ইসলাম ও কমিউনিজ্ম্/কমিউনিজ্ম্ না ইসলামিজ্ম্?
কমিউনিজ্ম্ না ইসলামিজ্ম্?
এতক্ষণ আমরা কমিউনিজমকে দেখিলাম, ইসলামকেও দেখিলাম। এখন স্বভাবতই আমাদের মনে এই প্রশ্ন জাগে: কোন্টি টিকিবে? কোন্টী জিতিবে?—কমিউনিজ্ম্, না ইসলামিজ্ম্?
এ-কথা দৃঢ়তার সহিতই বলা যায়ঃ ইসলামের নিকট কমিউনিজ্ম্কে সর্ব্বশেষে আত্মসমর্পণ করিতেই হইবে। ইসলামিজমই হইবে কমিউনিজমের শেষ পরিণতি। সোশ্যালিজম্, ক্যাপিটালিজম্—ইত্যাদি জগতে যতপ্রকার ‘ইজম্' (isms) এর সৃষ্টি হইয়াছে, সমস্তগুলি আসিয়া মিলিত হইবে ইসলামের শান্ত শীতল ছায়াতলে। জগৎ জুড়িয়া আজ যে সব সমস্যা নানারূপে দেখা দিয়াছে, প্রত্যেক জাতিই সেই সব সমস্যার সমাধান খুঁজিয়া ফিরিতেছে; কিন্তু কেহই একটা সুষ্ঠু সামঞ্জস্যপূর্ণ (well-balanced) বিধান দিতে পারিতেছে না। প্রকৃত রোগ-নিরূপণ করিয়া ঔষধ দিতে না পারিলে যেমন রোগী আরোগ্য লাভ করেনা, জগতের অবস্থাও ঠিক তাহাই হইয়াছে। আসল একটা রোগ তার অন্তরে ঢুকিয়াছে, সেই রোগের বহু লক্ষণ (symptoms) নানা ভাবে নানা অঙ্গে প্রকাশিত হইতেছে। আনাড়ী ডাক্তারেরা যেখানে যে লক্ষণটী দেখিতেছে, সেই লক্ষণটীকেই একটা স্বতন্ত্র রোগ মনে করিয়া তাহার ঔষধ দিয়া ফেলিতেছে। ফলে এক অঙ্গ হইতে রোগটা সরিয়া গিয়া বা চাপা পড়িয়া অঙ্গ অঙ্গে অন্য রূপে প্রকাশিত হইতেছে। যে রোগীর আজ একটু জ্বর, কাল একটু মাথাব্যথা, পরশু একটু কাশি, সকালে একটু পেটের অসুখ, বিকালে একটু বুকজ্বালা, রাত্রিতে অনিদ্রা,—সেই রোগীর রোগ-চিকিৎসা ওরূপ করিয়া হয় না। অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথ যেমন সুনির্বাচিত একটী ঔষধের একটা ফোঁটা দিয়াই সমস্ত উপসর্গকে শান্ত করিয়া থাকেন, ইসলামও ঠিক সেইরূপ একটা দাওয়াই দিয়াছে। অসুস্থ দুনিয়ার সমস্ত উপসর্গকে দূর করিয়া দিয়া তাহাকে সুস্থ করিবার স্পর্দ্ধা সে রাখে। সমস্ত বৈষম্যের শান্তি বা সমন্বয় তার কাছে আছে বলিয়াই ত তার নাম শান্তির ধর্ম্ম!
