উড়িয়া স্বতন্ত্র ভাষা নহে

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

 

উড়িয়া স্বতন্ত্র ভাষা নহে।

 

 

বালেশ্বর গবর্ণমেন্ট স্কুলের

পণ্ডিত

 

শ্রীযুক্ত কান্তিচন্দ্র ভট্টাচার্য্য

প্রণীত।

 

 

কলিকাতা।

মৃজাপুর, অপর সরকিউলার রোড,

৪৮৷৫ সঙ্খ্যক ভবনে

গিরিশ-বিদ্যারত্ন যন্ত্রে

মুদ্রিত।

 

 

ইং ১৮৭৮। জ্যানুয়ারি। সন ১২৭৬। মাঘ।



বিজ্ঞাপন।

 উড়িষ্যায় এখন আর বাঙ্গালা ভাষা প্রচলিত নাই; কি বিদ্যালয়, কি আদালত সর্ব্বত্র উৎকল ভাষা লিখিত ও কথিত হয়। গবর্ণমেণ্ট বিদ্যালয় সকলের সংস্থাপন অবধি ঐ সমস্তে বাঙ্গালা ভাষাই প্রচলিত ছিল। সম্প্রতি মান্যবর কমিসনর সাহেবের বিজ্ঞাপণী অনুসারে বাঙ্গালা উঠিয়া গিয়া উড়িয়া ভাষা প্রচলিত হইয়াছে। শ্রীযুক্ত কমিসনর ও কতকগুলি মিসনরী সাহেবদের মনে উড়িয়াকে স্বতন্ত্র ভাষা বলিয়া প্রতীতি জম্মিয়াছে। যখন তাঁহারা এরূপ স্থির করিয়াছেন যে উড়িয়া এক স্বতন্ত্র ভাষা, এবং যখন বাঙ্গালা পুস্তক সকল উড়িষ্যার পাঠশালা হইতে নির্ব্বাসিত হইতেছে, তখন অনেকেই সন্দেহ করিতেছেন, উড়িয়াই বুঝি উড়িষ্যায় প্রচলিত থাকিল। কিন্তু আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে উড়িয়াকে স্বতন্ত্র ভাষা বলিয়া প্রতীতি হয় না; এবং যতই অনুসন্ধান করিতেছি ততই ঐ সংস্কারের দৃঢ়ীকরণই হইতেছে। সত্যের অপলাপ হয় ইহা ইচ্ছা করি না। এজন্য আমি পরিশ্রম করিয়া এই ক্ষুদ্র পুস্তক খানি প্রণয়ন করিলাম। সহৃদয় তত্ত্বদর্শী মহোদয়গণ অনুকম্পা প্রকাশিয়া ইহা অাদ্যোপান্ত পাঠ করিয়া দেখিবেন; উড়িয়া স্বতন্ত্র ভাষা নহে; ইহা বাঙ্গালাই। তাঁহাদের মনে এইরূপ প্রতীতি হইলে শ্রম সফল জ্ঞান করিব।

 আমার এই ভাষাবিষয়ক ক্ষুদ্র পুস্তকের সাহায্যার্থ মান্যবর শ্রীযুক্ত জন্‌ বীসন্‌ সাহেবের ইণ্ডিয়ান ফাইলোলজী হইতে অনেক মত গ্রহণ ও বাঙ্গালার নানা স্থানের প্রচলিত ভাষা সঙ্কলন করিতে হইয়ছে। এই সঙ্কলন বিষয়ে, রংপুর ট্রেনীং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রীযুক্ত বাবু চণ্ডীচরণ চট্টোপাধ্যায়, শ্রীহট্ট জিলা স্কুলের প্রধান পণ্ডিত বাবু কালীকিঙ্কর শর্ম্মা, যশোহর জিলার অন্তঃপাতী নড়াল স্কুলের প্রধান পণ্ডিত বাবু অমরনাথ ভট্টাচার্য্য, এবং পাচকুড়া ইংরাজী বিদ্যালয়ের ভূতপূর্ব্ব প্রধান শিক্ষক বাবু উমাপ্রসাদ যে, তত্তৎ প্রদেশের কথিত ভাষা সংগ্রহ করিয়া দিয়া, আমার পরম উপকার করিয়াছেন। ইঁহারা আমার কৃতজ্ঞতার পাত্র। বালেশ্বর বার-বাটী স্কুলের প্রধান পণ্ডিত শ্রীযুক্ত বাবু কার্ত্তিকচন্দ্র চক্রবর্ত্তী মহাশয়ও এই পুস্তকে অনেক পরিশ্রম করিয়াছেন; ইনিও আমার কৃতজ্ঞতার ভাজন।

 এই পুস্তক মুদ্রাঙ্কন সময়ে কলিকাতা সংস্কৃত কালেজের প্রধান শিক্ষক আমার পরম বন্ধু শ্রীযুক্ত বাবু তারিণীচরণ চট্টোপাধ্যায় মহাশয় যত্ন পূর্ব্বক সংশোধন করিয়া যথেষ্ট উপকার করিয়াছেন।

 পরিশেষে কৃতজ্ঞতা সহকারে উল্লেখ করিতেছি প্রাচীন ইতিহাসের উদ্ধার সাধনে সুনিপুণ, বিদ্বান বিচক্ষণ শ্রীযুক্ত বাবু রাজেন্দ্রলাল মিত্র মহাশয়, সমস্ত গ্রন্থ একবার পাঠ করিয়া কয়েক স্থলে পরিবর্ত্তনের উপদেশ দিয়াছেন; এবং তিনি, ইহা সমীচীন হইয়াছে বলিয়াছেন বলিয়াই, আমি জনসমাজে প্রকাশ করিতে অগ্রসর হইলাম।

 
 বালেশ্বর
গবর্ণমেন্ট জিলাস্কুল।
সম্বৎ ১৯২৬। মাঘ,

 

শ্রীকান্তিচন্দ্র শর্ম্মা

 

পুস্তকস্থ বিষয়।

পৃষ্ঠা
২২
৩৪
৪৭
৫৬
৫৯
৬২
৬৬
৭২


 

উৎসর্গপত্র।


 
অশেষগুণালঙ্কৃত

শ্রীযুক্ত বাবু রাজেন্দ্রলাল মিত্র

মহাশয় মহোদয়েষু।

 মহাশয়!

 আপনি ভারতবর্ষের অনেক প্রাচীন তত্ত্বের আবিষ্কার করিয়াছেন। আপনার তুল্য বিচক্ষণ বহুভাষাজ্ঞ ও তত্ত্ব-নির্ণায়ক পণ্ডিত ভারতবর্ষে অতি বিরল। আমি বহু পরিশ্রমে উড়িয়া স্বতন্ত্র ভাষা নহে, এই ক্ষুদ্র পুস্তক খানি প্রণয়ন করিয়াছি, উপযুক্ত পাত্র বোধে, আমি উহা মহাশয়কে উৎসর্গ করিলাম।

 
বালেশ্বর
মাঘ
সম্বৎ ১৯২৬

ভবদীয় একান্ত বশম্বদ
শ্রীকান্তিচন্দ্র শর্ম্মা
 

 

এই লেখাটি বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত কারণ এটির উৎসস্থল ভারত এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে এর কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। লেখকের মৃত্যুর ৬০ বছর পর (স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত) বা প্রথম প্রকাশের ৬০ বছর পর (বেনামে বা ছদ্মনামে এবং মরণোত্তর প্রকাশিত) পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে তাঁর সকল রচনার কপিরাইটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। অর্থাৎ ২০১৯ সালে, ১ জানুয়ারি ১৯৫৯ সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে।