আলম্গীরের পত্রাবলী/৩৪
[ ৩৪ ]
সৌভাগ্যবান্ পুত্র, একদিন শত্রু ভ্রাতা দারা-শিকোর খাস মুন্সী পাহাড় আমল শাহান্শার (শাহ্জহানের) নিকট এক হিসাবের ফর্দ্দ দাখিল করিয়া বলিল, “এই ফর্দ্দ অনুযায়ী দশ লাখ টাকা আমাদের (দারা-শিকো এবং পাহাড় আমল) পাওনা হইতেছে। অতএব রাজকোষ হইতে এই টাকা আমাদিগকে প্রদান করিবার হুকুম হউক।” শাহান্শাহ্ তখন ফর্দ্দখানি উজির সায়েদআল্লা খাঁর হাতে দিয়া বলিলেন, “খরচগুলি তুমি একবার ভাল করিয়া পরীক্ষা কর, এবং এ সম্বন্ধে কি করা উচিত বল।” খাঁ তৎক্ষণাৎ উত্তর করিলেন, “হুজুর, এত টাকা এখন সরকারী তহবিল হইতে দেওয়া যাইতে পারে না।” দরকার শেষ হইবার পর উদ্ধত অসহিষ্ণু দারা সায়েদআল্লা খাঁকে বিস্তর তিরস্কার বাক্য শুনাইয়া দিল। এই সংবাদ তৎক্ষণাৎ শাহান্শার কর্ণগোচর হইলে তিনি দারাকে এই কথাগুলি লিখিয়া পাঠাইলেন।—“ধার্ম্মিক এবং সৎলোকের সহিত যে শত্রুতাচরণ করে, সে নিজের অমঙ্গল নিজেই ডাকিয়া আনে। ন্যায়-অন্যায় বিচার করিতে পারা রাজপুত্রের একটি বিশেষ গুণ। পাহাড় আমল তোমার মুন্সী, সে তোমারই লাভের দিকটি দেখিবে। কিন্তু সায়েদআল্লা খাঁ আমার কর্ম্মচারী। তাহার কর্ত্তব্য আমার সম্পত্তি রক্ষা করা। তোমার বাকী ফর্দ্দ তোমার মূল হিসাবের সহিত মিলাইয়া লওয়া হইলেও, তোমার নিজের উচিত ছিল সায়েদআল্লা খাঁকে জিজ্ঞাসা করা, সে এখন এত টাকা দিতে পারিবে কিনা। তাহা না করিয়া অকারণে একজন রাজকর্ম্মচারীকে, বিশেষতঃ সায়েদ আল্লা খাঁর মত লোককে মন্দবাক্য বলা তোমার পক্ষে বড়ই গর্হিত কার্য্য হইয়াছে। জানিও এরূপ লোককে হাতে রাখা খুবই ভাল। বিচক্ষণ এবং বুদ্ধিমান কর্ম্মচারী ধনাগমের এক প্রকৃষ্ট উপায়। সাধু-ভৃত্যের গুণেই মনিবের সুনাম বর্দ্ধিত হয়।” সেই দিন সন্ধ্যাকালে সায়েদআল্লা খাঁকে ডাকিয়া শাহান্শাহ্ এক বহুমূল্য পরিচ্ছদ এবং ৩০০০ হাজার দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) বক্শিস্ দিলেন।