ইসলাম কেমন করিয়া সমস্ত বৈষম্যের সমন্বয় করিতে পারে, কমিউনিজমের ভাষাতেই তাহা বুঝাইঃ
দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ (Dialectical Materialism)-ই হইতেছে কমিউনিজমের ভিত্তিমূল। কোন ঘটনাই বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ঘটে না, একটার সহিত আর একটী জড়িত থাকে, একটী হইতে আর একটী উদ্ভূত হয়। কাজেই কোন ঘটনাকে বুঝিতে হইলে তাহার পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে মিলাইয়া বুঝিতে হয় এবং তাহার বিভিন্ন দিক দেখিতে হয়। ইহাই ডায়লেটিক্ পদ্ধতি।
আবার প্রত্যেক বস্তু বা ধারণার সঙ্গে তার একটা দ্বন্দ্ব বা বিরুদ্ধ ভাবও বিদ্যমান থাকে। এই দ্বন্দ্বভাবের মধ্য দিয়াই আমাদের জ্ঞান ও চিন্তার বিকাশ হয়। তরলকে বুঝিতে গেলে সঙ্গে সঙ্গে কঠিনকেও বুঝিতে হয়, আঁধার দেখিলে সঙ্গে সঙ্গে আলোকের ধারণাও মনে জাগে। সেইরূপ বড়-ছোট, ধনী-দরিদ্র, স্বামী-স্ত্রী, রাজা-প্রজা, ভাল-মন্দ— ইত্যাদি ধারণাগুলি দ্বন্দ্বমূলক। একটী বলিলেই তাহার বিপরীতটীকেও বুঝিতে হয়। জ্ঞাতসারেই হউক, অজ্ঞাতসারেই হউক, প্রত্যেক ধারণার সঙ্গে অপর ধারণার এই বৈষম্য বা দ্বন্দ্ব লাগিয়াই আছে। এই সব বৈষম্যের মধ্যে প্রতিনিয়ত সংঘর্ষ চলিতেছে, তাহারই ফলে আমাদের জ্ঞান ও চিন্তা স্ফরিত হইতেছে।
পরস্পরবিরোধী বস্তু বা ধারণার মধ্যে শুধু যে সংঘর্ষই চলিতেছে, তাহা নহে; এই সংঘর্ষের মধ্য দিয়া একটা ঐক্যের সুরও ধ্বনিত হইতেছে। বৈচিত্র্য ও বৈষম্যের মধ্যে তাই আছে একটা মিলন-সূত্র এই যে হাঁ-না এবং পরস্পরের মধ্যে সমন্বয়, ইহাকেই কমিউনিজমের পরিভাষায় বলা হইয়াছে ‘thesis, antithesis ও synthesis,’ অর্থাৎ প্রস্তাবনা, বৈপরীত্য এবং সমন্বয়। বিশ্বপ্রকৃতির সমস্ত বস্তু এইরূপ স্বতন্ত্র হইয়াও মিলিতরূপে প্রকাশ পায়। ইহাকেই বলে বৈচিত্র্যের মধ্যে মিলন (unity in diversity).
উপরে আমি এই সমন্বয়ের কথাই বলিয়াছি। ফ্যাসিজ্ম্, নাৎসিজম্, বলশেভিজ্ম্, সোশ্যালিজম্, কমিউনিজম্ ইত্যাদি সমস্ত ইজ্ম্ই খণ্ড খণ্ড রূপে কোন কোন সমস্যার সাময়িক সমাধান করিয়াছে মাত্র। সমস্ত খণ্ড সমাধানের মধ্যেও ত আবার বিরোধ ও বৈষম্য আছে, সেগুলির মধ্যেও ত একটা সমন্বর (synthesis) চাই! এই খণ্ড সমন্বয়গুলিকে মহাসমন্বয়ে মিলাইয়া দিবে কে?—ইসলাম। বিভিন্ন নদী যেমন ছোট ছোট জলধারাকে একসঙ্গে মিলাইয়া নিজেরা পুনরায় সমুদ্রের গর্ভে আসিয়া মিলিত হয়, তেমনি জগতের সমস্ত মতবাদ ও ব্যবস্থাপ্রণালীকে এক মহাসত্যের বুকে আসিয়া লয়প্রাপ্ত হইতেই হইবে। ইসলামই সেই ultimate synthesis বা চরম সমন্বয়।
কমিউনিজমের ভাষায় এই দ্বন্দ্ব ও মিলনের নাম “Conflict and unity of Opposites”, অর্থাৎ বিপরীত বস্তুদের মধ্যে পরস্পর সংঘর্ষ ও সমন্বয়। ইহাকে ‘negation of the negation’ (বিপরীতের বিপরীত) অথবা ‘doubleness of the single’ (একে দুই)-ও বলা হইয়া থাকে। সমস্ত বস্তুর মূলে যে সত্যই একটা দ্বিত্ব ভাব আছে, এ কথা মিথ্যা নয়। ইসলামও এ কথা স্বীকার করে। কোরান শরীফে আল্লাহ, বলিতেছেনঃ
“সেই আল্লার মহিমা—যিনি পৃথিবীতে যাহা উৎপন্ন হয় এবং যাহা তাহারা (মানুষ) জানেনা—এমন প্রত্যেক টীকেই সমস্ত বস্তুর জোড়ায় জোড়ায় (in pairs) সৃষ্টি করিয়াছেন।”—(কোরান, ৩৬ : ৩৬)
