উত্তম পাকিস্তানী
উত্তম পাকিস্তানী
যখন সক্রেটিসকে কয়েদ করে হুকুম দেওয়া হয়েছিল, তাঁকে বিষ পান করতে হবে, তখন সহানুভূতিশীল বন্ধু আর শিষ্যরা তাঁর কাছে গিয়ে বলেছিলেন, ‘আপনি এই জায়গা ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যান। আপনার পালাবার সব ব্যবস্থাই করে দেওয়া হয়েছে।’ কিন্তু তিনি জবাব দিয়েছিলেন, ‘আমি এ-জায়গা ছেড়ে যেতে পারব না। এর হাওয়া বুকে টেনে এতকাল বেঁচে আছি, এরই দেওয়া খাবারে আমার এই দেহ গড়ে উঠেছে। বস্তুতঃ, আমার দেহ এবং প্রাণ এরই দান। আবার এই দেশেরই আইনের বলে আমি বিয়ে করেছি এবং সন্তানসম্ভতির জনক হয়েছি। আমার পূর্বপুরুষ, উত্তরপুরুষ সবাই এরই আইনে বাঁধা আর তোমরা আমায় এই দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছ? - শুধু জান বাঁচাবার জন্যে? আমি বিষের পাত্র মুখে তুলে নিতেও রাজী, কিন্তু এই দেশ ছেড়ে কোথাও যেতে পারব না।’
দেশপ্রেমের অনুভূতি মানুষের স্বভাবগত মায়ের প্রতি শিশুর আকর্ষণে যে তীব্রতা আর আনন্দ আছে, ঠিক সেই তীব্রতা আর আনন্দই আমরা পাই দেশপ্রেমে। এই দুই বস্তুই মানুষকে মাটির পূজারী করে তুলেছে, এসবের জন্যেই সে এই ধরিত্রীকে ‘মা’ বলে ডেকেছে। দেশপ্রেমের অনুভূতি মানুষের এক বিশেষ পরিচয় দেয়, তার জীবন দেশের মাটির সাথে বাঁধা, দেশের মাটির বুকে জন্মানো খাবারেই সে লালিত, দেশের মাটির ওপরের হাওয়ায় নিঃশ্বাস নিয়েই সে জীবন যাপন করে।
মানুষ তো মানুষ, জীব-জানোয়ারও জন্ম আর বাসভূমির টানে বাঁধা পড়ে যায়। ঘোড়া যে তার বাসভূমি চিনতে পারে, একথা সর্বজনবিদিত। বাসস্থানের সাথে তার সম্পর্কের মূলে আছে ভালবাসা। জীব-জানোয়ার যদি কোন জায়গায় দু’চারটে দিনও থাকে, তবে তার সাথে তাদের একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু তাদের ভালবাসা স্বভাবগত নয়, পরিস্থিতির সৃষ্টি। পক্ষান্তরে মানুষের কাছে বাসস্থান শুধু ঘর-দরজা ইট-কাঠের নামান্তর নয়। বাসস্থানে যে-সমস্ত জিনিস থাকে, সেগুলোর সাথে আপনা থেকেই মানুষের একটা হৃদয়ের সম্পর্ক স্থাপিত হয়ে যায়।
মানুষ একেবারে সৃষ্টির আদিকালেই বুঝতে পেরেছিল, নিঃসঙ্গ থাকা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এই জন্যেই তার হাতে পরিবার, আত্মীয়-গোষ্ঠী, সম্প্রদায় আর জাতির বুনিয়াদ স্থাপিত হয়। তারপর সে যূথবদ্ধ জীবনে অভ্যস্ত হয়ে যায়। বাড়ী, মহল্লা ও দেশের সাথে সাথে প্রিয় আত্মীয়জন, প্রতিবেশী আর দেশের প্রতি ভালবাসাও তার মনে দেখা দেয়। মানুষের ভালবাসার এই দুটি দিক একই সঙ্গে প্রসার লাভ করে এবং একটিকে বাদ দিয়ে আর একটি কখনও বাঁচতে পারে না। মানুষ তার দেশকে ভালবাসে,—কিন্তু জাতিকে ভালবাসে না,—এমন ঘটনা অসম্ভব।
শিশু প্রথমে জানে শুধু নিজেকে। তারপর যখন ক্রমে ক্রমে তার বয়স বাড়তে থাকে, তখন বুঝতে পারে, একলা সে কিছুই নয়। তার জীবনে মাবাবা, ভাই-বোন এবং পরিবারের অন্যান্য লোকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিশুর জ্ঞানবুদ্ধি যখন আরও বৃদ্ধি পায়, তখন সে দেখে, তার পরিবারের পক্ষেও একা কিছুই করা সম্ভব নয়। তাদের মতো আরও হাজার হাজার পরিবার এজগতে রয়েছে এবং তাদের পরিবারের কাছে সেগুলির গুরুত্ব অপরি সীম। শিশুর এই জ্ঞান ক্রমে আরও বৃদ্ধি পায়। তখন আত্মীয়, গোষ্ঠী, সম্প্রদায় এবং জাতি,—সবার ভূমিকার কথাই সে বুঝতে পারে। তার জ্ঞানের অবশ্যি এইখানেই শেষ নয়। পরবর্তী পর্যায়ে সে জানতে পাবে সমগ্র মানবজাতির কথা এবং এই জ্ঞানের ফলে সারা দুনিয়ার সাথে তার একটা আত্মীয়তার সম্পর্ক আছে বলে সে ভাবতে শুরু করবে। এটা হচ্ছে মানুষের বিবর্তনের মহত্তম পর্যায়। এই জন্যেই মওলানা রুমী বলেছেন, ‘মানুষের স্থান কোথায়, জেনে রাখো। মনুষ্যত্বেই মানুষের সম্মান।’
কিন্তু এই মহৎ লক্ষ্যে পৌঁছানো সহজ নয়। তার জন্যে মানুষকে সংগ্রাম করতে হয়, ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, আপন হৃদয়কে দৃঢ় করতে হয়। তার সম্মুখে কতো প্রলোভন আসে! কতো বস্তু তাকে ভুলিয়ে রাখতে চায়। এ সবের থেকে আত্মরক্ষায় অক্ষম হলে সে কখনও লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। স্বার্থপরতা, আত্মোন্নতির বাসনা, সঙ্কীর্ণ দৃষ্টি এবং এমনি আরও অসংখ্য অশুভ শক্তির সাথে তার সংগ্রাম চলে। এই সংগ্রামে জয়লাভের জন্যে তাকে সাধুতা, সহৃদয়তা, মহত্ত্ব, উদারতা এবং সহিষ্ণুতার মতো গুণাবলি আয়ত্ত করতে হয়।
এই পর্যায়ে এসে মানুষ দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত হয়ে যায়। মানুষ এবং মনুষ্যত্বের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্যে যে সারা জীবন সংগ্রাম করে আমরা তাকে বলি ভালো মানুষ এবং যারা ক্ষুদ্র স্বার্থ, আত্মোন্নতির লোভ এবং সঙ্কীর্ণ দৃষ্টির জন্যে লক্ষ্যচ্যুত হয়, তাদের বলি মন্দ।
সুন্দর পাকিস্তানের ধারণাকে ভালো মানুষের ধারণা থেকে পৃথক করে দেখা সম্ভব নয়। মানুষ না হওয়া পর্যন্ত কোন পাকিস্তানবাসীই ভালো মানুষ হতে পারবে না। বস্তুতঃ এ-দুটি একই জিনিসের দুটি দিক মাত্র। পার্থক্য শুধু এই যে, আমরা যখন ভালো মানুষের কথা বলি, তখন আমাদের মনের মধ্যে থাকে দেশ এবং জাতির সঙ্গে সম্পর্কহীন একটি ধারণা, কিন্তু যখন ভালো পাকিস্তানের কথা বলি, তখন মনের মধ্যে ফুটে ওঠে একটি বিশেষ দেশের ছবি। এমন জাতিরও অভাব নেই, যারা শুধু দেশকেই নিজেদের সমস্ত কিছু বলে মনে করে। তাদের জাতীয় আদর্শ এতোই দুর্বল যে, তাদের মধ্যে বিশ্বজনীনতা বাষ্পমাত্রও থাকে না। এসব জাতির কাছে দেশপ্রেমের অর্থ হল একটি বিশেষ দেশের অধিবাসীদের সুখ। তাদের মুখে আমাদের দেশ’ ‘আমাদের দেশ’ ছাড়া আর কোন কথাই শোনা যায় না। তারা তাই যা করা উচিত নয়, আপন দেশ এবং জাতির জন্যে তাও করে বসে। দেশ এবং জাতি সম্পর্কিত এমন ধারণা বহুদিন আগেই এক ঘৃণ্য ক্ষতের রূপ নেয় এবং এরই জন্যে পৃথিবী দু’বার প্রলয়ঙ্কর মহাযুদ্ধের মধ্যে নিপতিত হয়। আল্লামা ইকবাল দেশপ্রেমের এই উগ্র ধারণার সমালোচনা প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘জাগ্রত দেবতাদের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো হচ্ছে দেশ।’ মুসলিমদের উদ্দেশে তাঁর বাণী: ‘দেশপ্রেম’-এর দেবতাকে ধূলায় মিশিয়ে দাও। পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ও উগ্র দেশপ্রেমের বিপদ সম্বন্ধে সচেতন ছিলেন। তিনি তাই পাকিস্তান কায়েম হওয়ার পরই এদেশের সম্পর্কে বলেন, ‘পাকিস্তান শুধু ভৌগোলিক সীমাবদ্ধ একটি এলাকার নাম নয়। এ হচ্ছে সৃষ্টিশীল আত্মার স্বাধীনতার নাম।’
এই কিছুদিন আগেও আমরা পরাধীন ছিলাম। পরাধীনতার থেকে বড়ো দুর্ভাগ্যের ব্যাপার একটি জাতির কাছে আর কি হতে পারে? যে জাতি পাকভারত উপমহাদেশে আটশো বছর ধরে সগৌরবে রাজত্ব করেছে, সে-ই হয়ে গিয়েছিল পরশাসিত। তার সে জীবন কি দুঃখেই না অতিবাহিত হয়েছে। তখন তাঁর চারদিকে ছিল শুধু হতাশা, অমঙ্গল আর দুর্ভাগ্যের ঘনকৃষ্ণ ঘেরাটোপ। কিন্তু এই অবস্থায়ও জাতির প্রকৃত সেবক এবং সত্যিকার দেশগতপ্রাণ ব্যক্তিরা আপন কর্তব্য পালনে অবহেলা করেননি। তাঁরা নিজেদের রক্তে দীপ জ্বেলে সেই অত্যাচারের গভীর গুহা থেকে জাতিকে উদ্ধার করবার জন্যে এগিয়ে এসেছিলেন। শহীদ সুলতান টিপু (রহঃ), নওয়াব সিরাজউদ্দৌলা, বাহাদুর শাহ্ জাফর এবং জেনারেল বখ্ৎ খান ছিলেন আজাদী সংগ্রামের পরাক্রমশালী নকিব এবং যোদ্ধা। এই পূতচরিত্র দেশপ্রেমিকদের ওপর খোদার রহমত বর্ষিত হোক।
আমাদের সংগ্রামের দুটি দিক ছিল। এক দিকে আমরা চেষ্টা করেছি বিদেশী শাসনের জোয়াল থেকে মুক্তি পেতে, আর একদিকে আমাদের মোকাবিলা করতে হয়েছে প্রতিবেশী জাতির নিষ্ঠুরতার সাথে। আজাদী সংগ্রামের এই দ্বিতীয় ক্ষেত্রেও জাতির উদ্দেশে উৎসর্গীকৃতপ্রাণ অকপটচিত্ত ব্যক্তিরা তাঁদের কর্তব্য ভুলে যাননি। সৈয়দ আহমদ শহীদ বেরেলভী (রহঃ) এবং শাহ্ ইসমাইল শহীদ দেহলভীর (রহঃ) মতো মহাপুরুষরা তাঁদের রক্ত দিয়ে এই সত্যই প্রমাণ করে গেছেন যে, যাঁদের হৃদয় দেশ এবং জাতির প্রেমে সমৃদ্ধ, তাঁরা সেসবের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখবার জন্যে নিজেদের প্রাণদানকে যেন নিতান্তই খেলা মনে করেন। জীবন বিসর্জন দিয়েও তাঁরা পান অমর জীবন:—‘প্রেমের স্পর্শে যার হৃদয় জীবন্ত, তার মৃত্যু তো শুধু আর এক জগতে জন্মগ্রহণের ভূমিকা।’
পাকিস্তানের যে কোনো উত্তম নাগরিকই এই সব মহাপুরুষের মহান উক্তিগুলি সমর্থন করবে। প্রথম যুগে আমরা আজাদী সংগ্রামের সেনানী সৃষ্টি করেছি। পরবর্তী যুগে আজাদী আন্দোলনের পতাকা বহন করেছেন স্যার সৈয়দ আহমদ খান, নওয়াব মোহসিন উল-মুল্ক্, নওয়াব ভিকার উল-মুল্ক্, নওয়াব সলিমুল্লাহ্ খান, মওলানা মোহাম্মদ আলী জওহর এবং মওলানা হযরত মোহানী। এ যুগের স্বাধীনতাপ্রীতি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। এরই জন্যে লণ্ডনে মওলানা মোহাম্মদ আলী জওহরের মুখ থেকে উচ্চারিত হয়েছিল, ‘আমি পরাধীন দেশে ফিরে যাব না। যদি যাই তো স্বাধীনতার আদেশনামা নিয়েই যাব। অন্যথায় আমার কবরের জন্যে চার হাত মাটিও আপনাদের এখানেই দিতে হবে।’
