বিষয়বস্তুতে চলুন

আলম্‌গীরের পত্রাবলী/৬২

উইকিসংকলন থেকে

[ ৬২ ]

 শাহ্‌জাদা মুয়জ্জম্ ফতেআল্লা খাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনিয়াছে। কাবুলে পাঠাইবার সময়েই আমি বুঝিয়াছিলাম যে, এই দাম্ভিক খাঁর সাহায্য শাহ্‌জাদার পক্ষে সুবিধাজনক হইবে না। কিন্তু আমি কি করিব? শাহ্‌জাদাই তো জিদ্ করিয়াছিল, খাঁকে তাহার নিকট পাঠাইবার জন্য। তাহার অনুরোধেই আমি তাহাকে সেখানে পাঠাইতে বাধ্য হইয়াছিলাম। ফতেআল্লা খাঁর অধীনে যে তিন শত অনুচর আছে, তাহা সরাইয়া লওয়া হউক এবং তাহার খেতাবও কাড়িয়া লওয়া হউক। তাহার এই পদচ্যুতির হুকুম লিপিবদ্ধ করিয়া মহাফেজখানায় পাঠাইয়া দাও। আমার হুকুম মত এই বাচাল লোকটাকে লিখিয়া জানাও যে, শাহ্‌জাদার অন্তঃকরণে আঘাত দেওয়া এবং সে যে তাহার অধীনে, এ কথাটা গর্ব্ব সহকারে জাহির করাটাই কি বিশ্বস্ততার পরিচায়ক? এইরূপ আচরণ নীচ প্রকৃতির লোকেরাই করিয়া থাকে। আত্মসম্মানের জন্য যাহারা প্রাণ পর্য্যন্ত ত্যাগ করিতে পারে, এরূপ আচরণ তাহাদের প্রকৃতিবিরুদ্ধ। সে যদি শাহ্‌জাদাকে খুসী করিতে পারে, তবেই আমি তাহার উপর খুসী হইব। শাহ্‌জাদা যদি তার সুপারিশ করে, তবেই তাহাকে অতিরিক্ত খেতাব দেওয়া যাইবে। অন্যায় কার্য্যের জন্য তার অনুতপ্ত হওয়া উচিত। আমার এই হুকুম তাহাকে জানাইয়া দাও এবং শাহ্‌জাদাকেও লিখিয়া দাও সে যেন তার উপর একটু সুনজর রাখে।