাখিবে কেন ? আমি প্ৰজা বসাইবার ভার লইয়া এখানে আসিয়াছিলাম-এই আরণ্য প্ৰকৃতিকে ধ্বংস করিতে আসিয়া এই অপূৰ্ব্বসুন্দরী বন্য নায়িকার প্রেমে পডিয়া গিয়াছি। এখন আমি ক্রমশ সে-দিন পিছাইয়া দিতেছি-যখন ঘোড়ায় চড়িয়া ছায়াগহন বৈকালে কিংবা মুক্তা শুভ্ৰ জ্যোৎস্নারাত্রে এক বাহির হই, তখন চারি দিকে চাহিয়া মনে মনে ভাবি, আমার হাতেই ইহা নষ্ট হইবে ? জ্যোৎস্নালোকে উদাস আত্মহারা, শিলাস্তৃত ধূ-ধূ নির্জন বন্য প্ৰান্তর।!! কি করিয়াই আমার মন ভুলাইয়াছে চতুরা সুন্দরী ! কিন্তু কাজ যখন করিতে আসিয়াছি, করিতেই হইবে । মাঘ মাসের শেষে পাটনা হইতে ছটু সিং নামে এক রাজপুত আসিয়া হাজার বিঘা জমি বন্দোবস্ত লাইতে চাহিয়া দরখাস্ত দিতেই আমি বিষম চিন্তায় পডিলাম-হাজার বিঘা জমি দিলে তা অনেকটা জায়গাই নষ্ট হইয়া -ਣ সুন্দর বনকোপ, লতাবিতান নিৰ্ম্মম ভাবে কাটা পড়িবে যে ! ছটু সিং ঘোরাঘুরি করিতে লাগিল- আমি তাহার দরখাস্ত সদরে পাঠাইয়া দিয়া ধ্বংসলীলাকে কিছু বিলম্বিত করিবার চেষ্টা করিলাম। േ একদিন লবটুলিয়া জঙ্গলের উত্তরে নাড়া বইহারের মুক্ত প্ৰাস্তরের মধ্য দিয়া দুপুরের পরে আসিতেছি-দেখিলাম, একখানা পাথরের উপর কে বসিয়া আছে পথের ধারে । তাহার কাছে আসিয়া ঘোড়া থামাইলাম। লোকটির বয়স ষাটের কম নয়, পরনে ময়লা কাপড়, একটা ছোড়া চাদর গায়ে । এ জনশূন্য প্ৰান্তরে লোকটা কি করিতেছে একা বসিয়া ? সে বলিল-আপনি কে বাৰু ? Se8 আরণ্যক বলিলাম-আমি এখানকার কাছারির কৰ্ম্মচারী । --আপনি কি ম্যানেজার বাৰু? -কেন বল ত ? তোমার কোন দরকার আছে ? হঁবা, আমিই ম্যানেজার লোকটা উঠিয়া আমার দিকে আশীৰ্ব্বাদের ভঙ্গিতে হাত তুলিল। বলিলহুজুর, আমার নাম মটুকনাথ পাড়ে। ব্ৰাহ্মণ, আপনার কাছেই যাচ্ছি। --কেন ? --হুজুৰ, আমি বড় গরিব । অনেক দূর থেকে হেঁটে আসছি। হুজুরের নাম শুনে। তিন দিন থেকে হাটছি। পথে পথে। যদি আপনার কাছে চলাচলতির কোন একটা উপায় হয় আমার কৌতুহল হইল, জিজ্ঞাসা করিলাম-এ ক'দিন জঙ্গলের পথে তুমি कि 6थझ थiछ ? মটুকনাথ তাহার মলিন চাদরের একপ্ৰান্তে বাধা পোয়াটাক কলাইয়ের ” ছাতু দেখাইয়া বলিল-সেরখানেক ছাতু ছিল এতে বাধা, এই নিয়ে বাড়ী থেকে বেরিয়েছিলাম। তাই ক’দিন খাচ্ছি। রোজগারের চেষ্টায় বেড়াচ্ছি, হুজুরআজ ছাতু ফুরিয়ে এসেছে, ভগবান জুটিয়ে দেবেন। আবার । আজমাবাদ ও নাঢ়া বইহারের এই জনশূন্য বনপ্রান্তরে উড়ানির খুটে ছাতু বঁাধিয়া লোকটা কি রোজগারের প্রত্যাশায় আসিয়াছে বুঝিতে পারিলাম না । বলিলাম-বড় বড় শহর ভাগলপুর, পূৰ্ণিয়া, পাটনা, মুঙ্গের ছেড়ে এ জঙ্গলের মধ্যে এলে কেন পাড়োজী ? এখানে কি হবে ? লোক কোথায় এখানে, তোমাকে দেবে কে ? মটুকনাথ আমার মুখের দিকে নৈরাশ্যপূর্ণদৃষ্টিতে চাহিয়া বলিল-এখানে fি রোজগার হবে না বাৰু ? তবে আমি কোথায় যাব ? ও-সব বড় শহরে আ, কাউকে চিনি নে, রাস্তাঘাট চিনি নে, আমার ভয় করে । তাই এখানে যাচ্ছিলামলোকটাকে বড় অসহায়, দুঃখী ও ভালমানুষ বলিয়া মনে হইল । সঙ্গে করিয়া কাছারিতে লইয়া আসিলাম। टांझopक See কয়েকদিন চলিয়া গেল। মটুকনাথকে কোন কাজ করিয়া দিতে পারিলাম --দেখিলাম, সে কোন কাজ জানে না।--কিছু সংস্কৃত পড়িয়ছে, ব্ৰাহ্মণগাণ্ডিতের কাজ করিতে পারে । টোলে ছাত্র পড়াইত, আমার কাছে বসিয়া *भा অসময়ে উদ্ভট শ্লোক আবৃত্তি করিয়া বোধ হয় আমার অবসরবিনোদনের চষ্টা করে । একদিন আমায় বলিল-আমায় কাছারির পাশে একটু জমি দিয়ে একটা টোল খুলিয়ে দিন হুজুর। বলিলাম-কে পড়বে টোলে পণ্ডিতজী, বুনো মহিষ ও নীলগাইয়ের দল কি ভট্ট বা রঘুবংশ বুঝবে ? i মটুকনাথ নিপাট ভাল মানুয়-বোধ হয় কিছু না ভাবিয়া দেখিয়াই টোল খুলিবাব প্ৰস্তাব করিয়াছিল। ভাবিলাম, বুঝিয়া এবার সে নিরস্ত হইবে । কিন্তু