আলম্গীরের পত্রাবলী/৫৩
[ ৫৩ ]
সাম্রাজ্যের একান্ত অনুগত সেবক, শাহ্ আলমের প্রধান মুন্সী মুনাম্ খাঁকে আজ তুমি অতি অবশ্য আমার নিকট হাজির করিবে। নিমকহারাম পুত্র আকবরের দুরভিসন্ধির কথা আমি তাহাকে ভাল করিয়া বুঝাইয়া বিদায় দিব। সে এখন পারস্যরাজের মুখাপেক্ষী হইয়া হীরাটে আড্ডা লইয়াছে। হীরাটের শাসনকর্ত্তার কুপরামর্শে সে এখন সেখান হইতে এক পা’ও নড়িতেছে না। আমার মৃত্যুর অপেক্ষাতেই সে বসিয়া আছে। মুনাম্ খাঁকে এখন বেশী কিছু করিতে হইবে না। সে তাহার পুত্রকে সসৈন্যে কাবুলে রাখিবে এবং আমার সাহসী পৌত্র মুহম্মদ মা’জুদ্দিন বাহাদুরকে বিরাট বাহিনী সহ মুলতানে প্রেরণ করিবে। বাকী যে ক’টা দিন আমি বাঁচিয়া আছি, এই ব্যবস্থাই থাক্। আমার মৃত্যু পর্য্যন্ত রাজ্যে শান্তি বিরাজ করুক ইহাই আমার অভিপ্রায়।
দেখ, এমন বহুলোক দেখা গিয়াছে, যাহারা কেবল উচ্চাকাঙ্খা নিবৃত্তির জন্য বিদ্রোহের আগুন জ্বালাইয়া রাজ্য একেবারে ছারখারে দিতেও পশ্চাৎপদ হয় নাই। এই সকল লোককেই আবার অনুতাপের আগুনে পুড়িয়া অতি শোচনীয়ভাবে প্রাণত্যাগ করিতে হইয়াছে হতভাগ্য দারা-শিকো এই ধরণের একজন ছিল। সে যদি শাহান্শার উপদেশ মত চলিত, তাহা হইলে তাহাকে ওরকম দুঃখভোগ করিতে হইত না। সম্রাটের উপদেশ অমান্য করায় তাহার ওরূপ শোচনীয় পরিণাম ঘটিয়াছিল। উচ্চাকাঙ্খা পূর্ণ হইলে কোন কোন স্থলে সুখদায়ক হয় বটে, কিন্তু অধিকাংশ স্থলেই উচ্চাভিলাষিগণের জীবন শোচনীয় হইয়া থাকে। হে খোদা, মুহম্মদীয় ধর্ম্মাবলম্বীদিগকে উন্নতির পথে চালিত কর এবং ইহজগত ও পরজগতে তাহাদের উপর করুণা কর।