বিষয়বস্তুতে চলুন

আলম্‌গীরের পত্রাবলী/২৯

উইকিসংকলন থেকে

[ ২৯ ]

 সুখী পুত্র, সায়েদআল্লা খাঁ একদিন শাহান্‌শার (শাহ্‌জহানের) দরবারে উপস্থিত হইলে, শাহান্‌শাহ, তাহাকে বিলম্বের কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন। খাঁ উত্তর দিলেন, “আমি একখানা কেতাব পড়িতেছিলাম। খোদাবন্দ্‌কে দেখাইবার জন্য আমি উহার কয়েকস্থল নকল করিয়া আনিয়াছি। এই দেখুন, ইহাতে এই কয়টি উপদেশ আছে।—“রাজার ন্যায়বিচারে সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়। বীরত্ব এবং দান ইহার সমবায়ে সাম্রাজ্য উন্নত এবং সমৃদ্ধিশালী হয়। সর্ব্বদা জ্ঞানী এবং বিদ্বান লোকের সহবাস করিবে। নির্ব্বোধের সংসর্গ সর্ব্বথা পরিত্যাজ্য। বিবেক-বুদ্ধি-প্রণোদিত হইয়া কার্য্য করা এবং বিপদে অবিচলিত থাকা জ্ঞানবানের কর্ত্তব্য। সাংসারিক বিধিব্যবস্থায় আনাড়ীর মত কার্য্য করিবে না, নিজের বুদ্ধিবিবেচনার উপর বিশ্বাস রাখিবে। পারিবারিক সুখসম্পদের জন্য ভগবানকে সতত ধন্যবাদ দিবে। অনাথা বালকবালিকাকে দয়া করিবে। যদি কখনও অভাবগ্রস্ত হইতে না চাও, তাহা হইলে অভাবগ্রস্ত ব্যক্তির মনোবাঞ্ছা সর্ব্বদা পূর্ণ করিবে। রাজকার্য্য সুপরিচালনায় যোগ্যমন্ত্রিগণের মন্ত্রণা প্রয়োজন এবং জয়লাভ ও সাফল্য তাপসগণের আশীর্ব্বাদসাপেক্ষ। যদি স্বয়ং রোগমুক্ত হইতে চাও, তবে রোগাতুরকে নিরাময় করিবার জন্য ভগবানের নিকট প্রার্থনা জানাও। যদি পরমেশ্বরের নিকট স্বকৃত অপরাধের জন্য ক্ষমা পাইতে চাও, তাহা হইলে প্রথমে অপরাধিগণকে মুক্তি দান কর।” শাহান্‌শাহ্ সায়েদআল্লা খাঁর কথায় পরম পরিতুষ্ট হইয়া তাহার শিরশ্চুম্বন করিলেন এবং তাহাকে সুবর্ণখচিত বহুমূল্য পরিচ্ছদ উপহার দিলেন। পুত্র, আমার মনে হইল, এই অমোঘ উপদেশগুলি আমার একার সঞ্চয় করিয়া রাখা কর্ত্তব্য নয়। সুতরাং আমি আমার প্রিয় পুত্রকেও তাহা বিদিত করিলাম। জগদীশ্বরের নিকট প্রার্থনা করি, তুমি যেন এই উপদেশগুলি মানিয়া চলিতে পার।