আলম্গীরের পত্রাবলী/১৯
[ ১৯ ]
সুখী পুত্র আজম্, শুনিলাম তুমি তালিনদীতে মাসাবধিকাল হাঁস শিকার করিয়া বেড়াইয়াছ। শিকার জিনিষটা খুব আমোদজনক সন্দেহ নাই; আর ইহাতে রসনাতৃপ্তিকর আহার্য্যের ব্যবস্থাও হয়। কিন্তু রাজকার্য্যের অবসানে অবসরকাল এই শিকারে অপব্যয়িত না করিয়া রাজোচিত কার্য্যে নিয়োজিত করা আবশ্যক। কারণ রাজোচিত কার্য্যই মূখ্য এবং অবশ্যকর্ত্তব্য জানিও। দেশ-বিদেশের ইতিহাস শ্রবণ, বিভিন্ন প্রদেশের বিবিধ তথ্যসংগ্রহ প্রভৃতি কার্য্য রাজার পক্ষে যারপরনাই প্রয়োজনীয় এবং অতীব লাভজনক। এক প্রদেশের শাসন-কার্য্য সুনিয়ন্ত্রিত হইয়াছে বলিয়া যদি তোমার মনে হয়, তবে খাঁ জাহান, আকেল খাঁ, সুজাত খাঁ, মহম্মদ বেগ প্রভৃতি অধীনস্থ কর্ম্মচারিগণের কার্য্যাবলী পর্য্যবেক্ষণ করিতেছ না কেন? শিকার করিতে পাইলে তুমি আনন্দ পাও, আমি কিন্তু বিদ্রোহদমন এবং দুর্গ অধিকার প্রভৃতি কার্য্যে অধিক আনন্দ পাই। হায় পুত্র, ইহজীবনে তোমার কি গতি হইবে এবং পরজীবনেই বা কি হইবে? পরকে উপদেশ দেওয়ার লোক বিস্তর, কিন্তু নিজকে উপদেশ দেয় এমন লোক কোথায়? জীবন দ্রুত চলিয়া যাইতেছে, কিন্তু আমরা কোনও কাজ করিতে পারিলাম না। মৃত্যুর পর খোদার নিকট আমরা কি জবাব দিব, পুত্র? হে ন্যায়পরায়ণ খোদা, আমাদের প্রতি প্রসন্ন হও।