বিষয়বস্তুতে চলুন

আলম্‌গীরের পত্রাবলী/৬০

উইকিসংকলন থেকে

[ ৬০ ]

 মুহম্মদ ইখ্‌লাম্‌ এনায়েত্ আল্লা খাঁর মুখে শুনিলাম যে, সাম্রাজ্যের ভাবী উত্তরাধিকারী জ্যেষ্ঠ পুত্র মুয়জ্জম্ বিস্তর ঋণ করিয়াছে এবং সৈন্যগণের মাহিনা বাকী ফেলিয়াছে। এরকম তো হইবেই। যোগ্য ও অযোগ্য বিবেচনা না করিয়া যে লোককে কাজে বাহাল করে, অকারণে লোকের বেতন বৃদ্ধি করে, কোনরূপ বিবেচনা না করিয়া লোকের উপর অনুগ্রহ করে, বক্‌শিস্ দেয়, সে ঋণগ্রস্ত হইবে না তো কি? সমগ্র কোরাণ তার মুখস্থ, আর সে একজন অসাধারণ জ্ঞানী। কোরাণের এই বাক্যটি কি তার স্মরণ হয় না! “—কখনও অমিতব্যয়ী হইও না।” মানুষের চোখ কান খোলা রহিয়াছে এবং তার বিবেকবুদ্ধিও আছে; তবে কেন যে সে খোদার খিদমত্ না করিয়া তাঁহাকে প্রতারিত করে, তার কারণ আমি বুঝিতে অক্ষম। শাহ্‌জাদার বর্ত্তমান কর্ম্মসচিবটি আমার একেবারে অপরিচিত, কেন না সে কাশ্মীর হইতে আগত। একটা কিছু ব্যবস্থা হওয়া দরকার। আমার মনে হয়, এই কর্ম্মসচিবটিকে বদল করিয়া এর জায়গায় ইস্‌লাম্ খাঁকে বাহাল করা হউক। ইস্‌লাম্‌ খাঁ তত খারাপ লোক নয়।