আশ্রমের রূপ ও বিকাশ

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

আশ্রমের রূপ ও বিকাশ

আশ্রমের রূণ বিকাশ

প্রাচীন ভারতের তপোবন জিনিসটির ঠিক বাস্তব রূপ কী তার স্পষ্ট ধারণা আজ অসম্ভব। মোটের উপর এই বুঝি যে আমরা বাদের ঋষিমুনি বলে থাকি অরণ্যে ছিল তাদের সাধনার স্থান। সেইসঙ্গেই ছিল স্ত্রী পরিজন নিয়ে তাদের গার্হস্থ্য । এই-সকল আশ্রমে কাম ক্রোধ রাগ দ্বেষের আলোড়ন যথেষ্ট ছিল, পুরাণের আখ্যায়িকায় তার বিবরণ মেলে । কিন্তু তপোবনের যে চিত্রটি স্থায়ীভাবে রয়ে গেছে পরবর্তী ভারতের চিত্তে ও সাহিত্যে, সেটি হচ্ছে কল্যাণের নির্মল স্বন্দর মানসমূতি, বিলাসমোহমুক্ত বলবান আনন্দের মূর্তি। অব্যবহিত পারিপাখিকের জটিলতা আবিলত অসম্পূর্ণতা থেকে পরিত্রাণের আকাঙ্ক্ষা এই কাম্যলোক স্বষ্টি করে তুলেছিল ইতিহাসের অস্পষ্ট স্বতির উপকরণ নিয়ে। পরবর্তীকালে কবিদের বেদনার মধ্যে যেন দেশব্যাপী একটি নির্বাসনদুঃখের আভাস পাওয়া যায়, কালিদাসের রঘুবংশে তার স্বম্পষ্ট নিদর্শন আছে। সেই নির্বাসন তপোবনের উপকরণবিরল শাস্ত স্বন্দর যুগের থেকে ভোগৈশ্বৰ্ষজালে বিজড়িত তামসিক যুগে । কালিদাসের বহুকাল পরে জন্মেছি, কিন্তু এই ছবি রয়ে গেছে আমারও মনে । যৌবনে নিভৃতে ছিলুম পদ্মাবক্ষে সাহিত্যসাধনায়। কাব্যচর্চার মাঝখানে কখন এক সময়ে সেই তপোবনের জাহান আমার মনে এসে পৌঁচেছিল। ভাববিলীন তপোবন আমার কাছ থেকে রূপ নিতে চেয়েছিল আধুনিককালের কোনো একটি অহুকূল ক্ষেত্রে। ষে প্রেরণা কাব্যরূপ-রচনায় প্রবৃত্ত করে, এর মধ্যে সেই প্রেরণাই ছিল— কেবলমাত্র বাণীরূপ নয়, প্রত্যক্ষরূপ । অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে আমার মনে এই কথাটি জেগে উঠেছিল, ছেলেদের মানুষ করে তোলবার জন্তে যে-একটা যন্ত্র তৈরি হয়েছে, যার নাম ইস্কুল, সেটার ভিতর দিয়ে মানবশিশুর শিক্ষার সম্পূর্ণত হতেই পারে না। এই শিক্ষার জন্তে আশ্রমের দরকার, যেখানে আছে সমগ্রজীবনের সঙ্গীব ভূমিকা। प्ठात्रावटमग्न ८कक्षइट्ज च्याएझन सक्र । डिनि बल्ल बन, डिनि बांङ्मय । मिझिङ्गुज्रोट्द মানুষ মন, সক্রিয়ভাবে ; কেননা মন্থন্তত্বের লক্ষ্য-সাধনে তিনি প্রবৃত্ত। এই তপস্তার গতিমান ধারায় শিল্পদের চিত্তকে গতিশীল করে তোলা র্তায় আপন সাধনারই অঙ্গ । QSS3 রবীন্দ্র-রচনাবলী विज्ञरश्ख्न खैौवन ७इँ ८श् ८थव्रभ। श्रोत्क्क cज उँच्न अदाबहिउ जत्र (थाक । बिउाछाणक्रक মানবচিত্তের এই সঙ্গ জিনিসটিই আশ্রমের শিক্ষায় সব চেয়ে মূল্যবান উপাদান— অধ্যাপনার বিষয় নয়, পদ্ধতি নয়, উপকরণ নয়। গুরুর মন প্রতি মুহূর্তে আপনাকে পাচ্ছে বলেই আপনাকে দিচ্ছে। পাওয়ার আনন্দ দেওয়ার আনন্দেই নিজের সত্যতা সপ্রমাণ করে, যেমন যথার্থ ঐশ্বর্ষের পরিচয় ত্যাগের স্বাভাবিকতায় । পণ্য উৎপাদন ব্যাপারটাকে বিপুল ও দ্রুত করবার জন্তেই আধুনিককালে যন্ত্ৰযোগে ভূরি উৎপাদনের প্রবর্তন। পণ্যবস্তু প্রাণবান নয়, হাইড্রলিক জাতার চাপে তাদের কোনো কষ্ট নেই। কিন্তু শিক্ষা ব্যাপারটা ভূরি উৎপাদনের যান্ত্ৰিক চেষ্টায় নীরস নৈর্ব্যক্তিক প্রণালীতে মানুষের মনকে পীড়িত করবেই। ধরে নিতে হবে আশ্রমের শিক্ষা সেই শিক্ষার কারখানাম্বর হবে না। এখানে প্রত্যেক ছাত্রের মনের উপর শিক্ষকের প্রাণগত স্পর্শ থাকবে, তাতে উভয় পক্ষেরই আনন্দ । একদা একজন জাপানী ভদ্রলোকের বাড়িতে ছিলাম, বাগানের কাজে তার ছিল বিশেষ শখ। তিনি বলেছিলেন, আমি বৌদ্ধ, মৈত্রীর সাধক। আমি ভালোবাসি গাছপাল, ওদের মধ্যে এই ভালোবাসার অনুভূতি প্রবেশ করে, ওদের কাছ থেকে সেই ভালোবাসারই পাই প্রতিদান। কেবলমাত্র নিপুণ মালীর সঙ্গে প্রকৃতির এই স্বতঃআনন্দের যোগ থাকে না । বলা বাহুল্য মানুষ-মালীর সম্বন্ধে এ কথা সম্পূর্ণ সত্য তাতে কোনো সন্দেহ নেই। মনের সঙ্গে মন মিলতে থাকলে আপনি জাগে খুশি । সেই খুশি স্বজন-শক্তিশীল। আশ্রমের শিক্ষাদান এই খুশির দান। ধাদের মনে কর্তব্যবোধ আছে কিন্তু খুশি নেই তাদের দোসর পথ । পুরাকালে আমাদের দেশের গৃহস্থ ধনের দায়িত্ব স্বীকার করতেন। যথাকালে যথাস্থানে যথাপাত্রে দান করার দ্বারা তিনি নিজেকেই জানতেন সার্থক । তেমনি খিনি জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন, জ্ঞান বিতরণের দায়িত্ব তিনি স্বতই গ্রহণ করতেন। তিনি জানতেন, যা পেয়েছেন তা দেবার স্বৰোগ না পেলে পাওয়াই থাকে অসম্পূর্ণ। গুরুশিন্যের মধ্যে এই পরস্পরসাপেক্ষ সহজ সম্বন্ধকেই আমি বিদ্যাদানের প্রধান মাধ্যস্থ্য বলে জেনেছি। আরো একটি কথা আমার মনে ছিল । গুরুর অস্তরে ছেলেমানুষটি যদি একেবারে শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায় তা হলে তিনি ছেলেদের ভার নেবার অধোগ্য হন। শুধু সামীপ্য নয়, উভয়ের মধ্যে প্রকৃতিগত সাযুজ্য ও সাদৃত থাকা চাই। নইলে দেনপাওনায় নাড়ীর যোগ থাকে না। নদীর সঙ্গে যদি প্রকৃত শিক্ষকের তুলনা করি তবে বলব, কেবল ভাইনে বায়ে কতকগুলো বুড়ে বুড়ো উপনদী-ৰোগেই তিনি পূর্ণ নন। আশ্রমের রূপ ও বিকাশ ר צס তার প্রথম আরম্ভের লীলাচঞ্চল কলহান্তমুখর ঝরনার প্রবাহ পাথরগুলোর মধ্যে হারিয়ে ৰায় নি। যিনি জাত-শিক্ষক ছেলেদের ভাক পেলেই তায় আপন ভিতরকার আদিম ছেলেট। আপনি ছুটে আসে। মোট গলার ভিতর থেকে উচ্ছ্বসিত হয় প্ৰাণে-ভরা কাচা হাসি। ছেলেরা যদি কোনো দিক থেকেই তাকে স্বশ্রেণীর জীব বলে চিনতে না পারে, যদি মনে করে লোকটা যেন প্রাগৈতিহাসিক মহাকায় প্রাণী, তবে থাকার আড়ম্বর দেখে নির্তয়ে সে তার কাছে হাত বাড়াতেই পারবে না। সাধারণত আমাদের গুরুরা প্রবীণত সপ্রমাণ করতেই চান, প্রায়ই ওটা শস্তায় কর্তৃত্ব করবার প্রলোভনে, ছেলেদের আঙিনায় চোপদার না নিয়ে এগোলে সন্ত্রম নষ্ট হবার ভয়ে তারা সতর্ক। তাই পাকা শাখায় কচি শাখায় ফুল ফোটাবার ফল ফলাবার মৰ্মগত সহযোগ রুদ্ধ হয়ে থাকে। আর-একটা গুরুতর কথা আমার মনে ছিল । ছেলেরা বিশ্বপ্রকৃতির অত্যন্ত কাছের সামগ্রী। আরামকেদারায় তারা আরাম চায় না, গাছের ডালে তারা চায় ছুটি । বিরাট প্রকৃতির অম্বরে আদিম প্রাণের বেগ নিগৃঢ়ভাবে চঞ্চল, শিশুর প্রাণে সেই বেগ গতিসঞ্চার করে। জীবনের আরম্ভে অভ্যাসের দ্বারা অভিভূত হবার আগে কৃত্রিমতার জাল থেকে ছুটি পাবার জন্তে ছেলেরা ছটফট করতে থাকে, সহজ প্রাণলীলার অধিকার তার দাবি করে বয়স্কদের শাসন এড়িয়ে । আরণ্যক ঋষিদের মনের মধ্যে ছিল চিরকালের ছেলে, তাই কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অপেক্ষ না রেখে তারা বলেছিলেন, যদিদং কিঞ্চ সৰ্বং প্রাণ এক্সতি নিঃস্তম্ব- এই যা-কিছু সমস্তই প্রাণ হতে নিঃস্থত হয়ে প্রাণেই কম্পিত হচ্ছে। এ কি বর্গস-এর বচন । এ মহান শিশুর বাণী । বিশ্ব প্রাণের এই স্পন্দন লাগতে দাও ছেলেদের দেহে মনে, শহরের বোবা কালা মরা দেওয়ালগুলোর বাইরে । আমাদের আশ্রমের ছেলেরা এই প্রাণময়ী প্রকৃতিকে কেবল ষে খেলায় ধুলায় নানা রকম করে কাছে পেয়েছে তা নয়, আমি গানের রাস্ত দিয়ে নিয়ে গেছি তাদের মনকে প্রকৃতির রঙমহলে । তার পরে আশ্রমের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার কথা । মনে পড়ছে, কাদম্বরীতে একটি বর্ণনা আছে– তপোবনে আসছে সন্ধ্যা, যেন গোষ্টে-ফিরে-আসা পাটলী হোমধেন্থটির মতো। শুনে মনে পড়ে যায় সেখানে গোঙ্ক চরানো, গো দোহন, সমিধ, बांझ्द्रन, बडिषि-श्रृंब्रि5र्षी, चांथश-वांजक वांजिकांटमब्र शिमङ्गङ] ।। ७झे-जद कई*र्षांtङ्गब्र দ্বারা তপোবনের সঙ্গে তাদের নিত্য-প্রবাহিত জীবনের ৰোগধারা। প্রাণায়ামের ফাকে ফঁাকে কেবলি ষে সামমন্ত্ৰ আবৃত্তি তা নয়, সহকারিতার সখ্য বিস্তারে সকলে মিলে আশ্রমের স্বীকার্ব পরিচালন ; তাতে করে জাগ্ৰম হত আশ্রমবাসীদের নিজ Vo)Sty» রবীন্দ্র-রচনাবলী হাতের সম্মিলিত রচনা, কর্মসমবায়ে। আমাদের আশ্রমে এই সতত-উদ্যমশীল কর্মসহযোগিতা কামনা করেছি। মাস্টারমশায় গোরু চরাবার কাজে ছেলেদের লাগালে তারা খুশি হত সন্দেহ নেই, দুর্ভাগ্যক্রমে এ যুগে তা সম্ভব হবে না। তবু শরীর মন খাটাবার কাজ বিস্তর আছে যা এ যুগে মানাত। কিন্তু হায় রে, পড়া মুখস্থ সর্বদাই থাকে বাকি, পাতা ভরে রয়েছে কনজুগেশন অফ ইংরেজি ভব স্। তা হোক, আমি যে বিদ্যানিকেতনের কল্পনা করেছি পড়ামুখস্থর কড়া পাহার ঠেলেক্ট্রলে তার মধ্যে পরস্পরের সেবা এবং পরিবেশ-রচনার কাজকে প্রধান স্থান দিয়েছি। আশ্রমের শিক্ষাকে