দিন-কতক চুপ করিয়া থাকিয়া আবার সে কথাটা পাড়িল । বলিল-দিন দয়া ক’রে একটা টোল আমায় খুলে । দেখি না চেষ্টা ক’রে কি হয়। নয়ত আর যাব কোথায় হুজুর ? ভাল বিপদে পড়িয়াছি, লোকটা কি পাগল! ওর মুখের দিকে চাহিলেও দয়া হয়, সংসারের ঘোরাপেচ বোঝে না, নিতান্ত সরল, নিৰ্ব্বোধী ধরণের মানুষ-অথচ একরাশ নির্ভর ও ভরসা লইয়া আসিয়াছো-কাহার উপর কে জানে ? তাহাকে কত বুঝাইলাম, আমি জমি দিতে রাজি আছি, সে চাষবাস করুক, যেমন রাজু পাড়ে করিতেছে। মটুকনাথ মিনতি করিয়া বলিল, তাহারা বংশানুদ্রুমে শাস্ত্রব্যবসায়ী ব্ৰাহ্মণ-পণ্ডিত, চাষকাজের সে কিছুই জানে না, জমি লইয়া • করিবে ? তাহাকে বলিতে পারিতাম শাস্ত্রব্যবসায়ী পণ্ডিত-মানুষ এখানে মরিতে আসিয়াছ কেন, কিন্তু কোন কঠিন কথা বলিতে মন সক্সিল না। লোকটাকে বড় ভাল লাগিয়াছিল। অবশেষে তাহার নির্বন্ধতিশয্যে একটা ঘর বঁাধিয়া দিয়া বলিলাম। এই তোমার টোল, এখন ছাত্র যোগাড় হয় কি না দেখি । S 98 আরণ্যক মটুকনাথ পূজাৰ্চনা করিয়া দু-তিনটি ব্ৰাহ্মণ ভোজন করাইয়া টোল প্ৰতিষ্ঠা করিল । এ জঙ্গলে কিছুই মেলে না, সে নিজের হাতে মকাইয়ের আটার মোটা মোটা পুৰী ভাজিল এবং জংলী ধুধুলের তরকারী। বাথান হইতে মহিষের দুধ আনাইয়া দই পাতিয়া রাখিয়াছিল। নিমন্ত্রিতের দলে অবশ্য আমিও ছিলাম । টোল খুলিয়া কিছুদিন মটুকনাথ বড় মজা করিতে লাগিল। পৃথিবীতে এমন মানুষ ও সব থাকে ! সকালে স্নানাহিক সারিয়া সে টোলঘরে একখানা বন্য খেজুরপাতায় বোনা। আসনের উপর গিয়া বসে এবং সম্মুখে মুগ্ধবোধ খুলিয়া সুত্ৰ আবৃত্তি করে, ঠিক যেন কাহাকে পড়াইতেছে। এমন চেচাইয়া পড়ে যে, আমি আমার আপিসঘরে বসিয়া কাজ করিতে করিতে শুনিতে পাই । তহশীলদার সজন সিং বলে--পণ্ডিতজী লোকটা বদ্ধ পাগল ! কি করছে দেখুন হুজুর । মাস-দুই এইভাবে কাটে। শূন্য ঘরে মটুকনাথ সমান উৎসাহে টোল করিয়া চলিয়াছে। একবার সকালে, একবার বৈকালে। ইতিমধ্যে সরস্বতী পূজা আদিল । কাছারিতে দোয়াত-পূজার দ্বারা বাগেদবীর অৰ্চনা নিষ্পন্ন করা হয় প্রতি বৎসর, এ জঙ্গলে প্ৰতিমা কোথায় গড়ান হইবে ? মটুকনাথ তার টোলে শুনিলাম আলাদা পূজা করিবে, নিজের হাতে নাকি প্ৰতিমা গড়িবে। ষাট বছরের বৃদ্ধের কি ভরসা, কি উৎসাহ ! নিজের হাতে ছোট প্রতিমা গড়িল মটুকনাথ। টোলে আলাদা পূজা হইল। বৃদ্ধ হাসিমুখে বলিল-বাবুজী, এ আমাদের পৈতৃক পূজো । আমার বাবা চিরকাল তার টোলে প্ৰতিমা গড়িয়ে পুজো ক’রে এসেছেন, ছেলেবেলায় দেখেছি। এখন আবার আমার টোলে কিন্তু টোল কই ? মটুকনাথকে একথা বলি নাই। অবশ্য । আরণ্যক yet va সরস্বতী পূজার দিন-দশ বারো পরে মটুকনাথ পণ্ডিত আমাকে আসিয়া জানাইল, তাহার টোলে একজন ছাত্ৰ আসিয়া ভত্তি হইয়াছে। আজই সে নাকি কোথা হইতে আসিয়া পৌছিয়াছে। মটুকনাথ ছাত্রটিকে আমার সামনে হাজির করাইল । চোদ-পনেরো বছরের কালো, শীর্ণকায় বালক, মৈথিলী ব্ৰাহ্মণ, নিতান্ত গরিব, পরনের কাপড়খানি ছাড়া দ্বিতীয় বস্তু পৰ্য্যন্ত নাই । মটুকনাথের উৎসাহ দেখে কে ! নিজে খাইতে পায় না, সেই মুহূৰ্ত্তে সে ছাত্রটির ভরণপোষণের ভার গ্ৰহণ করিয়া বসিল । ইহাই তাহার কুল প্ৰথা, টোলের ছাত্রের সকল প্ৰকার অভাব-অনটন এতদিন তাঙ্গাদের টোল হইতে নিৰ্বাহ হইয়া আসিয়াছে, বিদ্যা শিখিবার আশায় যে আসিয়াছে, তাহাকে সে ফিরাইতে পারিবে না । মাস দুইয়ের মধ্যে দেখিলাম, আরও দু-তিনটি ছাত্ৰ জুটিল টোলে। ইহারা এক বেলা খায়, এক বেলা খায় না। সিপাহীরা চাদ্ধা করিয়া মক্যায়ের ছাতু, আটা, চীনার দানা দেয়, কাছারি হইতে আমিও কিছু সাহায্য করি । জঙ্গল হইতে বাথুয়া শাক তুলিয়া আনে ছাত্রেরা-তােহাঁই সিদ্ধ করিয়া খাইয়া হয়ত একবেলা কাটাইয়া দেয়। মটুকনাথেরও সেই অবস্থা । রাত দশট-এগারোটা পৰ্য্যন্ত মটুকনাথ শুনি ছাত্র পড়াইতেছে টোল ঘরের সামনে একটা হরীতকী গাছের তলায় । অন্ধকারেই অথবা জ্যোৎস্নালোকেকারণ আলো জালাইবার তেল জোটে না । একটা জিনিস লক্ষ্য করিয়া আশ্চৰ্য্য হইয়াছি। মটুকনাথ টোলঘরের জন্য জমি ও ঘর বঁাধিয়া দেওয়ার প্রার্থনা ছাড়া আমার কাছে কোন দিন কোন আর্থিক BDBBD DD DD SSSSDBDD D DDB DDD BBDBB BB DS guBDBB BBYY কাহাকেও সে কিছু জানায় না, সিপাহীরা নিজের ইচ্ছায় যা দেয় । እኳebዪ9 আরণ্যক বৈশাখ হইতে ভাদ্র মাসের মধ্যে মটুকনাথের টোলের ছাত্রসংখ্যা বেশ বাড়িল। দশ-বারোটি বাপে-তাড়ানো মায়ে খেদানো গরিব বালক বিনা পয়সায় অল্প আয়াসে খাইতে পাইবার লোভে নানা জায়গা হইতে আসিয়া জুটিয়াছে । কারণ এ সব দেশে কাকের মুখে একথা ছড়ায়। ছাত্রগুলিকে দেখিয়া মনে হইল। ইহারা পূর্বে মহিষ চরাইত। কারও মধ্যে এতটুকু বুদ্ধির উজ্জলতা নাই-ইহারা পড়িবে কাব্য-ব্যাকরণ ? মটুকনাথকে নিরীহ মানুষ পাইয়া পড়িবার ছুতায় তাহার ঘাড়ে বসিয়া খাইতে আসিয়াছে। কিন্তু মটুকনাথের এসব দিকে খেয়াল নাই, সে ছাত্ৰ পাইয়া মহা খুশি। একদিন শুনিলাম, টোলের ছাত্ৰগণ কিছু খাইতে না পাইয়া উপবাস করিয়া আছে। সেই সঙ্গে মটুকনাথাও । মটুকনাথকে ডাকাইয়া ব্যাপার জিজ্ঞাসা করিলাম। কথাটা ঠিকই। সিপাহীরা চান্দা করিয়া যে আটা ও ছাতু দিয়াছিল, তাহা ফুরাইয়াছে, কয়েক দিন রাত্রে শুধু বাথুয়া শাক সিদ্ধ আহার করিয়া চলিতেছিল, BKKDBDDL B LD DDD DBD SS DBDBD BBDD DD DDB DBBDBDB BBBK হওয়াতে কেহ খাইতে চাহিতেছে না। --তা এখন কি করবে। পণ্ডিতজী ? --কিছু ত ভেবে পাচ্ছি নে হুজুর। ছোট ছোট ছেলেগুলো না খেয়ে FK আমি উহাদের সকলের জন্য সিধা বাহির করিয়া দিবার ব্যবস্থা করিলাম । দু-তিন দিনের উপযুক্ত চাল, ডাল, ঘি আটা। বলিলাম-টোল কি ক’রে চালাবে, পণ্ডিতজী ? ও উঠিয়ে দাও । খাবে কি, খাওয়াবে কি ? দেখিলাম, আমার কথায় সে আঘাত পাইয়াছে। বলিল-তাও কি হয় হুজুর ? তৈরী টোল কি ছাড়তে পারি ? ঐ আমার পৈতৃক ব্যবসায়। মটুকনাথ সদানন্দ লোক । তাহাকে এ-সব বুঝাইয়া ফল নাই। সে ছাত্র কয়টি লইয়া বেশ মনের সুখেই আছে দেখিলাম। আরণ্যক Se আমার এই বনভূমির একপ্ৰান্ত যেন সেকালের ঋষিদের আশ্রম হইয়া উঠিয়াছে মািটুকনাথের কৃপায় । টোলের ছাত্ররা কলরব করিয়া পড়াশুনা করে, মুগ্ধবোধের Pত্র আওড়ায়, কাছারির লাউ-কুমড়ার মাচা হইতে ফল চুরি করে, ফুলগাছের ডালপাতা ভাঙিয়া ফুল লইয়া যায়, এমন কি মাঝে মাঝে কাছারির লোকজনের জিনিসপত্রও চুরি যাইতে লাগিল-সিপাহীরা বলাবলি করিতে লাগিল, টোলের SC3 is একদিন নায়েবের ক্যাশবাক্স খোলা অবস্থায় তাহার ঘরে পড়িয়া ছিল। কে তাহার মধ্য হইতে কয়েকটি টাকা ও নায়েবের একটি ঘষা মারা-সোনার আংটি চুরি করিল। তাহা লইয়া খুব হৈ হৈ করিল সিপাহীরা। মটুকনাথের এক ছাত্রের কাছে কয়েকদিন পরে আংটিটিা পাওয়া গেল। সে কোমরের ঘুনাসিতে বাধিয়া রাখিয়াছিল, কে দেখিতে পাইয়া কাছারিতে আসিয়া বলিয়া দিল । ছাত্র বামাল-সুদ্ধ ধরা পড়িল । আমি মটু কানাথকে ডাকাইয়া পঠাইলাম। সে সত্যই নিরীহ লোক, তাহার ভালমানুষির সুযোগ গ্ৰহণ করিয়া দুৰ্দান্ত ছাত্রেরা যাহা খুশি করিতেছে। টোল ভাঙিবার দরকার নাই, অন্তত কয়েকজন ছাত্রকে তাড়াইতেই হইবে । বাকি যাহারা থাকিতে চায়, আমি জমি দিতেছি, উহারা নিজের মাথার ঘাম পায়ে ফেলিয়া জমিতে কিছু কিছু মকাই, চীনা ঘাস ও তরকারির চাষ করুক। খাদ্য শস্য যাহা উৎপন্ন হইবে, তাহাতেই উহাদের চলিবে । মটুকনাথ এ-প্ৰস্তাব ছাত্রদের কাছে করিল। বারো জন ছাত্রের মধ্যে আটBDD LOBBBDL KDBDBDSSS CDYO BBBD LDBDSSYStD DBDDD DDD D DBDS রাগের জন্য নয়, নিতান্ত কোথাও উপায় নাই বলিয়া । পূর্বে মহিব চরাইত, এখন না-হয় চাষ করিবে । সেই হইতে মটুকনাথের টোল