বিষয়বস্তুতে চলুন

ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/উপসংহার

উইকিসংকলন থেকে

উপসংহার

 কমিউনিজ্মে‌র দোষ-গুণ, ভাল-মন্দ, আলো-অ ধার—সবই আমরা দেখিলাম। এইবার আমাদের শেষ কথা বলিব।

 পূর্ব্বেই বলিয়াছিঃ কমিউনিজমের সব-কিছুই ভাল নয়; নির্বিচারে গ্রহণযোগ্যও নয়। কোন কোন বিষয়ে সে কল্যাণকর বহু পরিবর্ত্তন আনিয়াছে বটে, কিন্তু যেহেতু ইহার লক্ষ্য এবং আদর্শ ভ্রান্ত, এই কারণে ইহা পরিণামে ব্যর্থ হইতে বাধ্য।

 একমুখিতা এবং অস্বাভাবিকতা দোষেও ইহা দুষ্ট। এই কারণেও ইহার সংস্কার বা পরিবর্তন অনিবার্য্য।

 কমিউনিজম যে-বাণী এবং যে-আদর্শ প্রচার করিয়া ফিরিতেছে, তাহার চাকচিক্য অনেককেই সম্মোহিত করিয়া ফেলিতেছে; কিন্তু পরিচ্ছন্ন দৃষ্টি লইয়া ইহার ভিতর বাহির—খুব কমলোকই দেখিয়াছেন। কমিউনিজমের প্রচারিত সাম্যবাদের মধ্যে সত্যিকার মানব-কল্যাণ আছে কি না, বহুনিন্দিত পুঁজিবাদ সত্যই নিন্দিত কি না, অথবা ইহাকে ধ্বংস করিলেই জগতে প্রকৃত সুখ ও শান্তি আসিবে কি না,—গভীর ভাবে তাহা আমাদিগকে চিন্তা করিয়া দেখিতে হইবে। আমাদের দৃঢ় ধারণাঃ পুঁজিবাদকে যতটা নিন্দা করা হয়, ততটা নিন্দার যোগ্য সে নয়; অথবা কমিউনিজমই যে সকল অশান্তির একমাত্র দাওয়াই—তাও নয়। কমিউনিজমের বাহিরেও বিশ্বশান্তির নূতন পথ থাকিতে পারে—এ কথা যেন আমরা না ভুলি। চিন্তাশীল লেখক Prof. Laski ঠিকই বলিয়াছেনঃ—

 “Communism has made its way by its idealism and not by its realism.... The answer to the new faith is not the persecution of those who worslip in its sanctuary, but the proof that those who do not share its convictions can scan an horizon not less splendid in the prospect it envisions, nor less compelling in the allegiance it invokes."

—Communism, by Prof. Laski, p. 251.

 অর্থাৎঃ—বাস্তবিকতা হারা নয়—স্বাপ্নিকতা দ্বারাই কমিউনিজম এতটা প্রসার লাভ করিয়াছে।...এই নূতন মতবাদের পাল্টা জবাব ইহার অনুরক্ত ভক্তদিগকে নির্যাতন করিয়া দেওয়া যাইবে না, যাহারা ইহার ভক্ত নয়, তাহারাও যে ইহার অনুরূপই সুন্দর ও চিত্তাকর্ষক আর একটা নূতন জগতকে রূপ দিতে পারে—এই প্রমাণ দ্বারাই দিতে হইবে।

 কমিউনিজমের স্বরূপ ধরা কঠিন। আজিও সে কোন চুড়ান্ত রূপ পরিগ্রহ করে নাই। তার দরজা এখনও খোলা রহিয়াছে; এক্সপেরি মেণ্টের পর্য্যায় সে এখনও অতিক্রম করে নাই। “Trial and Error method”—(অর্থাৎঃ পরীক্ষা কর এবং ভুল সংশোধন কর) এই নীতিই সে মানিয়া চলিতেছে। কাজেই তাহার সম্বন্ধে শেষ কথা বলিবার সময় এখনও আসে নাই। এ সম্বন্ধে জনৈক আধুনিক লেখক বলেনঃ

 “As Marxism is not a closed system—not a dogma, it allows and it insists that its laws formulated so far must be subjected to a revision or restatement in the light ot procession of discoveries of Nature. If the laws cannot explain all changes in the process of social and scientific evolution, they require modification."

