বিষয়বস্তুতে চলুন

আলম্‌গীরের পত্রাবলী/৬১

উইকিসংকলন থেকে

[ ৬১ ]

 গত রাত্রে যে দরবেশকে আমার নিকট আনা হইয়াছিল, সে একেবারে নিরক্ষর। তাকে একজন গোঁড়া ফকীর বলিয়া মনে হইল। সম্ভবতঃ সে ভণ্ডামিটা খুব ভাল করিয়া অভ্যাস করিতেছে। তাহার বহু কার্য্যকলাপ এবং কথাবার্ত্তা ধর্ম্মের প্রতিকূল। সে দানশীলতার ঘোর বিপক্ষে। কেন, তাহা বুঝিলাম না। যিনি যখন রাজা হন, রাজকীয় ধনভাণ্ডার তখন তাঁহারই হাতে গচ্ছিত থাকে। তিনি যদি ধনভাণ্ডার হইতে অপরকে কিছু কিছু দান করেন, তাহা অন্যায় কিসে? রাজা যদি তাঁহার নিজস্ব সম্পত্তির আয় হইতে কতক অংশ অসহায় ফকীরদের জন্য দান করেন, তবে সে-দান কি করিয়া অন্যায় হইতে পারে? এই দরবেশ কি কারণে দানের এত বিপক্ষে, সে কথা তাহাকে ভাল করিয়া জিজ্ঞাসা করিও। যদি সে সদুত্তর দেয় ভালই, নতুবা তাহাকে অবশ্যই সাজা দিবে। আফগানিস্থানের মহানুভব রাজা সুলতান মামুদ কি করিতেন জান? তিনি ধর্ম্মদ্রোহী ও ভণ্ডদের নিজের দরবারে আসিতে দেওয়া তো দূরের কথা, রাজ্যের সীমানাতেও ঢুকিতে দিতেন না—অপরে যাহাতে এই সব লোকের সংস্পর্শে আসিয়া ভুলপথে না যায়। হে খোদা! আমাদিগকে ঠিক পথে চালিত কর। যাহারা তোমাকে আত্মসমর্পণ করিয়াছে, তাহাদিগকে শান্তি দাও।