ইহাই হইল জগৎ-সৃষ্টি সম্বন্ধে ইসলামের কথা। সুখ-দুঃখ, হাসিকান্না, হাঁ-না, আলো-আঁধার, দিবা-রাত্র, দীন-দুনিয়া, আকাশ-পৃথিবী, স্বর্গ-নরক—ইত্যাদি প্রত্যেক জিনিষই এইরূপ জোড়া-বাঁধা। শুধু বাহিরের চক্ষে নয়, এমন কি পদার্থের মূলে গিয়াও বৈজ্ঞানিকেরা দেখিতে পাইতেছেন—এই দ্বৈতভাব। তাঁহারা বলিতেছেন, সমস্ত পদার্থের মূলে আছে বিদ্যুৎ, আর এই বিদ্যুৎ হইতেছে দুই প্রকারের: ইলেকট্রোন্স্ (Electrons) এবং প্রটোন্স্, (Protons)। ইলেকট্রোন ঋণাত্মক বা না-মূলক (negative) বিদ্যুৎ, আর প্রটোন হইল ধনাত্মক বা হাঁ-মূলক (positive) বিদ্যুৎ। ইহাদিগকে স্ত্রী এবং পুরুষ বিদ্যুতও বলা যাইতে পারে। প্রত্যেক বিদ্যুৎ-কণিকায় এই দুই বিপরীত-ধর্মী বিদ্যুতের মিলন বা সমন্বয় দেখিতে পাওয়া যায়; সেখানে কেহু বিচ্ছিন্ন অবস্থায় নাই—জোড়ায় জোড়ায় মিলিয়া আছে।
অতএব স্পষ্টই বুঝা যাইতেছে, কমিউনিজম্ যে বৈষম্যের মধ্যে মিলনের কথা (unity of opposites) বলিয়াছে, তাহা মিথ্যা নহে।
কিন্তু তাহা হইলেও এ বিষয়ে ইসলামের ধারণায় ও কমিউনিজমের ধারণায় পার্থক্য প্রচুর। এই মহা সত্যকে কমিউনিস্টরা বিকৃত ভাবে নিজেদের কাজে লাগাইতেছে। তাহারা বলিতেছেঃ পুঁজিবাদকে (Capitalism) ধ্বংস করিয়া আমরা সাম্যবাদ (Socialism) আনিব। ইহা যে কোন্ যুক্তিবলে সিদ্ধ হইতে পারে, বুঝা কঠিন। পুঁজিবাদ ও সাম্যবাদ বদি পরস্পর-বিরোধী হয়, তবে একটাকে কাটিয়া অপরটীকে গ্রহণ করিব কেন? ডায়লেটিক্ পদ্ধতি ত এ কথা বলে না! দুইটি বিরুদ্ধ বস্তুর স্বাতন্ত্র্য নষ্ট হইবে না, অথচ তাহাদের মধ্যে সামঞ্জ্য থাকিবে, ইহাই হইল ডায়লেটিক্। কিন্তু এ-ক্ষেত্রে কোথায় তাহা হইল? Capitalism-কে ধ্বংস করিয়া Socialism-এর প্রতিষ্ঠা করিব—এ কথা বলিলে রাত্রিকে ধ্বংস করিয়া দিনকে রাখিব—বলার মতই শোনায়! ইহা ডায়লেটিক্ পদ্ধতির খেলাফও বটে, প্রাকৃতিক নিয়মের বিরুদ্ধও বটে। ‘একদিন’ বলিলে শুধু প্রভাত হইতে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২ ঘণ্ট। সময়কেই বুঝায় না, রাত্রির ১২ ঘণ্টাকেও বুঝায়; দিন-রাত্রির আলো-আঁধারকে মিলাইয়াই একটা গোটা দিন হয়। সেইরূপ সুখ-দুঃখ, জড়-চেতন, ছোট বড়, ভাল-মন্দ, ধনী-দরিদ্র—ইত্যাদির কোনটাই স্বতন্ত্র হইয়া থাকিতে পারে না, একটার পাশে আর একটী থাকিবে—ইহাই প্রাকৃতিক নিয়ম, ইহাই আল্লার বিধান। প্রত্যেক জিনিষটীকেই তিনি ভালভাবে ফুটাইয়া তুলিয়াছেন—তার একটা বিপরীত-ধর্মী বস্তুর বৈষম্য দ্বারা। দুঃখ না থাকিলে যেমন সুখকে বুঝা যায় না, অথবা স্মথ না থাকিলে যেমন দুঃখকে বুঝা যায় না, সেইরূপ দরিদ্র না থাকিলে ধনীকে বুঝা যায় না, এবং ধনী না থাকিলে দরিদ্রকেও বুঝা যায় না। প্রতোকটারই প্রয়োজন আছে, প্রতেকটারই নিজস্ব স্থান আছে। পর্যায়ক্রমে তাহারা যাওয়া-আসা করে, কেহই কাহাকেও গ্রাস করে না। এ-সম্বন্ধে কোরান কী সুন্দর ভাবেই না বলিতেছেঃ
“সূর্য্য চাঁদকে ধরিতে পারে না, রাত্রিও দিনের নাগাল পায় না; সকলেই মহাশূন্যের মধ্যে ঘুরিয়া বেড়াইতেছে।”
—(৩৬:৪০)
সুখ ও দুঃখের দিনগুলি যে পর্যায়ক্রমে মানুষের মধ্যে আসে, সে সম্বন্ধে কোরান বলিতেছেঃ
“এবং আমরা পর্যায়ক্রমে এই (সুখ-দুঃখের) দিনগুলি মানুষের মধ্যে আনিয়া থাকি, যাহাতে আল্লাহ্ মানুষকে জানিতে (পরীক্ষা করিতে) পারেন।—(৩: ১৩৯)
অতএব আমরা দেখিলাম, কমিউনিজমের গোড়ায় আছে মস্ত বড় গলং। কমিউনিস্টরা পুঁজিবাদকে যদি একদম উড়াইয়াই দিল, তবে আর ‘ডায়লেটিক্’ রহিল কোথায়? বিশ্ব-প্রকৃতিতে যেমন একজাতীয় সমান বস্তু নাই, তেমনি সমাজ গঠনের মধ্যেও শুধু একজাতীয় জীব থাকিতে পারে না; ধনী, দরিদ্র, ইতর, ভদ্র, ছোট, বড়, শিক্ষিত, অশিক্ষিত— সব রকমের লোকই থাকিবে। ইহাই প্রকৃত সাম্যবাদ। বৈষম্যগুলিকে কাটিয়া ফেলিয়া একটীকে বাচাইয়া রাখার নাম সাম্য নহে!