দেশের সেনানী এবং জাতির মুক্তিযোদ্ধারা আজাদীর নিশান সুউচ্চে তুলে ধরেছিলেন। তাঁদের আত্মাহুতিময় সংগ্রামের ফলেই আমরা আজাদীর মহত্তম নিয়ামত রূপে পাকিস্তান হাসেল করেছি। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর দেশ এবং জাতির প্রেমিকরা নতুন নতুন সমস্যার সমাধান, আজাদী সংরক্ষণ এবং আজাদীর সত্যিকার লক্ষ্যের দিকে মনোযোগ দিতে শুরু করেন। কায়েদে আজম একতা, শৃঙ্খলা এবং দৃঢ় বিশ্বাসকে সাফল্যের ভিত্তি প্রস্তর বলে মনে করতেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর এসবের প্রয়োজন হয় আগের থেকেও বেশী। কেননা, এক নতুন দেশ, বিশেষ করে পাকিস্তানের মতো শিশুরাষ্ট্র—প্রথম জীবনেই নানা প্রচণ্ড বিপদ-আপদে যার শতধা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল, তাকে শুধু নিজের স্বাধীনতা রক্ষার দিকেই মনোযোগ দিতে হয় না; তার আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থাদির উন্নয়ন এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে গঠনমূলক কার্য ও অগ্রগতি সাধন আর সম্পদাদি সন্ধানের প্রয়োজন থাকে। এগুলির জন্যেই সে দ্রুতগতিতে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
ত্যাগ স্বীকারের মনোভাব জাতির স্থায়ী জীবন এবং উন্নতির জন্যে অপরিহার্য। এ না থাকলে দেশকেও রক্ষা করা যায় না, উন্নয়নমূলক কোন কাজও সম্ভব হয় না। আমাদের আপন আপন ঘরবাড়ীর কথাই ধরা যাক। ঘরবাড়ী রক্ষা এবং পরিবারের লোকজনের আরাম আয়েশের জন্যে আমরা কি কিছুই করিনে?
এসবের জন্যে আমরা যাই করি না কেন, তাতে আমাদের শারীরিক কষ্ট যেমন সইতে হয়, তেমনি কিছু আরামও ছাড়তে হয়। পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে গৃহকর্তা এবং পরিবারের অন্যান্য লোকজন সর্বপ্রকার কষ্টই সহ্য করে থাকেন। অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসার জন্যে তাঁরা বেপরোয়াভাবে অর্থব্যয় করেন, গৃহকর্তাকে তখন অন্য দশটি প্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধ রাখতে হয়। আবার তিনি রাতও জাগেন। এসব তিনি কেন করেন? তাঁর সম্মুখে পরিবারের একটি স্তম্ভের স্বাস্থ্য আর জীবনের প্রশ্ন থাকে বলে। যে আমাদের প্রিয়জন, যাকে আমরা ভালবাসি তার জন্যে কোনো রকম ত্যাগ স্বীকারেই ইতস্ততঃ করিনে। যাঁরা ভালো মানুষ, তাঁদের এমন মনোভাব শুধু পারিবারিক ব্যাপারেই সীমাবদ্ধ থাকে না এবং থাকা উচিতও নয়। কেননা, সমাজের প্রত্যেকটি মানুষ তাঁর কাছে আপন পরিবারের মানুষের মতোই প্রিয়। এবং দেশ তো মানুষের কাছে তার জীবন, ধনসম্পত্তি, সন্তান-সন্ততি সব-কিছুর থেকেই বেশী প্রিয়। এই দেশের জন্যে সে কি কিছুই ত্যাগ করবে না?
