উপদেশমালা (প্রথম ভাগ)/আলস্য
আলস্য।
আলস্য অসৎসঙ্গ করিয়া বর্জ্জন।
এখনো আপন হিত করহ চিন্তন॥
আলস্য করিয়া বল কেন মজে যাও।
এখনো সময় আছে সাবধান হও॥
না করিলে লেখা পড়া না করিলে শ্রম।
কখন হবে না জেনো অবস্থা উত্তম॥
যে জন সংসারে হয় শ্রমেতে কাতর।
জানিবে উন্নতি তার বহু দূরতর॥
বড় হবো বলে যদি থাকে এ বাসনা।
আলস্যে বিদায় দাও করিয়া গঞ্জনা॥
কুড়েমী করিয়া কবে কে হয়েছে বড়।
শ্রমের কাজেতে সদা বুদ্ধি কর দড়॥
শত্রু নাই মানুষের আলস্য সমান।
ইহাতে করয়ে লোপ খ্যাতি ধন মান॥
সুখী হব বলে মনে যদি থাকে আশা।
আলস্যে কদাচ দেহে নাহি দিও বাসা॥
সংসারেতে যে যে আছে সুখের কারণ।
আলস্য সবারি বল করয়ে হরণ॥
শরীর জানিবে সর্ব্ব সুখের নিদান।
আলস্যের হাতে তার নাহি পরিত্রাণ॥
বজ্র কীট মত দেহে করিয়া প্রবেশ।
আলস্য দেহের দফা করে দেয় শেষ॥
পদার্থ না রাখে ইথে করে ফেলে থাক।
শিরার বন্ধনী ক্রমে হয়ে যায় ফাক॥
ধাতু মজ্জা রস রক্তে জনমে বিকার।
দেহ মাঝে কিছুমাত্র নাহি থাকে সার॥
অবশ দুর্ব্বল দেহ হলে অবশেষে।
জিনে বসে যত রোগ কোথা হতে এসে॥
রোগ সহ সদা যার দেহের প্রণয়।
সে হইবে সুখী বল এ কি কভু হয়?
অলীক তাহার জেনো সুখের স্বপন।
মরুভূমে বারিলাভ বাসনা যেমন॥
সংসারেতে হতে হলে মানুষের মত।
অধিকার করা চাই ভাল গুণ যত॥
দৃঢ়তা কর্ত্তব্যমতি সত্যে অনুরাগ।
ঈশ্বরে অচলা ভক্তি কুকর্ম্মে বিরাগ॥
প্রণয় বন্ধুর সহ বিনয় অপার।
সদা বাঞ্ছা করিবারে পর উপকার॥
কাজেতে নাছোড়বান্দা চটপটেভাব!
ন্যায়নিষ্ঠা সহিঞ্চুতা সরল স্বভাব॥
শ্রমে রুচি দৃঢ় আস্থা বিদ্যা আরাধনে।
সতত বিনতভাব যত গুরুজনে॥
এ ছাড়া উত্তম গুণ আছে যত আর।
আলন্য কররে পুত্র! সবারি সংহার॥
বন্যাবারি বেগে এসে হয়ে প্রতিকূল।
বৃহত বৃক্ষের যথা খুঁড়ে ফেলে মূল॥
তেমনি আলস্য গুণ-রাশি উপাড়িয়া।
দোষরাশি নেই স্থানে দেয় বিরোপিয়া॥
যে ক্ষেতে না স্থান পায় ভাল তরুগণে।
সে ক্ষেত জানিবে পুত্র! পূরে কাঁটাবনে॥
মানুষের আছে যত দোষ বলবান।
হিংসা তাহাদের পুত্র! সবারি প্রধান॥
দিবানিশি দহে তাহে অলস-হৃদয়।