 —Materialism, Marxism, Determinism and Diale ctics—by B. N. Das Gupta. p, 110.

 অর্থাৎঃ—মার্কস্বাদ কোন চুড়ান্ত মতবাদ নয়, অথবা বদ্ধ কুসংস্কারও নয়। সে স্বীকার করে যে প্রাকৃতিক সত্যের নব নব আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন হইলে তার বিধি-ব্যবস্থারও পরিবর্ত্তন করিতে হইবে। সামাজিক বা বৈজ্ঞানিক বিবর্তনের বিভিন্ন ধারাকে তার বিধি-ব্যবস্থা যদি ব্যাখ্যা করিতে অসমর্থ হয়, তবে তাহাদের রদ-বদল করিতেই হইবে।

 ইহাই যদি হয় কমিউনিজমের স্বরূপ, তবে আর ইহাকে লইয়া এত আস্ফালনই বা কিসের, আর ভাবনাই বা কিসের! নিত্যপরিবর্তনশীল কোন বস্তুকে লইয়া জোর গলায় বড়াই করিবারও কিছু নাই, ভয় করিবারও কিছু নাই।

 কমিউনিজম্ যে পরিবর্তনশীল, তাহা তাহার জীবনের ইতিহাসই সাক্ষ্য দিবে। প্রায় ৩০ বৎসর হইল তার বয়স। এই অল্প সময়ের মধ্যেই তার চেহারা ও মতিগতির কিরূপ পরিবর্তন হইয়াছে, দেখুনঃ—

 (১) ঈশ্বরহীন, ধর্ম্মহীন ও শ্রেণীহীন সমাজ গঠনই ছিল কমিউনিজমের মূল লক্ষ্য। Lenin ধর্ম্মকে “opium of the people” বলিয়া একদম উড়াইয়াই দিয়াছিলেন। ধর্ম্ম এবং ঈশ্বরের বিরুদ্ধে অভিযান করাই ছিল সোভিয়েট রাশিয়ার রাষ্ট্রধর্ম্ম। ধর্ম্মের স্বপক্ষে কেহ কোন কথা বলিলে তাহাকে রীতিমত শাস্তি ভোগ করিতে হইত। কিন্তু বর্ত্তমানে কমিউনিজম্ ধর্ম্ম সম্বন্ধে আর অতটা উগ্রমূর্ত্তি নয়। এখন সোভিয়েট গবর্ণমেণ্ট সকলকেই ধর্ম্মের স্বাধীনতা দিয়াছে। ধর্ম্মের বিরুদ্ধে আন্দোলন করিবারও যেমন অধিকার আছে, ধর্ম্মের স্বপক্ষে আন্দোলন করিবারও ঠিক তেমনি অধিকার দেওয়া হইয়াছে। তবে স্টেট্‌ হইতে কোন ধর্ম্ম-প্রতিষ্ঠানকেই কোন সাহায্য দেওয়া হয় না। ধর্ম্ম এখন ব্যক্তিগত ব্যাপার।

 (২) পূর্ব্বে ধনসম্পত্তি হইতে ব্যক্তিগত অধিকার (private ownership) একদম তুলিয়া দেওয়া হইয়াছিল; কিন্তু এই আইনও এখন রহিত হইয়া গিয়াছে। এমন কি এখন পুত্র-কন্যাকে কোন ধনসম্পত্তি উইল করিয়াও দেওয়া যায়। ইহা দ্বারা পূর্ব্বের সেই পুঁজিবাদী সমাজের মতই অলস লোকেরা বসিয়া বসিয়া পিতৃদত্ত ধনসম্পত্তি উপভোগ করিতে পারিবে! State Bonds কিনিয়াও বড়লোকেরা প্রভূত ধনসঞ্চয় করিতেছে।

