বিষয়বস্তুতে চলুন

আলম্‌গীরের পত্রাবলী/১১

উইকিসংকলন থেকে

[ ১১ ]

 ভাগ্যবান্ পুত্র, শুনিলাম তোমার খাস মুন্সী মুস্তাফা কুলীবেগ বেশ সততার সহিত কাজ করিয়া থাকে। এ অতি উত্তম কথা। তাহাকে যদি তুমি কোন খেতাব বা কোন অতিরিক্ত পদ দিতে চাও, আমাকে লিখিও, আমি তাহাকে তাহা প্রদান করিব। জানিও পুত্র, সৎলোক ঠিক খাঁটি সোণার মত। কথাই আছে, “মানুষ জগতের সর্ব্বত্রই দেখিতে পাওয়া যায়, কিন্তু মানুষের সর্ব্বোৎকৃষ্ট গুণ—সততা অতিশয় দুষ্প্রাপ্য। সাহান্‌সার (শাহ্‌জহানের) হিতৈষী উজির সায়েদউল্লা খাঁ একদিন নমাজ শেষ করিয়া খোদার নিকট আশীর্ব্বাদ চাহিলেন। তাঁহাকে অনেকক্ষণ ধরিয়া উর্দ্ধবাহু হইয়া প্রার্থনা জানাইতে দেখিয়া এক দুর্ব্বিনীত ওমরাহ জিজ্ঞাসা করিল, কি আশীর্ব্বাদ তিনি চান। উত্তরে তিনি বলিলেন, “আমি সৎলোক হইব, শুধু এই আশীর্ব্বাদ চাই।’ তিনি উত্তম জবাবই দিয়াছিলেন। সততা এবং নিষ্কপটতা—ভগবানের এই শ্রেষ্ঠ দান মানবের আজন্মলব্ধ হইলেও এই দুইটি গুণ যাহাতে বজায় থাকে, তাহার জন্য ভৃত্যগণকে উৎসাহিত ও পুরস্কৃত করা প্রয়োজন। কারণ এতদ্বারা ভৃত্যগণ সচ্ছন্দে এবং নির্ব্বিঘ্নে সংসারযাত্রা নির্ব্বাহ করিবার সুযোগ পায় এবং জীবিকাউপার্জ্জনে তাহাদিগকে কোনরূপ উৎকণ্ঠা ভোগ করিতে হয় না। ফলতঃ, সাংসারিক অভাব ও অনটন তাহাদিগকে বিপথে লইয়া যাইতে পারে না। ইহার ফল বড়ই সুখকর হয়। কারণ যে ভৃত্য সুখী এবং নিজ অবস্থায় সন্তুষ্ট, সে অধিক কার্য্য করিয়া থাকে।