আলম্গীরের পত্রাবলী/৫২
[ ৫২ ]
তোমার অনুরোধে আটিক আল্লা খাঁকে তাহার পদে স্থায়ীরূপে বাহাল করা গেল। কিন্তু এজন্য তাহাকে অনেকগুলি সর্ত্ত মানিয়া চলিতে হইবে; যথা, প্রতিবৎসর তাহাকে তাহার এলাকার পরিমাণ বৃদ্ধি করিয়া দিতে হইবে; প্রজাদের উপর সে কোনরূপ অত্যাচার করিবে না এবং কোন গ্রাম নষ্ট করিবে না, সে তাহার এলাকাভুক্ত স্থান তস্করশূন্য করিয়া দিবে, যাহাতে পথিকগণ নিরাপদে সর্ব্বত্র যাতায়াত করিতে সক্ষম হয় এবং বণিক ও ব্যবসায়ীদের কোন আতঙ্ক না থাকে। এই সকল সর্ত্ত অনুযায়ী যদি সে কাজ করিতে প্রস্তুত থাকে, তবেই তাহাকে বাদশাহী পরোয়ানা দেওয়া যাইবে, নতুবা নহে। মালিক ওমর কি করিয়াছিলেন জান? একজন শাসনকর্তta নিয়োগকালে তিনি তাঁহাকে এই কয়টি সর্ত্তে আবদ্ধ করিয়াছিলেন।—(১) দরবারের প্রবেশদ্বারে কোনরূপ পাহারা থাকিবে না, যাহাতে প্রজাগণ বিনা বাধায় তাহাদের অভাব-অভিযোগ দরবারে পৌঁছাইতে পারে। (২) প্রজাসাধারণের হিতার্থে তিনি তাঁহার যাবতীয় সময় নিয়োজিত করিবেন। (৩) কখনও তিনি অশ্বারোহণে নগর পরিভ্রমণ করিবেন না, বরং পদব্রজেই বাহির হইবেন, কেন না, ইহাতে প্রজাগণ নিজ নিজ অভাব-অভিযোগের কথা তাঁহাকে জানাইবার সুযোগ পাইবে। (৪) তাঁহার নিজের বা পরিবারবর্গের ব্যবহারের জন্য রাজকোষ হইতে কোন জিনিষ তিনি লইবেন না। জীবিকা অর্জ্জনের জন্য তিনি ন্যায়পন্থা অবলম্বন করিবেন। বার্দ্ধক্যহেতু অথবা পীড়া বশতঃ ইহাতে অপারগ হইলে তিনি সময়ে সময়ে রাজকোষ হইতে দুই-তিন ‘দিরাম’ মাত্র লইতে পারিবেন, ইহার অতিরিক্ত কিছুতেই নহে। (৫) বিচার কার্য্যে তাঁহাকে সাহস দেখাইতে হইবে, অর্থাৎ পক্ষপাতশূন্য হইয়া তিনি প্রজাসাধারণের বিচার করিবেন।
এই প্রকারের আরও অনেক সর্ত্ত ছিল। খালিফের এই সকল মহাবাক্য সাধ্যানুযায়ী পালন করা আমাদের কর্ত্তব্য। হে ন্যায়পরায়ণ খোদা, আমাদিগকে সুপথ দেখাও। যাহারা সৎ এবং ধার্ম্মিক, তাহাদিগকে শান্তি দাও।