 (৩) পূর্ব্বে ছেলে-মেয়েকে একসঙ্গে শিক্ষা (co-education) দেওয়া হইত। কিন্তু এই ব্যবস্থার কুফল বুঝিতে পারিয়া ১৯৪৩ খৃষ্টাব্দে স্ট্যালিন আইন করিয়া এই সহ-শিক্ষা তুলিয়া দিয়াছেন। ছেলে ও মেয়ের শিক্ষা যে স্বতন্ত্র হওয়া উচিত, সোভিয়েট গবর্ণমেণ্ট তাহা মানিয়া লইয়াছে।

 (৪) পুঁজিবাদকে তুলিয়া দিয়! দেশে পূর্ণ সাম্যবাদ স্থাপন করাই ছিল কমিউনিজমের প্রধান অঙ্গীকার। উহার মূল উদ্দেশ্য ছিলঃ দেশের সমস্ত শিল্পকে জাতীয় সম্পদে পরিণত (nationalized) করিয়া দেশবাসীর অর্থবৈষম্যকে দূর করা এবং সর্ব্বপ্রকার শ্রেণী-বিভাগ তুলিয়া দিয়া সকলকেই সম-অধিকার দান করা। স্টেট্‌, (State) অথবা ডিক্টেটরশিপ (Dictatorship) প্রতিষ্ঠাও কমিউনিজমের আসল উদ্দেশ্য ছিল না। সর্ব্বসাধারণই হইবে দেশের মালিক—ডিক্টেটরও নয়, স্টেটও নয়—ইহাই ছিল তাহার আদিম পরিকল্পনা। তবে যেহেতু এই চরম সাম্য রাতারাতি আনা যায় না, তাই সাময়িক ব্যবস্থা হিসাবেই ডিক্টেটর ও স্টেটের প্রয়োজন হইয়াছিল। কথা ছিলঃ লোকেরা যখন সাম্যবাদের আদর্শ পুরাপুরি গ্রহণ করিতে পারিবে, তখন এই ডিক্টেটরশিপ এবং স্টেট—দুইই উড়িয়া যাইবে (“The State will wither away"—Lenin)। আবার একথাও ছিল যে, ডিক্টেটর যিনি হইবেন, তিনি জনসাধারণের প্রতিনিধিরূপেই দেশ শাসন করিবেন,—স্বাধীনভাবে বা স্বেচ্ছাচারীরূপে নয়। পূর্ণ সাম্য প্রতিষ্ঠিত হইলে সাম্যনীতিও পরিবর্ত্তিত হইবে। এখন যেমন যোগ্যতা অনুসারে প্রত্যেকের মঞ্জুরী বা ব্যয়-বরাদ্দ করা হয়, তখন আর সেরূপ হইবে না। তখন যাহার যাহা প্রয়োজন হইবে, সে শুধু তাহাই লইয়া সন্তুষ্ট হইবে। “From each according to his capacity to each according to his needs” ইহাই হইবে চরম সাম্যের মূল মন্ত্র।

 কিন্তু এই ৩০ বৎসরের সাধনার পর আমরা সোভিয়েট রাশিয়ায় কী দেখিতেছি? স্টেট বা ডিক্টেটরশিপ কি ধীরে ধীরে উঠিয়া যাইবার অবস্থায় আসিয়াছে?—প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু লইব না—এমন মনোবৃত্তি কি লোকদের মধ্যে গঠিত হইয়াছে?—কখনই না। বরং উল্টা ফলই ফলিয়াছে! স্টেট্‌ উঠিয়া যাওয়া ত দূরের কথা, স্টেটই এখন সর্ব্বেসর্বা। ডিক্টেটরের ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া ত দূরের কথা, ডিক্টেটরই এখন সর্ব্বময় কর্তা। রাশিয়ায় প্রেরিত আমেরিকার ভূতপূর্ব্ব রাজদূত Joseph E. Davies তাঁহার ‘Mission to Moscow’ নামক পুস্তকে লিখিয়াছেনঃ

 "The Government is a dictatorship, not of the proletariat, as professed, but over the proletariat. It is completely dominated by one man."