তিলার্দ্ধ কালের তরে বিরাম না হয়॥
এ বড় আশ্চর্য্য অগ্নি মহিমা অপার।
নির্ব্বাণ না হয় কভু জ্বলে নিরাধার॥
অপর অনল যদি কাষ্ঠ নাহি পায়।
নিবিয়া নিমেষ মাঝে ভস্ম হয়ে যায়॥
এ আগুনে যে সে কাষ্ঠে নাহি প্রয়োজন।
পরের সহস্র শুভ সহস্র ইন্ধন॥
সে কাঠের কদাচিত না হয় অভাব।
দীপ্তিমান সব স্থানে তাঁহার প্রভাব॥
ফিরায় অলস জন যে দিকে নয়ন।
সে দিকে তখনি হয় তার দরশন॥
কুড়ের কষ্টের কথা কি কহিব আর।
অকারণ পায় মূঢ় যাতনা অপার॥
জাতির ঐশ্বর্য্যসুখ হেরিলে অন্তরে।
জানিবে অলস গুমে রুমে পুড়ে মরে॥
নিজের ক্ষমতা নাই অর্জ্জিয়া বিভব।
জাতিসহ সুখে করে সুখ অনুভব॥
কাজেই উপজে মনে এই অভিমান।
জ্ঞাতিগণ সবে হোক আমার সমান॥
এর চেয়ে কিবা বল আছে মহাপাপ।
হেরিয়া পরের অর্থ পায় মনস্তাপ॥
যে মন এমন বল সে মন কেমন।
তার সম নীচ বল আছে কার মন॥
এ ভাবে মনের হয় ক্রমে নীচ দশা।
হবে তার উচ্চভাব না থাকে ভরসা॥
মন যদি নীচ হলো শরীর অক্ষম।
তা হলে ত পশুগণ হলো পূজ্যতম॥
পশুর মনের নাই বটে উচ্চভাব।
নিয়মিত সীমাবদ্ধ তাদের স্বভাব॥
কিন্তু তারা তোমাসম হইয়া অলস।
জড়ভাবে নাহি থাকে হইয়া অবশ॥
আহারের অনুরোধে চরিয়া বেড়ায়!
তাহে হয় দেহপুষ্টি বল বৃদ্ধি পায়॥
বিনা শ্রমে নাহি হয় অগ্নি উদ্দীপন।
অগ্নিমান্দ্য হয় দেহ-বিনাশ-কারণ॥
সংসারেতে মানুষের আছে যত রোগ।
সকল অলসদেহে করে থাকে ভোগ॥
তোমাকে বিশেষ বলি এই জেনো স্থির।
অলস জনের দেহ ব্যাধির মন্দির॥
আপন দৃষ্টান্তে তুমি কর অনুভব।
কোন দিন সুস্থভাবে স্বস্তি আছে তব॥
অলসের শুধু নয় শরীর অসুখ।
হৃদয় বিশুদ্ধ সুখে নিয়ত বিমুখ॥
বিধির নির্ব্বন্ধ বিধি মানুষের মন।
সুস্থির হইয়া নাহি রবে এক ক্ষণ॥
জুয়ারে নদীর মত নিয়ত চঞ্চল।
বিবর্ত্ত আবর্ত্ত ভঙ্গে বিকল কেবল॥
ভাল চিন্তা ভাল কাজে না রাখিলে তারে।
মন্দ পথে গতি তার কে রুধিতে পারে॥
অতএব বলি পুত্র! ধর উপদেশ।
শরীর মনেরে কেন করিতেছ শেষ॥
কত কাল রবে হয়ে আলস্যের দাস।
করিলে আপন হাতে আপন বিনাশ॥
দুর্লভ মনুষ্যভাবে দিলে জলাঞ্জলি।
এখনো সতর্ক হও হিত কথা বলি॥
এখনো আলস্য ছাড় শ্রম আলম্বিয়া।
জ্ঞান উপার্জ্জন কর যতন পাইয়া॥
বার শিক্ষা নাই নাই ভাল মন্দ জ্ঞান।
নিশ্চয় জানিবে তারে পশুর সমান॥
পশুর আদরে বল কেবা যত্নবান্।
মূর্খের কোথায় বল কে করে সম্মান॥
মূর্খ হয়ে থাকা পুত্র বড় বিড়ম্বনা।
আর কিবা আছে বল এমন লাঞ্ছনা॥
যাহাতে হইতে পার মানুষের মত।
এখনো সে চেষ্টা পাও শ্রমে হয়ে রত॥
মানুষের হিত হেতু করুণানিধান।
করেছেন কতগুলি কর্ত্তব্য বিধান॥
তাহার সাধনযোগ্য যতেক উপায়।
মূলত জানিবে পুত্র বিধির কৃপায়॥
বুদ্ধি খাটাইয়া যদি শ্রমে হও রত।
সেগুলি সহজে হবে তব হস্তগত॥
কি হেতু দেছেন বিধি চরণযুগল।
কি হেতু পেয়েছ দুটা নয়নকমল॥
কি হেতু হয়েছে দীর্ঘ বাহুর সৃজন।
কি হেতু পেয়েছ বল যুগল শ্রবণ॥
কি হেতু আনন মাঝে শোভিছে রসনা।
কি হেতু বিষয়ে নানা ধাইছে বাসনা॥
কি হেতু বলহ পুত্র! সর্ব্বগুণনিধি।
বৃদ্ধি বিবেচনা আদি দিয়াছেন বিধি॥
কি করিলে কি হইবে করিবে যুকতি।
এ হেতু কি নয় তব বিবেকশকতি॥
ইতস্ততঃ বিচরিয়া কার্য্যের সাধন।
করিবে বলিয়া বিধি দেছেন চরণ॥
এই যে সুদীর্ঘ বাহু শোভা হেতু নয়।
কার্য্যের সহিত এর বড়ই প্রণয়॥
বহু শিল্পী বহু যন্ত্র করেছে নির্ম্মাণ।
কোন যন্ত্র নাহি হবে ইহার সমান॥
অন্য যন্ত্র না চালিলে কভু নাহি চলে।
এ যন্ত্র আপনি চলে আপনার বলে॥
বারেক চিন্তিয়া দেখ গঠনপ্রকার।
বিধির কৌশল ইথে কিবা চমৎকার॥
ফিরিয়া ঘুরিয়া কাজ করিবে বলিয়া।
গ্রন্থিগুলি যথাস্থানে দিয়াছে আঁটিয়া॥
তোমার আলস্যে পুত্র! এ সব কৌশল
মূর্খে উপদেশসম হইছে বিফল॥
তুমি ত বিধির হলে বিধাতাপুরুষ।
আমার বচন বৎস! ভেবো না পরুষ॥
বিধি তব করযুগ করেছে সচল।
তুমি নিজ গুণে তারে করিলে অচল॥
বিধির কি ছিল বল মনে এই ভাব।
ধরিবে তোমার বাহু প্রস্তরের ভাব॥
নয়ননির্ম্মাণে কিবা বিধির কৌশল।
ভাবিলে হৃদয়ে বাড়ে বিস্ময় কেবল॥
য়বমাত্র পরিসরে কণা পরিমাণ।
করেছে কৌশলে বিধি তেজের নিধান॥
যেখানে যে আছে বস্তু দেখ ক্ষিতিতলে।
সকলে সে অণুতেজ লয়েছে কবলে॥
ইথে তার নাহি তৃপ্তি দেখ দূরতর।
গ্রহ উপগ্রহ আদি নহে বহিশ্চর॥
নয়নসাহায্যে দেখ মানবমণ্ডলী!