যখন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন এখানকার অবস্থাটা কেমন ছিল? কোনো শিল্পই তখন এদেশে ছিল না। বিভাগপূর্বকালে ব্যবসা-বাণিজ্যের অধিকাংশই ছিল অমুসলিমদের হাতে। তারা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। দেশের সম্পদ ছিল অত্যন্ত অল্প, তার সাহায্যে দেশকে টিকিয়ে রাখা কোনো ক্রমেই সম্ভব ছিল না। কিন্তু কায়েদে আজম এবং তাঁর সক্রিয় বন্ধু-বান্ধবের জন্যে জাতি দাঁড়িয়ে গেল। তখন জাতির মনেও ছিল আজাদী এবং দেশের অস্তিত্ব রক্ষার প্রবল উৎসাহ। প্রয়োজন ছিল শুধু উৎসাহকে কাজে লাগাবার। জাতির এই ভাসমান উৎসাহের সদ্ব্যবহার কি ভাবে করতে হয় সে রহস্য কায়েদে আজম এবং তাঁর সঙ্গীরা জেনে ফেলেছিলেন। তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে জাতিগঠন এবং উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা প্রণয়ন করে দেশকে দৃঢ়ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন। অগ্রগতির পথের নির্দেশও তাঁরাই দেন। তারপর সরকার, জাতি এবং দেশকে যেসব নাগরিক ভালবাসে, তাদের সাহায্যে তাঁরা সেই পথে অগ্রগতি সাধনের কাজে আনিয়োগ করেন।
জাতির প্রয়োজনের কোনো সীমা-সংখ্যা নেই। এবং তার ছোটো বড়ো সব রকম প্রয়োজন মেটানোই সরকারের কর্তব্য। কিন্তু উত্তম নাগরিকদের সাহায্য ও সহযোগিতা ছাড়া সরকারের পক্ষে এ-কর্তব্য পালন করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে পাকিস্তানের মতো দেশে যেখানে দেশের সম্পদ পর্যন্ত তার সব প্রয়োজন মেটাবার পক্ষে পর্যাপ্ত নয়। কিছু প্রয়োজন প্রাথমিক। সেগুলির নিবৃত্তি সমগ্র দেশের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য এবং অগ্রগতির জন্যেই জরুরি। শিল্প, কৃষি ও শিক্ষার অগ্রগতি, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নমূলক কার্য, চলাচল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সর্বোপরি দেশের নিরাপত্তা আর আভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজার রাখা—এইগুলিই হচ্ছে জাতির প্রাথমিক প্রয়োজন। এ সব প্রয়োজন নেটাতে শুধু সরকারই পারেন। জনসাধারণ একাজে সরকারের সাথে সহযোগিতা করে থাকে। শিল্পোন্নয়নে পুঁজিপতি আর শিল্পপতিরা সরকারের সাথে হাত মেলান। কৃষির উন্নয়নে সহযোগিতা করেন কৃষকরা। অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকার জনসাধারণের আর্থিক যোগিতায় তাদের কর্মচারীদের মাধ্যনে কাজ করে যান। জনসাধারণ এইসব কাজের জন্যে ট্যাক্সের আকারে টাকা জোগায়। অন্যকথায় সরকার জনসাধারণের কাছ থেকে যে ট্যাক্স নেন, তা দেশ এবং জাতির উন্নতি আর কল্যাণের জন্যে ব্যয়িত হয়। এই জন্যেই কোনো উত্তম নগরিক ট্যাক্স দিতে গিয়ে কিছু ভাবতে বসেন না। তিনি জানেন এ টাকা তাঁরই কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হবে।
দেশের উন্নয়নের জন্যে সরকার নানাভাবে পুঁথি সংগ্রহ করেন। আবার নানা মেয়াদে জনসাধারণের কাছ থেকে ঋণ নেন এবং সঞ্চয়ের পরিকল্পনা চালু করেন। বেশী দামের সার্টিফিকেট যেমন আছে তেমনি রয়েছে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের পরিকল্পনা। দেশরক্ষার প্রয়োজন মেটাবার টাকা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ডিফেন্স সার্টিফিকেটও চালু করা হয়েছে। এখন আবার প্রাইজ বণ্ডও বিক্রি হয়। এই সব কাজের উদ্দেশ্যও হচ্ছে জনসাধারণকে দিয়ে অর্থ সঞ্চয় করানো। এবং তাদের ব্যয়সঙ্কোচ করতে শেখানো। দুঃসময়ের জন্যে আগে থেকেই কিছু ব্যবস্থা রাখবার অভ্যাস তো এমনিতেই অত্যন্ত ভালো। আমাদের শ্রদ্ধেয় পূর্বপুরুষদের জীবনও এই রকম অভ্যাসের মধ্যে দিয়েই কেটেছে।