যথার্থভাবে সফল করতে হলে জীবনযাত্রাকে যথাসম্ভব উপকরণবিরল করে তোলা অত্যাবশ্বক হয়ে ওঠে। মানুষের প্রকৃতিতে যেখানে জড়তা আছে সেখানে প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা কুত্ৰ উচ্ছম্বল এবং মলিন হতে থাকে, সেখানে তার স্বাভাবিক বর্বরতা প্রকাশে বাধা পায় না। ধনীসমাজে আন্তরিক শক্তির অভাব থাকলেও বাহিক উপকরণ-প্রাচুর্যে কৃত্রিম উপায়ে এই দীনতাকে চাপা দিয়ে রাখা যায়। আমাদের দেশে প্রায় সর্বত্রই ধনীগৃহে সদর-অন্দরের প্রভেদ দেখলে এই প্রকৃতিগত তামসিকতা ধরা পড়ে। আপনার চার দিককে নিজের চেষ্টায় স্বন্দর স্বশৃঙ্খল ও স্বাস্থ্যকর করে তুলে একত্র বাসের সতর্ক দায়িত্বের অভ্যাস বাল্যকাল থেকেই সহজ করে তোলা চাই। একজনের শৈথিল্য অন্যের অসুবিধা অস্বাস্থ্য ও ক্ষতির কারণ হতে পারে এই বোধটি সভ্য জীবনযাত্রার ভিত্তিগত। সাধারণত আমাদের দেশের গার্হস্থ্যের মধ্যে এই বোধের ক্রটি সর্বদাই দেখা যায়। সহযোগিতার সভ্যনীতিকে সচেতন করে তোলা আশ্রমের শিক্ষার প্রধান সুযোগ । এই সুযোগটিকে সফল করবার জন্তে শিক্ষার প্রথম বর্গে উপকরণ-লাম্বব অত্যাবশ্বক। একান্ত বস্তুপরায়ণ স্বভাবে প্রকাশ পায় চিত্তবৃত্তির স্থূলতা । সৌন্দর্য এবং সুব্যবস্থা মনের জিনিস। সেই মনকে মুক্ত করা চাই কেবল আলত এবং অনৈপুণ্য থেকে নয়, বস্তুলুন্ধতা থেকে। রচনাশক্তির আনন্দ ততই সত্য হয় যতই তা জড় বাহুল্যের বন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারে। বিচিত্র উপকরণকে স্থবিহিতভাবে ব্যবহার করবার স্থৰোগ উপযুক্ত বয়সে ও অবস্থায় লাভ করবার স্বধোগ অনেকের ঘটতে পারে, কিন্তু বাল্যকাল থেকেই ব্যবহার্য বস্তুগুলিকে স্বনিয়ন্ত্রিত করবার আত্মশক্তিমূলক শিক্ষাটা আমাদের দেশে অত্যন্ত উপেক্ষিত হয়ে থাকে। সেই বয়সেই প্রতিদিন অল্প কিছু সামগ্ৰী বা হাতের কাছে পাওয়া যায় তাই দিয়েই স্বাক্টর আনন্দকে স্বন্দর করে উদ্ভাবিত করবার চেষ্টা বেন আশ্রমের রূপ ও বিকাশ פ לס নিরলস হতে পারে এবং সেইসঙ্গেই সাধারণের মুখ স্বাস্থ্য স্থবিধ -বিধানের কর্তব্যে ছাত্রেরা যেন আনন্দ পেতে শেখে এই আমার কামনা । আমাদের দেশে ছেলেদের আত্মকর্তৃত্বের বোধকে অস্ববিধাজনক জাপদজনক ও ঔদ্ধত্য মনে করে সর্বদা দমন করা হয়। এতে করে পরনির্ভরতার লজা তাদের চলে স্বায়, পরের প্রতি দাবির আবদার তাদের বেড়ে যায়, ভিক্ষুকতার ক্ষেত্রেও তাদের অভিমান প্রবল হতে থাকে, আর পরের ক্রটি নিয়ে কলহ করেই তারা আত্মপ্রসাদ লাভ করে। এই লজ্জাকর দীনতা চার দিকে সর্বদাই দেখা যাচ্ছে। এর থেকে মুক্তি পাওয়াই চাই। ছাত্রদের স্পষ্ট বোঝা উচিত, যেখানে নালিশ কথায় কথায় মুখর হয়ে ওঠে সেখানে সঞ্চিত আছে নিজেরই লজ্জার কারণ, আত্মসম্মানের বাধা । ক্রটি সংশোধনের দায় নিজে গ্রহণ করার উদ্যম যাদের আছে, খুতখুত করার কাপুরুষতায় তারা ধিক্কার বোধ করে। আমার মনে আছে ছাত্রদের প্রাত্যহিক কাজে যখন আমার যোগ ছিল তখন একদল বয়স্ক ছাত্র আমার কাছে নালিশ করেছিল যে, আল্লভরা বড়ো বড়ো ধাতুপাত্র পরিবেশনের সময় মেঝের উপর দিয়ে টানতে টানতে তার তলা ক্ষয়ে গিয়ে ঘর-ময় নোংরামির স্বষ্টি হয়। আমি বললুম, তোমরা পাচ্ছ দুঃখ, অথচ স্বয়ং এর সংশোধনের চিস্তামাত্র তোমাদের মনে আসে না, তাকিয়ে আছ আমি এর প্রতিবিধান করব। এই সামান্ত কথাটা তোমাদের বুদ্ধিতে আসছে না যে, ঐ পাত্রটার নীচে একটা বিড়ে বেঁধে দিলেই ঘর্ষণ নিবারণ হয় । তার একমাত্র কারণ, তোমরা জান নিক্রিয়ভাবে ভোকৃত্বের অধিকারই তোমাদের আর কর্তৃত্বের অধিকার অন্তের। এইরকম ছেলেই বড়ো হয়ে সকল কর্মেই কেবল খুতখুতের বিস্তার করে নিজের মজ্জাগত অকৰ্মণ্যতার লজ্জাকে দশ দিকে গুঞ্জরিত করে তোলে । এই বিদ্যালয়ের প্রথম থেকেই আমার মনে ছিল আশ্রমের নানা ব্যবস্থার মধ্যে যখাসম্ভব পরিমাণে ছাত্রদের কর্তৃত্বের অবকাশ দিয়ে অক্ষম কলহপ্রিয়তার ঘৃণ্যতা থেকে তাদের চরিত্রকে রক্ষা করব। উপকরণের বিরলতা নিয়ে অসংগত ক্ষোভের সঙ্গে অসন্তোষ-প্রকাশের মধ্যেও চরিত্রদৌর্বল্য প্রকাশ পায়। আয়োজনের কিছু অভাব থাকাই ভালো, অভ্যস্ত হওয়া চাই স্বরে, অনায়াসে প্রয়োজনের জোগান দেওয়ার দ্বারা ছেলেদের মনটাকে আছরে করে তোলা তাদের ক্ষতি করা। সহজেই তারা যে এত কিছু চায় তা নয়, তারা আত্মতৃপ্ত ; আমরাই বয়স্কলোকের চাওয়াটা কেৰলি তাদের উপর চাপিয়ে তাদেরকে বস্তুর নেশী-গ্ৰস্ত করে তুলি। গোড়া থেকেই শিক্ষার প্রয়োজন এই কথা ভেবে যে, কত জয় নিয়ে চলতে পারে। শরীর-মনের শক্তির সম্যকৃরূপে চর্চা সেইখানেই ভালো করে রবীন্দ্র-রচনাবলী • אס সম্ভব যেখানে বাইরের সহায়তা অনতিশয় । সেখানে মানুষের আপনার স্বষ্টি-উত্তম আপনি জাগে । যাদের না জাগে প্রকৃতি তাদেরকে আবর্জনার মতো ঝেটিয়ে ফেলে দেয়। আত্মকর্তৃত্বের প্রধান লক্ষণ স্বষ্টিকর্তৃত্ব । সেই মানুষই যথার্থ স্বরাটু যে আপনার রাজ্য আপনি স্থষ্টি করে। আমাদের দেশের মেয়েদের হাতে অতিলালিত ছেলেরা মন্থম্বোচিত সেই আত্মপ্রবর্তনার চর্চ থেকে প্রথম হতেই বঞ্চিত। তাই আমরা অন্তদের শক্ত হাতের চাপে অন্তদের ইচ্ছার নমুনায় রূপ নেবার জন্যে অত্যন্ত কাদামাখাভাবে প্রস্তুত। তাই অাপিসের নিম্নতম বিভাগে আমরা আদর্শ কর্মচারী। এই উপলক্ষে আর-একটা কথা আমার বলবার আছে। গ্রীষ্মপ্রধান দেশে শরীরতন্তুর শৈথিল্য বা অন্ত যে কারণবশতই হোক আমাদের মানসপ্রকৃতিতে ঔৎস্থক্যের অত্যস্ত অভাব। একবার আমেরিকা থেকে জল-তোলা বায়ুচক্র জানিয়েছিলুম। প্রত্যাশ করেছিলুম প্রকাও এই যন্ত্রটার ঘৃণিপাখার চালনা দেখতে ছেলেদের আগ্রহ হবে। কিন্তু দেখলুম অতি অল্প ছেলেই ওটার দিকে ভালো করে তাকালে। ওরা নিতান্তই আলগাভাবে ধরে নিলে ও একটা জিনিস মাত্র। কেবল একজন নেপালী ছেলে ওটাকে মন দিয়ে দেখেছে। টিনের বাক্স কেটে সে ওর একটা নকলও বানিয়েছে। মানুষের প্রতি আমাদের ছেলেদের ঔৎসুক্য দুর্বল, গাছপালা পশুপাখির প্রতিও। স্রোতের খাওলার মতো ওদের মন ভেসে বেড়ায়, চার দিকের জগতে কোনো কিছুকেই অঁাকড়ে ধরে না । নিরৌংস্থক্যই আস্তরিক নিজীবতা। আজকের দিনে যে-সব জাতি সমস্ত পৃথিবীর উপর প্রভাব বিস্তার করেছে সমস্ত পৃথিবীর সব কিছুরই উপরে তাদের ঔৎস্থক্যের অম্ভ নেই। কেবলমাত্র নিজের দেশের মানুষ ও বস্তু সম্বন্ধে নয়, এমন দেশ নেই এমন কাল নেই এমন বিষয় নেই স্বার প্রতি তাদের মন ধাবিত না হচ্ছে । মন তাদের সর্বতোভাবে বেঁচে আছে— তাদের এই সজীব চিত্তশক্তি জয়ী হল সর্বজগতে । পূর্বেই আভাস দিয়েছি আশ্রমের শিক্ষা পরিপূর্ণভাবে বেঁচে থাকবার শিক্ষ। মরা মন নিয়েও পড়া মুখস্থ করে পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীর উর্ধশিখরে ওঠা যায় ; আমাদের দেশে প্রত্যহ তার পরিচয় পাই । তারাই আমাদের দেশের ভালো ছেলে বাদের মন গ্রন্থের পত্রচর, ছাপার অক্ষরে একান্ত আসক্ত, বাইরের প্রত্যক্ষ জগতের প্রতি ৰাজের চিত্তবিক্ষেপের কোনো আশঙ্কা নেই। এরা পদবী অধিকার করে, জগৎ অধিকার করে না। প্রথম থেকে আমার সংকল্প এই ছিল, জামার আশ্রমের ছেলেরা চারি দিকের জগতের অব্যবহিত সম্পর্কে উংস্থক হয়ে থাকবে- সদ্ধান করবে, পরীক্ষা করবে, সংগ্রহ করবে। অর্থাৎ এখানে এমন সকল শিক্ষক সমবেত হবেন ধাদের দৃষ্টি বইয়ের আশ্রমের রূপ ও বিকাশ לאס সীমানা পেরিয়ে গেছে, ধারা চক্ষুষ্মান, ধারা সন্ধানী, ধারা বিশ্বকুতুহলী, ধাদের আনন্দ প্রত্যক্ষ জ্ঞানে এবং সেই জ্ঞানের বিষয়বিস্তারে, র্যাদের প্রেরণাশক্তি সহযোগীমণ্ডল স্বষ্টি করে তুলতে পারে। সব শেষে বলব আমি যেটাকে সব চেয়ে বড়ো মনে করি এবং যেটা সব চেয়ে দুৰ্লভ। তারাই শিক্ষক হবার উপযুক্ত র্যার ধৈর্যবান, ছেলেদের প্রতি স্নেহ ধাদের স্বাভাবিক। শিক্ষকদের নিজের চরিত্র সম্বন্ধে যথার্থ বিপদের কথা এই যে, যাদের সঙ্গে তাদের ব্যবহার, ক্ষমতায় তারা তাদের সমকক্ষ নয়। তাদের প্রতি সামান্ত কারণে অসহিষ্ণু হওয়া এবং বিদ্রুপ করা অপমান করা শাস্তি দেওয়া অনায়াসেই সম্ভব। বাকে বিচার করা যায় তার যদি কোনোই শক্তি না থাকে তবে অবিচার করাই সহজ হয়ে ওঠে। ক্ষমত ব্যবহার করবার স্বাভাবিক যোগ্যতা বাদের নেই অক্ষমের প্রতি অবিচার করতে কেবল যে তাদের বাধা থাকে না তা নয়, তাদের আনন্দ থাকে। ছেলেরা অবোধ হয়ে দুর্বল হয়ে মায়ের কোলে আসে, এইজন্তে তাদের রক্ষার প্রধান উপায় মায়ের মনে অপর্যাপ্ত স্নেহ । তৎসত্ত্বেও স্বাভাবিক অসহিষ্ণুতা ও শক্তির অভিমান স্নেহকে অতিক্রম করেও ছেলেদের পরে অস্কায় অত্যাচারে প্রবৃত্ত করে, ঘরে ঘরে তার প্রমাণ দেখা যায় । ছেলেদের মহিষ হবার পক্ষে এমন বাধা অল্পই আছে । ছেলেদের কঠিন ও ও চরম দণ্ড দেবার দৃষ্টান্ত দেখলে আমি শিক্ষকদেরই দায়ী করে থাকি। পাঠশালায় মূর্খতার জন্তে ছাত্রদের পরে যে নির্যাতন ঘটে তার বারো-আনা অংশ গুরুমশায়ের নিজেরই প্রাপ্য। বিদ্যালয়ের কাজে আমি যখন নিজে ছিলুম তখন শিক্ষকের কঠোর বিচার থেকে ছাত্রকে রক্ষা করা আমার দুঃসাধ্য সমস্ত ছিল। অপ্রিয়তা স্বীকার করে আমাকে এ কথা বোঝাতে হয়েছে, শিক্ষার কাজটাকে বলের দ্বারা সহজ করবার জন্তেই যে শিক্ষক আছেন তা নয়। আজ পর্যস্ত মনে আছে চরম শাসন থেকে এমন অনেক ছাত্রকে রক্ষা করেছি স্বার জন্তে অনুতাপ করতে হয় নি । ब्रांड़ेउरज्ञहे कौ बांब्र निकांडरज्ञहे कौ, काठांद्र लांगन-बौऊि शांनग्निष्ठांद्रशे श्रद्दशांशाखांब्र প্রমাণ । আষাঢ় ১৩৪৩ లిపిన রবীন্দ্র-রচনাবলী ९ শিলাইদহে পদ্মাতীরে সাহিত্যচর্চা নিয়ে নিভৃতে বাস করতুম। একটা স্বষ্টির সংকল্প নিয়ে সেখান থেকে এলেম শান্তিনিকেতনের প্রাস্তরে । তখন আশ্রমের পরিধি ছিল ছোটো। তার দক্ষিণ সীমানায় দীর্ঘ সার-বাধা শালগাছ। মাধবীলতা-বিতানে প্রবেশের দ্বার। পিছনে পুব দিকে আমবাগান, পশ্চিম দিকে কোথাও-বা তাল, কোথাও-বা জাম, কোথাও-বা ঝাউ, ইতস্তত গুটিকয়েক নারকেল। উত্তরপশ্চিম প্রাস্তে প্রাচীন ছুটি ছাতিমের তলায় মার্বেল পাথরে বাধানো একটি নিরলংকৃত বেদী। তার সামনে গাছের আড়াল নেই, দিগন্ত পর্যস্ত অবারিত মাঠ, সে মাঠে তখনো চাষ পড়ে নি। উত্তর দিকে আমলকীবনের মধ্যে অতিথিদের জন্তে দোতলা কোঠা আর তারই সংলগ্ন রান্নাবাড়ি প্রাচীন কদমগাছের ছায়ায় । আর-একটি মাত্র পাক বাড়ি ছিল একতলা, তারই মধ্যে ছিল পুরানো আমলের বাধানে তত্ত্ববোধিনী এবং আরো-কিছু বইয়ের সংগ্রহ। এই বাড়িটিকেই পরে প্রশস্ত করে এবং এর উপরে আর-একতলা চড়িয়ে বর্তমান গ্রন্থাগার স্থাপিত হয়েছে। আশ্রমের বাইরে দক্ষিণের দিকে বাধ তখন ছিল বিস্তৃত এবং জলে ভরা। তার উত্তরের উচু পাড়িতে বহুকালের দীর্ঘ তালশ্রেণী। আশ্রম থেকে দেখা যেত বিনা বাধায়। আশ্রমের পূর্ব সীমানায় বোলপুরের দিকে ছায়াশূন্ত রাঙামাটির রাস্তা গেছে চলে। সে রাস্তায় লোকচলাচল ছিল সামান্য । কেননা শহরে তখনো ভিড় জমে নি, বাড়িম্বর সেখানে অল্পই। ধানের কল তখনে আকাশে মলিনতা ও আহার্যে রোগ বিস্তার করতে আরম্ভ করে নি। চারি দিকে বিরাজ করত বিপুল অবকাশ নীরব নিস্তব্ধ। আশ্রমের রক্ষী ছিল বৃদ্ধ দ্বারী, সর্দার ঋজু দীর্ঘ প্রাণসার তার দেহ । হাতে তার লম্বা পাকার্বাশের লাঠি, প্রথম বয়সের দস্থ্যবৃত্তির শেষ নিদর্শন। মালী ছিল হরিশ, দ্বারীর ছেলে । অতিথিভবনের একতলায় থাকতেন দ্বিপেন্দ্রনাথ তার কয়েকজন অকুচরপরিচর নিয়ে। আমি সস্ত্রীক আশ্রয় নিয়েছিলুম দোতলার ঘরে । এই শাস্ত জনবিরল শালবাগানে অল্প কয়েকটি ছেলে নিয়ে ব্ৰহ্মবান্ধব উপাধ্যায়ের সহায়তায় বিদ্যালয়ের কাজ আরম্ভ করেছিলুম। আমার পড়াবার জায়গা ছিল প্রাচীন জামগাছের তলায় । * ছেলেদের কাছে বেতন নেওয়া হত না, তাদের স্বা-কিছু প্রয়োজন সমস্ত আমিই জুগিয়েছি। একটা কথা ভুলেছিলুম ষে সেকালে রাজস্বের ষষ্ঠ ভাগের বরাদ্ধ ছিল তপোবনে, আর আধুনিক চতুষ্পাঠীর অবলম্বন সামাজিক ক্রিয়াকর্ম উপলক্ষে আশ্রমের রূপ ও বিকাশ 'రిపిరి নিত্যপ্রবাহিত দানদক্ষিণ। অর্থাৎ এগুলি সমাজেরই অঙ্গ, এদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্তে কোনো ব্যক্তিগত স্বতন্ত্র চেষ্টার প্রয়োজন ছিল না। অথচ আমার আশ্রম ছিল একমাত্র আমারি ক্ষীণ শক্তির উপরে নির্ভর করে। গুরুশিষ্কের মধ্যে আর্থিক দেনাপাওনার সম্বন্ধ থাকা উচিত নয় এই মত একদা সত্য হয়েছিল যে সহজ উপায়ে, বর্তমান সমাজে সেটা প্রচলিত না থাকা সত্ত্বেও মতটাকে রক্ষা করবার চেষ্টা করতে গেলে কর্মকর্তার আত্মরক্ষা অসাধ্য হয়ে ওঠে, এই কথাটা অনেকদিন পর্যস্ত বহু দুঃখে আমার দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছে । আমার স্বযোগ হয়েছিল এই যে, ব্রহ্মবান্ধব এবং তার খৃস্টান শিন্য রেবাটা ছিলেন সন্ন্যাসী । এই কারণে অধ্যাপনার আর্থিক ও কর্ম -ভার লঘু হয়েছিল তাদের দ্বারা। এই প্রসঙ্গে আর-একজনের কথা সর্বাপেক্ষ আমার মনে জাগছে, তার কথা কোনোদিন ভুলতে পারি নে। গোড়া থেকে বলা যাক । এই সময়ে দুটি তরুণ যুবক, তাদের বালক বললেই হয়, এসে পড়লেন আমার কাছে। অজিতকুমার চক্রবর্তী তার বন্ধু কবি সতীশচন্দ্র রায়কে নিয়ে এলেন আমাদের জোড়াসাকো বাড়িতে, আমার একতলার বসবার ঘরে । সতীশের বয়স তখন উনিশ, বি.এ. পরীক্ষা তার আসন্ন। তার পূর্বে তার একটি কবিতার খাতা অজিত আমাকে পড়বার জন্তে দিয়েছিলেন । পাতায় পাতায় খোলসা করেই জানাতে হয়েছে আমার মত। সব কথা অনুকূল ছিল না। আর-কেউ হলে এমন বিস্তারিত বিশ্লেষণে পবৃত্ত হুতুম না। সতীশের লেখা পড়ে বুঝেছিলুম তার অল্প বয়সের রচনায় অসামান্তত অনুজ্জলভাবে প্রচ্ছন্ন । ধার ক্ষমতা নি:সন্দিগ্ধ, দুটে একটা মিষ্ট কথায় তাকে বিদায় করা তার অসন্মাননা। আমার মতের যে অংশ ছিল অপ্রিয় অজিত তাতে অসহিষ্ণু হয়েছিলেন, কিন্তু সৌম্যমূর্তি সতীশ স্বীকার করে নিয়েছিলেন প্রসন্নভাবে। আমার মনের মধ্যে তখন আশ্রমের সংকল্পটা সব সময়েই ছিল মুখর হয়ে। কথাপ্রসঙ্গে তার একটা ভবিষ্কং ছবি আমি এদের সামনে উৎসাহের সঙ্গে উজ্জল করে ধয়েছিলুম। দীপ্তি দেখা দিল সতীশের মুখে । আমি তাকে আহ্বান করি নি আমার কাজে । আমি জানতুম তার সামনে তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপরের দুই বড়ে ধাপ বাকি। তার শেষভাগে ছিল জীবিকার আশ্বাসবাণী আইনপরীক্ষায় । একদিন সতীশ এসে বললেন, যদি আমাকে গ্রহণ করেন আমি যোগ দিতে চাই আপনার কাজে । আমি বললুম, পরীক্ষা দিয়ে পরে চিত্তা কোরো। সতীশ বললেন, দেব না পরীক্ষা। কারণ পরীক্ষা দিলেই আত্মীয়স্বজনের ধাক্কায় সংসারধাত্রার ঢালু পথে আমাকে গড়িয়ে নিয়ে চলবে। কিছুতে তাকে নিরস্ত করতে পারলে না। জারিত্র্যের ভার অবহেলায় মাথায় করে ৩২৪ রবীন্দ্র-রচনাবলী নিয়ে যোগ দিলেন আশ্রমের কাজে। বেতন অস্বীকার করলেন। আমি তার অগোচরে তার পিতার কাছে যথাসাধ্য মাসিক বৃত্তি পাঠিয়ে দিতুম । তার পরনে ছিল না জামা, একটা চাদর ছিল গায়ে, তার পরিধেয়তা জীর্ণ। যে ভাবরাজ্যে তিনি সঞ্চরণ করতেন সেখানে তার জীবন পূর্ণ হত প্রতিক্ষণে প্রকৃতির রসভাণ্ডার থেকে। আত্মভোলা মানুষ, যখন তখন ঘুরে বেড়াতেন যেখানে সেখানে। প্রায় তার সঙ্গে থাকত ছেলেরা, চলতে চলতে তার সাহিত্যসম্ভোগের আস্বাদন পেত তারাও । সেই অল্প বয়সে ইংরেজি সাহিত্যে সুগভীর অভিনিবেশ তার মতো আর কারে মধ্যে পাই নি। যে-সব ছাত্রকে পড়াবার ভার ছিল তার পরে তারা ছিল নিতান্তই অর্বাচীন। ইংরেজি ভাষার সোপানশ্রেণীর সব নীচেকার পইঠা পার করে দেওয়াই ছিল তার কাজ, কিন্তু কেজো সীমার মধ্যে বদ্ধ সংকীর্ণ নৈপূণ্য ছিল না তার মাস্টারিতে। সাহিত্যের তিনি রসজ্ঞ সাধক ছিলেন, সেইজন্তে তিনি ষা পাঠ দিতেন তা জমা করবার নয়, তা হজম করবার, তা হয়ে উঠত ছেলেদের মনের খাদ্য। তিনি দিতেন তাদের মনকে অবগাহন-স্নান, তার গভীরতা অত্যাবশ্বকের চেয়ে অনেক বেশি । ভাষাশিক্ষার মধ্যে একটা অনিবার্ষ শাসন থাকে, সেই শাসনকে অতিক্রম করে দিতে পারতেন সাহিত্যের উদার মুক্তি। এক বৎসরের মধ্যে হল তার মৃত্যু। তার বেদন আজও রয়ে গেছে আমার মনে। আশ্রমে যারা শিক্ষক হবে তারা মূখ্যত হবে সাধক, আমার এই কল্পনাটি সম্পূর্ণ সত্য করেছিলেন সতীশ । তার পরের পর্বে এসেছিলেন জগদানন্দ । তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল সাধনা পত্রে তার প্রেরিত বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ পড়ে। এই-সকল প্রবন্ধের প্রাeল ভাষা ও সহজ বক্তব্যপ্রণালী দেখে তার প্রতি আমার বিশেষ শ্রদ্ধ৷ আকৃষ্ট হয়েছিল। তার সাংসারিক অভাবমোচনের জন্ত আমি উাকে প্রথমে আমাদের জমিদারির কাজে নিযুক্ত করেছিলেম। তার প্রধান কারণ জমিদারি দপ্তরে বেতনের কুপণতা ছিল না। কিন্তু তাকে এই অযোগ্য আসনে বন্দী করে রাখতে আমার মনে বেদনা দিতে লাগল। অামি তাকে শাস্তিনিকেতনে অধ্যাপনার কাজে আমন্ত্রণ করলুম। যদিও এই কার্ধে আয়ের পরিমাণ অল্প ছিল তবুও