চলিতেছে মন্দ নয়। & ছটু সিং ও অন্যান্য প্রজাদের জমি বিলি হইয়া গিয়াছে। সৰ্বমুদ্ধ প্ৰায় দেড় 'Ob- अieyक হাজার বিঘা জমি। নাঢ়া বইহারের জমি অত্যন্ত উর্বর বলিয়া ঐ অংশেই দেড় হাজার বিঘা জমি এক সঙ্গে উহাদের দিতে হইয়াছে। সেখানকার প্রান্তরসীমার বনানী অতি শোভাময়ী, কতদিন সন্ধ্যাবেলা ঘোড়ায় আসিবার সময়ে সে বন দেখিয়া মনে হইয়াছে, জগতের মধ্যে নাঢ়া বইহারের এই বন একটা বিউটি স্পট-গোল সে বিউটি স্পট ! দূর হইতে দেখিতাম বনে আগুন দিয়াছে, খানিকটা পোড়াইয়া না ফেলিলে ঘন দুৰ্ভেদ্য জঙ্গল কাটা যায় না। কিন্তু সব জায়গায় তা বন নাই, দিগন্তব্যাপী প্ৰান্তরের ধারে ধারে নিবিড় বন, হয়ত প্ৰান্তরের মাঝে মাঝে বন-ঝোপ, কত কি লতা, কত কি বনকুসুম । • • • চট্ৰ চন্টু শব্দ করিয়া বন পুড়িতেছে, দূর হইতে শুনি-ক’ত শোভাময় লতাবিতান ধ্বংস হইয়া গেল, বসিয়া বসিয়া ভাবি । কেমন একটা কষ্ট হয় বলিয়া ওদিকে যাই না । দেশের একটা এত বড় সম্পদ, মানুষের মনে যাহা চিরদিন শান্তি ও আনন্দ পরিবেষণা করিতে পারিত-একমুষ্টি গমের বিনিময়ে তাহা বিসর্জন দিতে হইল। কাত্তিক মাসের প্রথমে একদিন জায়গাটা দেখিতে গেলাম। সমস্ত মাঠটিতে সরিষা বপন করা হইয়াছে-মাঝে মাঝে লোকজনেরা ঘর বাধিয়া বাস করিতেছে, ইহার মধ্যেই গরু-মহিষ, স্ত্রী-পুত্ৰ আনিয়া গ্ৰাম বসাইয়া ফেলিয়াছে। শীতকালের মাঝামাঝি যখন সর্ষেক্ষেত হলুদ ফুলে আলো করিয়াছে, তখন যে দৃশ্য চোখের সম্মুখে উন্মুক্ত হইল, তাহার তুলস্থা নাই। দেড় হাজার বিঘা ব্যাপী একটা বিরাট প্রান্তর দূরদিশ্বলয়সীমা পৰ্য্যন্ত হলুদ রঙের গালিচায় ঢাকা- এর মধ্যে ছেদ নাই, বিরামনাই-উপরে নীল আকাশ,ইন্দ্ৰনীলমণির মত নীল- তার তলায় হলুদ-হলুদ রঙের ধরণী, যতদূর দৃষ্টি যায়। ভাবিলাম, এও একরকম মন্দ নয়। একদিন নূতন গ্রামগুলি পরিদর্শন করিতে গেলাম। ছটু সিং বাদে সকলেই গরিব প্ৰজা । তাহাদের জন্য একটি নৈশ স্কুল করিয়া দিব ভাবিলাম-অনেক ছোট ছোট ছেলেমেয়েকে সর্ষেক্ষেতের ধারে ধারে ছুটিাছুটি করিয়া খেলা করিতে দেখিয়া আমার নৈশ স্কুলের কথা আগে মনে পড়িল । আরণ্যক SN9Qb কিন্তু শীঘ্রই নূতন প্ৰজারা ভয়ানক গোলমাল বাধাইল। দেখিলাম ইহারা মোটেই শান্তিপ্ৰিয় নয়। একদিন কাছারিতে বসিয়া আছি, খবর আসিল নাঢ়া বইহারের প্রজারা নিজেদের মধ্যে ভয়ানক দাঙ্গা শুরু করিয়াছে। জমির আলি নিদিষ্ট কিছু না থাকাতেই এই গোলমাল বাধিয়াছে, যাহার প্যাচ-বিঘা জমি সে দশ-বিঘা জমির ফসল দখল করিতে বসিয়াছে। আরও শুনিলাম সর্ষে পাকিবার কিছুদিন আগে ছটু সিং নিজের দেশ হইতে বহু রাজপুত লাঠিয়াল ও সড়কিওয়ালা গোপনে আনিয়া রাখিয়াছিল, তাহার আসল উদ্দেশ্য এখন বোঝা যাইতেছে । নিজের তিন-চার শ বিঘা। আবাদী জমির ফসল বাদে সে লাঠির জোরে সমস্ত নাঢ়া বইহারের দেড় হাজার বিঘা ( বা যতটা পারে ) জমির ফসল দখল করিতে চায়। কাছারির আমলাৱা বলিল-এ-দেশের এই নিয়ম হুজুর। লাঠি যার ফসল ९ङiद्र ! যাহাদের লাঠির জোর নাই, তাহার কাছারিতে আসিয়া আমার কাছে কঁদিয়া পড়িল । তাহারা নিরীহ গরিব গাঙ্গোতো প্ৰজা-সামান্য দু-দশ বিঘা জমি জঙ্গল কাটিয়া চাষ করিয়াছিল, স্ত্রী-পুত্ৰ আনিয়া জমির ধারেই ঘর-বাড়ী তৈরী করিয়া বাস করিতেছিল- এখন সারা বছরের পরিশ্রমের ও আশার সামগ্ৰী প্ৰবলের অত্যাচারে যাইতে বসিয়াছে ! কাছারির দুইজন সিপাহীকে ঘটনাস্থলে পাঠাইয়াছিলাম ব্যাপার কি দেখিতে । তাহারা উৰ্দ্ধশ্বাসে ছুটিয়া আসিয়া জানাইল-ভীমদাস টোলার উত্তর সীমায় ভয়ানক দাঙ্গা বাধিয়াছে। তখনই তহশীলদার সজ্জন সিং ও কাছারির সমস্ত সিপাইদের লইয়া ঘোড়ায় করিয়া ঘটনাস্থলে রওনা হইলাম। দূর হইতেই একটা হৈ হৈ গোলমাল কানে আসিল । নাঢ়া বইহারের মাঝখান দিয়া একটি ক্ষুদ্র পাৰ্ব্বত্য নদী বহিয়া গিয়াছে।