বিষয়বস্তুতে চলুন

ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/সোভিয়েট রাশিয়ার পরিচয়

উইকিসংকলন থেকে

সোভিয়েট রাশিয়ার পরিচয়

 সোভিয়েট ইউনিয়ন বা U.S.S.R. কী?

 ১৯০৫ খৃষ্টাব্দে রাশিয়ার ইতিহাসে ‘সোভিয়েট’ (Soviet) কথাটী সর্ব্ব প্রথম দেখা দেয়।

 পাঠক জানেন, রাশিয়া একটা বিরাট দেশ। বহু প্রদেশ ও বহু জাতির দ্বারা এই সাম্রাজ্য গঠিত। ১০৮টা জাতি ও উপজাতি এই বিশাল দেশে বাস করে; তাহাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও সভ্যতা স্বতন্ত্র। ইউরোপ ও এশিয়া—উভয় মহাদেশেই রাশিয়া-সাম্রাজ্যের বিস্তার। রাশিয়ার যে-অংশ ইউরোপে, তাহাকে শ্বেত-রাশিয়া (White Russia) বলা হয়। বর্ণে, শিক্ষার, সভ্যতায়, অর্থসম্পদে ও ক্ষমতায় শ্বেত-রাশিয়ানরাই ছিল অন্যান্য সকলের অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। কাজেই ইহা স্বাভাবিক যে, জারতন্ত্রের আমলে এই শ্বেত-রাশিয়ানরা এশিয়াটিক রাশিয়ানদিগকে অত্যন্ত ঘৃণা করিত এবং সর্ব্বতোভাবে তাহাদিগকে দমাইয়া রাখিতে চেষ্টা করিত। ইউক্রেনিয়ান, পোলস্, আজারবাইজান, জর্জিয়ান, অষ্ট্রেলিয়ান, টাকোম্যান, উজবেক, তাজিক, কসাক, খিরগিজ, ল্যাটাভিয়ান, লিথুয়ানিয়ান, ইষ্টোনিয়ান—ইত্যাদি বহু জাতিই জার-উৎপীড়নে অতিষ্ঠ হইয়া উঠিয়াছিল। জাতি হিসাবে তাহারা ত নিগৃহীত হইতই, তাহার উপর আবার জমিদার-মহাজনদিগের অত্যাচারও কম ছিল না! শ্রমিক ও কৃষকেরা মালিকদের হস্তে নানাভাবে উৎপীড়িত হইত। যাহাতে তাহারা কোন ক্রমেই মাথা তুলিতে না পারে, ইহাই ছিল জার-শাসনের মূল নীতি ও লক্ষ্য।

 এই নিষ্পেষণের প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে বিলম্ব হইল না। ফরাসী দেশের বিপ্লব-মন্ত্র এবং কার্ল মার্কসের অপরূপ সাম্যবাণী নিপীড়িত জনমনের উপর যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করিল। স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের স্বপ্ন তাহাদের মনে জাগিল। চাষী, মজুর ও অন্যান্য শ্রমিক-সম্প্রদায়ের মধ্যে তাই ক্রমশঃই একটা ঐক্য ও সংঘবদ্ধতার ভাব দানা বাঁধিতেছিল। এই আন্দোলনের মূল প্রেরণা দিতেছিলেন লেনিন। তাঁহারই চেষ্টায় দেশের সর্ব্বত্র গুপ্ত সমিতি গঠিত হইতেছিল। এই সমিতিগুলির নামই ছিল ‘সোভিয়েট’ (Soviet), রুশ ভাষায় সোভিয়েটের অর্থ ‘সমিতি’ বা সংঘ!

