বিষয়বস্তুতে চলুন

আলম্‌গীরের পত্রাবলী/২৫

উইকিসংকলন থেকে

[ ২৫ ]

 প্রিয় পুত্র আজম্, তুমি আমার শেষ হুকুমের অপেক্ষা না করিয়া যে লোকটাকে প্রধান-রক্ষকের পদে বাহাল করিয়াছ, শুনিলাম সে লোকটা বেশ বুদ্ধিমান; কিন্তু এখানে আমার কাছে যে আছে সে একটা জায়গীর পাইয়াও নিজ অবস্থায় অসন্তুষ্ট। লোকটা তত খাঁটি নয়। ভৃত্যের প্রধান গুণ সাধুতা। দিলাবার খাঁর পুত্র আসাদউদ্দীন এখন তোমার নিকটেই আছে। সে কি বুদ্ধিমান? লোকটা সৎ কি না লিখিও। তা যদি হয়, তবে তাহাকে আমি নিজের কাছে আনিয়া এই পদে বাহাল করিব। পুত্র, আমার হৃদয় ছিন্নভিন্ন হইয়াছে, জ্ঞানবুদ্ধি লোপ পাইতে বসিয়াছে, লালসা বাড়িয়াই চলিয়াছে। আমি সৎলোক পাইবার কত চেষ্টাই করিতেছি, কিন্তু পাইতেছি না। আমার মনে হয় ‘সৎলোক’ বলিয়া কোন জিনিষ সংসারে নাই, এটা কেবল কথার কথা মাত্র—যেমন ‘উন্‌কা’ বলিয়া কোন পাখী সত্যসত্যই কেহ কখনও দেখে নাই, কেবল নামটা চলিয়া আসিতেছে মাত্র। ‘সৎলোক’ কথাটি ঠিক এই ‘উন্‌কার’ মতই মনে হয়। একজন দার্শনিককে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল, “স্বার্থপরতা রোগের ঔষধ কি?” তিনি উত্তরে বলিয়াছিলেন, “স্বার্থপরতা গুণ মানুষের আজন্মলব্ধ। ভৃত্যের এই গুণ থাকিলে মনিবকে সর্ব্বদা সতর্ক থাকিতে হয়। বিচক্ষণ মনিবের উচিত সতত লক্ষ্য রাখা যাহাতে ভৃত্যের সাধুতা গুণ অভাবের পঙ্কিল সলিলে নষ্ট না হইয়া যায়।”