আনন্দের পরিমাণ তার পক্ষে ছিল প্রচুর। তার কারণ শিক্ষাদানে তার স্বভাবের ছিল অকৃত্রিম তৃপ্তি। ছাত্রদের কাছে সর্বতোভাবে আত্মদানে তার একটুও কৃপণতা ছিল না। সুগভীর করুণা ছিল বালকদের প্রতি । শাস্তি উপলক্ষেও তাদের প্রতি লেশমাত্র নির্মমতা তিনি সহ করতে পারতেন মা । একজন ছাত্রকে কোনো শিক্ষক তার একবেলার আহায় বদ্ধ কয়ে জগুবিধান করেছিলেন। এই শাসনবিধির নিষ্ঠুরতায় তাকে অশ্রু বর্ষণ করতে দেখেছি। তার আশ্রমের রূপ ও বিকাশ eરe বিজ্ঞানের ভাণ্ডার খোলা ছিল ছাত্রদের সম্মুখে যদিও তা তাদের পাঠ্য বিষয়ের অন্তর্গত ছিল না। এই আত্মদানের অকার্পণ্য যথার্থ শিক্ষকের যথার্থ পরিচয় । তিনি আপনার আসনকে কখনো ছাত্রদের কাছ থেকে দূরে রাখেন নি। আত্মমর্যাদার স্বাতন্ত্র্য রক্ষার চেষ্টায় তিনি ছাত্রদের সেবায় কখনো লাইন টেনে চলতেন না। র্তার অধ্যাপকের উচ্চ অধিকার তার সদয় ব্যবহারের আবরণে কখনো অতিপ্রত্যক্ষ ছিল না। বস্তুত সকল বিষয়েই তিনি ছেলেদের সখা ছিলেন । তার ক্লাসে গণিতশিক্ষায় কোনো ছাত্র কিছুমাত্র পিছিয়ে পড়ে পরীক্ষায় যদি অকৃতাৰ্থ হত সে তাকে অত্যন্ত আঘাত করত। শিক্ষার উচ্চ আদর্শ রক্ষার জন্তু তার অক্লান্ত চেষ্টা ছিল । অমনোযোগী বালকদের প্রতি তার তর্জন গর্জন শুনতে অতিশয় ভয়জনক ছিল কিন্তু তার ক্ষ্মেহ তার ভংসনাকে ভিতরে ভিতরে প্রতিবাদ করে চলত, ছাত্ররা তা প্রত্যহু অনুভব করেছে । যে শিক্ষকেরা আশ্রমের সৃষ্টিকার্যে আপনাকে সর্বতোভাবে উৎসর্গ করেছিলেন, জগদানন্দ তার মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন। তার অভাব ও বেদনা আশ্রম কদাচ ভূলতে পারবে না। সতীশের বন্ধু অজিতকুমার যথার্থ শিক্ষকের পদে উচ্চ স্থান অধিকার করেছিলেন । র্তার বিদ্যা ছিল ইংরেক্তি সাহিত্যে ও দর্শনে বহুব্যাপ্ত। এই জ্ঞানের রাজ্যে তিনি ছিলেন ব্রজেন্দ্রনাথ শীলের ছাত্র । তিনিও নিবিচারে ছাত্রদের কাছে তার জ্ঞানের সঞ্চয় উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। তার ছাত্রেরা সর্বদাই তার শিক্ষকতা থেকে উচ্চ অঙ্গের সাহিত্যরল জাস্বাদনের অবকাশ পেয়েছিল। যদিও তাদের বয়স অল্প ও যোগ্যতার সীমা সংকীর্ণ তবুও তিনি কখনো তাদের কাছ থেকে নিজের পদের অভিমানে নিলিপ্ত ছিলেন না। সতীশের মতো দারিত্র্যে তার ঔদাসীন্ত ছিল না। তবুও তিনি তা স্বীকার করে নিয়েছিলেন। আমাদের আশ্রম-নিৰ্মাণ-কার্ষে ইনি একজন নিপুণ স্থপতি ছিলেন তাতে সন্দেহ নেই। মাঝখানে অতি অল্প সময়ের জন্ত এসেছিলেন আমার এক আত্মোৎসর্গপরায়ণ বন্ধু মোহিতচন্দ্র সেন । তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন । সেখানকার খ্যাতি প্রতিপত্তি সমস্ত ত্যাগ করে যোগ দিয়েছিলেন শিক্ষার এমন নিম্ন স্তরে লোকখ্যাতির দিক থেকে বা তার ৰোগ্য ছিল না। কিন্তু তাতেই তিনি প্রভূত আনন্দ পেয়েছিলেন। কারণ শিক্ষকতা ছিল তার স্বভাবসংগত। অল্পদিনের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়ে শিক্ষাব্ৰত অকালে সমাপ্ত হয়ে গেল। তার অকৃপণতা ছিল জার্থিক দিকে এবং পারমার্থিক দিকে। প্রথম যেদিন আমার সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল সেদিন তিনি আশ্রমের আদর্শের সম্বন্ধে যে সন্মান প্রকাশ করেছিলেন আমার আনন্দের *ष्क डॉहे वाषडे हिल । जवळचाथ दिकांद्र ८मयांङ्ग नशटङ्ग डिनि बजटजन, शशि बांश्रेि रे १२२ ७२७ রবীন্দ্র-রচনাবলী আপনার এখানকার কাজে যোগদান করতে পারতুম তবে নিজেকে কৃতাৰ্থ বোধ করতুম। কিন্তু সম্প্রতি তা সম্ভব না হওয়াতে কিঞ্চিং শ্রদ্ধার অঞ্জলি দান করে গেলুম। এই বলে আমার হাতে একটি কাগজের মোড়ক দিয়ে গেলেন। পরে খুলে দেখলেম হাজার টাকার একখানি নোট। পরীক্ষকরূপে ষা পেয়েছিলেন সমস্তই তিনি তার শ্রদ্ধার নিদর্শনরূপে দান করে গেলেন । কিন্তু কেবল সেই একদিনের দান নয়, তার পর থেকে প্রতিদিন তিনি নিবেদন করেছেন তার শ্রদ্ধার অর্ঘ্য একান্ত অনুপযুক্ত বেতন রূপে । এদের অনেক পরে আশ্রমের সাধনাক্ষেত্রে দেখা দিলেন নন্দলাল। ছোটো বড়ো সমস্ত ছাত্রের সঙ্গে এই প্রতিভাসম্পন্ন আর্টিস্টের একাত্মকতা অতি আশ্চর্ষ। তার আত্মদান কেবলমাত্র শিক্ষকতায় নয়, সর্বপ্রকার বদান্ততায় । ছাত্রদের রোগে, শোকে, অভাবে তিনি তাদের অকৃত্রিম বন্ধু। তাকে যারা শিল্পশিক্ষা উপলক্ষে কাছে পেয়েছে তারা ধন্ত হয়েছে । তার পর থেকে নানা কর্মী, নানা বন্ধু আশ্রমের সাধনাক্ষেত্রে সমবেত হয়েছেন এবং আপন আপন শক্তি ও স্বভাবের বিশিষ্টতা অনুসারে আশ্রমের গঠনকার্যে ক্রমশ বিচিত্র উপকরণ জুগিয়ে এসেছেন। স্বষ্টিকার্যে এই বৈচিত্র্যের প্রয়োজন আছে। নতুন নতুন কালের প্রেরণায় নতুন নতুন রূপ আপনাকে ব্যক্ত করতে থাকে এবং এই উপায়েই কালের সঙ্গে সামঞ্চস্ত রক্ষা করে তবে সে আপনার শক্তিকে অক্ষুন্ন রাখতে সমর্থ হয়। সেই পরিবর্তমান আদর্শের অনুবৃত্তির দ্বারা পুরাতন কালের ভিত্তির উপরেই নতুন কালের স্বষ্টি সম্পূর্ণতা লাভ করে। এই নিয়ে কোনো আক্ষেপ করা বৃথা । বস্তুত প্রাচীনকালের ছন্দে নতুনকাল তাল ভন্ন করলে স্বাক্টর সংগতি রক্ষা হয় না। আযাঢ় ১৩৪৮ 19 ‘জীবনস্মৃতিতে লিখেছি, আমার বয়স যখন অল্প ছিল তখনকার স্কুলের রীতিপ্রকৃতি এবং শিক্ষক ও ছাত্রদের আচরণ আমার পক্ষে নিতান্ত দুঃসহ হয়ে উঠেছিল। তখনকার শিক্ষাবিধির মধ্যে কোনো রস ছিল না, কিন্তু সেইটেই আমার অসহিষ্ণুতার একমাত্র কারণ নয়। কলকাতা শহরে আমি প্রায় বন্দী অবস্থায় ছিলেম । কিন্তু বাড়িতে তবুও বন্ধনের ফঁাকে ফাকে বাইরের প্রকৃতির সঙ্গে আমার একটা আনন্দের সম্বন্ধ জয়ে গিয়েছিল। বাড়ির দক্ষিণ দিকের পুকুরের জলে সকাল-সন্ধ্যার ছায়া এপার আশ্রমের রূপ ও বিকাশ ७२१ ওপার করত— হাসগুলো দিত সাতার, গুগলি তুলত জলে ডুব দিয়ে, আষাঢ়ের জলেভরা নীলবর্ণ পুঞ্জ পুঞ্জ মেঘ সারবাধা নারকেলগাছের মাথার উপরে ঘনিয়ে আনত বর্ষার গভীর সমারোহ । দক্ষিণের দিকে যে বাগানটা ছিল ঐখানেই নানা রঙে ঋতুর পরে ঋতুর আমন্ত্রণ জালত উংস্থক দৃষ্টির পথে আমার হৃদয়ের মধ্যে। শিশুর জীবনের সঙ্গে বিশ্বপ্রকৃতির এই যে আদিম কালের যোগ, প্রাণমনের বিকাশের পক্ষে এর যে কত বড়ো মূল্য তা আশা করি ঘোরতর শাহরিক লোককেও বোঝাবার দরকার নেই। ইস্কুল যখন নীরস পাঠ্য, কঠোর শাসনবিধি ও প্রভূত্বপ্রিয় শিক্ষকদের নিবিচার অন্তায় নির্মমতায় বিশ্বের সঙ্গে বালকের সেই মিলনের বৈচিত্র্যকে চাপা দিয়ে তার দিনগুলিকে নির্জীব নিরালোক নিষ্ঠুর করে তুলেছিল তখন প্রতিকারহীন বেদনায় মনের মধ্যে ব্যর্থ বিদ্রোহ উঠেছিল একান্ত চঞ্চল হয়ে । যখন আমার বয়স তেরো তখন এডুকেশন-বিভাগীয় দাড়ের শিকল ছিন্ন করে বেরিয়ে পড়েছিলেম। তার পর থেকে ষে বিদ্যালয়ে হলেম ভতি তাকে যথার্থ ই বলা যায় বিশ্ববিদ্যালয় । সেখানে আমার ছুটি ছিল না, কেননা অবিশ্রাম কাজের মধ্যেই পেয়েছি ছুটি । কোনো কোনো দিন পড়েছি রাত ছুটে পর্যস্ত। তখনকার অপ্রখর আলোকের যুগে রাত্রে সমস্ত পাড়া নিস্তত্ত্ব, মাঝে মাঝে শোনা যেত 'হরিবোল’ স্মশানঘাত্রীদের কণ্ঠ থেকে । ভেরেও তেলের সেজের প্রদীপে দুটো সলতের মধ্যে একটা সলতে নিবিয়ে দিতুম, তাতে শিখার তেজ হ্রাস হত কিন্তু হত আয়ুবুদ্ধি। মাঝে মাঝে অন্তঃপুর থেকে বড়দিদি এসে জোর করে আমার বই কেড়ে নিয়ে আমাকে পাঠিয়ে দিতেন বিছানায় । তখন আমি যে-সব বই পড়বার চেষ্টা করেছি কোনো কোনো গুরুজন তা আমার হাতে দেখে মনে করেছেন স্পর্ধা। শিক্ষার কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে যখন শিক্ষার স্বাধীনতা পেলুম তখন কাজ বেড়ে গেল অনেক বেশি অথচ ভার গেল কমে। তার পরে সংসারে প্রবেশ করলেম ; রথীন্দ্রনাথকে পড়াবার সমস্ত এল সামনে । তখন প্রচলিত প্রথায় তাকে ইস্কুলে পাঠালে আমার দায় হত লঘু এবং আত্মীয়বান্ধবের সেইটেই প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু বিশ্বক্ষেত্র থেকে যে শিক্ষালয় বিচ্ছিন্ন সেখানে তাকে পাঠানো আমার পক্ষে ছিল অসম্ভব। আমার ধারণা ছিল, অন্তত জীবনের আরম্ভকালে নগরবাস প্রাণের পুষ্টি ও মনের প্রথম বিকাশের পক্ষে অমুকুল নয়। বিশ্বপ্রকৃতির অন্থপ্রেরণা থেকে বিচ্ছেদ তার একমাত্র কারণ নয়। শহরে যানবাহন ও প্রাণবাজার অন্যান্য নানাবিধ স্থযোগ থাকে, তাতে সম্পূর্ণ দেহচালনা ও চারি দিকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা লাভে শিশুরা বঞ্চিত হয় ; বাহ বিষয়ে আত্মনির্ভর চিরদিনের মতো তাদের শিথিল হয়ে যায়। প্রশ্ৰয় প্রাপ্ত ষে-সব বাগানের গাছ উপর থেকেই জলসেচনের કરના রবীন্দ্র-রচনাবলী স্বযোগ পায় তারা উপরে উপরেই মাটির সঙ্গে সংলগ্ন থাকে, গভীর ভূমিতে শিকড় চালিয়ে দিয়ে স্বাধীনজীবী হবার শিক্ষা তাদের হয় না ; মানুষের পক্ষেও সেইরকম । দেহটাকে সম্যকৃরূপে ব্যবহার করবার যে শিক্ষা প্রকৃতি আমাদের কাছে দাবি করে এবং নাগরিক "ভদ্ধর' শ্রেণীর রীতির কাছে যেটা উপেক্ষিত অবজ্ঞাভাজন তার অভাব ছঃখ আমার জীবনে আজ পর্যন্ত আমি অনুভব করি। তাই সে সময়ে আমি কলকাতা শহর প্রায় বর্জন করেছিলেম। তখন সপরিজনে থাকতেম শিলাইদহে। সেখানে আমাদের জীবনযাপনের পদ্ধতি ছিল নিতান্তই সাদাসিধে। সেটা সম্ভব হয়েছিল তার কারণ, যে সমাজে আমরা মানুষ সে সমাজে প্রচলিত প্রাণযাত্রার রীতি ও আদর্শ এখানে পৌছতে পারত না, এমন-কি, তখনকার দিনে নগরবাসী মধ্যবিত্ত লোকেরাও যে-সকল আরামে ও আড়ম্বরে অভ্যস্ত তাও ছিল আমাদের থেকে বহু দূরে। বড়ো শহরে পরস্পরের অনুকরণে ও প্রতিযোগিতায় যে অভ্যাসগুলি অপরিহার্যরূপে গড়ে ওঠে সেখানে তার সম্ভাবনা মাত্র ছিল না। শিলাইদহে বিশ্ব প্রকৃতির নিকটসান্নিধ্যে রগীন্দ্রনাথ যেরকম ছাড়া পেয়েছিল সেরকম মুক্তি তখনকার কালের সম্পন্ন অবস্থার গৃহস্থেরা আপন ঘরের ছেলেদের পক্ষে অনুপযোগী বলেই জানত এবং তার মধ্যে যে বিপদের আশঙ্কা আছে তারা ভয় করত তা স্বীকার করতে। রখী সেই বয়সে ডিঙি বেয়েছে নদীতে। সেই ডিঙিতে করে চলতি ষ্টীমার থেকে সে প্রতিদিন রুটি নামিয়ে আনত, তাই নিয়ে স্ট্রমারের সারঙ আপত্তি করেছে বার বার। চরে বনবাউয়ের জঙ্গলে সে বেরোত শিকার করতে— কোনোদিন-বা ফিরে এসেছে সমস্ত দিন পরে অপরাহুে। তা নিয়ে ঘরে উদ্ধৃবেগ ছিল না তা বলতে পারি নে, কিন্তু সে উদ্ধৃবেগ থেকে নিজেদের বঁাচাবার জন্যে বালকের স্বাধীন সঞ্চরণ খর্ব করা হয় নি। যখন রথীর বয়স ছিল ষোলোর নীচে তখন আমি তাকে কয়েকজন তীর্থযাত্রীর সঙ্গে পদব্রজে কেদারনাথ-ভ্রমণে পাঠিয়েছি, তা নিয়ে ভংসন স্বীকার করেছি আত্মীয়দের কাছ থেকে, কিন্তু এক দিকে প্রকৃতির ক্ষেত্রে অন্ত দিকে সাধারণ দেশবাসীদের সম্বন্ধে যে কষ্টসহিষ্ণু অভিজ্ঞতা আমি তার শিক্ষার অত্যাবশ্বক অঙ্গ বলে জানতুম তার থেকে তাকে স্নেহের ভীরুতাবশত বঞ্চিত করি নি । শিলাইদহে কুঠিবাড়ির চার দিকে যে জমি ছিল প্রজাদের মধ্যে নতুন ফসল প্রচারের উদ্দেশ্যে সেখানে নানা পরীক্ষায় লেগেছিলেম । এই পরীক্ষাব্যাপারে সরকারি কৃষিবিভাগের বিশেষজ্ঞদের সহায়তা অত্যধিক পরিমাণেই মিলেছিল। তাদের আদিষ্ট উপাদানের তালিকা দেখে চিচেস্টরে স্বারা এগ্রিকালচারাল কলেজে পাস করে নি এমন-সব চাষিরা হেসেছিল ; তাদেরই হাসিটা টিকেছিল শেষ পর্যন্ত। ময়ার লক্ষণ আশ্রমের রূপ ও বিকাশ ৩২৯ আসন্ন হলেও শ্রদ্ধাবান রোগীরা যেমন করে চিকিৎসকের সমস্ত উপদেশ অক্ষুঞ্জ রেখে পালন করে, পঞ্চাশ বিষে জমিতে আলু চাষের পরীক্ষায় সরকারি কৃষিতত্ত্বপ্রবীণদের নির্দেশ সেইরকম একান্ত নিষ্ঠার সঙ্গেই পালন করেছি। তারাও আমার ভরসা জাগিয়ে রাখবার জন্তে পরিদর্শনকার্যে সর্বদাই যাতায়াত করেছেন। তারই বহুব্যয়সাধ্য ব্যর্থতার প্রহসন নিয়ে বন্ধুবর জগদীশচন্দ্র আজও প্রায় মাঝে মাঝে হেসে থাকেন। কিন্তু তারও চেয়ে প্রবল অট্টহাস্ত নীরবে ধ্বনিত হয়েছিল চামরু-নাম-ধারী এক-হাত-কাটা সেই রাজবংশী চাষির ঘরে, যে ব্যক্তি পাচ কাঠা জমির উপযুক্ত বীজ নিয়ে কৃষিতত্ত্ববিদের সকল উপদেশই অগ্রাহ করে আমার চেয়ে প্রচুরতর ফল লাভ করেছিল। চাষবাসসম্বন্ধীয় যে-সব পরীক্ষা-ব্যাপারের মধ্যে বালক বেড়ে উঠেছিল তারই একটা নমুনা দেবার জন্তে এই গল্পট বলা গেল ; পাঠকেরা হাসতে চান হাস্কন, কিন্তু এ কথা যেন মানেন যে শিক্ষার অঙ্গরূপে এই ব্যর্থতাও ব্যর্থ নয়। এত বড়ো অদ্ভুত অপব্যয়ে আমি ষে প্রবৃত্ত হয়েছিলুম তার কুইক্সটিত্বের মূল্য চামরুকে বোঝাবার স্থযোগ হয় নি, সে এখন পরলোকে । এরই সঙ্গে সঙ্গে পুথিগত বিদ্যার আয়োজন ছিল সে কথা বলা বাহুল্য। এক পাগলা মেজাজের চালচুলোহীন ইংরেজ শিক্ষক হঠাৎ গেল জুটে । তার পড়বার কায়দা খুবই ভালো, আরো ভালে৷ এই যে কাজে ফাকি দেওয়া তার ধাতে ছিল না। মাঝে মাঝে মদ খাবার স্থনিবার উত্তেজনায় সে পালিয়ে গেছে কলকাতায়, তার পর মাথা হেঁট করে ফিরে এসেছে লজ্জিত অমৃতপ্ত চিত্তে । কিন্তু কোনোদিন শিলাইদহে মত্ততায় আত্মবিশ্বত হয়ে ছাত্রদের কাছে শ্রদ্ধা হারাবার কোনো কারণ ঘটায় নি। ভৃত্যদের ভাষা বুঝতে পারত না, সেটাকে অনেক সময়ে সে মনে করেছে ভৃত্যদেরই অসৌজন্ত। তা ছাড়া সে আমার প্রাচীন মুসলমান চাকরকে তার পিতৃদত্ত ফটিক মামে কোনোমতেই ডাকত না । তাকে অকারণে সম্বোধন করত স্থলেমান। এর মনস্তত্ত্বরহস্ত কী জানি নে । এতে বার বার অসুবিধা ঘটত। কারণ চাঘিম্বরের সেই চাকরটি বরাবরই ভূলত তার অপরিচিত নামের মর্যাদা । আরো কিছু বলবার কথা আছে। লরেন্সকে পেয়ে বসল রেশমের চাষের নেশায়। শিলাইদহের নিকটবর্তী কুমারখালি ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির আমলে রেশম-ব্যবসায়ের একটা প্রধান আডড ছিল। সেখানকার রেশমের বিশিষ্টত খ্যাতিলাভ করেছিল বিদেশী হাটে। সেখানে ছিল রেশমের মস্ত বড়ো কুঠি । একদা রেশমের তাত বন্ধ হল সমস্ত বাংলাদেশে, পূর্বস্বতির স্বপ্নাবিষ্ট হয়ে কুঠি রইল শূন্ত পড়ে। যখন পিতৃৰণের প্রকাও বোঝা আমার পিতার সংলার চেপে ধরল বোধ করি তারই কোনো এক সময়ে তিনি WOOe রবীন্দ্র-রচনাবলী রেলওয়ে কোম্পানিকে এই কুঠি বিক্রি করেন। সে সময়ে গোরাই নদীর উপরে ব্রিজ তৈরি হচ্ছে। এই সেকেলে প্রাসাদের প্রভূত ইট পাথর ভেঙে নিয়ে সেই কোম্পানি নদীর বেগ ঠেকাবার কাজে সেগুলো জলাঞ্জলি দিলে। কিন্তু যেমন বাংলার তাতির দুদিনকে কেউ ঠেকাতে পারলে না, যেমন সাংসারিক দুর্যোগে পিতামহের বিপুল ঐশ্বর্ষের ধ্বংস কিছুতে ঠেকানো গেল না— তেমনি কুঠিবাড়ির ভগ্নাবশেষ নিয়ে নদীর ভাঙন রোধ মানলে না ; সমস্তই গেল ভেসে ; স্বসময়ের চিহ্নগুলোকে কালস্রোত যেটুকু রেখেছিল নদীর স্রোতে তাকে দিলে ভাসিয়ে। লরেন্সের কানে গেল রেশমের সেই ইতিবৃত্ত । ওর মনে লাগল, আর একবার সেই চেষ্টার প্রবর্তন করলে ফল পাওয়া যেতে পারে ; দুর্গতি যদি খুব বেশি হয় অন্তত আলুর চাষকে ছাড়িয়ে যাবে না। চিঠি লিখে যথারীতি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে সে খবর আনালে। কীটদের আহার জোগাবার জন্তে প্রয়োজন ভেরেও গাছের। তাড়াতাড়ি জন্মানে গেল কিছু গাছ কিন্তু লরেন্সের সবুর সইল না। রাজশাহি থেকে গুটি আনিয়ে পালনে প্রবৃত্ত হল অচিরাং । প্রথমত বিশেষজ্ঞদের কথাকে বেদবাক্য বলে মানলে না, নিজের মতে নতুন পরীক্ষা করতে করতে চলল। কীটগুলোর স্কুদে স্কুদে মুখ, ক্ষুদে স্থদে গ্রাস, কিন্তু ক্ষুধার অবসান নেই। তাদের বংশবৃদ্ধি হতে লাগল খাদ্যের পরিমিত আয়োজনকে লঙ্ঘন করে। গাড়ি করে দূর দূর থেকে অনবরত পাতার জোগান চলল। লরেন্সের বিছানাপত্র, তার চৌকি টেবিল, খাতা বই, তার টুপি পকেট কোর্তা– সর্বত্রই হল গুটির জনতা । তার ঘর দুর্গম হয়ে উঠল দুৰ্গদ্ধের ঘন আবেষ্টনে। প্রচুর ব্যয় ও অক্লাস্ত অধ্যবসায়ের পর মাল জমল বিস্তর, বিশেষজ্ঞেরা বললেন অতি উৎকৃষ্ট, এ জাতের রেশমের এমন সাদা রঙ হয় না। প্রত্যক্ষ দেখতে পাওয়া গেল সফলতার রূপ— কেবল একটুখানি ক্রটি রয়ে গেল। লরেন্স বাজার যাচাই করে জানলে তখনকার দিনে এ মালের কাটতি আল্প, তার দাম সামান্ত । বন্ধ হুল ভেরেও পাতার অনবরত গাড়িচলাচল, অনেকদিন পড়ে রইল ছালাভরা গুটিগুলো ; তার পরে তাদের কী ঘটল তার কোনো হিসেব আজ কোথাও নেই। সেদিন বাংলাদেশে এই গুটিগুলোর উৎপত্তি হল অসময়ে। কিন্তু যে শিক্ষালয় খুলেছিলেম তার সময় পালন তার করেছিল। আমাদের পণ্ডিত ছিলেন শিবধন বিদ্যার্ণব । বাংলা আর সংস্কৃত শেখানে ছিল তার কাজ, আর তিনি ব্রাহ্মধর্মগ্রন্থ থেকে উপনিষদের শ্লোক ব্যাখ্যা করে আবৃত্তি করাতেন। তার বিশুদ্ধ সংস্কৃত উচ্চারণে পিতৃদেব তার প্রতি বিশেষ প্রসন্ন ছিলেন । বাল্যকাল থেকে প্রাচীন ভারতবর্ধের তপোবনের ষে আদর্শ আমার মনে ছিল তার কাৰ এনি করে শুরু হয়েছিল ৰিভার ভি স্যৰ উপাদানে গড়ে ওঠেনি। অাঙ্গমের রূপ ও বিকাশ HOA দীর্ঘকাল ধরে শিক্ষা সম্বন্ধে আমার মনের মধ্যে যে মতটি সক্রিয় ছিল মোটের উপর সেটি হচ্ছে এই যে, শিক্ষা হবে প্রতিদিনের