 এই ‘সোভিয়েট’ গুলিই হইতেছে রাশিয়ার নবগঠিত শাসনতন্ত্রের ভিত্তিমূল। বর্ত্তমানে আমাদের দেশে যেমন ‘ইউনিয়ন বোর্ড’ স্থাপিত হইয়াছে, সোভিয়েটগুলিও অনেকটা সেইরূপ। কতিপয় ইউনিয়ন লইয়া এক-একটি বোর্ড, কতিপয় বোর্ড লইয়া এক-একটি লোকাল বোর্ড, কতিপয় লোকাল-বোর্ড লইয়া এক একটা ডিষ্ট্রাক্ট-বোর্ড। সোভিয়েট-তন্ত্রও সেইরূপ। বিভিন্ন বোর্ডের মেম্বর নির্বাচন যেমন গণভোটের দ্বারা সাধিত হয়, সোভিয়েটগুলির মেম্বারও ঠিক সেইরূপ ভাবে নির্বাচিত হয়। ডিষ্ট্রীক্ট, বোর্ডের চেয়ারম্যান যেমন সেই জেলার সমস্ত ইউনিয়নবোর্ডের প্রধান কর্মকর্তা, সোভিয়েট ইউনিয়নের প্রধান কর্ম্মকর্ত্তাও তেমনি ইহার নির্বাচিত ডিক্টেটর। ছোট ছোট সোভিয়েট দ্বারা উচ্চতর সোভিয়েট গঠিত; সর্ব্বোচ্চ সোভিয়েটের নাম হইল ‘সুপ্রিম সোভিয়েট’ (Supreme Soviet). আইন ঘটিত ব্যাপারে সর্ব্বোচ্চ ক্ষমতা এই সুপ্রিম সোভিয়েটের। গণভোটের দ্বারাই এই সুপ্রিম সোভিয়েট গঠিত। প্রতি চারি বৎসর অন্তর এই সুপ্রিম সোভিয়েট গঠিত হয়। এই সুপ্রিম সোভিয়েটের চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান, সেক্রেটারী প্রভৃতি পদ আছে। সেগুলিও ভোটের দ্বারা নির্ব্বাচিত হয়। এইরূপ স্বয়ং-শাসিত এক একটি প্রদেশকে ‘রিপাবলিক্‌’ (Republic) বলে। এক-একটি রিপাবলিকের অধীন অনেকগুলি সোভিয়েট থাকে।

 বর্ত্তমান রাশিয়া এই ধরণের ষোলটী রিপাবলিকে বিভক্ত। প্রত্যেক রিপাবলিকই স্বাধীন এবং স্বতন্ত্র। প্রত্যেক রিপাবলিককে ‘সোভিয়েট সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক’ (Soviet Socialist Republic) বলা হয় এবং এক একটা প্রদেশ বা জাতির নামানুসারেই সেই রিপাবলিকের নামকরণ হয়; যথা—‘ইউক্রেনিয়ান্ সোভিয়েট সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক,’ ‘উজবেক সোভিয়েট সোশ্যালিস্ট, রিপাবলিক,’ ‘তাজিক সোভিয়েট সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক’ ইত্যাদি। এই রিপাবলিকগুলির প্রত্যেকটাতেই স্বরাজ স্থাপিত হইয়াছে, অর্থাৎ প্রত্যেকেই নিজ নিজ বৈশিষ্ট্য বজায় রাখিয়া স্বাধীনভাবে নিজেদের দেশ শাসন করিতেছে। কিন্তু ইহারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হইয়া নাই। রিপাবলিকগুলিকে মিলাইয়া আবার একটা যুক্তরাষ্ট্র বা ইউনিয়ন (Union) গঠিত হইয়াছে; সেই যুক্তরাষ্ট্রের নামই হইল ‘ইউনিয়ন অব দি সোভিয়েট সোশালিস্ট রিপাবলিকস্ (Union of the Soviet Socialist Republics). যথোপযুক্ত প্রতিনিধি লইয়া এই ইউনিয়ন প্রত্যেক রিপাবলিক হইতে গঠিত। এই ইউনিয়নের প্রধান কর্মকর্তার উপাধি হইল ডিক্টেটর (Dictator): প্রতি চারি বৎসর অন্তর ডিক্টেটর-নির্বাচন হয়। বর্তমানে মার্শাল স্ট্যালিনই হইতেছেন সেই ডিক্টেটর।  নিম্নলিখিত ১১টা রিপাবলিক লইয়া সর্ব্বপ্রথম সোভিয়েট ইউনিয়ন গঠিত হয়ঃ

(১) রাশিয়ান সোভিয়েট ফেডারেটিভ সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক
(২) ইউক্রেনিয়ান সোভিয়েট সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক
(৩) বাইলো-রাশিয়ান সোভিয়েট সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক
(৪) আজারবাইজান সোভিয়েট সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক
(৫) জর্জিয়ান সোভিয়েট সোশালিস্ট রিপাবলিক
(৬) আর্ম্মেনিয়ান সোভিয়েট সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক
(৭) টার্ফোম্যান সোভিয়েট সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক
(৮) উজবেক সোভিয়েট সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক
(৯) তাজিক সোভিয়েট সো্যালিস্ট রিপাবলিক
(১০) কসাক সোভিরেট সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক
(১১) কিরগীজ সোভিয়েট সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক

 পরে নিম্নের পাঁচটা রিপাবলিককেও ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত করা হইয়াছেঃ