সরকার কর্তৃক চালুকৃত সঞ্চয় পরিকল্পনাগুলির ফল দ্বিবিধ। যদি কেউ টাকা জমা করে নিজের কাছেই রেখে দেয়, তাহলে আকস্মিক প্রয়োজনের সময় সে টাকা তার কাজে লাগবে। কিন্তু তেমন প্রয়োজন যদি না আসে তবে সে টাকা নিষ্ক্রিয় এবং অর্থহীন পুঁজির মতো পড়েই থাকবে। অথচ সঞ্চয় পরিকল্পনায় বিনিযুক্ত পুঁজি একদিকে যেমন নিরাপদ থাকে, অন্যদিকে তেমনি দেশ এবং জাতির কাজে লাগে। সরকার এই পুঁজি দিয়ে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলি রূপায়িত করেন। দেশপ্রেমিক নাগরিকদের কাছে সঞ্চয়ের এই ফলটির গুরুত্বই সবচেয়ে বেশী।
এ তো গেল রাষ্ট্রীয় এবং জাতীয় ক্ষেত্রের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা। এর পর রয়েছে জনসাধারণের ছোটো ছোটো দৈনন্দিন প্রয়োজনের বিষয়। দেশ এবং জাতিকে যে নাগরিক ভালবাসেন, তিনি জানেন সরকারের দৃষ্টি দেশ এবং জাতির বড়ো সমস্যাগুলির ওপরই নিবদ্ধ থাকা উচিত। সরকার যদি ছোটো ছোটো সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে বড়ো বড়ো উন্নয়নকার্যে বিলম্ব ঘটবে। তার ফলে গোটা জাতির ক্ষতি হওয়াও অসম্ভব নয়। এজন্যে, দেশ এবং জাতিকে যেসব নাগরিক ভালবাসেন, তাঁরা স্বাবলম্বী হয়ে নিজেদের সাধারণ প্রয়োজনগুলি নিজেরাই মিটিয়ে নেবার চেষ্টা করেন। তাঁরা দেশ এবং জাতির প্রয়োজনকে নিজেদের প্রয়োজনের ওপরে স্থান দেন। জাতির স্বার্থের খাতিরে নিজেদের স্বার্থ ত্যাগের মনোভাবও তাঁদের থাকে। এই মনোভাবই দেশপ্রেম ও জাতিপ্রেমে ঋদ্ধ উত্তম পাকিস্তানীর লক্ষণ।
ত্যাগ বলতে শুধু প্রাণ এবং ধনসম্পদ ত্যাগই বোঝায় না। এমন ত্যাগও আছে, যা বাহ্যতঃ ত্যাগ নয়, কিন্তু একটু ভেবে দেখলেই বোঝা যায় আসলে তাও ত্যাগ। উদাহরণস্বরূপ একটি ছাত্রের কথাই ধরা যাক। তার প্রকৃত লক্ষ্য লেখাপড়া শিখে নিজের জীবনকে সার্থক করে তোলা, যাতে সে নিজের এবং তার পরিবারের জন্যে ভালো উপার্জন করতে পারে। এর সাথে তার মানমর্যাদার প্রশ্নও জড়িত থাকে। ভবিষ্যৎ জীবনে সে কি হতে চায়,—ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কৃষিবিদ, বিজ্ঞানী, শিক্ষক, কেরানী, না ব্যবসায়ী, তা নিয়ে চিন্তা করে। বস্তুতঃ, যখন সে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার কথা ভাবে, তখন কোনো পেশার সম্ভাবনাকেই ভুলে থাকতে পারে না। সে প্রথমেই ভাবে, কোন্ পেশায় তার আয় বেশী তারপর ভাবতে থাকে, সে পেশায় সে নিজে এবং তার পরিবার মানমর্যাদা পাবে কিনা। এমনিতে তো কোনো পেশাই অসম্মানজনক নয়। অবশ্যি যদি তা অন্যায় পেশা না হয়। তবু ছাত্র এবং তার বাবা-মা এমনি সব কথাই ভেবে থাকে। নিজের এবং ছেলেমেয়েদের জন্যে পেশা নির্বাচন প্রত্যেক মানুষেরই একটি মৌলিক অধিকার এবং সবাই এই অধিকারের সদ্ব্যবহার করে। দেশ এবং জাতিকে যাঁরা ভালবাসেন, অন্যান্য কথার সঙ্গে এ কথাটি তাঁরা বিশেষভাবে স্মরণ রাখেন। সে কথাটি হচ্ছে: দেশ এবং জাতির জন্যে কোন্ ধরনের পেশার লোকের প্রয়োজন বেশী। তাঁরা এই প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের এবং ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও করে থাকেন। বাহ্যতঃ তাঁরা কোনো ত্যাগ স্বীকার করেন না। কিন্তু এতে তাঁদের দেশপ্রেমেরই জ্বলন্ত প্রমাণ পাওয়া যায়। এমনি করেই উত্তম পাকিস্তানীদের কার্যের বলে পাকিস্তান ধীরে ধীরে সর্বক্ষেত্রে শিল্পবিষয়ক জ্ঞানের অভাব মিটিয়ে চলেছে।
