বিষয়বস্তুতে চলুন

আলম্‌গীরের পত্রাবলী/১৩

​

[ ১৩ ]

 সৌভাগ্যবান্ পুত্র, একজন গুপ্তচর আসিয়া আমাকে খবর দিল যে বাহাদুরপুর (খান্দেশ) হইতে আওরঙ্গাবাদের পথ নিরাপদ নয়। এ পথে দস্যুর বড়ই উপদ্রব। দস্যুগণ পথিক ও ব্যবসায়ীগণের যথাসর্ব্বস্ব লুটিয়া লয়। আমেদাবাদ এবং বুরহানপুরের নিকটবর্ত্তী জায়গায়—অর্থাৎ যেখানে রাজকীয় সৈন্যের আড্ডা—যখন দস্যুগণের এত উৎপাত, তখন দূরবর্ত্তী স্থানের কথা একবার ভাবিয়া দেখ। তোমার নিয়োজিত চরগণ তোমাকে আসল খবর মোটেই দেয় না। পুত্র, রাজকার্য্যে অবহেলা এবং অমনোযোগ রাজধর্ম্ম নয়। তুমি নূতন চর নিযুক্ত করিয়া তাহাদিগকে সাবধান করিয়া দাও এবং পুরাতন চরগণকে রীতিমত সাজা দাও। সত্বর একটা পৃথক সৈন্যদল নিযুক্ত করিয়া দস্যুগণকে দমন কর, শীঘ্র রাজপথ নিরাপদ কর। আর কতদিন এই প্রকার বিশৃঙ্খলতার সহিত কাজ করিবে? বড়ই লজ্জার কথা। মহাত্মাগণ কি বলেন জান? “তোমাকে ক্ষতিগ্রস্ত হইতে বলি না, লাভবান্ হইতেও বলি না। কিন্তু সুযোগ হারাইও না। যে কাজ করিবে বলিয়া মনস্থ করিয়াছ, অবিলম্বে তাহা সম্পাদন কর।” সুখী হও পুত্র।