আলম্গীরের পত্রাবলী/২৭
[ ২৭ ]
সুখী পুত্র আজম্, মান্দেশ্বর তোমাকে জায়গীর-স্বরূপ দেওয়া হইয়াছে। ইহা মালবদেশের মধ্যে একটি প্রধান জেলা। পূর্ব্বে এস্থানে সরবুলন্দ খাঁ, হাসান আলি খাঁ-প্রমুখ দক্ষ কর্ম্মচারিগণ শাসনকর্ত্তার কাজ করিয়াছেন। পুত্র, এইস্থানে একজন অতি বিচক্ষণ, নির্ভীক এবং সৎপ্রকৃতির লোককে তোমার প্রেরণ করা কর্ত্তব্য। একদিন শাহান্শার (শাহ্জহান) দরবারে কথা উঠিল—সায়েদআল্লা খাঁর ধন, সমৃদ্ধি, ঐশ্বর্য্য এবং প্রাসাদের বিপুলতা ও শোভাসৌন্দর্য্য সকলই তাহার সুযোগ্য কর্ম্মচারী আবদুন নবীর কার্য্যনৈপুণ্যের ফল। খাঁ স্বয়ং কেবল বিষয়কার্য্য লইয়া ব্যস্ত থাকেন। একদিন কথা-প্রসঙ্গে শাহান্শাহ্ (শাহ্জাহান) তাহাকে বলিলেন, “খাঁ, আমি শুনিয়াছি, তোমার কাছে পরশপাথর আছে। আমাকে কি সেটা তুমি উপহার দিবে?” খাঁ উত্তর করিলেন, “খোদাবন্দ্, পরশপাথর আমার একটি আছে সত্য, কিন্তু সেটি জিনিষ নয়—সে একটি মানুষ। আবদুন্ নবীই আমার পরশপাথর। তাহার গুণেই আমার সব জিনিষ সোণা হইয়া যায়।” শাহান্শাহ্ জগদীশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়া প্রশান্তভাবে কহিলেন, “এজন্য আমি তোমাকে সাধুবাদ না করিয়া থাকিতে পারিতেছি না। এই লোককে তুমি চিরদিনের জন্যই গ্রহণ কর। বুদ্ধিমান, সৎ এবং ধর্ম্মভীরু লোক জগতে বিরল। মানুষ ত জগতে বিস্তর রহিয়াছে, কিন্তু মানুষের সর্ব্বোৎকৃষ্ট গুণ ‘সাধুতা’ সেইটিই দুর্লভ।” এই কথার পর খাঁ নতজানু হইয়া শাহান্শাকে সেলাম করিলেন।