আপন দেশকে গড়ে তোলা এবং শক্তিশালী করা কোনো ব্যক্তি দল বা সংঘের কাজ নয়। এর জন্যে গোটা জাতির ঐক্যবদ্ধ চেষ্টার প্রয়োজন হয়। সংঘ-সমিতি দেশ এবং জাতির জন্যে ভালোও হতে পারে, মন্দও হতে পারে। সংঘ-সমিতির লক্ষ্য যদি দেশ এবং জাতির সেবা হয় এবং তারা যদি আপন পরিচিত মহলে লোকের মঙ্গলের জন্যে কাজ করে, তবে তাদের মধ্যে যতো পার্থক্যই থাক না কেন, দেশের পক্ষে তাদের ভূমিকা হিতকরই হবে এবং তা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করবে। কিন্তু যদি শুধু দল পাকানোই তাদের লক্ষ্য হয় তাহলে তাতে দেশের দৃঢ়তা এবং জাতির ঐক্যের হানিই হবে।
এক হিসেবে পাকিস্তান পৃথিবীর অন্যান্য দেশের থেকে অত্যন্ত ভিন্ন ধরনের এবং বিচিত্র দেশ। দুটি পৃথক অংশ নিয়ে এই দেশ গঠিত। অংশ দুটির মধ্যে এক হাজার মাইলের ব্যবধান এবং এই ব্যবধানের এলাকা অন্য একটি রাষ্ট্রের অধীন। এ ছাড়া, খাস পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ভাষাভাষী লোকের বাস। যেসব সংঘ-সমিতি বা প্রতিষ্ঠান ভাষাগত আর আঞ্চলিক পার্থক্যের ভিত্তিতে দল গঠন করে, তারা দেশে বিভেদ সৃষ্টিরই প্রয়াস পায়। পক্ষান্তরে দেশ এবং জাতিকে যাঁরা ভালবাসেন, তাঁদের দৃষ্টি ভাষার পার্থক্যের দিকে থাকে না। তাঁরা আপন মজহাব এবং ইসলামী তাজিবের সাধারণ বুনিয়াদী মূল্যবোধের দিকেই সব সময় লক্ষ্য রাখেন এবং পারস্পরিক ঐক্যের জন্যে সচেষ্ট থাকেন। কারণ, ধর্মের শিক্ষা হল, মুসলিমরা পরস্পরের ভাই। এই ভ্রাতৃভাব অত্যন্ত কার্যকর জিনিস। এমনি করেই আজ উত্তম পাকিস্তানীরা আমাদের জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলছেন।
ব্যক্তি নিজের স্বাতন্ত্র্য বাঁচাবার জন্যেই সমষ্টির ঐক্য স্থায়ী এবং দৃঢ় করে। এর জন্যে সে ত্যাগ স্বীকারেও সঙ্কোচ বোধ করে না। এবং আমরা আগেই বলেছি, ভালবাসা না থাকলে ত্যাগ স্বীকার করা সম্ভব নয়। এ জন্যে লোকে অন্যের সঙ্গে ভালবাসার অনিবার্য সম্পর্ক গড়ে তোলে। এই ভালবাসা যত দৃঢ় এবং স্থায়ী হয়, সমষ্টির ঐক্যও তাই দৃঢ় এবং স্থায়ী হয়ে থাকে। এই ঐক্যবদ্ধ সমষ্টি-ই সমাজ, এই-ই জাতি। যাঁরা সমাজের কল্যাণকামী এবং জাতির ঐক্য ও দৃঢ়তার জন্যে চেষ্টা করেন, তাঁরা আসলে নিজেদেরই কল্যাণ, মঙ্গল এবং দীর্ঘ জীবনের জন্যে কাজ করে যান। কবিও বলেছেন, ‘জাতির ঐক্যেই ব্যক্তি বেঁচে থাকে। একা সে কিছুই নয়।’
সংক্ষেপতঃ, সেই ব্যক্তিই উত্তম পাকিস্তানী, যে পকিস্তানকে এবং নিজের জাতিকে ভালবাসে। দেশপ্রেম এবং জাতীয়তাবোধ তার কাছে যা চায়, তা হচ্ছে, সে যেন পাকিস্তান এবং পাকিস্তানী জাতির জন্যে কোনো ত্যাগ স্বীকারেই পিছপা ও না হয়, দেশ এবং জাতির জন্যে যা মঙ্গলজনক, তা রক্ষা করে এবং তার দ্বারা যেন এমন কোনো অন্যায় কাজ না হয়, যাতে তার দেশ—পাকিস্তান,—এবং তার জাতির সম্মান আর শক্তির হানি হতে পারে। সে উত্তম পাকিস্তানী ব্যবসায়ী হলে সাধু এবং