আলম্গীরের পত্রাবলী/৫৪
[ ৫৪ ]
কাজকর্ম্মের বিশৃঙ্খলতা সম্বন্ধে আমজাদ খাঁ আমাকে যে অভিযোগ করিয়াছিল, তাহা তোমাকে জানাইয়াছি। বিদ্রোহিগণকে বন্দী করিবার জন্য মুহম্মদ ঈয়ার খাঁকে এই দণ্ডে আমার হুকুম পাঠাও এবং তাহাকে ভাল করিয়া বুঝাইয়া দাও যেন সে ভবিষ্যতে কর্ত্তব্যকর্ম্মে অবহেলা না করে। সাংসারিক কর্ত্তব্যপালনই প্রকৃতপক্ষে ধর্ম্মকার্য্য। মানুষের চোখ তো আছে, তবে শিক্ষকের কি প্রয়োজন! দুনিয়া চোখের সামনেই তো পড়িয়া রহিয়াছে। কেতাবের চেয়ে দুনিয়া হইতেই মানুষের শিখিবার আছে বেশী।
কোন এক বন্ধুর চিঠিতে জানিলাম যে, পুত্র মুহম্মদ আজম্ তার নিজের ভৃত্যদের লইয়া রাজপথে “ডাকচৌকি” বসাইয়াছে। সে কি চায়? সে কি এইভাবে তার নিজের এলাকার সমস্ত খবর সংগ্রহ করিতে চায়? আশ্চর্য্যের বিষয় এই যে, তুমিও এ বিষয়ে আমাকে কিছু জানাও নাই। আমার মনে হয় যে, শাহ্জাদা নিজের কাজে বড়ই উদাসীন এবং অমনোযোগী। যদি সে নিজের কাজই ভাল করিয়া না দেখে, তবে কি করিয়া সে রাজ্যের গুরুতর কাজ চালাইবে? রাজ্যের কাজ তো খোদারই কাজ! তুমি তাহাকে লিখিয়া দাও, সে যেন তার নিজের উদ্ভাবিত এই “ডাকচৌকি” প্রথা উঠাইয়া দেয়। অন্যথায় ইহা বলপূর্ব্বক তুলিয়া দেওয়া হইবে। এ সম্বন্ধে আর বেশী কিছু বলিতে চাই না। বুদ্ধিমানের পক্ষে একটি কথাই যথেষ্ট। শাহ্জাদাকে আমি যথেষ্ট সৎ পরামর্শ দিয়াছি। এখন তার কর্ত্তব্য, সেই মত কাজ করা।
একটি মরকতখচিত অঙ্গুরী কুলী খাঁকে উপঢৌকন দিবার জন্য কাল আমি পছন্দ করিয়াছি। অঙ্গুরীটিতে এখনও নাম খোদাই হয় নাই। এখন আমার মনে পড়িল যে, কুলী খাঁর খেতাব, “চিন্ ক্লিচ্ খাঁ।” তুমি জহুরী বিভাগের প্রধানকে দিয়া একজন খোদাইকর ডাকাইবে, এবং অঙ্গুরীটির উপর কুলী খাঁর সমগ্র খেতাবটি খোদাই করাইয়া উহা তাহার নিকট পাঠাইয়া দিবে।