বিষয়বস্তুতে চলুন

আলম্‌গীরের পত্রাবলী/১৫

উইকিসংকলন থেকে

[ ১৫ ]

 প্রিয়তম পুত্র মুহম্মদ আজম্, বুরহানপুরে আমি একদিন ফকীর মিঞা আবদুল লতিফের সহিত সাক্ষাৎ করিয়াছিলাম—তাঁহার পবিত্র সমাধি অধিকতর পবিত্র হউক। কথাপ্রসঙ্গে আমি তাঁহাকে বলিলাম—“অনুমতি করিলে আপনার ফকীরশালার ব্যয় নির্ব্বাহের জন্য আমি কয়েকখানি গ্রাম আপনাকে প্রদান করিতে ইচ্ছা করি।” প্রত্যুত্তরে এই কথাগুলি তাঁহার পবিত্র মুখ হইতে নিঃসৃত হইয়াছিল—“রাজার দান লইলে তাঁহার অনুগ্রহভাজন হইতে হইবে। খোদা যখন আমাকে খোরাক যোগাইতেছেন, তখন কেন আমি রাজার দান লইয়া তাঁহার অনুগ্রহ লইব?” আমি বলিলাম—“আপনার কথা ঠিক। কিন্তু আমি ফকীরগণের এবং ধার্ম্মিকগণের সেবা করিতে ইচ্ছা করি, কেননা, ইহাতে জগতের উপকার করা হইবে। আপনাদিগকে অনুগৃহীত করিবার উদ্দেশ্যে নয়, আমার নিজের সুখের বাসনায় এবং উত্তরোত্তর ধনবৃদ্ধির কামনায় আমি এই দান করিতে ইচ্ছুক।” মিঞা বলিলেন, “তোমার উদ্দেশ্য সাধু—যদি ইহা তুমি অন্তরের সহিত কামনা করিয়া থাক। কিন্তু অন্য পন্থাও আছে—

 “কৃষকগণের নিকট হইতে তুমি কেবল অর্দ্ধেক রাজস্ব আদায় কর। দরিদ্র এবং শ্রমজীবীদিগের নিকট অর্দ্ধেকেরও কম রাজস্ব লও। ফকীরগণকে মাসহারা প্রদানের ব্যবস্থা কর। যাহারা নিরাশ্রয়, মরুভূমি যাহাদের বাসস্থল এবং যাহারা ঈশ্বরে শ্রদ্ধাবান তাহাদিগকে মাসিক বৃত্তিদানের ব্যবস্থা কর। এরূপ ন্যায়পরায়ণতার সহিত বিচারকার্য্য কর যে, কেহ যেন নিজ নিজ অধিকারে বঞ্চিত না হয়। দুর্ব্বল প্রবলকর্ত্তৃক যাহাতে উৎপীড়িত না হয়, তাহার প্রতিবিধান কর। এরূপ করিলে দেখিবে, তুমি যে সুখের অভিলাষী তাহা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাইতেছে।” পুত্র, গুজরাটের প্রজাগণের অভিযোগ এবং দুর্দ্দশার কথা শুনিবামাত্র মিঞার কথাগুলি আমার মনে পড়িয়া গেল এবং অনিচ্ছাসত্ত্বেও তোমাকে তাহা লিখিয়া পাঠাইলাম। তোমার মঙ্গল হউক, পুত্র।