আলম্গীরের পত্রাবলী/১২
[ ১২ ]
সুখী পুত্র মুহম্মদ আজম্, জগদীশ্বর তোমাকে রক্ষা করুন। মালবদেশঘটিত ব্যাপারে বুঝিতে পারিলাম যে সঙ্কীর্ণচেতা পাহাড়সিংএর ঔদ্ধত্য এবং হঠকারিতাই সে প্রদেশে এত অধিক গোলযোগ, অশান্তি ও বিদ্রোহ ঘটাইবার কারণ। কিন্তু ভালই হইয়াছে যে হতভাগা তোমার সহকারী উজীর তালুকচাঁদকর্ত্তৃক হত হইয়া এত শীঘ্র নরকস্থ হইয়াছে। এজন্য জগদীশ্বরকে ধন্যবাদ। “হে ন্যায়পরায়ণ পরমেশ্বর, তোমার এই অনুগ্রহের জন্য আমি সম্পূর্ণরূপে নিজেকে তোমার নিকট উৎসর্গ করিলাম।” পুত্র, তোমার কার্য্যে আমি বড়ই খুসী হইয়াছি তুমি যে রাজভৃত্যগণকে উৎসাহিত ও পুরস্কৃত করিয়া তাহাদের দ্বারা রাজ্যশাসন করিয়া লইতেছ ইহা বড়ই সুবুদ্ধির পরিচায়ক। তোমার এই ব্যবস্থা আমি অন্তরের সহিত সমর্থন করিলাম এবং উপঢৌকনস্বরূপ তোমাকে একটি মুক্তার হার প্রেরণ করিলাম—ইহার মূল্য পঞ্চাশ হাজার মুদ্রা। তোমার এই হিন্দু মন্ত্রী মাড়োয়ারী ভালুকচাঁদ দুর্দ্দান্ত রাজপুত পাহাড়সিংকে তীর নিক্ষেপে নিহত করিয়া খুব বাহাদুরী করিয়াছে—ঠিক যেন এক চড়ুই পাখী একটা শিকারী রাজকে মারিয়াছে। এই লোকটাকে আমি পাঁচহাজারীর পদে উন্নীত করিয়া “রাও” উপাধি প্রদান করিলাম এবং এতৎসহ একটী সম্মানসূচক পরিচ্ছদ, একখানি তলোয়ার এবং একটি ঘোড়া বক্শিস্ দিলাম। তুমিও তাহাকে অনুগ্রহ প্রদর্শন করিবে। তাহাকে একটি বিভাগের শাসনকর্ত্তা করিয়া তাহার সাহসের সুখ্যাতিসূচক একখানি চিঠি তাহাকে লিখিয়া পাঠাইবে। এই প্রকার কার্য্যের ফল খুব ভাল হয়। কারণ অন্যান্য ভৃত্য ইহা দেখিবে এবং পুরস্কারের আশায় তাহারাও ভাল কাজ করিবে।