 অর্থাৎ:—সোভিয়েট রাশিয়ায় ডিক্টেটরশিপ প্রচলিত; ডিক্টেটর এখন আর পূর্ব্বপ্রতিশ্রুত শ্রমিক সাধারণের ডিক্টেটর নহেন, এখন তিনি শ্রমিক সাধারণের উপর ডিক্টেটর। ইহা সম্পূর্ণরূপে এক-জন লোকেরই কর্তৃত্বাধীনে

 বস্তুতঃ সোভিয়েট রাশিয়াকে এখন আর সাম্যবাদী বলা চলে না। নামে না হইলেও, কাজে সে এখন পুরাদস্তুর সাম্রাজ্যবাদী ও পুঁজিবাদী! সাম্যবাদের নামে এমন ধোঁকাবাজী আর দেখা যায় না। সোভিয়েট রাশিয়া এখন প্রকৃতপক্ষে ‘British Commonwealth’-এরই অনুরূপ। অথবা ইহাকে সম্পূর্ণ এক নূতন ধরণের রাষ্ট্র-আদর্শও বলা যায়। Mr. Masani ঠিকই বলিয়াছেনঃ

 “Actually a third variety of State is not only possible, but is already coming to existence, and one of the countries where you can see it to-day is Russia.” Socialism Re-considered: p. 28.

 (৫) জাতীয়তা (Nationalism)-কে দূর করিয়া আন্তর্জাতীয়তা (Internationalism) স্থাপনই ছিল কমিউনিজমের স্বপ্ন। কিন্তু সে-স্বপ্নও মিলাইয়া গিয়াছে। জাতীয়তার দিকেই পুনরায় সোভিয়েট রাশিয়া ঝুঁকিয়া পড়িয়াছে।

 (৬) সোভিয়েট রাশিয়ায় ব্যক্তি-স্বাধীনতাও যে খুব বেশি আছে, তাও নয়। হিটলারের প্রতিষ্ঠিত Gestapo-র ন্যায় তথায় G. P. U. নামক গুপ্তপুলিস স্থাপিত হইয়াছে। এই G. P. U.-এর ক্ষমতা অসাধারণ। ইহাদের রিপোর্টের উপরেই দেশবাসীর জীবন-মরণ নির্ভর করে। এই গুপ্তপুলিসের কল্যাণে হাজার হাজার নিরীহ লোকের প্রাণদণ্ড হইয়াছে। এ সম্বন্ধে Mark Eastman বলিতেছেনঃ—

 “If the shedded blood of innocent men were measured, Stalin's would be a lake; Hitler’s a duck pond; Mussolini's could de dipped up by the tankcartful."

 অর্থাৎঃ— নিরীহ লোকদের যত রক্তপাত হইয়াছে, তাহা যদি মাপা যাইত, তবে স্ট্যালিনের হইত একটা হ্রদ, হিট্‌লারের হইত একটা পুকুর আর মুসোলিনীর হইত একটা ছোট ডোবা।

 (৭) কমিউনিস্টদের প্রস্তাবনা ছিলঃ শুধু রাশিয়াতে কমিউনিজম্‌ প্রতিষ্ঠিত করিয়াই তাহারা সন্তুষ্ট থাকিবে না, অন্যান্য দেশেও তাহারা নিজেদের মতবাদকে সুপ্রতিষ্ঠিত করিবে এবং ইহার জন্য প্রয়োজন হইলে তাহারা বিপ্লব ও রক্তপাতও ঘটাইবে। এই উদ্দেশ্যের বশবর্ত্তী হইয়াই তাহারা Communist International বা Comintern স্থাপন করিয়া রাখিয়াছিল। ইহা একটা আন্তর্জাতিক সম্মেলন বিশেষ।

 এই কমিনটার্ণ ছিল অন্যান্য নন্-কমিউনিস্ট, দেশের পক্ষে মস্তবড় একটা বিভীষিকা। আশ্চর্য্যের বিষয়ঃ গত ১৯৪৩ খৃষ্টাব্দের শেষ ভাগে স্ট্যালিন এই Comintern ভাঙ্গিয়া দিয়াছেন। ফলে জোর করিয়া ভিন্ন দেশে কমিউনিজম্ চালাইবার সিদ্ধান্ত পরিত্যক্ত হইয়াছে। আন্তর্জাতীয়তার স্বপ্ন তাই ভাঙ্গিয়া গিয়াছে, অন্যান্য দেশও হাফ ছাড়িয়া বাঁচিয়াছে!