কি কাজ না করিতেছে হয়ে কুতূহলী॥
সকলে করিবে কাজ তুমিই কেবল।
নয়ন মুদিয়া রবে হইয়া বিকল॥
অলন অভাগা মূঢ় বিনা কে কোথায়।
নয়ন থাকিতে অন্ধ হতে বল চায়॥
নাসিকা রসনা ত্বক্ অথবা শ্রবণ।
সবারি রচনা কাণ্ড অতি বিমোহন॥
দেহ মাঝে আছে বৎস! যতেক ইন্দ্রিয়।
কেহ কভু নাহি রয় হইয়া নিষ্ক্রিয়॥
ক্রিয়া শোভা দুই ফল করিতে সাধন।
বিধাতা ইন্দ্রিয়গণে করেছে সৃজন॥
কাজই প্রধান, শোভা অবান্তর ফল।
কাজ যদি নাহি কর সকলি বিফল॥
যে উদ্দেশে বিধি দেহ দেছে সাজাইয়া।
বিফল করিলে তাহা অলস হইয়া॥
মহাপাপে লিপ্ত হয়ে হবে চির দীন।
অভাগা হইয়া কষ্ট পাবে চিরদিন॥
এখনো তোমাকে বলি হও সাবধান।
এখনো আপন শ্রেয়ে কর প্রণিধান॥
অদভুত বিশ্বসৃষ্টি ভেবে দেখ যদি।
উথলি উঠিবে তব বিস্ময়জলধি॥
এ বিশ্বের কিছু মাত্র না লবে সন্ধান!
পড়ে রবে জড় হেন হইয়া অজ্ঞান॥
কভু কি না হয় হৃদে কৌতুক উদয়।
জানিতে বিশ্বের কাণ্ড ইচ্ছা নাহি হয়॥
মনুষ্য জনমে তবে কিবা বল ফল।
জড়েতে তোমাতে ভেদ কিবা আছে বল॥
জড়পিণ্ডসম সদা পড়ে রও যদি।
বিকৃত হইবে এই শরীরজলধি॥
চড়া পড়ে যাবে আর সোত নহি ববে।
এ ভাবে শরীর বল কত দিন রবে॥
দিন দিন হবে নানা পীড়ার আধার।
জনমিবে ঘোরতর বুদ্ধির বিকার॥
বিবেকশকতি ক্রমে পেয়ে যাবে লোপ।
কেবল পাপের বংস! বাড়িবে প্রকোপ॥
পাপী জন কভু নাহি দেখে সুখমুখ।
বিধাতা তাহারে হন নিয়ত বিমুখ॥
তোমার কপালে বাছা দুঃখ আছে কত।
এখনো হলে না তুমি বুঝিতে শকত॥
অচিরে আসিবে জেনো এ হেন সময়।
যখন দেখিবে তুমি সব অন্ধময়॥
এখনো কষ্টের ভার বহিতেছি শিরে।
সংসারের কোন কাজ নাহি দেখ ফিরে॥
আলালে দুলাল মত খাও আর পর।
অঘোর ঘুমের ঘোরে দিন গত কর॥
পর্ব্বতের অন্তরালে যে করয়ে বান।
ঝড়ে ঝঞ্ঝা বায়ুবেগে পায় কি তরাস॥
ঝড়ে কি অনিষ্ট করে কভু কি সে জানে।
বিপদের বহিশ্চর আপনাকে মানে॥
কোন দৈব হেতু হলে গিরি উন্মূলন।
তখন তাহার হয় বিশিষ্ট চেতন॥
সুধাবর্ষী ছায়াতরু আশ্রয়ে যে থাকে।
সে কি বুঝে নিদারুণ গ্রীষ্ম বলে কাকে॥
তরু যদি ছিন্ন হয় সে বুঝে তখন।
কেমন ভাস্করে করে অনল বমন॥
এ দেহ অন্তের আর নাহি বহু দিন।
হইতেছে ক্ষণে ক্ষণে জীবনীবিহীন॥
এ দেহ পতন হলে কি হবে তোমার।
ভাবিয়া আকুল হিয়া হতেছে আমার॥
কত দুরদশা হবে নাহি তার সীমা।
কিছুমাত্র নাহি রবে গৌরব মহিমা॥
