এতদ্দেশীয় স্ত্রীলোকদিগের পূর্ব্বাবস্থা/সীতা

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

সীতা।

 সীতা কেবল শরীর ধারণ করিতেন—তিনি সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিক ছিলেন। তাঁহার আধ্যাত্মিক চিন্তা পিতৃ আলয়ে হইয়াছিল। তিনি কহেন “সংযতচিত্ত মুনিগণ যে সকল ক্লেশ ভোগ করিয়া থাকেন, তাহাও আমি কৌমার কালে পিতৃভবনে এক সাধুশীল ভিক্ষুকের মুখে শ্রবণ করিয়াছি। শাস্ত্রকারেরা কহেন পতিই নারীদিগের দেবতা, যে নারী ছায়ার ন্যায় সৰ্ব্বদা ভৰ্ত্তার অনুসরণ করে, সে ইহ ও পরলোকে স্বামির সঙ্গিনী হইয়া সুখে সময় যাপন করে। আমি বিবাহ কালে স্বামীর করে জীবন সমর্পণ করিয়াছি, সুতরাং তাঁহার হিতের নিমিত্তে অনায়াসে প্রাণত্যাগ করিতে পারি”। বনবাস কালে রামচন্দ্র সীতাকে গৃহে রাখিয়া যাইতে ইচ্ছা করিয়াছিলেন, কিন্তু সীতা বলিলেন তোমা ছাড়া হইলে আমি স্বৰ্গ ছাড়া হইব। দণ্ডকারণ্যে তিনি যাহা বলিয়াছিলেন, তাহা পড়িলে কে না চমৎকৃত হইবে? যে সকল জীব সমাহিত ও শান্ত অবস্থা প্রাপ্ত হয়েন, তাঁহারা তাড়িত ও অপমানিত হইলেও অন্তর শীতলতা হইতে চ্যুত হন না। ব্রহ্মবাদিনীদিগের ব্রহ্মই লক্ষ্য ও ব্রহ্ম লাভের জন্য তপো বলের দ্বারা তমস জীবনকে নিৰ্ব্বাণ করাই সাধনা ছিল। সদ্যোবধূগণ পতি গ্রহণ পূর্ব্বক আপন শুদ্ধপ্রেম পতিকে অর্পণ করিয়া পরলোক উন্নতি সাধন করিতেন।

 সীতা অসতী হইয়াছেন, এই জনরব যখন ঘোষণা হইতে লাগিল, তখন রামচন্দ্র আপন রাজ্যের কুশলার্থে সীতার সহিত আর সহবাস না করিতে পারিয়া তাঁহাকে বনবাস দিলেন। এই মৰ্ম্মবেদনা পাইয়াও সীতার ভাব রামচন্দ্রের প্রতি যেরূপ ছিল তাহার কিঞ্চিম্মাত্র ব্যতিক্রম হয় নাই।