আলম্গীরের পত্রাবলী/২৪
[২৪]
ভাগ্যবান্ পুত্র, আমি তোমাকে বিচক্ষণ কার্য্যকুশল এবং ধীরবুদ্ধিসম্পন্ন বলিয়া জানি। জগদীশ্বর তোমার পবিত্র মুখখানিকে অসৎ দৃষ্টি হইতে রক্ষা করুন। বড়ই আশ্চর্য্যের কথা, পুত্র, যে তুমি মুহম্মদ বেগ খাঁকে কর্ম্মচ্যুত করিয়া সের আন্জাদ খাঁকে সুরাটের ফৌজদার নিযুক্ত করিয়াছ। মানুষের যোগ্যতা এবং ব্যক্তিগত ক্ষমতা কখনও গোপন থাকে না। বাহ্যিক অবয়ব দেখিয়া মানুষের অন্তরের ভাব স্পষ্ট বুঝিতে পারা যায়। এই সুরাটেই মহানুভব কুতবউদ্দীন একদিন ফৌজদারের কাজ করিয়াছিলেন। সৈয়দ কমাল এবং সৈয়দ মুরাদকে যদি তুমি এই পদে অভিষিক্ত করিতে চাও আমার তাহাতে আপত্তি নাই। কারণ ইহারা এই প্রদেশে কিছু সুনাম অর্জন করিয়াছে। যাহা হউক পুত্র, সুরাট এবং তৎসন্নিহিত কয়েকটি স্থান তোমাকে জায়গীরস্বরূপ দেওয়া হইয়াছে, তুমি যাহাকে যোগ্য মনে করিবে তাহাকেই ফৌজদার নিযুক্ত করিতে পার; কিন্তু সে যেন ঐ পদের উপযুক্ত হয়। আমন্আল্লা বেগ এবং বাহাদুর বেগ যদি তোমার কাছছাড়া হইতে চায়, তবে তাহাদিগকেই ঐ পদে নিযুক্ত কর। রাজ্যশাসন-কার্য্যে, বিশেষতঃ রাজনীতি এবং অর্থনীতি-ক্ষেত্রে সাধুতা এবং যোগ্যতাই প্রধান অবলম্বন। অযোগ্য ও স্বার্থপর ব্যক্তি শত সহস্র পাইবে, কিন্তু যোগ্য ও সৎলোক কয়টি আছে? শাহান্শাহ্ আকবরের প্রভুভক্ত এবং বিশ্বস্ত কর্ম্মচারী অনেক ছিল। তিনি তাহাদের উপর যুদ্ধভার এবং অন্যান্য গুরুতর কার্য্যভার অর্পণ করিয়া সুফল লাভ করিতেন। শাহান্শাহ্ শাহ্জহানের সময়েও বিশ্বাসী ভৃত্য, সুযোগ্য কর্ম্মচারী ও সাহসী যোদ্ধার অভাব ছিল না। তা’ সত্ত্বেও শাহান্শাহ্ সমুদয় কার্য্য স্বয়ং পর্যবেক্ষণ করিতেন এবং সকল দিকে তাঁহার সতর্ক দৃষ্টি ছিল। শাহান্শাহ্ মুরাদ বক্শ্ কে যখন বল্খ বিজয়ে প্রেরণ করেন, তখন একজন সামরিক মুন্সীর আবশ্যকতা হইয়াছিল। আমার মনে পড়ে, কুড়ি জন লোক এই পদটির জন্য উমেদার হইয়াছিল। আমি অনেকদিন হইতে ভাল লোক খুঁজিতেছি—বাঙ্গালাদেশের জন্য একজন উজির চাই, একজনও পাইতেছি না। হায় হায়, কাজের লোক কি দুষ্প্রাপ্য!