তোমার কষ্টের দশা হেরে তরুগণ।
করিবে নীহারছলে অশ্রু বিমোচন॥
তোমার দুঃখেতে দুঃখ না করিবে কেহ।
পরগলগ্রহ হবে তোমার এ দেহ॥
সংসার কেমন স্থান জান না তনয়।
কেহ কারো তরে হেথা ব্যস্ত নাহি হয়॥
মানুষ সুখের তরে দেখিবে পাগল।
নিজ নিজ সুখ সদা খুজিছে কেবল॥
তোমার সুখার্থ কেহ না হবে ব্যাকুল।
অনেকের যদি আছে বিভব বিপুল॥
নিজ নিজ অথ নিজে কর অন্বেষণ।
এই জেনো দৃঢ়তর সমাজ লিখন॥
হেরে পর দুখ হয় কাতর-হৃদয়।
এরূপ লোকের ভাগ নাই বল্লে হয়॥
অকপট দয়া আর অকপট দান।
সামান্য দেখিবে পুত্র এর পরিমাণ॥
ইতস্ততঃ বিস্তারিবে যশের সৌরভ।
লোকেতে হইবে নাম বাড়িবে গৌরব॥
এই ভেবে অনেকের বদান্যতা ভাব।
তাদৃশ দাতার নাই জগতে অভাব॥
দীনজনে নিরখিয়া করুণা-সাগর।
ঊথলে, সাগর কথা হেরে শশধর॥
অবিরল নেত্রবারি ঝরে ঝরঝর।
ফুটন্ত কদম্বসম শোভে কলেবর।
এরূপ লোকের সংখ্যা জগতে বিরল!
কেবল নামের তরে সকলে পাগল॥
অলনে পুষিয়া বল কার হবে নাম।
কে পরাবে অলসের বল মনস্কাম॥
যদি কেহ দেয় দিবে বিরক্ত হইয়া।
তাতে কি হইবে তুমি বিকশিতহিয়া॥
এখনো লইয়া পুত্র শ্রমের শরণ!
যতনে নিজের কর উন্নতিসাধন॥
থাকিতে সবল দেহ হয়ে অশরণ।
পরগলগ্রহ হওয়া বড় বিড়ম্বন॥
অলস হৃদয় দোষের আলয়,
গুণের বাহির রয়।
দেই নানা রোগে দিবারাতি ভোগে
সে সুথী কভু কি হয়॥
পদে পদে তার বিপদ সঞ্চার,
নাহি হয় কেহ সাথী।
কাপুরুষ বলে, ঘৃণয়ে সকলে,
বেঙে মারে তারে লাথি॥
তার দুখে দুধী, তার সুখে সুখী,
না পাই দেখিতে কায়।
নাহি পায় মান, সদা অপমান,
কেহ না অদরে তায়॥
কোথা মনস্বিতা, কোথা তেজস্বিতা,
অলস জনের রয়।
হয়ে নানা দ্বারী সতত ভিখারী,
জীবন কাটাতে হয়॥
বড় বিড়ম্বন, ভিখারী-জীবন,
মৃত্যুর অপর নাম।
যার হয় ভিক্ষা, জীবনের দীক্ষা,
বিধি সদা তারে বাম॥
ঘৃত ভিক্ষু জন, কর দরশন,
সবারি সমান ভাব।
কান্তি নাই দেহে, অন্ন নাই গেহে,
সদা হাহাকার রাব॥
ভিক্ষা করে করে, তেজ যায় হরে,
না থাকে গরব লেশ।
গেলে কোন স্থান, হলে অপমান,
না হয় তাহাতে ক্লেশ॥
যার মানামান, সকলি সমান,
সে জন পশু সমাन।
মানুষ বলিয়া, পরিচয় দিয়া,
সে কেন বাড়ায় মান॥
কি কব অধিক, সে জীবনে ধিক,
তার বেঁচে কিবা ফল।
তা হতে কাহার, নাহি উপকার,
বাড়ায় পাপের বল।
যতেক সদ্গুণ, যা হতে বিগুণ,
যাহা হতে পায় লয়।
সে আলস্য দাস, হইতে প্রয়াস,
এখনো তোমার হয়?