জীবনযাত্রার নিকট অঙ্গ, চলবে তার সঙ্গে এক তালে এক স্বরে, সেটা ক্লাসনামধারী খাচার জিনিস হবে না। আর যে বিশ্বপ্রকৃতি প্রতিনিয়ত প্রত্যক্ষ ও অপ্রত্যক্ষ ভাবে আমাদের দেহে মনে শিক্ষাবিস্তার করে সেও এর সঙ্গে হবে মিলিত । প্রকৃতির এই শিক্ষালয়ের একটা অঙ্গ পর্যবেক্ষণ আর একটা পরীক্ষা, এবং সকলের চেয়ে বড়ো তার কাজ প্রাণের মধ্যে আনন্দসঞ্চার। এই গেল বাহ প্রকৃতি। আর আছে দেশের অস্তঃপ্রকৃতি, তারও বিশেষ রস আছে, রঙ আছে, ধ্বনি আছে। ভারতবর্ষের চিরকালের যে চিত্ত সেটার আশ্রয় সংস্কৃত ভাষায় । এই ভাষার তীর্থপথ দিয়ে আমরা দেশের চিন্ময় প্রকৃতির স্পর্শ পাব, তাকে অস্তরে গ্রহণ করব, শিক্ষার এই লক্ষ্য মনে আমার দৃঢ় ছিল। ইংরেজি ভাষার ভিতর দিয়ে নানা জ্ঞাতব্য বিষয় আমরা জানতে পারি, সেগুলি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু সংস্কৃত ভাষার একটা আনন্দ আছে, সে রঞ্জিত করে আমাদের মনের আকাশকে ; তার মধ্যে আছে একটি গভীর বাণী, বিশ্বপ্রকৃতির মতোই সে আমাদের শাস্তি দেয় এবং চিন্তাকে মর্যাদা দিয়ে থাকে। ষে শিক্ষাতত্ত্বকে আমি শ্রদ্ধা করি তার ভূমিকা হল এইখানে । এতে যথেষ্ট সাহসের প্রয়োজন ছিল, কেননা এর পথ অনভ্যস্ত এবং চরম ফল অপরীক্ষিত। এই শিক্ষাকে শেষ পর্যন্ত চালনা করবার শক্তি আমার ছিল না, কিন্তু এর পরে নিষ্ঠা আমার অবিচলিত। এর সমর্থন ছিল না দেশের কোথাও । তার একটা প্রমাণ বলি। এক দিকে অরণ্যবাসে দেশের উন্মুক্ত বিশ্বপ্রকৃতি আর-এক দিকে গুরুগৃহবাসে দেশের শুদ্ধতম উচ্চতম সংস্কৃতি— এই উভয়ের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে তপোবনে একদা ষে নিয়মে শিক্ষা চলত অামি কোনো-এক বক্তৃতায় তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা ব্যাখ্যা করেছিলেম। বলেছিলেম, আধুনিক কালে শিক্ষার উপাদান অনেক বাড়াতে হবে সন্দেহ নেই, কিন্তু তার রূপটি তার রসটি তৈরি হয়ে উঠবে প্রকৃতির সহযোগে, এবং যিনি শিক্ষা দান করবেন তার অন্তরঙ্গ আধ্যাত্মিক সংসর্গে। শুনে সেদিন গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় বলেছিলেন, এ কথাটি কবিজনোচিত, কবি এর অত্যাবস্তকতা যতটা কল্পনা করেছেন আধুনিক কালে ততটা স্বীকার করা যায় না। আমি প্রত্যুত্তরে তাকে বলেছিলেম, বিশ্বপ্রকৃতি ক্লাসে ডেস্কের সামনে বলে মাস্টারি করেন না, কিন্তু জলে স্থলে আকাশে তার ক্লাস খুলে আমাদের মনকে তিনি ষে প্রবল শক্তিতে গড়ে তোলেন কোনো মাস্টার কি তা পারে। আরবের মানুষকে কি আরবের মরুভূমিই গড়ে তোলে নি— সেই बांश्वरे रिक्लेिख क्जनजनाजिनौ बौजनशैउँौद्रदउँौं छूक्रिउ शशि खन्न निऊ उी श्रण कि उॉब्र లిలి ब्ररौठ-ब्रफ़नांसलौ প্রকৃতি অন্তরকম হত না। ষে প্রকৃতি সজীব বিচিত্র, আর ষে শহর নির্জীব পাথরেবাধানো, চিত্ত-গঠন সম্বন্ধে তাদের প্রভাবের প্রবল প্রভেদ নিঃসংশয় । এ কথা নিশ্চিত জানি, যদি আমি বাল্যকাল থেকে অধিকাংশ সময়ই শহরে আবদ্ধ থাকতেম তবে তার প্রভাবটা প্রচুর পরিমাণেই প্রকাশ পেত আমার চিন্তায় আমার রচনায়। বিদ্যায় বুদ্ধিতে সেটা বিশেষভাবে অনুভব করা যেত কি না জানি নে, কিন্তু ধাত হত অন্তপ্রকারের। বিশ্বের অযাচিত দান থেকে যে পরিমাণে নিয়ত বঞ্চিত হতেম সেই পরিমাণে বিশ্বকে প্রতিদানের সম্পদে আমার স্বভাবে দারিদ্র্য থেকে যেত । এইরকম আন্তরিক জিনিসটার বাজারদর নেই বলেই এর অভাব সম্বন্ধে যে মানুষ স্বচ্ছন্দে নিশ্চেতন থাকে সেরকম বেদনাহীন হতভাগ্য যে কৃপাপাত্র তা অস্তধামী জানেন। সংসারধাত্রায় সে যেমনি কৃতকৃত্য হোক, মানবজন্মের পূর্ণতায় সে চিরদিন থেকে যায় অকৃতাৰ্থ । সেইদিনই আমি প্রথম মনে করলেম, শুধু মুখের কথায় ফল হবে না ; কেননা এ-সব কথা এখনকার কালের অভ্যাসবিরুদ্ধ। এই চিন্তাটা কেবলই মনের মধ্যে আন্দোলিত হতে লাগল যে এই আদর্শকে যতটা পারি কর্মক্ষেত্রে রচনা করে তুলতে হবে। তপোবনের বাহ অনুকরণ যাকে বলা যেতে পারে তা অগ্রাহ, কেননা এখনকার দিনে তা অসংগত, তা মিথ্যে। তার ভিতরকার সত্যটিকে আধুনিক জীবন-যাত্রার আধারে প্রতিষ্ঠিত করা চাই । তার কিছুকাল পূর্বে শান্তিনিকেতন আশ্রম পিতৃদেব জনসাধারণকে উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন। বিশেষ নিয়ম পালন করে অতিথিরা যাতে দুই-তিনদিন আধ্যাত্মিক শাস্তির সাধন করতে পারেন এই ছিল তার সংকল্প। এজন্ত উপাসনা-মন্দির লাইব্রেরি ও অন্যান্য ব্যবস্থা ছিল যথোচিত । কদাচিৎ সেই উদ্দেশ্নে কেউ কেউ এখানে আসতেন, কিন্তু অধিকাংশ লোক আসতেন ছুটি যাপন করবার স্বযোগে এবং বায়ুপরিবর্তনের সাহায্যে শারীরিক আরোগ্যসাধনায়। আমার বয়স যখন অল্প পিতৃদেবের সঙ্গে ভ্রমণে বের হয়েছিলেম। ঘর ছেড়ে সেই আমার প্রথম বাহিরে যাত্রা । ইটকাঠের অরণ্য থেকে অবারিত আকাশের মধ্যে বৃহৎ মুক্তি এই প্রথম আমি ভোগ করেছি। প্রথম বললে সম্পূর্ণ ঠিক বলা হয় না। এর পূর্বে কলকাতায় একবার যখন ডেঙ্গুজর সংক্রামক হয়ে উঠেছিল তখন আমার গুরুজনদের সঙ্গে আশ্রয় নিয়েছিলেম গঙ্গার ধারে লালাবাবুদের বাগানে। বস্থদ্ধরার উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে স্বছ্রব্যাপ্ত আস্তরণের একটি প্রাস্তে সেদিন আমার বসবার জালন জুটেছিল। সমস্ত দিন বিরাটের, মধ্যে মনকে ছাড়া দিয়ে আমার বিস্ময়ের এবং अबिंबद्र ब्रूण ७ दिकार्थ VIII चामत्कङ्ग क्लाडि हिज ब्र। किरु ठथप्ना चाथि चोयारबद्र श्रृंर्दनिम्नप्य श्रिणब बन्नौ, चदांप्थ एवम्नांटबां श्लि निषिरु । अर्षीं९ कजकांऊांग्र हिtजय फ्रांक थैiष्ठांद्र श्रृंथि, ८कदज চলার স্বাধীনতা নয় চোখের স্বাধীনতাও ছিল সংকীর্ণ ; এখানে রইলুম দাড়ের পাখি, আকাশ খোলা চারি দিকে কিন্তু পায়ে শিকল । শান্তিনিকেতনে এসেই আমার জীবনে প্রথম সম্পূর্ণ ছাড়া পেয়েছি বিশ্বপ্রকৃতির মধ্যে। উপনয়নের পরেই জামি এখানে এসেছি । উপনয়ন-অনুষ্ঠানে ভূভূব:স্বর্লোকের মধ্যে চেতনাকে পরিব্যাপ্ত করবার যে দীক্ষা পেয়েছিলেম পিতৃদেবের কাছ থেকে, এখানে বিশ্বদেবতার কাছ থেকে পেয়েছিলেম সেই দীক্ষাই। আমার জীবন নিতান্তই অসম্পূর্ণ থাকত প্রথম বয়সে এই সুযোগ যদি আমার না ঘটত । পিতৃদেব কোনো নিষেধ বা শাসন দিয়ে আমাকে বেষ্টন করেন নি। সকালবেলায় অল্প কিছুক্ষণ র্তার কাছে ইংরেজি ও সংস্কৃত পড়তেম, তার পরে আমার অবাধ ছুটি। বোলপুর শহর তখন স্ফীত হয়ে ওঠে নি। চালের কলের ধোয়া আকাশকে কলুষিত আর তার দুর্গন্ধ সমল করে নি মলয় বাতাসকে । মাঠের মাঝখান দিয়ে যে লাল মাটির পথ চলে গেছে তাতে লোকচলাচল ছিল অল্পই। বাধের জল ছিল পরিপূর্ণ প্রসারিত, চার দিক থেকে পলি-পড়া চাষের জমি তাকে কোণ-ঠেস করে আনে নি। তার পশ্চিমের উচু পাড়ির উপর অক্ষুন্ন ছিল ঘন তালগাছের শ্রেণী । যাকে আমরা খোয়াই বলি, অর্থাৎ কাকুরে জমির মধ্যে দিয়ে বর্ষার জলধারায় আকাবাকা উচুনিচু খোদাই পথ, সে ছিল নানা জাতের নানা আকৃতির পাথরে পরিকীর্ণ ; কোনোটাতে শির-কাটা পাতার ছাপ, কোনোট লম্বা আশওয়াল কাঠের টুকরোর মতে, কোনোটা স্ফটিকের দান সাজানো, কোনোট অগ্নিগলিত মস্বর্ণ। মনে আছে ১৮৭ খৃস্টাম্বের ফরাসিপ্রাণীয় যুদ্ধের পরে একজন ফরাসি সৈনিক আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল ; সে ফরাসি রান্না রোধে খাওয়াত আমার মাজাদের আর তাদের ফরাসি ভাষা শেখাত। তখন আমার দাদারা একবার বোলপুরে এসেছিলেন, সে ছিল সঙ্গে। একটা ছোটাে হাতুড়ি নিয়ে আর একটা থলি কোমরে ঝুলিয়ে সে এই খোয়াইয়ে দুর্লভ পাথর সন্ধান করে বেড়াত। একদিন একটা বড়োগোছের ক্ষটিক সে পেয়েছিল, সেটাকে আংটির মতো বাধিয়ে কলকাতার কোন ধনীর কাছে বেচেছিল আশি টাকায়। জামিও সমস্ত দুপুরবেলা খোয়াইয়ে প্রবেশ করে নানারকম পাথর সংগ্রহ করেছি, ধন উপার্জনের লোভে নয় পাথর উপার্জন করতেই। মাঠের জল চুইয়ে সেই খোয়াইয়ের এক জায়গায় উপরের ডাঙা থেকে ছোটো ঝরনা করে পড়ত। সেখানে জমেছিল একটি ছোটো জলাশয়, তার সাদাটে cषांना जन जांबाब्र नरक फूष क्रिब्र प्रान कब्रवाब्र बरफ षषहे शऔद्र । cगरे cजांबाई W)ථ8 ब्रवैौटण-ग्नछनांवलौ উপচিয়ে ক্ষীণ স্বচ্ছ জলের স্রোত ঝির বির করে বয়ে যেত নানা শাখাপ্রশাখায়, ছোটো ছোটো মাছ সেই স্রোতে উজানমুখে সাতার কাটত । আমি জলের ধার বেয়ে বেয়ে আবিষ্কার করতে বেরভূম সেই শিশুভূবিভাগের নতুন নতুন বালখিল্য গিরিনী। মাঝে মাঝে পাওয়া যেত পাড়ির গায়ে