--গোলমালটা যেন সেদিকেই বেশী। নদীর ধারে গিয়া দেখি নদীর দুইপারেই লোক জড় হইয়াছে-প্ৰায় ষাট-সত্তর জন এপারে, ওপারে ত্রিশ-চল্লিশ জন ছটু সিংএর রাজপুত লাঠিয়াল। ওপারের S80 ख्rojक লোক এপারে আসিতে চায়, এপারের লোকেরা বাধা দিতে দাড়াইয়াছে। ইতিমধ্যে জন-দুই লোক জখমও হইয়াছে।--তাহারা এপারের দলের । জখম হইয়া নদীর জলে পড়িয়াছিল, সেই সময় ছটু সিংএর লোকেরা টাঙি দিয়া একজনের মাথা কাটিতে চেষ্টা করে-এ-পক্ষ ছিনাইয়া নদী হইতে উঠাইয়া আনিয়াছে । নদীতে অবশ্য পা ডোবে না। এমনি জল, পাহাড়ী নদী তার উপর শীতের শেষ । কাছারির লোকজন দেখিয়া উভয় পক্ষ দাঙ্গা থামাইয়া আমার কাছে আসিল । প্ৰত্যেক পক্ষ নিজেদের যুধিষ্ঠির এবং অপর পক্ষকে দুৰ্য্যোধন বলিয়া অভিহিত করিতে লাগিল । সে হৈ হৈ কলরবের মধ্যে ন্যায়-অন্যায় নিৰ্দ্ধারণ করা সম্ভব নয়। উভয় পক্ষকে কাছারিতে আসিতে বলিলাম। আহত লোক দুটির সামান্য লাঠির চোট লাগিছিল, এমন গুরুতর জখম কিছু নয়। তাহাদেরও কাছারিতে शई भी अनिलiभ ! ছটু সিং-এর লোকেরা বলিল, দুপুরের পরে তাহার কাছারিতে আসিয়া দেখা করিবে । ভাবিলাম, সব মিটিয়া গেল। কিন্তু তখনও আমি এদেশের লোক চিনি নাই। দুপুরের অল্প পরেই আবার খবর আসিল নাঢ়া বইহারে ঘোর দাঙ্গা বাধিয়াছে । আমি পুনরায় লোকজন লইয়া ছুটিলাম। একজন ঘোডসওয়ার পনের মাইল দূৰ্ববৰ্ত্তী নিউগাছিয়া থানায় রওনা করিয়া দিলাম। গিয়া দেখি ঠিক ও-বেলার মতই ব্যাপার। ছটু সিং এবেলা আরও অনেক লোক জড় করিয়া আনিয়াছে। শুনিলাম রাসবিহারী সিং রাজপুত ও নন্দলাল ওঝা গোলাওয়ালা ছটু সিংকে সাহায্য করিতেছে। ছটু সিং ঘটনাস্থলে ছিল না, তাহার ভাই গজাধর সিং ঘোড়ায় চাপিয়া কিছুদূরে দাডাইয়া ছিল--"আমায় আসিতে দেখিয়া সরিয়া পড়িল । এবার দেখিলাম রাজপুতদলের দুজনের হাতে বন্দুক রহিয়াছে। ওপার হইতে রাজপুতেরা হাকিয়া বলিল-হুজুর, সরে যান। আপনি, আমরা একবার এই বঁাদীর বাচ্চ গাঙ্গোতাদের দেখে নিই ! আমার দলবল গিয়া আমার হুকুমে উভয় দলের মাঝখানে দাড়াইল। আমি তাহাদিগকে জানাইলাম নিউগাছিয়া থানায় খবর গিয়াছে, এতক্ষণ পুলিস অৰ্দ্ধেক আরণ্যক S8S রাস্ত আসিয়া পড়িল । ওসব বন্দুক কার নামে ? বন্দুকের আওয়াজ করিলে DBBDDYY DBDBS DDD BDBDBDB BDDSS বন্দুকধারী লোক দুজন একটু পিছাইয়া পড়িল । আমি এপারের গাঙ্গোত প্ৰজাদের ডাকিয়াবলিলাম--তাহাদের দাঙ্গা করিবার কোন দরকার নাই । তাহারা যে যার জায়গায় চলিয়া যাক । আমি এখানে আছি । আমার সমস্ত আমলা ও সিপাহীরা আছে। ফসল লুঠ হয়। আমি দায়ী । গাঙ্গোতা-দলের সর্দার আমার কথার উপর নির্ভর করিয়া নিজের লোকজন হঠাইয়া কিছুদূরে একটা বাকাইন গাছের তলায় দাড়াইল। আমি বলিলামওখানেও না। একেবারে সোজা বাড়ী গিয়ে ওঠে। পুলিস আসছে। রাজপুতেরা অত সহজে দমিবার পাত্ৰই নয়। তাহার ওপারে দাড়াইয়া নিজেদের মধ্যে কি পরামর্শ করিতে লাগিল। তহশীলদারকে জিজ্ঞাসা করিলাম, কি ব্যাপার সজ্জন সিং ? আমাদের উপর চড়াও হবে না কি ? তহশীলদার বলিল, হুজুর, ওই যে নন্দলাল ওঝা গোলাওয়ালা জুটেছে, ওকেই ভয় হয় । ও বদমাসটা আস্ত ডাকাত । - তাহ’লে তৈরী হয়ে থাকে । নদী পার কাউকে হ’তে দেবে না। ঘণ্টা দুই সামলে রাখো, তার পরেই পুলিস এসে পড়বে। রাজপুতেরা পরামর্শ করিয়া কি ঠিক করিল জানি না, একদল আগাইয়া আসিয়া বলিল-হুজুর, আমরা ওপারে যাব। বলিলাম, কেন ? -আমাদের কি ওপারে জমি নেই ? -পুলিসের সামনে সে কথা বোলো । পুলিস তো এসে পড়ল। আমি তোমাদের এপারে আসতে দিতে পারিনে । --কাছারিতে একরাশ টাকা সেলামী দিয়ে জমি বন্দোবস্ত নিয়েছি কি ফসল লোকসান করবার জন্যে ? এ আপনার অন্যায় জুলুম। -সে কথাও পুলিসের সামনে বোলো । S8& আরণ্যক --আমাদের ওপারে যেতে দেবেন না ? --না, পুলিস আসবার আগে নয়। আমার মহালে আমি দাঙ্গা হ’তে দেবো না। ইতিমধ্যে কাছারির আরও লোকজন আসিয়া পড়িল । ইহারা আসিয়া রব উঠাইয়া দিল, পুলিস আসিতেছে। ছটু সিং-এর দল ক্রমশ দু-একজন করিয়া সরিয়া পড়িতে লাগিল। তখনকার মত দাঙ্গা বন্ধ হইল বটে, কিন্তু মারপিট, পুলিস-হাঙ্গামা, খুন-জখমের সেই যে সূত্রপাত হইল, দিন দিন তাহ বাড়িয়া চলিতে লাগিল বই কমিল না। আমি দেখিলাম ছটু সিং-এর মত দুৰ্দান্ত রাজপুতকে এক সঙ্গে অতটা জমি বিলি করিবার ফলেই যত গোলমালের সৃষ্টি । ছটু সিংকে একদিন ডাকাইলাম। সে বলিল, এসবের বিন্দুবিসর্গ সে জানে না। সে অধিকাংশ সময় ছাপরায় থাকে । তার লোকেরা কি করে না-করে তার জন্য সে কি করিয়া দায়ী ? বুঝিলাম লোকটা পাকা ঘুঘু। সোজা কথায় এখানে কাজ হইবার সম্ভাবনা নাই। ইহাকে জব্দ করিতে হইলে অন্য পথ দেখিতে হইবে । সেই হইতে আমি গাঙ্গোত প্ৰজা ভিন্ন অন্য কোন লোককে জমি দেওয়া একেবারে বন্ধ করিয়া দিলাম। কিন্তু যে-ভুল আগেই হইয়া গিয়াছে, তাহার কোন প্ৰতিকার আর হইল না। নাঢ়া বইহারের শান্তি চিরদিনের জন্য ঘুচিয়া গেল। ع আমাদের বারো মাইল দীর্ঘ জংলী-মহালের উত্তর অংশে প্ৰায় পাঁচ-ছ'শ'একর জমিতে প্ৰজা বসিয়া গিয়াছে। পৌষ মাসের শেষে একদিন সেদিকে যাইবার দরকার হইয়াছিল-গিয়া দেখি এর এ-অঞ্চলের চেহারা বদলাইয়া দিয়াছে। ফুলকিয়ায় জঙ্গল হইতে হঠাৎ বাহির হইয়া চোখে পড়িল সামনে দিগন্তবিস্তীর্ণ ফুল-ফোটা সর্ধেক্ষেত-যতদূর চোখ যায়, ডাইনে, বায়ে, সামনে, একটানা হলদে। ফুল-তোলা একখানা সুবিশাল গালিচা কে যেন পাতিয়া গিয়াছে’-এর কোথাও एriorक y89 বাধা নাই, ছেদ নাই, জঙ্গলের সীমা হইতে একেবারে বহু, বহু দূরের চক্রবালরেখায় নীল শৈলমালার কোলে মিশিয়াছে। মাথার উপরে শীতকালের নিৰ্ম্মেঘ নীল আকাশ। এই অপরূপ শস্য-ক্ষেত্রের মাঝে মাঝে প্রজাদের কাশের খুপূিরি। স্ত্রীপুত্ৰ লইয়া এই দুৱন্ত শীতে কি করিয়া তাহারা যে এই কাশ-ডাটার বেডা-ঘেরা কুটিরে এই উন্মুক্ত প্ৰাস্তরের মধ্যে বাস করে । ফসল পাকিবার সময়ের আর বেশী দেরি নাই। ইহারই মধ্যে কাটুনী মজুরের দল নানাদিক হইতে আসিতে শুরু করিয়াছে । ইহাদের জীবন বড় অদ্ভুত,- পূৰ্ণিয়া, তরাই ও জয়ন্থীর পাহাড়-অঞ্চল ও উত্তর ভাগলপুর হইতে স্ত্রী-পুত্ৰ লইয়া ফসল পাকিবার সময় ইহারা আসিয়া ছোট ছোট কুঁড়েঘর নিৰ্ম্মাণ করিয়া বাস করে ও জমির ফসল কাটে-ফসলের একটা অংশ মজুরি স্বরূপ পায় । আবার ফসল কাটা শেষ হইয়া গেলে কুঁডেঘর ফেলিয়া রাখিয়া স্ত্রী পুত্ৰ লইয়া চলিয়া যায়। আবার আর বছর আসিবে । ইহাদের মধ্যে নানা জাতি আছে-বেশীর ভাগই গাঙ্গোতা কিন্তু ছত্রী, ভূমিহারািব্রাহ্মণ, মৈথিলি ব্ৰাহ্মণ পৰ্য্যন্ত আছে। এ-অঞ্চলের নিয়ম, ফসল কাটিবার সময়ে ক্ষেতে বসিয়া খাজনা আদায় করিতে হয়-নয়ত এত গরিব প্ৰজা, ফসল ক্ষেত হইতে উঠিয়া গেলে আর খাজান দিতে পারে না । খাজানা আদায় তদারকি করিবার জন্য দিনকতক আমাকে ফুলকিয়া বইহারের দিগন্তবিস্তীৰ্ণ শস্যক্ষেত্রের মধ্যে থাকিবার দরকায় হইল । তহশীলদার বলিল-ওখানে তাহ’লে ছোট তেঁাবুটা খাটিয়ে দেব ? -একদিনের মধ্যেই ছোট একটি কাশের খুপরি ক’রে দাও না ? -এই শীতে তাতে কি থাকতে পারবেন, হুজুর ? -খুব। তুমি তাই কর। তাহাই হইল। পাশাপাশি তিন-চারটা ছোট ছোট কাশের কুটির, একটা আমার শয়ন ঘর, একটা রান্নাঘর, একটাতে দুজন সিপাহী ও পাটোয়ারী থাকিবে। এ-ধরণের ঘরকে এদেশে বলে ‘খুপরি’-দরজা-জানালার বদলে কাশের বেড়ার S88 छांद्र°रु খানিকটা করিয়া কাটা-বন্ধ করিবার উপায় নাই-হু হু হিম আসে রাত্রে । এত নীচু যে হামাগুড়ি দিয়া ভিতরে ঢুকিতে হয়। মেঝেতে খুব পুরু করিয়া শুকনো কাশ ও বন-ঝাউয়ের সুটি বিছানো--তাহার উপর শতরঞ্জি, তাহার উপর তোষক-চাদর পাতিয়া ফরাস করা। আমার খুপড়িটি দৈর্ঘ্যে সাত হাত, প্রস্থে তিনি হাত । সোজা হইয়া দাড়ানো অসম্ভব ঘরের মধ্যে, কারণ উচ্চতায় भांबा डिन शोऊ । কিন্তু বেশ লাগে এই খুপারি। এত আরাম ও আনন্দ কলিকাতায় তিনচারতলা বাড়ীতে থাকিয়াও পাই নাই । তবে বোধ হয় আমি দীর্ঘদিন এখানে থাকিবার ফলে বন্য হইয়া যাইতেছিলাম, আমার রুচি, দৃষ্টিভঙ্গি, ভাল-মন্দ লাগা সবেরই উপর এই মুক্ত অরণ্য-প্ৰকৃতির অল্প-বিস্তর প্রভাব আসিয়া পড়িয়াছিল, তাই এমন হইতেছে কিনা কে জানে ? খুপরিতে ঢুকিয়া প্ৰথমেই আমার ভাল লাগিল সদ্য কাটা কাশ-ডাঁটার তাজা সুগন্ধটা, যাহা দিয়া থুপরির বেড়া বাধা । তাহার পর ভাল লাগিল আমার মাথার কাছেই এক বৰ্গহাত পরিমিত ঘুলঘুলিপথে দৃশ্যমান, অৰ্দ্ধশায়িত অবস্থায় আমার দুটি চােখে দৃষ্টির প্রায় সমতলে অবস্থিত ধূ-ধূ বিস্তীর্ণ সর্ধেক্ষেতের হলদে ফুলরাশি। এ-দৃশ্যটা একেবারে অভিনব, আমি যেন একটা পৃথিবীজোড়া হলদে কার্পেটের উপরে শুইয়া আছি। হু-হু হাওয়ায় তীব্র বাজালো সর্ষেফুলের গন্ধ । শীতও যা পড়িতে হয় পড়িয়াছিল। পশ্চিমে হাওয়ার একদিনও কামাই ছিল না, আমন কড়া রৌদ্র যেন ঠাণ্ডা জল হইয়া যাইত কনকনে পশ্চিমা হাওয়ার প্ৰাবল্যে । বইহারের বিস্তৃত কুল-জঙ্গলের পাশ দিয়া ঘোড়া করিয়া ফিরিবার সময় দেখিতাম দুরে তিরাশী-চৌকার অনুচ্চ নীল পাহাড়শ্রেণীর ওপারে শীতের সূৰ্য্যাস্ত। সারা পশ্চিম আকাশ অগ্নিকোণ হইতে নৈঋত কোণ পৰ্য্যস্ত রাঙা হইয়া যায়, তরল আগুনের সমুদ্র, হু হু করিয়া প্ৰকাণ্ড অগ্নিগোলকের মত বড় সুৰ্য্যটা নামিয়া পড়ে-মনে হয় পৃথিবীর আহ্নিক গতি যেন প্ৰত্যক্ষ করিতেছি, বিশালভূপৃষ্ঠ যেন আরণ্যক S8 পশ্চিম দিক হইতে পূর্বে ঘূরিয়া আসিতেছে, অনেকক্ষণ চাহিয়া থাকিলে দৃষ্টিবিভ্রম উপস্থিত হইত, সত্যই মনে হইত যেন পশ্চিম দিকচক্রবাল-প্ৰান্তের ভূপৃষ্ঠ আমার অবস্থিতি-বিন্দুর দিকে ঘুরিয়া আসিতেছে। রোদটুকু মিলাইয়া যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেজায় শীত পড়িত, আমরাও সারাদিনের গুরুতর পরিশ্রম ও ঘোড়ায় ইতস্তত ছুটাছুটির পরে সন্ধ্যাবেলা প্ৰতিদিন আমার খুপরির সামনে আগুন জালিয়া বসিতাম। সঙ্গে সঙ্গে অন্ধকারাবৃত বন্যপ্ৰান্তরের উৰ্দ্ধাকাশে অগণ্য নক্ষত্ৰলোক কত দূরের বিশ্বরাজির জ্যোতির দূতরূপে পৃথিবীর মানুষের চক্ষুর সম্মুখে দেখা দিত। আকাশে নক্ষত্র।রাজি জ্বলিত যেন জ্বলজ্বলে বৈদ্যুতিক বাতির মত-বাংলা দেশে অমন কৃত্তিকা, অমান সপ্তর্ষিমণ্ডল কখনও দেখি নাই। দেখিয়া দেখিয়া তাহাদেৱ সঙ্গে নিবিড় পরিচয় হইয়া গিয়াছিল, নীচে ঘন অন্ধকার, বনানী, নিৰ্জনতা, রহস্যময়ী রাত্রি, মাথার উপরে নিত্যসঙ্গী অগণ্য জ্যোতিলোেক । এক-একদিন এক ফালি অবাস্তব চাদ অন্ধকারের সমুদ্রে সুদূর বাতিঘরের আলোর মত দেখাইত । আর সেই ঘনকৃষ্ণ অন্ধকারকে আগুনের তীক্ষ্ণ তীর দিয়া সোজা কাটিয়া এদিকে ওদিকে উস্কা খসিয়া পড়িতেছে । দক্ষিণে, উত্তরে, ঈশানে, নৈঋতে, পূৰ্ব্বে, পশ্চিমে সব দিকে । এই একটা, ওই একটা, ওই দুটো, এই আবার একটা, মিনিটে মিনিটে, সেকেণ্ডে সেকেণ্ডে । এক-একদিন গনোৱী তেওয়ারী ও আরও অনেকে তঁবুতে আসিয়াৎজাটে । নানা রকম গল্প হয়। এইখানেই একদিন একটা অদ্ভুত গল্প শুনিলাম। কথায় কথায় সেদিন শিকারের গল্প হইতেছিল। মোহনপুৱা জঙ্গলের বন্য-মহিষের কথা উঠিল। দশরথ সিং ঝাণ্ডাওয়ালা নামে এক রাজপুত সেদিন লবটুলিয়া কাছারিতে চরির ইজারা ডাকিতে উপস্থিত ছিল। লোকটা এক সময়ে খুৰ বনে-জঙ্গলে ঘুরিয়াছে, দুদে শিকারী বলিয়া তার নাম আছে। দশরথ ঝাণ্ডাওয়ালা বলিল-হুজুর, ওই মোহনপুৱা জঙ্গলে বুনো মহিষ শিকার করতে LBDt BDDBD LDD LDS S89 আরণ্যক মনে পড়িল গনু মাহাতো একবার এই টাড়িবারোর কথা বলিয়াছিল বটে। बक्रिगांभ-दJi°ांब्राँ किं ? --হুজুর, সে অনেক দিনের কথা। কুশী নদীর পুল তখনও তৈরী হয় নি । কাটারিয়ায় জোড়া খেয়া ছিল, গাড়ীর প্যাসেঞ্জার খেয়ায় মালসুদ্ধ পারাপার হ’ত। আমরা তখন ঘোড়ার নাচ নিয়ে খুব উন্মত্ত, আমি আর ছাপারার ছটু সিং। ছটু সিং হরিহরছাত্র মেলা থেকে ঘোড়া নিয়ে আসত, আমরা দুজন সেই সব ঘোড়াকে নাচ শেখাতাম, তার পর বেশী দামে বিক্রী করতাম। ঘোড়ার নাচ দুরকম, জমৈতি আর ফনৈতি। জমৈতিতে যে-সব ঘোড়ার তালিম বেশী, তারা বেশী দামে বিক্ৰী হয়। ছটু সিং ছিল জমৈতি নাচ শেখাবার ওস্তাদ । দুজনে তিন-চার বছরে অনেক টাকা করেছিলাম । একবার ছটু সিং পরামর্শ দিলে ঢোলবাজ্য জঙ্গলে লাইসেন্স নিয়ে বুনো মহিষ ধরে ব্যবসা করতে। সব ঠিকঠাক হ’ল, ঢোলবাজ্য দ্বারভাঙ্গা মহারাজের রিজার্ভ ফরেস্ট। আমরা কিছু টাকা খাইয়ে বনের আমলাদের কাছ থেকে পোরমিটু আনালাম। তারপর ক'দিন ধরে ঘন জঙ্গলের মধ্যে বুনো মহিষের যাতায়াতের পথের সন্ধান ক’রে বেড়াই । অত বড় বন হুজুর, একটা বুনো মহিষের দেখা যদি কোন দিন মেলে! শেষে এক বুনো সাঁওতাল লাগালাম। সে একটা বঁাশবনের তলা দেখিয়ে বললে, গভীর রাত্রে এই পথ দিয়ে বুনো মহিষের জেরা (দল) জল খেতে যাবে। সেই পথের মধ্যে গভীর খান কেটে তার ওপর বঁাশ ও মাটি বিছিয়ে ফাদ তৈরী করলাম। রাত্রে মহিষের জেরা যেতে গিয়ে গৰ্ত্তের মধ্যে পড়বে। সাঁওতালটা দেখে-শুনে বললে-কিন্তু সব করছিস বটে তোরা, একটা কথা আছে। ঢোলবাজ্য জঙ্গলের বুনো মহিষ তোরা মারতে পাৱবি নে। এখানে টাড়বারো আছে । आभद्रा ड अवांक । एियांग्रा कि ? সাঁওতাল বুড়ো বললে-টাড়িবারো হ’ল বুনো মহিষের দলের দেবতা। সে একটাও বুনো মহিষের ক্ষতি করতে দেবে না। আরণ্যক S8 ছটু সিং বললে-ওসব বুন্টু কথা। আমরা মানি নে। আমরা রাজপুত, नts७ॉल नई । তার পর কি হ’ল শুনলে অবাক হয়ে যাবেন হুজুর। এখনও ভাবলে আমার K D BBB SS S BDD DLDB BDDD DDD gDB DBBKLLDDD DBDDBDB অন্ধকারে নিঃশব্দে দাড়িয়ে আছি, বুনো মহিষের দলের পায়ের শব্দ শুনলাম, তারা এদিকে আসছে। ক্রমে তারা খুব কাছে এল, গৰ্ত্ত থেকে পঞ্চাশ হাতের মধ্যে। হঠাৎ দেখি গৰ্ত্তের ধারে, গৰ্ত্তের দশ হাত দূরে এক দীর্ঘাকৃতি কালোমত পুরুষ নিঃশব্দে হাত তুলে দাড়িয়ে আছে। এত লম্বা সে-মূৰ্ত্তি, যেন মনে হ’ল বঁাশঝাড়ের আগায় ঠেকেছে। বুনো মহিষের দল তাকে দেখে থমকে দাড়িয়ে গেল, তারপরে ছত্ৰভঙ্গ হ’য়ে এদিক ওদিক পালাল, ফঁাদের ত্ৰিসীমানাতে এল DD gBBDSS SBDBDD BDBODO DBDB D DBDYBDS BDYDBD 00D YzS তারপর আরও দু-একজন শিকারীকে কথাটা জিজ্ঞেস করেছি, তারা আমাদের বললে, ও-জঙ্গলে বুনো মহিষ ধরবার আশা ছাড়া। টাড়বারো একটা মহিষ ও মারতে ধরতে দেবে না। আমাদের টাকা দিয়ে পোৱামিটু আনানো সার হ’ল, একটা বুনো মহিষও সেবার ফঁাদে পড়ল না। দশরথ ঝাণ্ডাওয়ালার গল্প শেষ হইলে লবটুলিয়ার পাটোয়ারীও বলিলআমরাও ছেলেবেলা থেকে ট্যান্ডবারোর গল্প শুনে আসছি। টাড়বারো বুনো মহিষের দেবতা-বুনো মহিষের দল বেঘোরে প’ড়ে প্ৰাণ না হারায়, সে দিকে তঁর সর্বদা দৃষ্টি । গল্প সত্য কি মিথ্যা আমার সে-সব দেখিবার আবশ্যক ছিল না, আমি গল্প শুনিতে শুনিতে অন্ধকার আকাশে জ্যোতিৰ্ম্ময় খড়গধারী কালপুরুষের দিকে চাহিতাম, নিস্তব্ধ ঘন বনানীর উপর অন্ধকার আকাশ উপুড় হইয়া পড়িয়াছে, দূরে কোথায় বনের মধ্যে বন্য কুকুট ডাকিয়া উঠিল, অন্ধকার ও নিঃশব্দ আকাশ, অন্ধকার ও নিঃশব্দ পৃথিবী শীতের রাত্রে পরস্পরে কাছাকাছি আসিয়া কি যেন কানাকানি করিতেছে- অনেক দূরে মোহনপুরা অরণ্যের কালো সীমা রেখার দিকে চাহিয়া এই অশ্রুতপূর্ব বনদেবতার কথা মনে হইয়া শস্ত্রীর যেন শিহরিয়া উঠিত। এই সব গল্প শুনিতে ভাল লাগে, এই রকম নির্জন অরণ্যের মাঝখানে ঘন শীতের রাত্রে এই রকম আগুনের ধারেই বসিয়া।