 এইরূপ ছোট-বড় আরও অনেক ব্যাপারই আছে—যাহা দেখিলে বুঝা যায়, কমিউনিজম্ তাহার প্রাথমিক প্রোগ্রাম হইতে সরিয়া আসিয়া নুতন পথ ধরিয়াছে।[]

 বস্তুতঃ কমিউনিজমের যুগ চলিয়া গিয়াছে। শুধু কমিউনিজম্ নয়,—এখন আর কোন ‘ইজম্ই’ (isms) কার্যকরী বলিয়া মনে হইতেছেনা। সকলের পরীক্ষাই শেষ হইয়া গিয়াছে। কোন রসজ্ঞ লেখক তাই সত্যই বলিয়াছেনঃ—

“All isms have become wasms!”

 অর্থাৎ: সব ইজম্‌ই এখন ওয়াজম্ (অতীত) হইয়া গিয়াছে! ইহাই হইল কমিউনিজমের অতি-আধুনিক চেহারা!

 তাহা হইলে একথা আমরা অনায়াসেই বলিতে পারিঃ কমিউনিজ্‌মের প্রাণশক্তি ফুরাইয়া গিয়াছে। কমিউনিজ্‌মের ভাষাতে বলিতে গেলে বলিতে হয়, এখন তাহার Negation-এর অবস্থা আসিয়াছে, অর্থাৎ যে কূলে সে বাসা বাঁধিয়াছিল, সেই কূল ভাঙ্গিতে আরম্ভ করিয়াছে।

 কমিউনিজমের ভবিষ্যৎ তবে কী হইবে? এই নোঙ্গর-ছেঁড়া তরী আবার কোন্ কূলে গিয়া ভিড়িবে?

 ইসলামের সুদৃঢ় বন্দরেই তাহাকে এবার আশ্রয় লইতে হইবে, কারণ কমিউনিজম্ যাহা চায় এবং যাহা তাহার নাই—সমস্তই সে এখানে পাইবে। ইসলামই একমাত্র ডায়লেটিক্ ধর্ম্ম—ইস্‌লামে আছে সর্ব্বপ্রকার বৈষম্যের সমন্বয় (Synthesis of all opposites), আর ইসলামেই আছে প্রকৃত সাম্যবাদ। এখানে ধর্ম্মও আছে, কর্ম্মও আছে; বড়ও আছে, ছোটও আছে; সঞ্চয়ও আছে, বিতরণও আছে; যুদ্ধও আছে, শাস্তিও আছে; জাতীয়তাও আছে, আন্তর্জাতীয়তাও আছে; ভোগও আছে, ত্যাগও আছে; ইহকালও আছে, পরকালও আছে; জড়ও আছে, চৈতন্যও আছে। এক কথায়ঃ সমস্ত মতবাদেরই ইহা এক শুদ্ধিকৃত মহাসমন্বয়। নিখিল সৃষ্টির মূলে আছে যে দ্বৈত (dialectic) ভাব, যে ‘জোড়া-বাঁধা’ ভাব—ইসলাম সেই ভাবেরই পূর্ণ প্রতীক। স্বভাবের সহিত ইহা এক-সুরে বাঁধা।

* * *

 অনাগত যুগের পদধ্বনি আজ শুনিতে পাইতেছি। দিগদিগন্তে নবপ্রভাতের ইঙ্গিত ধ্বনিত হইতেছে। সেই নূতন প্রভাতকে আজ অভিনন্দিত করি!......


শেষ

  1. এ সম্বন্ধে যাহারা বিস্তারিত ভাবে জানিতে চান, তাহারা Mr. Minoo. Masant প্রণীত Socialism Re-considered নামক পুস্তকখানি পাঠ করুন।