গহবর। তার মধ্যে নিজেকে প্রচ্ছন্ন করে অচেনা জিওগ্রাফির মধ্যে ভ্রমণকারীর গৌরব অনুভব করতুম। খোয়াইয়ের স্থানে স্থানে যেখানে মাটি জমা সেখানে বেঁটে বেঁটে বুনো জাম বুনো খেজুর, কোথাও-বা ঘন কাশ লম্বা হয়ে উঠেছে। উপরে দূরমাঠে গোরু চরছে, সাওতালরা কোথাও করছে চাষ, কোথাও চলেছে পথহীন প্রাস্তরে আর্তম্বরে গোরুর গাড়ি, কিন্তু এই খোয়াইয়ের গহ্বরে জনপ্রাণী নেই। ছায়ায় রৌত্রে বিচিত্র লাল কাকরের এই নিভৃত জগৎ, না দেয় ফল, না দেয় ফুল, না উৎপন্ন করে ফসল; এখানে না আছে কোনো জীবজন্তুর বাসা ; এখানে কেবল দেখি কোনো আর্টিস্ট-বিধাতার বিনা কারণে একখানা যেমন-তেমন ছবি অঁাকবার শখ ; উপরে মেঘহীন নীল আকাশ রৌদ্রে পাণ্ডুর, আর নীচে লাল কাকরের রঙ পড়েছে মোট তুলিতে নানারকমের বাকাচোরা বন্ধুর রেখায়, স্বষ্টিকর্তার ছেলেমাহুষি ছাড়া এর মধ্যে আর কিছুই দেখা যায় না। বালকের খেলারসঙ্গেই এর রচনার ছন্দের মিল ; এর পাহাড়, এর নদী, এর জলাশয়, এর গুহাগহার সবই বালকের মনেরই পরিমাপে। এইখানে একলা আপন মনে আমার বেলা কেটেছে অনেকদিন, কেউ আমার কাজের হিসাব চায় নি, কারো কাছে আমার সময়ের জবাবদিহি ছিল না। এখন এ খোয়াইয়ের সে চেহারা নেই। বৎসরে বৎসরে রাস্তা-মেরামতের মসলা এর উপর থেকে চেচে নিয়ে একে নগ্ন দরিদ্র করে দিয়েছে, চলে গেছে এর বৈচিত্র্য, এর স্বাভাবিক লাবণ্য । তখন শাস্তিনিকেতনে আর-একটি রোমাটিক অর্থাৎ কাহিনীরসের জিনিস ছিল । যে সর্দার ছিল এই বাগানের প্রহরী, এককালে সেই ছিল ডাকাতের দলের নায়ক । তখন সে বৃদ্ধ, দীর্ঘ তার দেহ, মাংসের বাহুল্য মাত্র নেই, খামবর্ণ, তীক্ষ চোখের দৃষ্টি, লম্বা বাশের লাঠি হাতে, কণ্ঠস্বরটা ভাঙা ভাঙা গোছের। বোধ হয় সকলে জানেন, আজ শান্তিনিকেতনে যে অতিপ্রাচীন যুগল ছাতিম গাছ মালতীলতায় আচ্ছন্ন, এককালে মন্ত মাঠের মধ্যে ঐ দুটি ছাড়া আর গাছ ছিল না। ঐ গাছতলা ছিল ডাকাতের আড্ডা। ছায়াপ্রত্যাশী অনেক ক্লান্ত পথিক এই ছাতিমতলায় হয় ধন নয় প্রাণ নয় দুইই হারিয়েছে সেই শিথিল রাষ্ট্রশাসনের কালে। এই সর্দার সেই ডাকাতি-কাহিনীর শেষ পরিচ্ছেদের শেষ পরিশিষ্ট বলেই খ্যাত। বামাচারী তান্ত্রিক শাক্তের এই দেশে মা-কালীর খপরে এ ম্বে নররক্ত জোগায় নি তা আমি বিশ্বাস করি নে। আশ্রমের সম্পর্কে কোনো রক্তচক্ষু রক্ততিলকলাঞ্জিত ভদ্র বংশের আশ্রমের রূপ ও বিকাশ 96אש শাক্তকে জানতুম যিনি মহামাংসপ্রসাদ ভোগ করেছেন বলে জনশ্রুতি কানে এসেছে । একদা এই ছুটিমাত্র ছাতিমগাছের ছায়া লক্ষ্য করে দূরপথযাত্রী পথিকেরা বিশ্রামের আশায় এখানে আসত। আমার পিতৃদেবও রায়পুরের ভূবন সিংহের বাড়িতে নিমন্ত্রণ সেরে পালকি করে যখন একদিন ফিরছিলেন তখন মাঠের মাঝখানে এই দুটি গাছের জাহান স্তার মনে এসে পোঁচেছিল। এইখানে শাস্তির প্রত্যাশায় রায়পুরের সিংহদের কাছ থেকে এই জমি তিনি দানগ্রহণ করেছিলেন। একখানি একতলা বাড়ি পত্তন করে এবং রুক্ষ রিক্ত ভূমিতে অনেকগুলি গাছ রোপণ করে সাধনার জন্ত এখানে তিনি মাঝে মাঝে আশ্রয় গ্রহণ করতেন। সেই সময়ে প্রায়ই র্তায় ছিল হিমালয়ে নির্জনবাস। যখন রেললাইন স্থাপিত হল তখন বোলপুর স্টেশন ছিল পশ্চিমে যাবার পথে, অন্ত লাইন তখন ছিল না। তাই হিমালয়ে যাবার মুখে বোলপুরে পিতা তার প্রথম যাত্রাভঙ্গ করতেন। আমি যে বারে তার সঙ্গে এলুম সে বারেও ড্যালহৌসি পাহাড়ে যাবার পথে তিনি বোলপুরে অবতরণ করেন। আমার মনে পড়ে সকালবেলায় স্থৰ ওঠবার পূর্বে তিনি ধানে বসতেন অসমাপ্ত জলশূন্ত পুষ্করিণীর দক্ষিণ পাড়ির উপরে। স্থধান্তকালে তার ধ্যানের আসন ছিল ছাতিমতলায় । এখন ছাতিম গাছ বেষ্টন করে অনেক গাছপালা হয়েছে, তখন তার কিছুই ছিল না, সামনে অবারিত মাঠ পশ্চিম দিগম্ভ পর্যন্ত ছিল একটানা । আমার পরে কটি বিশেষ কাজের ভার ছিল । ভগবদগীত-গ্রন্থে কতকগুলি শ্লোক তিনি চিহ্নিত করে দিয়েছিলেন, আমি প্রতিদিন কিছু কিছু তাই কপি করে দিতুম তাকে। তার পরে সন্ধ্যাবেল খোলা আকাশের নীচে বসে সৌরজগতের গ্রহমণ্ডলের বিবরণ বলতেন আমাকে, আমি শুনতুম একান্ত ঔৎস্থক্যের সঙ্গে। মনে পড়ে আমি তার মুখের সেই জ্যোতিষের ব্যাখ্যা লিখে তাকে শুনিয়েছিলুম। এই বর্ণনা থেকে বোকা বাবে শাস্তিনিকেতনের কোন ছবি আমার মনের মধ্যে কোন রসে ছাপা হয়ে গেছে। প্রথমত সেই বালকবয়সে এখানকার প্রকৃতির কাছ থেকে যে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেম —এখানকার অনবরুদ্ধ আকাশ ও মাঠ, দূর হতে প্রতিভাত নীলাভ শাল ও তাল শ্রেণীর সমুচ্চ শাখাপুsে খামলা শান্তি, স্মৃতির সম্পদৰূপে চিরকাল আমার স্বভাবের অন্তভূক্ত হয়ে গেছে । তার পরে এই জাকাশে এই আলোকে দেখেছি সকালে বিকালে পিতৃদেবের পূজার নিঃশৰ নিবেদন, তার গভীর গাজীর্ধ। তখন এখানে আর কিছুই ছিল মা, মা ছিল এত গাছপালা, না ছিল মানুষের এবং কাজের এত ভিড়, কেবল इब्रशांनै निखकठांद्र बरथा हिज ७का निर्षण बश्विा । তার পরে সেদিনকার বালক ৰখন যৌবনের প্রৌঢ়বিভাগে তখন বালকদের শিক্ষার \S)\9® রবীন্দ্র-রচনাবলী তপোবন তাকে দূরে খুজতে হবে কেন। আমি পিতাকে গিয়ে জানালেম, শান্তিনিকেতন এখন প্রায় শূন্য অবস্থায়, সেখানে যদি একটি আদর্শ বিদ্যালয় স্থাপন করতে পারি তা হলে তাকে সার্থকতা দেওয়া হয়। তিনি তখনই উৎসাহের সঙ্গে সম্মতি দিলেন। বাধা ছিল আমার আত্মীয়দের দিক থেকে। পাছে শান্তিনিকেতনের প্রকৃতির পরিবর্তন ঘটে যায় এই ছিল তাদের আশঙ্কা। এখনকার কালের জোয়ার-জলে নানা দিক থেকে ভাবের পরিবর্তন আবর্ত রচনা করে আসবে না এ আশা করা যায় না— যদি তার থেকে এড়াবার ইচ্ছা করি তা হলে আদর্শকে বিশুদ্ধ রাখতে গিয়ে তাকে নিজীব করে রাখতে হয়। গাছপালা জীবজন্তু প্রভৃতি প্রাণবান বস্তু মাত্রেরই মধ্যে একই সময়ে বিকৃতি ও সংস্কৃতি চলতেই থাকে, এই বৈপরীত্যের ক্রিয়াকে অত্যন্ত ভয় করতে গেলে প্রাণের সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ রাখতে হয়। এই তর্ক নিয়ে আমার সংকল্পসাধনে কিছুদিন প্রবল-ভাবেই ব্যাঘাত চলেছিল । এই তো বাইরের বাধা । অপর দিকে আমার আর্থিক সংগতি নিতান্ত সামান্ত ছিল, আর বিদ্যালয়ের বিধিব্যবস্থা সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা ছিলই না। সাধ্যমত কিছু কিছু আয়োজন করছি আর এই কথা নিয়ে আমার আলাপ এগোচ্ছে নানা লোকের সঙ্গে, এমনি অগোচরভাবে ভিৎপত্তন চলছিল। কিন্তু বিদ্যালয়ের কাজে শাস্তিনিকেতন আশ্রমকে তখন আমার অধিকারে পেয়েছিলেম। এই সময়ে একটি তরুণ যুবকের সঙ্গে আমার আলাপ হল, তাকে বালক বললেই হয়। বোধ করি আঠারো পেরিয়ে সে উনিশে পড়েছে। তার নাম সতীশচন্দ্র রায়, কলেজে পড়ে, বি. এ. ক্লাসে। তার বন্ধু অজিতকুমার চক্রবর্তী সতীশের লেখা কবিতার খাতা কিছুদিন পূর্বে আমার হাতে দিয়ে গিয়েছিল। পড়ে দেখে আমার সন্দেহমাত্র ছিল না যে, এই ছেলেটির প্রতিভা আছে, কেবলমাত্র লেখবার ক্ষমত নয়। কিছুদিন পরে বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে সতীশ এলেন জামার কাছে। শাস্ত নম্র স্বল্পভাষী সৌম্যমূতি, দেখে মন স্বতই আকৃষ্ট হয়। সতীশকে আমি শক্তিশালী বলে জেনেছিলেম বলেই তার রচনায় যেখানে শৈথিল্য দেখেছি স্পষ্ট করে নির্দেশ করতে সংকোচ বোধ করি নি। বিশেষভাবে ছন্দ নিয়ে তার লেখার প্রত্যেক লাইন ধরে আমি আলোচনা করেছি। অজিত আমার কঠোর বিচারে বিচলিত হয়েছিল কিন্তু সতীশ সহজেই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বীকার করে নিতে পারলে । অল্প দিনেই সতীশের যে পরিচয় পাওয়া গেল আমাকে তা বিস্মিত করেছিল। যেমন গভীর তেমনি বিস্তৃত ছিল তার সাহিত্যরসের অভিজ্ঞতা | ব্রাউনিঙের কবিতা সে যেরকম করে আত্মগত করেছিল এমন দেখা যায় না । শেক্সপীয়রের রচনায় যেমন ছিল তার অধিকার তেমনি আনন্দ। আমার এই বিশ্বাস দৃঢ় ছিল যে, সতীশের কাব্যরচনায় একটা বলিষ্ঠ অঞ্জিমের রূপ ও বিকাশ VO©ፃ নাট্যপ্রকৃতির বিকাশ দেখা দেবে, এবং সেই দিক থেকে সে একটা সম্পূর্ণ নতুন পথের প্রবর্তন করবে বাংলাসাহিত্যে। তার স্বভাবে একটি দুর্লভ লক্ষণ দেখেছি, যদিও তার বয়স কাচ তবু নিজের রচনার পরে তার অন্ধ আসক্তি ছিল না। সেগুলিকে আপনার থেকে বাইরে রেখে সে দেখতে পারত, এবং নির্মমভাবে সেগুলিকে বাইরে ফেলে দেওয়া তার পক্ষে ছিল সহজ। তাই তার সেদিনকার লেখার কোনো চিহ্ন অনতিকাল পরেও আমি দেখি নি। এর থেকে স্পষ্ট বোঝা