ঠিক একই কারণে কমিউনিজম্ শুধু জড়বাদের উপর বেশীদিন দাড়াইয়া থাকিতে পারিবে না। জড়ের বিপরীত বস্তু (antithesis) হইল চৈতন্য (spirit); জড় ও চৈতন্যের সমন্বয়েই (synthesis) আমাদের জীবন।, কাজেই শুধু জড়ের ভিত্তির উপরে আমাদের জীবনকে দাড় করাইতে গেলে ডায়লেটিক্ পদ্ধতির সব কিছুই নড়চড় হইয়া যাইবে। কোথায় আমাদের সেই দুই —যাহাদের মিলনে আমাদের এই জীবন? বিপরীত বস্তু (opposites) সেই দুইটী বস্তু হইতেছে জড় (matter) এবং চৈতন্য (spirit); কিন্তু মার্কস্ শুধু জড়কেই গ্রহণ করিয়াছেন, চৈতন্যকে একদম উড়াইয়া দিয়াছেন। কেমন করিয়া তবে মার্কসের থিওরী ও কাজে সামঞ্জস্য থাকিল?
তা ছাড়া আরও কথা এই— অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতাব্দীর উৎকট জড়বাদের যুগেই মার্কস্ তাঁহার এই নব মতবাদ প্রচার করিয়াছিলেন। সে-যুগে নাস্তিকতার ব্যায় ইউরোপ একেবারে ভাসিয়া গিয়াছিল। জড়ের সাধনাই ছিল তখন বিজ্ঞানের একমাত্র লক্ষ্য। জড়বাদই ছিল সে যুগের ধ্রুব সত্য! কিন্তু বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞান আনিয়াছে নূতন দৃষ্টি—নূতন বাণী। জড়বাদকে প্রত্যাখ্যান করিয়া সে চলিয়াছে এখন এক নূতন পথে। Viscount Samuel বলিতেছেনঃ
“Science having emerged from the materialistic self-sufficient phase of the nineteenth century, now recognises the incompleteness of its own presentation. Since it recognises that there must be 'something else', it gives room for Deity."
অর্থাৎঃ—উনবিংশ শতাব্দীর জড়বাদমূলক স্বয়ংপূর্ণ মনোভাব হইতে উদ্ভূত হইয়! বিজ্ঞান এখন ইহার অসম্পূর্ণতা স্বীকার করিতেছে। যেহেতু এখন সে বলে যে অন্য একটা-কিছু আছে, অতএব ইহা দ্বারা এই কথাই সে বলিতে চায় যে ঈশ্বর আছেন।”
জড়বাদ তাই আজকার দিনে একেবারেই অচল। অথচ আশ্চর্য্যের বিষয়, এই জড়বাদের উপরেই আছে মার্কসের সাধের কমিউনিজমের বুনিয়াদ। কাজেই ইহা স্বতঃসিদ্ধ যে, জড়বাদ যদি না টিকে, তবে কমিউনিজমও টিকিবে না। ভিত্তি ধ্বংস হইলে উপরের কাঠামও ধ্বংস হইতে বাধ্য।
এই কারণেই বলা যাইতে পারে, যাহারা অন্ধ মার্কপন্থী, যাহারা মনে করেন কমিউনিজ ম্ অভ্রান্ত বৈজ্ঞানিক সত্যের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত, তাহারা ভ্রান্ত।