আলম্গীরের পত্রাবলী/৬৯
[ ৬৯ ]
সাম্রাজ্যের বিশ্বস্ত সেবক, ইয়ার আলি বেগ এ রকম দৈন্যের সহিত জীবন যাপন করা কিরূপে ঠিক বলিয়া মনে করে? সে এখন উকীলের পদে বাহাল রহিয়াছে। দীনভাবে জীবন যাপন করা যে অকর্ত্তব্য এ বিষয় কি সে কোরাণে দেখে নাই? তবে কেন সে সেইমত কাজ করে না? ইহাতে যে নিজকে এবং আমাকেও লোক-সমাজে বিদ্রূপভাজন করিয়া তুলিতেছে। প্রত্যেকের উচিত, সমাজের সহিত সামঞ্জস্য বিধান করিয়া চলা। কিন্তু ও-বেচারীর আর দোষ কি? ওর স্বভাবই যে ওই রকম! সুখস্বাচ্ছন্দ্য লাভ ত মানুষ আর নিজের ক্ষমতাবলে অর্জ্জন করিতে পারে না,—ঐ সর্ব্বশক্তিমান খোদা দয়া করিয়া মানুষকে যদি তা’ বক্শিস্ না করেন।
শাহান্শাহ্ (শাহ্জহান) রাজধানী শাহ্জহানাবাদের উদ্যানগুলিকে নানারকম ফল-ফুলের গাছ দ্বারা সাজাইয়া রাখিতে খুব বেশী ভালবাসিতেন। পুকুর বা জলাশয়গুলি যাহাতে বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে সে বিষয়ে নিজে তিনি তত্ত্বাবধান করিতেন। এই পথিকও (অর্থাৎ আওরংজীব) যতদিন রাজধানী শাহ্জহানাবাদে ছিল, ততদিন সে সব উপভোগ করিয়াছে। মুহম্মদ ইয়ার খাঁ রোজ যদি উদ্যানে যায় এবং গাছগুলির তত্ত্বাবধান করে, তো বড়ই ভাল হয়। নিজেও তুমি এবার হইতে প্রত্যহ একবার করিয়া উদ্যানে যাইবে এবং দুর্গ প্রাসাদ ও উদ্যানগুলির তত্ত্বাবধান করিবে। আর একটি কাজ তুমি অবশ্য করিবে। সমস্ত উদ্যান ও প্রাসাদগুলির অবস্থা আমাকে ভাল করিয়া জানাও। বিশেষ করিয়া শাহীবাবাদ, আজাআবাদ, মোবারক, নূরবাড়ী, সাহারন্দবাড়ী প্রভৃতি স্থানের উদ্যান ও প্রাসাদগুলি, আমি চলিয়া আসার পর হইতে কিরূপ অবস্থায় আছে আমাকে তাহা এরূপভাবে লিখিয়া পাঠাও যেন আমি সে-সব নিজের চোখের সামনে দেখিতেছি বলিয়া মনে হয়; শুধু তাই নয়, আমাকে প্রত্যেকের একটা করিয়া নক্সা পাঠাইবে। মহ্সীন খাঁর বাগানের খুব তারিফ শুনিয়াছি। ইহা কি অবস্থায় আছে জানাইবে। এ ছাড়া অপর যেসব প্রয়োজনীয় স্থান আছে, ভাল করিয়া তার খোঁজ লইবে এবং আমাকে সঠিক খবর জানাইবে, যাহাতে আমি উপযুক্ত পরিমাণ অর্থব্যয় করিয়া সে-সকল মেরামতের ব্যবস্থা করিতে পারি। হায়! হায়! এতদিন শিশুর মত কেবল খেলা ও আমোদেই জীবন কাটাইলাম! আমার নিজের সম্বন্ধে কোন জ্ঞানই হইল না! জীবনটা বৃথায় গেল! পাপের জন্য অনুতাপ ত কই আসিল না! হায়! হায়! হায়! আমার মুক্তির আর আশা কোথায়!