যেত, তার কবিশ্বভাবের যে বৈশিষ্ট্য ছিল তাকে বলা যেতে পারে বহিরাশ্রয়িতা বা অবজেক্টভিটি। বিশ্লেষণ ও ধারণ শক্তি তার যথেষ্ট ছিল, কিন্তু স্বভাবের যে পরিচয় আমাকে তার দিকে অত্যন্ত আকর্ষণ করেছিল সে তার মনের স্পর্শচেতনা । যে জগতে সে জন্মেছিল তার কোথাও ছিল না তার ঔদাসীন্ত । একই কালে ভোগের দ্বারা এবং ত্যাগের দ্বারা সর্বত্র আপন অধিকার প্রসারিত করবার শক্তি নিয়েই সে এসেছিল। তার অনুরাগ ছিল আনন্দ ছিল নানা দিকে ব্যাপক কিন্তু তার আসক্তি ছিল না। মনে আছে আমি তাকে একদিন বলেছিলেম, তুমি কবি ভর্তৃহরি, এই পৃথিবীতে তুমি রাজা এবং তুমি সন্ন্যাসী। সে সময়ে আমার মনের মধ্যে নিয়ত ছিল শাস্তিনিকেতন আশ্রমের সংকল্পনা । আমার নতুন-পাওয়া বালক-বন্ধুর সঙ্গে আমার সেই আলাপ চলত। তার স্বাভাবিক ধ্যানদৃষ্টিতে সমস্তটাকে সে দেখতে পেত প্রত্যক্ষ। উতঙ্কের ষে উপাখ্যানটি সে লিখেছিল তাতে সেই ছবিটিকে সে অঁাকতে চেষ্টা করেছে। অবশেষে আনন্দের উৎসাহ সে আর সম্বরণ করতে পারলে না । সে বললে, আমাকে আপনার কাজে নিন। খুব খুশি হলেম কিন্তু কিছুতে তখন রাজি হলেম না। অবস্থা তাদের ভালো নয় জানতেম। বি. এ. পাস করে এবং পরে আইনের পরীক্ষা দিয়ে সে সংসার চালাতে পারবে, তার অভিভাবকদের এই ইচ্ছা ছিল সন্দেহ নেই। তখনকার মতো আমি তাকে ঠেকিয়ে রেখে দিলেম । এমন সময় ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার পরিচয় ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠল। আমার নৈবেষ্ঠের কবিতাগুলি প্রকাশ হচ্ছিল তার কিছুকাল পূর্বে। এই কবিতাগুলি তার অত্যন্ত প্রিয় ছিল । তার সম্পাদিত Twentieth Century পত্রিকায় এই রচনাগুলির যে প্রশংসা তিনি ব্যক্ত করেছিলেন সেকালে সেরকম উদার প্রশংসা আমি আর কোথাও পাই নি। বৰত এর অনেক কাল পরে এই-সকল কবিতার কিছু অংশ এবং খেয়া ও গীতাঞ্জলি থেকে এই জাতীয় কবিতার ইংরেজি অনুবাদের যোগে ষে সন্মান পেয়েছিলেম তিনি আমাকে সেইরকম অকুষ্ঠিত সন্মান দিয়েছিলেন সেই সময়েই। এই পরিচয় উপলক্ষেই তিনি জানতে পেরেছিলেন আমার সংকল্প, এবং খবর পেয়েছিলেন যে, ԾՖԵ- রবীন্দ্র-রচনাবলী শান্তিনিকেতনে বিদ্যালয়-স্থাপনের প্রস্তাবে আমি পিতার সন্মতি পেয়েছি। তিনি আমাকে বললেন, এই সংকল্পকে কার্ষে প্রতিষ্ঠিত করতে বিলম্ব করবার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি তার কয়েকটি অনুগত শিষ্য ও ছাত্র নিয়ে আশ্রমের কাজে প্রবেশ করলেন। তখনই আমার তরফে ছাত্র ছিল রথীন্দ্রনাথ ও তার কনিষ্ঠ শমীন্দ্রনাথ। আর অল্প কয়েকজনকে তিনি যোগ করে দিলেন। সংখ্যা অল্প না হলে বিদ্যালয়ের সম্পূর্ণতা অসম্ভব হত। তার কারণ, প্রাচীন আদর্শ অনুসারে আমার এই ছিল মত যে, শিক্ষাদানব্যাপারে গুরু ও শিন্যের সম্বন্ধ হওয়া উচিত আধ্যাত্মিক। অর্থাৎ শিক্ষা দেওয়াটা গুরুর আপন সাধনারই প্রধান অঙ্গ। বিদ্যার সম্পদ যে পেয়েছে তার নিজেরই নি:স্বাৰ্থ দায়িত্ব সেই সম্পদ দান করা। আমাদের সমাজে এই মহৎ দায়িত্ব আধুনিক কাল পর্যস্ত স্বীকৃত হয়েছে। এখন তার লোপ হচ্ছে ক্রমশষ্ট । তখন যে কয়টি ছাত্র নিয়ে বিদ্যালয়ের আরম্ভ হল তাদের কাছ থেকে বেতন বা আহার্য-ব্যয় নেওয়া হত না, তাদের জীবনযাত্রার প্রায় সমস্ত দায় নিজের স্বল্প সম্বল থেকেই স্বীকার করেছি। অধ্যাপনার অধিকাংশ ভার যদি উপাধ্যায় ও ঐযুক্ত রেবার্টাদ– তার এখনকার উপাধি অণিমানন্দ— বহন না করতেন তা হলে কাজ চালানো একেবারে অসাধ্য হত। তখনকার আয়োজন ছিল দরিদ্রের মতো, আহারব্যবহার ছিল দরিদ্রের আদর্শে। তখন উপাধ্যায় আমাকে যে গুরুদেব উপাধি দিয়েছিলেন আজ পর্যন্ত আশ্রমবাসীদের কাছে আমাকে সেই উপাধি বহন করতে হচ্ছে। আশ্রমের আরম্ভ থেকে বহুকাল পর্যন্ত তার আর্থিক ভার আমার পক্ষে যেমন দুর্বহ হয়েছে, এই উপাধিটিও তেমনি। অর্থঙ্কচ্ছ এবং এই উপাধি কোনোটাকেই জারামে বহন করতে পারি নে কিন্তু দুটো বোঝাই যে ভাগ্য আমার স্বন্ধে চাপিয়েছেন তার হাতের দানস্বরূপ এই দুঃখ এবং লাঞ্ছনা থেকে শেষ পর্যন্তই নিষ্কৃতি পাবার আশা রাখি নে । শাস্তিনিকেতন বিদ্যালয়ের স্থচনার মূল কথাটা বিস্তারিত করে জানালুম। এইসঙ্গে উপাধ্যায়ের কাছে আমার অপরিশোধনীয় কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি। তার পরে সেই কবি-বালক সতীশের কথাটাও শেষ করে দিই । ১ কেহ কেহ এমন কথা লিখেছেন যে, উপাধ্যায় ও রেবার্টার প্রস্টানছিলেন,তাই নিয়ে পিতৃত্বেৰ আপত্তি करनश्tिजन ।। 4 कथा नडा नद्र । भावि निरछ बानि ७३ कथा छूण चामाप्प्रब्र कttन जाग्रीब्र डैीब्र कtई DDDBB BBBBBB BB BBD D DB BBBBDS DDDDS D BD DS DDDDD D0 কোনো ভয় নেই। জামি ওখানে শান্ত শিৰমৰৈতমের প্রতিষ্ঠা করে এসেছি । আশ্রমের রূপ ও বিকাশ ○○。 বি. এ. পরীক্ষা তার আসন্ন হয়ে এল। অধ্যাপকেরা তার কাছে আশা করেছিল খুব বড়ো রকমেরই কৃতিত্ব। ঠিক সেই সময়েই সে পরীক্ষা দিল না। তার ভয় হল সে পাস করবে। পাস করলেই তার উপরে সংসারের যে-সমস্ত দাবি চেপে বসবে তার পীড়ন ও প্রলোভন থেকে মুক্তি পাওয়া পাছে তার পক্ষে অসাধ্য হয় এইজন্তেই সে পিছিয়ে গেল শেষ মুহুর্তে। সংসারের দিক থেকে জীবনে সে একটা মস্ত ট্র্যাজিডির পত্তন করলে। আমি তার আর্থিক অভাব কিছু পরিমাণে পূরণ করবার স্বতই চেষ্ট করেছি কিছুতেই তাকে রাজি করতে পারি নি। মাঝে মাঝে গোপনে তাদের বাড়িতে পাঠিয়েছি টাকা। কিন্তু সে সামান্ত। তখন আমার বিক্রি করবার যোগ্য বা-কিছু ছিল প্রায় সব শেষ হয়ে গেছে— অস্তঃপুরের সম্বল এবং বাইরের সম্বল। কয়েকটা আয়জনক বইয়ের বিক্রয়স্বত্ব কয়েক বৎসরের মেয়াদে দিয়েছি পরের হাতে । হিসাবের ভূর্বোধ জটিলতায় সে মেয়াদ অতিক্রম করতে অতি দীর্ঘকাল লেগেছে। সমুদ্রতীরবাসের লোভে পুরীতে একটা বাড়ি করেছিলুম। সে বাড়ি একদিনও ভোগ করবার পূর্বে আশ্রমের ক্ষুধার দাবিতে বিক্রি হয়ে গেল। তার পরে যে সম্বল বাকি রইল তাকে বলে উচ্চহারের স্বদে দেনা করবার ক্রেডিট। সতীশ জেনেশুনেই এখানকার সেই অগাধ দারিত্র্যের মধ্যে ঝাপ দিয়েছিল প্রসন্ন মনে । কিন্তু তার আনন্দের অবধি ছিল না— এখানকার প্রকৃতির সংসর্গের আনন্দ, সাহিত্যসম্ভোগের আনন্দ, প্রতি মুহূর্তে আত্মনিবেদনের আনন্দ । এই অপর্যাপ্ত আনন্দ্ব সে সঞ্চার করত তার ছাত্রদের মনে। মনে পড়ে কতদিন তাকে পাশে নিয়ে শালবীথিকায় পায়চারি করেছি নানা তত্ত্বের আলোচনা করতে করতে— রাত্রি এগারোটা দুপুর হয়ে যেত— সমস্ত আশ্রম হত নিস্তৰ নিগ্রামগ্ন। তারই কথা মনে করে আমি লিখেছি— কতদিন এই পাতা-করা বৗখিকায়, পুষ্পগন্ধে বসন্তের আগমনী-ভর সায়াহ্নে দুজনে মোরা ছায়াতে অঙ্কিত চন্দ্রালোকে ফিরেছি গুৰিত আলাপনে। তার সেই মুখ চোখে विद एमथ निtघ्नहिज बन्ममयमांद्र ब्राड ब्रांड । যৌবনতুফান-লাগা সেদিনের কত নিদ্রাভাঙা জ্যোৎস্না-মুগ্ধ রজনীর সৌহার্দ্যের স্বধারসধারা তোমার ছায়ার মাঝে দেখা ছিল, হয়ে গেল সারা । og • রবীন্দ্র-রচনাবলী গভীর আননক্ষণ কতদিন তব মঞ্জরীতে একান্ত মিশিয়াছিল একখানি অখণ্ড সংগীতে আলোকে আলাপে হাস্তে, বনের চঞ্চল আন্দোলনে, বাতাসের উদাস নিশ্বাসে — এমন অবিমিশ্রশ্ৰদ্ধা, অবিচলিত অকৃত্রিম প্রতি, এমন সর্বভারবাহী সর্বত্যাগী সৌহার্দ্য জীবনে কত যে দুর্লভ ত৷ এই সত্তর বৎসরের অভিজ্ঞতায় জেনেছি। তাই সেই আমার কিশোর বন্ধুর অকাল তিরোভাবের বেদন আজ পর্যস্ত কিছুতেই ভুলতে পারি নি। এই আশ্রমবিদ্যালয়ের স্থদুর আরম্ভ-কালের প্রথম সংকল্পন, তার দুঃখ তার আনন্ম তার অভাব তার পূর্ণতা, তার প্রিয় সঙ্গ, প্রিয় বিচ্ছেদ, নিষ্ঠুর বিরুদ্ধতা ও অযাচিত আহুকূল্যের অল্পই কিছু আভাস দিলেম এই লেখায়। তার পরে শুধু আমাদের ইচ্ছ। নয়, কালের ধর্ম কাজ করছে ; এনেছে কত পরিবর্তন, কত নতুন আশা ও ব্যর্থতা, কত স্বহৃদের অভাবনীয় আত্মনিবেদন, কত অজানা লোকের অহৈতুক শক্রতা, কত মিখ্যা নিন্দ ও প্রশংসা, কত দুঃসাধ্য সমস্তা— আর্থিক ও পারমাথিক ! পারিতোষিক পাই বা না পাই, নিজের ক্ষতি করেছি সাধ্যের শেষ সীমা পর্যন্ত– অবশেষে ক্লাস্ত দেহ ও জীর্ণ স্বাস্থ্য নিয়ে আমারও বিদায় নেবার দিন এল— প্রণাম করে ঘাই তাকে ধিনি স্বদীর্ঘ কঠোর দুর্গম পথে আমাকে এতকাল চালনা করে নিয়ে এসেছেন। এই এতকালের সাধনার বিফলতা প্রকাশ পায় বাইরে, এর সার্থকতার সম্পূর্ণ প্রমাণ থেকে যায় অলিখিত ইতিহাসের অদৃশু অক্ষরে। আশ্বিন ১৩৪ •