(১) ল্যাটাভিয়ান সোভিয়েট সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক
(২) লিথুয়ানিয়ান সোভিয়েট সোশালিস্ট রিপাবলিক
(৩) এষ্টোনিয়ান সোভিয়েট সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক
(৪) ক্যারোলিয়ান সোভিয়েট সোশালিস্ট রিপাবলিক
(৫) মলডেভিয়ান সোভিয়েট সোশালিস্ট রিপাবলিক

 সর্ব্বমোট ষোলটী রিপাবলিক লইয়া বর্ত্তমান সোভিয়েট-রাশিয়া গঠিত। শুনিলে আশ্চর্য লাগে, প্রথম ১১ টা রিপাবলিকের মধ্যে পাঁচটাই হইল মুসলিম-শাসিত দেশ, যথা: টার্ফোম্যান সোভিয়েট সোশালিস্ট রিপাবলিক, উজবেক সোভিয়েট সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক, তাজিক সোভিয়েট সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক, কসাক সোভিয়েট সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক এবং কিরগীজ সোভিয়েট সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক। ইহাদের প্রত্যেকেই স্বাধীন এবং আত্মনিয়ন্ত্রণশীল।

 তাহা হইলে দেখা যাইতেছে, সোভিয়েট রাশিয়া অনেকগুলি স্বয়ংশাসিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বাধীন রাষ্ট্রেরই মিলিত রূপ। সমস্ত দেশটাকে জাতিগত ভাবে বিভক্ত করিয়া পুনরায় সেগুলিকে জোড়া লাগান হইয়াছে। প্রত্যেক জাতির স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্র্য স্বীকার করিয়া লইয়া এই যুক্তরাষ্ট্র গঠিত হইয়াছে। শুধু স্বাধীনতাই স্বীকার করা হয় নাই; ইউনিয়ন হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া যাইবার অধিকারও (Right of Cecession) প্রত্যেকের আছে। প্রত্যেক রিপাবলিক আপন আপন ধর্ম্ম, সভ্যতা, সংস্কার, ভাষা ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বজায় রাখিয়া নিজেদের দেশ নিজেরাই শাসন করিতেছে, ইউনিয়ন সে বিষয়ে কোনই হস্তক্ষেপ করিতেছে না; পক্ষান্তরে ইউনিয়নে যোগ দিবার অথবা বিচ্ছিন্ন হইবার অধিকারও প্রত্যেককে দেওয়া হইয়াছে। যদি কোন বিষয়ে অসুবিধা বা মতানৈক্য ঘটে, তবে যে-কোন রিপাবলিকই ইউনিয়ন হইতে বাহির হইয়া আসিয়া স্বাধীনভাবে দেশশাসন করিতে পারিবে—এইটা হইল বিধান। যাহারা ‘অখণ্ড ভারতের’ স্বপ্ন দেখিয়া থাকেন, তাহারা সোভিয়েট রাশিয়ার দিকে একবার চাহিয়া দেখিলেই নিজেদের ভুল বুঝিতে পারিবেন। খণ্ডকে স্বীকার না করিলে অখণ্ডকে পাওয়া যায় না।

 এই প্রসঙ্গে পাকিস্তানের কথাও আসিয়া পড়ে। কমিউনিজমের যাহারা ভক্ত, তাহারা পাকিস্তানকে কোনক্রমেই নিন্দা করিতে পারেন না। পাকিস্তানের পরিকল্পনা কমিউনিজমের মূলনীতি ও আদর্শের উপরেই সুপ্রতিষ্ঠিত। অথবা ইহাও বলা যায়, পাকিস্তানের অন্তর্নিহিত নীতির উপরেই কমিউনিজমের বুনিয়াদ সংস্থাপিত। পাকিস্তানের দাবী হইতেছে আত্ম-নিয়ন্ত্রণের দাবী (Right of Self-determination). স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের দাবী। ইহা কোন নূতন কথা নয়, অসঙ্গতও নয়। ইসলামের সনাতন নীতিই এই। প্রত্যেক জাতির ধর্ম্ম, সংস্কার, কৃষ্টি ও শিক্ষাদীক্ষা বিষয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার থাকিবে, অথচ পরস্পরের মধ্যে থাকিবে একটা মৈত্রী ও প্রীতির বন্ধন, ইহাই ইসলামের আদর্শ। সমস্ত গণতন্ত্রের গোড়ার কথাও এই সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় সংখ্যালঘিষ্ঠ সম্প্রদায়কে নিজেদের কুক্ষিগত করিয়া রাখিবে—ইহার নাম স্বরাজ নয়। ‘Live and let live’—তুমিও বাঁচ আমাকেও বাঁচিতে দাও—ইহাই প্রকৃত স্বরাজ। পাকিস্তান এই কথাই বলিয়াছে—এই দাবীই করিয়াছে। মুসলমান, শিখ, খৃষ্টান, পারিয়া ও অন্যান্য অনুন্নত সমাজ যদি তাহাদের স্বাতন্ত্র্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার দাবী করে, তবে অন্যায় কোথায় হয়?

 অনেকে বলিবেন: ভারতের অখণ্ডতা ইহাতে নষ্ট হয়। ভারতবর্ষ অবিচ্ছিন্নভাবে এক এবং অথণ্ড— পাকিস্তান এই অথগুহার বিরোধী; কাজেই ইহা সমর্থনযোগ্য নয়। এই অখণ্ডতার যুক্তি আদৌ বিচারসহ নয়। ভারত কোনদিন অখণ্ড ছিলনা এবং এখনও নাই। বিভিন্ন জাতি এখানে বিশিষ্ট রূপ লইয়া দাড়াইয়। আছে। তাহাদের সেই স্বাতন্ত্র্যকে কে অস্বীকার করিবে? যাহারা ‘অখণ্ড’ দেশের পূজারী, তাহারা দেশের অর্থে দেশের মৃণ্ময়ী মূর্ত্তিকে বুঝেন—দেশের মানুষকে নয়। দেশের মানুষই যদি স্বাধীনতার সুখ না পাইল, তবে ‘অখণ্ড’ দেশ দিয়া আমাদের কী হইবে?

 রাশিয়াতে যখন বলশেভিজম্ প্রচারিত হয় এবং বলশেভিক পার্টী যখন রাশিয়ার বিভিন্ন জাতিকে স্বরাষ্ট্র সহ আত্ম-নিয়ন্ত্রণের অধিকার দান করিবার সর্তে সকলকে একত্রিত করিয়া জারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান আনিতে চায়, তখনও এই অখণ্ডতার যুক্তি দেখাইয়াই বিরোধীপক্ষ সকলকে নিরস্ত করিবার প্রয়াস পাইয়াছিলেন। কিন্তু দূরদর্শী লেনিন বুঝিয়াছিলেন—ইহা স্বাধীনতা লাভের যুক্তি নয়—রাজতন্ত্রকে কায়ম রাখিবারই যুক্তি। তাই তিনি এবং তাঁহার পার্টী এ যুক্তি মানেন নাই। প্রত্যেক জাতির স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারকে স্বীকার করিয়াই তিনি সমগ্র দেশকে ঐক্যবদ্ধ করিতে পারিয়াছিলেন এবং এইরূপেই দেশের মুক্তি আনিয়াছিলেন। ইহার ফল কী হইয়াছে, পাঠক তাহা দেখিতেছেন।

 সোভিয়েট-শাসন প্রবর্ত্তিত হইবার পর হইতে রাশিয়া জোর কদমে প্রগতির পথে অগ্রসর হইতেছে। শিক্ষা, শিল্প, বিজ্ঞান, কৃষ্টি, বাণিজ্য ও অন্যান্য গঠনমূলক কার্য্য দ্রুতবেগে বাড়িয়া চলিয়াছে। রাষ্ট্র হইতেই দেশের যাবতীয় গঠন-কার্য্য সাধিত হইতেছে। একসঙ্গে সব কাজে হাত দিলে কোনটাই সুচারুরূপে সম্পন্ন হইতে পারে না, তাই সোভিয়েট গবর্ণমেণ্ট প্রতি পাঁচ বৎসরের মত এক একটা কার্য্য-তালিকা গ্রহণ করিয়া জাতিগঠন-কার্য্যে হস্তক্ষেপ করিয়াছে। ইহাকেই ‘পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা’ বা ‘Five-year Plan’ বলা হয়। ১৯২৭ খৃষ্টাব্দ হইতে এই কার্য্যক্রম আরম্ভ হইয়াছে। যে-সব দেশে পূর্ব্বে জ্ঞান-সভ্যতার কোন নিদর্শনই পাওয়া যাইত না, আজ সেখানে হাজার হাজার স্কুল-কলেজ, কল-কারখানা, সিনেমা ইত্যাদি স্থাপিত হইয়াছে। রাশিয়ায় এখন কেহই আর দরিদ্র নাই, অভাবগ্রস্ত নাই; সকল প্রকার নির্যাতন ও শোষণ হইতে জনসাধারণ এখন মুক্ত; সকলেই এখন স্বাধীন, সকলেই এখন সমৃদ্ধ ও উন্নত।

 নূতন শাসনে রাশিয়ায় যে-সমস্ত বৈশিষ্ট্য দেখা দিয়াছে, এখানে তাহার কিঞ্চিৎ পরিচয় দিতেছি।