সত্যনিষ্ঠ হবে। যদি সে সরকারী কর্মচারী হয়, তবে অকপট ভাবে আপন কর্তব্য পালন করবে। কোনো লালসা এবং ভয় তাকে সততা আর ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। সে যদি ছাত্র হয়, তবে লেখাপড়া শিখে নিজেকে দেশ ও জাতির কাজের উপযুক্ত করে তোলবার কথা ভাববে, জাতীয় ঐক্যের জন্যে চেষ্টা করবে এবং সমাজের জীবন সুখে ভরে তুলবে। আচার ব্যবহারে সে হবে অমায়িক, মনের দিক থেকে উদার এবং অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল আর প্রীতিপর। দ্বন্দ্ব-কলহ থেকে সে দূরে থাকবে এবং সমাজ আর সম্প্রদায়ের সুখের জন্যে আর সবার সাথে মিলে সার্বিক কল্যাণের কাজ করবে। তার কাজ হবে সবসময় পথিকৃতের। সে নিজে ভালো হতে হতে অন্যকে ভালো হতে উৎসাহ দেবে। তার দুর্বল আর দরিদ্র ভাইদের সে সাহায্য করবে। সে সৎ এবং মহৎ কর্মী হওয়ার জন্যে সচেষ্ট থাকবে, যাতে দুনিয়ার অন্যান্য জাতির কাছে পাকিস্তানী জাতির মাথা উঁচু থাকে। উত্তম মানুষদের মধ্যেও আমরা এই সব গুণই দেখতে পাই। এই জন্যেই কায়েদে আজম বলেছিলেন, ‘আপনারা যদি উত্তম মানুষ না হন, তাহলে উত্তম পাকিস্তানীও হতে পারবেন না।’ উত্তম মানুষ যেমন অন্যকেও ভালো করে তুলবার চেষ্টা করে, উত্তম পাকিস্তানীও তেমনি নিজের সন্তানসন্ততি, প্রতিবেশী এবং বন্ধুদের ভালো হতে উৎসাহ দেয়।
উত্তম পাকিস্তানী সমগ্র মানবজাতিকেই ভালবাসে। সে সারা দুনিয়ার শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করে। উত্তম মানুষ হওয়ার সাথে সাথে সে প্রথমে উত্তম পাকিস্তানী হয়। তার প্রথম চেষ্টা হবে পাকিস্তানের উন্নতি এবং শক্তির জন্যে কাজ করবার। সে প্রথমে পাকিস্তানী জাতির জীবনকে সুখময় করবে। অন্য রাষ্ট্রের অধিবাসীদের নিরাপত্তা এবং কল্যাণের আগে নিজের জাতির নিরাপত্তা ও কল্যাণের কথা বলবে। প্রথমে সে নিজের দেশকে দুনিয়ার বড়ো বড়ো জাতির সমপর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যে কাজ করবে। এই-ই হচ্ছে উত্তম পাকিস্তানীর মূল লক্ষ্য। উত্তম পাকিস্তানীদের ওপরই পাকিস্তানের মান-মর্যাদা আর শক্তি নির্ভর করে। খোদা আমাদের সবাইকে উত্তম পাকিস্তানী হওয়ার তওফিক দিন।
ইডেন প্রেস, ঢাকা—৩
জুন, ১৯৬৫
ডিপার্টমেণ্ট অব ফিল্মস্ এ্যাণ্ড পাবলিকেশান্স
গভর্ণমেণ্ট অব পাকিস্তান
কর্তৃক প্রকাশিত।
এই লেখাটি বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত কারণ এটির উৎসস্থল পাকিস্তান এবং পাকিস্তানের কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ (যা কপিরাইট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০০০ দ্বারা সংশোধিত) (বিস্তারিত) অনুসারে এর কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে, কারণ:
- এর স্রষ্টার জীবদ্দশায় প্রকাশিত সাহিত্যকর্ম এবং স্রষ্টা ৫০ বছরেরও বেশি সময় আগে (১ জানুয়ারি, ১৯৭৬-এর আগে) মারা গেছেন, অথবা
- এর স্রষ্টার মৃত্যুর পরে প্রকাশিত সাহিত্যকর্ম এবং এটি (১ জানুয়ারি, ১৯৭৬-এর আগে) প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল, অথবা
- এটি বেনামে বা ছদ্মনামে (১ জানুয়ারি, ১৯৭৬-এর আগে) প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল,
- এটি সরকার দ্বারা (১ জানুয়ারি, ১৯৭৬-এর আগে) প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল,