আরণ্যক/পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন



পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ

ধাওতাল সাস্থ মহাজনের কাছে আমাকে একবার হাত পাতিতে হইল। আদায় সেবার হইল কম, অথচ দশ হাজার টাকা রেভিনিউ দাখিল করিতেই হইবে। তহসিলদার বনোয়ারীলাল পরামর্শ দিল, বাকী টাকাটা ধাওতাল সার কাছে কর্জ করুন। আপনাকে সে নিশ্চয়ই দিতে আপত্তি করিবে না। ধাওতাল সাহু আমার মহালের প্রজা নয়, সে থাকে গবর্ণমেন্টের খাসমহালে। আমাদের সতে তার কোন প্রকার বাধ্যবাধকতা নাই, এ অবস্থায় সে যে এক কথায় আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে হাজার-তিনেক টাকা ধার দিবে, এ বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ ছিল।

 কিন্তু গরজ বড় বালাই। একদিন বনোয়ারীলালকে সঙ্গে লইয়া গোপনে গেলাম ধাওতাল সাহুর বাড়ী, কারণ কাছারি অপর কাহাকেও জানিতে দিতে চাহি না যে টাকা কর্জ করিয়া দিতে হইতেছে।

 ধাওতাল সাহুর বাড়ী পওসদিয়ার একটা ঘিঞ্জি টোলার মধ্যে। বড় একখানা খোলার চালার সামনে থানকতক দড়ির চারপাই পাতা। ধাওতাল সাই উঠানের এক পাশের তামাকের ক্ষেত নিড়ানি দিয়া পরিষ্কার করিতেছিলআমাদের দেখিয়া শশব্যস্ত ছুটিয়া আসিল, কোথায় বসাইবে, কি করিবে ভাবিয়া পায় না, খানিকক্ষণের জন্যে যেন দিশাহারা হইয়া গেল।

 - একি! হুজুর এসেছেন গরীবের বাড়ী, আন, আসুন। বন হুজুর। আসুন তহসিলদার সাহেব।

 ধাওতাল সাহুর বাড়ীতে চাকরবাকর দেখিলাম না। তাহার একজন হৃষ্টপুষ্ট নাতি, নাম আমলখিয়া, সে-ই আমাদের জন্য ছুটাছুটি করিতে লাগিল। বাড়ীঘর আসবাবপত্র দেখিয়া কে বলিবে ইহা লক্ষপতি মহাজনের বাড়ী।

 রামলখিয়া আমার ঘোড়র পিঠ হইতে জিন খুরপাচ খুলিয়া ঘোড়াকে ছায়ায় Seo 邸町夺 বঁধিলা। আমাদের জন্য পা ধুইবার জল আনিল। ধাওতাল সাহু নিজেই একখানা তালের পাখা দিয়া বাতাস করিতে লাগিল। সাহুজীর এক নাতনী তামাক সাজিতে ছুটিল। উহাদের যত্নে বড়ই বিব্রত হইয়া উঠিলাম। বলিলাম-ব্যন্ত হবার দরকার নেই সাহাঙ্গী, তামাক আনতে হবে না, আমার কাছে চুরুট আছে। যত আদর-আপ্যায়নই করুক, আসল ব্যাপার সম্বন্ধে কথা পাড়িতে একটু সমীহ হইতেছিল, কি করিয়া কথাটা পাড়ি ? ধাওতাল সাহু বলিল--ম্যানেজার সাহেব কি এদিকে পাখী মারতে এসেছিলেন ? --না, তোমার কাছেই এসেছিলাম সাহুল্পী । -আমার কাছে হুজুর ? কি দরকার বলুন তো ? -আমাদের কাছারির সদর খাজনার টাকা কম পড়ে গিয়েছে, সাড়ে তিন হাজার টাকার বড় দরকার, তোমার কাছে সেজন্যেই এসেছিলাম। মৰীয়া হইয়াই কথাটা বলিয়া ফেলিলাম, বলিতেই যখন হইবে। EDBDBB BD DBB DDD DDD DBBYSiuBB BLB DBD DDB DD হজুৱা ? সে হয়ে যাবে এখন, তবে তার জন্যে কষ্ট করে আপনার আসবার দরকার কি ছিল ? একখানা চিরকুট লিখে তহসিলদার সাহেবের হাতে পাঠিয়ে দিলেই আপনার হুকুম তামিল হ’ত । মনে ভাবিলাম এখন আসল কথাটা বলিতে হইরে। টাকা আমি ব্যক্তিগত ভাবে লইব, কারণ জমিদারের নামে টাকা কার্জ করিবার আমমোক্তাৱনাম আমার নাই। একথা শুনিলেও ধাওতাল কি আমায় টাকা দিবে ? বিদেশী লোক আমি । আমার কি সম্পত্তি আছে। এখানে যে এতগুলি টাকা বিনা বন্ধকে আমায় দিবে ? কথাটা একটু সমীহের উপরই বলিলাম। ASLKDS BEEB DD LBDD DDBD DBDDBD DBBDSS BDDBDD নামে হবে না । ধাওতাল সাহু আশ্চৰ্য্য হইবার সুৱে বলিল-লেখাপড়া কিসের ? আপনি अiमभक SY আমার বাড়ী ব’য়ে এসেছেন সামান্য টাকার অভাব পড়েছে, তাই নিতে। এ তো আসবার দরকারই ছিল না, হুকুম ক’রে পাঠালেই টাকা দিতাম। তার পর যখন এসেছেনই।--তখন লেখাপড়া কিসের ? আপনি স্বচ্ছদে নিয়ে যান, যখন কাছারিতে আদায় হবে, আমায় পাঠিয়ে দিলেই হবে। বলিলাম-আমি হাণ্ডনোট দিচ্ছি, টিকিট সঙ্গে ক’রে এনেছি। কিংবা DBBB BBDBDB DBLBD DB DDSDD BB BDD DDD S ধাপাতাল সাহু হাত জোড় করিয়া বলিল-মাপ করুন হুজুৱা। ও কথাই তুলবেন না। মনে বড় কষ্ট পাব। কোন লেখাপড়ার দরকার নেই, টাকা। আপনি নিয়ে যান । আমার পীড়াপীড়িতে ধাওতাল কৰ্ণপাতও করিল না। ভিতর হইতে আমায় নোটের তাড়া গুণিয়া আনিয়া দিয়া বলিল-হুজুর, একটা কিন্তু অনুরোধ আছে। -केि f -এ-বেলা যাওয়া হবে না। সিধা বার ক’রে দিই, রায়াখাওয়া ক’রে তৰে ८८ऊ °icन । পুনরায় আপত্তি করিলাম, তাহাও টিকিল না। তহসিলদারকে বলিলামবনোয়ারীলাল, রাধতে পারবে তো ? আমার দ্বারা সুবিধে হবে না । বনোয়ারী বলিল-তা চলবে না, হুজুর, আপনাকে স্বাধতে হবে। আমার ৱাল্লা খেলে এ পাড়াগাঁয়ে আপনার দুর্নাম হবে। আমি দেখিয়ে দেব এখন । বিরাট এক সিধা বাহির করিয়া দিল ধাওতাল সাহুর নাতি। রন্ধনের সময় নাতি-ঠাকুরদা মিলিয়া নানা রকম উপদেশ-পরামর্শ দিতে লাগিল রন্ধন সম্বন্ধে । ঠাকুরদাদার অনুপস্থিতিতে নাতি বলিল-বাবুজী,ঐ দেখছেন আমার ঠাকুরদাদা, ওঁর জন্যে সব যাবে। এত লোককে টাকা ধার দিয়েছেন বিনা সুদে, বিনা DBBBDS DD DBBDBDSJSiLD DBD D LDBEL DBB u DSDBBDB BDL করেন, অথচ লোকে কত ফাকিই দিয়েছে। লোকের বাড়ী ব’য়ে টাকা ধার দিয়ে আসেন। ३०३ আরণ্যক গ্রামের আর এক জন লোক বসিয়া ছিল, সে বলিল-বিপদে আপদে সাহুিজীর কাছে হাত পাতিলে ফিরে যেতে কখনো কাউকে দেখি নি বাবুজী । সেকেলে ধরণের লোক, এত বড় মহাজন, কখনো আদালতে মোকদ্দমা করেন নি । আদালতে যেতে ভয় পান। বেজায় ভীতু আর ভালমানুষ। সেদিন যে-টাকা ধাওতাল সাহুর নিকট হইতে আনিয়াছিলাম, তাহা শোধ দিতে প্ৰায় ছ'মাস দেরি হইয়া গেল-এই ছ’মাসের মধ্যে ধাওতাল সাহু আমাদের ইসমাইলপুর মহালের ত্ৰিসীমানা দিয়া হঁটে নাই, পাছে আমি মনে করি যে সে টাকার তাগাদা করিতে আসিয়াছে। ভদ্রলোক আর কাহাকে বলে ! R প্রায় বছর-খানেক রাখালবাবুদের বাড়ী যাওয়া হয় নাই, ফসলের মেলার পরে একদিন সেখানে গেলাম। রাখালীবাবুর স্ত্রী আমায় দেখিয়া খুব খুশি হইলেন। বলিলেন-আপনি আর আসেন না কেন দাদা, কোন খোঁজখবর নেন না-এই নিৰ্বান্ধব জায়গায় বাঙালীর মুখ দেখা যে কি-আর আমাদের এই अबशांभ- タ বলিয়া দিদি নিঃশব্দে কঁাদিতে লাগিলেন । আমি চারিদিকে চাহিয়া দেখিলাম । বাড়ী ঘরের অবস্থা আগের মতই হীন, তবে এবার ততটা যেন বিশৃঙ্খল নয়। রাখালবাবুর বড় ছেলেটি বাড়ীতেই টিনের মিস্ত্রীর কাজ করে--সামান্যই উপাৰ্জন-তবু যা হয় সংসার একরকম চলিতেছে । রাখালবাবুর স্ত্রীকে বলিলাম-ছোট ছেলেটিকে অস্তুতঃ ওর মামার কাছে কাশীতে রেখে একটু লেখাপড়া শেখান। তিনি বলিলেন-আপন মামা কোথায় দাদা ? দু-তিনখানা চিঠি লেখা হয়েছিল, এত বড় বিপদের খবর দিয়ে-দশটি টাকা পাঠিয়ে দিয়ে সেই যে চুপ BiiSMqSLBLBD DBi BD DBBB BDDBY BD S BD L00LB S DDLD DDDD DBBDS DBD DBBDS DBDB BDBDJSiDD BDBDB BDB BBD DD DS अाप्रभं]रू §ළුම් আমি তখনই ঘোড়ায় ফিরিব-দিদি কিছুতেই আসিতে দিলেন না। সেবেলা থাকিতে হইবে। তিনি কি-একটা খাবার করিয়া আমায় না খাওয়াইয়া ছাড়িবেন না । অগত্যা অপেক্ষা করিতে হইল। মকাইয়ের ছাতুর সহিত ঘি ও চিনি মিশাইয়া এক রকমের লাড়ু বধিয়া ও কিছু হালুয়া তৈরী করিয়া দিদি খাইতে দিলেন । দরিদ্র সংসারে যতটা আদর অভ্যর্থনা করা যাইতে পারে, তাহার ত্রুটি করিলেন না । বলিলে-দাদী, ভাদ্র মাসের মকাই রেখেছিলাম। আপনার জন্য তুলে । আপনি ভুট্টা-পোড়া খেতে ভালবাসেন, তাই। জিজ্ঞাসা করিলাম--মাকাই কোথায় পেলেন ? কিনেছিলেন ? ASuBSS BBDB DBDDB BDDS DDBDBB BDDBt L D BB DBDSDBBDS SDLDBDSDBg ভুট্টা চাযারা ক্ষেতে রেখে যায়-গায়ের মেয়েরাও যায়, আমিও যাই ওদের সঙ্গে-এক ঝুড়ি, দেড় ঝুডি ক’রে রোজ কুড়তাম । আমি অবাক হইয়া বলিলাম-ক্ষেতে কুড়িতে যেতেন ? SES BDBBD BDBDBBDS BB D DDBD DS gBDBD BDBDBD BBD SDD EES তাদের সঙ্গে এই ভাদ্র মাসে কমসে-কম, দশ টুকরি ভুট্টা কুড়িয়ে এনেছিলাম। মনে বড় দুঃখ হইল। এ কাজ গরিব গাঙ্গোতার মেয়েরা করিয়া থাকে - এদেশের ছত্রি বা রাজপুত মেয়েরা গরিব হইলেও ক্ষেতের ফসল কুড়াইতে যায় না । আর, একজন বাঙালীর মেয়েকে এ-কাজ করিতে শুনিলে মনে বড়ই লাগে । এই অশিক্ষিত গাঙ্গোতাদের গ্রামে বাস করিয়া দিদি এ সব শ্রীনবুৱি শিখিয়াছেন। -সংসারের দারিদ্র্য ও যে তাহার একটা প্রধান কারণ সে-বিষয়ে ভুল নাই । মুখ ফুটিয়া কিছু বলিতে পাবিলাম না, পাছে মনে কষ্ট দেওয়া হয়। এই নিঃস্ব বাঙালী-পরিবার বাংলার কোন শিক্ষা-সংস্কৃতি পাইল না, বস্থায় কয়েক পরে চাষী গাঙ্গোতায় পরিণত হইবে, ভাষায়, চালচলনে, হাবভাবে । এখন হইতেই সে-পথে অনেক দুৱ সুগ্রসর হইয়াছে। $ధి8 चांद्रक রেলস্টেশন হইতে বহু-দূরে অজ পল্লীগ্রামে আমি আরও দু-একটি এরকম বাঙালী-পরিবার দেখিয়াছি। এই সব পরিবারে মেয়ের বিবাহ দেওয়া যে কি দুঃসাধ্য ব্যাপার! এমনি আর একটি বাঙালী ব্ৰাহ্মণপরিবার জানিতাম-দক্ষিণবিহারে এক আজ গ্রামে তারা থাকিতেন। অবস্থা নিতান্তই হীন, বাড়ীতে তঁদের তিনটি মেয়ে ছিল, বড়টির বয়স একুশ-বাইশ বছর, মেজটির কুড়ি, ছোটটিরও BDLDYSS DBDB BBD SDDDS DDS BDBBD BDBD BBD DDYSSiDDBBD জোটানো, বাঙালী পাত্রের সন্ধান পাওয়া এ-সব অঞ্চলে অত্যন্তই কঠিন। বাইশ বছরের বড় মেয়েটি দেখিতে সুশ্ৰী-এক বৰ্ণও বাংলা জানে নাআকৃতি-প্ৰকৃতিতে খাটি দেহাতী বিহারী মেয়ে-মাঠ হইতে মাথায় মোট করিয়া কলাই আনে, গমের ভূষি আনে । এই মেয়েটির নাম ছিল ধ্রুবা । পুরাদস্তুর বিহারী নাম। তাহার বাবা প্ৰথমে এই গ্রামে হোমিওপ্যাথিক ডাক্তাৱী করিতে আসিয়া জমিজমা লইয়া চাষবাসের কাজও আরম্ভ করেন। তারপর তিনি মারা যান, বড় ছেলে, একেবারে হিন্ধুস্থানী-চাষবাস দেখাশুনা করিত, বয়স্থ ভগ্নীদের বিবাহের যোগাড় সে চেষ্টা করিয়াও করিতে পারে নাই। বিশেষত পণ দিবার ক্ষমতা তাদের আদৌ ছিল না জানি । ধ্রুবা ছিল একেবারে কপালকুণ্ডলা । আমাকে ভাইয়া অর্থাৎ দাদা বলিয়া ডাকিত। গায়ে অসীম শক্তি, গম পিষিতে, উডুখলে ছাতু কুটিতে, মোট বহিয়া আনিতে, গরু-মহিষ চরাইতে চমৎকার মেয়ে, সংসারের কাজ-কৰ্ম্মে ঘুণ। তাহার দাদা এ প্রস্তাবও করিয়াছিলেন যে, এমন যদি কোন পাত্ৰ পান, তিনটি মেয়েকেই এক পাত্রে সম্প্রদান করিবেন। মেয়ে তিনটিরও নাকি অমত ছিল না । মেজ মেয়ে জবাকে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম-বাংলা দেখতে ইচ্ছে হয় ? BDBB BDBDiYSBBD BDDBS BDBD BB DDD DDD BDJS tDDBDD DDBBD BBDB BDDBDDDg gB BEDS DB DB DBBD DBBD বলিয়াছিল, তাহাকে যে বিবাহ করিবে, তাহার বাড়ীতে গরুর দোহাল বা উদু छांद्भक्ष 冷°敏 খলওয়ালী ডাকিতে হইবে না-সে একাই ঘণ্টায় পাঁচ সেরা গম কুটিয়া ছাতু कgिङ *ाग्न । হায় হতভাগিনী বাঙালী কুমারী ! এত বৎসর পরেও সে নিশ্চয় আজও গাঙ্গোতীন সাজিয়া দাদার সংসারে যব কুটিতেছে, কলাইয়ের বোঝা মাথায় করিয়া মাঠ হইতে আনিতেছে, কে আর দরিদ্র দেহাতী বয়স্ক মেয়েকে বিনাপণে বিবাহ করিয়া পান্ধীতে তুলিয়া ঘরে লইয়া গিয়াছে, মঙ্গলশঙ্খ ও উলুধ্বনির মধ্যে। শান্ত মুক্ত প্রান্তরে যখন সন্ধ্যা নামে, দূৱ পাহাড়ের গা বাহিয়া ষে সরু পথটি দেখা যায় ঘনবনের মধ্যে চেরা সিথির মত, ব্যর্থযৌবনা, দরিদ্র ধ্রুবা হয়তো আজও এত বছরের পরে সেই পািখ দিয়া শুকনো কাঠের বোঝা মাথায় করিয়া পাহাড় হইতে নামে-এ ছবি কতবার কল্পনানেত্ৰে প্ৰত্যক্ষ করিয়াছি- তেমনি প্ৰত্যক্ষ করিয়াছি আমার দিদি, রাখালবাবুর স্ত্রী, হয়ত আজও বৃদ্ধ গাঙ্গোতীনদের মত গভীর রাত্রে চোরের মত লুকাইয়া ক্ষেতে খামারে শুকনো তলায়-ঝরা, ভুট্টা বুড়ি করিয়া কুড়াইয়া ফেরেন । w ভানুমতীদের ওখান হইতে ফিরিবার পরে শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি সেবায় ঘোর বর্ষা নামিল। দিনরাত অবিশ্রান্ত বৃষ্টি, ঘন কাজল-কালো মেঘপুঞ্জে আকাশ ছাইয়াছে, নাড়া ও ফুলকিয়া বইহারের দিগন্তরেখা বৃষ্টির ধোঁয়ায় ঝাপসা, মহালিখারূপের পাহাড় মিলাইয়া গিয়াছে-মোহনপুরা রিজার্ভ ফরেস্টের শীর্ষদেশ কখনও ঈষৎ অস্পষ্ট দেখা যায়, কখনও যায় না। শুনিলাম পূর্বে কুশী ও দক্ষিণে BDDLDL LD DBDS DDDLLLS মাইলের পর মাইল ব্যাপী কাশী ও কাউ বন বর্ষার জলে ভিজিতেছে, আমার আপিস-ঘরের বারান্দায় চেয়ার পাতিয়া বসিয়া দেখিতাম, আমার সামনে কাশীবনের মধ্যে একটা বনবাউয়ের ডালে একটা সঙ্গীহারা ঘুঘু বসিয়া অকোয়ে ভিজিতেছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা একভাবেই বসিয়া আছে-মাকে Oe আরণ্যক মাঝে পালক উসকোথুসকো করিয়া ঝুলাইয়া বৃষ্টির জল আটকাইবার চেষ্টা করে, কখনও এমনিই বসিয়া থাকে। এমন দিনে আপিস-ঘরে বসিয়া দিন কাটানো আমার পক্ষে কিন্তু অসম্ভব হইয়া উঠিত । ঘোড়ায় জিন কসিয়া বর্ষাতি চাপাইয়া বাহির হইয়া পড়িতাম--- সে কি মুক্তি ! কি উদ্দাম জীবনানন্দ । আর কি অপরূপ সবুজের সমুদ্র চারিদিকে -বর্ষার জলে নবীন, সতেজ ঘন সবুজ কাশের বন গজাইয়া উঠিয়াছে’- যত দূর দৃষ্টি চলে, এদিকে নাঢ়া বাইহারের সীমানা। ওদিকে মোহনপুরা অরণ্যের অস্পষ্ট নীল সীমারেখা পৰ্য্যন্ত বিস্তৃত থৈ থৈ করিতেছে এই সবুজের সমুদ্র-বর্ষাসজল। হাওয়ায় মেঘকাজল আকাশের নীচে এই দীর্ঘ মকরতিশ্যাম তৃণভূমির মাথায় ঢেউ খেলিয়া যাইতেছে- আমি যেন একা এ অকুল সমুদ্রের নাবিক।-কোন রহস্যময় স্বপ্ন-বন্দরের উদ্দেশে পাড়ি দিয়াছি । এই বিস্তৃত মেঘছায়াশ্যামল মুক্ত তৃণভূমির মধ্যে ঘোড়া ছুটাইয়া মাইলের পর মাইল যাইতাম-কখনও সরস্বতীকুণ্ডীর বনের মধ্যে ঢুকিয়া দেখিয়াছি-প্ৰকৃতির এই অপূৰ্ব্ব নিভৃত সৌন্দৰ্য্যভূমি যুগলপ্ৰসাদের স্বহস্তে রোপিত নানা-জাতীয় বন্য ফুলে ও লতায় সজ্জিত হইয়া আরও সুন্দর হইয়া উঠিয়াছে। সমগ্র ভারতবর্ষের মধ্যে সরস্বতী হ্রদ ও তাহার তীরবত্তী বনানীর মত সৌন্দৰ্য্যভূমি খুব বেশী নাইএ নিঃসন্দেহে বলিতে পারি। হ্রদের ধারে রেড ক্যাম্পিয়নের মেলা বসিয়াছে এই বর্ষাকালে-হ্রদের জলের ধারের নিকট । জলজ ওয়াটারক্রোফুটের বড় বড় নীলাভ সাদা ফুলে ভরিয়া আছে। যুগলপ্ৰসাদ সেদিনও কি একটা বন্যলতা আনিয়া লাগাইয়া গিয়াছে জানি। সে আজমাবাদ কাছারিতে মুহুরীর কাজ করে বটে, কিন্তু তাহার মন পড়িয়া থাকে সরস্বতী কুণ্ডীর তীরবত্তী লতাবিতানে ও বন্যপুষ্পের কুঞ্জে । সরস্বতী কুণ্ডীয় বন হইতে বাহির হইতাম-আবার মুক্ত প্ৰান্তর, আবার দীর্ঘ তৃণভূমি-বনের মাথায় ঘন নীল বর্ষার মেঘ আসিয়া জমিতেছে, সমগ্ৰ জলভার নামাইয়া রিক্ত হইবার পূর্বেই আবার উড়িয়া আসিতেছে নবমেঘপুঞ্জ-একদিকের चांद्रभंगाक $©ፃ আকাশে এক অদ্ভুত ধরণের নীল রং ছুটিয়াছে- তাহার মধ্যে এক-খণ্ড লঘুমেন্ধ অস্তদিগন্তের রঙে রঞ্জিত হইয়া বহির্বিশ্বের দিগন্তে কোন অজানা পৰ্বতশিখরেন্থ भऊ ८श्री श्रांझेंड्छ । সন্ধ্যার বিলম্ব নাই। দিগন্তহারা ফুলকিয়া বইহারের মধ্যে শিয়াল ডাকিয়া উঠিত-একে মেঘের অন্ধকার, তার উপর সন্ধ্যার অন্ধকার নামিতেছে-ঘোড়ার মুখ কাছারির দিকে ফিরাইতাম । কতবার এই ক্ষান্তবর্ষণ মেঘ-থমকানো সন্ধ্যার এই মুক্ত প্ৰাস্তরে সীমাহীনতার মধ্যে কোন দেবতার স্বপ্ন যেন দেখিয়াছি-এই মেঘ, এই সন্ধ্যা,এই বন, কোলাহলরত শিয়ালের দল, সরস্বতী হ্রদের জলজ পুষ্প, মধী, রাজু পাড়ে, ভানুমতী, মহালিখারূপের পাহাড়, সেই দরিদ্র গোড়-পরিবার, আকাশ, ব্যোম সবই তায় সুমহতী কল্পনায় একদিন ছিল বীজ রূপে নিহিত-ভঁরই আশীৰ্ব্বাদ আজিকাৱা এই নবনীলনীয়দমালার মতই সমুদয় বিশ্বকে অস্তিত্বের অমৃতধারায় সিক্ত করিতেছে ASiAgg BBSBDD DBB BBDLLDS DD DuODB BBBDDD DuD DBS BDBBDD DBBLLDL ষে বাণী মানুষকে সচেতন করিয়া তোলে। সে দেবতাকে ভয় করিবার কিছুই নাই--এই সুবিশাল ফুলকিয়া বইহারের চেয়েও, ঐ বিশাল মেঘভরা আকাশের চেয়েও সীমাহীন, অনন্ত তঁর প্রেম ও আশীৰ্ব্বাদ । ৰে ঘাত হীন, যে ৰািত ছোট, সেই বিরাট দেবতার অদৃশ্য প্ৰসাদ ও অনুকম্প তার উপর তত বেশী। আমার মনে যে দেবতার স্বপ্ন জাগিত, তিনি যে শুধু প্ৰবীণ বিচারক, স্থায় ও দণ্ডমুণ্ডের কৰ্ত্তা, বিজ্ঞ ও বহুদৰ্শী কিংবা অব্যয়, অক্ষয় প্রভৃতি দুরূহ দার্শনিকতার আবরণে আবৃতব্যাপার তাহানয়-নাঢ়া বইহারের কি আজিমাবাদের মুক্ত প্ৰান্তয়ে কত গোধূলিবেলায় রক্তমেঘন্তুপের, কত দিগন্তুহারা জনহীন জ্যোৎস্নালোকিত প্ৰান্তরের দিকে চাহিয়া মনে হইত। তিনিই প্রেম ও রোমান্স, কবিতা ও সৌন্দৰ্য্য, विछ ७ ॐायूकडा-ठिनि প্রাণীয়া ভালবাসেন, সুকুমার কলাবৃত্তদিয়া স্বাক্ট করেন, নিজেকে সম্পূর্ণরূপে বিলাইয়া দিয়া থাকেন নিঃশেষে প্রিয়জনের গ্ৰীতির জঙ্গআৰাৱ বিরাট বৈজ্ঞানিকের শক্তি ও দৃষ্টি দিয়া গ্ৰহ-নক্ষত্ৰ-নীহারিকায় স্বষ্টি করেন। Retr আরণ্যক S. এমনি এক বর্ষামুখর শ্রাবণ-দিনে ধাতুরিয়া ইসমাইলপুর কাছারিতে আসিয়া ठूाछिद्म । অনেক দিন পরে উহাকে দেখিয়া খুশি হইলাম। --কি ব্যাপার, ধাতুরিয়া ? ভাল আছিস তো ? যে ছোট পুটুলির মধ্যে তাহার সমস্ত জাগতিক সম্পত্তি বাধা, সেটা হাত হইতে নামাইয়া আমায় হাত তুলিয়া নমস্কার করিয়া বলিল-বাবুজী, নাচ BBBDDLB TDLSBD S DDD DDDD LDDDDDS BDBK SBY DD BDBB D BB t ভাবলাম, কাছারিতে আপনার কাছে যাই, সেখানে গেলে তঁরা ঠিক দেখবেন। আরও ভাল ভাল নাচ শিখেছি, বাবুজী । ধাতুরিয়া যেন আরও রোগ হইয়া গিয়াছে। উহাকে দেখিয়া কষ্ট হইল। --কিছু খাবি ধাতুরিয়া ? ধাতুরিয়া সলজ্জ ভাবে ঘাড় নাড়িয়া জানাইল, সে খাইবে। আমার ঠাকুরকে ডাকিয়া ধাতুরিয়াকে কিছু খাবার দিতে বলিলাম। তখন ভাত ছিল না, ঠাকুর দুধ ও চিড়া আনিয়া দিল। ধাতুরিয়ার খাওয়া দেখিয়া মনে হইল, সে অন্তত দু দিন কিছু খাইতে পায় নাই। সন্ধ্যার পূৰ্ব্বে ধাতুরিয়া নাচ দেখাইল । কাছারির প্রাঙ্গণে সেই বন্য অঞ্চলের অনেক লোক জড় হইয়াছিল ধাতুরিয়ার নাচ দেখিবার জন্য । আগের চেয়েও ধাতুরিয়া নাচে অনেক উন্নতি করিয়াছে। ধাতুরিয়ার মধ্যে যথার্থ শিল্পীর দরদ ও সাধনা আছে। আমি নিজে কিছু দিলাম, কাছারির লোক চান্দা করিয়া কিছু দিল । ইহাতে তাহার কত দিনই বা চলিবে ? ধাতুরিয়া পর দিন সকালে আমার নিকট বিদায় লইতে আসিল। -বাবুজী, কবে কলকাতা যাবেন ? •८श्न वर्ग ८ङ1 ? -আমায় কলকাতায় নিয়ে যাবেন বাবুজী ? সেই যে আপনাকে বলেছিলাম। আরণ্যক S) --তুমি এখন কোথায় যাবে ধাতুরিয়া ? খেয়ে তবে যোণ্ড । --না। বাবুজী, বন্ধুটোলাতে একজন ভুইহার বাভনের বাড়ী, তার মেয়ের বিয়ে হবে, সেখানে হয়তো নাচ দেখতে পারে। সেই চেষ্টাতে ঘাচ্ছি। এখান থেকে আট ক্রোশ রাস্ত-এখন রওনা হ’লে বিকেল নাগাদ পৌছব।। ধাতুরিয়াকে ছাড়িয়া দিতে মন সরে না। বলিলাম-কাছারিতে যদি কিছু জমি দিই, তবে এখানে থাকতে পারবে ? চাষবাস কর, থাক না কেন ? মটুকনাথ, পণ্ডিতেরও দেখিলাম খুব ভাল লাগিয়াছে ধাতুরিয়াকে । তাহার ইচ্ছা ধাতুরিয়াকে সে টােলের ছাত্র করিয়া লয়। বলিল-বলুন না। ওকে বাবুজী, দু-বছরের মধ্যে মুগ্ধবোধ শেষ করিয়ে দেব। ও থাকুক। এখানে । জমি দেওয়ার কথায় ধাতুরিয়া বলিল-বাবুজী, আপনি আমার বড় DBDDBDB DBDS BBBB BDB DDS DBDB LLD DBD Di BDDBD BDD DDD ওদিকে আমার মন নেই যে ! নাচ দেখাতে পেলে আমার মনটা ভারি খুশি থাকে। আর কিছু তেমন ভাল লাগে না । ASJDED DB DDLDD D BEBDS D YBBDBDS DDS S DDD LLLD কেউ শেকল দিয়ে বেঁধে রাখবে না ? ধাতুরিয়া খুব খুশি হইল। বলিল-আপনি যা বলবেন, আমি তা শুনিব। আপনাকে বড় ভাল লাগে, বাবুজী । আমি ঝিল্লুটোলা থেকে ঘুরে আসিभ्रां’ना ५श्रीनशे स्त्रांनाव } মটুকনাথ পণ্ডিত বলিল-আর সেই সময় তোমাকে টোলেও ঢুকিয়ে নেব। তুমি না হয় রাত্রে এসে প’ড়ো আমার কাছে। মুর্থ থাকা কিছু নয়, কিছু ব্যাকরণ, কিছু কাব্য লবঙ্গ রাখা দরকার। ধাতুরিয়া তাহার পর বসিয়া বসিয়া নৃত্যশিল্পের বিষয় নানা কথা কি সব বলিল, আমি তত বুঝিলাম না। পূর্ণিয়ার হো-হো নাচের ভঙ্গীর সঙ্গে ধরমপুর BDBBB g ueuuBD BuBDB iD BDBiSSSS0B DBD BD D DD ESDDD DDD প্ৰবৰ্ত্তন করিয়াছে-এই সব ধরণের কথা , S80 অরণ্যক -বাবুজী, আপনি বালিয়া জেলায় ছটু পরবের সময়ে মেয়েদের নাচ দেখেছেন ? ওর সঙ্গে ছক্কর বাজি নাচের বেশ মিল থাকে একটা জায়গায়। अioनitद्ध ctश मi5 cकभन्न श् ? আমি তাহাকে গত বৎসর ফসলের মেলায় দৃষ্ট “ননীচের নাটুয়া’র নাচের কথা বলিলাম। ধাতুরিয়া হাসিয়া বলিল-ও কিছু না বাবুজি, ও মুঙ্গেরের গেয়ে নাচ । গাঙ্গোতাদের খুশি করবার নাচ। ওর মধ্যে খাটি জিনিস কিছু। 6नई । & ८ठों 6छ । . বললুম-তুমি জানো ? নেচে দেখাও তো ? ধাতুরিয়া দেখিলাম নিজের শাস্ত্রে বেশ অভিজ্ঞ । ননীচাের নাটুয়া’র নাচ সত্যই সে চমৎকার নাচিল-সেই খুৎ-খুৎ করিয়া ছেলেমানুষের মত কান্না, সেই চোৱা ননী বিতরণ করিবার ভঙ্গী-সেই সব । তাহাকে আরও মানাইল এই জন্য যে, সে সত্যই বালক । ধাতুরিয়া বিদায় লইয়া চলিয়া গেল। যাইবার সময় বলিল-এত মেহের বানিই যখন করলেন বাবুজী, একবার কলকাতায় কেন নিয়ে চলুন না ? ওখানে भitgबू पांव अछि । এই ধাতুরিয়ার সহিত আমার শেষ দেখা। মাস-দুই পরে শোনা গেল, বি এন ডব্লিউ রেল লাইনের কাটারিয়া স্টেশনের অদূরে লাইনের উপর একটি বালকের মৃতদেহ পাওয়া যায়-নাটুয়া বালক ধাতুরিয়ার মৃতদেহ বলিয়া সকলে চিনিয়াছে। शैश अग्रिश्डा कि शुनि ऊांश বলিতে পারিব না। আত্মহত্যা হইলে, কি দুঃখেই বা সে আত্মহত্যা করিল ? সেই বন্য অঞ্চলে দু’বছর কাটাইবার সময় যতগুলি নরনারীর সংস্পর্শে আসিয়াছিলাম--তার মধ্যে ধাতুরিয়া ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন প্ৰকৃতির। তাহার মধ্যে যে একটি নির্লোভ, সদাচঞ্চল, সদানন্দ, অবৈষয়িক, খাটি শিল্পীমানের সাক্ষাৎ পাইয়াছিলাম, শুধু সে বন্য দেশ কেন, সভ্য অঞ্চলের মানুষের মধ্যেও তা স্থলম্ভ मङ्ग ! আরণ্যক &8S ع আরও তিন বৎসর কাটিয়া গেল । নাঢ়া বাইহার ও লবটুলিয়ার সমুদয় জঙ্গল-মহাল বন্দোবন্ত হইয়া গিয়াছে। এখন আর কোথাও পূর্বের মত বন নাই। প্রকৃতি কত বৎসর ধরিয়া নির্জনে নিভৃতে যে কুঞ্জ রচনা করিয়া রাখিয়াছিল, কত কেঁয়োবাকার নিভৃত লতাবিতান, কত স্বপ্নভূমি-জনমজুরেরা নিৰ্ম্মম হাতে সব কাটিয়া উড়াইয়া দিল, যাহা গড়িয়া উঠিয়াছিল পঞ্চাশ বৎসরে, তাহা গেল এক দিনে। এখন কোথাও আর সে রহস্যময় দূরবিন্সপী প্ৰান্তর নাই, জ্যোৎস্নালোকিত রাত্ৰিতে যেখানে মায়াপবীরা নামিত, মহিষের দেবতা। দয়ালু টাড়বারো হাত তুলিয়া দাড়াইয়া বন্য মহিষাদলকে ধ্বংস হইতে রক্ষা করিত। নাঢ়া বাইহার নাম ঘুচিয়া গিয়াছে, লবটুলিয়া এখন একটি বস্তি মাত্র। ষে দিকে চোখ যায়, শুধু চালে চালে লাগানো অপকৃষ্ট খোলার ঘর। কোথাও বা কাশের ঘর। ঘন ঘিঞ্জি বসতি-টোলায় টোলায় ভাগ-ফাকা জায়গায় শুধুই ফসলের ক্ষেত্র। এতটুকু ক্ষেতের চারিদিকে ফণিমনসার বেড়া। ধরণীর মুক্তরূপ ইহারা কাটিয়া টুকরা টুকরা করিয়া নষ্ট করিয়া দিয়াছে। আছে কেবল একটি স্থান, সরস্বতী কুণ্ডীর তীরবর্তী বনভূমি। চাকুরীর খাতিরে মনিবের স্বার্থরক্ষার জন্য সব জমিতেই প্ৰজাবিলি করিয়াছি বটে, কিন্তু যুগলপ্রসাদের হাতে সাজানো সরস্বতী-তীরের অপূর্ব বনকুঞ্জ কিছুতেই প্ৰাণ ধরিয়া বন্দোবস্ত করিতে পারি নাই। কত বার দলে দলে প্ৰজারা আসিয়াছে সরস্বতী কুণ্ডীর পাড়ের জমি লইতে-বৰ্দ্ধিত হারে সেলামী ও খাজনা দিতেও চাহিয়াছে, কারণ একে ঐ জমি খুব উর্বরা, তাহার উপর নিকটে জল থাকায় মকাই প্রভৃতি ফসল ভাল জন্মাইবে; কিন্তু আমি রাজী হই नरे । তবে কতদিন আর রাখিতে পারিব ? সদর আপিস হইতে মাঝে মাঝে চিঠি R8 R আরণ্যক আসিতেছে, সরস্বতী কুণ্ডীর জমি আমি কেন বিলি করিতে বিলম্ব করিতেছি। নানা ওজৰ-আপত্তি তুলিয়া এখনও পৰ্যন্ত রাখিয়াছি বটে, কিন্তু বেশী দিন পারিব না। মানুষের লোভ বড় বেশী, দুটি ভুট্টার ছড়া আর চীনাঘাসের এক কাঠা দানার জন্য প্ৰকৃতির অমন স্বপ্নকুঞ্জ ধ্বংস করিতে তাহাদের কিছুমাত্র বাধিবে না, জানি। বিশেষ করিয়া এখানকার মানুষে গাছপালার সৌন্দৰ্য্য বোঝে না, রম্য ভূমিশ্ৰীয় মহিমা দেখিবার চোখ নাই, তাহারা জানে পশুর মত পেটে খাইয়া জীবন যাপন করিতে। অন্য দেশ হইলে আইন কবিয়া এমন সব স্থান সৌন্দৰ্য্যপিপাসু প্ৰকৃতি-রসিক নরনারীর জন্য সুরক্ষিত করিয়া রাখিত, যেমন আছে কালিফোণিয়ায় যোসোমাই ন্যাশনাল পার্ক, দক্ষিণ আফ্রিকায় আছে ক্রুগার ন্যাশনাল পার্ক-বেলজিয়ান কঙ্গোতে আছে পার্ক ন্যাশনাল আলবার্ট। আমার জমিদাররা ও ল্যাণ্ডস্কেপ বুঝিবে না, বুঝিবে সেলামীর টাকা, খাজনার টাকা, আদায় ইরশাল, হস্তবুদ। এই জন্মান্ধ মানুষের দেশে একজন যুগলপ্রসাদ কি করিয়া জন্মিয়াছিল জানি না-শুধু তাহারই মুখের দিকে চাহিয়া আজও সরস্বতী হ্রদের তীরবর্তী বনানী অক্ষুঃ রাখিয়াছি। কিন্তু কত দিন রাখিতে পারিব ? যাক, আমারও কাজ শেষ হইয়া আসিল বলিয়া। uB DDB DBBB DBD DESE DD DDJSLED DBBD DBBLB DBB BDY মন বড় উতলা হয়। সারা বাংলা দেশ যেন আমার গৃহ-তরুণী কল্যাণী বধু যেখানে আপন হাতে সন্ধ্যাপ্ৰদীপ দেখায়, এখানকার এমন লক্ষ্মীছাড়া উদাস ধুধু প্রাস্তুর ও ঘন বনানী নয়-যেখানে নারীর হাতের স্পর্শ নাই। কি হইতে যেন মনে অকারণ আনন্দের বান ডাকিল, তাহা জানি না । জ্যোৎস্না-রাত্রি-তখনই ঘোড়ায় জিন কসিয়া সরস্বতী কুণ্ডীর দিকে রওনা হইলাম, কারণ তখন নাঢ়া ও লবটুলিয়া বইহারের বনরাজি শেষ হইয়া আসিয়াছে --যাহ কিছু অরণ্য-শোভা ও নিৰ্জনতা আছে তখনও সরস্বতীর তীরেই। আমি আরণ্যক se মনে মনে বেশ বুঝিলাম, এ আনন্দকে উপভোগ করিবার একমাত্র পটভূমি হইতেছে। সরস্বতী হ্রদের তীরবত্তী বনানী। ঐ সরস্বতীর জল জ্যোৎস্নালোকে চিকচিক্‌ করিতেছে-চিক্‌ চিক্‌ করিতেছে কি শুধু ? ঢেউয়ে ঢেউয়ে জ্যোৎস্না ভাঙিয়া পড়িতেছে। নির্জন, স্তন্ধ বনানী হ্রদের জলের তিন দিক বেষ্টন করিয়া, বন্য লাল হাসের কাকলী,বন্য শেফালীপুষ্পের সৌরভ, কারণ যদিও জ্যৈষ্ঠ মাস, শেফালীফুল এখানে বারমাস ফোটে কতক্ষণ হ্রদের তীরে এদিকে ওদিকে ইচ্ছামত ঘোড়া চালাইয়া বেড়াইলাম । হ্রদের জলে পদ্ম ফুটিয়াছে, তীরের দিকে ওয়াটারক্রোফুট ও যুগলপ্ৰসাদের আনীত স্পাইডার লিলির ঝাড় বাধিয়াছে। দেশে চলিয়াছি কতকাল পরে, এ নির্জন অরণ্যবাস হইতে মুক্তি পাইব, সেখানে বাঙালী মেয়ের হাতে রায়া খান্ত খাইয়া বাচিব, কলিকাতায় এক-আধা দিন থিয়েটার-বায়োস্কোপ দেখিব, বন্ধুDD DBBB DD DBDD BDD DB BDDD D DBBDS এইবার ধীরে ধীরে সে অনুভূত আনন্দের বন্যা আমার মনের কুল ভাসাইয়া দোলা দিতে লাগিল। যোগাযোগ হইয়াছিল বোধ হয় অদ্ভুত-এতদিন পরে দেশে প্রত্যাবৰ্ত্তন, সরস্বতী হ্রদের জোৎস্নালোকিতবারিরাশি ও বনফুলের শোভা, বন্য শেফালীর জোৎস্না-মাখানো সুবাস, শান্ত স্তব্ধতা-ভাল ঘোড়ার চমৎকার কোণাকুণি ক্যাণ্টাৰ চাল, হু হু হাওয়া-সব মিলিয়া স্বপ্ন। স্বপ্ন। আনন্দের ঘন নেশা ! আমি যেন যৌবনোন্মত্ত তরুণ দেবতা, বাধা বন্ধহীন, মুক্ত গতিতে সময়ের সীমা পার হইয়া চলিয়াছি-এই চলাই যেন আমার অদৃষ্টের জম্নলিপি, আমার সৌভাগ্য, আমার প্রতি কোন সুপ্ৰসন্ন দেবতার পরম আশীৰ্ব্বাদ । হয়তো আর ফিরিব না-দেশে ফিরিয়া মরিয়াও তো যাইতে পারি। বিদায়, সরস্বতী-কুঞ্জী, বিদায়-তীরতরু-সারি, বিদায় জোৎস্নালোকিত মুক্ত বনানী । DBDDDDDDBDBBBDB BDtBBB DBDD DBBDBBD D DBDB BBBDBDBS DDD জীবনদিনের বীণার অনতিস্পষ্ট ঝঙ্কারের মতা-মনে পড়িবে যুগলপ্ৰসাদের আনা গাছগুলির কথা, জলের ধারে স্পাইডায় লিলি ও পদ্মের বন,তোমার বনের নিবিড় S88 vašoj ভালপালার মধ্যে স্তব্ধ মধ্যাহ্নে ঘুঘুৱ ডাক, অন্তমেঘের ছায়ায় রাঙা ময়নাৰ্কাটার i LD LDBDS SLDBDDDB DD DBDBDDD BBBBDD DD BDBBDBBBu D B LL লাল হাসের সারি-জলের ধারের নরম কাদার উপরে হরিণ-শিশুর পদচিহ্ন •••নির্জনতা, সুগভীর নির্জনতা • • • বিদায়, সরস্বতী কুণ্ডী ! ফিরিবার পথে দেখি সরস্বতী হ্রদের বন হইতে বাহির হইয়া মাইলখানেক দূরে একটা জায়গায় বন কাটিয়া একখানা ঘর বসাইয়া মানুষ বাস করিতেছে-এই জায়গাটার নাম হইয়াছে নয়া লবটুলিয়া-যেমন নিউ সাউথ ওয়েলস বা নিউ ইয়র্ক। নূতন গৃহস্থ পরিবার আসিয়া বনের ডালপালা কাটিয়া (নিকটে বড় বন নাই, সুতরাং সরস্বতীর তীরবর্তী বন হইতেই আমদানী নিশ্চয়ই ) ঘাসের ছাওয়া তিন-চার খানা নীচু নীচু খুপরি বাধিয়াছে। তারই নীচে এখনও-পৰ্য্যস্ত ভিজা দাওয়ার উপর একটা নারকেল কিংবা কড়য়া তেলের গলা-ভাঙা বোতল, একটি উলঙ্গ হামাগুড়ি-রত কৃষ্ণকায় শিশু, কয়েকটি সিহোড়া গাছের সরু ডালে বোনা ঝুড়ি, একটি মোট রুপার অনন্ত পরা, যক্ষের মত কালো আঁটপাট গড়নের বউ, খানকয়েক পিতলের লোটা ও থাল ও কয়েকখানা দা, খোস্তা, কোদাল । ইহাই লইয়া ইহারা প্ৰায় সবাই সংসার করে। শুধু নিউ লবটুলিয়া কেন, ইসমাইলপুর ও নাঢ়া বইহারের সর্বত্রই এইরূপ। কোথা হইতে উঠিয়া আসিয়াছে তাই ভাবি, ভদ্রাসন নাই, পৈতৃক ভিটা নাই, গ্রামের মায়া নাই, প্ৰতিবেশীর স্নেহমমতা নাই-আজ ইসমাইল।পুরের বনে, কাল মুঙ্গেরের দিয়াড় চরে, পরশু জয়ন্তী পাহাড়ের নীচে তরাই ভূমিতে-সর্বত্রই ইহাদের গতি, সৰ্ব্বত্রই ইহাদের ঘৱ । পরিচিত কণ্ঠের আওয়াজ পাইয়া দেখি রাজু পাড়ে এই ধরণের একটি গৃহস্থ-বাড়ীতে বসিয়া ধৰ্ম্মতত্ত্ব আলোচনা করিতেছে। উহাকে দেখিয়া ঘোড়া হইতে নামিলাম। আমায় সবাই মিলিয়া খাতির কবিয়া বসাইল। রাজুকে জিজ্ঞাসা করিয়া জানিলাম। সে এখানে কবিরাজি করিতে আসিয়াছিল । ভিজিট পাইয়াছে চারি কাঠা যােব, এবং নগদ অ্যাট পয়সা । ইহাতেই সে মহা আরণ্যক খুশী হইয়া ইহাদের সহিত আসার জমাইয়া দার্শনিক তত্ব আলোচনা জুড়িয়া first আমায় বলিল-বম্বন, একটা কথার মীমাংসা করে দিন তো বাবুজী ? আচ্ছা, পৃথিবীর কি শেষ আছে ? আমি তো এদের বলছি বাবু, যেমন আকাশের শেষ নেই, পৃথিবীরও তেমনি শেষ নেই। কেমন, তাই না বাবুজী ? বেড়াইতে আসিয়া এমন গুরুতর জটিল বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের সম্মুখীন হইতে श्य, उांश् आदि नाई । BB BBD BDBB BDD BBD DD DBD BBB BDBBDDD DDDD DDD এৰং ইহাও জানি যে ইহাদের সমাধানে সে সৰ্ব্বদাই মৌলিক চিন্তার পরিচয় দিয়া আসিতেছে, যেমন রামধনু উইয়ের ঢিবি হইতে জন্মায়, মক্ষত্রদল যমের চর, মানুষ কি পরিমাণে বাড়িতেছে তাহাই সরেজমিন তদারক করিবার জন্তু यभ कर्दूक टेश्ial ८थद्रिऊ श्-ईऊIां।ि পৃথিবীতত্ত্ব যতটা আমার জানা আছে বুঝাইয়া বলিতে রাজু বলিল-কেন। সূৰ্য্য পুর্বদিকে ওঠে, পশ্চিমে অস্ত যায়, আচ্ছা কোন সাগর থেকে সূৰ্য্য উঠছে আর কোন সাগরে নামছে এর কেউ নিরাকরণ করতে পেরেছে? রাজু সংস্কৃত পড়িয়াছে, “নিরাকরণ” কথাটা ব্যবহার করাতে গাঙ্গোতা গৃহস্থ ও তাহার পরিবারবর্গ সপ্ৰশংস ও বিমুগ্ধ দৃষ্টিতে রাজুর দিকে চাহিয়া রহিল এবং সঙ্গে সঙ্গে ইহাও ভাবিল ইংরেজীনবীশ বাংগালী বাবুকে কবিরাজ মশায় একেবারে কি অথৈ জলে টানিয়া লইয়া ফেলিয়াছে। বাংগালী বাবু এবার হাবুডুবু খাইয়া মরিল দেখিতেছি । বলিলাম-রাজু, তোমার চোখের ভুল, সূৰ্য্য কোথাও যায় না, এক জায়গায় স্থির আছে। DBDB BDBBD DBBDB BDB BDDB BDD BD DDD S YBBDBD DDB হা হা করিয়া তাচ্ছিল্যের সুরে হাসিয়া উঠিল। হায় গ্যালিলিও ! এই নাস্তিক বিচারমূঢ় পৃথিবীতেই তুমি কারারুদ্ধ হইয়াছিলে! বিস্ময়ে প্রথম রেশ কাটিয়া গেলে রাজু আমায় বলিল-পুৱযনারায়ণ পুর্ব্বে উদয়-পাহাড়ে ওঠেন না বা পশ্চিম-সমুদ্রে অন্ত ঘন না?

 বলিলাম—না।

 —কথা ইংরিজি বইতে লিখেছে?

 জ্ঞান মানুষকে সত্যই সাহসী করে, যে শান্ত, নিরীহ রাজু পাভের মুখে কখনও উচু সুরে কথা শুনি নাই—সে সতেজে, সদর্পে বলি—সুট বাত, বাবুঞ্জী। উদয়-পাহাড়ের যে গুহা থেকে সূর্যনারায়ণ মোজ ওঠেন সে গুহ। একবার মুঙ্গেরের এক সাধু দেখে এসেছিলেন। অনেক দূর হেঁটে যেতে হয়, পূর্ব্বদিকের একেবারে সীমানায় সে পাহাড়, গুহার মুখে মস্ত পাথরের দরজা, ওঁর অভ্রের রথ থাকে সেই গুহার মধ্যে। যে-সে কি দেখতে পায় হুজুর? বড় বড় সাধু মহাস্ত দেখেন। ঐ সাধু অভ্রের রথের একটা কুচি এনেছিলেন—এই এত বড় চকচকে অভ্র-আমার গুরুভাই কামতাপ্রসাদ স্বচক্ষে দেখেছেন।

 কথা শেষ করিয়া রাজু সগর্বে একবার সমবেত গাঙ্গোতাদের মুখের দিকে চক্ষু ঘুরাইয়া ফিরাইয়া চাহিল।

 উদয়-পর্ব্বতের গুহা হইতে সূর্যের উত্থানের এত বড় অকাট্য ও চাক্ষুষ এমাণ উত্থাপিত করার পরে আমি সেদিন একেবারে নিশুপ হইয়া গেলাম।